বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

খালেদার অনুনয়-বিনয়ে লজ্জা পেয়েছেন সুষমা: হাসান মাহমুদ

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে নিজের প্রটোকল ভেঙে অনুনয়-বিনয় করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তাতে বিএনপি নেতারা লজ্জা পেয়েছে কিনা জানি না। তবে আমাদের লজ্জা লেগেছে। এতে সুষমা স্বরাজ নিজেও লজ্জা পেয়েছেন।”image_88577_0

সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুন বাগিচার খাজা নাজিমুদ্দিন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, “রমজানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় ভোগ্যপণ্য মজুদ রেখে দাম বৃদ্ধি করে। এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জনগণ ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সরকার জনগণ ও ব্যবসায়ী সংগঠনের পাশে থাকবে। সরকারের পক্ষে সব দোকানে গিয়ে তদারকি সম্ভব নয়। এজন্য জনগণকেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ”

সভায়  সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্বতন্ত্র সাংসদ হাজী মো. সেলিম।

হাম্বি-তাম্বি নয়, সাংবাদিকদের সঙ্গে যুক্তি দিয়ে কথা বলুন

হুমকি ধামকি বা হাম্বি-তাম্বি নয় সাংবাদিকদের সঙ্গে যুক্তি দিয়ে কথা বলতে রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।image_88573_0

তিনি বলেন, “সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদের সম্পর্ক দাম্ভিকতার নয়। এরা একে অপরের পরিপূরক। কেবল সাংবাদিকদের মাধ্যমে একজন রাজনীতিবিদ জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে পারে। তাই তাদের সঙ্গে যুক্তির মাধ্যমে কথা বলতে হবে। তারাই আমাদেরকে জনগণের কাছে তুলে ধরবে।”

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইস্টটিউট অব বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, নারায়গঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সাংবাদিকদের কুকুরের সঙ্গে তুলনা করে বলেছিলেন, “ছোট্ট বেলায় দেখেছি ধনীরা বাড়িতে কুকুর পালতেন, আরো ধনীরা বিদেশি কুকুর পালতেন, এখন নব্য ধনীরা মিডিয়ার মাধ্যমে সাংবাদিক পালে। এরা ভেঙচি কাটে লাথি মারলে কামড় দিতে আসে। এদের মালিক পক্ষ যদি আমার পক্ষে লেখতে বলে এরা তাই করে।”

শামীম ওসমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে সুরঞ্জিত রাজনীতিবিদদের আরো সংযত ও সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। সাংবাদিকের মাধ্যমেই একজন রাজনীতিবিদ জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারে। রাজনীতিবিদদের বুঝতে হবে। দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। সাংবাদিকরা আমাদের ভুলত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করবে এটাই স্বাভাবিক। এ ভুলত্রুটির বিচার করবে জনগণ।”

অবিলম্বে সাংবাদিক রাজনীতিবিদদের ‘অশ্লীল’ বির্তক বন্ধ করতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও অশালীন বিতর্ক রাজনীতিকে কুলষিত করবে। রাজনীতিবিদদের আরো সুশীল হতে হবে। হুমকি-ধামকি বা অন্য কোনো কার্যকলাপ নয়।”

সুইস ব্যাংকের টাকা নিয়ে বিএনপির ভয় কেন?
সুইস ব্যংকের টাকা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটির দাবি জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তবের জবাবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “সুইস ব্যাংকের টাকা নিয়ে বিএনপি’র এতো ভয় কেন। ইউএনডিপি তো বলেনি এই টাকার মালিক কারা। একবারতো তাদের টাকা আনা হয়েছিল। এখন তাদের ভয় কিসের। তাদের মনোভাব দেখে মনে হয় ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খায় না।”

দেশের জনগণ জানতে চাই এই টাকার মালিক কারা তাই এই টাকা যারই হোক একটা স্বচ্ছ ও স্পষ্ট উপায় বের করে সরকারকেই তা ফিরিয়ে আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই মন্ত্রী।

সুরঞ্জিত বলেন, “দীর্ঘ দিন ধরে সুইস ব্যাংকে ৮০০ মিলিয়ন বাংলাদেশি টাকা পাচার করা হয়েছে। একথা ইউএনডিপি প্রকাশ করেছে। তারা তো বলেনি এই টাকা রাজনীতিবিদদের এ টাকা অসাধু ব্যবসায়ীদেরও তো হতে পারে। যারা টাকা পাচার করে তাদের একাটাই পরিচয় অর্থপাচারকারী। এরা দেশ প্রেমিক হতে পারে না।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইস ব্যাংকের টাকা ফেরত আনার ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা ভেবে ছিলাম বিরোধী দল বিএনপি এটিকে স্বাগত জানাবে। কারণ টাকা যারই হোক দেশের টাকা দেশে আনা হচ্ছে। এতে মির্জা ফখরুলের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। টাকা ফেরত আনতে কমিটি করা হবে কি, হবে না সেটার দায়িত্ব সরকারের।”

আন্তর্জাতিক কমিটি নিয়ে তাদের যদি কোনো পরামর্শ থাকে সেটা সরকারকে জানাতে পারে মন্তব্য করে সুরঞ্জিত বলেন, “সেই কমিটি কিভাবে হবে কারা থাকবে, কবে হবে কেন জাতীয় কমিটিতে হবে না তা তাদের (বিএনপিকে) পরিষ্কার করতে হবে।”

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সেলিম এমপির সভাপতিত্বে আলোচনায় সভায় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষককে দিগম্বর: মুজিবের এমপি পদ বাতিল চায় গৌরিপুরবাসী

ময়মনসিংহের গৌরিপুরের মুমিনুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের  সহযোগী অধ্যাপক মো. ফরিদউদ্দিন আহমেদকে লাঞ্ছিত ও দিগম্বর করায় সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন মুজিবের সংসদ সদস্যপদ বাতিল ও দল থেকে বহিষ্কারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গৌরীপুরবাসী।image_88571_0

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গৌরিপুর উপজেলাবাসী আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এদাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, ক্যাপ্টন মুজিবের নির্দেশে ২৫-৩০ জনের সশস্ত্র ক্যাডাররা সহযোগী অধ্যাপক মো. ফরিদউদ্দিন আহমেদকে টেনেহিচড়ে গায়ের শার্ট ও প্যান্ট খুলে দিগম্বর করেন। এরপর ফরিদ উদ্দিনকে মুজিবের ব্যক্তিগত টর্চারসেলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করেছে। ক্যাপ্টন মুজিবের ক্যাডাররা ফরিদউদ্দিন আহমেদকে হুমকি দিয়ে বলে এমপির নামে কোনো সমালোচনা করা যাবে না। করলে ইহজগতে থাকতে দেয়া হবে না।

তারা অভিযোগ করেন, এর আগেও ক্যাপ্টন মুজিবের নির্দেশে তার ক্যাডাররা শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী, সাংবাদিকসহ হাজারো মানুষকে অপমান, অপদস্ত করেছে।

বক্তারা আরো অভিযোগ করেন, ক্যাপ্টন মুজিবের লোকেরা অশ্লীল নৃত্য, হাউজি খেলা, মাদকের ছড়াছড়ি ও জুয়ার আসর দিয়ে যুব সমাজকে ধ্বংস করছে। এর প্রভাবে সমাজে চুরি ডাকাতির উপদ্রব বেড়ে গেছে।

মানববন্ধনে আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক সামিউল আলম লিটনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন মো. মোখরেসুর রহমান, ফেরদৌস আলম, মসিুদ করিম প্রমুখ।

হাওরের কোমল হৃদয় নেদারল্যান্ডসের পক্ষে

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট সব সময়ই অবহেলিত ও শোষিতের পক্ষে। নিজের দেশ, অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব সব ক্ষেত্রেই আজীবন নির্যাতিত ও হতদরিদ্র মানুষের পক্ষে ছিলেন এবং আছেন তিনি। এমনকি বিশ্বকাপ ফুটবলেও বাদ যায়নি তার এ দর্শন। এবারের বিশ্বকাপে প্রথমে সমর্থন ছিল তার নিজের মহাদেশ এশিয়ার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়াসহ একে একে সব দেশই যখন বিদায় নিল, তখন তিনি সমর্থন করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুটি দেশের। সেগুলোও যখন হেরে গেল, সব শেষে তিনি এখন আছেন নেদারল্যান্ডসের ভরসায়। ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার খেলা দেখলেও দল দুটির প্রতি তেমন কোনো আকর্ষণই নেই আবদুল হামিদের।image_88557_0

বঙ্গভবনে শনিবার মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে টানা দুই ঘণ্টা প্রাণখোলা কথাবার্তাকালে বিশ্বকাপ ফুটবল প্রসঙ্গে এসব কথা জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ঢাকাস্থ কিশোরগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরামের সৌজন্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন রাষ্ট্রপতি। এক দশক বয়সী সংগঠনটির প্রধান অনুপ্রেরকই হলেন আবদুল হামিদ। তখন তিনি ছিলেন সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা। গতকাল তেমন কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই দুই ঘণ্টারও বেশি সময় তিনি জাতীয়, আন্তর্জাতিকসহ বিশেষ করে নিজের এলাকা তথা জেলার বিভিন্ন সমস্যার কথা নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় জেলা সাংবাদিক ফোরামের ১৬ জন প্রতিনিধি ছাড়াও রাষ্ট্রপতি-তনয়, কিশোরগঞ্জ-৪ এলাকার সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক এস আলম, সিভিল সার্জন, জেলা ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলামসহ এলাকার বেশ কজন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

অনেক দিন পর রাষ্ট্রপতি এলাকার মানুষের সঙ্গে এমনভাবে খোলামেলা আলোচনায় মিলিত হলেন। তিনি ভুলেই গিয়েছিলেন যে তিনি দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। রেললাইন সমস্যা থেকে শুরু করে ডায়াবেটিক হাসপাতালের ডায়ালোসিস মেশিনের ব্যবস্থা, এমনকি রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট তৈরি-সংক্রান্ত সমস্যার কথাও বাদ যায়নি। পুরো জেলার প্রতিটি থানার প্রতিটি ইউনিয়নের খবর পর্যন্ত ছিল রাষ্ট্রপতির নখদর্পণে। জেলা সদরে বা আশপাশে জরুরি ভিত্তিতে একটি সিএনজি পাম্প স্টেশনের প্রয়োজনীয়তার জোরালো দাবি উঠলে এর দায়িত্ব নেন এমপি তৌফিক। এটি এখন পুরো জেলাবাসীর একান্ত দাবিগুলোর একটি।

এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি আরও জানালেন, তার এলাকার তিনটি উপজেলার একটিতেও কোনো চিকিৎসক থাকতে চান না। হাওর এলাকা হওয়ায় তারা সেখানে যেতে অনাগ্রহী। আর যদি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক হন ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী তবে তো কথাই নেই। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী ইউএনও কিংবা প্রশাসনিক কর্মকর্তারা হাওর এলাকায় না যাওয়ার বায়না ধরে মুখ ফুটেই বলে ফেলেন, ‘এ সরকারের আমলে আমরা যদি পছন্দমতো জায়গায় না থাকতে পারি তবে আর লাভ কী হলো!’ ফলে দক্ষ অফিসারদের সেবা থেকে সব সময়ই বঞ্চিত হচ্ছেন হাওরবাসী। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ আরও কত কি সমস্যা তাদের। রেল-ট্রেনের চাহিদার কথা বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতি শেষ পর্যন্ত অন্য ১০টি আন্তর্জাতিক ট্রেন থেকে একটি করে বগি খুলে তৈরি করে দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস। এ ধরনের অজস্র সমস্যা রয়েছে জেলাজুড়ে। একে একে সবই শুনতে হয় তাকে।

এর মধ্যেও জেলা সাংবাদিক ফোরাম সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ জেলাবাসীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান তার আন্তরিকতা ও দূরদর্শিতায় কিশোরগঞ্জের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য। মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের আমলে কিশোরগঞ্জ ভেঙে চারটি উপজেলা নিয়ে ভৈরবকে জেলা বানানোর প্রক্রিয়া চলছিল জোরেশোরেই। দীর্ঘ সময়ের এ আলাপ-আলোচনাকালে রাষ্ট্রপতি বেশ কিছু স্মৃতিচারণাও করেন। সাংবাদিক মনোজ রায় ত্রিশ বছর আগের পুরনো কিছু স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলেন। এ ছাড়া ঢাকাস্থ কিশোরগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরামের জন্য ঢাকায় ছোট্ট একটি অফিসের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্যও আবেদন জানানো হয়। খুব বেশি নয়, তিন থেকে চার শতাংশ জমি কিংবা একটি ফ্ল্যাটের মাধ্যমে সাংবাদিক ফোরামের জন্য ছোট্ট একটি স্থায়ী অফিসের ব্যবস্থা করতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয় রাষ্ট্রপতির কাছে।

এ ছাড়া ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ সদরের সঙ্গে দ্রুততর সময়ে যোগাযোগের জন্য ভৈরব বাজারের পশ্চিম পাশ দিয়ে ব্রিজের আগে থেকে রেললাইনের একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়।  সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

খাদ্যে ফরমালিন মেশালে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন

অবৈধ আমদানি ও খাদ্যপণ্যে ফরমালিন মেশালে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘ফরমালিন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৪’-এ খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। লাইন্সেস ছাড়া ফরমালিন উৎপাদন আমদানি, মজুদ ও বিক্রি করা যাবে না। লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে পাঁচ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।image_88554_0

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব  মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
গত ৪ নভেম্বর ‘ফরমালিন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে গত ২৫ জুন খসড়া আইনে সই করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনেই আইনটি অনুমোদন পেতে পারে। আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন চলবে।
সচিব বলেন, এ আইনের মাধ্যমে ফরমালিন আমদানি বন্ধ হচ্ছে না, তবে এর অপব্যবহার বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে। আইনে ফরমালিন মজুদের বিষয়টি রয়েছে। কেউ অবৈধভাবে নিজ বাড়িতে ফরমালিন রাখলে শাস্তি হবে দুই থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড।
সচিব বলেন, এ আইনের পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে। গ্রেফতারের পর কোনো জামিন পাবে না। এছাড়া মোবাইল কোর্টেও শাস্তির দিতে পারবে।
এর আগে গত বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন সোমবার  মন্ত্রিসভার বৈঠকে  ‘ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৪’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে। এরপর জাতীয় সংসদে চলতি বাজেট অধিবেশনে আইনটি পাস হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন এ আইনের মাধ্যমে ফরমালিন উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন, মজুদ, বিক্রয় ও ব্যবহার পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এ ছাড়া আইনে ফরমালিনের ব্যবহার বিষয়ে হিসাব সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে।
আইনে বলা হয়েছে, ফরমালিন নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন করা হবে। আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য, অ-আপসযোগ্য ও অজামিনযোগ্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সায়েন্স ল্যাবরেটরির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের মতামত নিয়ে ফরমালিনকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এ ছাড়া ফরমালিনের উৎসসহ বিভিন্ন বিষয়ও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে নতুন আইনে।
ফরমালিন সাধারণত গবেষণাগার, হাসপাতাল, চামড়াশিল্প, টেক্সটাইল, হ্যাচারি, বোর্ড শিল্প ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ইদানীং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যসামগ্রী, যেমন- ফলমূল, শাকসবজি, মাছ-মাংস পচনরোধে এই রাসায়নিক ব্যবহার করছে। ফলে ফরমালিন-মিশ্রিত খাদ্যসামগ্রী মানুষ গ্রহণ করে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফরমালিন রোধে দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

কবি আবুল হোসেন আর নেই

রোববার রাতে ৯২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রবীণতম কবি আবুল হোসেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।image_88519_0

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছিলেন। আজ রাতে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে স্বজনেরা তাকে রাত পৌনে ১১টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রাতে স্কয়ার হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, স্বজনেরা লাশ গোসলের জন্য নিয়ে গেছেন। গোসল দেওয়া শেষে লাশ আবার স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। কোথায় কখন দাফন করা হবে তার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
কবি আবুল হোসেন ছিলেন, গত শতকের ৪০ দশকের বাংলা ভাষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি। স্বতন্ত্র কাব্য ভাষায় তিনি বাংলা কাব্যে তার স্থান করে নিয়েছিলেন।

কবি আবুল হোসেনের জন্ম বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানার আরুয়াডাঙা গ্রামে ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট। তার শৈশব কেটেছে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণ নগরে, যৌবন কলকাতায় আর পরবর্তীতে বাংলাদেশে। তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও পরে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

সরকারি চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকারের যুগ্মসচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তার প্রথম কাব্য গ্রন্থ নববসন্ত প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগন্থের মধ্যে রয়েছে বিরস সংলাপ; হাওয়া, তোমার কি দুঃসাহস; দুঃস্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে। এছাড়া তার আত্মজীবনি আমার এই ছোট্ট ভুবনসহ বিভিন্ন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
সাহিত্যে অবদান রাখার জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় কবিতা পুরস্কার, একুশে পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

দিল্লিতে বহুতল ভেঙে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বহুতল ভেঙে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০৷ এরমধ্যে তিনটি শিশু আছে। আহত অবস্থায় আরও অন্তত চার জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। শোকগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেইসঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে মন্ত্রণালয়ের তরফে টুইট করা হয়েছে।image_88399_0

শনিবার সকালে উত্তর দিল্লির ইন্দ্রলোকের তুলসী নগরে একটি চার তলা বাড়ি হঠাৎই ভেঙে পড়ে৷ ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই সাত জনের মৃত্যু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে আরও তিন জনের মৃত্যু হলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০।
উত্তর দিল্লি নগর নিগমের মেয়র যোগেন্দ্র চান্দোলিয়া জানিয়েছে, ভেঙে পড়া বহুতলটি পঞ্চাশ বছরের বেশি পুরনো হওয়ায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তারমধ্যে এর ঠিক পাশের প্লটেই বেআইনিভাবে নির্মাণ কাজ চলছিল৷ এই দুইয়ের ফলে এই দুর্ঘটনা বলে পুর কর্তাদের প্রাথমিক অনুমান। তবে রাজধানীর বুকে কিভাবে বেআইনি নির্মাণ কাজ চলছিল, তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে৷ কর্তব্যে গাফিলতির জন্য ইতিমধ্যেই পুরসভার দুই ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে৷ বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, এদিন সন্ধ্যায় দুর্ঘটনা স্থলে আসেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আমআদমি পার্টি সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এই ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দাবি করেছেন তিনি।- ওয়েবসাইট।

উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন সৌদি রাজা

সৌদি আরবের রাজা আবদুল্লাহ দেশটির উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালেদ বিন বন্দর বিন আবদুল আজিজকে বরখাস্ত করেছেন। নিয়োগ দেয়ার দু’মাসের কম সময়ের মধ্যে তাকে বরখাস্ত করা হলো।  image_88425_0

সৌদি রাজা গত শনিবার তাকে বরখাস্ত করেছেন এবং এর কোনো কারণ জানান হয়নি। রাজকীয় ফরমানে বলা হয়েছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ সালমানের সুপারিশে প্রিন্স খালেদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য এতে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয় নি। এ ছাড়া, প্রিন্স খালেদ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেছেন এ কথাও সৌদি রাজার ফরমানে উল্লেখ করা হয় নি। সরকারের শীর্ষস্থানীয় পদে অপ্রত্যাশিত রদবদলের ক্ষেত্রে সৌদি ঐহিত্য অনুযায়ী এ বাক্য উল্লেখ করার রেওয়াজ রয়েছে।

রিয়াদের গভর্নর পদ থেকে সরিয়ে গত মে মাসে উপপ্রতিরক্ষার পদে প্রিন্স খালেদকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। নিজের ছেলে প্রিন্স তুর্কিকে সে সময়ে রিয়াদের গভর্নর পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন রাজা আবদুল্লাহ।

ধারণা করা হয়, ইরাক ও সিরিয়ার উগ্রপন্থী তাকফিরিদের প্রতি প্রিন্স খালেদের সমর্থন ছিল।

৯০ বছরের বেশি বয়সী রাজা আবদুল্লাহ গত দু’বছরে সৌদি প্রশাসনে বেশ কিছু পরিবর্তন করেছেন এবং এতে রাজ-পরিবারের মধ্যে তার মিত্রদের অবস্থান জোরদার হয়েছে। সূত্র: আইআরআইবি

তিকরিতে ইরাকি সেনাদের অভিযান

ইরাকে সুন্নি জঙ্গিদের দখলে যাওয়া তিকরিত শহরে অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে ইরাকি সেনারা। একইসঙ্গে সেখানে প্রাদেশিক গভর্নরের সদর দফতরও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ দাবি করা হয়েছে।image_88434_0

একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই চলাকালে ৬০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জঙ্গিদের এক মুখপাত্র সেনাবাহিনীর সঙ্গে তুমুল লড়াইয়ের কথা স্বীকার করেছে।

এদিকে, ইরাকে চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন মোতায়েন করেছে আমেরিকা।

পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরাকে মার্কিন উপদেষ্টাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সশস্ত্র ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। ইরাকের শিয়া সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি আল সিস্তানি দেশটিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের তাগিদ দেয়ার পর পরই সশস্ত্র ড্রোন পাঠানোর ঘোষণা দেয় পেন্টাগন।

মেসি,নেইমার, রোনাল্ডো, পার্সি কে ছাড়িয়ে রদ্রিগেজ

রিও ডি জেনেরো: কে হবেন ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়- বিশ্বকাপ শুরুর আগে মেসি, নেইমার, রোনাল্ডো, পার্সি ও রোবেনদের নিয়েই বেশি আলোচনা চলছিলো। কে ভেবেছিলো ২২ বছর বয়সী এক কলম্বিয়ান তরুণ এদের সবাইকে পেছেনে ফেলে দিবেন। হ্যাঁ, বলা হচ্ছে কলম্বিয়ার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জেমস রদ্রিগেজ এর কথা।image_88419_0

শনিবার শেষ ষোলোর লড়াইয়ে উরুগুয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে এই মেক্সিকান তুর্কি আসরে ইতোমধ্যে পাঁচটি গোল করে ফেলেছেন।পেছনে ফেলে দিয়েছেন মেসি-নেইমার ও টমাস মুলারকে।  ৪ গোল করে এরা সবাই রয়েছেন কলম্বিয়ান তুর্কির পেছনে।

এদিকে প্রতিষ্ঠিত রথী-মহারথীদের পেছনে ফেলে দিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের শেষে সেরা ফুটবলারের মর্যাদা আদায় করে নিয়েছেন তরুণ কলম্বিয়ান জেমস রডরিগেজ। নিছক ফুটবল পণ্ডিতদের মতামত নয়। খোদ ফিফা-র বিচারেই বিশ্বকাপের এখনও পর্যন্ত শ্রেষ্ঠত্বের দৌড়ে সবার ওপরে রয়েছেন ২২ বছরের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।

শনিবার ম্যাচের ২৮ মিনিটের মাথায় অসাধারণ এক গোলে দলকে এগিয়ে দেন রদ্রিগেজ। বক্সের বাইরে আবেল আগিলারের হেড বুক দিয়ে নামিয়ে বাঁ পায়ের দর্শনীয় শটে  করেন বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোল।

বিরতির চার মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে কলম্বিয়া, এবারও গোলদাতা সেই রদ্রিগেজ। বাঁ প্রান্ত থেকে পাবলো আমেরোর ক্রসে হেড করে রদ্রিগেজের দিকে বল বাড়িয়ে দেন হুয়ান কুয়াদ্রাদো। ছয় গজ দূর থেকে ডান পায়ের শটে রদ্রিগেজ বল পাঠান উরুগুয়ের জালে। জোড়া গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়েও এগিয়ে গেলেন মোনাকোর মিডফিল্ডার জেমস রদ্রিগেজ।          -ওয়েবসাইট