বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

ভারতের সঙ্গে সৎ ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ : শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সৎ, বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। একইসঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধ, ফেলানী হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান চান তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী দিনে বৃহস্পতিবার দেওয়া বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে সৎ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক চায়, বাংলাদেশও একইভাবে সৎ প্রতিবেশী হতে চায়। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই নিজেদের সদিচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হবে এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

তিস্তা নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি নিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। তিস্তা সমস্যার সমাধান না হলে উত্তরবঙ্গের মানুষের কষ্ট দূর হবে না। তিনি দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার একটি ন্যায়সংগত ও টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামল, রাজনৈতিক সংঘাত, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে জনগণের মতামত, ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে শুধু দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং জনগণের অভিজ্ঞতা ও অধিকারকে সামনে রেখে মূল্যায়ন করতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়, বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামরিক শাসন, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন, পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকার এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, পানি, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শান্তি ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের অর্থ একতরফাভাবে কোনো পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা নয়। বরং উভয় দেশের জনগণের স্বার্থ, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক পরিচালনা করাই প্রকৃত বন্ধুত্বের ভিত্তি হতে পারে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটবে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হবে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

দেশে বিদ্যমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় একাধিক তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে দ্রুতই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক দেশে পরিণত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। এই সময় সংসদ অধিবেশনের কক্ষে সদস্যরা মুহুর্মুহু টেবিল চাপড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানান।

সংকট উত্তরণে সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতদিন আমরা আমদানি নির্ভর উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের গ্রাহক ছিলাম। বর্তমান সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের যে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে আমরা কেবল গ্রাহক থাকব না, বরং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হব।’

বর্তমান সংকট নিয়ে উসকানিমূলক আচরণের পরিবর্তে জনগণের সামনে প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির ঐতিহাসিক রেকর্ড রয়েছে জাতিকে প্রতিটি সংকটময় পরিস্থিতি থেকে সফলভাবে বের করে আনার। বিরোধীদলীয় সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুতই দেশ ও জাতিকে এই বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যা থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।’

গ্যাস- বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সমস্যা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’

বঙ্গোপসাগরে প্রতিবেশী দেশগুলোর গ্যাস আহরণের উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘অদৃশ্য কোনো ইশারায় দেশের সীমানায় বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়নি। বিশেষ কোনো দেশকে সুবিধা দিতে ও তাদের স্বার্থ রক্ষার্থেই বঙ্গোপসাগরে খনন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে প্রচলিত ধারণার কথা তিনি সংসদে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার দেশকে সম্পূর্ণরূপে আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছিল।’ বিদ্যমান সংকটের সূচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার গঠনের মাত্র ১০ থেকে ১২ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা আমাদের জ্বালানি আমদানির প্রধান উৎস ছিল। এর ফলে গ্যাস ও তেল সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়। একই সময়ে দেশের দু’টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে ইলেকট্রিক শকের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে ও সেটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ে। এই জোড়া ধাক্কায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।’

চলমান সংকট নিয়ে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি না করে দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ২০২২ সালে তৎকালীন সরকার বিদ্যুতের ঘাটতি সামাল দিতে অফিসের সময়সূচি ও ব্যাংক লেনদেনের সময় পরিবর্তন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিল। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে রাষ্ট্রকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলা হলেও বিদ্যুৎ সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান তারা করতে পারেনি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১৪০০ মানুষের আত্মত্যাগ ও ৩০ হাজার মানুষের আহত ও পঙ্গুত্ব বরণের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে সংকটকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক আচরণ করা হলে পতিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্রই লাভবান হবে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই জনগণের কাছে বাস্তব পরিস্থিতি সঠিকভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানাই।’

দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বিএনপির অতীত ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অতীতে যতবারই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, ততবারই দেশকে যেকোনো বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে সফলভাবে বের করে এনেছে। জিয়াউর রহমানের নীতি ও দলের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে বিরোধীদলীয় সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অতি দ্রুত দেশকে এই বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে আমরা সক্ষম হবো।

বিকাল তিনটায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। মাগরিবের নামাজের পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ অধিবেশন সমাপনী সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ সংসদে পড়ে শোনান।

সমাপনিতে সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথমে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও পরে সংসদ নেতা বক্তব্য দেন।

রাজবাড়ী সাইট দেখতে যাচ্ছেন উপদেষ্টাসহ তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

স্বপ্নের পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর রাজবাড়ীসহ ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে এক ধরনের আনন্দ ও আবেগ তৈরি হয়েছে। সুন্দর আগামীর এক স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে তাদের মাঝে। গত ১৩ মে ২০২৬ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে নীতিগত সিদ্ধান্তের পর এমন এক আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ইতোমধ্যে একনেকের সভায় প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পও পাস হয়েছে। এ ব্যারাজ হতে যাচ্ছে রাজবাড়ীর পাংশা থেকে ওপারে পাবনার সুজানগরের মধ্যে। যার সুফল পাবেন উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের বহু মানুষ।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে সাইট দেখতে আসছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

দীর্ঘদিনের চেষ্টার ফসল এই পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন হিসাবে দেখছেন দেশবাসী। ব্যারাজসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ২.১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ ব্যারাজ নির্মিত হবে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে ওপারের পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত।

এ ব্যারাজ বাবদ একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে। এ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছেÑনদী শাসন, অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ, পাকা সড়ক ও নানা অবকাঠামো নির্মাণ। তাছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী, চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদী শাসনের কাজ রয়েছে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত প্রধান প্রকেশৗলী) হাসান মাহমুদ আমার দেশকে জানান, উপদেষ্টা ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ উপস্থিত থাকবেন। অতিথিরা মূলত জায়গা দেখতে আসছেন। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের জন্য দুপাড়ের জায়গা ইতোমধ্যেই নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯টি জেলার মানুষ এই ব্যারাজের সুফল ভোগের পাশাপাশি সারা দেশের সঙ্গে সড়ক ও রেল সড়কের জাতীয় নেটওয়ার্ক তৈরি হবে। জেলাগুলো হলোÑউত্তরের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা এবং দক্ষিণের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়াসহ অন্যান্য জেলা।

প্রাণীদের আঘাত না করে মমত্ববোধ দেখাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সব প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও যত্নশীল হতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে গাছপালা ও প্রাণিকূলের যত্ন নেওয়া মানুষের দায়িত্ব। কোনো প্রাণীকে আঘাত না করে তাদের প্রতি মমত্ববোধ দেখাতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে দেশের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।

রাজশাহীর পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকার সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, তেজগাঁও মহিলা কলেজ এবং টঙ্গীর শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা আজ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বেশি করে গাছ লাগানো এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখার আহ্বান জানান।

ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রাণিকুলের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ারও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গান, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও বাদ্যযন্ত্র চর্চায় অংশ নিতে তাদের উৎসাহিত করেন। এছাড়া তিনি শিক্ষার্থীদের ক্বিরাত চর্চারও পরামর্শ দেন।

শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে।

পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৩৬ জন ছাত্রী ও আটজন শিক্ষক এবং সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৫০ জন ছাত্রী ও চারজন শিক্ষক এদিন জাতীয় সংসদ ভবনে আসেন।

এছাড়া, রাজধানীর তেজগাঁও মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ৪৬ জন ছাত্রী ও ১১ জন শিক্ষক এবং শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ৪৭ জন শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষক সংসদ ভবনে আসেন। তারা জাতীয় সংসদের অধিবেশন প্রত্যক্ষ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও কথা বলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। এ সাক্ষাৎ তাদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে: প্রধানমন্ত্রী

বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে সেজন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ (বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রাজনীতির সংস্কৃতি যাতে গালাগালিতে পরিণত না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান। জুলাই শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।’ সরকারি দল ও বিরোধীদল মিলে গালাগালির পরিবর্তে কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে বিভেদ পরাজিত ফ্যাসিস্টদের ফিরে আসার পথ সুগম করতে পারে। এজন্য ঐক্য রাখা একান্ত কাম্য। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু ভিন্নমত যাতে শত্রুতায় পরিণত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

সংসদে যে কারণে জামায়াতকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

১৯৯১ সালে জামায়াত বিএনপিকে সমর্থন করায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন,অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় আনে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ঋণ খেলাপি বাড়ে। ঋণখেলাপিমুক্ত হতে দায়িত্ব এসেছে বিএনপির ওপর। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বর্তমানে ঋণ খেলাপির মাত্রা কমে এসেছে। ঋণখেলাপির কলঙ্কমুক্ত করবে বিএনপি সরকার। ফ্যাসিবাদের টাকা পাচারের কারণে দেশের কাঁধে হাজার কোটি টাকা ঋণ রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের সময় দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছিল। বর্তমানে বাকস্বাধীনতা রয়েছে। তবে বাকস্বাধীনতার নামে গালাগালি যেন না করা হয়। গালাগালির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি দল এবং বিরোধীদল মিলে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনেরও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। গণতন্ত্রের ঐক্যে ফাটল হলে ফ্যাসিবাদের পথ সুগম হতে পারে, তাই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

লড়াই করেও জাপানের কাছে হারল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দলের চেয়ে শক্তিমত্তায় বেশ এগিয়ে শক্তিশালী জাপান। মাঠের লড়াইয়েও সেই শক্তির পার্থক্যটা হাড়ে হাড়ে টের পেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। লড়াই করেছেন সারিকা-কনারা। তবে জয়টা আর পাওয়া হয়নি।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত জুনিয়র হকি এশিয়া কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

এই হারে আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নও ভেঙে গেল বাংলাদেশের। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে হলে অন্তত সেমিফাইনালের গণ্ডি পার হতে হতো বাংলাদেশকে।

তবে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে গেলেও এশিয়া কাপ শেষ হয়ে যায়নি বাংলাদেশের। আগামী শনিবার পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী প্লে-অফ ম্যাচে মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। যেখানে মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়া দল হবে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ।

এর আগে গ্রুপ পর্বে দাপট দেখিয়েই শেষ আটে পা রেখেছিল আরিফ আলীর দল। চ্যালেঞ্জার পুলের টানা চার ম্যাচেই দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে অপরাজিত গ্রুপসেরা হয়েছিল তারা। কিন্তু নকআউট পর্বের কঠিন মঞ্চে এসে শক্তিশালী জাপানের গতির সঙ্গে আর কুলিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ।

তিনবারের জুনিয়র হকি বিশ্বকাপ খেলা জাপান ম্যাচের সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে।

ম্যাচের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ২৬তম মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় জাপান। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হিরাই ইয়োশিনো গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। পিছিয়ে পড়ার পর অবশ্য তৃতীয় কোয়ার্টারে দারুণ দুটি আক্রমণ শানিয়ে সমতায় ফেরার আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাবে বল জাপানের জালে জড়াতে পারেনি তারা।

এরপর ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারে ব্যবধান কমানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। কিন্তু গোল শোধ তো দূরে থাক, উল্টো ৪৭তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ফিল্ড গোল করে জাপানের জয় পুরোপুরি নিশ্চিত করেন সুজুকি মোমোকা।

এর আগে গ্রুপ পর্বে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। চাইনিজ তাইপেকে ৭-০, পাকিস্তানকে ৫-১, কাজাখস্তানকে ৪-০ এবং হংকংকে ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছিল তারা।

বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায় বর্তমান সরকার, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সংসদের কাছে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে এই সমস্যার কারণে সমগ্র দেশের মানুষকে কিছু ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই জাতীয় সমস্যা সমাধানে তারা বিরোধীদলীয় বন্ধুদের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেছিলেন।

তবে সংকট সমাধানে রাজপথের কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অথচ আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কিনা।’

লংমার্চের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, ‘গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে এবং জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও গঠনমূলক আলোচনার ওপর বিশেষ জোর দেন।

নিজ দপ্তর থেকেই ‘মাননীয়’ পদবি বাতিলের নিয়ম বাস্তবায়ন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে নিজের পদবির আগে 'মাননীয়'সহ অন্যান্য সম্মানসূচক শব্দ বাদ দেওয়ার সরকারের সিদ্ধান্ত নিজ দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব ধরনের ফাইল, নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তার পদবির আগে 'মাননীয়' শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্দেশ দিয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে 'মহামান্য', 'মাননীয়' বা অন্য কোনও সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার নিজ দপ্তরেই এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন, যাতে এটি শুধু প্রজ্ঞাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে।

তারা জানান, তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী'র পরিবর্তে শুধু 'প্রধানমন্ত্রী' লেখার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তারা আরও বলেন, সম্মানসূচক শব্দ বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত সরকারি দায়িত্ব ও জবাবদিহিকে আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদার বর্ণনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। কর্মকর্তারা বলেন, দাপ্তরিক নিয়মকানুন মেনে চলার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নিজেও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।

তিনি নিয়মিত কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো অনলাইন হাজিরা ব্যবস্থায় হাজিরা দেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময়ও তারেক রহমান নির্ধারিত ব্যবস্থায় প্রস্থান নথিভুক্ত করেন বলে কর্মকর্তারা জানান।

তারা বলেন, এই চর্চার মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যে পদমর্যাদা যা-ই হোক, প্রশাসনিক নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে অতিরিক্ত প্রটোকল ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচার কমাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন তারেক রহমান।

এর মধ্যে রয়েছে সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারে নিজের ছবি ব্যবহার না করা, মোটরকেডে গাড়ির সংখ্যা কমানো এবং চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখা।

প্রধানমন্ত্রী দেশের ভেতরে বা বিদেশে পতাকাবাহী গাড়িও ব্যবহার করেন না, তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও সরকারি কর্মসূচিতে যেখানে এ ধরনের প্রটোকল প্রয়োজন, সেসব ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম রয়েছে।

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

‘মাননীয়’ বাদ, অনলাইন হাজিরা: নিজ দপ্তরেই দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর

‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব ধরনের ফাইল, নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তার পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এর আগে, গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে বলা হয়- রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তার কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দিচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব নয়, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতাই যে মুখ্য, সেই দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও নজির তৈরির চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তিনিও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন।

সরকারপ্রধান হয়েও দাপ্তরিক নিয়ম নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিতে চাইছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিই যখন সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতেও এরই মধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় তার ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তার চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না।

এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।