মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

তিন বছরে জিটিভি

জিটিভির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের ১২ জুন যাত্রা শুরু করেছিল বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা গাজী গোলাম দস্তগীরের এ চ্যানেলটি।image_86018_0

একেবারে ভিন্ন এক পরিবেশে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে জিটিভি। বিশ্বকাপের  উদ্বোধনী দিনেই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী হওয়ায় পুরো আয়োজন পেয়ে গেছে নতুন মাত্রা। বিশেষ এই দিনেই জিটিভি সরাসরি সম্প্রচার করতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের মতো বড় এক ইভেন্ট। চ্যানেলটি যে দর্শকের কাছাকাছি থেকে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে চায়- বিশ্বকাপ সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগ তাই প্রমান করে।

শুরু থেকেই জিটিভি নানা আয়োজন নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করেছে। চ্যানেলটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান। বিটিভির সাবেক এই মহাপরিচালক নিজে একজন গুণী নির্মাতা। এইসব দিনরাত্রি, সময় অসময়সহ বেশকিছু জনপ্রিয় নাটক ও অনুষ্ঠানের নির্মাতা তিনি। দর্শকের চাহিদা বেশ ভালোই জানেন তিনি। সময়ের জনপ্রিয় চ্যানেল বাংলাভিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল তার হাত ধরেই। জিটিভি তার হাতে গড়া দ্বিতীয় বেসরকারি টিভি চ্যানেল।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জিটিভি। দিনভর চ্যানেলটির পর্দায় দেখা যাবে বিশেষ অনুষ্ঠান। শুভানুধ্যায়ীরা সরাসরি এসে শুভেচ্ছা জানাবেন।

আজ জিটিভির অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে: সকাল ১০.১৫ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে স্টুডিও কনসার্ট, সন্ধ্যা ৬.৩০ রোড টু ফিফা, রাত ৮.০০ তারার কথা, ৯.২০ সুর নুপুর, ১১.০৫ আজকের অনন্যা, রাত ১২.০০ বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

বিপর্যস্ত পাকিস্তানের নিরাপত্তা

একের পর এক তালেবান হামলায় বিপর্যস্ত পাকিস্তানের নিরাপত্তা। করণীয় ঠিক করতেই উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। সে বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা না গেলেও জঙ্গি দমনে আরো কঠোর অবস্থানে নেয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে।image_86013_0

তালেবান জঙ্গি দমনে ইতিমধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশ সদস্যদের পাশপাশি এ বাহিনীতে রয়েছে আধা সামরিক বাহিনী এবং সেনা সদস্যরাও। পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছে তারা।

সহকারী পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট ফাহাদ ইকবাল বলেন, ‘সশ্বস্ত্র বিদ্রোহীরা লুকিয়ে আছে, এমন গোপন খবরের ভিত্তিতেই বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকা পাহলোয়ান ঘোটা ঘিরে রেখে তল্লাশি চালাচ্ছে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।’

এমন পরিস্থিতিতেই করাচি বিমানবন্দরে দুদফা সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় পরবর্তী করণীয় নিয়ে ইসলামাবাদে নিজ বাসভবনে নিরাপত্তাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠক করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে সেনাপ্রধান জেনারেল রেহেল শরিফ, সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল ইসফাক নাদিম আহমেদ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী থাকলেও, অনুপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং আইএসআই প্রধান জহির উল ইসলাম।

ওদিকে বিমানবন্দরের পাশে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ফোর্স এএসএফের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে মঙ্গলবারের ঘটনাকে হামলা বলতে নারাজ বাহিনীটির প্রধান।

এএসএফের পরিচালক আজম খান বলেন, ‘প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হামলার যে খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তা ঠিক নয়। এখানে কোনো আক্রমণের ঘটনা ঘটেনি– কিছু গোলাগুলি হয়েছে মাত্র। খবর পেয়েই নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে গেছে এবং সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের তাড়িয়ে দিয়েছে।’

অন্যদিকে মালাকান্দ এলাকায় স্থানীয় শান্তি কামিটি সদস্য আতাউল্লাহ খান মেহসুদের বাসভবন তালেবান বিদ্রোহীদের হামলায় দুই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম ডন। তবে এ হামলায় আতাউল্লাহ খান অক্ষত রয়েছেন বলে জানিয়েছে তারা।

মমতা ও জয়ললিতার প্রশংসায় মোদি, সৌজন্য নাকি কৌশল?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভায় দেয়া নিজের প্রথম ভাষণে সবাইকে অবাক করে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ব্যাপক প্রশংসা করেছেন।image_86003_0

বুধবার প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর বক্তৃতা করতে গিয়ে মমতাকে ‘বোন’ সম্মোধন করে মোদি বলেন,  “মমতা দিদি যেভাবে পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উন্নয়নের কাজ চালাচ্ছেন তাকে আমরা সম্মান করি। যে ভালো কাজ করে তার কথা বলতেই হবে। এভাবেই প্রতিযোগিতা চলুক রাজ্যগুলোর মধ্যে। তবেই তো দেশ মডেল হবে।”

পশ্চিমবঙ্গে ‘বাম দুঃশাসনের’ অবসান ও রাজ্যের উন্নয়নের জন্য তৃণমূল নেত্রী কঠোর পরিশ্রম করেছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। মমতার পাশাপাশি তামিলনাড়ুর এআইডিএমকে প্রধান জয়ললিতারও প্রশংসা করেন মোদি।

লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই কথিত বাংলাদেশি বিতাড়ন ইস্যুতে মোদি-মমতা বাকযুদ্ধ তুঙ্গে ছিল। যার ফলে বিশেষ আমন্ত্রণেও মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যাননি মমতা। কিন্তু লোকসভায় মমতার প্রশংসা করে ফের কিছুটা বরফ গলানোর চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

অবশ্য, এটা মোদির একটা কৌশল হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ কয়েকদিন আগে বাম দলগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েছেন মমতা। তাদেরকে নিজের দল গোছাতে বলে জানিয়েছিলেন, “বিজেপিকে আমি দেখব। আপনারা ঘর সামলান।” তাই কৌশলী মোদি বোধহয় সেদিকেই নজর দিয়েছেন।

তবে, মোদির ঘনিষ্ঠরা এর মধ্যে কোনো রাজনীতি খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের বক্তব্য, মোদি বরাবরই পারস্পরিক সহযোগিতাভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বিশ্বাসী। তাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাজের প্রশংসা করেছেন। দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক লড়াই যে বাধা হবে না, প্রথম দিন থেকেই তার ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন মোদী।

কিন্তু বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রীর অনুসারীদের এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের দাবি, লোকসভায় এনডিএ’র বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও রাজ্যসভায় তারা সংখ্যালঘু। তাদের সংখ্যা মাত্র ৬২। যার ফলে সংসদের উচ্চকক্ষে কোনো বিল পাস করাতে গেলে মোদি সরকারকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তাই তার প্রয়োজন জয়ললিতা, মমতা ব্যানার্জি ও নবীন পট্টনায়কদের সমর্থন।

রাজ্যসভায় তৃণমূলের ১২ জন, এআইএডিএমকের ১০ জন এবং বিজু জনতা দলের ৬ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাই রাজ্যসভার বৈতরণী পার হতেই মোদির মুখে মমতা-জয়ললিতার ভূঁয়সী প্রশংসা কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

কংগ্রেসের সংসদ সদস্য অধীর চৌধুরী বলেছেন, রাজ্যসভার কথা ভেবে মমতার মন জয় করতেই মোদীর এই প্রশংসাবাণী। অবশ্য বামপন্থীরা বিষয়টিকে ‘গোপন সমঝোতা’ হিসেবে দেখছেন। সিপিএমের সংসদ সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেছেন, এই ঘটনায় বিজেপি-তৃণমূল গোপন সমঝোতার বিষয়টি আরও একবার প্রকাশ্যে এলো। সূত্র: আইআরআইবি

মার্কিন স্কুলে ফের বন্দুকবাজ

ফের বন্দুকবাজ হামলা আমেরিকার স্কুল চত্বরে। ঘটনায় মৃত্যু হলো এক ছাত্রের। তিন সপ্তাহের মধ্যে এটা তৃতীয় ঘটনা।image_86017_0

ক্লাস চলছিল অরেগনের পোর্টল্যান্ডের রেনল্ডস হাইস্কুলে।  সকাল আটটা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। আচমকাই ঢুকে পড়ে এক বন্দুকবাজ। লকার রুমে তখন  ১৪ বছরের এমিলিও হফম্যান কোনো একটা কাজে ঢুকেছিল। তার ওপরই প্রথম হামলা হয়। গুলির আঘাতে মৃত্যু হয় এমিলিওর। স্কুল জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্র-ছাত্রীদের তখন এক একটি ক্লাস রুমে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিতে শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরে স্কুলেরই এক শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয় বন্দুকবাজের দেহ। পুলিশের ধারণা, নিজের বন্দুক থেকে গুলি চালিয়েই আত্মঘাতী হয়েছে সে। নিহত বন্দুকবাজের পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে একটি সূত্রের খবর, ওই কিশোর রেনল্ডস হাইস্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র।

বারবার স্কুলে এই ধরনের ঘটনায় রীতিমত উদ্বিগ্ন মার্কিন প্রশাসন। এদিনের ঘটনার পরে ফের দেশের অস্ত্র আইন পাল্টানোর জোর দাবি উঠেছে। উদ্বিগ্ন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও। দেশের অস্ত্র আইন বদলানোর পক্ষে আজ ফের সওয়াল করেন তিনি।- ওয়েবসাইট।

ইরাকে মুসলের পর তিকরিতও সুন্নি বিদ্রোহীদের দখলে

সুন্নি বিদ্রোহীরা ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ শহর তিকরিত দখল করে নিয়েছে। একদিনের মাথায় তারা দেশটির দ্বিতীয় একটি শহর দখল করে নিল। এর আগে তারা মুসল শহরটি দখল করে নিয়েছে।image_85982_0

সংবাদ সংস্থাগুলো জানায়, তিকরিত শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দখলকারীরা পাহারা বসিয়েছে। তিকরিত হলো ইরাকের সালাহউদ্দিন প্রদেশের রাজধানী। এটি রাজধানী বাগদাদ ও মুসলের মাঝখানে অবস্থিত।

পুলিশের একজন কর্নেল সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, “গোটা তিকরিত এখন বিদ্রোহীদের দখলে।”

পুলিশের আরেকজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জানান, “বিদ্রোহীরা উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ দিক থেকে একযোগে হামলা চালিয়ে শহরটি দখল করে নেয়।” তিনি আরো জানান, “এ বিদ্রোহীরা হলো ইসলামী স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লেভান্তের লোকজন।”

আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, শহর দখলের পরপরই তারা ৩০০ কারাবন্দিকে মু্ক্ত করে দেয়।

এদিকে ইরাকের মসুল নগরীতে জিহাদিরা বুধবার তুর্কি কনস্যুলেট দখল এবং মিশন প্রধানসহ ২৫ স্টাফকে অপহরণ করেছে।

পুলিশের একজন কর্নেল ইসলামী স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লেভান্তের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আইএসআইএল তুর্কি কনসাল এবং তার ২৪ প্রহরী ও সহকারীকে অপহরণ করেছে।
জিহাদিরা ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী মসুল ও আরো কিছু অঞ্চল দখল করে নেয়ার পর বুধবার ওই এলাকায় দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা নগরীর রাস্তায় টহল দিচ্ছে এবং সরকারি কর্মচারীদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লেভান্ত (আইএসআইএল) যোদ্ধাসহ সুন্নি জঙ্গিরা মঙ্গলবার মসুলে ঢুকে পড়ে। এ সময় আতঙ্কিত প্রায় পাঁচ লাখ লোক শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি ইরাকের শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য একটি বড় আঘাত।

প্রধানমন্ত্রী নূরী আল-মালিকি জিহাদিদের প্রতিরোধে ইচ্ছুক নাগরিকদের অস্ত্র সজ্জিত করার ঘোষণা দেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছে, আইএসআইএল গোটা অঞ্চলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে।

বুধবার বন্দুকধারীদের মসুলে সরকারি ভবন ও ব্যাংক পাহারা দিতে দেখা যায়। এদের অনেকের পরনে ছিল সামরিক পোশাক। তারা লাউড স্পিকারে সরকারি কর্মচারীদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এখনো বেশ কিছু পরিবার নগরী ছেড়ে পালাচ্ছে।

জিহাদিরা মঙ্গলবার পুরো মসুল ও নিনেভেহ প্রদেশ দখল করে নেয়। এছাড়া তারা পূর্বে কিরকুক ও দক্ষিণে সালাহেদ্দিন প্রদেশেরও কিছু এলাকা দখল করে নেয়।-এএফপি

বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে রাতে

আর কয়েক ঘণ্টা পরেই ব্রাজিলের সাও পাওলোতে পর্দা উঠছে বিশ্বকাপ ফুটবলের। বাংলাদেশে সময় রাত দশটায় জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে রাত দুটোয় উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া।image_86002_0

কিন্তু শুরুটা বোধহয় যতখানি নির্ঝঞ্ঝাট হবে বলে মনে হয়েছিল, তা হয়নি। নানা ধরনের ধর্মঘট, প্রতিবাদ, বিক্ষোভের কালো ছায়া পড়েছে ব্রাজিলে। তবে দেশের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ বলছেন, তার দেশ বিশ্বকাপ হোস্ট করার জন্য এখন তৈরি।

মিজ রুসেফ বলছেন খেলা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আর নৈরাশ্যবাদীরা আমাদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞা এবং কর্মক্ষমতার কাছে এরই মধ্যে পরাজিত হতে শুরু করেছে।
নৈরাশ্যবাদীরা বলতো আমাদের এখানে কখনো বিশ্বকাপ হবে না, কারণ আমাদের কখনো স্টেডিয়াম হবে না। কিন্তু আমাদের স্টেডিয়াম আছে আর সবগুলোই এখন প্রস্তুত।

এদিকে জনপ্রিয় সঙ্গীত তারকা জেনিফার লোপেজ আজ রাতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করছেন। এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে ফিফা বলেছিল, আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন জেনিফার লোপেজ।

কিন্তু মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেছেন, ওইদিন রাতেই তিনি ব্রাজিলের উদ্দেশ্যে উড়াল দিচ্ছেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি যথাসময়ে উপস্থিত থাকবেন।

এবার বিশ্বকাপের থিম সঙ্গীতটিতে র্যা প সঙ্গীত শিল্পী পিটবুল এবং ব্রাজিলের শিল্পী ক্লডিয়া লেইটের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন জেনিফার লোপজে। এই তিন শিল্পীই উই আর ওয়ান বা ওলা ওলা শিরোনামের গানটি নিয়ে সশরীরে আজ সাওপাওলোর মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা থাকছে
২০তম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থান পাবে ব্রাজিলের হাজার বছরের কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ফুটবলসহ নানা কিছু। থাকবে চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞানভিত্তিক আয়োজন। বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গীত বিমোহিত করবে স্টেডিয়ামের ৬০ হাজার ও টিভির কোটি দর্শককে। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা রোবোটিক এক্সোস্কেলেটন বা ধাতব পোশাক পরিহিত পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের পরিবেশনা দিয়ে। নেইমাররা মাঠে নামার আগেই ফুটবলে লাথি মারবে রোবটরা! এরপর একে একে থাকবে নাচ, জিমন্যাস্টিকস, ব্রাজিলীয় মার্শাল আর্ট পরিবেশনাসহ নানা কিছু। নানা বর্ণিল চরিত্রে ও সাজসজ্জায় বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে স্বাগতিক ব্রাজিলকে। এখানে কোনো না কোনোভাবে তুলে ধরা হবে অংশগ্রহণকারী ৩২টি দেশকে।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট হিসেবে আগ্রহের কেন্দ্রে থাকছে ফিফার অফিশিয়াল গান ‘ওলে ওলা’ বা ‘উই আর ওয়ান’। এ গানে পারফর্ম করবেন মার্কিন র্যাপার পিটবুল ও ব্রাজিলের খ্যাতিমান সঙ্গীতশিল্পী ক্লদিয়া লেইতে। মার্কিন পপ তারকা জেনিফার লোপেজ ‘প্রডাকশন ইস্যু’জনিত কারণে পারফর্ম করবেন না বলে জানিয়েছিল ফিফা। তবে গতকাল ফিফাই নিশ্চিত করেছে, লোপেজও থাকছেন বিশ্বকাপ উদ্বোধনীতে। এতে অনুষ্ঠানের জৌলুস আরেকটু বাড়বে নিশ্চিতভাবেই।

৬৪ বছর পর ব্রাজিলে বিশ্বকাপ আসর বসছে। একে সফল করতে যেমন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ব্রাজিল সরকার, তেমনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকেও সফল করতে থাকছে নানা প্রয়াস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবে প্রায় ৬০০ মানুষ। বড় তারকাদের নিয়ে আলোচনা হলেও এ অনুষ্ঠানের মূল কারিগর শত শত স্বেচ্ছাসেবী ও কলাকুশলী। কয়েক মাস মহড়া করে তারা নিজেদের তৈরি করেছেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রতি মিনিটের পরিবেশনার জন্য তারা ২০ ঘণ্টা করে মহড়া দিয়েছেন।

এতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার কারণও রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গড়বড় করার ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে লজ্জাবরণ করতে হয়েছিল সঞ্চালক অপরাহ উইনফ্রে ও সঙ্গীতশিল্পী ডায়ানা রসকে। শিকাগোর সোলজার ফিল্ড স্টেডিয়ামে রসকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে ডায়াস থেকেই পড়ে যান উইনফ্রে। এরপর রসের পালা। কথা ছিল তিনি পেনাল্টিতে গোল করলেই গোলবক্সটা ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যাবে। কিন্তু রস বলটি মারেন বারের বাইরে দিয়ে!
ব্রাজিলে কোনো দুর্দশা যাতে না আসে, সেটা নিশ্চিত করতেই দিন-রাত চলছে মহড়া।

এ নিয়ে বেলজিয়ান ডিরেক্টর (আর্টিস্ট) ডাফনে কর্নেজ বলেন, ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটা ব্রাজিল এবং এর সম্পদ যেমন: প্রকৃতি, মানুষ ও ফুটবলের প্রতি উত্সর্গীকৃত।’

মহড়ার আবহ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানকার আবহ রোমাঞ্চকর এবং সবাই খুবই উদ্দীপ্ত। কারো মধ্যে ক্লান্তির কোনো ছাপ আমি দেখিনি। তারা পরিপূর্ণ উদ্যমে, হাসিমুখে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এটা সত্যিই বিস্ময়কর।’ সূত্র: ওয়েবসাইট

বন্দিত-নিন্দিত নেইমার

একইসঙ্গে একটা দেশের ভালোবাসা আর ঘৃণা এত প্রবল ভাবে আর কোনো তারকা কখনো  পেয়েছেন? ব্রাজিলে যেমন পান নেইমার দ্য সিলভা স্যান্টোস জুনিয়র?তিনি নতুন যে হেয়ারস্টাইলই নিন, সেটা নকল করতে বাচ্চাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। গোল করার পর স্লো-মোশনে তার সেলিব্রেশন ভঙ্গি ইউটিউবে দেখে কোটি কোটি ভক্ত। অটোগ্রাফ দিতে দিতে তিনি একটু বেলি-ডান্স দেখিয়ে দিলেই ফ্যানেরা  খুশি।
image_85990
কিন্তু শুধুই কি আনন্দ দেয়ার জন্য এ সব করেন নেইমার? নাকি অন্য কোনো অভিসন্ধিও থাকে? বিস্ময় বালক হিসাবে যিনি বন্দিত, তিনিই যে আবার নিন্দিতও। তাকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠা তাই বন্ধ হয় না।

ফিফা নতুন নিয়মই এনে ফেলল, ফুটবলাররা যখন-তখন মাঠের মধ্যে জামাকাপড় খুলে পণ্যের বিজ্ঞাপন করতে পারবেন না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অন্তত পাঁচ বার টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে নেইমার তার ‘লুপো’ সংস্থার অন্তর্বাস দেখাচ্ছেন। ফিফার এই নতুন নিয়মের তাই নামকরণই হয়ে গিয়েছে ‘নেইমার ল’। যেন এই আইন করাই হয়েছে তার জন্যই। যারা এমন নামকরণ করেছেন, তাদের মধ্যে ব্রাজিলের ফুটবল অনুরাগীরাও আছেন।

ব্রাজিলে অবশ্য নিয়মিত খবরের শিরোনামে থাকার ব্যাপারে নেইমারকে আরও একজন প্রতিযোগিতায় ফেলে দিতে পারেন। তিনি নেইমারের বেশ পরিচিতও। ১৮ বছর বয়সী সুন্দরী মডেল-অভিনেত্রী ব্রুনা মাহ্কুইজিন। যার সঙ্গে নেইমারের সম্পর্কের কাহিনি এই বিশ্বকাপের বাজারে ফের সংবাদপত্রের প্রথম পাতায়। ২০১৩’র ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নেইমার এবং ব্রুনা একসঙ্গেই ছিলেন। নেইমার বার্সেলোনায় যাওয়ার পর থেকেই সম্পর্কে ভাঙন ধরা শুরু। ক্যাম্প ন্যু’তে লিও মেসির জুটি হিসাবে নেইমার তার কেরিয়ারের অগ্নিপরীক্ষা দিচ্ছেন আর এদিকে, ব্রাজিলে তখন ব্রুনার খোলামেলা দৃশ্য নিয়ে চাঞ্চল্য। গায়ের তোয়ালে পড়ে যাচ্ছে। শরীরের ঊর্ধ্বাংশ সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে পড়া ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত তড়িঘড়ি নায়িকা হাত দিয়ে বুক ঢাকছেন। ব্রাজিলের মানুষের কাছে ব্রুনাকে এই একটি দৃশ্যই দারুণ জনপ্রিয় করে তুলল। টিভি’তে ‘ডান্সিং উইথ স্টার্স’ নামে একটি রিয়্যালিটি শো’তেও অংশ নিয়েছেন। তার যে গানের গলাও নেহাত খারাপ নয়, সেটাও প্রমাণ করলেন। হারলেন ফাইনালে গিয়ে।

বন্দনা এবং নিন্দা বরাবর নেইমারের কেরিয়ারে পাশাপাশি থেকেছে। ব্রাজিলের স্পোর্টস ম্যাগাজিন ‘প্লাকার’ যেমন একবার ক্রুশবিদ্ধ নেইমারের ছবি ছেপেছিল। ব্রাজিলে ৮০ শতাংশ মানুষ যিশু খ্রিস্টে বিশ্বাসী। তাদের চোখ এড়ায়নি সেই ছবি। বছর চারেক আগে নেইমার একবার হঠাৎ বলে দিলেন, তিনি কৃষ্ণাঙ্গ নন এবং সেই কারণে কখনও বর্ণ বৈষম্যের কোপে পড়তে হয়নি। অথচ, ব্রাজিলে অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ মানুষ নিজেদের কৃষ্ণাঙ্গ বলে ঘোষণা করেছে।

বিশ্বকাপের ক্যাম্প করার জন্য রিও ডি জেনেরো’র পাহাড়ি অঞ্চল তেরেজোপোলিসে ব্রাজিল দল পৌঁছে গিয়েছে গত সপ্তাহেই। ফুটবল-ভক্তদের মধ্যে তাতে বেশ ভালো মতোই সাড়া পড়েছে। প্রিয় তারকাদের কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দিয়েছে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবির। ব্রাজিলে ফুটবল নিয়ে সমর্থনের ইতিহাসটা বেশ কট্টর। প্রত্যেকটা শহরেরই আলাদা আলাদা ফুটবল টিম আছে। আর প্রত্যেকটা ক্লাবেরই সমর্থক সংখ্যা প্রচুর। রিও ডি জেনেরো’তেই যেমন ফ্ল্যামেঙ্গো, বোতাফোগো, ফ্লুমিনিজ এবং ভাস্কো- এই চারটি দলের মধ্যে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিশ্বকাপে অবশ্য নিজেদের ক্লাবের জার্সি তুলে রেখে এরা জাতীয় দলের হলুদ-সবুজ রং গায়ে চাপিয়ে নেবেন।

এই সমর্থন যে ব্রাজিল কতটা মরিয়া ভাবে চাইছে, লুইজ ফিলিপ স্কোলারির কথাতেই তা ধরা পড়েছে। স্কোলারি বলেছেন, ‘‘আমরা চাই পুরো দেশ আমাদের সঙ্গে থাকুক। যদি দেশবাসী আমাদের সঙ্গে না থাকেন, তাহলে আমাদের পক্ষে ভালোপ কিছু করে দেখানো সম্ভব নয়।” একইসঙ্গে তিনি এটাও বলেছেন যে, ‘‘আমি দেশবাসীর সমর্থনের জোর ইতিমধ্যেই টের পেতে শুরু করেছি।” নেইমারকে তেমনই ভীষণ ভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল একটি বিশেষ শিশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ।

বিক্ষোভ নিয়ে ব্রাজিলের ফুটবলমহলও দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে। পেলে বা রোনাল্ডোর মতো প্রাক্তন তারকারা বিক্ষোভ নিয়ে পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রোনাল্ডো যেমন বলেছেন, ‘‘ব্রাজিলে দেরি করে স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে বলে আমি লজ্জিত। আশা করব, বিশ্বের মানুষ আমার প্রিয় দেশ সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা নিয়ে ফিরে যাবেন।” ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতানো রোনাল্ডো এখনও ব্রাজিলে বেশ জনপ্রিয়। টিভি শো’তে এসে মজার মজার সব জিনিস ঘটান। গত বছর যেমন টিভি দর্শকদের সামনে নতুন ‘ডায়েট’ মেনে রোগা হলেন। প্রাক্তন ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকার রোমারিও এখন রাজনৈতিক নেতা। তিনি প্রকাশ্যেই বিশ্বকাপের দেদার খরচের সমালোচনা করেছেন।

আর ব্রাজিলের রাস্তায় এই সব প্রাক্তনদের হাতের কাছে পাওয়া মোটেও রূপকথার রাজকুমারের সন্ধান পাওয়ার মতো অলৌকিক নয়। রেস্তোরাঁয় গিয়ে হঠাৎ তাদের দেখা পাওয়া যেতে পারে। আমি নিজে একবার বাহা দ্য তিজুকা’র বিচে ঘুরতে গিয়ে আচমকাই আবিষ্কার করি, রোনাল্ডিনহো বিচ ফুটবল খেলছেন!

ব্রাজিলে ফুটবল মানেই তো ধর্মের মতো। আর কখন, কোথায় আরাধ্য দেবতাদের দেখা মিলে যায়, কেউ জানে না। এই বিশ্বকাপের বাজারে যেটা ঘটার সম্ভাবনা আরওই বেশি। নেইমারকে হয়তো রেস্তোরাঁয় পাওয়া কঠিন হবে কারণ ব্রাজিলীয় টিম ম্যানেজমেন্ট ঠিক করে ফেলেছে, বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেলে জনতার কাছ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা হবে ফুটবলারদের। যাতে প্রত্যাশার চাপ থেকে তাদের রক্ষা করা যায়। জনতার সামনে বার করা মানেই তো ভক্তদের বিশ্বকাপ জয়ের আবদারে চাপ আরওই বাড়ল।– ওয়েবসাইট।

২২ জুন জয়পুরহাট যাচ্ছেন খালেদা

জয়পুরহাট সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আগামী ২২জুন তিনি সেখানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন।image_86005_0

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি চেয়ারপারসন রাজবাড়ী ও মুন্সীগঞ্জে জনসভা করেন। এছাড়া দলের পক্ষ থেকে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে লংমার্চ করলেও তাতে তিনি যাননি।

জয়পুরহাট সফরের বিষয়ে নতুন বার্তা ডটকমকে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

জানা গেছে, ২১ জুন ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে বগুড়ায় রাতে অবস্থান করবেন খালেদা জিয়া। পরে সেখান থেকে জয়পুরহাট যাবেন।

এদিকে চলতি মাসে খালেদা জিয়ার নাটোরে জনসভা করার কথা থাকলেও তার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

রাষ্ট্রপতি আজ বলিভিয়া ও আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলিভিয়া ও আমেরিকায় ১০ দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবা ঢাকা ত্যাগ করছেন।image_86007_0

সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে আমিরাত এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। আগামী ১৪ ও ১৫ জুন বলিভিয়ার সান্তাক্রুজ ডি লা সিয়েরায় অনুষ্ঠিতব্য ‘কমেমোরেটিভ সামিট অব জি-৭৭ এন্ড চায়না’য় যোগ দেবেন।

রাষ্ট্রপতি ১৩ জুন বলিভিয়ার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র সান্তাক্রুজে যাবেন এবং পরদিন জি-৭৭-এর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ১৫ জুন সম্মেলনে জি-৭৭-এর অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভাষণ দেবেন। এ সম্মেলনে যোগদান শেষে রাষ্ট্রপতি ১৬ জুন নিউইয়র্কের উদ্দেশে বলিভিয়া ত্যাগ করবেন। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তিনি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সচিবালয় পরিদর্শন এবং ১৯ জুন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি হামিদ ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেয়া এক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। আগামী ২২ জুন সন্ধ্যায় দেশে তিনি ফিরবেন। সূত্র: বাসস

সাড়ে তিন বছর পর দেশে ফিরলেন মুক্ত ৭ নাবিক

সোমালীয় জলদস্যুদের কাছ থেকে মুক্তি পেয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর পর দেশে ফিরেছেন সাত বাংলাদেশি নাবিক।image_86006_0

বৃহস্পতিবার সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমান নাবিকদের নিয়ে হজরত শাহজালাল রহ. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাবিকদের গ্রহণ করেন।

দেশে ফেরা সাত বাংলাদেশি নাবিক হলেন- সাতক্ষীরার গোলাম মোস্তফা, হাবিবুর রহমান, আবুল কাশেম সরকার ও নুরুল হক, চাঁদপুরের লিমন সরকার এবং চট্টগ্রামের আমিনুল ইসলাম ও জাকির হোসাইন।

তাদের সঙ্গে একই দলে একজন ভারতীয়, দু’জন শ্রীলঙ্কান এবং একজন ইরানি নাবিকও ছিলেন। জলদস্যুদের কাছ থেকে তারাও মুক্তি পেয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ২৬ নভেম্বর সোমালীয় জলদস্যুদের হাতে ছিনতাই হওয়া মালয়েশিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আলবেডোতে কর্মরত ছিলেন ওই সাত বাংলাদেশি। তাদের মুক্তির জন্য ছয় লাখ ডলার মুক্তিপণ দাবি করেছিল জলদস্যুরা। বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যস্থতায় ৬ জুন অপহৃত ওই সাত নাবিককে জীবিত অবস্থায় ফেরত দেয় অপহরণকারীরা। মুক্তি পাওয়ার পর সাত বাংলাদেশিকে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দফতরের (ইউএনওডিসি) একটি বিশেষ বিমানে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে নেয়া হয়। সেখানকার আগা খান হাসপাতালে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। কেনিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন তাদের ভ্রমণের কাগজপত্র তৈরি করে দেয়, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে।