বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে প্রতিদিন পার হচ্ছে ৩০ হাজার গাড়ি

যাত্রাবাড়ির যানজট এড়িয়ে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে প্রতিদিন রাজধানীতে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করে ৩০ হাজার গাড়ি। উদ্বোধনের দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি প্রবেশের মধ্য দিয়ে এই ফ্লাইওভারের যাত্রা শুরু। এই ফ্লাইওভার ছিল রাজধানীবাসী এবং দেশের পূর্ব-দক্ষিণ, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩০ জেলার মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার।

image_87246_0গত বছরের ১১ অক্টোবর সবার জন্য এ ফ্লাইওভার খুলে দেয়া হয়। এ দিন ১৮ হাজার ৫শ’ বাইশটি গাড়ি টোলপ্লাজা অতিক্রম করে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িটিও রয়েছে। টোল আদায় হয় ১১ লাখ ৩৫ হাজার ৬ শ’ ৭০ টাকা। এখন গড়ে প্রায় ৩০ হাজার গাড়ি প্রতিদিন এই টোলপ্লাজা দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। টোল আদায় হচ্ছে প্রতিদিন গড়ে ২৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা। গাড়ি যাতায়াতের সর্বোচ্চ সংখ্যা ৩২ হাজার ২৩১টি।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন গ্রুপের সিনিয়র ম্যানেজার মোঃ আশিকুল আলম জানান, চলতি মাসে ফ্লাইওভারের বাকি দু’টো র্যামও উন্মুক্ত হবে। বর্তমানে শনির আঁখড়া-যাত্রাবাড়ি-সায়েদাবাদ-গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া-পলাশী অভিমুখে র্যামগুলো চালু রয়েছে। আর সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ি বাসস্ট্যান্ডের জনপথের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তবে তা এ মাসের মধ্যেই শেষ হবে। ফ্লাইওভারের সবগুলো এন্ট্রি এবং এক্সিট র্যাম উন্মুক্ত হলে গাড়ি যাতায়াতের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।

বাংলাদেশে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)’র প্রথম প্রকল্প এটি এবং দেশের দীর্ঘতম ফ্লাইওভার। আমেরিকান কোড ও স্টান্ডার্ড অনুসরণক্রমে আন্তর্জাতিক মানদন্ড বজায় রেখে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য নির্মাণ কাজ এটি। এই কাজে দেশের সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিও নজরে রাখা হয়েছে। বিদ্যমান অন্যান্য ফ্লাইওভারের সাথে এই ফ্লাইওভারের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। জটিল, ঘনবসতিপূর্ণ ও কনজেস্টেড রাস্তার উপর বিদ্যমান তিনটি বাস টার্মিনাল অক্ষুন্ন এবং নির্মাণকালীন রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রেখে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়। যা কেবল বাংলাদেশেই নয়; গোটা বিশ্বে বিরল। এসব প্রতিবন্ধকতা ছাড়াও ফ্লাইওভার নির্মাণ পথে শত বছরের বিদ্যমান বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, পয়ঃনিষ্কাশন ও টেলিফোন লাইনসহ ভূগর্ভস্থ অন্যান্য স্থাপনা যথাস্থানে রেখে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করা হয়।

হেড অব টোল অপারেশন্স এন্ড মেইনটেইন্যান্স কূলদ্বীপ সিং-এর নেতৃত্বে ১০০ জনের বেশী দক্ষ কর্মী টোল আদায় ও ফ্লাইওভার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, এই ফ্লাইওভারে ৩১৫টি পিয়ার (কলাম) ফাউন্ডেশন, এর একটি থেকে অন্যটি আলাদা। অর্থাৎ একটির সাথে অন্যটির কোনো মিল নেই। প্রত্যেকটিকে আলাদা আঙ্গিকে ভিন্ন ডিজাইনে নির্মাণ করতে হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও এই প্রকল্পের সিটি কর্পোরেশন পক্ষের প্রকল্প পরিচালক আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, এ ধরনের পিয়ার (কলাম) দিয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ বিশ্বে বিরল। এই ফ্লাইওভার চালুর মধ্য দিয়ে ঢাকার যানজট নিরসন এবং দেশের পূর্ব-দক্ষিণ, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশিমাঞ্চলের প্রায় ৩০ জেলার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (পিপিপি) নির্মিত এটিই দেশের বৃহত্তম ফ্লাইওভার। এ ফ্লাইওভারের সঙ্গে প্রধান প্রধান সড়ক ও বাস টার্মিনালের সংযোগ রাখা হয়েছে। ফ্লাইওভারে প্রবেশের জন্য ছয়টি এবং বের হওয়ার জন্য পাঁচটি পথ রয়েছে। চার লেনবিশিষ্ট আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এই ফ্লাইওভার দৈর্ঘ্যে ৭ কি. মি. হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ১১.৮ কিলোমিটারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার প্রেক্ষিতে ফ্লাইওভারের পরিধি ও সুযোগ-সুবিধা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ।

উদ্বোধনের পর ফ্লাইওভারের গুলিস্তান, পলাশী, মতিঝিল ও কুতুবখালী পর্যন্ত পথ খুলে দেয়া হয়। আর সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ি বাসস্ট্যান্ডের জনপথের কিছু কাজ বাকি রয়েছে তবে তা চলতি জুন মাসের মধ্যেই শেষ হচ্ছে।

৩০টি জেলার সংযোগ সড়ক এটি। উদ্বোধনীর দিন নিজ গাড়িতে করেই প্রধানমন্ত্রী যাত্রাবাড়ি-কুতুবখালী প্রান্তে টোল প্লাজায় পৌঁছান এবং ফলক উন্মোচন করে এ পথের যাত্রা ঘোষণা করেন। এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি-অঙ্কিত ৫০ টাকার স্মারক মুদ্রা দিয়ে টোল টিকিট কেনেন। পিপিপি ভিত্তিতে এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজই নয় পরিচালনার দায়িত্বও ওরিয়ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড’র। ওরিয়ন গ্রুপই এ প্রকল্পের অর্থায়ন করেছে। এখানে সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। দেশের বৃহত্তম এ ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভারতের সিমপ্লেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল লিমিটেড। কনসাল্টেন্ট হচ্ছে লি ইন্টারন্যাশনাল (কানাডা) ও লি অ্যাসোসিয়েটস (ভারত)।

বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওরিয়ন গ্রুপ এ ফ্লাইওভারের ব্যবস্থাপনা, টোল আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণ করছে। চালু হওয়ার পর থেকে ২৪ বছরে পাওয়া টোলের ভিত্তিতে নির্মাণ ব্যয় তুলে নেবে তারা। প্রতিদিনের আদায় করা টোলের পাঁচ শতাংশ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তহবিলে জমা হবে। ২৪ বছর পর এর দায়িত্ব নেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। হানিফ ফ্লাইওভারের আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ১০০ বছর। চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৩০টি জেলার যানবাহন ঢাকার প্রবেশ পথের যানজট এড়িয়ে এ ফ্লাইওভার দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া থেকে গুলিস্তানের নিমতলী মোড় পর্যন্ত এ ফ্লাইওভারে যানবাহন প্রবেশের পর বের হওয়ার পথে টোল দিতে হয়।

বছরের পর বছর ধরে যাত্রাবাড়ি-সায়েদাবাদ দিয়ে রাজধানীতে প্রবেশপথে যে ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হতো ফ্লাইওভার নির্মাণের পর এখন তার অবসান ঘটেছে। ভুক্তভোগী মানুষেরা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তার যানজটে আটকে থাকতে হয় না।

২০০০ সালে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় যোগাযোগ মন্ত্রণালয় যাত্রাবাড়ি-সায়েদাবাদ এলাকায় যানজটসহ অন্যান্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে সমীক্ষা পরিচালনা করে। সেই সমীক্ষায় যানজটের কারণে মানুষের কর্মঘণ্টা অপচয়, গাড়ির জ্বালানি অপচয়সহ একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। সেই তথ্যানুসারে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার নির্মাণের ফলে লাখো মানুষের প্রতিদিন লাখো লাখো কর্মঘণ্টা বেঁচে যাচ্ছে। পাশাপাশি যানজটে গাড়ির অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় কমে যাওয়ার ফলে এই খাতে সরকারের ব্যয়ও হ্রাস পেয়েছে, মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন হয়েছে।

মাতুয়াইল এলাকার চায়ের দোকানদার সামসুল এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘গেল সপ্তাহে আমার পাশের বাসার শাকিল ভাই হঠাৎ স্ট্রোক করে। অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। শনির আঁখড়া থেকে পলাশীর দিকে যাওয়া ফ্লাইওভার অতিক্রম করে ৮-১০ মিনিটের মধ্যেই তাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছি। সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তিনি বেঁচে যান। ডাক্তাররা বলেন, রোগীর যা অবস্থা ছিল, তাতে আর ১৫ মিনিট দেরি হলে তাকে বাঁচানো যেত না। এ কারণে শাকিল ভাই, আশপাশের লোকজন ও তার আত্মীয়-স্বজন খুবই খুশি। তার আত্মীয়-স্বজনের বক্তব্য, ‘ফ্লাইওভার না হলে শাকিলকে বাঁচনো যেত না’। এ জন্য তার পরিবার-পরিজন দোয়া ও মিলাদের ব্যবস্থা করে।’

অন্যদিকে উৎসব গাড়ির ড্রাইভার মানিক এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান, গত ১৪ বছর ধরে তিনি নারায়ণগঞ্জ টু ঢাকা পথে গাড়ি চালান। তিনি বলেন, ‘এক বছর আগেও আমরা গুলিস্তান থেকে নারায়ণগঞ্জ যেতাম যাত্রাবাড়ি হয়ে। কোনো কোনো সময় দেখা যেত রায়েরবাগ থেকে রাস্তায় এমন যানজট যে, যাত্রাবাড়ি পার হতেই লেগে যেত দুই-তিন ঘণ্টা। গাড়িতে বসে থেকে গাড়ির হর্ণ, কোলাহল আর ধুলাবালিতে মানুষের মেজাজ বিগড়ে যেত। তখন দিনে এক ট্রিপের বেশি দু’টি দেয়া কঠিন হতো। মালিককে সন্ধ্যায় টাকা বুঝিয়ে দেয়ার সময় বকাঝকা করত। আর এখন শনির আঁখড়া থেকে ফ্লাইওভারে ওঠা মানেই গুলিস্তান পৌঁছে গেছি। মাত্র ১০ মিনিট। মানুষও খুশি আমরাও নির্বিঘ্নে রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে ক’টা পয়সা পাচ্ছি।’
এই ফ্লাইওভার নির্মাণের ফলে রাজধানীসহ দেশের পূর্ব-দক্ষিণ, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩০ জেলার মানুষের যাতায়াতে যুগান্তকারী অগ্রগতি হয়েছে। সূত্র: বাসস

বিদ্যুৎ সমস্যার সর্বাধুনিক সমাধান নিয়ে সুইজারল্যান্ডের এবিবি

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বৃহত্তর জনস্বার্থে মাটির নিচেই সাব স্টেশন বা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র তৈরি করা সম্ভব। এতে জমি বাঁচানোর পাশাপাশি নিশ্চিত হবে ভূমির অধিক উৎপাদনমুখী ব্যবহার। গুরুত্বপূর্ণ এসব তথ্য জানিয়েছে সুইজারল্যান্ডের পাওয়ার এবং অটোমেশন প্রযুক্তিখাতে বিশ্বখ্যাত শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এবিবি লিমিটেড।image_87249_0

সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, চীন ও ভারতে কর্মরত এবিবির শতাধিক কর্মকর্তার অংশগ্রহণে সম্প্রতি রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা জানান এবিবি লিমিটেড, বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজর্ষি ব্যানার্জি।

সেমিনারে বক্তারা এসব দেশে ভূগর্ভস্থ সাব স্টেশনসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে এবিবি প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা তুলে ধরার পাশাপাশি কারিগরি সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, দ্রুতগতির কর্মদক্ষতা এবং ভূমির উৎপাদনমুখী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

এছাড়া, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য জানান এবিবির সাউথ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক জোহান ডিভিলিয়ার্স। পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়াতে এবিবির বিভিন্ন কারিগরি সহায়তার কথা বলেন তিনি। সেমিনারে এবিবির কর্মকর্তারা গ্যাস ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার (জিআইএস) প্রযুক্তি, সাবস্টেশন অটোমেশন, কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ও প্ল্যান্ট কন্ট্রোল বিষয়েও আলোচনা করেন।

বাংলাদেশের বাজারকে এবিবি সব সময় দ্রুত বর্ধনশীল বাজার হিসেবে বিবেচনা করে বলে জানান তারা। এবিবি লিমিটেড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজর্ষি ব্যানার্জি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বরাবরই বিশ্বের সর্বশেষ প্রযুক্তি এদেশে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে এবিবি।

লো, মিডিয়াম ও হাই ভোল্টেজ পণ্যের নির্মাতা হিসেবে এবিবি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান। পাওয়ার ও অটোমেশন প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে এবিবি। বিশ্বের ১০০টি দেশে এক লাখ ৪৫ হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন এবিবি গ্রুপে। এবিবির প্রধান কার্যালয় সুইজারল্যান্ডের জুরিখে।

সেমিনারে এবিবির কর্মকর্তারা দাবি করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের কারখানা রয়েছে এবং বিশ্বমানের এসব কারখানা থেকে তৈরি পণ্যগুলো যেকোনো ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমেই নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে সিস্টেমকে রক্ষা করতে এবিবির পণ্যগুলো সর্বোচ্চ মাত্রায় কার্যকর। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে শক্তি উৎপাদন প্ল্যান্ট, ডেটা সেন্টার, হাসপাতাল বা গুরুত্বপূর্ণ ভবন তৈরিতেও এবিবির পণ্য ব্যবহার নিরাপদ।

লো, মিডিয়াম ও হাইভোল্টেজ পাওয়ারের জন্য যে কোনো ধরনের প্রযুক্তি সেবা প্রদানে সক্ষম এবিবি। সার্কিট ব্রেকার্স, সুইচ, কন্ট্রাক্টরস, এনক্লোজার থেকে শুরু করে বাসাবাড়ির স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি-ক্ষেত্র নিয়েও কাজ করে থাকে এবিবি। -বিজ্ঞপ্তি

আওয়ামী লীগ নেতা শামীম হত্যাচেষ্টায় মামলা

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীমকে গুলি করে হত্যার চেষ্টায় ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শামীমের চাচা নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মামলাটি করেন। এতে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা নম্বর হচ্ছে-১৭।image_87239_0

এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে গাড়িতে করে যাওয়ার সময় ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে তিনজন মোটরসাইকেল আরোহী শামীমকে হত্যা করার উদ্দেশে গুলি করে পালিয়ে যায়।

ধানমন্ডি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন আওয়ামী লীগ নেতা মো. শামীম। তাকে প্রথমে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়া হয়। তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন।

ইতালিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কোস্টারিকা

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় কোস্টারিকা ৷ গত ২৪ বছরে এই প্রথম দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছল তারা ৷   ব্রায়ান রুইজের একমাত্র গোলে ইতিহাস রচনা  করল কোস্টারিকা ৷ সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ইংল্যান্ড ৷ গ্রুপ ডি থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে ইতালি-উরুগুয়ে ম্যাচে যারা জিতবে তারা শেষ ষোলোয়  যাবে ৷image_87218_0

৪৪ মিনিটে হেডে দুরন্ত গোল করেন কোস্টারিকে এগিয়ে দেন  রুইজ ৷ সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হল ইতালিকে ৷ দু-দু’টি গোলের সূবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন বালোতেলি ৷ গোলকিপারকে একা পেয়েও গোলের মুখ খুলতে ব্যর্থ আজ্জুরি স্ট্রাইকার ৷  পির্লোর বাড়ানোর বল গোলে ঠেলতে পারলেন না বালোতেলি ৷

রুইজের গোলের ঠিক মিনিট কয়েক আগে নিশ্চিত পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয় কোস্টারিকা ৷ বক্সের মধ্যে ক্যাম্বেলকে ফেলে  দেন ইতালি ডিফেন্ডার চেলেনি ৷ রেফারি পেনাল্টি না-দেওয়ায় অসন্তোষ ধরা পড়ে কোস্টারিকার রিজার্ভ বেঞ্চে ৷ রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ গোপন করেনি  কোস্টারিকা কোচ ৷  ম্যাচের শুরু থেকে বল নিজেদের দখলে রাখলেও এদিন কোস্টারিকা বক্সে খুব বেশি আক্রমণ শানাতে পারেনি সিজার প্রান্দেলির দল ৷ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচটা অবশ্য ইতালির কাছে মোটেই পয়মন্ত নয় ৷ শেষ তিনটি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ম্যাচে কোনো বারই জয়ের মুখ দেখেনি আজ্জুরিরা ৷

চোট সারিয়ে এদিন মাঠে ফেরেন ইতালির এক নম্বর গোলকিপার জিয়ানলুইগি বুফোঁ ৷ এদিন খেলায় পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলার কৃতিত্ব অর্জন করলেন ইতালির গোলরক্ষক ৷ তিনি না-খেললে প্রথমার্ধ্বেই আরও দুভোর্গ বাড়াত ইতালির ৷ এদিন বেশ কয়েকটি দুরন্ত সেভ করেন বুফোঁ ৷

স্টুয়ার্ট ব্রডের হ্যাটট্রিক প্রথম দিন ইংল্যান্ডের

স্টুয়ার্ট ব্রডের হ্যাটট্রিক ও লিয়াম প্লাঙ্কেটের পাঁচ উইকেটে হেডেংলি টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।image_87241_0

শুক্রবার টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ২৫৭ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারী শ্রীলঙ্কা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৬ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিকরা।

ইনিংসের ৬৩তম ওভারের শেষ বলে কুমার সাঙ্গাকারাকে (৭৯) ইয়ান বেলের কটে পরিণত করেন ব্রড। এরপর ৬৫তম ওভারের প্রথম বলে চান্দিমাল (৪৫) ও দ্বিতীয় বলে ইরাঙ্গার (০) উইকেট তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ব্রড।

ইংল্যান্ডের হয়ে লায়ান প্লাঙ্কেট সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট। এছাড়া ব্রড তিন ও জেমস আন্ডারসন নেন দুই উইকেট।

শ্রীলঙ্কার হয়ে কুমার সাঙ্গাকারা সর্বোচ্চ ৭৯ রান করেন। এছাড়া চান্দিমাল ৪৫, করুনারত্নে ২৮ ও ম্যাথুজ করেন ২৬ রান।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে  বিনা উইকেটে ৩৬ রান সংগ্রহ করেছে ইংলিশরা। রবসম ২১ ও কুক অপরাজিত রয়েছেন  ১৪ রানে।     -ওয়েবসাইট

ভাগ্নের ভুয়া কোম্পানিকে কাজ দেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাজুল!

মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধুদের জন্য বানানো ক্রেস্টে কেবল স্বর্ণ জালিয়াতিই নয়, ভাগ্নের ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে এ কাজ দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের করা মামলা তদন্তে জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের।image_87242_0

ক্রেস্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের একটি মেসার্স মহসিনুল হাসান। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নথিপত্রে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেয়া আছে ৪/৮০৩ ই্টার্ন পয়েন্ট। শান্তি নগরের এ ঠিকানাটি একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টের। এখানে মেসার্স মহসিনুল হাসান নামের কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রণালয়ে দেয়া প্রতিষ্ঠানটির ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, অপর প্রান্ত থেকে নানা অজুহাতে এড়িয়ে যাওয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাজুল ইসলামের ভাগ্নে মহসিনুল হাসান। তাকে আর্থিক সুবিধা দিতেই মূলত ভুয়া প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ক্রেস্ট বানানোর কাজ দেয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি হননি তাজুল ইসলাম।

ক্রেস্ট সরবরাহকারী অপর প্রতিষ্ঠান এমিকনের অস্তিত্ব থাকলেও সন্ধান পাওয়া যায়নি মালিকের। এমিকনের এক কর্মকর্তা কেবল জানালেন, ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী ক্রেস্ট সরবরাহ করা হয়েছিল।

এদিকে, প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়ের করা মামলা তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। অবশ্য তেমনটা মনে করেন না মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার চার দশক পূর্তিতে, মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধুদের ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। প্রতিটি ক্রেস্টে এক ভরি স্বর্ণ ও ত্রিশ ভরি রুপা থাকার কথা থাকলেও স্বর্ণ ছিল মাত্র চার আনা। আর রুপার বদলে ছিল পিতল, তামা আর দস্তা।

সবুর খানের ‘উদ্যোক্তা উন্নয়ন নির্দেশিকা’ বইয়ের মোড়ক উম্মোচন

নতুন উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার জন্য পূর্ণাঙ্গ দিক-নির্দেশনা সম্বলিত একটি বই প্রকাশ হয়েছে। ‘উদ্যোক্তা উন্নয়ন নির্দেশিকা’ নামের বইটি রচনা ও প্রকাশ করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এর সাবেক সভাপতি মো. সবুর খান।image_87052_0

বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অর্ধেক দামে বইটি নিতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম মিলনায়তনে বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

ড. আতিউর রহমান বলেনে, “বইটির মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তারা যথেষ্ট লাভবান হবেন। ‘চাকরি খুজঁব না চাকরি দেব’ এই মানসিকতায় আমাদের তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে বইটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।”

তিনি বলেন, “আমাদের দেশের সার্বিক উন্নয়নে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি। স্বাধীনতার ৪৩ বছরে আমরা গার্মেন্টস থেকে শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তির প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে সাফল্যের গল্প দেখছি তা মূলত উদ্যোক্তাদেরই অবদান। যদিও সরকার বিভিন্নভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্ণর বলেন, “দেশের মোট জনসংখ্যার ৫৫% তরুণ, এই তরুণ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত প্রশিক্ষত ও উদ্যোক্তা তৈরী করে তুলতে পারলেই বাংলাদেশকে স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব। বড় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ছোট উদ্যোক্তাও প্রয়োজন। আমরা ইতিমধ্যে ১০০ কোটি টাকার উদ্যোক্তা ফান্ড গঠন করেছি। আমরা জুড়ি বোর্ডের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব এবং এই ফান্ড থেকে সহায়তা দিব।”

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. এম গোলাম রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহসান উল্লাহ, নির্মল চন্দ্র ভক্ত, মহাব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান ও মাসুম পাটওয়ারীসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বই এর প্রকাশক এবং লেখক ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজ এর চেয়ারম্যান ও মো. সবুর খান বলেন, “বইটিতে অত্যন্ত সহজ ভাষায়- দক্ষতা অর্জন, পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, ক্রেতাকে সন্তুষ্ট রাখার কৌশল, ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু, ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি, লোন প্রাপ্তি, প্রকল্প পরিকল্পনা তৈরির বিভিন্ন দিকসহ ব্যবসার খুটিনাটি ধারাবাহিকভাবে সন্নিবেশিত করা হয়েছে এবং সহায়ক লিংক সমূহ দেয়া আছে যা উদ্যোক্তা হতে ইচ্ছুক যে কাউকে পরিস্কার দিক নির্দেশনা দিতে সক্ষম হবে।

বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অর্ধেক দামে বইটি নিতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

খাদের কিনারে মুখোমুখি ইংল্যান্ড-উরুগুয়ে

বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ অব ডেথে’ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হচ্ছে উরুগুয়ে ও ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে হেরে উভয় দলই খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আজ হারলেই  বিদায় ঘটবে।image_87015_0

বাংলাদেশ সময় রাত একটায় নাতালের দাস দুনাস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। সরাসরি সম্প্রচার করবে  মাছরাঙা টিভি ও গাজী টিভি।

উরুগুয়ের জন্য সুখবর হলো আজ দলে ফিরতে পারেন সেরা তারকা লুইস সুয়ারেজ। প্রথম ম্যাচে কোস্টারিকার কাছে ৩-১ হেরে যাওয়ায় আজ বড় জয়ই পেতে চাইবে উরুগুয়ে। কিন্তু কাজটা সহজ হবে না মোটেও।

প্রথম ম্যাচে ইতালির কাছে ২-১ গোলে হেরে একই সমীকরণে দাঁড়িয়ে আছে ইংল্যান্ড। আজ হারলেই বিদায় ঘটবে  ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের।

দুই দল এর আগে ১০ বার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে। উরুগুয়ে জয় পেয়েছে চার ম্যাচে আর ইংল্যান্ডের জয় তিন ম্যাচে। অপর তিন ম্যাচ ড্র হয়েছে।

পরিসংখ্যান, ইতিহাস, শক্তিমত্তা যা-ই হোক, আজকের ডু অর ডাই ম্যাচ ‘ফাইট অর ফ্লাইট ফর ইংল্যান্ড-উরুগুয়ে।     -ওয়েবসাইট

সক্রিয় আওয়ামী লীগের সাইবার টিম

স্বাধীনতা ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরাসহ মহল বিশেষের অপপ্রচার প্রতিরোধে শক্তিশালী করা হয়েছে আওয়ামী লীগের ‘সাইবার টিম’।image_87050_0

দলের মন্ত্রী, এমপিসহ বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের আগে অনলাইন ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তেমন একটা সক্রিয় না থাকলে বর্তমানে দলের অধিকাংশ নেতারাই এখন সক্রিয় হয়েছেন। নেতাকর্মীরা ব্যাপক ভাবে অনলাইন ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার বিরোধী অপপ্রচারের জবাব দিচ্ছেন নিয়মিত।

দলের অনেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপি আছেন তারা নিয়োমিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সক্রিয় রয়েছেন এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের ছবিসহ তারা তাদের মন্তব্য তুলে ধরছেন। একই সাথে সরকার বিরোধী বিভিন্ন সমালোচনার জবাবও দিচ্ছেন তারা।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকেই বিএনপি-জামায়াতসহ একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক তথ্য প্রচার করছে। তাই ভার্চুয়াল এই প্রচারণায় নিজেদের অবস্থানও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সাইবার টিমকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। একইসঙ্গে এসব উস্কানিমূলক প্রচারের জবাব ও দল-সরকারের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারবদ্ধ হয় আওয়ামী লীগ। টানা দ্বিতীয় বার সরকার গঠন করা দলটি ডিজিটাল সেবা ও ব্যবহারে সবার চেয়ে এগিয়ে।

এই লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইন্টারনেট সুবিধা বৃদ্ধি করতে বসানো হয়েছে নেটওয়ার্ক টাওয়ার, তৈরি করা হচ্ছে তথ্য কেন্দ্র, গঠন করা হয়েছে তথ্য সেল ও সাইবার টিম। একদল তরুণ মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে এ টিম গঠন করা হয়েছে।

এছাড়াও বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তায় দেশের সাধারণ মানুষের কাছে দলীয় বার্তা পৌঁছে দিতে একটি ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসুবক পেজ চালু করেছে আওয়ামী লীগ।

দলীয় প্রচারণাকে আরও সক্রিয় এবং দলের বিভিন্ন কার্যক্রম সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে এবং তাদের মতামত যাচাইয়ের জন্য ওয়েবসাইট ((www.albd.org), ইউটিউব চ্যানেল (http:/www.youtube.com/myalbd) এবং ফেইসবুকের (www.facebook.com/awamileague.1949) এ পৃষ্ঠা চালু করেছে দেশের এ রাজনৈতিক দল।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “ছাত্রলীগের কিছু মেধাবি তরুণদের নিয়ে এ সাইবার টিম গঠন করা হয়েছে। যারা ২০১৩ সালে নভেম্বর থেকে কাজ করছে। আমাদের তথ্য ও গবেষণা এবং প্রচার ও প্রকাশনা শাখা এই সাইবার টিমকে সার্বিক সহযোগিতা করছে।” তিনি বলেন, “সাইবার টিমটি বিশেষ করে ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ব্লগে দলের পক্ষ থেকে এসব মিথ্যা প্রচারণার বিরুদ্ধে কাজ করছে। এ ছাড়াও তারা বিভিন্ন সংবাদপত্র, বই, বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, ছবি সংগ্রহ করে একটি তথ্য সম্ভার গড়ে তোলা হচ্ছে।”

সাইবার টিমের একজন সক্রিয় কর্মী জানান, তারা ফেসবুক ও অনলাইনে দলীয় প্রচার করেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে  যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তার জবাব দেয়া হয়। এছাড়া সারাদেশে যেসব সহিংস ঘটনা ঘটছে সেগুলোর প্রমাণ সংগ্রহ করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংস্থার কাছে তা পাঠানো হয় । দল এবং সরকারের ভালো কাজের ওপর পোস্ট তৈরি করে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনলাইন মাধ্যমে প্রচার করেন।

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, “দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে থেকে আাওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা শাখা নিয়ন্ত্রণাধীন সিআরআই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সক্রিয়। আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ওয়েবসাইট, ফেসবুকে পেইজ এবং ইউটিউব রয়েছে। যা দিয়ে দলীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি প্রকাশে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা হয়।”

অনলাইন ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় আওয়ামী যুবলীগ উপ-দপ্তর সম্পাদক নাসিম আল মোমিন রূপক জানান, “একজন আওয়ামী পরিবারের সক্রিয় সদস্য হিসাবে আমি নিয়মিত সরকারের বিভিন্ন সাফল্য ও অর্জন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে জনগনের কাছে তুলে ধরার চেস্টা করি। এবং সেই সাথে সরকার ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামাতের বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচারের জবাবও দিয়ে থাকি। শুধু আমি না, এখন আওয়ামী পরিবারের অনেক সদস্যই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সক্রিয় ভুমিকা পালন করছে।”–বাসস।

বাংলাদেশ ব্যাংক পুরস্কারে ভূষিত অধ্যাপক মোজাফফর ও স্বদেশ রঞ্জন

বাংলাদেশে অর্থনীতি বিষয়ে গবেষণা ও চিন্তামূলক লেখালেখিসহ মৌলিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মোজাফফর আহমদ (প্রয়াত) ও ড. স্বদেশ রঞ্জন বোস (প্রয়াত)-কে যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক পুরস্কার’-২০১৩ (মরণোত্তর) প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।image_86955_0

বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

অধ্যাপক ড. মোজাফফর আহমদ ছিলেন একজন ব্যতিক্রমী ও বহুমাত্রিক গবেষক। অর্থনীতির বিভিন্ন শাখা যেমন- শিল্প, শিক্ষা, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক, পাবলিক এন্টারপ্রাইজ, স্বাস্থ্য, নাগরিক অধিকার, শ্রমিক সম্পর্ক, সুশাসন, পল্লী উন্নয়ন, দারিদ্র্যবিমোচন, পরিবেশ ইত্যাদি বহু বিষয়ের উপর তিনি মৌলিক গবেষণা ও সুচিন্তিত মতামত প্রদান করেছেন, যা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছে। ২০০৮ সালে সরকার কর্তৃক তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

ড. স্বদেশ রঞ্জন বোস এদেশের কৃতী অর্থনীতিবিদ। ড. বোস জীবনব্যাপী অর্থনীতির বিভিন্ন শাখায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। তিনি অর্থনীতির বিভিন্ন শাখায় নীতিনির্ধারণী গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন গতিধারা নির্ধারণে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছেন। বিশেষ করে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়কালে বাংলাদেশের যুদ্ধ বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে ও উন্নয়নের দিকনির্দেশনা প্রদানে তার গবেষণালব্ধ জ্ঞান অমূল্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। এছাড়া, অর্থনৈতিক গবেষণার ক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে তিনি প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেন। ২০১০ সালে অর্থনীতিতে তার অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি কর্তৃক মরণোত্তর স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে দেশের প্রথিতযশা পাঁচজন অর্থনীতিবিদদের সমন্বয়ে গঠিত একটি জুরি বোর্ড এ পুরস্কার প্রদানের জন্য অধ্যাপক ড. মোজাফফর আহমদ (প্রয়াত) এবং ড. স্বদেশ রঞ্জন বোস (প্রয়াত)-কে যৌথভাবে মনোনীত করেছে।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে অধ্যাপক রেহমান সোবহান, ২০০৯ সালে ড. নুরুল ইসলাম এবং ২০১১ সালে প্রফেসর ড. মুশাররফ্ হোসেনকে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক পুরস্কার’ প্রদান করা হয়েছিল।