বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট পাস হচ্ছে

দশম জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট বিরোধিতা ছাড়াই পাস হচ্ছে। জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির পূর্ণ সমর্থনেই প্রথমবারের মতো বাজেট পাস হবে। সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হবার পর এবারই প্রথম বিরোধী দলের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে কোনো বাজেট পাস করছে সরকার।image_88427_0

বাজেট পাস উপলক্ষে সংসদ পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। বাজেট পাসের দিন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদসহ অধিকাংশ সংসদ সদস্যই উপস্থিত থাকবেন। নতুন এই বাজেট ১ জুলাই থেকে কাযর্কর হবে।

রোববার সকাল ১০টা ৮ মিনিটে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী শুরুতেই রয়েছে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা টেবিলে উত্থাপন। এরপর প্রস্তাবিত ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের বাজেটের ছাটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা। গত ৫ জুন প্রস্তাবিত বাজেটে আকার ছিল দুই লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।

এর আগে শনিবার ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের অর্থ বিলপাস হয়। এদিন সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু সংশোধনী আনা হয়। শনিবার বাজেটে সংশোধনী এনে করমুক্ত আয়ের সীমা দুই লাখ ২০ হাজার থেকে বেড়ে দুই লাখ ৫০ হাজার করা হয়। শনিবার অর্থ বিলে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন নতুন অর্থবছরে খাদ্য পণ্যের দাম কিছুটা কমবে।

প্রস্তাবিত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। ট্রেজারি বন্ডে ১০ শতাংশ জরিমানা, আবাসন খাতে জরিমানা ছাড়া সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ‘গোপনে’ রাখা অপ্রদর্শিত অর্থ (কালো টাকা) জরিমানা দিয়ে সাদা করা যাবে।

অর্থ আইন, ২০১১ এর মাধ্যমে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগকৃত অর্থের উপর ১০ শতাংশ হারে কর প্রদান করলে বিনিয়োগকৃত অর্থ বিনা প্রশ্নে মেনে নেয়ার বিধান করা হয়।

প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের ওপর পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করমুক্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তবনা অনুযায়ী মোবাইল ফোন আমদানির ওপর কর‍ারোপ বাদ দিয়ে ব্যবহারের ওপর সারচার্জ আরোপ করা হচ্ছে।

গত ৫ জুন জাতীয় সংসদে দুই লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। এরপর বাজেটের উপর প্রায় ৬০ ঘণ্টা আলোচনা করেন সংসদ সদস্যরা। রোববার সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে।

দশম সংসদের পথচলা শুরু হয় গত ২৯ জানুয়ারি। প্রথম অধিবেশন শেষ হয় ১০ এপ্রিল। দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হয় ৩ জুন, চলবে ৩ জুলাই পর্যন্ত।

১৯ দল এখন ২০ দলীয় জোট

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “বর্তমান সরকারকে না তাড়াতে পারলে তারা দেশকে বিক্রির অবস্থায় নিয়ে যাবে। তাই ডান আর কে বাম সেটা দেখার সময় এখন নেই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”image_88409_0

শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেখা করে ১৯ দলীয় জোটে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (এমএল) একাংশের নেতাদের যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এর মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট এখন ২০ দলীয় জোটে পরিণত হলো।

বিএনপি নেত্রী সাম্যবাদী দলের (এমএল) একাংশের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “আমি অনেক আগে থেকেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বলেছিলাম। আমার আহ্বানে সাড়া দিয়েই হয়তো আপনার ১৯ দলীয় জোটে যোগ দিচ্ছেন। এতে করে ১৯ দলীয় জোট শক্তিশালী হবে এবং আন্দোলন আরো বেগবান হবে।”

তিনি বলেন, “এখনই ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলে এই আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে যাবে, বিক্রি না করলেও দেশের কিছুই থাকবে না।”

তিনি বলেন, “কে ছোট আর কে বড় সেটা আমরা কখনোই হিসাব করিনি। মানুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রামে যারা একাত্ম ঘোষণা করেছে তাদেরকেই আমরা গ্রহণ করেছি।”

খালেদা আরো বলেন, “আর আন্ডাগ্রাউন্ড নয়, কোনো গোপন চুক্তিও নয়, জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সামনে এসে দাঁড়াতে হবে।”

বেগম খালেদা জিয়া বলেন, “আওয়ামী লীগের ভুলনীতির কারণে দেশ আজ সংকটের মুখে। দেশকে গ্রাস করার ষড়যন্ত্র চলছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে লুটপাট চলবে। তারা যতই তওবা করুক তাতে কাজ হবে না।”

তিনি বলেন, “রমজানের পরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।”

সাম্যবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড আরিফুল হক সুমন, কমরেড হানিফুল কবির, কমরেড মেজবাহ উদ্দিন মন্টু ও কমরেড কাজী মোস্তফা কামাল প্রমুখ যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও ১৯ দলের নেতাদের মধ্যে ছিলেন- খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ ইছাহাক, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, জামায়াত ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, এনপিপি এর চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নীলু, এনডিপি এর চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তজা, বাংলাদেশ ন্যাপ এর চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ।

রোজা শুরু সোমবার

শনিবার বাংলাদেশের কোথাও ১৪৩৫ সালের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে চলতি শাবান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে। প্রথম রমজান গণনা  শুরু হবে সোমবার।image_88363_0

শনিবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের  ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

রোববার দিনগত রাতে তারাবি নামাজ আদায় ও সেহরি খেয়ে বাংলাদেশের মানুষ রোজা রাখবেন সোমবার। সেই হিসাবে আগামী ২৫ জুলাই হবে শবে কদরের রাত।

শনিবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় বসে চাঁদ দেখা কমিটির সভা। রাত আটটা পর্যন্ত দেশের কোথাও থেকে চাঁদ দেখার কোনো সংবাদ পায়নি কমিটি।

সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আজ (শনিবার) দেশের কোথাও রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই শাবান মাস রোববার পূর্ণ হবে। সোমবার শুরু হবে পবিত্র রমজান।”

এদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রোববার শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস।

মতিঝিলে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই ছিনতাইকারী নিহত

রাজধানীর মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।image_88414_0

রোববার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে, তাদের বয়স আনুমানিক ৩০-৩৫ বছর।

মতিঝিল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের ভূঁইয়া জানান, রাত পৌনে ৩টার দিকে মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে পুলিশের সঙ্গে ছিনতাইকারীদের গুলি বিনিময় হয়। এ সময় দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতদের লাশ ঢাকা মেডিকেলের মর্গে রাখা হয়েছে।

বন্ধুত্বের বারতা নিয়ে এসেছিলাম: সুষমা

সদ্য বাংলাদেশে সফরে আসা ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, “ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এটাই আমার প্রথম বিদেশ সফর৷ আমি ভারতের নবনির্বাচিত সরকারের তরফ থেকে বন্ধুত্বের বারতা নিয়ে এসেছিলাম৷ এ সফরে আমি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি৷ বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে আমার আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে৷ আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আমাদের আলোচনা হয়েছে, এ আলোচনা থেকে আমরা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত রচনা করতে পারি৷ আমাদের আলোচনার ভিত্তিতে দুই দেশের বাণিজ্য, সংযোগ, বিদ্যুৎ খাতের সহযোগিতা ও জনগণের সঙ্গে জনগণের আরও যোগাযোগ বাড়বে বলে আশা করছি৷”image_88412

দৈনিক প্রথম আলোর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে সুষমা স্বরাজ এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ গত ২৫ জুন দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন। সে সময় তার সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়।

সুষমা বলেন, “আমার মনে হয়, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুণগত পরিবর্তন আনার সময় এসেছে৷ আমরা এ অঞ্চলে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হই, সে প্রেক্ষাপটে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতা আরও দৃঢ় হওয়া উচিত: দারিদ্র্য দূরীকরণ, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, সন্ত্রাস, চরমপন্থা ও মৌলবাদ মোকাবিলায়৷”

এক প্রশ্নের জবাবে সুষমা বলেন, “ভারতের বিগত সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যে জায়গায় ছিল, আমরা সেটাকে শুধু বজায় রাখতে চাই তা নয়, সেটাকে আমরা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই৷ তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে আমরা আমাদের দেশে অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য গড়ে তুলতে চাইছি৷ স্থল সীমানা চুক্তি করার জন্য সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর জন্য রাজ্যসভায় বিল পেশ করা হয়েছে৷ এ মর্মে রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্যও আলোচনা হচ্ছে৷”

লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণায় মোদির অবৈধ বাংলাদেশি তাড়ানো ঘোষণা সম্পর্কে সুষমা বলেন, “অবৈধ অভিবাসন যেকোনো দেশের জন্যই খুবই স্পর্শকাতর একটি সমস্যা, খুব সতর্কতার সঙ্গে এটা সামলানো উচিত৷ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এ সমস্যা মোকাবিলা করতে চাই৷ এর মধ্য দিয়ে সীমান্তের উন্নততর ব্যবস্থাপনার দিকটিও উঠে এসেছে, এটা নিশ্চিত করা উভয় পক্ষেরই দায়িত্ব৷ যে কয়টি দেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত রয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গেই তার সীমান্ত দীর্ঘতম৷ এ সীমান্ত নিশ্ছিদ্র নয়৷ এ সীমান্তে বসবাসকারী মানুষ দরিদ্র, পুরো এলাকা খুবই ঘনবসতিপূর্ণ৷ সে কারণে এখানে অনেক অবৈধ কাজ হয়৷ আমরা মনে করি, ভারত ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা একই সূত্রে গাঁথা৷ দুই দেশেরই উচিত একত্রে কাজ করে সীমান্ত এলাকায় এসব অবৈধ কাজের রাশ টেনে ধরা৷ নিরাপদ হলেই আমাদের সীমান্ত এলাকা সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে, তার জন্য আইনের শাসন জোরদার করতে হবে৷ অসহায় ও নির্দোষ মানুষদের বিবেকহীন কাজের শিকার হতে দেয়া যাবে না৷”

ভারত আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে অনেক কিছু পেয়েছে,  কিন্তু প্রতিদানে তেমন কিছু দেয়নি-এমন অভিযোগের জবাবে সুষমা বলেন, “এ ধারণা ঠিক নয়৷ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দ্বিমুখী সড়ক৷ আমাদের সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি হয়েছে৷ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতেই আমরা এগিয়েছি৷ বাণিজ্য, বাজার সুবিধা, বিদ্যুৎ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন সহযোগিতা, অবকাঠামো, তরুণদেরসহ দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক, সংবাদকর্মীদের মধ্যকার যোগাযোগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমরা নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছি।”

ভারতে বাংলাদেশের বাণিজ্য-ঘাটতি সম্পর্কে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাণিজ্য-ঘাটতি নিয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আমরা সংবেদনশীল৷ ২০১২-১৩ অর্থবছরে সার্ক অঞ্চলে বাংলাদেশ ভারতের বৃহত্তর বাণিজ্য সহযোগীতে পরিণত হয়েছে৷ আগের বছরের তুলনায় এ বছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬৩ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলারে৷

জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেড, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন কাস্টমসসহ আরও নানা আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য বাধা দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ এসব কমিটি বছরে একবার বসে৷ সাম্প্রতিক সময়ে এসব বৈঠকের কিছু ফলাফল দেখা যাচ্ছে, যেমন বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত ও আগরতলা-আখাউড়া স্থলবন্দরে সাত দিনব্যাপী বাণিজ্য হওয়া৷ আরও ১৬টি স্থলসীমান্ত বন্দরে এরূপ বাণিজ্যের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ এদিকে, আমরা বিএসটিআইয়ের সঙ্গে কাজ করছি সংস্থাটির পরীক্ষা ও মানদণ্ড নির্ধারণের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে৷ বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রফতানির প্রবৃদ্ধি ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য রফতানির প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি৷ ভারত থেকে বাংলাদেশে যেসব পণ্য রপ্তানি হয়, সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়৷”

তিনি বলেন, “এদিকে ভারত তার বাংলাদেশ সীমান্তের ১৬টি প্রধান স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটিয়ে সেগুলোকে সমন্বিত চেকপোস্টে উন্নীত করতে চায়৷ সেখানে কাস্টমস থেকে শুরু করে অভিবাসন, পার্কিং, হিমাগার, অসুস্থদের জন্য পৃথক নিবাসসহ নানা ধরনের সুবিধা একটি স্থানেই পাওয়া যাবে৷ আগরতলায় এই যৌথ চেকপোস্টের কাজ ২০১৩ সালের নভেম্বরে শেষ হয়েছে, সেখানে এখন কাজও হচ্ছে৷

মেঘালয় সীমান্তে দুটি সীমান্ত হাট রয়েছে৷ এটা শুনে আমি খুশি হয়েছি যে এরূপ আরও দুটি হাট ত্রিপুরা সীমান্তে শুরু হতে যাচ্ছে৷ আর এ বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেডের বৈঠকে আরও চারটি হাট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷ বাংলাদেশ যাতে আরও রফতানি উদ্বৃত্ত তৈরি করতে পারে, সে মর্মে ভারত মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী৷ এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ভান্ডারে আরও পণ্য যুক্ত হবে৷ আর বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশের বাজারে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে৷”

বাংলাদেশের মানুষ মনে করে, আওয়ামী লীগ ও কংগ্রেসের মধ্যে এক ‘বিশেষ সম্পর্ক’ রয়েছে৷ ভারতের সরকার পরিবর্তন হওয়ায় এ দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে কি কোনো গুণগত পরিবর্তন ঘটবে?  এমন প্রশ্নের জবাবে সুষমা বলেন, “সেটা আপনাদের ধারণা৷ আমাদের সরকার বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করবে৷ দুটি দেশের মধ্যকার সম্পর্ক নির্ভর করে দুই দেশের জনগণ ও সরকারের মধ্যকার সম্পর্কের ওপর৷ আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ব্যাপকভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশীদারত্ব তৈরি করার ইচ্ছা রাখি, আর সেটা সমাজের সবাইকে নিয়েই আমরা করতে চাই৷”

৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে সুষমা বলেন, “দেখুন, বাংলাদেশের নির্বাচনের ওপর আমাদের রায় দেয়ার কিছু নেই৷ বাংলাদেশে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এই দেশের জনগণই নির্ধারণ করবেন৷ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎমুখী৷ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এই দুই দেশের ভবিতব্য নির্ধারণে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, সেটাকে বিবেচনায় নিয়েই আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করি৷”

সব মামলা শেষ করতে লাগবে ১৪৫ বছর!

যুদ্ধাপরাধের দায়ে এ পর্যন্ত দায়ের করা ৫৭৭টি মামলা মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বর্তমান কাঠামো দিয়ে নিষ্পত্তি করতে লাগবে কমপক্ষে ১৪৫ বছর৷ এ কারণেই প্রয়োজন ট্রাইব্যুনাল এবং জনবল বাড়ানো৷image_88000_0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদে জানান, সারা দেশে এ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ৫৭৭টি মামলা হয়েছে৷ এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১১২, চট্টগ্রামে ৮৪, রাজশাহীতে ৬৬, খুলনায় ১৮৪, সিলেটে ৫০ এবং বরিশালে ৩০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ কিন্তু এ সব মামলা তদন্ত ও নিষ্পত্তির কোন পর্যায়ে আছে তা জানাননি আইনমন্ত্রী৷

২০১০ সালের ২৫শে মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ন’টি মামলায় ১০ জনকে দণ্ড দেয়া হয়েছে৷ এর মধ্যে মাত্র একটি মামলায় জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। আর সাতটি মামলা আপিল বিভাগে রয়েছে৷ আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হয়েছে মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার৷ এটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ আছে৷ দুটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন: সাবেক জামায়াত নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, আশরাফুজ্জামান এবং চৌধুরী মঈনুদ্দিন পলাতক থাকায় তার হয়ে আপিল করা হয়নি৷

ট্রাব্যুনালে এখন তিনটি মামলার বিচার চলছে৷ এই তিনটি মামলার আসামি হলেন জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুস সোবহান এবং সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার৷ মঙ্গলবার মতিউর রহমান নিজামীর রায় না হওয়ার এখন সেটা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ আছে৷ এছাড়া ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী সংস্থা আরো তিনিটি মামলার তদন্ত করছে বলে জানা গেছে৷

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রাণা দাসগুপ্ত জানান, “একটি ট্রাইব্যুনাল বছরে সর্বোচ্চ দুটি মামলার বিচার কাজ শেষ করতে পারে। সেই হিসেবে দুটি ট্রাইব্যুনালের পক্ষে বছরে চারটির বেশি মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব নয়৷ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর গত চার বছরে নয়টি মামলার নিষ্পত্তি করেছে দু’টি ট্রাইব্যুনাল৷”

তিনি বলেন, ‘‘যদি গাণিতিক হিসাব করা হয়, তাহলে যুদ্ধাপরাধের ৫৭৭টি মামলা ট্রাইব্যুনালের নিষ্পত্তি করতে কমপক্ষে ১৪৫ বছর লাগবে৷” তবে বাস্তবে এই সময় আরো বেশি হবে বলে জানান তিনি৷ কারণ মামলার বিচারে আসার আগে তদন্তসহ আরো কাজ রয়েছে৷

রাণা দাসগুপ্ত জানান, দুই ট্রাইব্যুনালে এখন ১৭ জন প্রসিকিউটর এবং চারজন বিচারক আছেন৷ তার কথায়, ‘‘ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা এখন বাড়ানো দরকার৷ ভালো হতো যদি প্রত্যেক বিভাগে ট্রাইব্যুনাল খোলা যেত৷ কিন্তু ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা যেহেতু হাইকোর্টের বিচারক, তাই বিভাগীয় শহরে ট্রাইব্যুনাল করা সম্ভব নয়৷”

ট্রাইব্যুনালের প্রধান তদন্তকারী সানাউল হক জানান, ‘‘আমরাও মনে করি এতগুলো মামলার তদন্ত শেষ করতে বছরের পর বছর লাগবে৷ কারণ তাদের মাত্র ১৪ জন তদন্ত কর্মকর্তা আছেন৷”

তিনি বলেন, এ জন্য তারা লোকবল চেয়ে আবেদন করেছেন৷ লোকবল হিসেবে ২৭৯ জনের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে৷ তাই তাদের নিয়োগ দেয়া হলে তদন্তে গতি আসবে৷

তবে সানাউল হক মনে করেন, ‘‘৫৭৭টি মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষ করতে পারলে তারা বুঝতে পারবেন আসলেই কত সময় লাগবে৷”

তার ধারণা, ‘‘এর মধ্যে বেশ কিছু মামলা প্রাথমিক পর্যায়েই বাতিল হয়ে যাবে। ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন এবং বিচারের প্রয়োজন পড়বে না৷”

তিনি জানান, ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে গত চার বছরে তারা ৩০টি মামলার তদন্ত করেছেন৷ এবার নতুন লোকবল পেলে সব মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষ করে চূড়ান্ত তদন্তের জন্য তালিকা করবেন৷ সানাউল হকের কথায়, প্রাথমিক তদন্তের শেষ করলে বোঝা যেত টাইব্যুনালের সংখ্যা আসলে কতটা বাড়ানো দরকার৷ সূত্র্র: ডিডব্লিউ

কালশীর ঘটনায় দায়ী যারা

মিরপুরের কালশীতে বিহারি ক্যাম্পে আগুন ও হামলার পেছনে দায়ী কারা- এ বিষয়ে আমরা গভীর অনুসন্ধান ও তদন্ত চালিয়ে অনেক তথ্য পেয়েছি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী থেকে শুরু করে বিহারি, সমস্যা নিয়ে যারা কাজ করছেন, কথা হয়েছে এমন অনেকের সঙ্গেই। ব্যতিক্রমহীনভাবে অভিযোগের তীর ছুটেছে এমপি ইলিয়াস মোল্লাহ, তার সাঙ্গপাঙ্গ ও পল্লবী থানার কর্মকর্তাদের দিকে।image_88004_0

কালশীতে কী ঘটেছিল, তা এখন আর কারও জানতে বাকি নেই। শবে বরাতের রাত শেষে বিহারি ক্যাম্পে আগুন লেগে একই পরিবারের নয়জনসহ মোট ১০ জন নিহত হয়। প্রথমে পুলিশ জানায় যে, আতশবাজি থেকে আগুন ছড়িয়েছে। এরপর তারা জানায়, আতশবাজি পোড়ানোকে কেন্দ্র করে বাঙালি-বিহারি সংঘর্ষ হয়েছে। বিহারিরা অভিযোগ তোলে, স্থানীয় এমপি ইলিয়াস মোল্লাহর ক্যাডাররা ও পুলিশ যৌথভাবে তাদের ওপর হামলা করেছে। কিন্তু প্রথমে তাদের কথা কেউ কানে তোলেনি। বরং একাত্তরের ঘাতক বলে বিভিন্ন মাধ্যমে অনেকেই বিহারিদেরই অপরাধী সাব্যস্ত করছিলেন।

ঘটনা বিহারিদের পক্ষে বাঁক নেয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মামুন আহমেদের বক্তব্যের সূত্র ধরে। তিনি একটি দৈনিককে জানান, ‘আটটি ঘরে তালা লাগানো ছিল। ভেতরে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে বাধা দেন হামলাকারীরা। পরে ক্যাম্পের বাসিন্দারা দরজা ভেঙে শিশু-নারীসহ নয়জনের লাশ ও আহত ছয়জনকে উদ্ধার করেন।’ এর সঙ্গে যোগ হয় ইন্টারনেটে আপলোড হতে থাকা ভিডিও ফুটেজ।

এসবের মধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন সেখানে ছুটে যায়। অধিকাংশ দল ও ব্যক্তি এমপি ইলিয়াস মোল্লাহকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও ওঠে। জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি করেছে পুলিশ। আর চারটি করেছে বিহারিরা। তবে মামলার তদন্তে অগ্রগতি নেই। এখনও দায়ী কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনাবলি আপাতত এখানে এসেই থমকে আছে। অভিযুক্ত সব পক্ষই তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে। বিহারিরা, নাগরিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা দুর্বলভাবে এখনো অভিযুক্তদের বিচার ও শাস্তির দাবি করে চলেছেন। আরেকটা ইস্যু এসে হাজির হলেই এই দাবির আওয়াজও স্তিমিত হয়ে যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এভাবে রামু, মালোপাড়ার পাশে কালশী একটি নতুন নাম হিসেবে যোগ হবে আর এখানেও অপরাধীরা থেকে যাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে! কিন্তু কারা এই অপরাধী? কার কোন স্বার্থ হাসিলের জন্য নিভে গেল ১০টি তাজা প্রাণ!

দায়ী যারা
সবার আগে এই ঘটনায় এমপি ইলিয়াস মোল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তিন দিন আগে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বাদানুবাদের পর তিনি বিহারিদের ৪৮ ঘণ্টার ভেতর দেখে নেয়া হবে মর্মে হুমকি দেন। তিন দিন বাদেই শবে বরাতের রাত শেষে ভোরে পুলিশের সামনেই ক্যাম্পের ইয়াসিনের ঘরে তালা ঝুলিয়ে গান পাউডার ছিটিয়ে ১০/১৫টি ঘরে আগুন  লাগিয়ে দেয়  যুবলীগের আবু  তাহের। সে পল্লবী থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানার লোক। জুয়েল রানার নেতৃত্বে দেড় শতাধিক লোক হামলা চালায় এবং লুটপাট করে। তখন গেসু, সোহাগ, মুকুল, রুবেল, ফরমা ইব্রাহীম, বাবুল, আলমগীর, বিল্লাল, বিল্লালের ছেলে জুয়েল ছাড়াও গিয়াস, হেলাল, ফারুক, টিটু ও সেলিম নামক স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিল। বিভিন্ন স্থানে এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন বিহারিরা।

বিহারি ক্যাম্পের বিভিন্ন ঘরে ঢুকে শ্লীলতাহানি ও হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর চালায় মুরাদ, রনি, আরজু, ইনু, নীলা, সাব্বির, পুতুল, এনামুল, ফিরোজ, ছুটু, পাপ্পু ও হাসান। এদের প্রত্যেককেই মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে পুরো হামলার অগ্রভাগে ছিলেন পল্লবী থানা যুবলীগের নেতা জুয়েল রানা, শরিফুল ইসলাম, সেন্টু ও নিয়াজ। গোয়েন্দা রিপোর্টে হামলায় এদের জড়িত থাকার দাবি করা হয়েছে। পুলিশ এই চারজনকে নজরদারির মধ্যে রেখেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জুয়েল রানাই এদিকে এমপির ডান হাত। ওদিকে আছে আশিক আর ঝুট বাপ্পী। কালা ও তার ভাই তৈয়ব এবং তাদের মিত্র তাজু এমপির হয়ে বাউনিয়ার দিকে সব কাজকর্ম করে। তাদের সহযোগী শাকিল, নাসিম ও রিয়াজ। সন্ত্রাসী নাইজ্যা ও ফালান গ্রুপের নেতারা ক্রসফায়ারে মারা যাওয়ার পর তাদের বাহিনীও ভিড়েছে এই চক্রে। এদের সবাইকেই ঘটনার তিন দিন আগে বিদ্যুৎ নিয়ে বাহাসের সময় এমপির পাশে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এছাড়া এমপির বাহিনীর অন্যতম বাদ বাকি ক্যাডাররা হচ্ছে শুটার জুয়েল, কিলার আড্ডু, বিহারি পারভেজ, বিহারি শাকিল, তুলা রনি, গিশ বাবু, জামিল, রমজান, বাদল, তৌহিদ, জিশান, জাবেদ, সুমনসহ আরও প্রায় ২০-৩০ জন।

দায় শুধু এমপি ও তার কর্মীদের নয়, অনেকখানি বর্তায় পুলিশের কাঁধেও। বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দা শাহজাদী বেগম আমাদের জানান, ঘটনার দিন সকালে যুবলীগের নেতাকর্মী ও পুলিশ একজোট হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পল্লবী থানার এসআই জহির তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেন ও মারধর করেন। এভাবে অনেক নারীকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ওই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিহারি ক্যাম্পে বহিরাগতরা হামলা চালানোর সময় পুলিশ তাদের সঙ্গেই ছিল। হামলাকারীরা যখন লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যাম্পের দিকে আসতে থাকে, তখনও তাদের সঙ্গে পুলিশ ছিল। কালশী নতুন রাস্তার মোড় থেকে ক্যাম্পের সামনে আসার সময় বহিরাগতদের সঙ্গে পুলিশও আসে। এমনকি বহিরাগতরা পুলিশ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে, এমন দৃশ্যও সেখানে দেখা গেছে।

স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানিজ জেনারেল রিপেট্রিয়েশন কমিটির (এসপিজিআরসি) কুর্মিটোলা ক্যাম্পের প্রচার সম্পাদক মো. হাসান বলেন, ‘ইলিয়াস মোল্লাহর নির্দেশে পুলিশের সহায়তায় যুবলীগ হামলা চালিয়েছে। হামলার পর আগুন নিভাতে দেয়নি পুলিশ। ওই সময় পুলিশ ক্যাম্পে গুলি চালিয়েছে। পুলিশ জানে বলেই তাদের ধরছে না। কেননা তাদের ধরলে পুলিশ নিজেই ফেঁসে যাবে।’

কুর্মিটোলা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে গত সোমবার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল দাবি করেন, ‘পুলিশের ব্যর্থতার কারণেই মিরপুরের ঘটনা ঘটেছে।’

বিহারিরা পল্লবী থানার ওসি সৈয়দ জিয়াউজ্জামান, এসআই জহির ও সেকেন্ড অফিসার এসআই ইয়াসিনের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছে। ওয়েলফেয়ার মিশন অব বিহারিজ-এর সভাপতি   মোশতাক  আহমেদ  বলেন, ‘বহিরাগতদের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছে পল্লবী থানা। এ থানার কিছু কর্মকর্তা বহিরাগতদের সঙ্গে টাকা-পয়সার বিনিময়ে এ ঘটনাকে নীরব সমর্থন জানিয়ে আসছে। যখন এখানে আগুন লাগে তখন তা নেভানোর চেষ্টা না করে বরং যারা আগুন নেভাতে এসেছিল তাদের দিকে রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ।’

ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত যেসব সন্ত্রাসীর নাম এসেছে তাদের কেউ গ্রেপ্তারও হয়নি। পুলিশের সম্পৃক্ততা আছে এমন অভিযোগ উঠলেও বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কেন হামলা!
হামলার পেছনে যুক্ত থাকা অনেকের নামই পাওয়া গেছে। কিন্তু কেন, কিসের আশায় এই নারকীয় তাণ্ডব? আওয়ামী লীগ নেতার স্বার্থটা এখানে কী? পুলিশই বা কেন তাদের পক্ষে এভাবে মাঠে নামল? তাদের স্বার্থটা কোথায়?

কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্প, মিল্লাত ক্যাম্প, নতুন কুর্মিটোলা ক্যাম্প একেবারেই কাছাকাছি অবস্থিত। মিরপুরের এই সংসদীয় এলাকায় (ঢাকা-১৬) মোট ৪০টি বিহারি ক্যাম্প রয়েছে, যাতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার বিহারি বসবাস করে। এর মধ্যে কুর্মিটোলা ক্যাম্পে প্রায় ৫ হাজার বিহারির বাস। সরকারি হিসাবে ৭৭৪ পরিবার। এটি মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ই ও ডি ব্লকে অবস্থিত।

ক্যাম্পের ৭৭৪ পরিবারের জন্য রয়েছে মাত্র একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার। ক্যাম্পের পূর্ব দিকে বাউনিয়াবাদ বাজার ও লালমাটিয়া এলাকার শুরুতেই রয়েছে রাজুর বস্তি। পশ্চিমে বেগুনটিলা এবং মুক্তিযোদ্ধা বস্তি। এই বাউনিয়াবাদ, লালমাটিয়া, বেগুনটিলা ও কিছুটা দূরবর্তী রূপনগরই হচ্ছে এমপি ইলিয়াস মোল্লাহর ঘাঁটি।

বিহারিদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত নির্বাচন থেকে। গত সংসদ নির্বাচনে কুর্মিটোলা ক্যাম্পের বিহারিদের মধ্য হতে নৌকা প্রতীকে আশানুরূপ ভোট না পড়ায় বর্তমান সাংসদ এ ক্যাম্পের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করে আসছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয় এমপি ও তার লোকজনের জমিখেকো মনোভাব। জমি দখল, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণের মতো সব অভিযোগই আছে এমপির ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। যে জুয়েল রানার নেতৃত্বে কালশীতে হামলা হয়েছে, তার নামে ইতোপূর্বে ধর্ষণের মামলা ছিল। ধর্ষিতা সেই মেয়েটি অপমানে আত্মহত্যা করেছিল। জমি নিয়ে এমপির লোকজনের সঙ্গে বিভিন্ন গ্রুপের বিবাদ ও তা নিয়ে ওই এলাকায় দ্বন্দ্বটা সাধারণ ঘটনা।

জানা গেছে, বছর পাঁচেক আগে বাউনিয়া বাঁধ সংলগ্ন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের জমিতে এমপির মদদপুষ্ট জনৈক রাজু ৪০০ পরিবার নিয়ে একটি বস্তি গড়ে তোলেন, যা এখন রাজু বস্তি নামে পরিচিত। এই বস্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগের সূত্র ধরে বিহারিদের সঙ্গে ঘটনার তিনদিন আগে বাদানুবাদ হয়। বিহারি নেতারা মনে করেন, এটা একটা ছুতো মাত্র। এখান থেকে বিহারিদের উচ্ছেদ করাই তাদের উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশি অবাঙালি পুনর্বাসন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন বলেন, ‘কালশী-বিমানবন্দর নতুন সড়কটি হবার পর এই ক্যাম্পের ও এর আশেপাশের জায়গার দাম বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সন্ত্রাসী ভূমিদস্যুরা কীভাবে বিহারিদের এখান থেকে উচ্ছেদ করে জায়গা দখল করবে তার জন্য নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।’

ক্যাম্পের অধিবাসী নিজামুদ্দিন বলেন, ‘এই এলাকা দীর্ঘকাল থেকে আমরা দেখে আসছি। এখানে শুধু বিহারিরাই ছিল। কিন্তু এখন চারপাশে বাঙালিরা বেড়েছে। এই কুর্মিটোলা ক্যাম্পের পাশেই আগে ছিল জাগরণী মাঠ। এখন সেখানে শুধু একটা ক্লাব আছে। সব জায়গা দখল করা হয়েছে। বিহারিদের দু’ চারজনকে হাত করে তারা প্রথমে কিছু টাকা দেয়। তারপর কাগজপত্র করে পুলিশ নিয়ে এসে জায়গা দখল করে। বিহারিরা এখন সংখ্যা ও আয়তন, দু’ দিক থেকেই কমছে।’

তিনি আরও জানান, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাশনাল হাউজিং আমাদের এই জায়গা (বিহারি ক্যাম্প) বরাদ্দ দিয়েছে বহিরাগতদের কাছে। ২০০৩ সালে মিরপুর ১১ নম্বরের এডিসি ক্যাম্প তারা আগুনে পুড়িয়ে দেয়। অথচ এটা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা রয়েছে। রায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের উচ্ছেদ করা যাবে না মর্মে স্টে অর্ডার রয়েছে হাইকোর্টের। অথচ বহিরাগতরা প্রায়ই জায়গা দখল করতে আসে। তারা সবসময় ক্যাম্প খালি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

এর সঙ্গে পুলিশের যোগ কতখানি! এ বিষয়ে প্রশ্ন ওঠামাত্রই কুর্মিটোলা ক্যাম্পের বিহারি নেতা মুন্না বলেন, ‘জনি নামে আমাদের একজনকে পল্লবী থানার এসআই জাহিদুর রহমান খান থানায় নিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে। থানা এখানে সব সময়ই আমাদের বিরুদ্ধে।’ জানা গেছে, থানায় যেসব কর্মকর্তা আসেন, তারা একটা ভীতি নিয়েই এ এলাকায় থাকেন। বিহারিদের সম্পর্কে ভীতিকর অনেক গল্প চালু আছে থানাপাড়ায়। ফলে বাঙালি পুলিশ কর্মকর্তারা সব সময়ই বিহারিদের নিয়ে আতঙ্কে থাকেন ও তাদের শত্রু জ্ঞান করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পল্লবী থানার পুলিশ কর্মকর্তারা ইলিয়াস মোল্লাহর মতের বাইরে যেতে পারেন না। ইলিয়াস মোল্লাহর ক্যাডারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করায় এর আগে পল্লবী জোনের একজন এডিসি ও দুই ওসিকে বদলি করা হয়েছিল। এসব নিয়ে মিরপুর জোনের পুলিশ প্রশাসনের মধ্যেও রয়েছে বদলি আতঙ্ক। সম্প্রতি পল্লবী থানার বর্তমান ওসি সৈয়দ জিয়াউজ্জামানকে বদলি করার চেষ্টা করেন ইলিয়াস মোল্লা। এজন্য এমপি দুবার ডিও লেটার দিয়েছেন। জানা গেছে, এর পরই এমপির সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা চালান ওসি। কালশীর ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি এমপির আস্থাভাজন হয়ে ওঠার পরীক্ষায় পাস করেছেন।

সাংসদের বক্তব্য
এমপি ইলিয়াস মোল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আমার যা বলার আমি তা অসংখ্যবার বলেছি। বিপক্ষরাই আমার বিরুদ্ধে যা তা বলেছে। তা না দেখে আপনারা সাংবাদিকরা যে যা বলছে, তাই ছেপে দিচ্ছেন। এজন্যেই আমি চাই, সত্য ঘটনা উদঘাটন হোক। তদন্ত হোক। তদন্তে কারও নাম বেরিয়ে আসলে তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমার ওপরে অপবাদ দিবে, এটা হতে পারে না। সত্য উদঘাটনে আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই আমি। সত্য উদঘাটন হলেই দেখবেন আমার কোনো দোষ নেই।’

হামলায় যাদের দেখা গেছে, তারা আপনারই লোক, আপনার হয়ে নির্বাচন করেছে, আপনার সঙ্গে কাজ করে। তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিলেন?

‘আমার লোক তো অবশ্যই ছিল, তবে হামলায় না। তারা গিয়েছিল ঠেকাতে। বিহারিদের মধ্যে কিছু বহিরাগত আছে। তারা পুলিশ ও আমাদের যারা ঠেকাতে গিয়েছিল তাদের ওপর হামলা করেছে।’

তাহলে হামলাটা করল কারা?
‘তদন্ত করতে দিন। এটা পুলিশ খুঁজে বের করতে পারবে। তারা সেখানে উপস্থিত ছিল। আর এটাই তো তাদের কাজ। দয়া করে আমার বিরুদ্ধে আর যা তা লেখবেন না।’

পুলিশের বক্তব্য
এ প্রসঙ্গে পুলিশের মিরপুর জোনের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইমতিয়াজ আহমেদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। এখনও বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই।’

তবে পুলিশের সম্পৃক্ততা বা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি দাবি করেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে দায়িত্বে অবহেলা ছিল না। ওসির সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, পুলিশ না থাকলে ওইদিন আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটত।’

তিনি আরও বলেন, ‘মূলত বিহারিদের কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা আছে আগে থেকেই। তাদের মধ্যকার কোন্দলের ফলেও এ ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা সব সম্ভাবনাই বিবেচনায় রাখছি। পুলিশ বা এমপির কথা বললে তদন্ত ব্যাহত হয়। আপনি কাউকে দেখিয়ে দিতে পারেন না। এতে তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এভাবে প্রভাবিত না করলে বরং তদন্তেই বেরিয়ে আসবে, কে আসল অপরাধী।’

কিন্তু পুলিশের তদন্ত তো আলোর মুখ দেখে না অনেক ক্ষেত্রেই। আর পুলিশের বিরুদ্ধেই যেখানে অভিযোগ, সেখানে তাদের তদন্ত কতটুকু গ্রহণযোগ্য? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি গঠন হচ্ছে তদন্তের জন্য। তারা সবাই তো আর পুলিশ না। আপনারা এর-ওর নাম বলে তদন্তকে প্রভাবিত না করে অপেক্ষা করুন। সময়মতো সবই বেরিয়ে আসবে।’

মাহমুদ-সুষমা বৈঠক

ঢাকা সফরের প্রথম দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা চলে বৈঠকটি। বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে দুপুর আড়াইটায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।image_88016_0

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ, ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারেক এ করিমও ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।

দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠকে তিস্ত নদীর পানি বণ্টন, স্থলসীমান্ত চুক্তি, ভারতের ঋণ, বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ, চার দেশীয় অর্থনৈতিক করিডোর বিসিআইএম, ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সুষমা স্বরাজ গেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সেখানে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে।

এরপর সন্ধ্যার কিছু আগে যাবেন বঙ্গভবনে, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে। সেখান থেকে হোটেল রূপসী বাংলায়। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (BISS) আয়োজিত একটি সেমিনারে ভাষণ দেবেন।

তিন দিনের ‘শুভেচ্ছা সফরে’ বুধবার রাতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শুক্রবার সকালে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

ভারতে সম্প্রতি বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সুষমা স্বরাজের সফরটি বাংলাদেশে দিল্লির পক্ষ থেকে উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে প্রথম সফর।

আইসিসির সভাপতির দায়িত্ব নিলেন মুস্তফা কামাল

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রথম বাঙালি হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসির সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।  image_88033_0

বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ১১টায় অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আইসিসির বার্ষিক কনফারেন্স সপ্তাহে মুস্তফা কামাল এ দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৪ বছর আগে আজকের এই দিনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টেস্ট মর্যাদা পেয়েছিল।

বেলবোর্ন থেকে আইসিসির সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ মনেপ্রাণে ক্রিকেটকে ভালোবাসে। তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে ক্রিকেট প্রেরণা দেয়। কাজেই সবার দোয়ায় দেশের পক্ষে এই সম্মান পাওয়ায় আমি দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমি বিশ্বাস করি বাঙালি জাতি ক্রিকেটকে ঘিরেই তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। ক্রিকেট তার কাছে সবসময় প্রেরণা হিসেবে থাকবে।”

ইরাকে মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা শুরু

সুন্নি জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস-এর হামলা এখনো চলছে৷ তাদের ঠেকাতে এখনো ব্যর্থ ইরাকি সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকার সেনা উপদেষ্টারা৷ আঙ্গেলা ম্যার্কেল মনে করেন, ইরাকে শান্তি আনতে পারে ক্ষমতায় সর্বস্তরের অংশগ্রহণ৷

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, ইরাক সরকার সে দেশের সব গোষ্ঠীর মতামতের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনায় দীর্ঘদিন ধরেই ব্যর্থ৷ জার্মান সংসদে তিনি বলেন, ‘‘আমরা ইরাকে এমন সরকার চাই, যার মাধ্যমে সে দেশের সব অংশের মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে৷ কিন্তু বছরের পর বছর ধরে আমি দেখে চলেছে যে, তা হচ্ছে না৷”image_87898_0

ইরাকে শিয়া আর সুন্নিদের মধ্যেই মতের মিল এবং সে অনুযায়ী দেশ পরিচালনার ন্যূনতম সম্ভাবনাও তৈরি হয়নি৷ আল-কায়েদা জঙ্গিগোষ্ঠীর মদদপুষ্ট সুন্নিদের জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস বুধবারও ইরাকের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার দখলের জন্য হামলা চালায়৷ তবে সেনাবাহিনীর প্রতিরোধের মুখে সে প্রয়াস এবারও ব্যর্থ হয়েছে৷ এছাড়া সেনাবাহিনীর তৎপরতা আপাতত শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলো রক্ষা করার চেষ্টার মধ্যেই সীমাবদ্ধ৷ ধারণা করা হয়, ইরাক জুড়ে আইএসআইএস-এর কম পক্ষে দশ হাজার প্রশিক্ষিত সদস্য রয়েছে৷ তাদের বিরুদ্ধে ইরাকি সেনাবাহিনীর বড় রকমের কোনো যুদ্ধ পরিকল্পনার আভাস এখনো পাওয়া যায়নি৷

এদিকে আইএসআইএস-এর হামলা থেকে বাগদাদ এবং ইরাকের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল রক্ষায় সেনাবাহিনাকে মদদ জোগাতে মার্কিন সেনা উপদেষ্টারা কাজ শুরু করেছেন৷ এ মুহূর্তে আমেরিকার ৩০০ সেনা উপদেষ্টা ইরাকে রয়েছেন৷ পেন্টাগন জানিয়েছে, সেনা উপদেষ্টাদের মূল কাজ হবে ইরাকের সেনাবাহিনীর ক্ষমতা এবং তৎপরতা বিশ্লেষণ করে কার্যকর যুদ্ধপরিকল্পনা প্রণয়ন করা৷ তবে মার্কিন সেনা উপদেষ্টারা কতদিন ইরাকে থাকবেন, সে সম্পর্কে পেন্টাগন কিছু জানায়নি৷

এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি কুর্দি নেতা মাসুদ বারাজানির সঙ্গে বৈঠক করেন৷ ইরবিলে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে কেরি বলেন, ‘‘ইরাকের জন্য এখন পরিস্থিতি খুব জটিল৷” ইরাকে কুর্দিরা এখনো নিজেদের এলাকা নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছে৷ এর বাইরে দেশের উত্তর এবং দক্ষিণের বড় একটা অংশ দখল করে নিয়েছে আইএসআইএস৷ সূত্র: ডিডব্লিউ