বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

উইম্বলডনের শেষ চারে ‘সুন্দরী’ বাউচার্ড

রুশ সুন্দরী বিদায় নিলেও উইম্বডন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন কানাডিয়ান সুন্দরী ! মঙ্গলবার জার্মানির অ্যাঞ্জেলিক কের্বারের কাছে হেরে উইম্বলডন থেকে বিদায় নেন মারিয়া শারাপোভা ৷ বুধবার সেই কের্বারকে হারিয়েই অল ইংল্যান্ড ক্লাবে প্রথমবার সেমিফাইনালে পৌঁছলেন ইউজেনি বাউচার্ড ৷image_88931_0

টেনিস দুনিয়ায় শারাপোভার গ্ল্যামারে থাবা বসিয়েছেন কানাডার ২০ বছর বয়সি সুন্দরী ৷ শুধু গ্ল্যামারেই নয়, র‌্যাকেট হাতেও কোর্টে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বাউচার্ড ৷ বুধবার কের্বারকে স্ট্রেট সেটে (৬-৩, ৬-৪) উড়িয়ে দিয়ে উইম্বডনের শেষ চারে ওঠেন তিনি ৷ সেই সঙ্গে চলতি মরশুমের তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যামেই সেমিফাইনালে পৌঁছন ত্রয়দশ বাছাই বাউচার্ড ৷ জিতে উঠে তিনি বলেন, ‘লড়াইটা কঠিন ছিল ৷ এর আগেও আমি বেশ কয়েকবার ওর বিরুদ্ধে খেলেছি ৷ জানতাম লড়াইটা সহজ হবে না ৷ শেষ দিকে আমি একটু  ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম ৷ কিন্তু, ম্যাচ জিততে অসুবিধা হয়নি ৷’

গত মাসে ফরাসি ওপেনেও নবম বাছাই কের্বারকে হারিয়েছিলেন কানাডিয়ান সুন্দরী ৷ মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে শারাপোভাকে হারিয়ে বাড়তি আত্মবিশ্বাস পেলেও বাউচার্ডের বিরুদ্ধে তার প্রতিফলন দেখাতে ব্যর্থ কের্বার ৷ এদিনের জয়ের ফলে ডব্লিটিএ র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ১০ ঢুকে পড়েন বাউচার্ড ৷ সেমিফাইনালে তৃতীয় বাছাই সিমোনা হ্যালেপের বিরুদ্ধে কোর্টে নামবেন কানাডিয়ান সুন্দরী ৷- ওয়েবসাইট।

ইসলামি ব্যাংক থেকে ‘ইসলাম’ বাদ দেয়ার হিড়িক

নাম থেকে ‘ইসলামিক’ শব্দটিকে বাদ দিচ্ছে বিভিন্ন দেশের কিছু ইসলামিক ব্যাংক৷ মূলত মুসলিমদের কথা ভেবে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকগুলো সব জাতি-ধর্মের জন্য পরিষেবা উন্মুক্ত করার এ কৌশল অবলম্বন করে বেশ সুফলও পাচ্ছে৷image_88926_0

গত জানুয়ারিতে দুবাই কেন্দ্রিক নূর ইসলামিক ব্যাংক নাম থেকে ‘ইসলামিক’ শব্দটি ছেঁটে ফেলে হয়ে গেছে নূর ব্যাংক৷ আরব আমিরাতের আবুধাবি ইসলামিক ব্যাংক (এডিআইবি) আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবসা প্রসারিত করার লক্ষ্যে নাম বদলে আবু ধাবি ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক হওয়ার পথে হাঁটছে৷ ইসলামিক ব্যাংকগুলোর এমন নাম পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য অবশ্যই ব্যবসাকে আরো বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া৷

সৌদি আরব ভিত্তিক ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালনা পরিষদের সদস্য এরলান বাইদাউলেত নামে এ ধরনের পরিবর্তনের পক্ষে যুক্ত দেখাতে গিয়ে বললেন, ‘‘আমাদের বৈশ্বিক পর্যায়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে৷  ভোক্তার প্রয়োজনের কথা ভেবে আমাদের আরো বড় আঙ্গিকের দিকে যেতে হবে৷ পুরো সেবাকে কেন শুধু একটা গণ্ডিতে আটকে রাখতে হবে, কেন নামে শুধু ‘ইসলামিক’ রাখতে হবে?”

সমস্যা হচ্ছে, মূলত মুসলমানদের জন্য এসব ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হলেও গত কয়েক বছর ধরে মুসলিম প্রধান দেশগুলাতেও ব্যবসার খুব একটা প্রসার হচ্ছেনা৷ নতুন গ্রাহক আসছে আগের তুলনায় অনেক কম হারে৷ কাতারের কথাই ধরা যাক৷ মুসলিম অধ্যুষিত দেশটিতে গত বছর ইসলামিক ব্যাংকগুলোর শতকরা ১২ দশমিক ২ ভাগ হারে সম্পদ বেড়েছে৷ অথচ ২০১১ সালে সম্পদ বৃদ্ধির হার ছিল ৩৫ দশমিক ১ ভাগ৷ নতুন গ্রাহক কম আসছে বলেই এমনটি হয়েছে৷

মুসলিম অধ্যুষিত বেশ কিছু দেশে কিন্তু ধর্মের নাম ব্যবহার করে ব্যাংক খোলা নিষিদ্ধ৷ তুরস্কে একই ভাবধারার ব্যাংকগুলোর নাম ‘অংশিদারিত্বের ব্যাংক’৷ নামে ‘ইসলামিক’ থাকলে আলজেরিয়াতেও প্রবেশ করা যাবেনা৷ তাই নির্দিষ্ট গণ্ডির গণ্ডির বাইরে পা রাখতে হালে অনেক ইসলামিক ব্যাংকই নাম থেকে ‘ইসলামিক’ শব্দটি ছেঁটে ফেলছে৷ নামে পরিবর্তন এলেও সেবার মান একই থাকবে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ

অমীমাংসিত ইস্যুর জন্য দায়ী ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যা

আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার জন্য নয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যার জন্য দুই দেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধান হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।বুধবার দুপুরে দশম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে এমন মন্তব্য করেন আমির হোসেন আমু।image_88857_0

আমু বলেন, “সম্প্রতি ভারতের একটি পত্রিকায় বেগম খালেদা জিয়া তার সাক্ষাৎকারে বলেছেন আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার জন্য ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলোর সমাধান হচ্ছে না। তার এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আওয়ামী লীগের কারণে ভারতে সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি এটা মিথ্যা কথা।”

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান, এরশাদ এবং আপনি (খালেদা জিয়া) ২১ বছর ক্ষমতায় ছিলেন, ছিটমহল, ফারাক্কা, তিস্তা, পার্বত্য শান্তিচুক্তি ও সমুদ্র সীমানা নির্ধারণ করতে ভারতের সঙ্গে কী করেছেন। উনারা যখন ক্ষমতায় আসেন তখন এসব সমাধানের জন্য আলোচনা তো দূরের কথা, চিন্তা করেছেন বলেও মনে হয় না।”

শিল্পমন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধীর সঙ্গে ৪৪ হাজার কিউসেক পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে ফারাক্কা চুক্তি ও অমীমাংসিত ছিটমহল নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর এসব বিষয়ে আর কোনো সমাধান হয়নি। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ফারাক্কা চুক্তির মাধ্যমে ৩০ বছরের জন্য পানি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করেন। এবারো সিটমহল নিয়ে ভারতে সঙ্গে বাংলাদেশের একটি সমাঝোতা হয়েছে। আমরা আমাদের সংসদে অমীমাংসিত সিটমহলের বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছি। কিন্তু ভারত এখনো পর্যন্ত তাদের সংসদে অনুমোদন দিতে পারেনি।”

তিনি বলেন, “আমাদের গত মেয়াদে যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশে সফরে এসেছিলেন তখনই তিস্তা ও সিটহল নিয়ে মীমাংসা হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু পশ্চিম বঙ্গে মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ওই সফরে বাংলাদেশে না আসায় এবং এসব চুক্তির ব্যাপারে একমত না হওয়ায় চুক্তিগুলো সম্পাদন সম্ভব হয়নি। এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। এখানে আওয়ামী লীগের কোনো ব্যর্থতা নেই।”

আমু বলেন, “শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সমুদ্র সীমানা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে বড় একটি অংশ আমরা জয় করেছি। ভারতের সঙ্গে আমাদের যেসব সমুদ্রসীমা বিরোধ রয়েছে সেগুলোর পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগির ভারতের কাছ থেকেও আমরা সমুদ্রসীমা জয় করবো।”

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বেড়ে যায় খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে শিল্পমন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়া ১৯৯১ ক্ষমতায় আসার পরপর এদেশের সব মন্দিরগুলোর ওপর হামলা করা হয়। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এলে এদেশের সংখ্যা লঘুদের ওপর নির্মম নির্যাতন নেমে আসে। এখন খালেদা জিয়া বলছেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নেমে আসে। এটা একটা ডাহা মিথ্যা কথা।”

আমু বলেন, “খালেদা জিয়া জন বিচ্ছিন্ন হয়ে আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ হয়ে এসব কথা বলা শুরু করেছে। ভারতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি জন্য উলফাকে সহায়তা করার লক্ষ্যে তার ছেলে ও নিজামীর নেতৃত্বে ১০ ট্রাক অস্ত্র আনা হয়েছিলো। খালেদা জিয়ার মুখোশ আজ উন্মোচিত হয়েছে।”

জাতীয় মৎস্য পদক পেল ১৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

মৎস্য খাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘জাতীয় মৎস্য পদক-২০১৪’ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে স্বর্ণ চারটি এবং রৌপ্য ১৩টি।image_88849_0

বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০১৪’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন।

‘জাতীয় মৎস্য পদক ২০১৪’র স্বর্ণপদক পাচ্ছেন এসবি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শহজাহান বাবলুসহ আরো তিন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো- ৬৬ পদাতিক ডিভিশন রংপুর সেনানিবাস; সী ফ্রেস লিমিটেড, ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মাসুদুরি রহমান এবং সরদার মৎস্য খামার পরিচালক বেলাল হোসেন সরদার। স্বর্ণ পদকের সঙ্গে তাদের প্রত্যেকের হাতে ৫০ হাজার টাকার একটি চেকও তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া আরো ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে রৌপ্য পদক দেয়া হয়। ৬ প্রতিষ্ঠানসহ সাতজন এ পুরস্কার পান। তারা হলেন, নিরিরিলি মৎস্য খামমারের সৈয়দা সারোয়ার জাহান, ময়মনসিংহের মো. আবুল হাসনাত, চট্টগ্রামের এটিএম পিয়ারুল ইসলাম, রাঙ্গামাটির আবু  তাহের, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আব্দুল মোনায়েম কায়কোবাদ, নাটোরের অসীম সাহা ও পাবনার হাফিজুর রহমান।

৬ প্রতিষ্ঠান হলো- ময়মনসিংহের খাজা মৎস্য হ্যাচারি, যশোরের মেসার্স মা-মনি মৎস্য খামার, নোয়াখালীর বিসমিল্লাহ অ্যাগ্রো প্রোডাকশন, যশোরের ভাই ভাই মৎস্য খামার, ভোলার আসিয়া মৎস্য খামার, খুলনার মাসুম শ্রিম্পো হ্যাচারি প্রাইভেট লিমিটেড। এসময় তাদের হাতে ৩০ হাজার টাকার চেকও তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী মো. ছায়েদুল হক, প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সচিব শিলীনা আফরোজা, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচারক সৈয়দ আরিফ আযাদ।

ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক শিল্পের জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছে বিশ্বকাপ

২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার স্বপ্ন বাংলাদেশ কখনোই কোনোভাবেই দেখেনি। কিন্তু এই ক্রীড়া কর্মসূচি থেকে দেশটি বড় ধরনের সুফল পেয়েছে, বিশ্বকাপের রেপ্লিকা জার্সি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র বিক্রি করে দেশটি এক বিলিয়ন ডলার আয় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। -খবর দক্ষিণ এশিয়াimage_88843_0

বিশ্বকাপ জ্বর এমন একটি শিল্পের জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছে যা গত দুই বছরে ক্রমাগতভাবে বিপর্যয়ের কারণে রুগ্ন হয়ে পড়েছিল এবং দেশটির সর্ববৃহৎ রফতানি আয় উপার্জনের মাধ্যমকে এবং সার্বিকভাবে দেশটির অর্থনীতিকে ধ্বংসের হুমকির সম্মুখীন করেছিল।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের সংগঠন (বিকেএমইএ)-এর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, “প্রথমত, এটা ছিল ২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং তারপর পরের বছর রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনা। এই দুই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের শিল্পকে প্রায় ধ্বংসের প্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল এবং এক আসন্ন বিপদের অনুভূতি আমাদেরকে গ্রাস করেছিল। কিন্তু বিশ্বকাপ আমাদের জন্য সৌভাগ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে কারণ আমরা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে নতুন ক্রয় আদেশ পেয়েছি, যা এই পুরো শিল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য পুরো তৈরি পোশাক শিল্পকে শক্তিশালী করেছে, যে খাত থেকে ২২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি উপার্জিত হয়ে থাকে – যা বাংলাদেশের মোট রফতানি আয়ের ৮০% এরও বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এ. কে. মনোয়ার উদ্দীন আহমেদ বলেন, “এটা আসলেই সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে গতি এনেছে এবং এটা মূলত বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট আয়ের কারণেই।”

এই শিল্পের নেতারা স্বীকার করেছেন যে, খেলার সময় লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো বা নেইমারেরর মতো বড় বড় তারকারা যে সব জার্সি পরে থাকে সেরকম আসল জার্সিগুলোর দাম অনেক বেশি, কিন্তু বাংলাদেশি রেপ্লিকা জার্সিগুলোর দাম কম ও মান বেশ ভালো।

বিকেএমইএ-এর সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “ক্রীড়ামোদি ব্যক্তি হয়তো জানতে পারছেন না যে তার পরনে থাকা এই জার্সি কোন দেশে তৈরি হয়েছে। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা কোড নম্বর দেখে সহজেই এর উৎস শনাক্ত করতে পারেন, আর এভাবেই তারা বুঝতে পারেন যে এটি বাংলাদেশ থেকে এসেছে।”

তিনি বলেছেন যে, এই বছর তাদের রফতানি ১৬% এরও বেশি বেড়েছে, যা মূলত বিশ্বকাপ জ্বরের কারণে তৈরি হওয়া চাহিদার কারণেই।

তিনি বলেন, “আমরা এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাইনি, কিন্তু বিশ্বকাপ থেকে বিভিন্ন কারখানা যে পরিমাণ ক্রয় আদেশ পেয়েছে তা বিশ্লেষণ করে আমরা নিরাপদে হিসাব করতে পারি যে এই বাণিজ্য এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।”

তিনি আরো বলেন, সময়ের ও কারখানাগুলোর উৎপাদনশীলতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই পরিমাণ আরো বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

বিশ্বকাপ উন্মাদনার অংশ হতে পেরে কারখানার শ্রমিকরাও প্রবল উৎসাহ পেয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের একজন কারখানা কর্মী শেখ মোহাম্মদ জিন্নাহ বলেন, “আমরা আরো বেশি কাজ করতে পারলে আরো খুশি হতাম। কিন্তু তাজরীন ও রানা প্লাজার বিপর্যয়ের কারণে সৃষ্টি হওয়া নেতিবাচক প্রভাবের ফলে বেশ কিছুটা ভোগান্তি সহ্য করার পর বিশ্বকাপ আমাদের কারখানার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ব্যবসা নিয়ে আসায় আমরা আনন্দিত। সূত্র: খবর দক্ষিণ এশিয়া

ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা জয়ে দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে যে বিরোধ রয়েছে তা নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক আদালতে রায় অপেক্ষমাণ। এই রায়ে বাংলাদেশ যেন জিততে পারে সে ব্যাপারে দেশবাসীর দোয়া কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।image_88837_0

বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০১৪’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ দোয়া কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মায়ানমারের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। ভারতের সঙ্গেও রায় অপেক্ষমাণ রয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই রায় দেয়া হবে। দোয়া করবেন রায়টি যেন আমাদের পক্ষে আসে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ অঞ্চল। মাছের চাষ বৃদ্ধিতে আমরা ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছি। এজন্য গবেষণাও হচ্ছে।

খাদ্যের মতো মৎস্য উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  আমাদের মোট মৎস্য চাহিদার ৩৫ ভাগ পূরণ হয় প্রাকৃতিক ভাবে। বাকি চাহিদা পূরণে কৃত্রিমভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে হয়। বিশাল পানিরাশিকে ব্যবহার করে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে হবে। খাদ্য উৎপাদনে আমরা মুটোমুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, আমিষ উৎপাদনেও বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রাণিজ আমিষের ৬০ ভাগ জোগান দেয় মৎস্য।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জেলেদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। মৎস্য হ্যাচারি আইন, এ খাতে ক্ষুদ্র ঋণ, চিংড়ি উৎপাদনে বিভিন্ন নীতিমালা নির্ধারণে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

পানির নাব্য বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীতে মাছ চাষের হার বৃদ্ধি হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যমুনায় ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু হচ্ছে। পশুর নদী ও সুন্দরবনের ভেতরে খাল ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। নদী শাসন করে পানি বৃদ্ধি করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে।

প্রথমবার টিভি টকশোতে সাকিব-শিশির দম্পতি

প্রথমবারের মতো কোনো টিভি অনুষ্ঠানে দেখা যাবে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান ও তার স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশিরকে। ঈদে মাছরাঙা  টেলিভিশনের বিশেষ অনুষ্ঠান স্টার নাইট-এ অতিথি হয়েছেন তারা দু’জন।image_88826_0

কবির বকুলের পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন নওশীন নাহরীন মৌ।

অনুষ্ঠানে নিজেদের ভালোলাগা-ভালোবাসা, বিয়ে এবং দাম্পত্য জীবনের অনেক অজানা তথ্য ও ঘটনার কথা বলেছেন আলোচিত এই দম্পতি। সেই সঙ্গে উঠে এসেছে সাকিবের ক্যারিয়ারের সোনালি মুহূর্তের চিত্র, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও শিক্ষকের কথা।

অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন অজয় পোদ্দার।

সুদানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন

উত্তর সুদানের একটি টেক্সটাইল কারখানায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে প্রায় একশ’ বাংলাদেশি শ্রমিক। তুচ্ছ কারণেও তাদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্যাতন। তাদের অনেকেই এখন উপায় খুঁজছে দেশে ফেরার। সুদানের সঙ্গে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি চুক্তি না থাকলেও এই শ্রমিকদের সেখানে পাঠিয়েছে জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান- আল পূর্বাসা এন্টারপ্রাইজ। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন।image_88817_0.png

গৃহযুদ্ধের ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি আফ্রিকার দেশ সুদান। জাতিসংঘের সহায়তায় সেখানে শান্তি রক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম চললেও উত্তর সুদানের অর্থনৈতিক অবস্থা এখনো তলানিতে। এ অবস্থায় সেমটেক্স নামক একটি টেক্সটাইল কারখানায় মাসে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা বেতনের প্রলোভনে ছয় মাস আগে কাজে যোগ দেয় ৮৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক। এখন নিদারুন কষ্টে আছেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সেমটেক্স কারখানায় ৯৫ জন শ্রমিক পাঠানোর চাহিদাপত্র সংগ্রহ করে ঢাকার মৌচাকের আল পূর্বাসা এন্টারপ্রাইজ। জনপ্রতি অন্তত দুই লাখ টাকা করে নিয়ে এ পর্যন্ত ৮৬ জনকে পাঠিয়েছে পূর্বাসা।

এ ব্যবসার মধ্যস্বত্বভোগী মিরপুরের এসএম আজাদ ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে কৌশলে এড়িয়ে গেলেও মোবাইল ফোনে স্বীকার করলেন তাদের পাঠানো শ্রমিকরা ভালো নেই।

এদিকে, আগে পাঠানো শ্রমিকদের দুর্দশার মধ্যেই সুর মিলিটারি ক্লোথিং ফ্যাক্টরি নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের চাহিদাপত্র এনে আরো ৯৫ জন শ্রমিককে পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে আল পূর্বাসা।

ভারতে দিনে ৯৩ নারী ধর্ষণের শিকার হন

ভারতে প্রতিদিন ৯৩ নারী ধর্ষণের শিকার হন। দেশটির জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।image_88801_0

 টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে  মঙ্গলবার এ কথা জানানো হয়েছে।
এনসিআরবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে ২৪ হাজার ৯২৩ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৩ হাজার ৭০৭।
নয়া দিল্লিতে চলন্ত বাসে মেডিকেলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ভারতবাসী। নারীর নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আলোচনায় আসে। এর মধ্যেও রাজধানী নয়া দিল্লিতে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। ২০১২ সালে এখানে ৫৮৫ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৪১। দিল্লির পর ধর্ষণের ঘটনার দিক দিয়ে আলোচিত মুম্বাই (৩৯১), জয়পুর (১৯২) ও পুনে (১৭১)।
২০১৩ সালে ভারতের সব রাজ্যের মধ্যে মধ্যপ্রদেশে রেকর্ড সংখ্যক চার হাজার ৩৩৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। -ওয়েবসাইট।

ফ্রান্সে নিকাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল

ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত নিকাব পরার ব্যাপারে ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে মঙ্গলবার এক রায় দিয়েছে।image_88778_0

ফ্রান্সে এই নিষেধাজ্ঞা ধর্মাচরণ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে ২৪ বছরের এক ফরাসি তরুণী ইউরোপীয় আদালতে মামলা করেছিলেন।

ফ্রান্স চার বছর আগে প্রকাশ্য স্থানে নিকাব পরা নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করে।

পশ্চিম ইউরোপের মধ্যে ফ্রান্সে মুসলমানদের সংখ্যা সবেচেয়ে বেশি। সেদেশের মোট জনসংখ্যার আট শতাংশের মতো মুসলিম, যাদের অধিকাংশই উত্তর আফ্রিকার সাবেক ফরাসি উপনিবেশ থেকে আসা।

ফলে চার বছর আগে ফ্রান্সের সাবেক কনজারভেটিভ সরকার যখন বাড়ির বাইরে প্রকাশ্য স্থানে নিকাব অর্থাৎ পুরোপুরি মুখ ঢাকা পোশাক আইন করে নিষিদ্ধ করে, তখন মুসলিম সমাজে বেশ হইচই শুরু হয়।  ফ্রান্সের মুসলিম সমাজ বিতর্কিত ওই আইনের পক্ষে বিপক্ষে ভাগ হয়ে যায়।

আদালত বলেছে, ফরাসি এই আইনে ধর্মকে টার্গেট করা হয়নি, বরঞ্চ পোশাক দিয়ে মুখ ঢাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে।

ফ্রান্সের ওই আইনে নিকাব পরে বাইরে বেরুলে ১৫০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এবং আইন ভঙ্গের জন্য অনেক মহিলাকে জরিমানাও করা হয়েছে।

এরপর গত বছর একজন ফরাসি এক মুসলিম মহিলা এই আইনের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের শরণাপন্ন হন।

তিনি সেখানে যুক্তি দেন এই আইন তার ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করেছে। তাকে কেউ জোর করে নিকাব পরান নি। এটা একবারেই তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কিন্তু ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত তার এই যুক্তি গ্রহণ করেনি।

আদালত তার রুলিংয়ে বলেছে, ফরাসি এই আইনে ধর্মকে টার্গেট করা হয়নি, বরঞ্চ পোশাক দিয়ে মুখ ঢাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে।

এই মামলায় ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেয়া হয়, মানুষের মুখ, মুখের ভঙ্গী সামাজিক সম্পর্কে এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে।

ইউরোপীয় আদালত সরকারের এই যুক্তির সাথে একমত হয়েছে।

ফ্রান্সে এই নিকাব নিষিদ্ধ করে আইন পাসের পর, প্রতিবেশী দেশ বেলজিয়ামও এই একই ধরনের আইন পাশ করেছে।– বিবিসি।