সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

‘লোকটা আমাকে খারাপ কিছু দেখাচ্ছে’, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন অদিতি

অভিনয় জগতে সাহসী ও শক্তিশালী নারীর চরিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অভিনেত্রী অদিতি পোহনকার। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘শি’ এবং ‘আশ্রম’ সিরিজে তাঁর অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে দর্শক-সমালোচক উভয়ের কাছ থেকে। তবে পর্দার এই সাহসী নারীর জীবন বাস্তবেও কম চ্যালেঞ্জিং নয়। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অদিতি নিজের জীবনের দুটি ভয়ংকর যৌন হেনস্থার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যেগুলো তিনি সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।

অদিতি জানান, প্রথম ঘটনা ঘটে তাঁর শৈশবে, যখন তিনি মাত্র পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন। মুম্বাইয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট বাস ব্যবহার করতেন তিনি। কিন্তু এক সময় থেকে তাঁকে সাধারণ গণপরিবহন ব্যবহার করে স্কুলে যেতে বলা হয়। একদিন বাসে ওঠার পর তাঁর মায়ের এক ছাত্র, যাকে তিনি ‘দাদা’ বলে ডাকতেন, বিকৃত মনোভাব নিয়ে আচরণ করে। অদিতি বলেন, “সে নিজের ব্যাগ সরিয়ে এমনভাবে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল যেন আমাকে ওর গোপনাঙ্গ দেখতে বাধ্য করে। প্রথমে আমি হাসলেও পরে বুঝতে পারি ওর উদ্দেশ্য ঠিক নয়। সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করি—এই লোকটা আমাকে খারাপ কিছু দেখাচ্ছে। ও এতটাই চমকে গিয়েছিল যে, প্যান্টের চেন আটকাতে না পেরে চলন্ত বাস থেকেই লাফ দেয়।” বাড়ি ফিরে ঘটনাটি জানালে, তাঁর মা এই সাহসিকতার জন্য তাকে পিঠ চাপড়ে উৎসাহ দেন।

দ্বিতীয় অভিজ্ঞতাটি ঘটে মুম্বাইয়ের লোকাল ট্রেনে, যখন তিনি একাদশ শ্রেণিতে পড়ছিলেন। ট্রেনের মহিলা কামরায় স্কুল ইউনিফর্মে থাকা ১৮ বছরের কম বয়সী ছেলেরা উঠতে পারত। একদিন এক ছেলে ওই কামরায় উঠে ট্রেন ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই অদিতির গায়ে হাত দেয়। তিনি বলেন, “স্টেশন থেকে ট্রেন ছেড়েই ছেলেটা আমার স্তন আঁকড়ে ধরেছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গে পরের স্টেশনে নেমে গিয়ে পুলিশকে জানাই।” পুলিশ ছেলেটিকে চিহ্নিত করতে বললে তিনি তৎক্ষণাৎ শনাক্ত করেন এবং ঘটনাটি বিস্তারিত বর্ণনা করেন। প্রথমে ছেলেটি অস্বীকার করলেও পরে পুলিশের চাপ এবং অদিতির দৃঢ়তায় নিজের দোষ স্বীকার করে নেয়।

এই দুটি অভিজ্ঞতা অদিতির জীবনে যেমন গভীর প্রভাব ফেলেছে, তেমনি তাঁকে করে তুলেছে আরও শক্তিশালী, আরও সচেতন। পর্দায় যে দৃঢ়চেতা নারী চরিত্রে তিনি অভিনয় করেন, বাস্তবেও সেই সাহস তাঁর প্রতিটি অভিজ্ঞতায় প্রতিফলিত হয়।

বর্তমানে ওয়েব সিরিজে অদিতি পোহনকার এক পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য নাম। বিশেষ করে ‘আশ্রম’ সিরিজে তাঁর চরিত্র ও অভিনয় তাঁকে অভিনয়জগতে একটি শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছে। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, একজন নারীর আত্মরক্ষা ও প্রতিবাদের শক্ত কণ্ঠস্বর হিসেবেও তিনি হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণা। অদিতির অভিজ্ঞতা এটাই প্রমাণ করে—প্রতিবাদ কখনোই দুর্বলতা নয়, বরং তা পারে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বড় শক্তি হয়ে উঠতে।

সীমান্তে মৃত্যু থেমে নেই: পাঁচ বছরে বিএসএফের গুলিতে নিহত ১৫১ বাংলাদেশি

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনা থামছে না। গত পাঁচ বছরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে অন্তত ১৫১ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশের প্রখ্যাত মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। এই নিহতদের মধ্যে রংপুর বিভাগেই প্রাণ হারিয়েছেন ৬১ জন।

সংস্থাটির তথ্য অনুসারে, রংপুর বিভাগের ছয়টি জেলার মধ্যে লালমনিরহাটে প্রাণহানির ঘটনা সবচেয়ে বেশি। শুধুমাত্র এই জেলাতেই ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিএসএফের গুলিতে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ প্রাণঘাতী ঘটনার শিকার হয়েছেন হাসিবুল ইসলাম নামের এক যুবক, যিনি গত ১৭ এপ্রিল সিংগীমারী সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতীয় অংশে বিএসএফ সদস্যদের হাতে ধরা পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।

হাসিবুলের মা জানিয়েছেন, “ওদের রাইফেলের মাথা দিয়ে বুক খুঁচিয়ে ছেলেকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। তারপর আটার বস্তার মতো গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে।”

এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দেশে প্রতিবাদ চলছে। ২০১১ সালে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যাকাণ্ডের পর সীমান্ত হত্যা নিয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। কিন্তু ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবার যেমন বিচার পায়নি, তেমনি সীমান্তে মানুষের জীবনও নিরাপদ হয়নি।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ত্বহা হুসাইন বলেন, “দুই দেশের মধ্যে যেসব সীমান্ত চুক্তি রয়েছে, সেখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে—যদি কেউ অনুপ্রবেশ করে, তবে তাকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু প্রাণহানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় যে ধরনের মানবিকতা ও আন্তঃদেশীয় সমন্বয়ের প্রয়োজন, তার অভাবই এ ধরনের ঘটনার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজিবির অবস্থান
বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর ১৫ ব্যাটালিয়নের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, “সীমান্তের জিরো লাইনের ১৫০ গজের মধ্যে কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারে এবং আমাদের নাগরিকরাও যাতে তা অতিক্রম না করেন, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে উত্তেজনা বা ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত পতাকা বৈঠক হয় এবং আমরা প্রতিটি ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।”

মানবিক ও কূটনৈতিক সমাধানের তাগিদ
বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, সীমান্ত এলাকায় মানবাধিকার রক্ষায় কেবল প্রতিরক্ষা নয়, প্রয়োজন কূটনৈতিক সদিচ্ছা ও যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনার প্রতি দায়বদ্ধতা। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় দেশকে আরও স্বচ্ছ ও মানবিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রতিনিয়ত এই সহিংসতার শিকার হচ্ছেন নিরীহ গ্রামবাসী, যাদের জীবন জীবিকা সীমান্তের কাছাকাছি। একটি নিরাপদ ও মানবিক সীমান্ত নীতি সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে বিরাট সাইবার অপরাধের আশঙ্কা : জাতিসংঘ

সাইবার অপরাধের একটি সুসংগঠিত ও বিপজ্জনক নেটওয়ার্ক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ছড়িয়ে পড়ছে আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকায়—এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির ড্রাগ এবং অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) সোমবার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানায়, কয়েক বিলিয়ন ডলারের এই অপরাধচক্র এশিয়ায় গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে পড়েছে এবং বিশ্বব্যাপী তাদের জাল বিস্তার করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে সাইবার স্ক্যাম পরিচালনা করছে। চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক গ্যাং জড়িত এই চক্রে। বিশেষ করে মায়ানমার, লাওস, থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। সেখানকার অস্থিতিশীলতা ও সীমান্তবর্তী এলাকায় চলমান সহিংসতা অপরাধীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি, প্রেমের প্রতারণা এবং সামাজিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে হাজারো মানুষকে তারা ফাঁদে ফেলছে। প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ব্যক্তিদের অর্থ আত্মসাৎ করছে এই চক্র, যার শিকার হচ্ছেন বিশ্বের নানা প্রান্তের সাধারণ মানুষ।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই চক্রে যুক্ত হচ্ছে বিপুল সংখ্যক পাচার হওয়া ব্যক্তি, যাদের জোরপূর্বক সাইবার অপরাধে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। মায়ানমারের সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার পাচার হওয়া মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই অন্তত ৫০টি দেশের নাগরিক। এদের বড় একটি অংশ প্রতারণার জন্য নির্ধারিত কন্ট্যাক্ট সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছিল।

জাতিসংঘের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি বেনেডিক্ট হফম্যান বলেন, “এই অপরাধ এখন ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়ছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে। অনেক সময় অভিযানে কিছু অপরাধী ধরা পড়লেও, নতুন গ্যাং দ্রুতই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।”

২০২৩ সালেই বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুধু আমেরিকাতেই এই ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৫৬ বিলিয়ন ডলার।

জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এই সমস্যা মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। অপরাধচক্রগুলো যেভাবে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে, সেভাবেই তাদের প্রতিরোধে প্রয়োজন আন্তঃদেশীয় সমন্বিত উদ্যোগ।

চীনের বেইজিং কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি মায়ানমারে বড় আকারের একটি অভিযান পরিচালনা করে। এতে বেশ কয়েকটি গ্যাংয়ের সদরদপ্তর চিহ্নিত করে রেইড চালানো হয় এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মীকে আটক করা হয়। একইভাবে কম্বোডিয়ায়ও একাধিক সাইবার অপরাধ সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি দ্রুত ও সমন্বিতভাবে এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে এটি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ফের গাজার মানুষের পাশে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

হলিউডের খ্যাতনামা অভিনেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি আবারও গাজার মানবিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স’ প্রকাশিত একটি রিপোর্ট শেয়ার করে তিনি ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (UNHCR)-এর শুভেচ্ছা দূত এবং পরবর্তীতে বিশেষ দূত হিসেবে দুই দশকের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করা জোলি তাঁর শেয়ার করা পোস্টে গাজার পরিস্থিতিকে আখ্যা দিয়েছেন “ফিলিস্তিনিদের ও তাদের সাহায্যকারীদের জন্য একটি গণকবর” হিসেবে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রপথে চলমান সামরিক অভিযানের ফলে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে, যার ফলে এক বিশাল জনগোষ্ঠী চরম দারিদ্র্য ও অনিরাপত্তার মধ্যে দিন পার করছে। পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলের হামলা শুধুমাত্র বেসামরিক জনগণের ওপর নয়, তা সরাসরি মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও হুমকি তৈরি করেছে।

জোলির অবস্থান সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা যেমন পেয়েছে, তেমনি ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে, এই সমালোচনায় বিচলিত নন অভিনেত্রী। বরং, মানবাধিকার ও শরণার্থী সংকটের বিরুদ্ধে তাঁর দীর্ঘদিনের অবস্থানকে তিনি আরও জোরালো করেছেন সাম্প্রতিক এই বার্তায়।

২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতেও জোলি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, “একটি অবরুদ্ধ জনগোষ্ঠীর ওপর এই ধরণের অব্যাহত হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে।”

গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে এ পর্যন্ত ৫১,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশই নারী ও শিশু।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো একজন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বের এই অবস্থান বিশ্বজনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তিনি আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা অবিলম্বে গাজায় সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

শাহরুখের পর এবার বাড়ি ছাড়লেন আমির, নিরাপত্তাহীনতায় কাঁপছে মুম্বাই?

বলিউড তারকাদের মধ্যে বাড়ি বদলের ধারা যেন শুরু হয়েছে। শাহরুখ খানের পর এবার সেই তালিকায় নাম লেখাতে চলেছেন অভিনেতা আমির খান। জানা গেছে, তিনি বান্দ্রার নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে আপাতত অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

যদিও শাহরুখ খান ‘মান্নাত’-এর সংস্কারের কাজের জন্য অস্থায়ীভাবে ভাড়া বাড়িতে উঠেছেন বলে জানিয়েছেন, অনেকেই মনে করেন সম্প্রতি সাইফ আলি খানের বাড়িতে হামলার ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাজনিত দিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। একইভাবে আমির খানের বাড়ি বদলের কারণ ঘিরেও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

তবে আমির খানের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্ন। তিনি যে ভবনে বাস করতেন, সেখানে একটি জনপ্রিয় রিয়েল এস্টেট কোম্পানি নতুন একটি বিলাসবহুল আবাসন গড়তে যাচ্ছে। ‘ভার্গো কো-অপারেটিভ হাউসিং সোসাইটি’র অধীনে পরিচালিত এই প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন এই আবাসনের প্রতিটি ফ্ল্যাট হবে সমুদ্রবক্ষে মুখোমুখি, বারান্দা থেকে পাওয়া যাবে আরব সাগরের অপূর্ব দৃশ্য।

সূত্রের দাবি, এই রিয়েল এস্টেট কোম্পানির একাধিক প্রকল্পে ইতোমধ্যেই ফ্ল্যাট রয়েছে আমির খানের নামে। ফলে অভিনেতা তার নিজের যেকোনো একটি ফ্ল্যাটেই অস্থায়ীভাবে থাকতে পারেন। যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি পুরোনো আবাসন ছেড়ে কোথায় উঠছেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।

রিয়েল এস্টেট কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবাসনের বর্তমান বাসিন্দাদের জন্য অস্থায়ী ঠিকানার ব্যবস্থা তারা করে দিচ্ছে। আমির খানের মতো তারকার জন্য এটি খুব বেশি জটিল কিছু নয়, কারণ একই এলাকায় তার অন্য ফ্ল্যাটও রয়েছে।

প্রসঙ্গত, নতুন গড়ে ওঠা আবাসনের প্রতিটি স্কয়ার ফিটের দাম হতে পারে এক লাখ টাকা, যা এই প্রকল্পকে বান্দ্রার অন্যতম বিলাসবহুল নির্মাণে পরিণত করবে। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকশো কোটির এই প্রকল্প আগামী বছরের মধ্যেই সম্পন্ন হবে এবং আমির খান তখন তার পুরোনো ঠিকানায় ফিরে আসবেন।

তবে আপাতত বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ ঠিক কোথায় উঠছেন, তা জানতে ভক্তদের অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।

হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে অর্থ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করেছে। প্রশাসনের প্রস্তাবিত বিলিয়ন ডলারের তহবিল কাটছাঁট ঠেকাতে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, মামলাটি হার্ভার্ড ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যকার সাম্প্রতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষিতে এসেছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত কিছু দাবিতে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ প্রত্যাখ্যান করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রশাসনের দাবি ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৈচিত্র্যবিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগ সীমিত করা এবং ইহুদি-বিরোধিতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার। তবে হার্ভার্ড স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, তারা আইন মেনেই চলবে এবং তাদের একাডেমিক স্বাধীনতা বা সাংবিধানিক অধিকার থেকে একচুলও সরবে না।

এর আগে, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল তহবিল স্থগিত করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের করমুক্ত সুবিধা বাতিলের হুমকি দেন। হার্ভার্ডের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট অ্যালান এম. গারবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটিকে দেওয়া এক চিঠিতে বলেন, “সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের ফল ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, তহবিল বন্ধের কারণে শিশু ক্যান্সার, আলঝেইমার ও পারকিনসন্স রোগ নিয়ে চলমান গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ব্যাহত হচ্ছে।

মামলায় হার্ভার্ড যুক্তি দেয়, “এটি এমন এক ঘটনা, যেখানে সরকার অর্থসহায়তা বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে চায়।” একই সঙ্গে তারা জানায়, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রেও প্রশাসনের চাপ বাড়ছে।

অ্যালান গারবার, যিনি নিজেও একজন ইহুদি, স্বীকার করেন যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিরোধিতার সমস্যা রয়েছে। তিনি জানান, সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় দুটি পৃথক টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে, যারা ইহুদি ও মুসলিম-বিরোধিতা নিয়ে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট টাস্ক ফোর্সগুলোর প্রতিবেদন শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

হার্ভার্ড একা নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের এমন পদক্ষেপের শিকার হয়েছে আরও কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়। করনেল ইউনিভার্সিটির ১ বিলিয়ন ডলার এবং ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ৫১০ মিলিয়ন ডলার ফেডারেল তহবিলও স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়— যেখানে গত বছর ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ হয়েছিল—প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার তহবিল রক্ষায় প্রশাসনের কিছু শর্ত মেনে নেয়।

এ বিষয়ে এখনো হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।

সুন্দরবনের আশেপাশে নতুন শিল্প স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা

সুন্দরবনের পরিবেশগত সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার সীমানার মধ্যে নতুন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প স্থাপন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় শিগগিরই এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন কমিটির নির্বাহী কমিটির ১৬তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

সভায় ২০১৭ সালের জাতীয় পরিবেশ কমিটির ৩.৪.৪ নম্বর সিদ্ধান্ত এবং ২০২১ সালের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত সংশোধন করে নতুন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন থেকে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার ইসিএ এলাকার মধ্যে আগে থেকেই স্থাপিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের নির্দেশনার আলোকে গৃহীত হবে।

সভায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট বিধিমালা সংশোধন করে সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিওগুলোকে যৌথভাবে প্রকল্প প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। শব্দদূষণ প্রতিরোধে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে সব মন্ত্রণালয় থেকে মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এনফোর্সমেন্ট বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ এবং বন অধিদপ্তরের কর্মচারীদের ঝুঁকিভাতা চালু ও বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়। এছাড়া, ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি সব ভবন নির্মাণে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যে সচিব পর্যায়ে একটি সমন্বয় সভা মে মাসে অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীরপ্রতীক, কৃষি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং দপ্তরের প্রতিনিধি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় গত সভার সিদ্ধান্ত এবং নতুন কার্যপত্র উপস্থাপন করেন কমিটির সদস্য সচিব ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) ড. ফাহমিদা খানম।

রকারের আশ্বাসে ডিম-মুরগির উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার

ডিম ও মুরগির বাজারে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা এবং প্রান্তিক খামারিদের আর্থিক ক্ষতির প্রেক্ষাপটে আগামী ১ মে থেকে ঘোষিত পোল্ট্রি খামারিদের দেশব্যাপী উৎপাদন বন্ধের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। গত রোববার (২০ এপ্রিল) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে সমস্যার সমাধানে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার জানান, সরকারের ইতিবাচক মনোভাব ও প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান জানিয়ে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তবে, সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বৈঠকে প্রান্তিক খামারিদের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছিল পোল্ট্রি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন রেগুলেটরি অথরিটি গঠন এবং সিন্ডিকেট ভেঙে বাজার স্থিতিশীল করার প্রস্তাবনা।

সুমন হাওলাদার আরও জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা খামারিদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং বাস্তবায়নে আন্তরিকতার আশ্বাস দিয়েছেন। বিশেষ করে ফিড ও মুরগির বাচ্চার দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল বিপিএ জানিয়েছিল, রমজান ও ঈদের মৌসুমে প্রায় ১,২৬০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েও সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে খামারিরা ১ মে থেকে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে তারা ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন:

১০ দফা দাবি:

১. জাতীয় মূল্য নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠন
২. সরকারিভাবে ফিড মিল ও হ্যাচারি স্থাপন
৩. কোম্পানির কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও উৎপাদন নিষিদ্ধ
৪. স্বাধীন বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন
৫. ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের পুনর্বাসন
৬. খামারিদের রেজিস্ট্রেশন ও আইডি কার্ড প্রদান
৭. জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন বোর্ড গঠন
৮. সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ
৯. প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে ন্যায্য বাজার নিশ্চিত
১০. জাতীয় বাজেটে প্রান্তিক খামারিদের বরাদ্দ ও সহায়তা নিশ্চিত

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও হৃদরোগে মারা গেছেন পোপ, চলে গিয়েছিলেন কোমায়

বিশ্বের ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মের সর্বোচ্চ নেতা পোপ ফ্রান্সিস আর নেই। সোমবার (২১ এপ্রিল) ৮৮ বছর বয়সে তিনি ভ্যাটিকানের কাসা সান্তা মার্তা বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ভ্যাটিকান সূত্রে জানা গেছে, তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (সেরিব্রাল স্ট্রোক) এবং হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি কোমায় চলে যান বলে তার মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিসি ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, পোপ ফ্রান্সিস স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে মারা যান। ভ্যাটিকানের চিকিৎসক আন্দ্রেয়া আর্কাঞ্জেলি মৃত্যুসনদে তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করেন।

মৃত্যুর আগের দিনই পোপ তার শেষ বড় ধরনের প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ইস্টার উপলক্ষে সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে উপস্থিত হাজারো অনুসারীর উদ্দেশ্যে তিনি একটি বার্তা দেন, যা একজন সহকারী পড়ে শোনান।

পোপ ফ্রান্সিস তার ১২ বছরের দায়িত্বকালে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ডাবল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে রোমের জেমেলি ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ৩৮ দিন ভর্তি ছিলেন।

তার মৃত্যুসনদে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি উচ্চ রক্তচাপ, বহুস্থানে ব্রঙ্কিয়েকটাসিস (ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা) এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন, যা আগে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

পোপের মৃত্যুর পর ভ্যাটিকান তার আধ্যাত্মিক উইল প্রকাশ করেছে। সেখানে তিনি অনুরোধ করেছেন, যেন তাকে রোমের সেন্ট মেরি মেজর গির্জায় কবর দেওয়া হয়, যেখানে অতীতের অনেক পোপকে দাফন করা হয়নি। উইলে তিনি লেখেন, “আমি চাই মাটির নিচে, বিনা অলঙ্কারে একটি সাধারণ সমাধি হোক, শুধু ল্যাটিন ভাষায় ‘ফ্রান্সিসকাস’ (ফ্রান্সিস) নামের শিলালিপিসহ।”

এই উইলটি তিনি ২০২২ সালের ২৯ জুন লিখেছিলেন। পোপ আরও লেখেন, “আমি যখন আমার পৃথিবীর জীবনের শেষ সময় ঘনিয়ে আসা অনুভব করছি, তখন আমি শুধুমাত্র আমার সমাধির স্থান সংক্রান্ত ইচ্ছাগুলো ব্যক্ত করছি। যারা আমাকে ভালোবেসেছেন এবং আজও আমার জন্য প্রার্থনা করছেন, তাদের জন্য প্রভু যেন উপযুক্ত প্রতিদান দেন।”

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৩৯ ফিলিস্তিনি

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৩৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬২ জন। সোমবার (২১ এপ্রিল) তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু ও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানায়।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫১ হাজার ২৫০ জনে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৩১ জনের বেশি মানুষ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানেই প্রাণ গেছে ১,৮৬৪ জন ফিলিস্তিনির। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৪,৯০০ জন। ধ্বংসস্তূপ ও রাস্তায় এখনও বহু মরদেহ আটকে থাকলেও উদ্ধারকারীরা নিরাপত্তার অভাবে সেখানে পৌঁছাতে পারছেন না।

ইসরায়েল জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক চাপে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও মার্চের মাঝামাঝি ফের বিমান হামলা শুরু করে। হামাসের সঙ্গে সেনা প্রত্যাহার ইস্যুতে মতানৈক্যের পরই এই নতুন দফার আক্রমণ শুরু হয়।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই যুদ্ধের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ৬০ শতাংশ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলাও চলছে।