মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রাকেশ রোশান, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন

বলিউডের প্রখ্যাত পরিচালক ও অভিনেতা রাকেশ রোশান সম্প্রতি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৬ জুলাই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী প্রধান ধমনীগুলোর একাধিকটিতে গুরুতর ব্লকেজ ছিল, যা তার স্বাস্থ্যের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

প্রাথমিক অবস্থায় তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা হলেও চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হলে তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ এবং হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।

রাকেশ রোশানের মেয়ে সুনয়না রোশান জানান, তার বাবার ঘাড়ে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানান, মস্তিষ্কে প্রায় ৭৫ শতাংশ রক্তপ্রবাহে বাধা ছিল, যা উপেক্ষা করলে মারাত্মক ফল হতে পারত।

রাকেশ রোশান নিজেই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট দিয়ে জানান, “কোনো উপসর্গ ছিল না। হঠাৎ করেই জানতে পারলাম আমার ক্যারোটিড ধমনী দুটিতে রক্ত ঠিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে না। প্রায় ৭৫ শতাংশ ব্লক ছিল।” তিনি আরও জানান, সময়মতো হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ায় তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ।

এ ঘটনায় বলিউড সুপারস্টার ও রাকেশ রোশানের ছেলে হৃতিক রোশান হাসপাতালে ছুটে যান বাবাকে দেখতে। ৭৫ বছর বয়সী রাকেশ রোশান তার কঠোর নিয়ম মেনে চলা জীবনধারা এবং প্রতিদিনের ব্যায়ামচর্চার জন্য সুপরিচিত। তাই এত নিয়মানুবর্তী জীবনযাপন করেও হঠাৎ এমন শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় তার পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখন তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

ওবামার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ তুললেন ট্রাম্প, গ্রেপ্তারের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলেছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে আমেরিকান জনগণকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়েছে ওবামা প্রশাসন। সেইসঙ্গে ওবামাকে গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার, হোয়াইট হাউসে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট “বংবং” মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে এক বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, “এই ষড়যন্ত্রচক্রের প্রধান ছিলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা, বারাক হুসেইন ওবামা। তিনি অপরাধী। এটা রাষ্ট্রদ্রোহ। ওরা নির্বাচন চুরি করতে চেয়েছিল, ধোঁকা দিতে চেয়েছিল, এমন কাজ করেছে যা অন্য দেশেও কল্পনা করা যায় না।”

ট্রাম্প এর আগেও ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আলোচনায় এসেছেন, তবে এবার তিনি ২০১৬ সালের নির্বাচন ঘিরে তার বিরুদ্ধে চলা তদন্তকে “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যা নিয়ে তদন্ত করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সে সময় সিআইএ জানায়, রাশিয়া ট্রাম্পকে জেতাতে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছিল। ওবামা তখন রাশিয়ার কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেন এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ২০১৭ সালে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ প্রতিবেদনে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

তবে ২০১৯ সালে রবার্ট মুলারের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে ট্রাম্পের প্রচার শিবির ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগসাজশের পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যদিও রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এ বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদন্ত ছিল তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা। “ওরা নির্বাচন কারচুপি করতে চেয়েছিল। ওরা হাতেনাতে ধরা পড়েছে,” বলেন তিনি। “এজন্য তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।”

এদিকে ট্রাম্পের এই অভিযোগকে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড। তিনি এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ওবামা এবং তার উপদেষ্টারা গোয়েন্দা তথ্য বিকৃত করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তার ভাষায়, এই প্রচেষ্টা ছিল “জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে একধরনের ক্যু।”

তবে গ্যাবার্ডের দাবি নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে বিভক্তি দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, তিনি ভিন্নমত ও বিকল্প তথ্য উপস্থাপনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একপাক্ষিকভাবে সাজিয়েছেন।

এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাজায় গণহত্যা নিয়ে যারা নীরব থাকবে তারাই এর সাথে জড়িত: এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে যে গণহত্যা চলছে, তা নিয়ে নীরব থাকা মানেই সেই অপরাধে অংশগ্রহণ করা। মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা শিল্প মেলা (IDEF 2025)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এরদোয়ান বলেন, “গাজায় যে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চলছে, তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। আর এই নৃশংসতা নিয়ে যারা নীরব থাকছে, তারাও এই অপরাধের শরিক।”

উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের অগ্রগতি ও স্বনির্ভরতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এই মেলা কেবল প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়, এটি একটি জাতির স্বাধীনতার পথে এগিয়ে চলার প্রমাণ। আজ তুরস্ক নিজস্ব প্রযুক্তি ও সক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়ে বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের পরিচিত করছে।”

তিনি স্মরণ করেন, ১৯৬০ ও ৯০-এর দশকে তুরস্ক বারবার নিষেধাজ্ঞা, বৈষম্য ও তথাকথিত মিত্রদের উদাসীনতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। “সাইপ্রাস শান্তি অভিযানের পর আমাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। যুদ্ধবিমান মেরামতের জন্য বিদেশে পাঠালে সেগুলো আটকে রাখা হতো, মৌলিক সামরিক যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করা হয়নি,” বলেন তিনি।

এরদোয়ান অভিযোগ করেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের সঙ্গে উত্তেজনার সময় পশ্চিমা শক্তিগুলো প্রতিশ্রুতি মানেনি। “আমরা যখন নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছি, তখন তারা একের পর এক বাধা দিয়েছে। এমনকি আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের সময় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও প্রত্যাহার করে নিয়েছে,” বলেন তিনি।

এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তুরস্ক আজ নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলছে বলে জানান তিনি। “আমরা নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপে হার মানিনি, বরং সেগুলো অতিক্রম করে আজ আত্মনির্ভর হয়ে উঠেছি।”

গাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে যারা বিবেককে স্তব্ধ করে রাখে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। তুরস্ক মানবতা ও ন্যায়ের পক্ষে, বরাবরই ছিল এবং থাকবে।”

বিশেষ সম্মাননা পাচ্ছেন ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহি

ইরানের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের ‘এশিয়ান ফিল্মমেকার অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে তাঁকে। এশিয়ান সিনেমায় তাঁর গভীর প্রভাব এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেও সৃষ্টিশীল প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। পুরস্কারটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর বুসান সিনেমা সেন্টারে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

এ বছর ৩০তম বর্ষপূর্তি পালন করছে বিআই এফএফ। এবারের উৎসবে নতুন একটি প্রতিযোগিতা বিভাগ যুক্ত হচ্ছে। উৎসব চলবে ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, আর এশিয়ান কনটেন্টস অ্যান্ড ফিল্ম মার্কেট অনুষ্ঠিত হবে ২০ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর, বেক্সকো ভেন্যুতে। জাফর পানাহি সাহসী নির্মাণশৈলীর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত।

কান, ভেনিস ও বার্লিন—বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন তিন চলচ্চিত্র উৎসব থেকে তিনি সর্বোচ্চ পুরস্কার অর্জন করেছেন। এ বছর কান উৎসবে ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ সিনেমার জন্য পেয়েছেন সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণপাম, ২০০২ সালে ভেনিসে ‘দ্য সার্কেল’-এর জন্য গোল্ডেন লায়ন এবং ২০১৫ সালে বার্লিনে ‘ট্যাক্সি’র জন্য গোল্ডেন বিয়ার পুরস্কার পান।

পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পানাহি বলেন, ‘যখন আমার দেশে সিনেমা বানানো প্রতিদিনই আরো কঠিন হয়ে উঠছে, তখন এই স্বীকৃতি আমাকে মনে করিয়ে দেয় সিনেমা এখনো সীমান্ত, ভাষা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আমাদের যুক্ত করতে পারে। আমি শুধু নিজের পক্ষেই এই পুরস্কার গ্রহণ করছি না; বরং তাঁদের পক্ষেও, যারা নীরবে, নির্বাসনে কিংবা চাপে থেকেও সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।

ইতালিকে কাঁদিয়ে নাটকীয় জয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড

২০২২ সালের ইউরো ফাইনালের স্মৃতি যেন আবার ফিরে এলো। ক্লোয়ি কেলি তখন যেমন ছিলেন নায়িকা, এবারও ইংল্যান্ডকে ফাইনালে তোলার মুহূর্তে তিনিই জয়ের নায়িকা। অতিরিক্ত সময়ের ১২০তম মিনিটে নিজের নেওয়া পেনাল্টির রিবাউন্ডে গোল করে ইতিহাস গড়লেন তিনি। ইউরো ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচে ইতালিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিল ইংল্যান্ড।

শেষ মুহূর্তে আ্যগি বিবার-জোনসকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। কেলির শট রুখে দেন ইতালি গোলরক্ষক লরা জুলিয়ানি, কিন্তু রিবাউন্ডে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি ক্লোয়ি কেলি।

১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান বদলি হিসেবে নামা কিশোরী স্ট্রাইকার মিশেল আগিয়েমাং। ৯৬তম মিনিটে তার গোলে সমতায় ফেরে লায়নেসরা।
এর আগেও সুইডেনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সমতা ফেরানো গোল করেছিলেন এই কিশোরী।

ইতালির স্বপ্নভঙ্গ

বারবার গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া ইতালি ২৮ বছর পর ইউরো সেমিফাইনালে উঠে চমকে দিয়েছিল। ৩৩ মিনিটে বারবারা বোনানসিয়ার গোল তাদের স্বপ্নে রঙ ছড়ায়। সোফিয়া ক্যান্টোরের দারুণ ক্রসে ইংলিশ ডিফেন্ডার লুসি ব্রোঞ্জের ভুলে বল বোনানসিয়ার কাছে চলে যায়, যেখান থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন তিনি।

ম্যাচজুড়ে বলের দখল রাখে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধেই লরেন জেমসের দুটি প্রচেষ্টা রুখে দেন ইতালির গোলরক্ষক। তবে বিরতির পর তাকে চোটের কারণে তুলে নিতে হয়।

৮১ মিনিটে লুসি ব্রোঞ্জের হেড ক্লিয়ার করে দেয় ইতালি। ১১৭ মিনিটে আগিয়েমাংয়ের শট পোস্টে লেগে ফেরে।
আর ঠিক সেই নাটকীয়তার মধ্যেই আসে কেলির সেই ঐতিহাসিক গোল।

৮৬তম মিনিটে ইংল্যান্ড গোলরক্ষক হান্নাহ হ্যাম্পটন দারুণ ডাবল সেভ করে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে রাখেন। একটি মিকেলা ক্যাম্বিয়াগি ও অপরটি এমা সেভেরিনির শট।

ম্যাচের ৯৬তম মিনিটেও যখন বিদায় ঘণ্টা শোনার অপেক্ষায় ইংল্যান্ড, ঠিক তখনই তখনই আগিয়েমাং গোল করে দলকে এনে দেন সমতা। এরপর অতিরিক্ত সময়ের ১১৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে ক্লোই কেলির শট ঠেকান ইতালির গোলরক্ষক লরা জুলিয়ানি, তবে ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে ইংলিশ শিবিরে উল্লাসে মাতান কেলি।

এই জয়ে ইংল্যান্ড টানা তৃতীয়বার কোনো বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠল। আগামী ২৭ জুলাই ফাইনালে ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে জার্মানি-স্পেন সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের বিপক্ষে।

দেশের স্বার্থে দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন

চতুর্মুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, গণতান্ত্রিক, নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা অন্যতম। এসব সংকট উত্তরণে দ্রুতই জাতীয় নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচিত সরকারের পক্ষে এসব সংকট সমাধান সম্ভব।
নির্বাচন না হলে বা দেরি হলে যে সংকট তৈরি হবে, তা কল্পনাও করা যাবে না।

গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোর আয়োজিত ‘সংকট উত্তরণে সংসদ নির্বাচন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অর্থনীতিবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, রাজনীতি বিশ্লেষক, রাজনৈতিক নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘রাষ্ট্র ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। চতুর্মুখী সংকটে আছে।
উত্তরণে দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেওয়া দরকার। নির্বাচিত সরকার সংকট উত্তরণে কাজ করবে। নির্বাচন না হলে যে সংকট তৈরি হবে, তা ভাবতে পারছি না। এর জন্য রাজনৈতিক সমঝোতাও প্রয়োজন।
’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারকে জনগণ সাপোর্ট দিয়ে রেখেছে। এখন এ সরকারের উচিত দ্রুত নির্বাচন দেওয়া। নির্বাচন হলে স্থিতিশীলতা আসবে। নির্বাচনের আগে সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কার লম্বা প্রক্রিয়া।
মৌলিক সংস্কার শেষে দেশের স্বার্থে দ্রুতই নির্বাচন প্রয়োজন।’ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘সবার কাছে রাজনৈতিক সংকট দৃশ্যমান। অর্থনৈতিক সংকট দেখা যাচ্ছে না বলে কথা উঠছে না। অনেকে বলছেন নির্বাচন আগে, না সংস্কার আগে? আমি সংস্কারের পক্ষে। দেশ এগিয়ে নিতে সংস্কার প্রয়োজন। এর জন্য ঐক্য দরকার।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার সংকট সৃষ্টি করছে বলে আমার ধারণা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবশেষ ধাপ হলো নির্বাচন। মানুষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। ২০১৪, ’১৮ ও ’২৪ সালে তারা নির্বাচন করতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত দ্রুত সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়া। নির্বাচন না হলে সংকট আরও বাড়বে।’ গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সরকার নির্বাচনের সময় দিলেও তা অস্পষ্ট। সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নেই। ফলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।’

আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের শক্তিশালী পজিশন নেই। কেউ বলছেন বিএনপির দ্বারা প্রভাবিত। কেউ বলছেন জামায়াত, কেউ বলছেন এনসিপি দ্বারা প্রভাবিত। নির্বাচন নিয়ে সমঝোতা দরকার। সমঝোতার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন।’ নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য, রাজনীতি বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘দেশে সংকট চলছে। রাজনীতি ও অর্থনীতি অন্যতম। বিদেশি বিনিয়োগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ বাড়ানোসহ নানান সংকট রয়েছে। দ্রুত নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র মজবুত করা হোক-এ উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘সংকটের মূল কারণ শেখ হাসিনা। নির্বাচনব্যবস্থা, প্রশাসন, পুলিশসহ সবই তাঁর তৈরি। এগুলো সংস্কারে রাজনৈতিক সমঝোতায় আসতে হবে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ বলেন, ‘সংকট সমাধানে নির্বাচনী রোডম্যাপ দিতে হবে। স্থিতিশীলতা, বৈষম্য দূর, অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হলে সংকট কেটে যাবে।’

বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মন্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকারই সংকট তৈরি করেছে। যারা সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরবে, সরকার চালাকি করে তাদের বিভিন্ন সংস্কার কমিশনে ঢুকিয়েছে। ১১টি সংস্কার কমিশন ও একটি ঐকমত্য কমিশন করা হয়েছে। এসব কমিশনে কত টাকা খরচ হয়েছে তা বলছে না সরকার।’ তিনি বলেন, ‘সংকট উত্তরণে নির্বাচন প্রয়োজন। সরকার কে গঠন করবে তা জনগণই ঠিক করবে।’

ডেইলি সান সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস বলেন, ‘সংস্কার ও নির্বাচন একই সঙ্গে চলতে পারে। সংস্কার তার মতো করে এগিয়ে যাবে, একই সঙ্গে নির্বাচনের প্রক্রিয়াও। সংস্কার ও নির্বাচন বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। নতুন নতুন ইস্যু নিয়ে সংস্কার ও নির্বাচন দেরি করা হচ্ছে। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।’ বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর.কমের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু বলেন, ‘কেউ সংস্কার চান, কেউ চান না। সংস্কার করবে নির্বাচিত সরকার। দলগুলো নির্বাচনের মেনিফেস্টোতে তাদের অঙ্গীকার তুলে ধরুক। জনগণ যাকে পছন্দ করবে, তাকে ভোট দেবে। যারা জনগণকে ভয় পায়, তারা নির্বাচন পেছাতে চায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারকে আরো শক্ত অবস্থান নিতে পরামর্শ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরো শক্ত অবস্থান নিতে বলেছেন বিএনপিসহ চারটি দলের নেতারা। তারা মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে রাত ১১টায় আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে দুটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমটা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার ক্ষেত্রে সরকার যেন আরো শক্ত অবস্থান নেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের কিছুটা ঘাটতি আছে, সে কথাও তারা বলেছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনপ্রক্রিয়ার দিকে সরকারকে সুষ্ঠুভাবে অগ্রসর হওয়া উচিত।

মঙ্গলবার রাত ৯টায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় বৈঠকটি শুরু হয়। এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন ও যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, সি আর আবরার, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও মো. মাহফুজ আলম। এ ছাড়া জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য কমিশন) মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, বৈঠকে সম্প্রতি গোপালগঞ্জে সহিংসতা এবং মঙ্গলবার সচিবালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, গাড়ি ভাঙচুর এবং মাইলস্টোন কলেজে বিক্ষোভসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়। সব দলের নেতারা একটা বিষয়ে একমত যে সরকার দুর্বল আচরণ করছে। সরকারকে আরো শক্তিশালী আচরণ করা দরকার। গোয়েন্দা ব্যর্থতা চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় করতে হবে।

বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিন-তারিখ ঘোষণা করা হলে অনেক সমস্যা এমনিতে কমে যাবে।
আর জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলেছেন, এখনো বহু অপরাধী ধরা পড়েনি। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা দরকার। না হলে নানা রকম ঝুঁকি তৈরি হবে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বললে তার ভালো লাগে। এ সময় রাজনৈতিক নেতারা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ডাকলেই তারা সাড়া দেবেন।

বৈঠক শেষে বিএনপি ও এনসিপির নেতারা যমুনার বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

পরে ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার ঐক্য আরো দৃশ্যমান করার কথা বলেন। এতে মানুষের মধ্যে স্বস্তির ভাব আসবে। এ সময় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা বলেছেন যে তাদের মধ্যে ঐক্য আছে। এর উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, যখনই প্রধান উপদেষ্টা ডাক দেন, তখনই তারা এসে হাজির হন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে নিয়মিত গিয়ে কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছে, ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে তাদের মধ্যে কোনো রকম মতভিন্নতা, মতবিরোধ নেই। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, রাজনীতির মাঠে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে কথা বলার বিষয়টি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ।

বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, দেশে পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক কিছু দুর্বলতা রয়েছে। এসব দুর্বলতা চিহ্নিত করার জন্য তারা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। তারা বলেছেন, সরকারের উচিত প্রশাসনকে আরও কঠোর করা এবং নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রাখা, যাতে যেকোনো ঘটনা ঘটার আগেই সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।

ইসলামী আন্দোলনের গাজী আতাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সচিবালয়সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো অতীতে এমন নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দেখা যেত না। কিন্তু বর্তমানে একাধিকবার সচিবালয় অরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা রয়েছে কি না, তা সরকারকে তদন্ত করে দেখতে হবে। তিনি প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।

গাজায় ত্রাণগ্রহণকারীদের হত্যা ‘অগ্রহণযোগ্য’, ইসরায়েলকে ইইউ’র কঠোর সতর্কবার্তা

গাজা উপত্যকায় ত্রাণ নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলি চালানো এবং হত্যা করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিভাগের প্রধান কাজা কালাস এক টেলিফোন আলোচনায় ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার-এর কাছে এই বার্তা দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া বার্তায় কাজা কালাস বলেন, “গাজায় ত্রাণ নেওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলাকে ইইউ সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য মনে করে। আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) অবশ্যই এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে— অন্যথায় আমাদের সামনে সব ধরনের বিকল্প খোলা রয়েছে।”

ইইউ প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেনও কালাসের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “গাজার যে দৃশ্য আমরা দেখছি তা মেনে নেওয়ার মতো নয়। দীর্ঘদিন ধরে বেসামরিক মানুষ ভয়াবহ ভোগান্তির শিকার— এটা বন্ধ হওয়া উচিত।”

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে গাজা এখন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে। এখন পর্যন্ত সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৯ হাজারেরও বেশি মানুষ এবং আহত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ। ইসরায়েলি সেনারা নিয়মিত গুলি ও মর্টার শেল ছুড়ছে গাজার বিভিন্ন এলাকায়, এমনকি খাদ্য ও ত্রাণ সামগ্রীর প্রবেশও প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।

যৎসামান্য যেসব ত্রাণবাহী গাড়ি ঢোকার অনুমতি পাচ্ছে, সেগুলোর আশেপাশে জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষকেও গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার এর নিন্দা জানালেও, তাতে কোনো সাড়া দেয়নি তেলআবিব। তবে ইইউ’র মতো দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্রের এই প্রকাশ্য সতর্কবার্তা ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

চলমান সংকট মোকাবিলায় চার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাত ৯টায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে অংশ নেয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও যুগ্ম-মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে উত্তরায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের পরবর্তী পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, নিরাপত্তা শঙ্কা ও দেশের সার্বিক রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের আগের দিন (২১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাথমিক শাখায় বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে বহু শিক্ষার্থী হতাহত হন। দুর্ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়, যা মঙ্গলবার শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।

ওই দুর্ঘটনার পর সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ঘেরাওয়ের মুখে পড়েন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব। প্রায় ৯ ঘণ্টা শিক্ষার্থীরা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

চলমান সংকট ও ছাত্রদের ক্ষোভ প্রশমনের পথ খোঁজার অংশ হিসেবেই এই রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

দেশে সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ১,৫০০ টাকা

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১,৫০০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার (২৩ জুলাই) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে।

নতুন দামের ফলে ২২ ক্যারেট মানের সোনার এক ভরি এখন থেকে বিক্রি হবে ১,৭১,৬০১ টাকায়। এর আগে এই মানের সোনা বিক্রি হচ্ছিল ১,৭০,৫৫১ টাকায়।

বাজুস জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে এবং স্থানীয়ভাবে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোনার নতুন দামের তালিকা অনুযায়ী:

২২ ক্যারেট: ১,৭১,৬০১ টাকা

২১ ক্যারেট: ১,৬৩,৭৯৮ টাকা

১৮ ক্যারেট: ১,৪০,৪০০ টাকা

সনাতন পদ্ধতি: ১,১৬,১২৭ টাকা (প্রতি ভরি)

তবে রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। আগের মতোই ২২ ক্যারেট রুপার দাম প্রতি ভরি ২,৮১১ টাকা, ২১ ক্যারেট ২,৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২,২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১,৭২৬ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

সোনার লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।