রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

জর্জিয়ায় ইউরেনিয়াম কেনার চেষ্টা, ৩ চীনা নাগরিক আটক

জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসিতে ২ কেজি (৪.৪ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম কেনার চেষ্টা করার অভিযোগে তিন চীনা নাগরিককে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা।

এক বিবৃতিতে জর্জিয়ার স্টেট সিকিউরিটি সার্ভিস জানায়, সন্দেহভাজনরা এই পারমাণবিক পদার্থটি রাশিয়া হয়ে চীনে পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। সংস্থাটি আটক অভিযানের ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে।

বলা হয়, জর্জিয়ায় অবস্থানরত এক চীনা নাগরিক ভিসা নিয়ম লঙ্ঘন করে বিশেষজ্ঞদের জর্জিয়ায় নিয়ে আসেন ইউরেনিয়াম অনুসন্ধানের জন্য।
অপরাধী চক্রের অন্য সদস্যরা চীন থেকে পুরো অভিযান সমন্বয় করছিলেন।

আটকের সময় তারা অবৈধ লেনদেনের বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তবে অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ না করা হলেও তারা ইউরেনিয়াম কেনার জন্য ৪ লাখ মার্কিন ডলার দিতে চেয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

সূত্র : আলজাজিরা

চীনের ওপর বিরল খনিজ নির্ভরতা কমাতে হবে : ভন ডার লেন

বিরল খনিজের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন। চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিরল খনিজ উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ; যা স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সামরিক প্রযুক্তি তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীন বিরল খনিজ রপ্তানিতে নতুন লাইসেন্স নিয়ম চালু করে, যা বৈশ্বিক উৎপাদন খাতে ধাক্কা দেয়। এরই মধ্যে, চলতি মাসে বেইজিং নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলছে, চীনের এসব পদক্ষেপের কারণে ইউরোপের অনেক কম্পানি উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে এবং এতে তাদের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।

বার্লিন গ্লোবাল ডায়ালগ সম্মেলনে ভন ডার লেন বলেন, আমরা এখনো চীনের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি সমাধান খুঁজছি, তবে প্রয়োজনে ইইউ তার ‘টুলবক্স’-এর সব উপকরণ ব্যবহার করতে প্রস্তুত।

সূত্র : ডয়চে ভেলে।

ইন্দিরা গান্ধী নারী হয়েও মোদির চেয়ে বেশি সাহসী ছিলেন : রাহুল গান্ধী

বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের কথা উল্লেখ করে মোদিকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করেছেন রাহুল গান্ধী।

ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। আজ থেকে ৪১ বছর আগে ১৯৮৪ সালের এই দিনে সারা ভারত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।
৩১ অক্টোবর তার বাসভবনের লনে নিজের দুই দেহরক্ষীর গুলিতে তিনি নিহত হন। ভারতে শিখদের স্বর্ণ মন্দিরের অপবিত্রতার অভিযোগে প্রতিশোধ নিতে একেবারে সামনে থেকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ৩০টিরও বেশি গুলি ছুড়েছিল।

এদিকে বিহারের নালন্দায় এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় ইন্দিরা গান্ধী আমেরিকাকে ভয় পাননি বা মাথা নত করেননি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ‘ক্ষমতা’ নেই।

রাহুর গান্ধী বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তার বিমান ও নৌবাহিনীকে পাঠিয়েছিল ভারতকে ভয় দেখাতে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী মার্কিনিদের বলেছিলেন, আমরা আপনাদের নৌবাহিনীকে ভয় পাই না। আপনারা যা করার করুন। আমরাও যা করার করব।

তিনি আরো বলেন, ‘ইন্দিরা গান্ধী একজন নারী ছিলেন, কিন্তু তার সাহস এই ব্যক্তির (মোদি) চেয়েও বেশি ছিল। নরেন্দ্র মোদি কাপুরুষ। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কোনো দূরদর্শিতা বা ক্ষমতা তার নেই। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, যদি নরেন্দ্র মোদির সাহস থাকে তাহলে তার বলা উচিত, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট মিথ্যা বলছেন এবং তিনি (প্রধানমন্ত্রী মোদি) তার কাছে মাথা নত করেননি। ট্রাম্প অপারেশন সিঁদুর বন্ধ করেননি।
তিনি তা করতে পারবেন না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার দাবি করেছেন, তিনি ভারতের অপারেশন সিঁদুরের পরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য হস্তক্ষেপ করেছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংজুতে এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সিইওদের মধ্যাহ্নভোজে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তার মধ্যস্থতায় এই বছরের শুরুতে দুটি পারমাণবিক-সশস্ত্র দেশের মধ্যে শত্রুতা থেমেছে।

মোদির প্রতি আক্রমণ অব্যাহত রেখে লোকসভার বিরোধীদলীয় এ নেতা দাবি করেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৫০ বার প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘অপমান’ করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ট্রাম্প বলেছেন, আমি ফোনে মোদিকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ বন্ধ করতে বলেছিলাম। নরেন্দ্র মোদি দুই দিনের মধ্যে অপারেশন সিঁদুর বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির বলার সাহস নেই যে, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট মিথ্যা বলছেন।’

তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের দেখা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তিনি ভয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন না। তিনি লুকিয়ে বসে আছেন। নরেন্দ্র মোদির সাহস নেই।’ ট্রাম্প এই প্রথম এমন দাবি করেননি। বরং বারবার বলেছেন, তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি স্থাপনে মধ্যস্থতা করেছেন। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা এর আগে এই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন।

ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যা করা হয়েছিল অমৃতসর স্বর্ণমন্দিরে বিরুদ্ধে অভিযান জেরে হওয়া। ইন্দিরা গান্ধী ১৯৮৪ সালের এই দিনে (৩১ অক্টোবর) নিজের দুই দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত পর, ভারতে দেখা সবচেয়ে জঘন্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটে। মাত্র তিন দিনে প্রায় ৩ হাজার ৩৫০ শিখকে (সরকারি অনুমান) হত্যা করা হয়। তার মধ্যে দেশের রাজধানী দিল্লিতেই হত্যা করা হয়েছিল ২ হাজার ৮০০ জন শিখকে।

১৯৮৪ সালের জুনে স্বর্ণমন্দিরে এক সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন ইন্দিরা। পাঞ্জাবের শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ‘খালিস্তান’ নামক পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে লড়াই শুরু করেছিল। সংঘাত–সহিংসতার ঘটনা ঘটছিল। সামরিক অভিযান ‘ব্লু স্টার’-এর মাধ্যমে স্বর্ণমন্দির থেকে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উৎখাত করা হয়।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই অভিযানে ৮৩ জন ভারতীয় সেনা প্রাণ হারান এবং প্রায় আড়াই শতাধিক সেনা আহত হন। অন্যদিকে, ৪৯২ জন শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী ও বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন বলে সরকারি প্রতিবেদন জানায়। তবে স্বাধীন সূত্রের তথ্যে দেখা যায়, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। এই অভিযানে স্বর্ণমন্দির কমপ্লেক্সও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন এই অভিযান দেশ-বিদেশে শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি করে। অনেকেই এই ঘটনাকে শিখ ধর্মের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখেন। ক্ষোভের প্রকাশ হিসেবে অসংখ্য শিখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা তাদের পদ থেকে ইস্তফা দেন।

অভিযানের পর ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ওপর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে এবং তার নিরাপত্তা থেকে শিখ দেহরক্ষীদের অপসারণের পরামর্শ দেয়। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এর পরেই তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

হত্যার দিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ইন্দিরা গান্ধী ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেন। তার হাতে ছিল কালো রঙের ছাতা, পাশে হাঁটছিলেন সিপাহি নারায়ণ সিং। তার পেছনে ছিলেন ইন্দিরার ব্যক্তিগত সচিব আর. কে. ধাওয়ান, পরিচারক নাথু রাম এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা রামেশ্বর দয়াল।

‘দ্য পাথ অফ মার্টার্ডম’, হত্যার দিন এই পথ দিয়ে ইন্দিরা গান্ধী গিয়েছিলেন। ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পাশেই আকবর রোডে ছিল তার দপ্তর ছিল। দুটি ভবনের মধ্যে যাতায়াতের জন্য একটি সংযোগপথ ছিল। সেই পথের ফটকের সামনে গিয়ে ইন্দিরা ধাওয়ানের সঙ্গে কথা বলছিলেন।

ঠিক তখনই, পাশে দাঁড়ানো শিখ নিরাপত্তাকর্মী বেয়ন্ত সিং আচমকা তার রিভলভার বের করে গুলি চালান। প্রথম গুলিটি লাগে ইন্দিরার পেটে। এরপর আরো দুটি গুলি গিয়ে লাগে তার বুকে ও কোমরে। মাত্র পাঁচ ফুট দূরেই অটোমেটিক সাবমেশিনগান হাতে দাঁড়িয়েছিলেন আরেক শিখ নিরাপত্তাকর্মী সতবন্ত সিং। ইন্দিরার গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়া দেখে তিনি মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে পড়েন। তখন বেয়ন্ত সিং চিৎকার করে বলেন, ‘গুলি চালাও!’ এরপর সতবন্ত সিং মুহূর্তের মধ্যেই তার অস্ত্রে থাকা সব ২৫ থেকে ৩০টির বেশি গুলি ইন্দিরা গান্ধীর শরীরে ঝাঁঝরা করে দেন।

সূত্র : এএনআই, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা,

যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সম্মত পাকিস্তান-আফগানিস্তান

অবশেষে যুদ্ধবিরতি চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তুরস্কে ৫ দিনের বৈঠকের পর দুই দেশ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাল। গতকাল বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে আলোচনার সময় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়।

গত ১৮ অক্টোবর থেকে দোহায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সরকারি প্রতিনিধিদের বৈঠক শুরু হয়েছিল। পরে তা তুরস্কের ইস্তাম্বুলে স্থানান্তর হয়। সেখানে ২৫ অক্টোবর থেকে বৈঠক শুরু করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে মধ্যস্থতার ভূমিকা নেয় কাতার এবং তুরস্ক। মাঝে বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও পরে ২৯ অক্টোবর থেকে ফের শুরু হয় বৈঠক এবং ৩০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় দুই দেশ।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৫-৩০ অক্টোবরের আলোচনা সম্পর্কে জানিয়েছে, ‘সব পক্ষই শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করবে এবং চুক্তি লঙ্ঘনকারী পক্ষের ওপর শাস্তি আরোপ করা হবে। এমন ব্যবস্থায় সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

এতে আরো বলা হয়েছে, ‘এই ব্যবস্থা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা নির্ধারণের জন্য ৬ নভেম্বর ইস্তাম্বুলে একটি পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তুরস্ক ও কাতার স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য উভয় পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।’

তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ মধ্যরাতের কিছু আগে ইস্তাম্বুলে একটি পৃথক বিবৃতি জারি করে আলোচনার সমাপ্তি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, উভয় পক্ষই ভবিষ্যতের বৈঠকে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

২০২১ সালে তালেবানরা কাবুল দখল করার পর থেকে দেশ দুটি সীমান্তে গুরুতর সামরিক সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। পাকিস্তান আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বে আঘাত হেনেছে— অভিযোগ তুলে এর দুই দিন পর সীমান্তে পাকিস্তানের সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় আফগান সেনাবাহিনী। পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীও।

যুদ্ধবিরতির আগ পর্যন্ত সংঘাতে নিহত হয়েছেন ২ শতাধিক আফগান সেনা এবং ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা। মারাত্মক সংঘর্ষের ফলে বাণিজ্য ও পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলো বন্ধ হয়ে যায়। হামলায় টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ, দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ক্বারি সাইফুল্লাহ মেহসুদসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হন।

পাকিস্তানের উত্তর‐পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া টিটিপির ঘাঁটি এলাকা। আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান অভিযোগ করে যাচ্ছে, টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগান তালেবানরা। তবে আফগানিস্তান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সহিংসতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতার বেশ কয়েক বছর আগে এই গোষ্ঠীটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের সরকার। তারপরও গোষ্ঠীটি তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়েই শুরু হয় সংঘর্ষ। ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সংঘাতের পর ১৫ অক্টোবর ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে পাকিস্তান-আফগানিস্তান।

সূত্র : রয়টার্স, জিও নিউজ

নানা অজুহাতে গাজায় রক্তক্ষয়ী হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল

যুদ্ধবিরতির পরও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি তাণ্ডব বন্ধ হয়নি। নানা অজুহাতে গাজায় নির্বিচারে রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিরতির এই অব্যাহত লঙ্ঘনে গাজাবাসীর সব আশা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। খবর আল জাজিরার।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েল মারাত্মকভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এতে অন্তত শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো দৃঢ়ভাবেই কার্যকর রয়েছে।
যদিও দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী কাতার হতাশা ব্যক্ত করে বলেছে, মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পর্যায়ের জন্য অধীরভাবে অপেক্ষা করছে।

এদিকে ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলার পর গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ হাজার ৫২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছে এক লাখ ৭০ হাজার ৩৯৫ জন ফিলিস্তিনি।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনারা গতকাল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ব্লিদা শহরে হামলা চালিয়ে পৌরসভার এক কর্মীকে হত্যা করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।

লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সৈন্যরা বেশ কয়েকটি সামরিক ব্লিদা শহরে প্রবেশ করে পৌর ভবনে হামলা চালায়। এসময় ইসরায়েলি হামলায় ইব্রাহিম সালামেহ নামে এক কর্মী নিহত হন। ইসরায়েলি বাহিনী এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি বলে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ এই হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে।

এদিকে, হামাস নিরস্ত্র হোক—চায় না ৭০ শতাংশ ফিলিস্তিনি।
গত ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সার্ভে রিসার্চের (পিসিপিএসআর) চালানো জরিপে এ তথ্য দেখা গেছে।

জরিপে অংশ নেওয়াদের ৭০ শতাংশ মনে করে, হামাসের হাতে অস্ত্র থাকলে যদি ইসরায়েল আবার হামলা শুরু করে তবু হামাস যেন অস্ত্র না ছাড়ে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিরোধিতা ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিমতীরে বেশি। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা হামাসের হাতে অস্ত্র দেখতে চাওয়ার কথা বলেছে। অথচ পশ্চিমতীর শাসন করছে হামাসের প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন ফাতাহ। ইসরায়েলি গণহত্যার শিকার গাজা উপত্যকার ৫৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিরোধিতা করেছেন।

এ ছাড়া ৬২ শতাংশ ফিলিস্তিনি মনে করে না ট্রাম্পের পরিকল্পনা সফল হবে। এই পরিকল্পনা যুদ্ধ বন্ধ করতে পারবে না বলে মনে করে তারা। পশ্চিমতীরের ৬৭ শতাংশ ও গাজার ৫৪ শতাংশ ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছে। এক হাজার ২০০ জনের ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। তাদের ৭৬০ জন পশ্চিমতীর ও ৪৪০ জন গাজার বাসিন্দা।

‘প্রিন্স’ উপাধি হারালেন অ্যান্ড্রু, বিতাড়িত হচ্ছেন রাজপ্রাসাদ থেকেও

ব্রিটেনের রাজা চার্লসের ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার ‘প্রিন্স’ উপাধি হারাচ্ছেন এবং উইন্ডসরে অবস্থিত তার প্রাসাদ ‘রয়্যাল লজ’ থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে সপ্তাহব্যাপী বিতর্ক ও তদন্তের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসির।

বৃহস্পতিবার রাতে বাকিংহাম প্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানায়, রাজা চার্লসের ভাই এখন থেকে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর নামে পরিচিত হবেন।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে অ্যান্ড্রু তার অন্যান্য রাজকীয় উপাধি, যার মধ্যে ‘ডিউক অব ইয়র্ক’ উপাধিটিও ছিল, তা ত্যাগ করেছিলেন। কারণ, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল।

চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত ভার্জিনিয়া জিউফ্রের মৃত্যুর পর প্রকাশিত স্মৃতিকথায় তিনি পুনরায় অভিযোগ করেন যে, কিশোরী বয়সে তিনি তিনবার প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। যদিও অ্যান্ড্রু এসব অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করেছেন।

সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তের পর জিউফ্রের পরিবার জানায়, ‘তিনি সত্য ও অসাধারণ সাহসের মাধ্যমে একজন ব্রিটিশ প্রিন্সকে পতন ঘটিয়েছেন।’ জিউফ্রে এ বছরের শুরুতে আত্মহত্যা করেন।

প্রাসাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর উপাধি, মর্যাদা ও সম্মান বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

এ ছাড়াও জানানো হয়েছে, অ্যান্ড্রুকে রয়্যাল লজের লিজ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি এখন স্যান্ডরিংহাম এস্টেটের একটি ব্যক্তিগত বাসস্থানে উঠবেন, যা রাজা চার্লস নিজে অর্থায়ন করবেন বলে জানা গেছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, যদিও তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে যাচ্ছেন, তবুও এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করা হয়েছে।

অ্যান্ড্রু ২০০৪ সাল থেকে রয়্যাল লজে বসবাস করছিলেন, তবে এখন তাকে সেই বাড়ি ছাড়তে হবে। অ্যান্ড্রুর দুই প্রাপ্তবয়স্ক কন্যা, ইউজেনি ও বিট্রিস, তাদের ‘প্রিন্সেস’ উপাধি পাবেন, এবং অ্যান্ড্রু এখনো ব্রিটিশ সিংহাসনের অষ্টম উত্তরাধিকারী হিসেবে রয়েছেন।

অ্যান্ড্রুর সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনকেও রয়্যাল লজ থেকে বেরিয়ে যেতে হবে এবং তিনি আলাদাভাবে থাকার ব্যবস্থা করবেন।
এর আগে পর্যন্ত তিনি ‘সারা, ডাচেস অব ইয়র্ক’ নামে পরিচিত ছিলেন, তবে অ্যান্ড্রু স্বেচ্ছায় ‘ডিউক অব ইয়র্ক’ উপাধি ত্যাগ করার পর তিনি নিজস্ব পদবি ‘ফার্গুসন’ ব্যবহার করতে শুরু করেন।

ইসরায়েলের কাছে ২ মরদেহ হস্তান্তর করেছে হামাস

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস জানিয়েছে, তারা দুইজন ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ হস্তান্তর করেছে। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ার একদিন পরেই এই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। খবর আল জাজিরার।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় বৃহস্পতিবার জানায়, রেডক্রসের মাধ্যমে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী দুই মরদেহ গ্রহণ করেছে এবং সেগুলো শনাক্তকরণের জন্য ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে যে চুক্তি হয়েছিল, তার আওতায় হামাস ২০ জন জীবিত বন্দিকে মুক্তি দেয় এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়। পাশাপাশি, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার শহরাঞ্চল থেকে আংশিকভাবে প্রত্যাহারও সম্পন্ন করে।

তবে ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত গাজা উপত্যকাজুড়ে ডজন ডজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ১০৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৬ শিশু এবং ২০ নারী।

চুক্তির অংশ হিসেবে হামাস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা নিহত ২৮ জন ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ ফেরত দেবে, বিনিময়ে যুদ্ধ চলাকালে নিহত ফিলিস্তিনিদের মরদেহ পাবে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হামাস ১৫টি মরদেহ হস্তান্তর করেছে এবং জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচে এখনো হাজারো ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে—তাদের উদ্ধার করতে যথাযথ সরঞ্জাম ও সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েল অভিযোগ করেছে যে হামাস অবশিষ্ট ইসরায়েলি বন্দিদের মরদেহ ফেরত দিতে বিলম্ব করছে।

জাতীয় নির্বাচন সময়মতোই হবে, পেছানোর মতো কোনো শক্তি নেই : প্রেসসচিব

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, রাজনৈতিক দল থাকলে মতবিরোধ থাকবে, এক পার্টি এক কথা বলবে, এটাই নিয়ম, সারা বিশ্বে এমনই হয়। কিন্তু কোনো উত্তাপই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদ সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সিদ্ধান্ত যাই হোক ১৫ ফেব্রুয়ারির আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হবে।
কারণ অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিজ্ঞবদ্ধ। এটাকে ঠেকানোর কোনো শক্তিই নাই।

আজ শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে জুলাই কন্যা ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত মাইন্ড ব্রিজ এন্ড নলেজ কম্পিটিশন এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রেসসচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা দেশের মানুষের মঙ্গলে, গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং সকল দলের জন্য মঙ্গল এমন সব কাজই করবে।
ইতিমধ্যে সরকার জুলাই সনদ ডিক্লার করেছে, জুলাই সনদে স্বাক্ষর হয়েছে। এর আগে অনেকগুলো কমিশন তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে, অর্থনীতিকে পুনরদ্ধার করা গেছে, ট্রায়ালের কাজগুলো হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগামী ১৮ তারিখ কোর্ট হয়তো জানাবে, শেখ হাসিনার যে ট্রায়াল হচ্ছে তার বিচারের দিন জানাবে। অন্যান্য যতগুলো ইস্যু আছে সবগুলো ইস্যু নিয়েই কাজ হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে অনেকগুলো বড় বড় কাজ করেছে।

জুলাই ফাউন্ডেশনের সভাপতি জান্নাতুন নাইম প্রমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইসমাইল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইসমাইল হোসেনসহ অনেকে।

পুলিশ একাডেমি থেকে পালিয়েছেন ডিআইজি এহসানুল্লাহ!

বাংলাদেশ পুলিশের একাডেমি সারদা থেকে ডিআইজি এহসানুল্লাহর পলায়নের খবর পাওয়া গেছে। গত বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহীজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সাপ্লাই বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডিআইজি এহসানুল্লাহর বিরুদ্ধে। গত বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে তাকে আটক করতে পুলিশ একাডেমিতে অভিযান চালায় একটি দল। এ সময় একাডেমিতে কর্মরত অবস্থায় তিনি পালিয়ে যান।

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘গত বুধবার থেকে ডিআইজি এহসানুল্লাহ একাডেমিতে অনুপস্থিত আছেন।
ঢাকা থেকে একটি টিম তাকে আটক করতে এসেছিল বলে জানতে পেরেছি। তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পুলিশের একটি টিম ডিআইজি এহসানুল্লাহকে গ্রেপ্তারের জন্য একাডেমিতে আসছেন, এমন খবর জানতে পেরে মোটরসাইকেলযোগে একাডেমি থেকে পালিয়েছেন তিনি। যেকোনো সময় তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারে—এ বিষয়ে তিনি আগে থেকেই অবগত ছিলেন।

মানবপাচারে অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ইস্যুতে যা বলল মালয়েশিয়া সরকার

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো সংক্রান্ত দুর্নীতি ও মানবপাচার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম ও রূহুল আমিনকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। বিষয়টি ‘সরকার থেকে সরকার’ (জিটুজি) এবং ‘পুলিশ থেকে পুলিশ’ (পিটুপি) পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার বুকিত আমান রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ সদর দপ্তর ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়া সফরকালে এই ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই তখন পিটুপি ভিত্তিতে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়।

এর আগে, গত বছরের নভেম্বরে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছিলেন যে অর্থ পাচার, চাঁদাবাজি ও বিদেশি কর্মী পাচারের অভিযোগে আমিনুল ইসলাম ও তার সহযোগী রুহুল আমিনকে গ্রেফতারের অনুরোধ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে। সে সময় মালয়েশিয়া সরকার জানতে চেয়েছিল, গ্রেফতারের উদ্দেশ্য প্রত্যর্পণের জন্য, নাকি আরো তদন্তের স্বার্থে।