সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় প্রক্সি নয়, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মন্ত্রী দরকার: সুরঞ্জিত

image_80200_0আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগু্প্ত বলেছেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় কোনো প্রক্সি মন্ত্রণালয় নয়, রাষ্ট্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় রয়েছে অতীব জরুরি। এর একটি হলো-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় অপরটি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। এই দুই মন্ত্রণালয় ছাড়া বাকিগুলো ভগ্নিপতি ও সেনাপতিদের। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে ফুল মন্ত্রিত্ব প্রয়োজন। এখন আইন জানা ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লোকদের দিয়ে এই মন্ত্রণালয় চালাতে হবে।”

সোমবার রাজধানীর ডিপ্লমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সিটিউট মিলনায়তনে নৌকা সমার্থক গোষ্ঠী আয়োজিত চলমান রাজনীতি বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ ও হত্যা ঘটনায় অভিযুক্ত নূর হোসেনকে উদ্দেশ্য করে সুরঞ্জিত বলেন, “এই মাল তো আওয়ামী লীগের না। এটা সুবিধাবাদী। সে আগে করেছে জাতীয় পার্টি, পরে বিএনপি এখন আওয়ামী লীগ করছে।”

তিনি বলেন, “সরকারের একজন মন্ত্রী বলেছে, খুনিরা এখনো দেশে আছে। আমি বলব, খুনিরা দেশে আছে, দেশ ছেড়েছে বা পাতালে গেছে সেটা বিষয় না। তাদের গ্রেফতার করতেই হবে।”

নারায়ণগঞ্জের হত্যাকাণ্ডের দায় সরকার এড়াতে পারে না উল্লেখ করে সুরঞ্জিত বলেন, “এই হত্যার সঙ্গে ক্ষমতাশীনদের আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকা অস্বাভাবিক নয়। সাতটি লাশ উদ্ধার হলো, কিন্তু এরপরে এতদিন পার হয়ে গেলেও খুনির বাড়ি যেতে এত দেরি করা হলো কেন?”

তিনি বলেন, “এই বিলম্ব অমার্জনীয়, ঘৃণিত, এটাকি মগের মূল্লুক? কার মুখ কে বন্ধ করবে? গণমাধ্যম উন্মুক্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে যে ভয়াবহ খবর বের হয়েছে। সেটা তো আরো ভয়াবহ। দোষী ব্যক্তি যেই হোক তাকে বের করে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “নারায়ণগঞ্জে প্রাশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। তাদের শুধু প্রত্যাহার করলেই হবে না, ক্রিমিনাল লিগিজেন্স করে থাকলে এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বিচার করতে হবে।”

সাদা পোশাকে গ্রেফতার বন্ধ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গ্রেফতারের সময় অবশ্যই আইডি কার্ড দেখাতে হবে।”

তিনি বলেন, “নজরুলের শ্বশুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে সেটা উড়িয়ে দেয়া যায় না। আমি তখনও বলেছি এখনও বলছি বর্তমান সরকারের জন্য দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি সুশাসন নিশ্চিত করা অপরটি আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করা।”

সুরঞ্জিত বলেন, “আমি গরিব, কোনো কথা বললে সেটা ভুল হয়। কিন্তু শামীম ওসমান বলছে এক কথা। আইভী রহমান বলছে আরেক কথা। একে অপরের বিরুদ্ধে বলছে। তবে যে বা যারাই করুক তাদের বিরুদ্ধে কোনো রকম নমনীয়তা প্রদর্শন করা ঠিক হবে না। এটা সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তির ব্যাপার।”

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে সুরঞ্জিত বলেন, “এরশাদ যদি আপনার স্বামীর হত্যাকারী হয় তবে মামলা করুন। বিচারের আওতায় আনুন। আমরা সব হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। ফৌজদারি মামলা যেকোনো সময় করা যায়। তামাদি হয় না। আপনি মামলা করেন। নয়তো বুঝব এটা আপনার স্টান্ডবাজি। মুখে বলেন একটা করেন আরেকটা।”

অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য চিত্ত রঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, সাম্যবাদী দলের নেতা হারুন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা দিদার হোসেন, নৌকা সমর্থক গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মিজি প্রমুখ।

সিরডাপের পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচী জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখছে : স্পিকার

Shirin20140128124255স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে নারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে সিরডাপের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সিরডাপের মহাপরিচালক ড. সিসেপ এফেন্ডি আজ জাতীয় সংসদের তার সাথে সাক্ষাত করলে তিনি এ সহযোগিতা চান।
সাক্ষাতকালে তারা পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

সিরডাপের মহাপরিচালক বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়নে সিরডাপের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসুচীতে নারীদের অংশগ্রহণ বিশ্বে একটি রোল মডেল।

স্পিকার বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তরিক সহযোগিতার জন্য সিরডাপের মহাপরিচালককে ধন্যবাদ জানান। তিনি কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে সমন্বিত পল্লী উন্নয়নে সিরডাপের ভুমিকার প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে টেকসই গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অনেক প্রকল্প নেয়া হয়েছে। একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্প গ্রামীণ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। ভিজিডিসহ অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচী গ্রামাীণ অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটিয়েছে। তিনি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো এগিয়ে নিতে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকান্ডে গ্রামীণ নারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের ওপর গুরত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পল্লী উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিরডাপের অব্যাহত সহযোগিতা জাতীয় উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখছে।

বৈদেশিক খাত উন্মুক্তকরণের ঝুঁকি মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়ায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে : গভর্নর

image_86_16798বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বৈদেশিক খাত উন্মুক্তকরণের ঝুঁকি মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিজেদের মধ্যে এ বিষয়ে বোঝাপড়া বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য মুলধন বহিঃপ্রবাহ জরুরী হয়ে পড়েছে। কিন্তু কোন এক দেশের মূলধন- আমদানি-রফতানি বাণিজ্য, বিনিয়োগ বা যে কাঠামোতে বহিঃপ্রবাহ হোক না কেন, এক্ষেত্রে বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে। এসব ঝুঁকি কোন একক দেশের পক্ষে মোকাবেলা সম্ভব নয়। এর জন্য এ অঞ্চলের দেশসমূহের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ থাকা যেমন জরুরী, তেমনিভাবে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটাও বাড়াতে হবে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রুপসী বাংলা হোটেলে দক্ষিণ এশীয় দেশসমূহের অভিজ্ঞতার আলোকে ‘বৈদেশিক খাত উন্মুক্তকরণ ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে সার্কফাইন্যান্স সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কেন্দ্রিয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান ও চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজমী বক্তব্য দেন।

সেমিনারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
গভর্নর বলেন, প্রবৃদ্ধির গতিধারা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে কিভাবে বৈদেশিক খাত উন্মুক্তকরণ সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়, এ বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারে। এতে এ অঞ্চলের অর্থনীতি উদারীকরণের আরো সহজ পন্থা বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম তার প্রবন্ধে বলেন, মূলধনের অন্তঃপ্রবাহ ও বহিঃপ্রবাহের বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিসমূহের উন্মুক্ততা বা উদারীকরণের ক্ষেত্রে সুবিধা-অসুবিধা দুটোই রয়েছে। উন্মুক্ততার ঝুঁকি ঠিকমতো মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হলে লাভের চেয়ে লোকসান হওয়ার সম্ভবনা বেশি। এ জন্য এক্ষেত্রে যে কোন পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গ্রহণ করতে হবে।

তিনি অর্থনীতি উন্মুক্তকরণের সুবিধা নিশ্চিত করতে এ অঞ্চলের দেশসমূহের বৈদেশিক লেদেনের নীতি ও কার্যকরণের মধ্যে সুসমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে জানানো হয়, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিসমূহের উন্মুক্ততা বা উদারীকরণের অবস্থা ও মূলধন প্রবাহের উত্থান-পতন সম্পর্কিত অস্থিতিশীলতাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সার্ক দেশসমূহের চলমান বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির গতিধারাকে এসব ঝুঁকির বিরুদ্ধে সুরক্ষিত রেখে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের জন্য সম্ভাব্য নীতি অনুসন্ধান সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য।

দু’দিনব্যাপী সেমিনারে সার্কভুক্ত দেশসমূহের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকের প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার মোদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

image_79072_0বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশী মানুষের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা৷ বলেছেন, ভারতের নির্বাচন কমিশন চাইলেই এটা হতে পারে৷ বাংলাদেশের মানুষ, ভূখণ্ড এবং ধর্ম নিয়ে নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি এখনো পর্যন্ত যেসব কথা বলেছেন, তা বাংলাদেশের মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে৷ মোদি যদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে – তা নিয়ে আশংকার সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশে৷ সর্বশেষ ১৬ মে-র পর ভারত থেকে ‘অবৈধ বাংলাদেশী’ বিতাড়নের যে ঘোষণা তিনি দিয়েছেন, তা স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে৷ বিজেপি অবশ্য দীর্ঘদির ধরেই প্রচার চালিয়ে আসছে যে ভারতে দুই কোটি অবৈধ বাংলাদেশী আছে৷

এর আগে মোদি বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ ভূখণ্ডের মালিকানা দাবি করেছিলেন৷ বলেছিলেন, পূর্ব ভারতীয় রাজ্যগুলোতে বেকারত্বের মূল কারণ অবৈধ বাংলাদেশীদের অবস্থান৷ এছাড়া বাংলাদেশের হিন্দুদের ভারতে আশ্রয় দেয়ার কথা বলে ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টিরও চেষ্টা করেছেন তিনি৷

সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, “মোদি নির্বাচনে জেতার জন্য স্পষ্টতই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে উসকানিমূলক কথা বলছেন৷ যা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক এবং অগ্রহণযোগ্য৷”

তিনি বলেন, “এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতেও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে৷” তার মতে, “মোদির বক্তব্য একটি অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে, যা ভারতের নির্বাচন কমিশনের খেয়াল রাখা উচিত৷”

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘‘ধর্ম, সম্প্রদায়, জাতি, গোষ্ঠী বা কোনো দেশকে আক্রমণ করা নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন৷ ভারতের মতো একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার এই চিত্র গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে আহত করে৷ তাই ভারতের স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে মোদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া৷ তাকে নির্বাচনী আচরণ-বিধি মানতে বাধ্য করা৷”

তার কথায়, ‘‘শুধু পাল্টা বক্তব্য নয়, ভারতের অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের উচিত সেখানকার নির্বাচন কমিশনে মোদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানানো৷”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আমেনা মহসিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মোদির এই প্রচারণা কেবল ভোট বাড়ানোর কৌশল নয়, ভারতকে আরো বেশি করে হিন্দুত্ববাদের দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনারই অংশ৷ কেবল ধর্মীয় কারণে নয়, অর্থনৈতিক কারণেও ভারতের নিম্নবর্গের মানুষ মোদীর এই প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হবে৷ বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া মানুষদের শত্রু বিবচেনা করবে তারা৷”

তিনি বলেন, ‘‘যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা তাদের কথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশীদের’ দেশ ছাড়া করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকেই এগোবে৷ এটাই হিন্দুত্ববাদের দর্শন৷”

অন্যদিকে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন পর্যক্ষেক পরিষদ বা জানিপপ-এর চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, “মোদির প্রচারণায় ভোটের জন্য যত কৌশল আছে, সবই অবলম্বন করা হচ্ছে৷ তাতে ধর্ম, প্রতিবেশী রাষ্ট্র – কিছুই বাদ দেয়া হচ্ছে না৷ তবে আশার কথা, ভারত একটি বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ৷ সেখানকার নির্বাচন কমিশন স্বাধীন৷ ভারতের গণতন্ত্র একটি শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে৷ তাই এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়া বা প্রতিক্রিয়া দেখানো ঠিক হবে না৷”

বাংলাদেশের উন্নয়নে আরো জার্মান সহায়তার প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর

7685c3ce527ef008474d19f07927ca4d20131119প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন যাত্রায় জার্মানির অধিকতর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।
বর্তমান সরকার ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশেকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা জার্মান সরকার, জনগণ ও রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি’।

সফররত জার্মান পার্লামেন্টের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাত করলে তিনি এ অনুরোধ জানান।
জার্মান পার্লামেন্টের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ডাগমার জি. ওহরল প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে আরো জার্মান বিনিয়োগের আহবান জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে আমরা আরো জার্মান বিনিয়োগ চাই’।

তিনি বলেন, তাঁর সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এবং সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বিস্তারের মাধ্যমে দারিদ্রসীমা ৪০ থেকে ২৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এসে তাঁর বিগত সরকারকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সংগাম করতে হয়েছে। এরপরও তাঁর সরকার দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য দারিদ্র, ক্ষুধা ও নিরক্ষরতা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। যেখানে থাকবে না জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদের অভিশাপ। সেই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে জার্মানির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধবিদ্ধস্ত বাংলাদেশ পূনঃগঠনে জার্মান সরকারের সহায়তার কথা উল্লেখ করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর স্বামী প্রখ্যাত পরমানু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানীতে অবস্থানের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘জার্মানীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক আবেগের।’

জার্মান সংসদীয় প্রতিনিধিদলের নেতা বলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে জার্মানির দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব রয়েছে। তিনি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা পূরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জার্মাান সরকারের সহায়তার আশ্বাস দেন।

ডাগমার মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমজিডি) অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করেন। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণের যে অগ্রগতি হয়েছে তিনি তারও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, এ্যাম্বাসেডর-এট-লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার, বাংলাদেশে জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. এ্যালবার্ট কনজে এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি মাহবুবুল হক শাকিল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

১৫ মে’র মধ্যে সর্বত্র বাংলা ভাষা চালুর নির্দেশ

image_79261_0আগামী ১৫ মের মধ্যে দেশের সব অফিস আদালতসহ সর্বত্র বাংলা ভাষা প্রচলনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ইতিপূর্বে দেয়া আদেশে বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার পর মঙ্গলবার বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টে বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

একই সঙ্গে আদালত বলেন, বাংলা পত্রিকায় বাংলায় এবং ইংরেজি পত্রিকায় ইংরেজিতে বিজ্ঞাপন দিতে পারবে। তবে অন্য সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা প্রচলনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি একই বেঞ্চ এক মাসের মধ্যে সব বিদেশী ভাষার বিজ্ঞাপন এবং গাড়ির নেম প্লেট বাংলায় পরিবর্তনের জন্য কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

দুই সপ্তাহের মধ্যে বিবাদী মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট সচিব, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্টরা আদালতে হাজির হয়ে জবাব না দিলে তাদের তলব করে আদালতে দাঁড় করিয়ে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনূস আলী আকন্দ হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন।

জানতে চাইলে আইনজীবী ইউনুস আলী জানান, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদে রয়েছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। এছাড়া ১৯৮৭ সালে এরশাদ সরকারের আমলে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন’ প্রণয়ন করা হয়।  বাংলা ভাষা প্রচলন আইন ১৯৮৭ এর ৩ নং ধারায় বলা হয়েছে, দেশের সব অফিস আদালতে বাংলা ভাষার প্রচলন করা হবে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন করা হয়নি। তাই সর্বত্র বাংলা চালুর নির্দেশনা চেয়ে এই রিট করা হয়।

গুমের ঘটনায় সরকার ‘জানি না’ বললে চলবে না: খন্দকার মাহবুব

image_79292_0বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভেকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, “সারা দেশে ঘটতে থাকা গুমের ঘটনা উদঘাটনে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। সরকার তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে।”

মঙ্গলবার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “গুমের দায় এড়িয়ে ‘জানি না’ বললে চলবে না। জানি না বলে দায় এড়ানো যায় না। দায় এড়ানোর চেষ্টা করলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে।”

তিনি বলেন, “হত্যা, গুম ও অপহরণের আতঙ্কে মনে হয় দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে।”

এ বিষয়ে আদালতে যাবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আদালত গিয়ে কাজ হয় না। আদালতের আদেশের বিষয়ে সরকার কোনো জবাব দেয় না। রুল জারি করলেও রুলের কোনো সাড়া পাওয়া যায় না।”

গুম, হত্যা বন্ধ না হলে আন্দোলনের বিকল্প কিছু নাই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাহবুব হোসেন আরো বলেন, “জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্রায় ৩০০ ব্যক্তিকে হত্যা, গুম ও অপহরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দলীয় তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত র্যা ব ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় ২৭২ জন বিরোধীদলের নেতাকর্মী খুন, ২৫ জন গুম ও ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছে।”

তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকার গত রোববার কোর্ট হতে বের হওয়ার পর সাদা পোশাকধারী কতিপয় ব্যক্তি তাকে এবং তার ড্রাইভারকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অথচ এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও এ বিষয় স্বীকার করেনি। যা জাতির জন্য খুবই হতাশাজনক।”

অবিলম্বে দায়িত্ব গ্রহণ করে এসব বিষয় থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে দাবি জানান খন্দকার মাহবুব। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ বারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট ল’রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যালয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির নেতারা এক সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারকে অবিলম্বে উদ্ধারের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

উন্নয়ন এজেন্ডায় অভিবাসন ইস্যুকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অর্ন্তভুক্ত করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

7685c3ce527ef008474d19f07927ca4d20131119প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডায় অভিবাসন ইস্যুকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অর্ন্তভুক্ত করার আহবান জানিয়ে বলেছেন, প্রত্যেক অভিবাসীকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের উপাদানের পরিবর্তে একজন মানুষ হিসাবে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, “অভিবাসীকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা উৎপাদনের উপাদান হিসেবে দেখলে চলবে না। তাদেরকে মানুষ হিসেবে গণ্য করতে হবে। অন্যান্য নাগরিকের মত তাদের জন্যও সকল সুযাগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী আজ রূপসী বাংলা হোটেলে ‘২০১৫- পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডায় অভিবাসন সংক্রান্ত দুদিন ব্যাপী বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞ সভায় ’ এ আহবান জানান। বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের যৌথ উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সমাজ এবং অর্থনীতি বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের সাথে সাথে মৌলিক সেবার চাহিদা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। যা বৈশ্বিক মানব স্থানান্তরের গতিধারাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। পাশাপাশি অভিবাসী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের মত বিষয়গুলো জোরালো হচ্ছে।
বাংলাদেশের মত পরিবেশ নাজুক এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো এসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে –একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবিলার জন্য সকল উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবশ্যই জনগণকে রাখতে হবে। জনগণের মর্যাদা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। যেসব মানুষ একস্থান থেকে অন্যস্থানে গমন করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও এটা সমানভাবে প্রযোজ্য।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এএইচএম মোস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলের আর্ন্তজাতিক অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিনিধি স্যার পিটার সুথারলেন্ড’র একটি ভিডিও বার্তা অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা হয়।
২০১৩ সালের মার্চ মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জনমিতি সংক্রান্ত ‘বৈশ্বিক নেতৃত্ব’ বৈঠকে শেখ হাসিনা উন্নয়নের উপর অভিবাসনের প্রভাব বিষয়ে যে মতামত দিয়েছিলেন তার উল্লেখ করেন। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈশ্বিক জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং এর ফলাফলজনিত চ্যালেঞ্জ কীভাবে কল্যাণকরভাবে মোকাবিলা করতে পারে এবং পাশাপাশি অভিবাসন এবং স্থানান্তরের সুফল কীভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে তখন তিনি তার বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক দেশের মত বাংলাদেশও জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে ২০১৫-পরবর্তী এজেন্ডায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা বা এসডিজিএস এর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অত্যন্তÍ গুরুত্বের সাথে তুলে ধরছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সামাজিক এবং অর্থনৈতিক খাতে, বিশেষ করে, দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,“ বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও ৬ শতাংশেরও অধিক হারে আমাদের জিডিপি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। অতি দরিদ্রের সংখ্যা ২৯ শতাংশে হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যেই ৩১ শতাংশ অর্জন করেছি।”
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি অভিবাসীদের সাথে কথা বলে বুঝতে পেরেছেন, অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক এবং কল্যাণমূলক করা প্রয়োজন। “আমাদের আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে হবে অভিবাসীদের অধিকারের বিষয়টি। উৎস এবং গন্তব্য উভয় দেশে অভিবাসন এবং অভিবাসী কর্মীদের ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে হবে। আমাদের জনগণকে বলতে হবে – অভিবাসন সব সমাজের জন্যই একটি প্রয়োজনীয় উপাদান ।”
এক্ষেত্রে তিনি ছয়টি বিষয়ের প্রস্তাব করে বলেন, এগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্য এবং সূচক হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলো হচ্ছে: প্রথমত , ২৫ কোটির কাছাকাছি অভিবাসী আজ বিশ্বব্যাপী কাজ করে, বসবাস করেন অথবা ভ্রমণ করেন। নিজ দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে তারা অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। দেশে ফেরার সময় তারা কাজ ও জীবনের যেসব অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং ধ্যান-ধারণা নিয়ে ফিরে আসছেন, তার মাধ্যমেও নিজ দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
দ্বিতীয়ত, মানুষের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে গমন অবশ্যম্ভাবী। টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য মানুষের অধিক হারে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা ক্রমাগতভাবেই গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে উন্নত দেশসমূহের জনসংখ্যার দৃশ্যপট পরিবর্তন এর অন্যতম কারণ। একজন অভিবাসী কর্মীকে উন্নয়নের অনুঘটক হিসেবে দেখতে হবে এবং প্রক্রিয়াটিতে প্রতিটি ব্যক্তির মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে।
তৃতীয়ত, একজন অভিবাসীকর্মী যখন বিদেশে যান, তখন তাকে সামাজিক-আবেগিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এক ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। বিশেষ করে অভিবাসী নারী এবং বালিকাদের ক্ষেত্রে এটা বেশি করে প্রযোজ্য। নিজ সমাজেও তাদের বিভিন্ন ধরনের ভুল ধারণার মুখোমুখি হতে হয়। তাদের জন্য আরও সুন্দর এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
চতুর্থত, বাংলাদেশের মত দেশে ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত যুব জনসংখ্যার কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকে এই প্রশিক্ষণযোগ্য যুব জনশক্তিকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। উন্নত দেশগুলোকে এশিয়া এবং আফ্রিকার যুব জনসংখ্যাকে জ্ঞান ও দক্ষতা বিষয়ে প্রস্তুত করতে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশে আমরা এই বিশালসংখ্যক যুবক এবং যুব মহিলার দ্রুত প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।
পঞ্চমত, ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনায় অংশীদারিত্ব এবং সহযোগিতা দু’টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমাদের সীমাবদ্ধতা এবং সম্পদের অপ্রতুলতা সত্বেও আমরা সহ¤্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সম্পদ ও সামর্থের যোগান দিয়ে যাচ্ছি। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে সহায়তা প্রদানের জন্য উন্নত দেশগুলোকে আর বেশি করে তাদের অর্থ-জ্ঞান-প্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
সর্বশেষ, ২০১২ সালে রিও-তে অভিবাসীদের সব ধরনের অধিকার প্রদানের বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় ঐকমত্য পোষণ করেছিল। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রতিটি অভিবাসী পুরুষ ও নারীর অধিকারকে সমর্থন দিতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে এমন উপায় চিহ্নিত করার আহবান জানান- যাতে অভিবাসন দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখতে পারে, প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়, অসমতা হ্রাস করে এবং বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নে সহায়ক হয়।
তিনি বলেন, অভিবাসন প্রক্রিয়ায়, অভিবাসীদের বিশেষ করে নারী ও বালিকাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। অভিবাসী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য গুণগত মৌলিক শিক্ষা, ভকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
এছাড়াও উৎস ও গন্তব্য উভয় দেশে যাতে তারা অবদান রাখতে পারেন, সেজন্য অভিবাসীদের সব ধরনের প্রস্তুতিমূলক বিষয়ে সহায়তা প্রদান এবং অর্থ প্রেরণসহ অভিবাসীদের সব ধরনের খরচের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই ও সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সঙ্গে এগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এসব বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আগামী ১৫ বছরে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা- এসডিজি এস সব দেশের জন্য একটি দূরদর্শী এবং বৈপ্ল¬বিক লক্ষ্য হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি মনে করেন, এগুলো সর্বজনীন এবং প্রতিটি দেশের ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি ও চাহিদা বিবেচনায় সমস্যার সামগ্রিক সমাধান প্রয়োজন।

ঈদে আসছে ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’

image_79102_0অনন্ত-বর্ষা জুটির ষষ্ঠ সিনেমা ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’ আগামী ঈদে মুক্তি পাচ্ছে। প্রথমে বাংলাদেশে মুক্তি পাওয়ার পর ধাপে ধাপে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ইতালি, দুবাই, কাতার, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তি দেয়া হবে ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’। তবে এখনো সিনেমাটির নির্মাণ কাজ চলছে।

২০১০ সালে অনন্ত জলিল-আফিয়া নুসরাত বর্ষা জুটির প্রথম সিনেমা ‘খোঁজ- দ্য সার্চ’ মুক্তি পাওয়ার পর এর ব্যবসায়িক সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে গত চার বছরে পরপর মুক্তি পায় একই জুটির আরো চারটি সিনেমা- ‘হৃদয় ভাঙা ঢেউ’, ‘দ্য স্পিড ২০১০’, ‘মোস্ট ওয়েলকাম’ ও ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’। এরপরেই ষষ্ঠ সিনেমা হিসেবে ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’র কাজে হাত দেন অনন্ত। অভিনয়ের পাশাপাশি সবগুলো সিনেমারই প্রযোজক ছিলেন পেশায় ব্যবসায়ী অনন্ত নিজেই এবং ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’র পর ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’ অনন্ত পরিচালিত দ্বিতীয় সিনেমা।

অনন্ত জলিলের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান মুনসুন ফিল্মসের মিডিয়া কমিউনিকেশন বিভাগের ব্যবস্থাপক এবং অনন্তর ব্যক্তিগত সচিব এস এম সজীব।

অনন্ত-বর্ষা ছাড়াও ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’তে অভিনয় করছেন সোহেল রানা, মিশা সওদাগর, চম্পা, ভারতীয় অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ ও অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি। এছাড়াও সিনেমার একটি আইটেম গানে বলিউড অভিনেত্রী বিপাশা বসুরও অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। ভারতের মুম্বাই ও চেন্নাই ছাড়াও হলিউডের ইউনিভার্সাল থিয়েটারেও সিনেমাটির নির্মাণ পরবর্তী কাজ করা হবে বলে জানা গেছে।

ব্যর্থতার দায় নিয়ে জাতীয় দলের কোচের পদত্যাগ

image_79100_0অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন শেন জার্গেনসেন। ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ শেন জার্গেনসেন।

বাংলাদেশ দলের ট্রেনার ডেভিড ডয়ার ভালো চাকরির অফার পেয়ে আগেই দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তখন থেকে জার্গেনসেনের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন উঠে।তবে এতোদিন এই অষ্ট্রেলিয়ান নীরব থাকলেও সোমবার নীরবতা ভেঙে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

শ্রীলংকার সঙ্গে চরম ব্যর্থতার পর এশিয়া কাপেও হতাশাজনক পারফরমেন্স করে টাইগাররা। ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। তখন থেকেই চাউর উঠে জার্গেনসেনের ওপর সন্তুষ্ট নয় বিবিসি। এছাড়া বিসিবি সভাপতি সম্প্রতি দলে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টানা ব্যর্থতা, ট্রেনার ও কোচের পদত্যাগ-সবমিলিয়ে টালমাটাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী বছরই অস্ট্রেলিয়ায় বসবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসর। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অনতিবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ কোচ ও ট্রেইনার নিয়োগ দেয়া দরকার বিসিবির। সে লক্ষ্যেই শিগগিরই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে বলে বিসিবি সূত্র জানায়্।