বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

গৌরীপুরে আধাবেলা হরতাল চলছে

শহরের ঐতিহ্যবাহী মুমিনুন্নেছা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনকে দিগম্বর করার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার ডাকে গৌরীপুরে অর্ধদিবস হরতাল চলছে। এ ঘটনায় পুলিশ রাতে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।image_97232_0

মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টার পর্যন্ত এই হরতাল চলবে।

হরতালে গৌরীপুর শহরে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলেনি। গৌরীপুর থেকে দূরপাল্লা সব যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। কোনো ট্রেন চলাচল করেনি। ফলে অফিসগামী লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শহর ও শহরতলীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গৌরীপুর থানার এসআই (উপপরিদর্শক) মঈন উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সোমবার রাতে ডৌহাখলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা গাজীপুর গ্রামের রমজান আলী মুক্তি ও চুড়ালি গ্রামের মনুকে আটক করেছে।

উল্লেখ্য, বোরবার বিকেলে কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ফেরার পথে কলতাপাড়া বাজারে রাস্তার ওপর জনসমক্ষে এমপির আস্তাভাজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ক্যাডার আকরাম মেম্বার, ভারপ্রাপ্ত ই্উনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল, ভিডিপি সাত্তার ও এমপির ভাতিজা ফারুকসহ ১৫/২০ জনের একটি ক্যাডার দল তাকে দিগম্বর করে।  পরে তাকে দিগম্বর অবস্থায় টেনে হিচড়ে এমপির সেবালয়ে নিয়ে অমানুবিক নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার গৌরীপুরে শহরে ছাত্র-জনতা মানববন্ধন-বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। পরে সমাবেশ থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এ হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

বাস চাপায় এসআই নিহত

আশুগঞ্জে বাস চাপায় এসআই মো. নাসির উদ্দিন শরিফ (৩৫) নিহত হয়েছেন।image_97228_0

মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত নাসির উদ্দিন আশুগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন। পুলিশ নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে পেশাগত কাজে থানা থেকে বের হয় নাসির। এ সময় রাস্তা পারাপারকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী যাত্রীবাহী রয়েল বাস আশুগঞ্জ থানার সামনে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. মহিউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সংলাপ নিয়ে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য রসিকতা

সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সংলাপ নিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেটের বক্তব্যকে দেশের ১৬ কোটি মানুষের সঙ্গে নির্মম রসিকতা বলে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।image_97209_0

সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট জাতিসংঘের মহাসচিব মি. বান কি মুনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সরকারের ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরে বিরোধীদলের সঙ্গে সংলাপ করার যে কথা বলেছেন আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তার এ বক্তব্য অন্যায়, অযৌক্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তার এ বক্তব্যে দেশি-বিদেশি সর্ব মহল বিস্মিত হয়েছে। তার এ বক্তব্য জাতিকে হতাশ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এ নির্বাচনে শতকরা ৫ ভাগ ভোটারও কেন্দ্রে ভোট দিতে যায়নি। ভোটারবিহীন ও বিরোধীদলের অংশগ্রহণ বিহীন এ নির্বাচনে সরকার রাষ্ট্র শক্তিকে অপব্যবহার করে জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে। তাই এ সরকারকে কেউ বৈধ সরকার মনে করে না। তাই সব দলের অংশগ্রহণে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে অবিলম্বে বিরোধীদলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করার জন্য দেশি-বিদেশি মহল সরকারকে তাগিদ দিচ্ছে। এ তাগিদকে অগ্রাহ্য করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি যে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত বক্তব্য দিয়েছেন তা দেশের ১৬ কোটি মানুষের সঙ্গে নির্মম রসিকতা ছাড়া আর কিছুই না।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে দলীয় নেতার মত যে বক্তব্য দিয়েছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের ১৬ কোটি মানুষের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে অবিলম্বে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিরাজমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

৫শ ৩ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৫০৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকার তিনটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে।image_97238_0

মঙ্গলবার সকালে পরিকল্পনামন্ত্রণালয়ে একনেকের নিয়মিত সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সাদ্দামকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া সেই বিচারকের ফাঁসি কার্যকর

ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডদানকারী বিচারক রউফ আবদুল রহমানকে ‘ধরে ফাঁসি কার্যকর’ করেছে দেশটির সুন্নি বিদ্রোহী সংগঠন আইএসআইএস।image_87559_0

সুপ্রিম ইরাকি ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনালের প্রধান হিসেবে ২০০৬ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন আবদুল রহমান।

সুন্নি বিদ্রোহীরা গত সপ্তাহে ৬৯ বছর বয়স্ক ওই বিচারককে আটক করে। তবে ইরাক সরকার এখনো তার মৃত্যু নিশ্চিত করেনি। তবে তাকে যে আটক করা হয়েছে, সে খবর অস্বীকার করেনি।

১৬ জুন তাকে আটক করা হয় বলে ধারণা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর তার মৃত্যু ঘটে এর দুই দিন পর।

জর্দানি এমপি খালিল আত্তিয়া তার ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, বিচারক রহমানকে গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শহিদ সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুর বদলা নিতে ইরাকি বিপ্লবীরা তাকে গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

তিনি লিখেছেন, বিচারক রহমান নর্তকির পোশাক পরে বাগদাদ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সফল হননি।

সাদ্দামের সাবেক সহকারী এবং বর্তমানে বিদ্রোহীদের অন্যতম নেতা ইজ্জাত ইব্রাহিম আল দুরিও বিচারক রহমানকে আটক করার খবর তার ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন।

কুর্দিশ নগরী হালবিয়ায় জন্মগ্রহণকারী বিচারক রহমান ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে সাদ্দামের বিচার করার দায়িত্ব নেন। বিচারকাজ তখন মাঝপথে ছিল। তার আগের বিচারক রিজগার আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি সাদ্দাম হোসেন ও তার সহযোগীদের প্রতি বেশ নমনীয় ছিলেন।

বিচারক রহমান তিন সন্তানের জনক। তিনি ১৯৯৬ সালে কুর্দিশ আপিল কোর্টের প্রধান বিচারক নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৮২ সালে ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িত সন্দেহে ১৪৮ জনকে হত্যার অভিযোগে সাদ্দামকে ফাঁসি দিয়েছিলেন। ওই রায়ের পর সাদ্দামের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ঈদুল আজহার দিন সাদ্দামের ফাঁসি দেয়া হয়।

খবর পাওয়া গিয়েছিল, জীবনের ভয়ে ২০০৭ সালে বিচারক রহমান বৃটেনে আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। তবে কেন তা অনুমোদিত হয়নি, তা জানা যায়নি। সূত্র: ডেইলি মেইল।

সার্কভুক্ত দেশের রাষ্ট্রদূতদের ডেকেছেন সুষমা স্বরাজ

সার্কভুক্ত দেশের রাষ্ট্রদূতদের ডেকেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সোমবার নয়া দিল্লিতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে উপস্থিত হতে প্রতিবেশী সব দেশের ভারতীয় মিশন প্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং।image_87581_0

রোববার নয়া দিল্লির সাউথ ব্লকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের বিষয় নির্ধারণই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

রোববার প্রকাশিত এ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার শপথ অনুষ্ঠানে সার্ক নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশীদের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক সম্পর্ক নির্ধারণের লক্ষ্যে সোমবারের এ বৈঠক ডাকা হয়েছে।

বৈঠকে মরিশাসের ভারতীয় মিশন প্রধানকেও অংশ নিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারতের নতুন সরকার ইতিমধ্যে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর সুষমা স্বরাজও বলেছেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপরই তিনি জোর দেবেন।
সুষমা স্বরাজ আগামী বুধবার তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন। সফরে শীর্ষ নেতৃবন্দের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

তারেক রহমানই ভরসা?

নানা কারণেই গতিহীন বিএনপি। কেন্দ্রীয় নেতারা এখন নানান দোকান নামের ব্যানারে সেমিনার বক্তা। সাংগঠনিক কাজে নেই কেউ। দলের পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্ব ধান্দাবাজদের হাতে। ছাত্রদল আছে কি নাই তা বোঝাই যায় না। আন্দোলন চাঙ্গায় নতুন কমিটির কথা বললেও তার খোঁজ নেই। নেতৃত্বের আশায় থাকতে থাকতে ছাত্রত্ব, ধৈর্য সব শেষ। হতাশা এখন তাদের নিত্য সঙ্গী।একই অবস্থা অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের। দলে এমন কেউ নেই যিনি শেষ কথাটা বলবেন। সংগঠনকে দিক নির্দেশনা দেবেন। আর এসব কিছু খালেদা জিয়া করবেন- এমন যারা আশা করেন তারা হয় রাজনীতি বোঝেন না, নয় নিজেদের দায়িত্ব এড়ানোর মওকা খুঁজেন।

এসব সংকট থেকে বিএনপিকে কে উদ্ধার করবেন- এই প্রশ্নটি এখন বিলিয়ন কোশ্চেন হিসেবে সামনে এসেছে। ঘুরেফিরে দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামই সামনে আসছে। ইদানীং দেশের বাইরে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে তার বক্তব্য, সবশেষ তথ্যবহুল বইয়ের সম্পাদনা নেতাকর্মীদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে বলে দলের অনেকেই মনে করেছেন।image_87515_0

এক এগারোর মঈন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময়ে গ্রেফতারের পর অসুস্থত হয়ে পড়ায় তখন থেকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন তারেক। প্রথম দিকে তিনি প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেননি। তবে গত নির্বাচনের ঠিক আগ মূহূর্তে দল ও দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন তারেক। তা নিয়ে কোথাও কোথাও সমালোচনা হলেও সে বক্তব্য তখন নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছিল মনে করা হয়। যদিও আন্দোলনে গতি না থাকায় নির্বাচন প্রতিহত করতে পারেনি বিএনপি।

এরপর থেকে প্রায়ই তারেক রহমান বিভিন্ন কর্মসূচিতে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন। হয় লন্ডনে না হয় অন্য দেশে। এসব কর্মসূচিতে তিনি সরকারি দলের নেতাদের নানা বক্তব্যের জবাব দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়েও কথা বলছেন। এসব বিষয় নিয়ে নীরব থাকলেও তারেকের বক্তব্যের পর দলের শীর্ষ নেতাদের তা প্রচারে সোচ্চার হতে দেখা গেছে। সভা সমাবেশে তারেকের বক্তব্যের স্বপক্ষে কথা বলতে দেখা গেছে শীর্ষ নেতাদের।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিদেশে অবস্থান করলেও তারেক রহমান প্রতিনিয়ত দলের সার্বিক খোঁজখবর রাখছেন। পাশাপাশি দল পুনর্গঠনেও নজর রাখছেন। এ কারণে মূল দল ও অঙ্গ সংগঠনের ব্যর্থ নেতারাও এখন তার মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন নেতা ও ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা বাড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি রাজধানীতে একটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে নেতাকর্মীদের মধ্যে তারেকের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা গেছে। কারণ নিজের সম্পাদনা করা বইয়ের প্রকাশনা উৎসব তারেক রহমান লন্ডনে বসে স্কাইপেতে প্রত্যক্ষ করছিলেন বলে জানা গেছে।

ইদানীং নানা মহলে আলোচনা হচ্ছে-বিএনপি এখন আর বিএনপির হাতে নেই। নেতৃত্বের বেশিরভাগ দোদুল্যমান অবস্থায় আছেন। বিভিন্ন দল ও প্লাটফর্ম থেকে আসা নেতাদের কমিটমেন্ট নিয়ে দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কোন নেতা কার পারপাস সার্ভ করেন তা নিয়ে ক্রমেই সন্দেহ দানা বাঁধছে।

তবে নেতাদের অনেকে এ বিষয়টি মানতে নারাজ। তারা বলছেন, সুস্থ হলেই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন এবং দলের হাল ধরবেন। এখন তারা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনে আছেন।

জানা যায়, একক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকলেও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কখনো কখনো তা পারছেন না। এর জন্য অদৃশ্য শক্তিকে দায়ী করা হচ্ছে। সবসময় যারা তার (খালেদা জিয়া) পাশে অবস্থান করছেন তাদেরকেই অদৃশ্য শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করছেন দলের ত্যাগী নেতারা।

অভিযোগ আছে, খালেদার আমলা-উপদেষ্টাদের কেউ কেউ মাসে লাখ লাখ টাকা ভাতা পাচ্ছেন। অথচ দলের বিপদকালে তাদের খোঁজ থাকে না। এমনকি চেয়ারপারসনকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেও কোনো পরামর্শ দিতে পারছেন না। যা নিয়ে দলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “গণতন্ত্রের মুখোশ পরে দুটি পরিবারই মূলত বাংলাদেশ চালাচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই তারেক রহমান বিএনপির হাল ধরবেন। তবে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন না হলে তিনি (তারেক) দেশে আসতে পারবেন বলে মনে হয় না। আর বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা সবচেয়ে বেশি। যে কারণে এতো বৃহৎ আন্দোলনের পরও ঢাকার রাস্তায় নেতাকর্মীদের পাওয়া যায়নি।”

তবে এখনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারবে বলে মত দেন তিনি।

নির্বাচনের পরও আন্দোলন অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারেক রহমানের বক্তব্যকে যৌক্তিক হিসেবে দাবি করছেন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। তিনি বলেন, “আন্দোলন কন্টিনিউ করার ব্যাপারে তারেক রহমানের বক্তব্য যৌক্তিক ছিল। কারণ আন্দোলন চললে এখন খালেদা জিয়া যে সরকারকে অবৈধ বলছেন সে দাবি আরো শক্তিশালী হতো। তখন নির্বাচনের জন্য বিদেশীরা চাপ প্রয়োগ করতো এবং সরকারও বিকল্প চিন্তা করতে বাধ্য হতো।”

বিএনপি এখন আর বিএনপির হাতে নেই- জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, “বিএনপির যেসব নেতাদের টাকা ছিল না, তাদের এখন ঢাকায় ৪০-৫০টি করে ফ্ল্যাট। তারা কোটি কোটি টাকার মালিক। আর সম্পদে যাতে হাত না দেয় সেজন্য তারা সরকারের সঙ্গে আঁতাত করছে বলে মনে হয়। তাই চাইলেও বিএনপি আন্দোলনে গতি আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। সে কারণে দলে পূনর্গঠনের বিকল্প নেই।”

আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষক অধ্যাপক গোবিন্দ চক্রবর্তী নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশের প্রধান দু্টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চার কোনো সুযোগ নেই। এখানে মেরুকরণের রাজনীতি চলছে। সে কারণে সাধারণ মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মৌলিক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে খালেদা জিয়ার পরে তারেক রহমান এবং শেখ হাসিনার পর জয় অথবা শেখ রেহানা দলের হাল ধরবেন।” তবে এই ধরনের রাজনৈতিক চর্চা সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য শুভকর নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আর বিএনপি এখন বিএনপির হাতে নেই এমন বক্তব্যে দ্বিতম পোষণ করেছেন অধ্যাপক চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “বিএনপি এখনো বিএনপির হাতেই আছে। তবে তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেরর কারণে সাংগঠনিকভাবে নিজেদের গোছাতে পারছে না। উদাহরণ স্বরূপ- ঢাকা মহানগরে আব্বাস-খোকার দ্বন্দ্ব, কাউন্সিল করে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে ভারমুক্ত করতে না পারা।”

তিনি আরো বলেন, “কেউ কেউ বলছেন-খালেদা জিয়া আমলাতান্ত্রিক উপদেষ্টাদের কারণে দলের বর্তমান পরিস্থিতি। আবার কেউ বলছেন- খালেদা জিয়াসহ অন্যরা একভাবে চেষ্টা করলেও তারেক রহমান অন্যভাবে চেষ্টা করেন। তবে বিএনপিকে অতীতের ভুল শুধরে নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই।”

বাণিজ্যমন্ত্রীকে নজরুলের চ্যালেঞ্জ

দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন ইন্ডাস্ট্রি অল, বিদেশে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ব্যাপারে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে বলে image_87561_0বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ যে অভিযোগ করেছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন সংগঠনটির বাংলাদেশের প্রধান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

বিষয়টি বাণিজ্যমন্ত্রী প্রমাণ করতে পারলে যেকোনো শাস্তি মেনে নেবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান এই শ্রমিক নেতা।

জিএসপি ফিরে পেতে ব্যর্থ হওয়ায় বাণিজ্যমন্ত্রী এর দায় এড়াতে চাইছেন বলে পাল্টা অভিযোগ করেন নজরুল।

এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “জিএসপি ফিরে পেতে তিনি আমেরিকায় গেলেন এবং ব্যর্থ হলেন, তাই এই ব্যর্থতার দায় বিএনপির ওপর চাপাতে চান।”

আওয়ামী লীগের অনেক অর্জন এখনো বাকি: আশরাফ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, “৬৫ বছরে আওয়ামী লীগের অনেক অর্জন রয়েছে। তবে আরো অনেক অর্জন এখনো বাকি রয়েছে। আমরা বিগত অর্জনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবো, আগামীতে জাতিকে আরো বেশি দেব।”image_87542_0

সোমবার সকাল পৌনে ৮টায় দলের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, ড. হাছান মাহমুদ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, যু্বলীগ চেয়ারম্যান উমর ফারুক চৌধুরী প্রমুখ।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, “আওয়ামী লীগ এমন একটি রাজনৈতিক দল, যার অতীত সুখ্যাতি রয়েছে। যারা ৬৫ বছরের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুথান. সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেয়। এই অর্জনের ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। ভবিষ্যত্ বাংলাদেশ গঠনেও আওয়ামী লীগ আরো অর্জন করবে।”

মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে আরো এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম আওয়ামী লীগকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

এর আগে সকাল সাতটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি দলীয় সভানেত্রী হিসেবে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

আওয়ামী লীগ আজ বেলা সাড়ে তিনটায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়ক পর্যন্ত গণশোভাযাত্রার আয়োজন করেছে।

ভারী বর্ষণে ভোগান্তি রাজধানীবাসীর

সোমবার সকাল হতে না হতেই আকাশ কালো করে রাজধানীতে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। তলিয়ে যায় বেশিরভাগ এলাকা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ।image_87552_0

গত কয়েকদিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও সকাল থেকেই মেঘের গর্জনে মুষলধারে বৃষ্টি হয় রাজধানীতে। টানা এই বৃষ্টিতে কাঁঠালবাগান, রামপুরা, মালিবাগ, মিরপুরসহ তলিয়ে যায় রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকা। এমনকি প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়েও পানি জমে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

সোমবার সকালে বৃষ্টিতে জবুথবু হয়েই কর্মস্থলের উদ্দ্যেশে বের হন সাধারণ মানুষ। বাড়তি ভোগান্তি হিসেবে যোগ হয় চরম যানবাহন সংকট আর যানজট। গাড়ি না পেয়ে রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অফিসগামী মানুষদের।

রাজধানী ঢাকায় সোমবার সকালে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।