শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজে মেক্সিকান নৌবাহিনীর জাহাজের ধাক্কা, নিহত ২

নিউ ইয়র্ক শহরের ইস্ট রিভার দিয়ে যাওয়ার সময় ঐতিহাসিক ব্রুকলিন ব্রিজে ধাক্কা দিয়েছে মেক্সিকান নৌবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ জাহাজ। স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ মে) এই দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রে এক শুভেচ্ছা সফরে অংশ নিয়েছিল।

দুর্ঘটনার সময় ধারণকৃত বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বিশাল মেক্সিকান পতাকা উড়িয়ে পাল তোলা জাহাজটি ব্রিজের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় ব্রিজের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে জাহাজটির তিনটি মাস্তুল ভেঙে পড়ে। ব্রিজের উপর তখন ভারী যান চলাচল চলছিল।

মেক্সিকান নৌবাহিনী সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, ‘কুয়াউতেমোক’ নামের প্রশিক্ষণ জাহাজটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে সেটি তার সফর আর চালিয়ে যেতে পারছে না।

মেক্সিকান নৌবাহিনী আরো জানিয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজের কর্মীদের অবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করছে তারা।

সিডনি নিডেল এবং লিলি ক্যাটজ বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, সূর্যাস্তের সময় তারা জাহাজটি দেখছিলেন। তারা জানান, জাহাজটি ব্রিজে ধাক্কা খেয়ে মাস্তুল ভেঙে পড়ার সময় একজন ব্যক্তি জাহাজের উপরের অংশে ঝুলে ছিলেন।

লিলি ক্যাটজ বলেন, ‘প্রথমে ঠিক বুঝতে পারছিলাম না, কিন্তু ফোনে জুম করে দেখি একজন মানুষ।
তিনি উদ্ধার হওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তত ১৫ মিনিট ধরে ঝুলে ছিলেন।’

তারা আরও জানান, পরে জাহাজ থেকে দুইজনকে স্ট্রেচারে করে ছোট নৌকায় তুলে নেওয়া হয়।

এই আঘাতের ফলে ব্রুকলিন ব্রিজের কাঠামোগত কোন ক্ষতি হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস।

১৮৮৩ সালে উদ্বোধন হওয়া ঐতিহাসিক ব্রুকলিন ব্রিজ প্রায় ১,৬০০ ফুট দীর্ঘ। এটি নিউ ইয়র্ক সিটির অন্যতম ব্যস্ত ব্রিজ, যেখানে প্রতিদিন এক লাখের বেশি যানবাহন এবং আনুমানিক ৩২ হাজার পথচারী চলাচল করেন।
ব্রিজটির ওয়াকওয়ে পর্যটকদের জন্যও একটি বড় আকর্ষণ।

দুর্নীতি কমলে দেশ এগিয়ে যাবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মাদক ও দুর্নীতি কমানো গেলে দেশ এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এজন্য কোস্টগার্ড, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (১৭ মে) দুপুরে বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের বেইজে নবনির্মিত বোট ওয়ার্কশপ ও স্লিপওয়ের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সুন্দরবনে কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা চলতে দেওয়া হবে না। সুন্দরবনে নতুন করে তৎপরতা শুরু করা বনদস্যুদের দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।’

সৌদি পৌঁছেছেন ৪৯,১০৩ হজযাত্রী, আরো একজনের মৃত্যু

চলতি বছর এ পর্যন্ত হজ করার উদ্দেশে রবিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৪৯ হাজার ১০৩ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে নতুন করে আরো এক হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি বছর মোট আটজন বাংলাদেশি হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন।

রবিবার (১৮ মে) হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরব সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে হেল্প ডেস্ক।

হেল্প ডেস্কের তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি মোট ১২৪টি ফ্লাইটে তারা সৌদিতে পৌঁছান। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৮৩ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৪ হাজার ৫২০ হজযাত্রী রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৮৬ হাজার ৭৪০টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।
১২৪টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৬২টি, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৪২টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২০টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

চলতি বছর হজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন পুরুষ ও একজন নারী। এরা হলেন— জামালপুর বকশীগঞ্জের হাফেজ উদ্দিন (৭৩), রাজবাড়ীর খলিলুর রহমান, কিশোরগঞ্জের মো. ফরিদুজ্জামান, পঞ্চগড়ের আল হামিদা বানু, ঢাকার মোহাম্মদপুরের মো. শাহজাহান কবীর, নীলফামারির ফয়েজ উদ্দীন (৭২), চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার অহিদুর রহমান (৭২) ও গাজীপুর সদরের জয়নাল হোসেন (৬০)।

গত ২৯ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট ৩৯৮ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদির উদ্দেশে যাত্রা করে। এর মধ্য দিয়েই চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। শেষ হবে ৩১ মে।

গাজার ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে লিবিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা

গাজা উপত্যকা থেকে ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে স্থায়ীভাবে লিবিয়ায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবগত পাঁচজন এনবিসি নিউজকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

এই পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞাত দুই ব্যক্তি এবং একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, পরিকল্পনাটি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে লিবিয়ার নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে প্রশাসন।

ওই তিন ব্যক্তির দাবি, ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের বিনিময়ে লিবিয়াকে শত শত কোটি ডলারের তহবিল ফেরত দেবে ট্রাম্প প্রশাসন, যা এক দশকেরও বেশি সময় আগে জব্দ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র তিনটি জানিয়েছে, কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। ইসরায়েলকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদকে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলেও জবাব দেয়নি তারা।

তবে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অসত্য আখ্যা দিয়ে মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, মাঠের পরিস্থিতি এই ধরনের পরিকল্পনার জন্য উপযোগী নয়। এই ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়নি এবং এর কোনো অর্থ নেই।

এ বিষয়ে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসেম নাইম বলেন, ফিলিস্তিনিদের শিকড় তাদের মাতৃভূমিতে গেড়ে আছে এবং মাতৃভূমির জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিজেদের ভূমি, পরিবার এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য যেকোনো ত্যাগ করতে প্রস্তুত ফিলিস্তিনিরা।

গাজাবাসীসহ ফিলিস্তিনিদের কী করা উচিত বা অনুচিত, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র ফিলিস্তিনিদের। ইসরায়েল সরকারের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

গাদ্দাফির পতনের পর প্রায় ১৪ বছর ধরে লিবিয়া গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক কোন্দলে জর্জরিত। দেশটিতে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার—পশ্চিমাঞ্চল আবদুল হামিদ দিবেইবাহর নেতৃত্বাধীন এবং পূর্বে খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন। দুই পক্ষই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই করছে।

লিবিয়ায় গাজাবাসীকে স্থানান্তর পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে দিবেইবাহর সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে হাফতারের লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি কোনো মন্তব্য করেনি। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, গাজার কতজন ফিলিস্তিনি স্বেচ্ছায় লিবিয়ায় যেতে রাজি হবেন। এই স্থানান্তরের পরিকল্পনা কখন বা কিভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে, তাও অস্পষ্ট।

তবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, ১০ লাখ মানুষকে সেখানে পুনর্বাসনের চেষ্টায় সম্ভবত উল্লেখযোগ্য বাধা আসবে। এ ছাড়া এই প্রচেষ্টা হবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ট্রাম্প প্রশাসন কিভাবে এর খরচ বহন করবে তাও স্পষ্ট নয়।

কাশ্মীরে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র মতবিরোধ

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কলকাঠি নাড়ার যে দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করেছেন, তা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার সম্পর্কে ফাটল তৈরি হয়েছে। এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের আকস্মিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার এক সপ্তাহ পর, যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া নিয়ে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মতভেদ দেখা দিয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ হর্ষ ভি পান্ত বলেন, ‘মার্কিন প্রশাসন ভেবেছিল, ট্রাম্পের ভূমিকা তুলে ধরার ক্ষেত্রে (যুদ্ধের) এই পর্যায়ে হস্তক্ষেপ তাদের কিছু মৌলিক সুবিধা দিতে পারে।
’

নয়াদিল্লিভিত্তিক থিংকট্যাংক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে এটা চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।’

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহতের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ মে পাকিস্তানে হামলা চালায় ভারত। জবাবে পাকিস্তানও ভারতে পাল্টা হামলা করে। হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের সমর্থনের জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করে নয়াদিল্লি।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে পাকিস্তান। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রায় ৭০ জন নিহত হওয়ার পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প।

পরে ট্রাম্প ভারত ও পাকিস্তানকে দুর্দশার কিনারা থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য গর্ব করে গত শুক্রবার ফক্স নিউজকে বলেন, ‘আমাকে কৃতিত্ব দেওয়া হবে এমন যেকোনো সাফল্যের চেয়েও এটি অনেক বড়।’

ইসলামাবাদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে বিদেশি মধ্যস্থতাবিরোধী নীতি মেনে আসছে ভারত।
কয়েক দশক ধরে মেনে চলা এই নীতির বিরুদ্ধে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য এড়িয়ে গেছে নয়াদিল্লি।

বিভক্ত কাশ্মীরকে পুরোপুরি নিজেদের দাবি করে আসছে ভারত ও পাকিস্তান। নয়াদিল্লি হিমালয় অঞ্চলকে নিজের অভ্যন্তরীণ বিষয় মনে করে। এ ছাড়া বহিরাগত মধ্যস্থতাকে দুর্বলতা মনে করেন রাজনীতিকরা।

যুদ্ধবিরতির পর মোদির প্রথম ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
তার সরকার তখন থেকেই জোর দিয়ে বলে আসছে, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা সম্পূর্ণ দ্বিপক্ষীয়। বাণিজ্যিক চাপ যুদ্ধবিরতিকে ত্বরান্বিত করেছে বলে যে দাবি ট্রাম্প করেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। গত সপ্তাহে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্যের বিষয়টি আসেনি।

ওআরএফের ফেলো মনোজ জোশির মতে, কৌশলগত অবস্থান এবং বিশাল বাজার ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্রে পরিণত করেছে। তাই ট্রাম্পের বক্তব্য ভারতের জন্য বিরক্তিকর। তিনি বলেন, ‘কিন্তু ভারত খুব সতর্ক হচ্ছে। কারণ তারা উচ্চ শুল্ক এড়াতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে আলোচনা করছে। আমরা চাইব যে এজেন্ডাটি ভিন্ন দিকে এগিয়ে যাক।’

অভ্যন্তরীণভাবেও বিষয়টি জটিল। কাশ্মীর ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা সম্পর্কিত নীতি ভারত পরিবর্তন করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।

এর আগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুর্বল প্রতিক্রিয়া দেখানোয় কংগ্রেসের সমালোচনা করেছেন মোদি। তাই ভারত স্পষ্টতই এর জবাব দেবে এবং তা অস্বীকার করবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক পরামর্শদাতা ইউরেশিয়া গ্রুপের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক প্রমিত পাল চৌধুরী।

প্রমিত বলেন, ‘ট্রাম্পের দাবিকৃত মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানিয়েছে ইসলামাবাদ। কারণ সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ দেওয়ার জন্য মার্কিন হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’

২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপি বিবেচনায় এনইসি বৈঠক আজ

পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখে আগামী অর্থ-বছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদনের লক্ষ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠক আজ রবিবার।

রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এনইসি চেয়ারপার্সন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জন্য প্রস্তাবিত ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপির মধ্যে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ও অনুদান হিসেবে ৮৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, আগামী অর্থ-বছরের খসড়া এডিপির আকার চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি।

তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৭১ কোটি টাকা যুক্ত করলে, আগামী অর্থবছরের জন্য সামগ্রিক এডিপির আকার দাঁড়াবে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৭১ কোটি টাকা।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থ-বছরের মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে সংশোধিত হয়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

নতুন এডিপি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে প্রণীত হয়েছে।

এ ছাড়াও নতুন এডিপিতে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত পরিবহন ও যোগাযোগ খাত ৫৮ হাজার ৯৭৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৩৯২ দশমিক ২৬ কোটি টাকা (১৪ দশমিক ৮ শতাংশ), শিক্ষা খাত ২৮ হাজার ৫৫৭ দশমিক ৪৩ কোটি টাকা (১২ দশমকি ৪২ শতাংশ), গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলী খাত ২২ হাজার ৭৭৬ দশমিক ৪০ কোটি টাকা (৯ দশমিক ৯০ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্য খাত ১৮ হাজার ১৪৮ দশমিক ১৪ কোটি টাকা (৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ) বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পাঁচটি খাতে মোট বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শীর্ষ ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার ৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পাবে, এরপর রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৩২ হাজার ৩২৯ দশমিক ৫৭ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ ২০ হাজার ২৮৩ দশমিক ৬২ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১৩ হাজার ৬২৫ দশমিক ৩ কোটি টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ১৫৪ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ১১ হাজার ৬১৭ দশমিক ১৭ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১১ হাজার ৩৯৮ দশমিক ১৬ কোটি টাকা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ৯ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৬২ কোটি টাকা, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ৪৮৯ দশমকি ৮৬ কোটি টাকা এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ৭ হাজার ৭১৪ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা পাবে।

নতুন এডিপিতে মোট ১ হাজার ১৭০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যার মধ্যে ৯৯২টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ১৯টি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প, ৯৯টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং ৬০টি সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প রয়েছে।

প্রস্তাবিত এডিপিতে ৭৯টি প্রকল্প পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য রাখা হবে এবং ২২৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায়।

এ ছাড়া, নতুন এডিপিতে ২৫৪টি প্রকল্প আবশ্যিকভাবে সমাপ্ত করার লক্ষ্যে রাখা হয়েছে। যার মধ্যে ২০৮টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ১১টি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প, ১৬টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং ১৯টি সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প।
সূত্র: বাসস

পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ভারতীয় নারী ইউটিউবার গ্রেপ্তার

পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ভারতীয় ভ্রমণ ব্লগার ও জনপ্রিয় এক নারী ইউটিউবারকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের হরিয়ানা রাজ্য পুলিশ।

শুক্রবার (১৬ মে) তাকে হরিয়ানার হিসার জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপারেশন সিঁদুর চলাকালে তথ্য পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরে শনিবার তাকে আদালতে তোলা হয়।
পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে তাকে ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

ওই ইউটিউবারের নাম জ্যোতি মালহোত্রাকে (৩৩)। পুলিশ জানিয়েছে, ইউটিউবে জ্যোতি মালহোত্রার ৩ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ১ লাখ ৩২ হাজারের বেশি।
দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের এক কর্মকর্তাকে ‘সংবেদনশীল তথ্য’ দেওয়ার পর তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

জ্যোতিকে ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

হরিয়ানা পুলিশ জানিয়েছে, জ্যোতি মালহোত্রার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আনা হয়েছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, তিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং তার বিভিন্ন কনটেন্টের মাধ্যমে পাকিস্তানের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরেছিলেন।
গত মার্চ ও এপ্রিলে নিজের পাকিস্তান ভ্রমণের ভিডিও শেয়ার করেছিলেন জ্যোতি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জ্যোতি জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে পর্যটন ভিসার জন্য পাকিস্তান হাইকমিশনের গিয়েছিলেন তিনি। তখন দিল্লির পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তা এহসান–উর–রহিমের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। পরে তিনি ওই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন জ্যোতি।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, পাকিস্তানে গিয়ে এহসান–উর রহমানের প্ররোচনায় আলী এহসান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেন জ্যোতি।
তিনি আবার জ্যোতিকে পাকিস্তানের দুজন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করান। সন্দেহ এড়াতে তাদের একজনের নাম নিজের মুঠোফোনে ভিন্ন নামে সংরক্ষণ করে জ্যোতি। পরে ওই তিনজনের কাছে ভারতসংক্রান্ত ‘সংবেদনশীল তথ্য’ সরবরাহ করেন তিনি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ মে এহসান-উর-রহিমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ভারত সরকার। তার বিরুদ্ধেও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়। এরপর তাকে অবিলম্বে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ম্যানসিটিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ক্রিস্টাল প্যালেস

ম্যানসিটিকে হারিয়ে ১১৯ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন ক্রিস্টাল প্যালেস। মৌসুমের প্রথমার্ধে প্রিমিয়ার লিগ হাতছাড়া হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির। গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, কারাবাও কাপ- সব হারানোর পর সবেধন নীলমনি ছিল একটাই।
এফএ কাপ। মৌসুমে শত ব্যর্থতার পরও শেষ মুহূর্তে এফএ কাপ নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিল ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকরা। তারা চেয়েছিল, পুরো মৌসুমে একেবারে খালি হাতে ফেরার চেয়ে অন্তত একটি শিরোপা হলেও জিতুক পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।

কিন্তু শেষটাও ভালো হলো না।
ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করেই ছাড়লো ম্যানসিটির ফুটবলাররা। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে তারা হেরে গেলো ম্যানচেস্টার সিটি। গার্দিওলার শিষ্যদের হারিয়ে মৌসুমের শেষ শিরোপাটা জিতে নিলো ক্রিস্টাল প্যালেস।

ম্যানচেস্টার সিটিকে দুঃখের সাগরে ভাসানোর একমাত্র কাজটি করেছেন এবেরেসি এজে।
ম্যাচের ১৬তম মিনিটেই ওয়েম্বলির অর্ধেক অংশকে স্তব্ধ করে দিয়ে গোলটি করলেন এই ইংলিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। সে সঙ্গে ইতিহাসও গড়লেন তিনি। এই প্রথম ক্লাব ইতিহাসে বড় কোনো শিরোপা জয় করলো ক্রিস্টাল প্যালেস।

মূলত সাবেক গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসনের কাছেই ধরা খেতে হলো ম্যানচেস্টার সিটিকে। আরলিং হালান্ড, কেভিন ডি ব্রুইনা, বার্নার্ডো সিলভা, ওমর মারমোশ কিংবা বার্নার্ডো সিলভাদের একের পর এক গোল রুখে দিয়েছেন ডিন হেন্ডারসন।
এচেভেরি এজে যদি গোল করেন, ডিন হেন্ডারসন গোল বাঁচিয়ে জিতিয়েছেন ক্রিস্টাল প্যালেসকে।

গত বছরও এফএ কাপের ফাইনালে হারতে হয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটিকে। সেবার ২-১ গোলে তারা হেরেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে। ২০১৬-১৭ মৌসুমের পর এই প্রথম একটি শিরোপাও না জিতে একটি মৌসুম কাটালো সিটিজেনরা।

এচেভেরি এজের গোলেই কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল জিতে তৃতীয়বারের মত ফাইনালে উঠে এসেছিল ক্রিস্টাল প্যালেস। ফাইনালে সেই তারকাই জেতালেন তাদেরকে। ম্যাচ শেষে এজে বলেন, ‘এটা ছিল আমাদের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন নিয়েই আমরা ঘুমাতে যেতাম। আমি এবং ক্লাব চিন্তা করতাম, একদিন স্বপ্ন পূরণ হবেই। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো, আমরা ইতিহাস তৈরি করলাম।’

প্রথমার্ধেই সিটি মানসিকভাবে পেছনে পড়ে যায়, যখন পেনাল্টি পেয়েও সেটা মিস করে ফেলেন ওমর মারমোশ। তার শট ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন। ওই যে পিছিয়ে পড়েছিল, সেখান থেকে আর ফেরা সম্ভব হয়নি। বরং, প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরও একটি গোল হজম করেছিল ম্যানসিটি। কিন্তু ভিএআর চেক করে সেটাকে বাতিল ঘোষণা করা হয়।

আরো ২ মামলায় আইভীকে শ্যোন অ্যারেস্ট, ভার্চ্যুয়ালি হাজিরা

কারাবন্দি অবস্থায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় দায়েরকৃত আরো দুই মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শনিবার (১৭ মে) দুপুর নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলাম চৌধুরীর আদালতে শুনানি শেষে তাকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানায় দায়েরকৃত মোট ৫টি মামলার মধ্যে তিনটিতে গ্রেপ্তার দেখানো হলো। এদিকে দুই মামলার শুনানিতে গাজীপুর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশ পরিদর্শক কাইয়ুম খান। তিনি বলেন, আইভীকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলাসহ দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানানো হলে শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার বাসভবন চুনকা কুটির থেকে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিন সকাল ১০টায় পোশাক কর্মী মিনারুল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঈনউদ্দিন কাদিরের আদালতে উপস্থিত করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

সাইফ-টাবুর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রাজস্থান সরকার

দুই দশক পেরিয়ে গেলেও কৃষ্ণসার হরিণহত্যার ‘অভিশাপ’ পিছু ছাড়েনি ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ টিমের। দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় সালমান খানকে। তবে সেইসময় তথ্য প্রমাণাদির অভাবে বেকসুর খালাস হয়ে যান সাইফ আলি খান, টাবু, সোনালি বেন্দ্রে, নীলম এবং দুষ্মন্ত সিং।

কিন্তু রাজস্থানের নিম্ন আদালত তাদের নির্দোষ ঘোষণা করলেও রাজস্থান সরকার এই নির্দেশ মানতে পারেনি।
ফের সেই অভিশপ্ত স্মৃতি ফের ফিরে এল সাইফ-টাবুদের জীবনে। দুই তারকার বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত রাজস্থান সরকার! তাদের খালাসের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সম্প্রতি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বলে জানা গেছে।

১৬ মে, শুক্রবার বিচারপতি মনোজ কুমার গর্গের আদালতে লিভ-টু-আপিল আবেদনের শুনানি হয়, যিনি বিষয়টিকে সংশ্লিষ্ট বিচারাধীন মামলাগুলোর সাথে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেন। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ জুলাই।

১৯৯৮ সালের অক্টোবর মাস। চলছিল ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিং। যোধপুরে সেই শুটিং চলাকালীনই কৃষ্ণসার হরিণকে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে সালমান খানের বিরুদ্ধে। একই দায়ে পড়েন সাইফ আলি খান, টাবু, নীলম-সহ একাধিক তারকা।
বিরল প্রজাতির কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা বন্যপ্রাণ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ এই হরিণকে সন্তানস্নেহেই পালন করেন, রক্ষাও করেন।

অভিযোগ, শুটিং চলাকালীন নিজেই গাড়ি চালিয়ে শিকারে বেরিয়েছিলেন সালমান। সেই গাড়িতে ছিলেন টাবু, সাইফ, সোনালি বেন্দ্রেরাও। গাড়ির মধ্যে থেকেই গুলি করে হরিণ হত্যা করেন সালমান।
গুলির আওয়াজ শুনে দৌড়ে এসেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃত হরিণটিকে পড়েও থাকতে দেখেন তারা। পাশাপাশি যে জিপসি গাড়িটি সালমান চালাচ্ছিলেন সেটিও দেখতে পান। গাড়ির পিছনে ধাওয়া করেন তারা। কিন্তু গতি বাড়িয়ে এলাকা থেকে উধাও হয়ে যান তারকারা। এরপরই সালমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার মামলা রুজু হয়। মামলায় একমাত্র দোষী সাব্যস্ত হন সালমান খান।

২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সালমান খানের শাস্তি হয়। যোধপুর আদালত সালমানের পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও দু’রাতের বেশি জেলের ভিতর কাটাননি সালমান। ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে ছাড়া পান তিনি। সইফ আলি খান, তাব্বু, নীলম ও সোনালি বেন্দ্রেকে বেকসুর খালাস করে আদালত। কিন্তু রাজস্থানের নিম্ন আদালত তাঁদের নির্দোষ ঘোষণা করলেও রাজস্থান সরকার এই নির্দেশ মানতে পারেনি। সরকারের তরফ থেকে রাজস্থান হাই কোর্টে আপিল করা হয়।