শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

‘চক্কর ৩২০’ মুক্তি পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়

ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেয়েছে জনপ্রিয় অভিনেতা মোশারফ করিম অভিনীত ক্রাইম থ্রিলার ‘চক্কর ৩২০’। নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন জানিয়েছিলেন, হলের সংখ্যা কম হলেও দর্শকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন তারা। ছবিটি ধীরে ধীরে মানুষ পছন্দ করতে শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার
‘চক্কর ৩২০’ মুক্তি পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়।

মঙ্গলবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন। তিনি বলেন, ‘ছবিটির গল্প ও অভিনয় মানুষকে ধীরে ধীরে স্পর্শ করছে। এরই প্রেক্ষিতে এবার ছবিটি অস্ট্রেলিয়ায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে। আমি আশা করছি অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাঙালি দর্শকরা ছবিটি উপভোগ করবেন।
’

মোশাররফ করিম অভিনীত সিনেমা ‘চক্কর-৩০২’ আগামী ২৫ মে অস্ট্রেলিয়ায় মুক্তি পাবে। এতে আরো অভিনয় করেছেন তারিন জাহান, ইন্তেখাব দিনার, সুমন আনোয়ার, মৌসুমী নাগ, শাশ্বত দত্ত, রওনক হাসান, সারাহ আলম, নিকিতা নন্দিনী শিম, মুন, বুশরা, শান, আরিয়ানসহ অনেকেই!

সিনেমাটিতে মোশাররফ করিমের বিপরীতে অভিনয় করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী রিকিতা নন্দিনী শিমু। সিনেমায় তাকে মোশাররফ করিমের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে।

বঙ্গজ ফিল্মস-এর পরিবেশনায় অস্ট্রেলিয়ার ৬ টি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির ৭ টি শো চলবে।
নির্মাতা জানালেন এরইমধ্যে টিকিটের বুকিং শুরু হয়ে গেছে। সেখানে বসবাসরত বাঙালিরা বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

আপনাদের এই ভালোবাসা আজীবন মনে রাখব : নুসরাত ফারিয়া

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর ভাটারা থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার নুসরাত ফারিয়া কারামুক্ত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি কারামুক্ত হন। ঢাকা বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

কারামুক্ত হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাস দেন।
এ সময় তার পাশে থাকার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অভিনেত্রী।

এরপর নুসরাত ফারিয়া লেখেন, এই সময়টাতে যারা সর্বক্ষণ আমার পাশে ছিলেন সেসব মানুষকে মন থেকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমার সহকর্মী থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির সবাই, এমনকি আপামর সাধারণ মানুষ যারা আমার হয়ে কথা বলেছেন, ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছেন, পাশে থেকেছেন তাদের এই সাপোর্ট/ভালোবাসা আমি আজীবন মনে রাখব।

সেই সঙ্গে তিনি এও জানান, আপনারা পাশে না থাকলে হয়তো এত দ্রুত আপনাদের মাঝে উপস্থিত হতে পারতাম না।

সর্বশেষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেও ভোলেননি এই নায়িকা। ফারিয়া বলেন, ‘বিশেষ ধন্যবাদ দিতে চাই আমাদের গণমাধ্যমকর্মীদের, তাদের এই সাপোর্টটা ভীষণ দরকার ছিল। আমার প্রতি আপনাদের ভালোবাসার কথা আমি সব সময় মনে রাখব।’

এর আগে মঙ্গলবার সকালে নুসরাত ফারিয়াকে জামিন দেন আদালত।

উল্লেখ্য, রবিবার দুপুরে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে অভিনেত্রীকে আটকে দেয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর ফারিয়াকে ডিএমপির ভাটারা থানায় থাকা এক হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত অভিনেত্রীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই ভাটারা থানার সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়।
এনামুল হকের পায়ে গুলি লাগে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা তিন-চারশজনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাটি করেছেন এনামুল হক। হত্যাচেষ্টার ওই মামলায় আসামি করা হয়—অপু বিশ্বাস, আসনা হাবিব ভাবনা, নুসরাত ফারিয়া, অভিনেতা জায়েদ খানসহ ১৭ জন তারকাকে।

মেয়ের শ্বশুরকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বানালেন ট্রাম্প

মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের শ্বশুর চার্লস কুশনারকে ফ্রান্সের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সিনেট তার মনোনয়ন অনুমোদন করেছে। সিনেটে চার্লস কুশনারের পক্ষে ভোট পড়ে ৫১ এবং বিপক্ষে ৪৫ ভোট পড়েছে। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও সাবেক আইনজীবী কুশনার ২০০৪ সালে কর ফাঁকিসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ফেডারেল কারাগারে বন্দী ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শেষ দিকে তিনি প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমা লাভ করেন।

চার্লস কুশনারের ছেলে জ্যারেড কুশনার ২০০৯ সালে ট্রাম্পের বড় মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে বিয়ে করেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন জ্যারেড।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে তিনি কাজ করেছিলেন।

৭১ বছর বয়সী চার্লস কুশনার এমন এক সময়ে প্যারিসে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের ঐতিহাসিক মৈত্রী সম্পর্ক এবং ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিকে ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কুশনার সম্পর্কে ট্রাম্প নিজের ট্রুথ স্যোশালে লেখেন, চার্লস কুশনার একজন অসাধারণ ব্যবসায়িক নেতা। তিনি দানশীল ও যে কোনো চুক্তি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে দক্ষ।
তিনি আমাদের দেশ ও স্বার্থের পক্ষে শক্তিশালী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন।

ফ্রান্সের পাশাপাশি কুশনার মোনাকোতেও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করবেন।

চেলসি ফ্লাওয়ার শোতে রাজা-রানির সঙ্গে ডেভিড বেকহ্যাম

যুক্তরাজ্যের রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলার সঙ্গে চেলসি ফ্লাওয়ার শো-তে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম। তরুণ প্রজন্মকে বাগান পরিচর্যায় উৎসাহ দিতে এই প্রচারণায় অংশ নিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক এই ফুটবল তারকা।

বিশ্বখ্যাত চেলসি ফ্লাওয়ার শো-তে বেকহ্যামের কোটের বাটনে শোভা পায় রাজা চার্লসের প্রতি উৎসর্গ করে নাম দেয়া ‘দ্য কিংস রোজ’ নামে এক নতুন গোলাপ। গোলাপটি গোলাপি ও সাদা রঙের মিশেলে তৈরি এবং এর সৌরভ ও সৌন্দর্য প্রশংসা কুড়িয়েছে রাজ পরিবারসহ দর্শনার্থীদের কাছে।

২০২৪ সাল থেকে দ্য কিং’স ফাউন্ডেশনের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বেকহ্যাম রাজা ও রানির সঙ্গে হাইগ্রোভের স্টলে দেখা করেন।

হাইগ্রোভের স্টলে থাকা ‘দ্য কিংস রোজ’ ফুলের জাত ডেভিড অস্টিন রোজেসের সঙ্গে রাজা চার্লসের ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি। হাইগ্রোভের বাগানে গত তিন বছর ধরে এর পরিচর্যা করা হয়েছে।

রাজা নিজেও হাইগ্রোভের স্টলে গিয়ে ফুলটি কাছ থেকে দেখে ও শুঁকে বলেন, ‘এর সুঘ্রাণ আছে?’

জবাবে এই ফুলের বিশেষত্ব নিয়ে হাইগ্রোভের স্টল থেকে জানানো হয়, ৬০ হাজার চারা থেকে নির্বাচিত একটি গাছ থেকে এই জাত তৈরি করা হয়েছে।
যা তৈরি করতে ২০ জনের একটি দলের ১২ বছর সময় লেগেছে।

চেলসি ফ্লাওয়ার শো-তে রাজ পরিবারের আরও অনেক সদস্য অংশ নেন, যাদের মধ্যে ছিলেন ডিউক অব এডিনবরা, প্রিন্সেস মাইকেল অব কেন্ট, প্রিন্সেস বিয়াট্রিস এবং রানির মেয়ে লরা লোপেস।

বেকহ্যাম এখন রাজ পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন। গত ডিসেম্বরে তিনি এবং তার স্ত্রী ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম রাজা-রানির সঙ্গে বাকিংহাম প্যালেসে কাতারের শাসকের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন।

এর পর ফেব্রুয়ারিতে হাইগ্রোভে আয়োজিত একটি নৈশভোজেও তারা অংশ নেন। মার্চে রানির উদ্যোগে আয়োজিত ‘উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ ইভেন্টেও ভিক্টোরিয়া আমন্ত্রিত হন।

এশিয়ায় কভিড বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে দাপটে ওষুধ ও টেস্ট কিট নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান

এশিয়াজুড়ে কভিড-১৯ সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। ফলে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও হংকংয়ের স্বাস্থ্য ও ওষুধ কম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্য সোমবার উল্কার গতিতে বেড়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ডায়াগনস্টিক কিট নির্মাতা সুজেনটেক ইনকর্পোরেটেড সোমবার এক দিনে সর্বোচ্চ ২৯ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারমূল্য বৃদ্ধির রেকর্ড করেছে। একইভাবে, জাপানে কভিড টিকা নির্মাতা দাইচি সানকিওর শেয়ারের দাম বেড়েছে ৭.৪ শতাংশ পর্যন্ত, ইউবিএস কর্তৃক টার্গেট প্রাইস বাড়ানোর পর।
হংকংয়ে, জুনশি বায়োসায়েন্সেস কোং (কভিড টিকা তৈরি করে)-এর শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪.৩ শতাংশ পর্যন্ত।

হংকং ও সিঙ্গাপুরে কভিড বেড়ে চলেছে

ঘনবসতিপূর্ণ হংকং ও সিঙ্গাপুরে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কভিড-১৯ এর হঠাৎ বেড়ে যাওয়া সংক্রমণ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তথ্য মতে, চীনে কভিডের চলমান ঢেউটি গত বছরের গ্রীষ্মকালীন সংক্রমণের উচ্চতায় পৌঁছতে পারে।

হংকংয়ের সেন্টার ফর হেলথ প্রোটেকশনের প্রধান এডউইন সুই বলেন, ‘সাধারণ জীবনযাত্রায় ফিরে আসার পর প্রতি ছয় থেকে নয় মাস অন্তর কভিড-১৯-এর নতুন তরঙ্গ দেখা যাচ্ছে।
আমাদের ধারণা, কভিডের সক্রিয়তা আগামী কয়েক সপ্তাহ উচ্চ মাত্রায় থাকবে।’

কোরিয়ায় টিকা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে

দক্ষিণ কোরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা (কেডিসিএ) গত মাসে মৌসুমি কভিড টিকাদান কর্মসূচির মেয়াদ দুই মাস বাড়িয়ে জুন পর্যন্ত করেছে। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে, অসুস্থ ব্যক্তি, হাসপাতালের রোগী এবং বৃদ্ধনিবাসে থাকা ব্যক্তিদের ফাইজার-বায়োনটেকের জেএন.১ টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কেডিসিএ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘গত তিন বছর ধরে কভিড শুধু শীত নয়, গ্রীষ্মকালেও বেড়েছে।
তাই যত দ্রুত সম্ভব টিকা গ্রহণ করা উচিত, যাতে শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠার যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়।’

শেয়ারবাজারে ‘কভিড স্টক’ বেড়েছে

কোরিয়ায় কভিড টেস্ট কিট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হুমাসিস কোং, ল্যাবজেনোমিক্স কোং, সিজিন ইনকর্পোরেটেড এবং এসডি বায়োসেন্সর ইনকর্পোরেটেড—সবকটির শেয়ারমূল্য সোমবার বেড়ে যায়। এ ছাড়া কভিড টিকা নির্মাতা এসকে বায়োসায়েন্স কোংয়ের শেয়ারও ৭.২ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক অলস্প্রিং গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টসের পোর্টফোলিও ম্যানেজার গ্যারি ট্যান বলেন, ‘কোরিয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের ছোট মূলধনী কম্পানিগুলোর শেয়ারে এখনো ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণই মূল চালিকাশক্তি। তারা বেছে বেছে কিছু কম্পানিতে সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
’

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন করে সংক্রমণ বাড়ায় টিকা ও টেস্ট কিট কম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে এবং এই প্রবণতা কিছু সময় স্থায়ী হতে পারে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

ভারতীয় ট্রাভেল এজেন্সির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে মানুষ পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ভারতীয় ট্রাভেল এজেন্সিদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল সোমবার (১৯ মে) এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যারা জেনেশুনে অবৈধ অভিবাসনে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্ত এমন সময় এলো, যখন ২০২৪ সালের শুরুতে তিনটি সামরিক বিমানে ৩০০-এর বেশি ভারতীয় নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়। পানামা থেকেও প্রায় ৫০ জন ভারতীয়কে ফেরত আনা হয়েছে।
তাদের বেশির ভাগই পাঞ্জাব ও গুজরাটের বাসিন্দা এবং ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। এই চক্রে যাত্রীরা ৩০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়ে নানা দেশ ঘুরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। যেমন : ভারত-দুবাই-ব্রাজিল-পানামা-মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, যারা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত, সেব ব্যক্তিকে তারা জবাবদিহির আওতায় আনতে চায়।
তবে ঠিক কতজন ব্যক্তি বা সংস্থা এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছেন, তা জানানো হয়নি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা অবৈধ অভিবাসনের বিপক্ষে এবং যেসব ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে আছেন, তাদের দেশে ফেরাতে প্রস্তুত।

এদিকে কিছু অভিবাসন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে, কারণ অনেক ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে এই অবৈধ কার্যক্রম চালানো হয়। ভবিষ্যতে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

মালয়েশীয় কোম্পানি ও সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে ৩৩ বাংলাদেশির মামলা

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে মালয়েশিয়ার একটি রিক্রুটিং ফার্ম এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ৩৩ বাংলাদেশি শ্রমিক। ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা ১ দশমিক ৭২ মিলিয়ন রিংগিত বা ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা দাবি করেছেন। মালয়েশিয়ার স্থানীয় অধিকার সংগঠন তেনাগানিতা সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ করেছে।

গত ১২ মার্চ মালয়েশিয়ার শাহ আলম শহরের হাইকোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয় বলে জানা গেছে।
মামলায় বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মেরান্তি বিনামাস এসডিএন বিএইচডি নামের একটি রিক্রুটিং কোম্পানি, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল, ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রধান এবং সরকারি কর্মচারীদের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি বিভাগকে।

ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি শ্রমিকরা চান, আদালত যেন ঘোষণা করে যে তারা মানবপাচার ও চাকরির নামে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং কর্মকর্তারা তাদের ব্যাপারে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন। এছাড়াও তারা আদালতের কাছে আবেদন করেছেন যেন মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ইমিগ্রেশন বিভাগ তাদের আটক না করে।

দাবিপত্রে বলা হয়েছে, নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেরান্তি বিনামাস কোম্পানি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে যায়।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন চাকরির প্রস্তাবের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তাদের ন্যূনতম মাসিক বেতন হিসেবে ১ হাজার ৫০০ রিংগিত বা ৬০ হাজার টাকা এবং ওভারটাইম কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু পরে তাদের বলা হয়, কোটা অনুমোদন, লেভি, অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং এজেন্টদের কমিশনের জন্য প্রত্যেককে ২৫ হাজার রিংগিত (সাড়ে ৬ লাখ টাকার বেশি) করে দিতে হবে। কিন্তু পরে ওই শ্রমিকেরা বুঝতে পারেন, এসব খরচ বহন করার দায়িত্ব ছিল নিয়োগকর্তার।

২০২৩ সালের জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে ধাপে ধাপে মালয়েশিয়ায় পৌঁছান তারা। কুয়ালালামপুরের ডরমিটরিতে থাকার ব্যবস্থা করার আগে কর্মীদের কাছ থেকে তাদের ভ্রমণ সংক্রান্ত কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা নেওয়া হয়।

পরে তারা জানতে পারেন চাকরির প্রস্তাবগুলো আসলে ভুয়া ছিল। তাদের ওই ডরমিটরিতেই থাকতে হয়েছিল এবং সেখানে শুধু কাঁচা খাবার দেওয়া হতো, যা তাদের নিজেদের রান্না করে খেতে হতো।

অবশেষে শ্রমিকেরা তেনাগানিতা নামের অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের কাছে অভিযোগ করেন।
এরপর শ্রম বিভাগ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।

ইসরায়েলকে ‘কঠোর হুঁশিয়ারি’ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘আরো কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার নেতারা। সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা গাজায় নতুন করে শুরু করা সামরিক আক্রমণ ও ত্রাণ বিধিনিষেধ বন্ধ না করলে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। খবর আলজাজিরা ও টাইমস অব ইসরায়েলের।

খবরে বলা হয়, এই তিন দেশের নেতারা অবিলম্বে গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ এবং আরো মানবিক সাহায্য প্রবেশের অনুমতি দিতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা রবিবার ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সীমিতসংখ্যক ত্রাণ সহায়তা প্রবেশের ঘোষণা সম্পর্কে বলেছেন, এটি ‘সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত’ এবং গাজার সাধারণ মানুষের প্রতি সহায়তা দিতে ব্যর্থ হওয়া ‘অগ্রহণযোগ্য’। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি রয়েছে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার বিবৃতিতে জাতিসংঘের সঙ্গে ইসরায়েলকে মানবিক নীতির আলোকে সাহায্য বিতরণ পুনরায় চালুর বিষয়ে কাজ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

১ মার্চের পর প্রথমবারের মতো সোমবার গাজায় পাঁচটি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে।
ওই দিন ইসরায়েল সহায়তা বন্ধ করে দেয়, যাতে হামাস শতাধিক জিম্মিকে মুক্তি দিতে চাপ অনুভব করে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিছু আইডিএফ (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) কর্মকর্তা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সতর্ক করে বলেছেন, গাজা চরম দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে, নেতানিয়াহু রবিবার সন্ধ্যায় ‘মৌলিক’ মানবিক সহায়তা পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন। ওয়াশিংটনের চাপ বাড়তে থাকায় এটি তার ডানপন্থী সমর্থকদের মধ্যে অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বিবৃতির জবাবে বলেছেন, ‘লন্ডন, প্যারিস ও অটোয়া ৭ অক্টোবরের ইসরায়েলের ওপর গণহত্যামূলক হামলার জন্য বড় পুরস্কার দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরো এমন নৃশংসতার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।’

দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে স্টারলিংক

দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে স্টারলিংক। শুরুতে স্টারলিংক দুটি প্যাকেজ দিয়ে শুরু করছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, স্টারলিংক বাংলাদেশে তাদের আনুষ্ঠানিক সেবা শুরুর পরপরই গ্রাহকদের জন্য দুটি প্যাকেজ চালু করেছে– রেসিডেন্সিয়াল ও রেসিডেন্সিয়াল লাইট।
এ দুটির প্রতিটি নির্দিষ্ট প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী গ্রাহকদের জন্য ভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে।

এর মধ্যে রেসিডেন্সিয়াল প্যাকেজটির মাসিক খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০০ টাকা। এটি মূলত উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, গৃহস্থালি এবং ছোট অফিসের জন্য উপযোগী। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত কম খরচে ইন্টারনেটসেবা পেতে আগ্রহী গ্রাহকদের জন্য রয়েছে রেসিডেন্সিয়াল লাইট প্যাকেজ, যার মাসিক খরচ ৪২০০ টাকা।

তবে যেকোনো প্যাকেজ গ্রহণের জন্য গ্রাহককে শুরুতে এককালীন ৪৭ হাজার টাকা ব্যয় করে স্টারলিংকের সেটআপ কিট (যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম) কিনতে হবে। এতে থাকবে স্যাটেলাইট ডিশ, রাউটার, পাওয়ার সাপ্লাই ইত্যাদি, যা ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন নিশ্চিত করবে।

এই সেবার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো– এতে কোনো ডেটাসীমা বা গতিসীমা নেই। গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্নভাবে সর্বোচ্চ ৩০০ এমবিপিএস পর্যন্ত গতিতে আনলিমিটেড ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

লিভারপুলকে হারিয়ে ইউরোপীয় স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল ব্রাইটন

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (ইপিএল) শিরোপা চার ম্যাচ হাতে রেখে নিশ্চিত করার পর থেকে আর জয়ের মুখ দেখেনি অল রেডরা। এবার লিভারপুলকে নাটকীয়ভাবে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ব্রাইটন। এ জয়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলার ক্ষীণ আশা জিইয়ে রাখল দলটি।

ব্রাইটনের অ্যামেক্স স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে নবম মিনিটেই লিভারপুল এগিয়ে যায় হার্ভি এলিয়টের গোলে।
তার গোলে সহায়তা করেন কনর ব্র্যাডলি।

তবে লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি অল রেডরা। ম্যাচের ৩২ মিনিটে ইয়াসিন আয়ারির নিচু শটে সমতায় ফেরে ব্রাইটন।

এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লিভারপুলের দোমিনিক সোবোসলাইয়ের ক্রস গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেনের মাথার ওপর দিয়ে সরাসরি জালে চলে যায়।
এতে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় অল রেডরা।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাইটন ফিরে আসে দুর্দান্তভাবে। ড্যানি ওয়েলবেকের শট আলিসন দুর্দান্ত সেভে বাঁচালেও কাওরু মিতোমার ফিরতি শট জালে জড়ালে আবারও সমতায় ফেরে দলটি।

এরপর ৮৫ মিনিটে হিনশেলউডের দারুণ এক গোলে ম্যাচে জয় নিশ্চিত করে ব্রাইটন।

এই জয়ে ব্রাইটন এখন ৩৭ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। সমান ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ড তিন পয়েন্ট পিছিয়ে আছে। শেষ ম্যাচে টটেনহ্যামের মুখোমুখি হবে ব্রাইটন।

তবে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় (কনফারেন্স লিগ) খেলতে হলে লিগ টেবিলে নিজেদের অষ্টম স্থান ধরে রাখার পাশাপাশি ব্রাইটনের নির্ভর করতে হবে অন্য ম্যাচের ফলের উপর। এর মধ্যে রিয়াল বেটিসকে হারিয়ে কনফারেন্স লিগ জিততে হবে চেলসিকে।