শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের জন্য আম্পায়ারের নাম প্রকাশ করলো আইসিসি

দুই শ্রেষ্ঠের লড়াই। লড়াইটা এককভাবে শ্রেষ্ঠ বনে যাওয়ার, শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের। আগামী ১১ জুন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচটাও হবে ঐতিহ্যবাহী লর্ডস স্টেডিয়ামে।

ওই ম্যাচে কারা আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করবেন, সেই তথ্য আজ প্রকাশ করেছে আইসিসি।

অনফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করবেন নিউজিল্যান্ডের ক্রিস গ্যাফানি ও ইংল্যান্ডের রিচার্ড ইলিংঅর্থ। টিভি আম্পায়ারের ভূমিকায় ইংল্যান্ডের রিচার্ড কেটলবোরো ও চতুর্থ আম্পায়ারের ভূমিকায় ভারতের নিতিন মেনন থাকবেন। ম্যাচ রেফারি ভারতের জাভাগাল শ্রীনাথ।

ইলিংঅর্থ তৃতীয়বারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে দায়িত্ব পেয়েছেন। আগের দুই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এই মুহূর্তে বর্ষসেরা আম্পায়ার। গত বছর ডেভিড শেফার্ড ট্রফি তার হাতেই উঠেছে। গ্যাফানিকে ২০২৩ সালের ফাইনালে দেখা গেছে। তিনি গত বছর আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপেও কাজ করেছেন।

কেটলবোরো আইসিসি ইভেন্টে নিয়মিত মুখ। ২০২১ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও তিনি টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আম্পায়ারদের নাম জানিয়েছে আইসিসি প্রেসিডেন্ট জয় শাহ বলেছেন, ‘লর্ডসে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের জন্য আমরা অভিজ্ঞ ম্যাচ কর্মকর্তাদের তালিকা ঘোষণা করতে পেরে আনন্দিত। আমরা সবচেয়ে যোগ্যদের নির্বাচন করার চেষ্টা করেছি। আইসিসির পক্ষ থেকে আমি তাদের জন্য শুভকামনা জানাই।’

শেষ ম্যাচের ফলাফলই নির্ধারণ করবে ইতালিয়ান ফুটবলের নতুন রাজা

আলাদা ম্যাচে রাতে মাঠে নামবে ইতালিয়ান লিগের শীর্ষ দুই দল নাপোলি ও ইন্টার মিলান। ঘরের মাঠে ক্যালিয়ারির বিপক্ষে জয় পেলেই সরাসরি শিরোপা ঘরে তুলবে নাপোলি। তবে পয়েন্ট হারালে সুযোগ থাকবে ইন্টার মিলানের। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ দুটি শুরু হবে শুক্রবার (২৩ মে) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১টায়।

এখনও অমীমাংসিত ইতালিয়ান ঘরোয়া ফুটবল সিরি আ’র শিরোপা। ইন্টার মিলান নাকি নাপোলি, কার হাতে উঠতে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়নশিপ। এ জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে লিগের শেষ ম্যাচ অবধি। নিজেদের শেষ ম্যাচের ফলাফলই নির্ধারিত করবে কে হবে ইতালিয়ান ফুটবলের নতুন রাজা।

এবারের মৌসুমে শিরোপার জন্য পাল্লা দিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে দুই দলই। পয়েন্ট ব্যবধান মাত্র ১। ৩৭ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নাপোলি। আর সমান সংখ্যক ম্যাচে ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে ইন্টার মিলান। তাই দুই দলের জন্যই লিগের শেষ ম্যাচটা অনেক গুরুত্বপূর্ন।

শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে এগিয়ে থাকবে নাপোলি। ঘরের মাঠে টেবিলের ১৪তম দল কালিয়ারির বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। এর আগে প্রথম লেগে প্রতিপক্ষকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল নাপোলি। এবার নিজের হোম ম্যাচ হওয়া বাড়তি সুবিধা পাবে ব্লুজ। শুধু হোম ভেন্যুর সুবিধাই নয়, সুপার কম্পিউটারের ভবিষ্যৎবাণীতেও এগিয়ে নাপোলি।

তবে পয়েন্ট হারালে তাকিয়ে থাকতে হবে ইন্টার মিলানের ম্যাচের ফলাফলের দিকে। তাই জয়ের পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামতে চান কোন এন্তোনিয়ো কন্তে। আর এ ম্যাচে জয় পেলেই, গত মৌসুমের ১০তম স্থানে শেষ করা প্রথম দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নশিপ ঘরে তুলবে নাপোলি।

এদিকে বার্সেলোনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইন্টার মিলান। জার্মানিতে ইউসিএল ফাইনালের আগে আরেকটি ফাইনালে মাঠে নামবে সিমিওনে ইনজাগির দল। প্রতিপক্ষের ঘরের মাঠে খেলা হলেও জয়ের জন্য আত্মবিশ্বাসী মিলান। তবে শুধু জয়ই তাদের শিরোপা জয়ের জন্য যথেষ্ট নয়, মেলাতে হয়ে কিছু কঠিন সমীকরণও।

ইন্টার মিলানের থেকে নাপোলি এক পয়েন্ট এগিয়ে থাকায়, কোমোর বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে নাপোলির ম্যাচের দিকে। যদি নাপোলি পয়েন্ট হারায় তবেই শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে ইন্টারের। তবে এসব নিয়ে না ভেবে নিজেদের স্বাভাবিক খেলার দিকে মনোযোগ নেরাজ্জুরিদের। কারণ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের আগে এটাই যে শেষ প্রস্তুতির মঞ্চ।

একসঙ্গে তিন দুঃসংবাদ দিলেন নুসরাত ফারিয়া!

জামিন পাওয়ার তিনদিন পেরোতেই একসঙ্গে তিনটি দুঃসংবাদ দিলেন ঢালিউড চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ তিনি।

শুক্রবার (২৩ মে) দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ফারিয়া একসঙ্গে তিনটি দুংসংবাদ দেন। প্রথম দুংসংবাদ হলো তিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। অভিনেত্রীর দ্বিতীয় দুঃসংবাদ হলো চিকিৎসকের নিবিড় পর্যক্ষেণে থাকায় ফোন ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তার।

তৃতীয় দুঃসংবাদের কথা হিসেবে ফারিয়া লেখেন, শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী। তাই কোনো সংবাদমাধ্যম কিংবা কারো সাথেই কথা বলতে অপারগ তিনি।

সময়ের পাঠকের জন্য অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়ার পোস্ট তুলে ধরা হলো-

আমি জানি, আপনারা অনেকেই আমার খোঁজখবর, ইন্টারভিউ নেয়ার জন্য বারবার চেষ্টা করছেন। আপনাদের ভালোবাসা ও উদ্বেগ আমাকে সত্যিই ছুঁয়ে যাচ্ছে। তবে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে, বর্তমানে আমি গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছি।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছি। চিকিৎসার অংশ হিসেবে এখন কিছু সময়ের জন্য বাইরের সঙ্গে সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে—ফোন ব্যবহারের ওপরও রয়েছে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা।

এই পরিস্থিতিতে কারো সঙ্গে কথা বলতে না পারার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করি, আপনারা বিষয়টি বুঝবেন। আমি বিশ্বাস করি, এই কঠিন সময়টা দ্রুতই পেরিয়ে আবার সুস্থভাবে আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পারব।

গত কয়েকদিন ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে দুঃসহ ও সংবেদনশীল সময়। মানসিক ও শারীরিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও সাহচর্য আমাকে এগিয়ে চলার শক্তি দিয়েছে। আপনাদের সকলের প্রতি—আপামর জনসাধারণ, প্রতি আমি হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞ।

বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বন্ধুদের, যাদের মানবিকতা ও ইতিবাচক ভূমিকাটি এই সময়ে আমার জন্য ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক। আপনারা পাশে না থাকলে হয়তো এত দ্রুত নিজের ভেতরের সাহস খুঁজে পেতাম না। আমি আজীবন মনে রাখব এই ভালোবাসা ও নিরন্তর সহমর্মিতার কথা। সবার প্রতি রইল আন্তরিক ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। খুব শিগগিরই আবার দেখা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া গ্রেফতার হন। দুই দিন কারাবাসের পর মঙ্গলবার (২০ মে) জামিন পান তিনি।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই শহীদ ও আহতদের দায়িত্ব নেবে: রিজভী

বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই আন্দোলনের সব শহীদ ও আহতদের পুরো দায়িত্ব রাষ্ট্র নিবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার (২৩ মে) দুপুরে নরসিংদীর মেহেরপাড়ায় শহীদ আরমান মোল্লার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নরসিংদীর আরমান মোল্লার পুরো দায়িত্ব ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ নিয়েছে জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাড়ানোর দায়িত্ব ছিলো সরকার ও রাষ্ট্রের। যা বর্তমান সরকার করতে পারেনি পুরোপুরি।’

কেন অবহেলা করা হচ্ছে এবং নিহতদের পুরো তালিকা তাদের কাছে কেন নেই এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন। এসময় আরমান মোল্লার পরিবারের কাছে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন রিজভী।

এসময় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র সদস্য সচিব মোখলেছুর রহমান মিথুনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যেই নির্বাচন, এদিক-সেদিকের সুযোগ নেই: রিজওয়ানা

চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন; এর বাইরে একদিনও এদিক-সেদিক যাওয়ার সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়েছেন পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

শুক্রবার (২৩ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বাংলাদেশ প্রাণিবিদ্যা সমিতির ২৪তম জাতীয় সম্মেলন এবং বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

শুধু নির্বাচনের জন্য বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়নি উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘কাল (বৃহস্পতিবার) উপদেষ্টা পরিষদের সভার পর অনেক সময় আমরা আলোচনা করেছি। আমাদের তিনটা কঠিন দায়িত্ব- এর একটি সংস্কার, অন্যটি বিচার, আরেকটি নির্বাচন। শুধুমাত্র নির্বাচন করার জন্যই আমরা দায়িত্বটা নেইনি। আমাদের দুটি দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু আমরা সেগুলো পালন করতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে যার যত ধরনের দাবি রয়েছে, সব দাবি নিয়ে রাস্তা আটকে দিচ্ছে। এতে রাস্তা একেবারে অচল হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা নিরসনে আমরা কিছুই করতে পারছি না। আমাদের দায়িত্ব পালন করা তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা সবার সহযোগিতা পাবো। প্রত্যাশার বিষয়টা এক, আর দায়িত্বটা আসলেই পালন করতে পারার বিষয়টা আরেক।’

এই উপদেষ্টা বলেন, ‘যে প্রতিবন্ধকতাগুলো তৈরি হচ্ছে, আমাদের দায়িত্ব পালনে সেগুলো কীভাবে মোকাবিলা করবো কিংবা আদৌ পারবো কি না, যদি পারি সেটা কীভাবে করবো আর না পারলে কী করণীয় হবে সেগুলো নিয়ে আমরা চিন্তা করেছি।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা একটা সময় দিয়েছেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। তার একদিনও এদিক-সেদিক হওয়ার কোনো সুযোগ আমাদের পক্ষ থেকে নেই। কাজেই এগুলো নিয়ে অন্য ধরনের কথা বলারও সুযোগ হওয়া উচিত ছিল না। কারণ, বারবার বলা হচ্ছে যে, নির্বাচন নিয়ে একটা সময় দিয়ে দেয়া হয়েছে। কিছু কিছু গুরু দায়িত্ব রয়েছে, সেগুলো পালনের সঙ্গে মাসের একটা সম্পর্ক থাকতে পারে। উনার (প্রধান উপদেষ্টা) যদি কোনো কিছু বলার থাকে, ওটা উনার থেকে শোনা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি দায়িত্ব পালন করতে পারি, তাহলে আমাদের দায়িত্বে থাকাটা প্রাসঙ্গিক। আর যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারি, তাহলে আমাদের যার যার নিজস্ব অনেক কাজ রয়েছে। তখন দায়িত্ব পালন করাটা আর প্রাসঙ্গিক থাকল না।’

ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, তেল আবিবে বাজল সতর্কতা সাইরেন

ইয়েমেন থেকে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। তবে এটি ঠেকিয়ে দেয়ার দাবি করেছে আইডিএফ।
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মাঝেমধ্যেই ইসরাইলকেল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
শুক্রবার (২৩ মে) সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে তেল আবিব এবং মধ্য ইসরাইল ও আশেপাশের এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘হুমকি প্রতিহত করার জন্য কাজ করছে’। হামলার ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলেও জানিয়েছে আইডিএফ।

এর আগে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে বৃহস্পতিবার দুটি ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ ছুড়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তবে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রতিহত করার দাবি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।

ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মাঝেমধ্যেই ইসরাইলকেল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। মাঝে বেশ কয়েক দিন তারা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপরও হামলা চালায়। পরে এর জেরে হুতিদের ওপর হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রও। পরবর্তী সময়ে হুতিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে আসে যে তারা আর লোহিত সাগরে কোনো জাহাজের ওপর হামলা চালাবে না।

জনতার মেয়র হিসেবে ঈদে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে আমিও থাকব: ইশরাক

বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সহায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, আমি ঢাকাবাসীকে নিশ্চিত করছি- উত্তরে মেয়র না আসা পর্যন্ত সেখানকার প্রশাসন ও পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করব। জনতার মেয়র হিসেবে কোরবানির ঈদে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে আমি নিজেও থাকব।

শুক্রবার (২৩ মে) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি লেখেন, শপথ কেবল একটা ফরমালিটি। জনতার মেয়র হিসেবে আমার দায়িত্ব বর্তায় আগামী কোরবানির ঈদের আগে যাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকে। আমি ঢাকাবাসীকে নিশ্চিত করছি, উত্তরে মেয়র না আসা পর্যন্ত সেখানকার প্রশাসন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করব।

ইশরাক আরও লেখেন, দক্ষিণের সাবেক কাউন্সিলর ও বিগত নির্বাচনের প্রার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি জোনভিত্তিক মনিটরিং টিমের অনুমোদন দেব। বিকেলের মধ্যে (১৬ ঘণ্টায়)! একটা স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করব। দক্ষিণ পরিচ্ছন্নকর্মীদের সঙ্গে আমি নিজেও থাকব।

সারা দেশে এক সপ্তাহে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক ২৫৮

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে দেশব্যাপী গত এক সপ্তাহে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ২৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে দেশব্যাপী পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ থেকে ২১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীন ইউনিটসমূহ কর্তৃক, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সব যৌথ অভিযানে হত্যা মামলার আসামি, অবৈধ অস্ত্রধারী, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, চোরাকারবারি, কিশোর গ্যাং সদস্য, অবৈধ মাটি উত্তোলনকারী, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকাসক্ত এবং দালালচক্রের সদস্যসহ মোট ২৫৮ জন অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এদের কাছ থেকে ১৪টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৫টি বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, বিভিন্ন মাদকদ্রব্য, সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্র, চোরাই মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। আটকদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

দেশব্যাপী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিল্পাঞ্চলসমূহে শ্রমিক অসন্তোষ প্রশমনে সেনা টহল দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ জনগণকে যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে নিকটস্থ সেনাক্যাম্পে তথ্য দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: বিশেষ সহকারী

প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করবেন না।

তিনি বলেছেন, তার ক্ষমতার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অধ্যাপক ইউনূসের দরকার আছে।

আজ শুক্রবার দুপুরের দিকে ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

‘প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না।

অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস এর ক্ষমতা প্রয়োজন নেই, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ ডেমোক্রেটিক ট্রাঞ্জিশনের জন্য ড. ইউনূস স্যার এর দরকার আছে।

বরং ক্যাবিনেটকে আরও গতিশীল হতে হবে। সরকারকে আরও বেশি ফাংশনাল হতে হবে, উপদেষ্টাদের আরও বেশি কাজ করতে হবে, দৃশ্যমান অগ্রগতি জনতার সামনে উপস্থাপন করতে হবে—এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত থাকতে পারে না। আমাদেরকে দেখাতে হবে যে গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তীকালে জনতার সম্মতিতে ক্ষমতায় এসে প্রফেসর সাফল্য দেখিয়েছেন।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর সম্মান আছে, এটা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।

আমি মনে করি, সরকারকে এখন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আরও নিবিড়ভাবে আলোচনায় বসতে হবে, নিয়মিত বসে এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত চাইতে হবে। কোনো ধরনের বিচ্ছিন্নতা কাম্য নয়।

পাশাপাশি সেনাবাহিনীও রাজনীতিতে নাক গলাতে পারবে না। আজকের দুনিয়ায় কোনো সভ্য দেশের সেনাবাহিনী রাজনীতি করে না। তাই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বক্তব্যে সেনাপ্রধান জুরিশডিকশনাল কারেক্টনেস রক্ষা করতে পারেননি। তবে সেনাবাহিনীকে প্রাপ্য সম্মান দেখাতে হবে, আস্থায় রাখতে হবে। সেনাবাহিনী প্রশ্নে হুট করে কিছু করা যাবে না, হঠকারী কিছু করা যাবে না। তেমনি, ইনক্লুসিভনেসের নাম করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনও চাওয়া যাবে না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের গর্ব এবং আস্থার জায়গা—সেটা কেউ ভঙ্গ করবে না।

দরকারি প্রস্তুতি শেষ করে নির্বাচন এপ্রিল-মে’র কোনো সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলেই আশা করি, তবে এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। এ সময়ে সকল যৌক্তিক সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে, করতে হবে জুলাই সনদ। তবে ডিসেম্বর থেকে জুনে দেওয়া রোডম্যাপ মতে, নির্বাচনের এক্সাক্ট ডেট ঘোষণার এখতিয়ার শুধু স্যারের। স্যারের এখতিয়ার অন্য কেউ হাইজ্যাক করতে পারবে না। স্যারকে যখন আনা হয়েছে, তখন বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে স্যার বলেছেন, আমার কথা শুনতে হবে।

জুলাই-আগস্ট ’২৫–এ আমরা জাতীয়ভাবে দুই মাস জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তির উদ্‌যাপন করব, ইনশা আল্লাহ এবং আগস্টের মধ্যেই স্বৈরাচারী খুনি হাসিনার বিচারের প্রথম রায়টি আলোর মুখ দেখতে পাবে বলেও আশা প্রকাশ করি।

ইনশা আল্লাহ আমরা হারব না, আমাদের হারানো যাবে না।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
প্রফেসর ইউনূস জিন্দাবাদ।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’

(‘স্ট্যাটাসটিকে তিনি ব্যক্তিগত মতামত বলে আখ্যা দিয়েছেন। যদিও কিছুক্ষণ পর ওই মন্তব্যটি তিনি ফেসবুক থেকে মুছে দেন এবং নতুন আরেকটি পোস্টে লেখেন, ডিসক্লেইমার- মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা স্যারের বিষয়ে দেওয়া স্ট্যাটাসটি আমার ব্যক্তিগত মতামত। এটাকে নিউজ না করার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।’)

যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর কর বসানোর প্রস্তাব পাস

যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্য দেশে অর্থ পাঠানো বা রেমিট্যান্সের ওপর ৫ শতাংশ হারে কর বসানোর প্রস্তাব পাস হয়েছে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে। সিনেটে পাস হলেই পরিণত হবে আইনে। এতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই অভিবাসন ও কর আরোপ নিয়ে একের পর এক নির্বাহী আদেশে তোলপাড় চলছে বিশ্বব্যাপী। যা গড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালত পর্যন্ত। তবে এবার আর নির্বাহী আদেশ নয়, স্থায়ীভাবে পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের ওপর রেমিট্যান্স ট্যাক্সের বোঝা চাপানোর উদ্যোগ নিয়েছেন ট্রাম্প।

এরইমধ্যে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ নামের কর ও ব্যয়ের মেগা বিল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ মে) হাউসে ২১৫-২১৪ ভোটে পাস হয় বিলটি। এখন সিনেটে পাস হলেই সেটি আইনে পরিণত হবে।

প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে করপোরেট ও ব্যক্তির ওপর কর কমানোর একটি বিল পাস করেছিলেন ট্রাম্প। এবার তা আরও বড় পরিসরে কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে ১ হাজার ১১৬ পাতার নতুন ‘বিগ বিউটিফুল’ বিলে। এছাড়াও সরকারি ব্যয়ে অনেক বেশি কাটছাঁট ও জাতীয় কর্মসূচিতে কর হ্রাস করার এ বিলে নিম্ন আয়ের নাগরিকদের চিকিৎসা সহায়তা ‘মেডিকেইড’ এবং বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা ‘ফুড স্ট্যাম্পে’ খরচ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রবাসীরা বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাঠানোর কারণে দেশের অর্থ বাইরে চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্সে কর বসিয়ে রাজস্ব বাড়ানো এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ আনার উদ্দেশে এই প্রস্তাব দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্য দেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে এ বিলে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছাড়াও এ বিলের আওতায় পড়বেন কাজ বা ব্যবসার কারণে দেশটিতে অবস্থানরত এইচ-১বি ভিসা, এফ-১ ভিসাধারী এমনকি গ্রিনকার্ডধারীরাও।

বিলটি আইনে পরিণত হলে বিপাকে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা। রেমিট্যান্স পাঠাতে গুনতে হবে করের বাড়তি অর্থ।

এদিকে, এই বিলকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক নতুন পরিবর্তন বলে আখ্যা দিয়েছেন হাউস স্পিকার মাইক জনসন।