ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ, অর্থায়ন মিললে বাস্তবায়ন: প্রধানমন্ত্রী

SHARE

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হলে প্রকল্পটির বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন বেলা সাড়ে তিনটায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অধিবেশনের বৈঠক শুরু হয়। শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'চট্টগ্রাম-ঢাকার মধ্যে যাতায়াত সময় এবং দূরত্ব কমানোর জন্য সরকার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।'

তিনি জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, অন্যদিকে টঙ্গী-আখাউড়া ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা ও ট্রেনের গতি বাড়বে। ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্যোগ ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব কমাতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্ব কমার পাশাপাশি ট্রেনের গড় গতিও বাড়বে। ফলে অল্প সময়ে এ রুটে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।

অর্থায়ন নিশ্চিত হলেই ইলেকট্রিক ট্রেন চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নিমিত্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।'

তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থায়ন পাওয়া সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এতে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় কমবে।

আগামী বর্ষার আগেই চট্টগ্রামের ১৬০০ কিলোমিটার ড্রেন পরিষ্কার করা হবে

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে নগরের ২৫টি খাল থেকে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলনের পাশাপাশি ১,৬০০ কিলোমিটার সার্ভিস ড্রেন পরিষ্কার এবং ড্রেনে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা অপসারণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, আগামী বর্ষা মৌসুমের পূর্বে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া নগরীর আরও ৩২টি খাল থেকে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলন এবং অপসারণের কাজও চলমান রয়েছে।

আরও ৫৭ খালের রক্ষণাবেক্ষণে ডিপিপি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস্তবায়নাধীন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় থাকা ৩৬টি খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, এছাড়া ওই প্রকল্পের আওতার বাইরে আরও ২১টি খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

৪৮ কিলোমিটার সড়ক ও ৬ ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৮ কিলোমিটার রাস্তা, দুটি কালভার্ট ও ছয়টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া দুটি খেলার মাঠের উন্নয়নকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আরও ছয়টি খেলার মাঠের উন্নয়নকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.