বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

অভিনয় থেকে সাময়িক ‘বিরতি’, পাড়ি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রে

শোবিজ অঙ্গনে বিরতির ঘোষণার হিড়িকের মধ্যেই এবার অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতির কথা জানালেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মাহি জানান, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তার কিছুটা থামা প্রয়োজন। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘জীবনের প্রতিটি যাত্রায় মাঝেমধ্যে বিরতি দরকার হয়—এবার সেই সময়টাই নিচ্ছেন তিনি।’

তবে এটি স্থায়ী বিদায় নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী।

তার ভাষায়, ‘প্রিয় ভক্তরা, জীবনের প্রতিটি যাত্রায় মাঝেমধ্যে একটু বিরতি দরকার হয়। এইবার সেই বিরতিটাই নিচ্ছি। মনটা একটু ভারী, কারণ কাজ আর তোমাদের ভালোবাসা ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ।’

এই বিরতিকে যেন কেউ বিদায় না ভাবেন— এমনটাও জানিয়েছেন।
শিগগিরই তিনি আবার ফিরবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।

হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হলেও মাহি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি। পোস্টের মন্তব্যঘরে ভক্তরা তাকে শুভ কামনা জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, কাজের চাপ থেকে মানসিক প্রশান্তির জন্যই হয়তো এই বিরতি।

এদিকে বিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি ফ্লাইটে উঠে দেশ ছেড়েছেন মাহি। সেখানে নিজের বোনের সঙ্গে কিছুদিন সময় কাটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।

কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া যাবে না : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা হচ্ছে আমাদের নাম্বার ওয়ান টার্গেট। কোনো অবস্থাতেই কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের সব সরকারি দপ্তরের কর্মচারী ও সুধীজনের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, কোনো অবস্থাতেই চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, দখলদারি, জমিকাটা, জমি দখল করা, গাছকাটা, মাছ মেরে ফেলার বিচার কাউকে নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।
বিচার বিচারালয়ে হবে।

তিনি বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান। আইন তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যেতে হবে। অপরাধী জাহিদের ভাই না বোন, এটা দয়া করে দেখবেন না।
আইনের চোখে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাতে বিচার পায়—এ ব্যাপারে প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে।

কর্মচারীদের উদ্দেশে জাহিদ হোসেন বলেন, হাসপাতালগুলো যাতে সব সময় পরিচ্ছন্ন থাকে, মানুষ যাতে বলতে না পারে হাসপাতালে গেলে গন্ধ লাগে, দুর্গন্ধ হয়। দয়া করে এ দায়িত্ব পালন করবেন। আর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যত শূন্য পদ আছে, আপনারা আমাদের দিয়ে সহায়তা করবেন, আমরা এগুলো ফিলাপ করার ব্যাপারে আপনাদের সহায়তা করব।

এলাকায় মাদক ও জুয়ার কোনো আসর চলবে না উল্লেখ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, রাত্রিবেলায় নদীর চরে কিছু কিছু খারাপ কাজ হয়। আমি জানি, সেটা বলতে চাই না। আমি এটা বন্ধ করতে চাই। যাতে কেউ কোনোদিন না বলে যে ওখানে জুয়া খেলা হয় এবং তার ভাগ কেউ পায়। এই কথা আমরা শুনতে চাই না।

সভায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) রফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জেদান আল মুসা, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান, বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার (এসপি) হারেজ উদ্দিন, নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু দেসহ বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মকর্তা ও সুধীজন‍ উপস্থিত ছিলেন।

১০ লাখ পরিবার পাবে ন্যায্যমূল্যে ডিম-দুধ-মাংস : খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সারা দেশের জেলা পর্যায়ে ১০ লাখ পরিবারের মাঝে ন্যায্যমূল্যে ডিম, দুধ ও মাংস সরবরাহ করা হবে। এর মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আয়োজিত ন্যায্যমূল্যে বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলায় প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে এসব পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।

মূলত নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় রেখে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে রমজানে তাদের প্রোটিনসমৃদ্ধ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা যায়।

তিনি বলেন, সারা দেশে মাসব্যাপী এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার দুধ ৮০ টাকা, প্রতি ডজন ডিম ৮৪ টাকা, ড্রেসিং করা মুরগির মাংস প্রতি কেজি ২২৫ টাকা এবং গরুর মাংস ৬৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এ ছাড়া পোলট্রি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সঙ্গে বসে তাদের সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।

জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃত্রিম প্রজনন বিভাগের পরিচালক মো. শাহজামান খান তুহিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন প্রমুখ।

দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি একটি চ্যালেঞ্জ : পানিসম্পদমন্ত্রী

দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করা একটি চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর টাউন হল ও পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদের দুটি সভায় তারেক রহমানের বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়েছে।
তিনি বড় একজন পাহারাদার হিসেবে দেশের জন্য কাজ করবেন বলে আমার বিশ্বাস হয়েছে। তিনি সততাকে বেশি মূল্যায়ন করবেন বা করছেন। প্রথম দিন থেকেই তিনি প্রতিটি মন্ত্রণালয়-মন্ত্রী ও বিভাগের ব্যাপারে অ্যাকটিভ (সক্রিয়)।’

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় প্রভাবের কারণে কোনো সাধারণ মানুষ, সাধারণ ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এই সুযোগ থাকবে না।

তিনি বলেন, ‘আমার ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব, এটা একটা আমানত। এই কঠিন দায়িত্ব পালন করার জন্য আমি সজাগ ও সতর্ক আছি। আমাদের দেশে দুর্নীতি চেয়ে গেছে। আমাদের এই দুর্নীতিমুক্ত একটা পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করা আরেকটি কঠিন চ্যালেঞ্জ।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে এ্যানি বলেন, ‘ভোট হওয়ার দিন থেকেই আমি যদি বলি ভোটটা ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, ম্যানেজ ইলেকশন হয়েছে, এটা আমাদের আহত করে। এই বক্তব্যটি না দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াটা একটা দৃষ্টান্ত হতে পারে।’

লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আ হ ম মোশতাকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম পাবেলের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, জেলা জামায়াতের আমির এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ননী গোপাল ঘোষ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জেড এম ফারুকী ও লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাইন উদ্দিন পাঠান প্রমুখ।

দায়িত্ব পালনে গাফিলতিও এক ধরনের দুর্নীতি : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, কেবলমাত্র আর্থিক অনিয়মই দুর্নীতি নয়, দায়িত্ব পালনে গাফিলতিও এক ধরনের দুর্নীতি। প্রত্যেককে দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে পিটিআইয়ে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষক যদি দায়িত্ব অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে সময় না দেন, কেবল সময় কাটিয়ে যান—তাহলেও সেটি দুর্নীতি।
আপনি ৮ ঘণ্টা ক্লাস নেওয়ার জন্য স্কুলে গেছেন, কিন্তু ঠিকভাবে পাঠদান করলেন না—এটা কি দুর্নীতি নয়? এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তন আনতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। নিজের সন্তানের মতো করে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে গড়ে তুলুন। আমি অনেক জায়গায় দেখি, শিক্ষকরা নিজেদের সন্তানকে অন্য স্কুলে পড়ান।
তাহলে প্রশ্ন আসে—আপনি কি সত্যিকারের শিক্ষক?

তিনি আরো বলেন, শিক্ষকদের অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে ভাবতে হবে তাদের দায়িত্ব কী এবং তারা কী করতে চান। আমরা শুধু খাওয়ার সময় হালাল-হারাম ভাবি, কিন্তু দায়িত্ব পালনের সময় তা ভাবি না।

দুর্নীতির প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আমি পাঁচ বছর মন্ত্রী ছিলাম, আমার বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির মামলাও হয়নি। আমাদের সবারই উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে সৎ থাকা।

তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরে প্রতিটি শিশুকে যত্নসহকারে শিক্ষা দেওয়া গেলে ঝরে পড়ার হার কমে আসবে। আগামী বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব শিক্ষকদেরই নিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতেই হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চলতি মাসেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মিলবে নগদ অর্থ : তথ্যমন্ত্রী

সারা দেশে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার রয়েছে। আর চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সরকার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন অনুসারে দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।’

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বরিশালে একুশে ফেব্রুয়ারির আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে এই ফ্যামিলি কার্ডে নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। দেশের ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের নারী সদস্য এই কার্ডের মালিক হবেন।’

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দেশের একটি বড় অংশ তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বরিশালের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও জানান। ভোলার গ্যাস বরিশালে আনা, বনগাঁ থেকে পায়রা পর্যন্ত ফোরলেন সড়কসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। বক্তব্য দেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনজুরুল আলম, পুলিশ সুপার মো. ফারজানা ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খায়রুল আলম সুমনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা।

তরুণদের কাজে লাগালে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে : নজরুল ইসলাম খান

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, তরুণ জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশ্বের বহু দেশে এমন বড় তরুণ জনগোষ্ঠী নেই। তাদের দক্ষতা, নৈতিকতা, চিন্তা সংহতভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। জনসংখ্যাকে সমস্যা না ভেবে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত নির্বাচনি বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভালো চাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনায় যা সম্ভব তা অর্জনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, দলীয়করণ, দুর্নীতির কথা স্পষ্ট করে তুলে ধরে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা খুব ভালো চাই, আরও ভালো চাই।
এটা প্রয়োজন, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনা করেই যা সম্ভব, সেটাই অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। বাস্তবায়নের দায় কারও একার নয়, সহযোগিতা ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, এদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যতটা ধ্বংস হয়েছে আমরা ভেবেছি তার চেয়েও বেশি।
দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, দুর্নীতি, অনাচার, অযোগ্য মানুষকে দায়িত্ব দেওয়া সব মিলিয়ে এই সর্বনাশ হয়েছে। এই অবস্থা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

যুব সমাজের হতাশার প্রসঙ্গ টেনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অনেকের মনে কষ্ট আছে। আমাদের যুব সম্প্রদায় হতাশ। তাদের এই আক্ষেপ দূর করতে হবে।
একা সম্ভব নয়, সবাইকে মিলে চেষ্টা করতে হবে। নইলে তাদের ন্যায্য আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে যাবে।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি শ্রমিক আন্দোলনের মানুষ। কষ্ট করেছি, অপেক্ষা করতে রাজি আছি। যদি দেখি আমার দেশ সফল হবে, সহকর্মীরা সফল হবে, সন্তানরা সফল হবে, তাহলেই সেটাই বড় প্রাপ্তি। এটি একদিনের কাজ নয়, কিন্তু অনিবার্য কাজ।

তরুণ জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বহু দেশে এমন বড় তরুণ জনগোষ্ঠী নেই। তাদের দক্ষতা, নৈতিকতা, চিন্তা সংহতভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। জনসংখ্যাকে সমস্যা না ভেবে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।

পানি ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোথাও পানির অভাব, কোথাও অতিরিক্ত পানি। বেশি হলে সংরক্ষণ, কম হলে ব্যবহার করতে পারলে সমস্যা থাকার কথা নয়। পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলেই সমাধান সম্ভব।

তরুণদের উদ্দেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, শুধু স্বপ্ন দেখালেই হবে না, বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। খালি আক্ষেপ নয়, প্রাপ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করতে হবে। বিতর্ক ও আলোচনা যেন সেই পথ দেখায়।

জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়ে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য প্রধানমন্ত্রী গোল্ড কাপ ঘোষণা করেছিলেন এবং নিজে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেছিলেন। এই টুর্নামেন্ট পুনরায় চালুর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দৃষ্টিতে আনার বিষয়টি ভালো আইডিয়া, তিনি বিষয়টি তার গোচরে নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পাঠ্যপুস্তকে কো কারিকুলাম বিষয় হিসেবে বিতর্ক সংযুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি করা যায়। জাতীয় ভিত্তিতে বিতর্ক আয়োজন হওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি।

শিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্মমুখী করার ঘোষণা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা গতানুগতিক ধারায় চলায় বেকারত্ব বাড়ছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সামঞ্জস্য রাখতে পারছে না। শিক্ষা বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য নয়, বরং তা বেকারত্ব কমানো ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী করা হবে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তার এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠতে পারে। নতুন কলেজ, বিষয় বা প্রতিষ্ঠান চালুর নানান দাবি এলেও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদা ও বাজারের উপযোগিতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা ও প্রথম ভাষা হিসেবে এর মর্যাদা অটুট।
মাতৃভাষা চিন্তা, স্বপ্ন ও অনুভূতির প্রধান বাহন। বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিসহ ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো অপরিহার্য। বাংলা ভাষা বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত ভাষাগুলোর একটি এবং এর সংরক্ষণে বাংলাদেশের অবদান অনন্য। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মাধ্যমে ভাষা সংরক্ষণের নৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাসমূহের সংরক্ষণ ও বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না এবং কাউকে দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না।

প্রতিমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভিত্তি দুর্বল হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনটি মূল বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে— কারিকুলাম (যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম), ক্লাসরুম (কার্যকর পাঠদান) এবং কনসিস্টেন্সি (সারাদেশে মানের সামঞ্জস্য)।
বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাসহ বিভিন্ন ধারার মধ্যে মানগত সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বব্যাপী নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্করোপ ট্রাম্পের

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে ভিন্ন ভিন্ন হারে শুল্ক আরোপের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার দেওয়া এক রায়ে আদালত জানায়, একতরফাভাবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শুল্ক বসিয়ে ট্রাম্প ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন।

আদালতের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প পাল্টা ঘোষণা দেন—তিনি নতুন করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ওভাল অফিসে বসেই এই আদেশে সই করা হয়েছে এবং এটি প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। নতুন শুল্ক মঙ্গলবার থেকে চালু হবে।

এদিকে আদালতের সিদ্ধান্তের পর ওয়াল স্ট্রিটে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে একই দিন ট্রাম্প ‘ধারা ১২২’ নামে পরিচিত একটি প্রায় অব্যবহৃত আইনের আওতায় নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন।
এই আইনে প্রেসিডেন্টকে ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হয়।

নতুন আদেশে কিছু খনিজ, প্রাকৃতিক সম্পদ, সার, কমলা ও গরুর মাংসের মতো কৃষিপণ্য, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস এবং নির্দিষ্ট কিছু গাড়িকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে ছাড়ের তালিকা অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট।
উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ)-এর আওতায় কানাডা ও মেক্সিকোর বেশিরভাগ পণ্যই ছাড় পাবে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব দেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তাদের ওপরও নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক প্রযোজ্য হবে। তারা চুক্তিতে নির্ধারিত হারের বদলে সেকশন ১২২ অনুযায়ী শুল্ক দেবে।

আদালতের এই রায় ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে মামলা করা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইইইপিএ-এর আওতায় আদায় করা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার শুল্ক ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
তবে এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, আদালতের রায় মানেই শুল্ক থেকে আদায় করা অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত যাবে না। বিষয়টি দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং তা শেষ হতে কয়েক বছরও লাগতে পারে।

তিনি বলেন, শুল্ক কার্যকরের জন্য তার হাতে আরো বিভিন্ন আইনি উপায় রয়েছে। তার মতে, এসব শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক।

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসসহ ছয়জন বিচারক ট্রাম্পের শুল্কের বিপক্ষে রায় দেন। তাদের মধ্যে তিনজন উদারপন্থি বিচারকের পাশাপাশি ট্রাম্পের মনোনীত দুই বিচারক অ্যামি কনি ব্যারেট ও নেইল গোরসাচও ছিলেন। তবে তিন রক্ষণশীল বিচারক—ক্লারেন্স থমাস, ব্রেট কাভানাহ ও স্যামুয়েল আলিতো, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের বিরোধিতা করেন।

রায়ের পর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের মনোনীত বিচারকেরাই তার শুল্কনীতির বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় তিনি ‘ভীষণ লজ্জিত’। তার ভাষায়, ওই বিচারকেরা ‘বোকা ও তোষামোদকারী’ এবং তাদের মধ্যে ‘দেশপ্রেমের অভাব’ রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি রবার্টস রায়ে উল্লেখ করেন, সংবিধান অনুযায়ী কর ও শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত, প্রেসিডেন্টের নয়। শুল্ক আরোপের মতো অস্বাভাবিক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন—কিন্তু ট্রাম্প তা দেখাতে পারেননি।

আদালত আরো বলেন, আইইইপিএতে ‘নিয়ন্ত্রণ’ ও ‘আমদানি’ শব্দ থাকলেও এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন সময়ের জন্য যেকোনো দেশের ওপর যেকোনো হারে শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

মামলার শুনানিতে প্রতিবাদকারী অঙ্গরাজ্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসার আইনজীবীরা যুক্তি দেন, যে আইনের আওতায় শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, সেখানে ‘ট্যারিফ’ শব্দটিরই উল্লেখ নেই। তাদের মতে, কংগ্রেস কখনও কর আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের কাছে হস্তান্তর করতে চায়নি। রবার্টস তার মতামতে এই যুক্তির প্রতি সমর্থন জানান।

ট্রাম্প দাবি করেন, এই রায়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো উচ্ছ্বসিত হয়েছে, যারা বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে এসেছে। তবে তারা বেশিদিন আনন্দ করতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রায়ের পর ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা যায়, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে দিন শেষ করে। তবে শুল্ক ফেরত ও ব্যয়মুক্তির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবে রূপ নেবে কি না—তা এখনও অনিশ্চিত।

সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স

দ্য হান্ড্রেড নিলামে ২৩ বাংলাদেশি ক্রিকেটার

ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেড–এর ২০২৬ আসরের নিলামে নাম লিখিয়েছেন ২৩ জন বাংলাদেশি ক্রিকেটার। আগামী ১১ ও ১২ মার্চ লন্ডনের ঐতিহাসিক পিকাডিলি লাইটস–এ অনুষ্ঠিত হবে এই নিলাম।

বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য রাখা হয়েছে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের, ১ লাখ পাউন্ড। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য ৭৫ হাজার পাউন্ড লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনের।
বাকি ২১ ক্রিকেটারের ভিত্তিমূল্য ৩১ হাজার পাউন্ড করে।

টুর্নামেন্টটির আয়োজক ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিলামের তালিকা প্রকাশ করেছে। এবারের আসরে ১৮টি দেশ থেকে প্রায় এক হাজার ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছেন।

নিলামের আগে অংশগ্রহণকারী আটটি দল নিজেদের আগ্রহের ভিত্তিতে ৭৫ থেকে ১০০ জন ক্রিকেটারের তালিকা জমা দেবে।
সেই তালিকা থেকে প্রায় ২০০ জনের একটি চূড়ান্ত লংলিস্ট তৈরি করা হবে, যারা নিলামে উঠবেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে লিগ শুরুর পর এখনো পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার দ্য হান্ড্রেডে খেলেননি। তাই এবারের নিলাম বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেনের মতো বোলারদের নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিলামে থাকা বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা:

মুস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, জাকের আলী, লিটন দাস, মেহেদী হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তানজিম হাসান সাকিব, তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, হাসান মাহমুদ, রিপন মন্ডল, মোহাম্মদ নাঈম, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, পারভেজ হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, সাব্বির রহমান ও সৌম্য সরকার।