বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

সবচেয়ে বড় রণতরীকে ভূমধ্যসাগর থেকে লোহিত সাগরে নিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নিজেদের সবচেয়ে বড় রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডকে ভূমধ্যসাগর থেকে লোহিত সাগরে নিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

শনিবার (৭ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ মার্কিন রণতরী গত কয়েকদিন ধরে ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছিল। এখন এটি লোহিত সাগরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এটি মিসরে সুয়েজ খাল পার হচ্ছে।

গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করতে ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডকে ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইরানে হামলার জন্য এটিকে ভূমধ্যসাগরে আনা হয়। ওই সময় এটি ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে নোঙর করেছিল।

সূত্র : আলজাজিরা

বিপদগ্রস্ত ইরানি নাবিকদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসিত শ্রীলঙ্কা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত যখন ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, তখন এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো শ্রীলঙ্কা। ভূ-রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে সংকটে পড়া দুই শতাধিক ইরানি নাবিককে উদ্ধার ও আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের মতে, কলম্বোর এই পদক্ষেপ অত্যন্ত ‘সাহসী ও নীতিবান’।

গত বুধবার শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা-কে ডুবিয়ে দেয় মার্কিন সাবমেরিন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সাবমেরিনের আঘাতে কোনও রণতরি ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা বিরল। এই হামলার পর লঙ্কান নৌবাহিনী দ্রুত অভিযানে নেমে ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে। পরে ৮৭ জনের মরদেহও উদ্ধার করে তারা। ১৯ নটিক্যাল মাইল দূরে গলে উপকূলে চালানো এই উদ্ধার অভিযানের ভিডিও ও ছবি ইতোমধ্যে জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

প্রথম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আইআরআইএস বুশেহর নামের আরেকটি ইরানি জাহাজ ইঞ্জিন বিকল হয়ে লঙ্কান জলসীমার কাছে আটকা পড়ে। হেলিকপ্টার প্যাডযুক্ত এই লজিস্টিক জাহাজটি সম্প্রতি ভারতে আয়োজিত ‘মিলান ২০২৬’ বহুজাতিক নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাহাজটির ক্যাপ্টেন ও ইরান সরকারের অনুরোধে শ্রীলঙ্কা জাহাজটিকে নিজেদের বন্দরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে সাংবাদিকদের বলেন, এটি কোনও সাধারণ পরিস্থিতি নয়। আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কনভেনশন অনুযায়ী একটি পক্ষের অনুরোধে আমরা জাহাজটিকে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছি।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি আরও লিখেছেন, যুদ্ধে কোনও সাধারণ মানুষের মৃত্যু কাম্য নয়। আমাদের নীতি হলো, প্রতিটি জীবনই আমাদের নিজেদের জীবনের মতো মূল্যবান।

শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর মুখপাত্র বুদ্ধিকা সাম্পাত বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানান, আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ভারত মহাসাগরে তাদের নির্ধারিত তল্লাশি ও উদ্ধার এলাকা থেকেই এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া নাবিকদের প্রথমে কলম্বো বন্দরে আনা হচ্ছে এবং জাহাজটিকে পরবর্তীতে একটি পূর্ব দিকের বন্দরে সরিয়ে নেওয়া হবে। চিকিৎসা ও অভিবাসন প্রক্রিয়া শেষে নাবিকদের কলম্বোর উত্তরের ওয়েলিসারা নৌঘাঁটিতে রাখা হবে।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক কার্ল ঝা শ্রীলঙ্কাকে ‘ভারত মহাসাগরের প্রকৃত অভিভাবক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মার্কিন সাংবাদিক রায়ান গ্রিম এবং সাংবাদিক রাঙ্গা সিরিলালও কলম্বোর এই নিরপেক্ষ ও মানবিক অবস্থানের প্রশংসা করেছেন। নেটিজেনরা বলছেন, রাজনীতি সরিয়ে রেখে যেভাবে শ্রীলঙ্কা বিমান ও জাহাজ মোতায়েন করেছে, তা-ই প্রকৃত মানবতা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, চরম মেরুকরণের এই বিশ্ব পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার এই পদক্ষেপ একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে, যুদ্ধ বা রাজনীতি যা-ই হোক না কেন, সাগরে বিপদগ্রস্ত নাবিকদের রক্ষা করাই সমুদ্রসীমার চিরন্তন ও প্রধান নীতি।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

নদীভাঙন প্রকল্প দেখতে কোম্পানীগঞ্জে যাচ্ছেন দুই মন্ত্রী

নদীভাঙন রোধে ছোট ফেনী নদীর ওপর প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শনে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুরে আসছেন দুই মন্ত্রী।

জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টার পর বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা পরিদর্শন করবেন।

শনিবার (৭ মার্চ) সকালে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে মুছাপুরের ২৩ ভেন্টবিশিষ্ট রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ, ফেনীর সোনাগাজী এবং দাগনভূঁইয়া উপজেলায় ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে নতুন রেগুলেটর নির্মাণে সরকার ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেলেই প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শুরু হবে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগণ এ সময় দুই মন্ত্রীর মাধ্যমে সরকারের কাছে তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরবেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রস্তাবিত “মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পটি প্রায় ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি মাস থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, ২০০৫ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপকূলে অব্যাহত নদীভাঙন ঠেকাতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে নতুন ডাকাতিয়া ও পুরাতন ডাকাতিয়া-ছোট ফেনী নদীর পানি নিষ্কাশন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৩ ভেন্টবিশিষ্ট মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ শুরু হয়। ওই বছরের ৮ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

রেগুলেটর নির্মাণ শেষে ২৩টি ভেন্টে রেডিয়াল গেট ও ফ্ল্যাপ গেট স্থাপন করা হয়। এ রেগুলেটরের পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা ছিল ৭৫৬.১৫ ঘনমিটার-সেকেন্ড এবং পানিধারণ ক্ষমতা (+৪.০০ মিটার পিডব্লিউডি)।

নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম. রিফাত জামিলহয়া বলেন, মন্ত্রীদ্বয় মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা ছাড়াও নদীভাঙন প্রতিরোধে চলমান বামনী ক্লোজার এবং উড়িরচর ক্রসড্যাম নির্মাণ এলাকা পরিদর্শন করবেন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সব সময় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে এসব তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি মিশনের প্রতিনিধিরা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যরা ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।

ইফতারের পূর্বে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, আজকের এই ইফতার শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, নানা জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও ঐক্যের গুরুত্বের কথা। এই মূল্যবোধই একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল সমাজ গঠনের ভিত্তি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বিচক্ষণ নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ নীতি অনুসরণ করবে, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরও সহজ করবে এবং দায়িত্বশীল বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য আমাদের জনগণ ও বেসরকারি খাতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে উন্মোচিত করা।

তারেক রহমান বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ, আস্থা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ এবং নীতির আলোকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে বাস্তববাদী ও টেকসই।

তিনি আরও বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় অংশীদারত্বকে মূল্যায়ন করি এবং আগামী বছরগুলোতে উন্মুক্ত আলোচনা ও শক্তিশালী সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত রয়েছি।

তিনি বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সমাজের সব স্তরে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নে অগ্রসর হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেবে।

তিনি আরও বলেন, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে এমন উদার অর্থনৈতিক নীতিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার করা হবে।

বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি বহুমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, নারীর ক্ষমতায়ন ঘটাবে, উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে উৎসাহিত করবে এবং সবার জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা জোরদার করা, পাঠ্যক্রমে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং গ্রামীণ এলাকায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে প্রবৃদ্ধির সুফল দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যায়।

তিনি বলেন, আমরা স্বীকার করি যে, জনগণের আস্থা নির্ভর করে স্বচ্ছতা ও সততার ওপর এবং শাসনের সব স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেবো। আমাদের কাছে গণতন্ত্র শুধু ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা ও সংলাপের ধারাবাহিক অঙ্গীকার।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের অঙ্গীকার দৃঢ় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও আমরা সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যাতে প্রতিটি পরিবারের নারী সদস্য এবং কৃষি সম্প্রদায়ের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করা যায়।

পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে আমরা আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সমর্থনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বক্তব্য রাখেন।

অস্ত্রের উৎপাদন ৪ গুণ বাড়াতে সম্মত মার্কিন প্রতিরক্ষা নির্মাতারা: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিরক্ষা অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নতমানের অস্ত্রের উৎপাদন চারগুণ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে প্রতিরক্ষা শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ তথ্য জানান।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে উৎপাদন ও উৎপাদনসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘এক্সকুইজিট ক্লাস’ বা উন্নত শ্রেণির অস্ত্রের উৎপাদন চারগুণ বাড়াতে সম্মত হয়েছে।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এসব অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ বৈঠকের প্রায় তিন মাস আগেই শুরু হয়েছে এবং অনেক অস্ত্র কারখানায় ইতোমধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাঝারি ও উচ্চ-মাঝারি মানের গোলাবারুদের প্রায় অসীম মজুত রয়েছে। এই ধরনের গোলাবারুদ বর্তমানে ইরানে সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সম্প্রতি ভেনেজুয়েলাতেও ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ধরনের অস্ত্রের অর্ডার আরও বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানি যেমন- বিএই সিস্টেমস, বোয়িং, হানিওয়েল এয়ারোস্পেস, এলথ্রিহ্যারিস মিসাইল সল্যুশনস, লকহিড মার্টিন, নর্থরপ গ্রুম্যান এবং রেথিয়নের প্রধান নির্বাহীরা অংশ নেন। এদিকে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সাবেক মার্কিন মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান বলেন, ‘বর্তমানে যে মাত্রার স্বল্প-পাল্লার যুদ্ধ চলছে, সেই মাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম।’

সূত্র: বিবিসি

ইরানের হামলার পর নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা স্বাভাবিক জানাল সৌদি আরব

ইরানের হামলার পর এবার নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা জানাল সৌদি আরব।

সৌদি আরবের মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পরও দেশের আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী রয়েছে এবং তাদের একাধিক রপ্তানি পথ রয়েছে। এর মধ্যে লোহিত সাগর অন্যতম।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে সাম্প্রতিক উন্নয়ন উল্লেখ করলেও সরাসরি সংঘাতের কথা বলেননি।

তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবজুড়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। আমরা অর্থনৈতিক ও আর্থিক সূচকগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি এবং বর্তমান তথ্য নিশ্চিত করছে যে, আমাদের আর্থিক অবস্থান ও মধ্যমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি শক্তিশালী।’

ইরানের হামলার পর নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা জানাল সৌদি আরব বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের আর্থিক অবস্থান দৃঢ়।

তেল দামের ক্ষেত্রে, গত শুক্রবারের পর থেকে দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হাইড্রোকার্বন রপ্তানি পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে কমে গেছে এবং উৎপাদন বন্ধ হয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা

ইরানের হামলা থেকে বাঁচতে মাটির নিচে বন্দিদশায় ইসরায়েলিদের দিন

ইরানে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত। তবে পাল্টা হামলা থেমে নেই ইরানের। তাদের হামলায় বিপর্যস্ত ইসরায়েলিদের জনজীবনও। ইরানে মানুষ শহর থেকে গ্রামের দিকে ছুটছে। আর ইসরায়েলের মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন বাংকারে। জেরুজালেম, তেল আবিব, হাইফাসহ বিভিন্ন শহরেই এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

ইসরায়েলের এ চিত্র তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ার ‘নাইন নিউজ’। এতে দেখানো হয়েছে, তেল আবিবের একটি হাসপাতালের ভূউপরি ভাগে যেমন স্থাপনা রয়েছে, তেমনি মাটির নিচেও রয়েছে দোতলা। এই দোতলায়ও চিকিৎসার সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে ২৫০ জন রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। এই হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক ব্রিয়ান ফ্রেডম্যান বলেন, ইরানের হামলা শুরুর পরপরই ২৫০ রোগীকে আন্ডারগ্রাউন্ডের এসব ফ্লোরে আনা হয়।

এই চিকিৎসক বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এ প্রস্তুতি নিয়েছি। এই স্থানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হানা সম্ভব নয়।’ এই হাসপাতালে যুদ্ধে আহত ব্যক্তিদেরও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, গত বছরের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় আবারও ফিরে এসেছে ইসরায়েলে। সে সময় মানুষ বাধ্য হয়ে বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিলেন, আবারও সে চিত্র দেখা যাচ্ছে।

নাইন নিউজের ভিডিওতে দেখা যায়, সেখানে বিভিন্ন ভবনের নিচে আন্ডারগ্রাউন্ডে সাধারণ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সেখানে গেছেন। অনেকে বসে বই পড়ছেন। অনেকে বিছানা পেতেছেন সেখানে। তেল আবিবে আশ্রয় নেওয়াদের একজন খসরো নেমাতি। তিনি ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে।’

যুদ্ধ শুরুর দিন তেল আবিবে যখন হামলা শুরু হয় তখনই অনেকে স্থানীয় সিনাগগ, বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যারেজ ও পাতাল রেলস্টেশনে আশ্রয় নেন। তেল আবিবের অ্যালেনবি স্টেশনে আশ্রয় নিয়েছিলেন ইসরায়েল হায়ওম। তিনি বলেন, তিনি যে ভবনে থাকেন সেখানে আশ্রয় নেওয়ার কোনো জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে রেলস্টেশনে আশ্রয় নিয়েছেন।

ইসরায়েলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে দেখা যায়, তেল আবিবের বেশ কিছু স্থানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এসব ভবনে আঘাতে কাচের টুকরা পড়ে রয়েছে রাস্তার পাশে। সেগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। ভিডিওতে এক পাতাল রেলস্টেশনের চিত্র তুলে ধরা হয়। এই শহরের চিত্র তুলে ধরে আনা নেসতেরোভা নামের এক নারী বলেন, ‘আমি যে ভবনে থাকি সেই ভবনে নিচের অংশে অর্থাৎ মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ আছে। আমি সেখানে ছিলাম। তবে আমি একা হওয়ায় ভয় লাগছিল। সে কারণে আমি এখানে এসে অন্যদের সঙ্গে আশ্রয় নিয়েছি।’

আনা নেসতেরোভার সঙ্গে একটি কুকুরও আশ্রয় নিয়েছে এই পাতাল রেলস্টেশনে। এই স্টেশনে দেখা যায়, অনেকেই বসার বেঞ্চের ওপর ঘুমিয়ে আছেন। স্টেশনে কথা হয় লুসেট নামের আরেকজনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে সারা রাত থাকি। হামলার কারণেই এখানে থাকতে হচ্ছি।’

তেল আবিবে সাকেজ জিভি সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন পিবিএস নিউজের সঙ্গে। এক সন্তানের মা তিনি। বলেন, ‘হামলায় আমাদের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায়ই সাইরেন বাজছে।’

হামলায় জিভির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দিনের বেলায় খোলা আকাশের নিচে থাকেন। তিনি বলেন, ‘সাইরেন বাজলে আমরা আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টারে যাই। আমার দেড় বছরের মেয়েও এখন বুঝতে পারে, কখন আমাদের বাংকারে যেতে হবে।’

ইরাকের বাগদাদে সামরিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের সামরিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে সেখানকার কিছু অবকাঠামোতে আগুন ধরে যায়। ইরাকি একটি সূত্র শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তবে এ ব্যাপারে ইরাক সরকার এখনো কোনো বিবৃতি দেয়নি।

এই ড্রোন হামলার আগে বাগদাদ বিমানবন্দরের পাশে মার্কিন দূতাবাসের কাছে রকেট হামলার ঘটনা ঘটে।

ওই রকেটটি ইরাক থেকেই ছোড়া হয়। যে যান ব্যবহার করে এটি ছোড়া হয়েছিল সেটি পরবর্তীতে জব্দ করে ইরাকি বাহিনী। এছাড়া নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত কয়েকটি রকেটও জব্দ করে তারা।

ইরাকের বাসরায় আলাদা ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির পরিচালিত একটি তেল ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটে।

সূত্র: আলজাজিরা

মিথ্যা বলা মহাপাপ, মিথ্যা বলো না: মির্জা আব্বাস

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বী নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীসহ এনসিপি নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, মুরুব্বিরা শিক্ষা দেয়, মিথ্যা বলা মহাপাপ। সুতরাং মিথ্যা বলো না। একটি লোকের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে বদনামী করা এটি আরও বড় পাপ। এই পাপ থেকে দয়া করে নিজে দূরে থাকুন এবং আমাদেরকেও দূরে রাখুন।

শুক্রবার বিকালে রমনা থানা বিএনপির উদ্যাগ্যে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল মাঠে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনার দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। থানা বিএনপির আহবায়ক আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামীম হোসেনের পরিচালনায় এসময় মহানগর ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, আমার এলাকায় নির্বাচনে ভোট কারচুপি না হলে ওরা এত ভোট পেতে পারে না। ঢাকা ৮ আসনের একটি ওয়ার্ডে আপনার কোন আত্মীয় আছে যে আপনাকে ভোট দিয়েছে, তা বলতে পারবেন না। আর আমি মির্জা আব্বাস নাম ধরে বলে দিবো কারা কারা আমাকে ভোট দিয়েছে। আপনি কসম খেয়ে বলেন- এতগুলো ভোট আমি সিল মেরে নিয়েছেন! নাকি আকাশ থেকে এসেছে!

তিনি বলেন, আমরা রাতের বেলায় কয়েকটি স্কুলে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিয়ে ভোট রক্ষা করেছি। না হলে সব কেন্দ্র সিল মেরে নিয়ে যেতেন। অদ্ভুত কায়দায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন। চাপিয়ে দিচ্ছেন বিএনপির উপরে।

আব্বাস বলেন, আমার এলাকায় হারার ইতিহাস নেই। আওয়ামী লীগের আমলে নির্বাচন হয়নি, সেটি সবাই জানে। আমি কোন জায়গায় কত ভোট পেলাম, সেটি আপনাদের দেখার বিষয় নয়। এ এলাকায় আমার বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন আছে। সুতরাং আমার ভোটের অভাব নেই। আমার কথা হলো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং না করে আপনারা এত ভোট কিভাবে পেলেন? সেটি আজ জাতির সামনে আমার প্রশ্ন। আমি প্রমাণ করতে পারবো আপনারা কারচুপি করেছেন।

মেট্রোরেলে সিট দখল ঠেকাতে নতুন নিয়ম

রাজধানীর আধুনিক যানবাহন মেট্রোরেলে এক বা দুই স্টেশন আগে উঠে আসন দখল করে রাখার (লুপ রাইডিং) অভিযোগ উঠেছে কিছু যাত্রীর বিরুদ্ধে। অন্য যাত্রীদের এমন অভিযোগের পর সিট দখল ঠেকাতে মতিঝিল স্টেশনে নিয়মিত অপারেশন বা ট্রেন চালানোর নিয়মে কিছু বদল এনেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

উত্তরাগামী যাত্রীদের অভিযোগ, একশ্রেণির যাত্রী উত্তরা থেকে ছেড়ে আসা মতিঝিলগামী ট্রেনে উঠে পড়েন। তারা মতিঝিল স্টেশনে নামার বদলে সিটে বসেই থাকেন এবং একই ট্রেনে আবার উত্তরার দিকে যাত্রা শুরু করেন। এর ফলে সচিবালয় বা শাহবাগ স্টেশন থেকে যারা ওঠেন, তারা কোনো আসন খালি পান না।

ঢাকা মেট্রোরেলের অপারেশন প্রধান মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং মতিঝিল স্টেশনে ট্রেন ঘোরানোর (টার্নঅ্যারাউন্ড) পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন
রাজধানীর বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিট বিক্রি বন্ধ, জিম্মি যাত্রীরা

তিনি আরও বলেন, আগে একটি ট্রেন মতিঝিল আসার পর প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করে আবার ছেড়ে যেত। এখন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোয় যাত্রীরা সরাসরি মতিঝিল থেকেই নতুন ট্রেনে উঠতে পারবেন। এ ছাড়া কোনো যাত্রী মতিঝিল পৌঁছানোর পর ওই একই ট্রেনে বসে থেকে ফিরতি যাত্রা করতে পারবেন না। তাকে অবশ্যই ট্রেন থেকে নামতে হবে এবং অন্য প্ল্যাটফর্মে গিয়ে নতুন ট্রেনে উঠতে হবে।

মেট্রোর প্ল্যাটফর্ম বা ট্রেনের ভেতর অহেতুক ঘোরাঘুরি বন্ধে চেকইন ও আউটের মধ্যবর্তী সময়সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে জানিয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা অনুমোদিত সময় কমিয়ে দিয়েছি। যদি কোনো যাত্রী নির্ধারিত সময়ের বেশি প্ল্যাটফর্ম বা সিস্টেমের ভেতরে অবস্থান করেন, তবে তাকে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।