মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

আর্জেন্টিনাএড়াতে চাইবে ফ্রান্স কে

ইতিহাস বলে ‘সকার’, আজ ফুটবল নামে যে খেলাকে আমরা চিনি তার আবিষ্কার বা গোড়াপত্তন হয়েছিল হ্যারো বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ অর্থাৎ, ইংল্যান্ডেই ফুটবল খেলার শুরু বলে ইতিহাস মেনে নিয়েছে৷ কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল, যা কিনা বহুদিন আগে থেকেই অলিম্পিককে পেছনে ফেলে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে ফরাসি নেতৃত্ব৷ ১৯০৪ সালে যখন সাতটা দেশ নিয়ে ফিফা গঠিত হয় তখন থেকেই শুরু হয় এমন একটি প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা, যা আয়োজন করার এক্তিয়ার শুধু ফিফারই থাকবে৷ ১৯২০ সালে ঠিক হয়ে যায় ৪ বছর অম্তর এই টুর্নামেন্ট হবে এবং সেই সভাতেই ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন ফ্রেঞ্চ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন সভাপতি জুলস রিমে৷ শেষ পর্যম্ত দীর্ঘ ২৫ বছরের চেষ্টায় ১৯২৯ সালে ঠিক হয় বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হবে ১৯৩০ সালের জুন মাসে, আয়োজক দেশ হবে ১৯২৪ আর ১৯২৮ সালের অলিম্পিকে ফুটবল চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে৷ এই দীর্ঘ ২৫ বছরের প্রয়াসে যারা আম্তরিকভাবে জড়িয়ে ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম জুলস রিমে৷ ফলে সর্বসম্মতিক্রমে বিশ্বকাপ ট্রফির নাম হয় তারই নামে– জুলে রিমে৷ যিনি জুলস রিমেকে এই কাজে দক্ষভাবে সহায়তা করেছিলেন তিনি ইউরোপীয় ফুটবলের তৎকালীন সভাপতি হেনরি ডিলনে৷ এই হেনরি ডিলনেও একজন ফরাসি৷ সুতরাং, যে বিশ্বকাপ ফুটবলের দিকে এই মুহূর্তে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি তার পেছনে ফরাসিদের অবদান অনস্বীকার্য৷image_83875_0

ফ্রান্স ফুটবল দল প্রথম বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যম্ত গিয়েছিল৷ সেই থেকে আজ অবধি বিশ্বকাপ ফুটবলে ফ্রান্স দলের পারফরমেন্স উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়েই এসেছে৷ যদিও কখনই তা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেনি৷ তবে, মাঝে মাঝে এতটাই উচ্চতায় পৌঁছেছে যা ফুটবলপ্রেমীরা ভোলেনি৷ নানা উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে এবং বহু বিবর্তনের পর, যখন জুলে রিমে ট্রফির সেই সোনার পরী চিরকালের জন্য চলে গেছে ব্রাজিলের ট্রফি ক্যাবিনেটে, এবং ফলে, ‘ফিফা কাপ’ নাম হয়েছে ট্রফির, শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে লাতিন আমেরিকার দীর্ঘদিনের একাধিপত্যকে টেক্কা দিয়ে ইউরোপে জোহান ক্রুইফ-বেকেনবাউয়ার-এর আবির্ভাব ঘটেছে, তখনই এল আশির দশক৷ ভারতীয়দের কাছে ৮০-র দশক তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, তারা বিশ্বকাপ ফুটবলের সব ম্যাচ টিভিতে দেখার সুযোগ পেতে শুরু করল৷ এই ৮০-র দশকে আর্জেন্টিনা বিশ্ব ফুটবলকে উপহার দিল এমন একজন ফুটবলার যে আমার মতে বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার৷ ঠিক এমনই সময় বিশ্ব ফুটবল আরও উপহার হিসেবে পেল তিন হাফব্যাক সংবলিত আধুনিক ফুটবলের মাঝমাঠের সমন্বয় প্লাতিনি-তিগানা-জিরেসকে৷ আদর করে তখন এদের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিডফিল্ড ট্রায়ো’৷ এই মিডফিল্ড ট্রায়ো যে ফ্রান্সের তা নিশ্চয়ই আর বলার অপেক্ষা রাখে না৷ গোটা ৮০-র দশক জুড়েই প্লাতিনিরা আমাদের মুগ্ধ করে রেখেছিল, কিন্তু ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যম্তও নিয়ে যেতে পারেনি৷ অবশেষে বিশ্বকাপ জেতার দীর্ঘদিনের পিপাসা মিটল, আমার মতে, বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফুটবলার জিনেদিন জিদানের হাত ধরে৷ ’৯৮ সালে দুর্ধর্ষ ব্রাজিলকে পরিষ্কার তিন গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স৷ কিন্তু তার পর থেকে আবার পিছিয়ে পড়া৷ এবার আবার ২০১৪-র বিশ্বকাপে ফ্রান্স কিছুটা সম্ভাবনা নিয়ে উঁকিঝুঁকি মারছে৷ গত তিন বছর ধরে রিবেরি বায়ার্ন মিউনিখ দলকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি জিততে সাহায্য করেছে৷ সেই রিবেরির ওপর ভরসা করে এবার ফ্রান্স বিশ্বকাপে ভালো ফল করার আশা করছে৷

ফ্রান্স দলের ডিফেন্স সামলাবে ভারান, এভ্রা, সানারা৷ এদের খেলা আমরা ক্লাব ফুটবলে দেখেছি৷ মাঝমাঠ সামলাতে ক্লেমেম্তে-মাতুইদি-সিসোকোরা৷ এরা মোটেই ৮০-র দশকের ফ্রান্স দলের মাঝমাঠের মতো নয়, এমনকী, এরা এই মুহূর্তে দলের কোচ দেশঁ যে বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ছিল সে দলের মাঝমাঠের মতোও নয়৷ তবু, দেশঁ-র তত্ত্বাবধানে ভালো খেলবে আশা করা যায়৷ দলের মূল ভরসা ফরোয়ার্ড লাইন, রিবেরি আর বেনজিমা অবশ্যই বিপক্ষকে চিম্তায় রাখবে৷ কিন্তু মূলত ফরোয়ার্ডের ভরসায় ফ্রান্স কতদূর যেতে পারবে তা বোঝার জন্য তো একবার গ্রুপের বিন্যাসের দিকে দৃষ্টিপাত করতে হয়৷

ফ্রান্স আছে ‘ই’ গ্রুপে, সঙ্গে বাকি তিন দল হল সুইৎজারল্যান্ড, ইকুয়েডর আর হন্ডুরাস৷ আপাতভাবে কেউই ভাবতে পারছে না যে, গ্রুপ পর্যায় থেকেই ছিটকে যেতে হবে ফ্রান্সকে৷ যদিও বিশ্বকাপ ফাইনাল পর্যায়ে যে সব দল যোগত্যার্জন করেছে তাদের কারওকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়৷ তবু, মনে হচ্ছে ফ্রান্স গ্রুপ পর্যায় থেকে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে গ্রুপ শীর্ষে থেকেই পৌঁছবে৷ শেষ বেলায় পৌঁছে ফ্রান্সকে কিছুটা অথবা বেশ কিছুটা শক্ত প্রতিপক্ষের সামনে পড়তে হবে বলে মনে হচ্ছে৷ কারণ, প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হয় নাইজেরিয়া বা বসনিয়া-হার্জোগোভিনা আর না হয় আর্জেন্টিনা৷ যদি নাইজেরিয়াকে বা বসনিয়াকে পায় তাহলে ফ্রান্সের পক্ষে শেষ আটে পৌঁছনো সম্ভব৷ কিন্তু আর্জেন্টিনার বেশ কিছু ফুটবলার এখন দুরম্ত ফর্মে, ফলে, তাদের হারানো ফ্রান্সের পক্ষে প্রায় অসম্ভব৷ তাই, ফ্রান্স গ্রুপ পর্যায় থেকেই চেষ্টা করবে যাতে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে এড়ানো যায়৷

এবার ফ্রান্স দলের কোচ দেশঁ যে জিদানের সহখেলোয়াড়ই শুধু নয়, ’৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের অধিনায়কও বটে৷ কিছুদিন আগে আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে দেখেছি জিদান অতিরিক্ত বেঞ্চকে কতটা উৎসাহিত করতে পারে৷ এখন প্রশ্ন, ফ্রান্স জাতীয় দলের অতিরিক্ত বেঞ্চে আমরা জিদানকে দেখব কিনা! যদি জিদান বেঞ্চে থাকে তাহলে ফ্রান্সের খেলায় তার প্রভাব পড়বে কিনা! তবে তা বড় সাফল্যের জন্য যথেষ্ট বলে মনে হয় না৷

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানে চার দিনের দ্বিপাক্ষিক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি।জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের আমন্ত্রণে গত রোববার টোকিও পৌঁছান শেখ হাসিনা।image_83849_0

শেখ হাসিনার সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে সরকারকে ৬০০ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।এছাড়া গঙ্গা ব্যারেজ, যমুনা নদীর নিচে বহুমুখী টানেল, বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে রেল সেতু নির্মাণ, ঢাকা ইস্টার্ন বাইপাস এবং ঢাকার চারটি নদী পুনরুদ্ধারসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পে জাপানি সহযোগিতা চেয়েছেন হাসিনা।

এই সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম ১১ আসনের সাংসদ এম আবদুল লতিফ, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আখতারুজ্জামান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আবদুল মান্নান, বৌদ্ধ ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সুপ্ত ভূষণ বড়ুয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদসহ ৪৪ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী ছিলেন।

রাজধানীর আরামবাগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার খুন

আরামবাগে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মোহাম্মদ সুলতান আহমেদ (৪২) নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।image_83866_0

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আরামবাগের কালভার্ট রোডের মকবুল কমিশনারের বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে।

আহতাবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সকাল ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

সুলতান আহমেদের ড্রাইভার আমির হোসেন বলেন, “স্যার গাড়ি থেকে নামার পর দুর্বৃত্তরা গুলি করে পালিয়ে যায়।”

সুলতানের বাসা কদমতলা ব্রিজের পাশে সবুজবাগ এলাকায়।

ভাইয়ের মনোনয়ন নিয়ে এরশাদের সঙ্গে শামীম ওসমানের বৈঠক

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। ভাই সেলিম ওসমানের মনোনয়ন চূড়ান্ত করতেই এই বৈঠক করেন বলে জানা গেছে। ওই আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে রাজধানীর বনানী কার্যালয়ে বৈঠকে বসেছে দলের সংসদীয় বোর্ড।image_83737_0

জাপা সূত্র জানায়, এরশাদের বনানীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে বুধবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু, মশিউর রহমান রাঙ্গা, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রমুখ।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় পার্টি থেকে সেলিম ওসমানসহ তিনজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।  মঙ্গলবার নাসিম ওসমানের ভাই সেলিম ওসমান ছাড়াও অন্য যে দুজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, তারা হলেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসিহ ও স্থানীয় নেতা শামীম মিয়া।

জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে ওই পদটি শূন্য হয়। আসনটিতে আগামী ২৬ জুন উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ আসনে প্রথম মনোনয়নপত্র কেনেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি। এই আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেবে না বলে জানিয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের পথে খালেদা জিয়া

দেশব্যাপী গুম, খুন, অপহরণ ও দুর্নীতির প্রতিবাদে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় যোগ দিতে রওয়ানা করেছেন প্রধান অতিথি ও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দুপুর পৌনে দুইটার দিকে খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসা থেকে রওনা করেন। তার সঙ্গে রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানসহ অন্য নেতারা। নারায়ণগঞ্জ ও মুক্তারপুর ব্রিজ হয়ে মুন্সীগঞ্জে পৌঁছাবেন খালেদা জিয়া। জনসভা শেষে রাতেই ঢাকায় ফিরবেন তিনি।image_83741_0

বুধবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটের পাশে হাট লক্ষীগঞ্জে জেলা বিএনপি এই জনসভার আয়োজন করেছে। জনসভা উপলক্ষে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার সর্বত্র নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গুম-খুনের প্রতিবাদে ১৭ মে রাজধানীর ডেমরা-যাত্রাবাড়ীতে সমাবেশ করতে চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু সে সময় অনুমতি মেলেনি। এরপর ২২ মে গুম-খুনের প্রতিবাদে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এবং সর্বশেষ গত শনিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে খালেদা জিয়াকে সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি।

সোহমের শনির দশা

সোহমকে কেউ দিচ্ছেন না! নাহ্, সত্যিই, একটাও ছবি করার ডাক কড়া নাড়ছে না তার দরজায়। টলিপাড়ার কোনো পরিচালক, প্রযোজকই সুযোগ দিচ্ছেন না তাকে। এ কি নেহাতই বিধির বিধান, না কি কোনও ষড়যন্ত্র বলুন তো?image_83697_0

হয়তো বিধির বিধানই হবে। আরে বাবা, সময় কি আর সবার সর্বক্ষণ ভালো যায়? অবিশ্যি ভেবে দেখলে ভগবানের এ কী খেলা বলুন তো! যাকে দেন, একেবারে ঢেলে দেন উপুড় হাতে! আর যাকে দিলেন না তো সটান লবডঙ্কা ধরিয়ে দিলেন! আসলে ভগবানেরই বা আর কী! দু’বেলা নকুলদানাটি তো ঠিক জুটে যাচ্ছে। কিন্তু সোহমের ওই নকুলদানা-জীবন চললে তো আর হবে না। কেন? সে কী কথা! যতই হোক টলিউডের হিরো ছেলে, বাজারে নামডাকও আছে। তাকে কি আর সাধারণ মানুষের জীবন মানায়?

কিন্তু সে সব টালিপাড়া আর কবেই বা ভেবে দেখেছে! ফলে এই দুর্দিনে কোনো শুভাকাঙ্ক্ষীর হাতও নেই নায়কের মাথার উপরে। পুরো শনির দশা যাকে বলে! অনেকদিন বাদে যাও-বা এক পিস একটা বেরোল ‘বাঙালি বাবু ইংলিশ মেম’, তাও তো বক্স অফিসে ভরাডুবি! এরপর ছেলের হাত পুরো ফাঁকা। কত্তদিন হয়ে গেল ছেলে বাড়ি বসে আছে। আর তাতেই না কি সংসারে এখন তুমুল অশান্তি! বিয়ে-থা করেছে, একটা দায়িত্ব নেই বলুন! বউ-এর কাছে এটা একটা খিল্লি হয়ে যাচ্ছে না! টেনশনে টেনশনে সুগার অবধি ধরিয়ে ফেললেন সোহম!

তা, টালিপাড়া না-হয় ভাবছে না নায়কের কথা। কিন্তু বঙ্গীয় রাজনীতি? সে দুঃখের কথা তুলে আর কী বা লাভ! বিয়েতে স্বয়ং দিদি এসে বর-বউকে প্রাণঢেলে আর্শীবাদ করে গেলেন, অথচ লোকসভা নিবার্চনে ঘাটালের প্রার্থী করলেন দেবকে! আর সোহম! রোদে পুড়ে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে হেঁইয়ো হেঁইয়ো করে দেব-টেবের হয়ে প্রচার করে হাঁপিয়ে মরলেন! তারপর দেব জিতে-টিতে এমপি হয়ে বগল বাজালেন আর সোহম যে তিমিরে; সেই তিমিরেই! একেই বলে কপাল। ইশ, আহা রে! বিট্টুর কপালে যে এইভাবে সবাই গিট্টু পাকিয়ে রাখবে, কে জানত!

ওদিকে কথায় বলে, বসে বসে খেলে রাজার ধনও একদিন ফুরোয়! সোহম তো কোন ছাড়। সোহমও এখন তাই উঠেপড়ে লেগেছেন। আর কতদিন এভাবে আশায় আশায় বসে থাকা যায় শুনি! পেট কি শুনবে? যে এসকে মুভিজের সঙ্গে আজ পর্যন্ত সোহম একটাও ছবি করলেন না, সেই এসকে মুভিজের ছবি ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’-এর প্রিমিয়ারে তাই হঠাৎ হাজির সোহম। এ যে ভূতের মুখে রাম নাম!

আর শুধু কি শুধু এসকে! সব ছোটবড় প্রোডাকশন হাউজগুলোর সঙ্গেই না কি ইদানিং মিটিং করে বেড়াচ্ছেন হিরোমশাই। এমনকী আজকাল কোনো ছবিরই প্রিমিয়ার বাদ দিচ্ছেন না তিনি। আশায় আশায় বসে আছেন নায়ক, কখন প্রযোজকের আসবে টেলিফোন!- ওয়েবসাইট।

কন্যাকে নিয়ে চিন্তিত মডেল অভিনেত্রী তিন্নি

হঠাৎ করে ২২ মে নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিন্নি। পাঁচ বছর বয়সী ওয়ারিশার লালন-পালনের ভার শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন-বাবা হিল্লোল নাকি মা তিন্নি? এ বিষয়ে আদালত এখনো কোনো রায় দেননি।image_83709_0

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিন্নি লিখেছেন, “আদনান ফারুক হিল্লোলের নাটক শেষ হতে চায় না। নওশীন নাহরীন মৌকে বিয়ে করলেন। কোথায় তাদের নতুন সংসারের স্বপ্ন বুনবেন, না ওসব বাদ দিয়ে আমার মেয়ের পিছে লেগেছেন। বাচ্চাটা ৯ মাস থেকে আমার সঙ্গে। আল্লাহ যদি থাকেন এ দুনিয়ায়, তাহলে বিচার করবেন। আমি আপনাদের সবার কাছ থেকে আশীর্বাদ চাই। আমি আর আমার মেয়ে যেন শান্তিতে একসঙ্গে থাকতে পারি।”

প্রসঙ্গত, তিন্নি -হিল্লোলের ডিভোর্স হয়েছে বছর কয়েক আগে। আর বছর দেড়েক আগে সন্তানের লালন-পালনের ভার নিজের কাছে নিতে আদালতের দ্বারস্থ হন হিল্লোল।

জানা গেছে, তিন্নি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। বাবার বাসায় থাকছেন। মিডিয়ায় ফেরার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় হাসপাতালে আগুন, নিহত ২১

সিউল: দক্ষিণ কোরিয়ার জেনসেয়ং কাউন্টিতে একটি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এদের মধ্যে একজন নার্স এবং বাকিরা রোগী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো আট জন।image_83706_0

মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজধানী সিউল থেকে প্রায় তিনশ কিলোমিটার দূরে হায়ওসারাং হাসপাতালের তৃতীয় তলায় আগুন ধরে যায়। এতে ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সের ২০ রোগী মারা যান। এদের অধিকাংশই বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি ছিল বয়স্কদের হাসপাতাল। তাই আগুন লাগার পর তাদের পক্ষে ছুটোছুটি করে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। অধিকাংশই নিজেদের শয্যায় শায়িত অবস্থাতেই মারা যান।

গত মাসে ফেরিডুবিতে ৩০০ মানুষ নিহত হওয়ার শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

এর আগে গত মঙ্গলবার দেশটির গোয়াঙ শহরের একটি বাস টার্মিনালে অপর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতজন নিহত এবং ২০ জন আহত হন। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।

সার্ক সঙ্গীদের সঙ্গে হিন্দিতেই কথা মোদির

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সার্ক গোষ্ঠীভুক্তদেশগুলিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বেনজির দৃষ্টান্ত গড়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার মারিশাস-সহ সাতটি সার্কভুক্ত দেশের সঙ্গে তার বৈঠকে রচিত হরো একটি বিরল দৃষ্টান্ত। মালদ্বীপ থেকে ভুটান, শ্রীলঙ্কা থেকে নেপাল প্রত্যেকটি রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন হিন্দিতে! সেই বক্তব্য অনুবাদ করে অপর পক্ষকে জানালেন সচিবেরা।image_83708_0

গত দশ বছরে এমন ঘটনার সাক্ষী থাকেনি হায়দরাবাদ হাউস। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, হিন্দি ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে তিনি গোটা অঞ্চলের রাজনীতিতে একটি স্বকীয় অবস্থান নিতে চেয়েছেন। গোটা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক ভাবে প্রধান চালকের আসনটিই লক্ষ্য মোদির। তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সবাইকে ডাকার মাধ্যমে তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিতও বটে।

নয়া দিল্লির এই পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে এই অঞ্চলে ভারতের প্রবলতম প্রতিপক্ষ চীন। ঠিক এই পরিস্থিতিতে আটটি দেশের নেতার সঙ্গে হিন্দিতে কথা বলে জাতীয়তাবাদের তাসটিই খেললেন মোদি। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে চীন, জাপানের মতো দেশগুলির নেতারাও কিন্তু দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যে যার নিজেদের দেশের ভাষাতেই কথা বলেন। অনুবাদের মাধ্যমে কথোপকথন চলে। হায়দরাবাদ হাউসে উপস্থিত আটটি দেশের ভাষা পৃথক। তাই সহজপন্থা হিসাবে ইংরেজিতেই কথাবার্তা চালানো যেত। কিন্তু সে পথে না হেঁটে গোটা অঞ্চলের সামনে জাত্যভিমানকে বিজ্ঞাপিত করলেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের নেতারা যখন যান তখন বক্তৃতায় অনেকেই মাতৃভাষায় কথা বলেন। মনমোহন অবশ্য বরাবরই বলতেন ইংরেজিতে। তার পরিবর্তে যখন প্রণব মুখোপাধ্যায় যেতেন, তিনিও ইংরেজিতেই বক্তৃতা দিতেন। বিভিন্ন দেশের ভাষা অনুবাদ করে নেয়ার জন্য কানে দেওয়ার যন্ত্রের ব্যবস্থা থাকে সেখানে। তা ছাড়া বক্তৃতার লিখিত রূপও পাওয়া যায়। অনেকেই মনে করেন, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে নিজের দেশের ভাষায় কথা বললে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা পাওয়া যায়।-সংবাদ সংস্থা

আমেরিকার উঁচু পর্যায়ের গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করেছি: স্নোডেন

রাশিয়ায় সাময়িক আশ্রয় গ্রহণকারী সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেন নিজেকে ইলেক্ট্রনিক নজরদারিতে প্রশিক্ষিত উঁচু পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ গোয়েন্দা হিসেবে তুলে ধরেছেন। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএ’র হয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর জন্য নাম পরিবর্তন করে অন্য দেশে গোপনে কাজ করেছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।image_83716_0

মার্কিন টিভি চ্যানেল এনবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ সব কথা বলেছেন স্নোডেন। আমেরিকা থেকে চলে যাওয়ার পর এই প্রথম কোনো সংবাদ মাধ্যমকে পূর্ণ সাক্ষাৎকার দিলেন তিনি।

স্নোডেন বলেন, আমেরিকার পক্ষে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর জন্য কম্পিউটার ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলার দায়িত্ব পালন করেছে তিনি। এ ছাড়া, মাঠ পর্যায়ে কম্পিউটার বসানো থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ পর্যন্ত সব ধরনের কাজ করারও অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

৩০ বছর বয়সি স্নোডেন বলেন, একজন এজেন্ট যে পরিমাণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করবে তার চেয়ে অনেক বেশি তথ্য আমেরিকা কম্পিউটার ব্যবহার করে হাতিয়ে নেয়।

এ ছাড়া, এর আগে,  তাকে গোয়েন্দা সংস্থার নীচু স্তরের বিশ্লেষক হিসেবে তুলে ধরে আমেরিকার পক্ষ থেকে যে সব বিবৃতি দেয়া হয়েছিল তা নাকচ করে দেন স্নোডেন। ২০১৩ সালে মে  মাসে রাশিয়া পালিয়ে যান স্লোডেন এবং বর্তমানে সে দেশে সাময়িক আশ্রয়ে রয়েছেন তিনি। পালানোর আগে বুজ অ্যালেন নামের বিশাল ঠিকাদারি সংস্থার জন্য এনএসএ’র টেকনিশিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন স্নোডেন।

সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেন গত বছরের আগস্টে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা-এনএসএ’র গুপ্তচরবৃত্তির অনেক ঘটনা ফাঁস করে দেয়ায় আমেরিকার জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়। পাশাপাশি বিশ্বের বহু দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তার ফাঁস করে দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, প্রিজম কর্মসূচির আওতায় ফেসবুক, গুগল, মাইক্রোসফট, ইয়াহু, ইউটিউব এবং অ্যাপলসহ  ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে সরাসরি ঢুকে  তথ্য সংগ্রহ করে এনএসআই ও ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- এফবিআই।

মার্কিন সরকারের ১৭ লাখ গোপন কাগজ-পত্র স্নোডেন ফাঁস করে দেন এবং এর বেশিরভাগই সামরিক বিষয়ক বলে গত মার্চে স্বীকার করেছেন মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্টিন ডেম্পসি। এ সব কাগজ-পত্র কিভাবে ব্যবহার হতে পারে এবং এই ক্ষতি কি করে কমানো যায় তা খতিয়ে দেখার জন্য পেন্টাগন একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। অবশ্য, স্নোডেন যে সব গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন তা সামাল দিতে পেন্টাগনের শত শত কোটি ডলার ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন জেনারেল ডেম্পসি। সূত্র: আইআরআইবি