মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

১৯ দল নেতাদের নিয়ে বৈঠক করছেন খালেদা জিয়া

kha4বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বুধবার রাত সোয়া নয়টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন- জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর উত্তম, জাতীয় পার্টির (জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান টিআইএম ফজলে রাব্বি চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের সভাপতি সৈয়দ মজিবুর রহমান, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজা, লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির মহাসচিব এডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবদুল মবিন, ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, মুসলিম লীগের চেয়ারম্যান এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান, পিপলস লীগের সভাপতি গরিবে নেওয়াজ, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান এডভোকেট আজহারুল ইসলাম, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মহিউদ্দিন ইকরাম, ডেমোক্রেটিক লীগের সভাপতি সাইফুদ্দিন মনি।

এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত আছেন।

সরকার বিরোধী আন্দোলনে জোটের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করতে এবং জোটের নতুন সদস্য দল হিসেবে সাম্যবাদী দলের অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বগুড়ায় ছাত্রলীগের ককটেলে ওসিসহ ৪ পুলিশ আহত

bogra map0জেলা শহরের জিরোপয়েন্ট সাত মাথা এলাকায় বুধবার রাতে ছাত্রলীগের নিক্ষিপ্ত ককটেলে সদর থানার ওসিসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, বেশ কিছু দিন ধরে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই জেরে রাত সোয়া ৮টার দিকে ওই এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মাঝে অবস্থান নেয় পুলিশ। এসময় ৫-৬ টি ককটেল নিক্ষেপ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে সদর থানার ওসি ফয়জুর রহমানসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৫-২০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ।  ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে ছাত্রদল কর্মী খুন

Sylhet Murderসিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের আবু সিনা ছাত্রাবাসে ছাত্রদল কর্মী তৌহিদুল ইসলামকে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ। আজ বুধবার বিকালে তার উপর উপর্যপরি ছুরিকাঘাত করে তাকে মারাত্মক জখম করা হয়। আহত অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তৌহিদ এমবিসিএস ৪৯তম ব্যাচের ছাত্র বলে জানা গেছে। তার বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়।

এ সম্পর্কে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সেক্রেটারি নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদ গণমাধ্যমকে জানান, ছাত্রলীগ কর্মীরাই তাওহীদকে হত্যা করেছে।

বুধবার তাওহীদ তার পরীক্ষা শেষ করে ছাত্রাবাসে আসলে ছাত্রলীগের সেক্রেটারি সাইফুলের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন ছাত্রলীগ কর্মী তার ওপর হামলা চালায় বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, কয়েকদিন পরপরই ছাত্রলীগের কর্মীরা এভাবে ছাত্রদলের ওপর হামলা চালায়। গত সোমবারও এ রকম হামলা হয়েছিলো বলে জানান তিনি।

কোতোয়ালী থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, আমরা যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতালে আছি। ছাত্রাবাসের প্রত্যক্ষদর্শী ও তার সহকর্মীদের সাথে আলাপ করে তাওহীদের খুনের কারণ তদন্ত ও ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক মহানগর আহ্বায়ক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, ড্যাব নেতা ডা. নাজমুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুব, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরীসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা হাসপাতালে ছুটে যান।

ইটিপি ছাড়া ঢাকায় বাড়ি না

এখন থেকে ঢাকায় বাড়ি করতে হলে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

বুধবার সচিবালয়ে ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) রিভিউ কমিটির সঙ্গে মিটিং শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশররফ হোসেন।  image_94310_0

মন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ দূষণ রোধ, পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থার ভার ভবনমালিকদেরই নিতে হবে। এক বাসভবনের বর্জ্য, দুর্গন্ধ অন্য বাসভবনের পরিবেশ দূষণ করবে- এটা হতে পারে না। তাই ইটিপির কোনো বিকল্প নেই।’     এদিকে জানা গেছে বর্তমানে যে ড্যাপ রয়েছে এটি ২০১৫ সালে পর্যন্ত কার্যক্রম থাকবে। পরে নতুন করে ড্যাপ তৈরি করা হবে।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরো জানান, ৬৬ হাজার সেনাসদস্যের জন্য বালু নদীর পাড়ে জলসিঁড়ি নামক আবাসিক প্রকল্পের অনুমোন দিয়েছে ড্যাপ রিভিউ কমিটি।

একইসঙ্গে কুড়িল ফ্লাইওভার এলাকায় পুলিশের জন্যও একটি আবাসিক প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

এছাড়া সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের জন্য তুরাগ নদীর তীরে ৫০ একর জায়গায় প্রত্যাশা নামক একটি আবাসিক প্রকল্পের অনুমোদনের কথাও সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘কর্মকর্তারা সেখানে ইটিপি বসাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভবিষ্যতে প্ল্যান পাশ করাতে হলে অবশ্যই ইটিপি বসাতে হবে।’

এ মর্মে রাজউককে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান মন্ত্রী।

খালেদা গণতন্ত্রের রাণী হতে পারবেন না

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘জঙ্গিবাদের মাতা’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদের দোসর। তিনি জঙ্গিবাদের লালনকারী মাতা। তিনি আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেন। তিনি জঙ্গিবাদের দোসর হতে পারেন কিন্তু গণতন্ত্রের রাণী হতে পারবেন না।’
image_94301_0
বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাপ্তাহিক ‘নতুন কথা’র ৩৫ বছর প্রকাশনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় ও জনজীবনের নিরাপত্বা এবং গণমাধ্যম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

গণমাধ্যমগুলোকে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া এখনো জঙ্গিবাদকে আশ্রয় দিতে ছাড়েননি। তাহলে কেন তাকে গণমাধ্যমগুলোতে জঙ্গিবাদের দোসর বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে না? গণমাধ্যমকে জঙ্গিবাদ বা গণতন্ত্র যে কোনো একটি পক্ষকে বেছে নিতে হবে। দুইটির মধ্যে ভারসাম্য করলে হবে না। এ জন্য জঙ্গিবাদের নেত্রীকে পরিত্যাগ করতে হবে। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে এক পাল্লায় মাপলে হবে না।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ হচ্ছে বিপদ। দলবাজি, ক্ষমতাবাজি ও সন্ত্রাসবাদী হচ্ছে আপদ। আপদ দূর করা যায় কিন্তু বিপদ দূর করা কষ্টকর। সরকার দুর্নীতি, দলবাজি, ক্ষমতাবাজি ও সন্ত্রাসবাদী নির্মূল করতে পারবে। কিন্তু গণমাধ্যম যদি জঙ্গিবাদের ওকালতি করে তাহলে জঙ্গিবাদ দূর করতে পারবে না।’

গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের কারণে দেশে দুর্নীতি করলে সাজা পাচ্ছে, নারায়ণগঞ্জের খুন, গুম ও হত্যার বিচার হচ্ছে।’

সীমান্ত সন্ত্রাসকে জনজীবনের নিরাপত্বার সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ, দলবাজি, দুর্নীতি হলে যেমন জনজীবনের নিরাপত্বা বিঘ্নিত হয় তেমনি সীমান্ত সন্ত্রাস বৃদ্ধি পেলে জনজীবনের নিরাপত্বা বিঘ্নিত হয়। সীমান্ত সন্ত্রাস বৃদ্ধি পেলে চোরাচালান, উদ্বাস্তুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।’

বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্বা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনেক। গণমাধ্যমের কর্মীদের সাহসের সঙ্গে খবর প্রচার করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলোকে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে নীতিমালার আওতায় আনতে হবে। তা না হলে দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।’

সংসদ সদস্য হাজেরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হোসেন বাদশা, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানি, সাংবাদিক আবু সাইয়ীদ খান, সুমি খান প্রমুখ।

বেড়েছে আকার, নেই নতুনত্ব

১৯৭২ থেকে ২০১৪ স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রার ৪৩ বছর। একই সঙ্গে রচিত হতে যাচ্ছে ৪৩টি জাতীয় বাজেট উত্থাপনের ইতিহাস। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এর আকার দাঁড়াচ্ছে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।

অতীতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয়, কর, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), ঘাটতি এবং বিদেশি ঋণ ও অভ্যন্তরীণ ঋণের ভিত্তিতে প্রণীত হয়েছে সবকটি বাজেট। এবারও ঠিক তাই। তবে সরকারের দাবি, বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে এবং মহাজোট সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নকে সামনে রেখেই প্রণীত হয়েছে চলতি অর্থবছরের বাজেট।image_94292_0.png

দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রতিবছর বাজেট পরিকল্পনা করে সরকার। মানুষের জীবন যাত্রার মান, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনিয়োগ, কৃষি, মৎস্য, খনিজ ও খনন, শিল্পোৎপাদন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসম্পদসহ অন্যান্য বিষয়গুলো মাথায় রেখেই এ বাজেট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়।

স্বাধীনতার পর দীর্ঘসময় পার হয়েছে। পরিবর্তিত হয়েছে জীবন যাত্রার মান ও অর্থনৈতিক অবস্থা। তার ধারাবাহিকতায় পরিবর্তিত হয়েছে বাজেট প্রণয়ন পদ্ধতিও। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ১০ জন ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি সংসদে বাজেট পেশ করেছেন। বর্তমান সংসদে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সামরিক শাসক এরশাদের আমলে দুইবারসহ এ নিয়ে আটবার বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন মুহিত। তবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট উপস্থাপন করেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। এছাড়া শাহ এএমএস কিবরিয়া ৬ বার বাজেট ঘোষণা করেন।

বাজেট ২০১৪-১৫

দ্বিতীয় মেয়াদের মহাজোট সরকার দিতে যাচ্ছে আকারের দিক থেকে স্মরণকালের সর্বোচ্চ বাজেট। বৃহস্পতিবার ১০ম সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী মুহিত। নতুন অর্থবছরে বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নকে বর্তমান সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও দেশের অর্থনীতিতে এখনও অনিশ্চয়তা ও স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিনিয়োগে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে এবং বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সমঝোতার রাজনীতি প্রয়োজন বলে মনে করেন বাজেট বিশ্লেষকরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ চাঙ্গা করাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা। আর নতুন সরকারের জন্য সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করাটাই সামনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, বিশাল আকারে বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। এতে বাজেটে ঘাটতি থাকবে ৬৭ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা। এ ঘাটতি বৈদেশিক ও দেশিয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে মেটানো হবে বলে জানা গেছে। তবে বাজেটের ঘাটতি বাড়ার বড় কারণ এডিপি বলে মনে করছেন বাজেট সংশ্লিষ্টরা। আসন্ন অর্থবছরে এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা।

জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ৮৬ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে বৈদেশিক সহায়তার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। নিজস্ব সহায়তা ৫২ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নের ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকাও এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এডিপির আকার হয়েছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট ঘাটতি

জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে ৬৭ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি বাড়ছে ১২ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি মেটানো হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে ২৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৪০ হাজার ৭৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ৩১ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে ৮ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।

রাজস্ব আয়

২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আয়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের বড় অংশই আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে। এ জন্য এনবিআর-এর কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৪০ কোটি টাকা এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব আদায় করা হবে ২৭ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ নতুন অর্থবছরের সামগ্রিক আয় হতে পারে ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা।

একনজরে অতীতের ৪২টি বাজেট

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে দিয়ে ১৯৭২ সালে দেশে বাজেটের যাত্রা শুরু। ১৯৭২-৭৩, ৭৩-৭৪ এবং ৭৪-৭৫ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন তাজউদ্দীন আহমেদ। ঐতিহাসিক বাজেটগুলোর আকার ছিল যথাক্রমে ৭৮৬, ৯৯৫ এবং ১০৮৪ কোটি টাকা। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরে এসে বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে আড়াই লাখের কোটায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের আমল:

১৯৭২-৭৩, ৭৩-৭৪ এবং ৭৪-৭৫ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন তাজউদ্দীন আহমেদ। বাজেটগুলোর আকার যথাক্রমে ৭৮৬ কোটি টাকা, ৯৯৫ এবং ১০৮৪ কোটি টাকা। ১৯৭৫-৭৬ সালে ১ হাজার ৫৪৯ দশমিক ১৯ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন ড. আজিজুর রহমান মল্লিক।

জিয়াউর রহমান আমলের বাজেট:

১৯৭৬-৭৭ ও ৭৭-৭৮ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন মে.জেনারেল (অব.) জিয়াউর রহমান। বাজেটের আকার ছিলো যথাক্রমে ১৯৮৯ ও ২১৮৪ কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতি হিসেব জিয়াউর রহমান ১৯৭৮-৭৯ সালে ২ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। এরপর ১৯৭৯-৮০ ড. এম এন হুদা ৩ হাজার ৩১৭ কোটি, ১৯৮০-৮১ ও ৮১-৮২ অর্থবছরে এম. সাইফুর রহমান ৪ হাজার ১০৮ এবং ৪ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকার বাজেট দেন।

এরশাদ আমল:

১৯৮২-৮৩ ও ৮৩-৮৪ অর্থবছরে বাজেট ঘোষণা করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেটের পরিমাণ ৪ হাজার ৭৩৮ এবং ৫ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা। ১৯৮৪-৮৫, ৮৫-৮৬, ৮৬-৮৭ এবং ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে এম সায়েদুজ্জামান। বাজেটের পরিমাণ যথাক্রমে ৬ হাজার ৬৯৯, ৭ হাজার ১৩৮, ৮ হাজার ৫০৪ এবং ৮ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। ১৯৮৮-৮৯তে মে. জেনারেল (অব.) মুনিম ১০ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা, ১৯৮৯-৯০তে  ড. ওয়াহিদুল হক ১২ হাজার ৭০৩ কোটি, ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে আবার মে. জেনারেল (অব.) মুনিম ১২ হাজার ৯৬০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন।

১৯৯১-১৯৯৬ বিএনপি সরকার:

১৯৯১-৯২, ৯২-৯৩, ৯৩-৯৪, ৯৪-৯৫ এবং ৯৫-৯৬ একটানা পাঁচ বছরই অর্থমন্ত্রী হিসেবে এম সাইফুর রহমান সংসদে বাজেট পেশ করেন। বাজেটের আকার যথাক্রমে ১৫ হাজার ৫৮৪, ১৭ হাজার ৬০৭, সাড়ে ১৯ হাজার, ২০ হাজার ৯৪৮ এবং ২৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা।

১৯৯৬-২০০১ আওয়ামী লীগ সরকার:

১৯৯৬-৯৭, ৯৭-৯৮, ৯৮-৯৯, ৯৯-২০০০, ২০০০-০১ এবং ২০০১-০২ অর্থবছরে শাহ এএমএস কিবরিয়া যথাক্রমে ২৪ হাজার ৬০৩, ২৭ হাজার ৭৮৬, ২৯ হাজার ৫৩৭, ৩৪ হাজার ২৫২, ৩৮ হাজার ৫২৪ এবং ৪২ হাজার ৩০৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন।

২০০২-০৬ চারদলীয় জোট সরকার:

২০০২-০৩ থেকে ২০০৬-০৭ টানা পাঁচ অর্থবছরে এম সাইফুর রহমান যথাক্রমে ৪৪ হাজার ৮৫৪, ৫১ হাজার ৯৮০, ৫৭ হাজার ২৪৮, ৬১ হাজার ৫৮ এবং ৬৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার:

সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭-০৮ থেকে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে অর্থ উপদেষ্টা এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ৯৯ হাজার ৯৬২ এবং ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন।

মহাজোট সরকারের প্রথম আমল:

২০০৯-১০ থেকে ২০১৩-১৪ পাঁচ অর্থবছরের জন্য সংসদে বাজেট পেশ করেন এম এ মুহিত। বাজেটের পরিমাণ ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯, ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০, ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯, ১ লাখ ৬৫ হাজার এবং সর্বশেষ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা।

নতুন মেয়াদে মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম বছরের বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী মুহিত। নতুন অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে আড়াই লাখ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আকারের বাজেট উপস্থাপন করে আগের মেয়াদে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। এবার তার চেয়ে আরও বড় আকার হওয়ায় নতুন করে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। তবে বাজেটের আকারের চেয়েও তা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা।

গার্মেন্টস সেক্টরে জাপানের সহায়তা বাড়ছে

বাংলাদেশে গার্মেন্টস সেক্টরে জাপানের সহায়তা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) বাংলাদেশ অফিসের প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট বিভাগের উপদেষ্টা ইউশিকো ইউগে।
image_94315_0.png
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগে জাইকা সহায়তাপুষ্ট ‘ফিনান্সিয়াল সেক্টর প্রজেক্ট ফর দ্যা স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

কর্মশালায় ৪৬টি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৯৫ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।

ইউশিকো ইউগে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করায় বাংলাদেশ ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান। গার্মেন্টসসহ অন্যান্য সেক্টরে জাপানের সহায়তা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মাছুম পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. আবুল কাসেম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নির্মল চন্দ্র ভক্তসহ  প্রকল্প পরিচালক ও বিভাগের কর্মকর্তারা।

মো. আবুল কাসেম বলেন, ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এসএমই খাত ও দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।’ এসএমই খাতের উন্নয়নে বেশি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজনেরও দিক নির্দেশনা দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি মাছুম পাটোয়ারী জাপান ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংক  ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে জাইকাসহ এসএমই বিভাগের অন্যান্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিলগুলোতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, মার্চ ২০১১ সালে জাইকা এবং বাংলাদেশ সরকারের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি মোতাবেক জাপান ৫০০০ হাজার মিলিয়ন জাপানিজ ইয়েন ঋণ সহায়তা দিয়েছে। উক্ত তহবিল দেশের এসএমই খাতের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানকে ২৮২ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে।  এ প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় বাজেট ঘোষণা

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য জাতীয় বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ওইদিন বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী মহাজোট সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম এবং ব্যক্তিগত অষ্টম বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবেন। গত কয়েক বছরের মতো এবারও পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন করা হবে।image_94279_0.png

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বাজেট উপস্থাপনের পরদিন শুক্রবার বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানায় সূত্রটি।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বাজেটের সংক্ষিপ্তসার, বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি, সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি, মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি, ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা: হালচিত্র ২০১৪, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়ন: সাফল্যের অগ্রযাত্রা, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা: উন্নয়নের পথে অভিযাত্রা, বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও অসমতা: উত্তরণের পথে যাত্রা, পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশ, জেলাভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ ২০১৪-১৫ (সিলেট, খুলনা, চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর জেলা), জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন, সংযুক্ত তহবিল প্রাপ্তি, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবিসমূহ (অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন), মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবিসমূহ (উন্নয়ন) এবং মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো উত্থাপন করা হবে।

একই সঙ্গে পরিকল্পনা কমিশন প্রণীত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি: ২০১৪-১৫ এর একটি দলিল এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রণীত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যাবলী: ২০১৩-১৪ জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে।

ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ জাতীয় সংসদ থেকে বাজেটের উল্লিখিত সকল তথ্যাদি ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল সরবরাহ করা হবে।

অর্থবিভাগ সূত্র জানিয়েছে, বাজেটকে আরও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে অর্থবিভাগের ওয়েবসাইট www.mof.gov.bd  থেকে বাজেটের সকল তথ্যাদি ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাঠ ও ডাউনলোড করতে পারবেন। পাশাপাশি দেশ বা বিদেশ থেকে উক্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফিডব্যাক ফরম পূরণ করে বাজেট সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশ প্রেরণ করা যাবে। প্রাপ্ত সকল মতামত ও সুপারিশ বিবেচনা করা হবে। জাতীয় সংসদ কর্তৃক বাজেট অনুমোদনের সময়ে ও পরে তা কার্যকর করা হবে।

ব্যাপকভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি ওয়েবসাইট লিংক www.bangladesh.gov.bd, www.nbr-bd.org, www.plancomm.gov.bd, www.imed.gov.bd, www.bdpressinform.org, www.pmo.gov.bd ইত্যাদি ঠিকানায়ও বাজেট সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।

তিয়েনআনমেন নিয়ে ভয়: গ্রেপ্তার ও গুম চলছে চীনে

চীনের তিয়েনআনমেন স্কয়ারের গণজোয়ারে হত্যাযজ্ঞের ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ মুহূর্তে চীনের রাজধানী বেইজিংএর রাস্তায় টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার দাঙ্গা পুলিশ। সাধারণ পথচারি ও বিদেশি সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনবোধে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে image_94273_0‘সন্দেহভাজনদের।’ বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছে ‘সন্দেহভাজনদের’ গ্রেপ্তার কর্মসূচি। তালিকায় পড়েছে আইনজীবি, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবকসহ আরও অনেক গণমুখী শ্রেণি ও পেশার মানুষ। তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ‘বিভীষিকাময়’ দিনটির ২৫তম স্মরণকে যথাসম্ভব ‘শান্তভাবে’ অতিক্রান্ত হতে দিতে চায় প্রশাসন। বিপরীতে একে সামনে রেখে সরকারি ধরপাকড় উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে এসেছে চীনের সাধারণ মানুষ। আগের দিন রাতে মোমবাতি হাতে পুরনো সে হত্যাযজ্ঞের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে মৃতদের প্রতি ভালোবাসা জানিয়েছে তারা। চীনের আভ্যন্তরীণ স্বায়ত্বশাসিত প্রদেশ হংকং-এ তিয়েনআনমেনের স্মরণর‌্যালীতে কয়েক হাজার লোকসমাগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের বাইরে তাইওয়ানেও চলছে ব্যাপক উদ্যোগ-উদ্দীপনাযজ্ঞ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এখনও পর্যন্ত চীনে রাষ্ট্রযন্ত্র কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃতদের একটি তালিকা তৈরি করে ফেলেছে। এ পর্যন্ত তালিকায় যুক্ত হয়েছে ৬৬টি নাম। এদের অনেককে কারাগারে দেখা যাচ্ছে, কিন্তু অনেকেই হয়ে পড়েছে স্রেফ নিখোঁজ।  সাধারণ মানুষকে নিরস্ত করতে একইসঙ্গে চীনের ইন্টারনেটে আরোপ করা হয়েছে অবরোধ। সে দেশে এ মুহূর্তে ‘তিয়েনআনমেন’, ‘১৯৮৯’, ‘হত্যাযজ্ঞ’, ‘আন্দোলন’ প্রভৃতি শব্দ দিয়ে সার্চ ইঞ্জিন গুগলে খোঁজ চালালে কোন ফলাফল আসছে না। বিশেষ কিছু ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যে কারণে নতুন প্রজন্মের যারা এ ব্যাপারে জানতে আগ্রহী তারা জানতে পারছে না;  ১৯৮৯ সালে তৎকালীন সমাজতন্ত্রবাদি সরকার রাজনীতির ওপর ব্যপক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় বেইজিংএর তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ছাত্র, শিল্পী ও পেশাজীবিসহ সর্বস্তরের লক্ষাধিক মানুষ সরকারবিরোধী এক সমাবেশে জড়ো হয়েছিল। সরকার একে ‘প্রতিবিপ্লবী আন্দোলন’ আখ্যা দিয়ে দমন করার জন্যে সশস্ত্র বাহিনী প্রেরণ করেছিল এবং তাদের নির্বিচার হত্যাযজ্ঞে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে জমে উঠেছিল হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের লাশের পাহাড়।

পাচারকারীর তলপেটে লাখ টাকার পাখি

ট্রাউজারের ভেতর ৬৬টি পাখি পাচারের অভিযোগে এক ব্যক্তিতে গ্রেপ্তার করেছে কিউবা পুলিশ। পাচারকারী তার পরিহিত ট্রাউজারের ভেতরে খুব কৌশলে পাখিগুলোকে জীবিত অবস্থার সেলাই করে কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিমানবন্দর পুলিশের তৎপরতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।image_94303_0

পাচারকারীর পরিহিত ট্রাউজারটি অস্বাভাবিক রকমের ফাঁপা দেখানোর কারণে বিষয়টি বিমানবন্দর পুলিশের গোচরে আসে। এরপর পুলিশের তল্লাসিতে ট্রাউজারের ভেতর থেকে ৬৬টি পাখি বের হয়ে আসে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নাতির জন্য তিনি পায়রা নিয়ে যাচ্ছেন। এই কথা বলে বিমানের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে গেলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে তল্লাসি চালায়। তল্লাসির এক পর্যায়ে ট্রাউজারের ভেতর রাখা পাখি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, ‘পাচারকারীর কাছে থাকা ৬৬টি পাখিই বেশ দুর্লভ প্রজাতির। পাখিগুলোর মধ্যে ফিঞ্চ এবং হামিংবার্ড পাখিই বেশি ছিল। আর পাখিগুলোর আর্থিক মূল্য প্রায় কয়েক হাজার পাউন্ড।’

সাম্প্রতিক সময়ে পাখি চোরাচালান গোটাবিশ্বেই জালের মতো বিস্তার লাভ করেছে। গত দুই সপ্তাহ আগে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুট বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি তার সুটকেসে করে ৯৯ জোড়া কচ্ছপ, টিকটিকি এবং সাপ পাচার করার সময় পুলিশের হাতে ধরা পরে।