মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ইরাকে জনশক্তি রফতানি স্থগিত

সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ থেকে ইরাকে জনশক্তি রপ্তানি আপাতত স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দেশটিতে কোনো জনশক্তি পাঠানো হবে না বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে৷image_86384_0

বাংলাদেশ মনে করে ইরাকে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে৷ তাই পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে বাংলাদেশ থেকে কোনো জনশক্তি পাঠানো হবে না৷ পররাষ্ট্র দফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জনশক্তি রফতানির কাজ যে অবস্থায় আছে ঠিক সেখান থেকেই স্থগিত রাখতে হবে৷

বাংলাদেশের ১৪ হাজার নাগরিক এখন ইরাকে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন৷ তারা প্রধানত নির্মাণ শিল্পে কাজ করেন৷ তাদের সার্বক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে৷ আর তাদের সংঘাতপূর্ণ এলাকা এড়িযে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে৷ তবে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা এখন পর্যন্ত নিরাপদ এবং সুস্থ আছেন বলে পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে৷

গত বছর বাংলাদেশ থেকে ইরাকে ৩০ হাজার জনশক্তি পাঠানোর জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল দুই দেশের মধ্যে৷ পররাষ্ট্র দফতর জানায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওই শ্রমিক পাঠানোরও সব প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে৷

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরাকে বাংলাদেশি দূতাবাস পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে৷ আর বাংলাদেশ সরকারও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে৷ বাংলাদেশ আশা করছে ইরাক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠবে৷ সেখানে সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে একটি স্বার্থক সংলাপের প্রয়োজন বলে মনে করে বাংলাদেশ সরকার৷

এদিকে ইরাকে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা টেলিফোনে তাদের ভয় এবং আতঙ্কের কথা জানান৷ জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার মহাসচিব আলী হয়াদার চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে জানান, সেখানে অবস্থানরতদের বড় একটি অংশই বাগদাদে রয়েছেন৷ তবে বাগদাদ আক্রান্ত হলে তাদের নিরাপত্তার কী হবে, তাদের কিভাবে সরিয়ে নেয়া হবে তা তারা জানেন না৷ বিশেষ করে মসুল ও তিকরিক দখলের সময় সেসব এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশিরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে দেশে আত্মীয়-স্বজনের কাছে ফোন করেন বলে তিনি জানান৷ তারা অনেকেই এখন দেশে ফিরতে চাইছেন৷ সূত্র: ডিডব্লিউ

আমাদের সামনে একটা সুযোগ এসেছে: মুশফিক

জাতীয় ক্রিকেট দল হারানো সম্মান ফিরে পাবার একটি বিশাল সুযোগ হাতে পেয়েছে। রোববার থেকে ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সির আড়ালে ‘বি’ গ্রেডের দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে। সুরেশ রায়না আর স্পিনার অমিত মিশ্রা ছাড়া ভারতীয় দলে নেই কোনো তারকা ক্রিকেটার। যে কারণে ভারতীয় দলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে বদ্ধপরিকর মুশফিকরা।image_86362_0

শনিবার অনুশীলন শেষে মুশফিক মুখোমুখি হন মিডিয়ার। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মুশফিক খোলামেলা অনেক কথা বলেন। কারণ তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হবার আগে দলীয় মিটিং শেষ করে এসেছেন। সে কারণেই খোলামেলা আলোচনাটা জমে উঠে সংবাদ সম্মেলনে।

কি মিটিং করলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মুশফিক বলেন, “টিম কম্বিনেশন, উইকেট নিয়ে, কেমন আবহাওয়ায় কেমন উইকেট হতে পারে, রাতে কেমন হয়, লাইটে ফিল্ডিং কেমন কঠিন। কোচ যেহেতু নতুন। আমরা চেষ্টা করেছি সব মেসেজগুলো তাড়াতাড়ি যাতে দেয়া যায়। জাস্ট এগুলো ব্যাসিক ইনফরমেশন।”
লক্ষ্য কি থাকবে আপনাদের? মুশফিক জবাবে বলেন, “প্রত্যেকটি ম্যাচেই টার্গেট থাকে জেতার। অনেকদিন পর আমরা খেলতে নামছি। তাদের সঙ্গে খেলা সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যে কম্বিনেশনের শেষ দুই বছর খেলে আসছিলাম। হয়তো ২০১৪ সালটা আমাদের মতো করে হয়নি। আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেটটা যদি খেলতে পারি তাহলে আমাদের জন্য অনেক বড় একটা সুযোগ। সবাই ব্যক্তিগতভাবে অনেক কষ্ট করছে। যার যে জায়গায় সমস্যা আছে সেটা নিয়েও কাজ করছে। আমাদের শুধু সেটা মাঠে প্রয়োগ করতে হবে। সেটার জন্য আমরা প্রস্তুত। আশা করছি রোববার থেকে আমরা ফ্রেশলি স্টার্ট করব।”

ভারতীয় দলে নতুন ক্রিকেটার, এটা আপনাদের জন্য চাপের কিনা? জবাবে মুশফিক বলেন, “দল কেমন হয়েছে তার চেয়ে বেশি চাপ বলতে পারেন ২০১৪ সালে আমরা এখনো একটি ওয়ানডে ম্যাচও জিততে পারিনি। সেদিক থেকে বলব যে এটা আমরা চাপ হিসেবে দেখছি না, এটা আমরা একটা মোটিভেশন হিসেবে দেখছি। আমাদের সামনে সুযোগ আছে তিনটি ম্যাচের মধ্যে সবকিছু ঠিক ঠাক থাকলে তিনটি ম্যাচই আমরা জিতব। এটা অন্যরকম একটা মোটিভেশন; অন্যরকম একটা চ্যালেঞ্জ। এটা একটি ইয়ং ইন্ডিয়ান সাইড। তবে তারা অনেক শক্তিশালী। আইপিএলে যারা সেরা ক্রিকেটার তারাই দলে সুযোগ পেয়েছে। সেদিক থেকে বলব তাদের জন্যও যে খুব একটা সহজ হবে সেটা নয়। কারণ টি-২০ ফরম্যাট আর ওয়ানডে ফরম্যাট টোটালি ডিফারেন্ট। মনে হয় খুব চ্যালেঞ্জিং সিরিজ হবে। আশা করছি আমরা যেন সেটাতে টপে থাকতে পারি।

বিশ্বকাপ খেলা কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা? মুশফিক বলেন,“আমরা প্রফেশনাল ক্রিকেটার। যেহেতু এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ কত বড় গুরুত্বপূর্ণ এটা আমাদের চাইতে আপনারাও অনেক ভালো জানেন। সেদিক থেকে বলব সবার ফোকাস আছে সেদিকেই। হয়তো বিশ্বকাপ সবার কাছেই অন্যরকম ইমেজ। আমার মনে হয় শুধু খেলা নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে হবে না। এটা আমাদের জন্য একটি সুযোগ আমরা নিজেদের রিফ্রেসও করতে পারি খেলা দেখে। যেটা দশটা বা তাড়াতাড়ি শুরু হয়। আমরা সবাই প্রফেশনাল কালকে খেলা আছে এটা নিয়েই ভাবতে। আমরা ক্ষুর্ধাত আছি ভালো কিছু করার জন্য। আমরা জানি আমাদের দলের ক্ষমতা আছে আরো ভালো কিছু করার। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এ বছরটা আমরা তেমন কিছু করতে পারি নি। আমাদের সামনে একটা সুযোগ এসেছে। এবং  সবাই এর জন্য প্রস্তুত ইনশাল্লাহ।

অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক হিসেবে আপনার অনুভূতি কেমন? মুশফিক বলেন,“সেটাতো অবশ্যই ভালো।  সবকিছুর মেইন ফোকাস থাকে মাঠে। কে কেমন পারফরম্যান্স করে সেদিকেই। সবথেকে প্রাপ্তির জায়গা এটাই। দেখানোর জায়গা বা সুযোগটা সেখানেই। তারা অনেক ইয়ং তাদের কিছু ম্যাচ উইনার ক্রিকেটার আছে যারা কিনা ম্যাচ জেতাতে পারে। আমরা তাদের নিয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছি। আশা করি খুব ভালো একটি কম্পিটিশন হবে। অভিজ্ঞতার কথা বললে, অবশ্যই তাদের চেয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। এটা ভুললে কিন্তু চলবে না। তারা উপমহাদেশের খেলোয়াড়। ওরা আমাদের মতোই খেলে বড় হয়েছে। সেদিক থেকে বলব যে খুব চ্যালেঞ্জিং একটা সিরিজ হবে। আমার মনে হয় অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে আমরাই একটু এগিয়ে। আমরা চেষ্টা করব সুযোগটা কাজে লাগাতে। চাপটা যেন ওভাবেই আমরা নিতে পারি।”

কারো অভিষেক হতে পারে কিনা? মুশফিক বলেন, “রোববার প্রথম ওয়ানডেতেই হবে কিনা এখনই সিদ্ধান্ত হয়নি। যেহেতু দলে নেয়া হয়েছে অবশ্যই সুযোগ হয়তো আসবে। সবকিছু নির্ভর করে উইকেটের ওপর এবং টিম কম্বিনেশনের ওপর। স্কোয়াডে যেহেতু আছে অবশ্যই আজ না হোক পরবর্তী ম্যাচে দলে থাকার সুযোগ রয়েছে। সেটা এ সিরিজেও হতে পারে।”

জয়ের জন্য কি রোল থাকবে আপনাদের? মুশফিক বলেন,“ যদি বলেন যে সাতটা ওয়ানডে হারের পর আসলে নিজেদের ফিরে পেতে মরিয়া থাকব। এটাই স্বাভাবিক। রোববারের ম্যাচে আমাদের শারীরিক ভাষাটাও অন্যরকম সেটা দেখলে হয়তো টের পাবেন। সাতটা ম্যাচের মধ্যে কয়েকটা ম্যাচ ছিল একদম জেতার। অতৃপ্তিটা আছে, সেই কষ্টটাও আছে। ভালো একটা প্রতিফলন যেন আমরা এই তিনটি ওয়ানডের একটিতে দিতে পারি।

আজ রোববার আষাঢ়ের প্রথম দিন

ড়ঋতুর বাংলাদেশে গ্রীষ্মের দাবদহ ও ভ্যাপসা গরম প্রশমনের প্রাণষ্পর্শী বর্ষাঋতুর প্রথম দিন।

আবহমান কাল ধরে বাঙালির জীবন, পরিবেশ, কৃষ্টি, সামাজিকতা, আনন্দ-বেদনা, চলন-বলন, গান, উৎসব, ব্যবসা-বাণিজ্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ঘিরে বর্ষা আলোকবর্তিকা হিসেবেই সমাদৃত। সার্বিক বোধন আর আরাধনায় আষাঢ়-শ্রাবণের বর্ষকাল বাঙালিকে আবিষ্ট করে রেখেছে।image_86388_0

এজন্যই বর্ষার আগমনের সূচনালগ্নে আষাঢ়ের প্রথম দিনটিকে বরণ করে নিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র বিভিন্ন সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আদিকাল থেকে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় বর্ষাঋতু নিয়ে রয়েছে উচ্ছ্বসিত বন্দনা, অনুরাগ ও স্তুতি। রহস্যময়ী এ বর্ষার রূপ, বৈচিত্র্য, চমক, বর্ণচ্ছটা এবং আকাশ- প্রকৃতির গভীর মিতালী শিল্প-সাহিত্যের সরস উপকরণ হিসেবে আবহমানকাল থেকেই অনুপ্রাণিত ও স্পন্দিত করছে শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিকদের।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য সাহিত্যসহ সব ধরনের সাহিত্যকর্মে বর্ষা স্থান পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশ্বকবির কাছে প্রিয় ঋতু ছিল বর্ষা। তাই তার বিভিন্ন গানে প্রজ্জ্বোল হয়ে উঠে এসেছে মেঘ-মেদুর বর্ষার রূপ ঐশ্বর্যের শিল্পিত বর্ণনা। তিনি লিখেছেন- ‘বজ্র মানিক দিয়ে গাঁথা, আষাঢ় তোমার মালা/ তোমার শ্যামল শোভা বুকে বিদ্যুতেরই জ্বালা ॥/ তোমার মন্ত্রবলে পাষাণ গলে, ফসল ফলে/ মরু বহে আনে তোমার পায়ে ফলের ডালা ॥…’ অথবা ‘বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝর,/ আউশের ক্ষেত জলে ভরভর,/ কালি-মাখা মেঘে ওপারে আঁধার ঘনিয়েছে দেখ্ চাহি রে।/ ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে…’/ অথবা ’বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল।’

তবে কবির এমনই আহবানের মতো দেশবাসীরও আশা, বর্ষার আগমনে তাপিত গ্রীষ্মের দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান হবে। দাবদাহে হাঁসফাঁস হয়ে ওঠা মানুষগুলো স্বস্তি পাবে। জলভরা মেঘের আষাঢ় এসে যবনিকা টেনে দেবে বহমান দীর্ঘ তাপদহনের জ্বালা- যন্ত্রণার অধ্যায়ের, অর্থাৎ গ্রীষ্মের।

বর্ষার আগমনে দাবদাহে কাহিল মানবকুলের সঙ্গে মুক্তি পাবে প্রকৃতি এবং উদ্ভিদরাজিও। শান্তি, স্বস্তি ও জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পেতে তাই মানুষ ও প্রকৃতি উভয়ের মধ্যেই চলছে একে বরণ করে নেয়ার নানা আয়োজন।

বরিশাল-৫ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

বরিশাল-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেবুন্নেছা আফরোজ নৌকা প্রতীক এবং বিএনএফ প্রার্থী সাইফুল ইসলাম লিটন টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।image_86387_0

রোববার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এ আসনের ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪২ হাজার ২২৮ জন।

১৫৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০০টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ২১ জন এবং ঝুঁকিবিহীন কেন্দ্রে ১৯ জন করে পুলিশ ও আনসার মোতায়েন থাকবে। পাশপাশি ষ্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ৬ প্লাটুন বিজিবি নির্বাচনে কাজ করবে।

গত ৯ এপ্রিল সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়।

উপমহাদেশে আমের কথকতা

উপমহাদেশে ফলের রাজা আম৷ এ বিষয়ে দ্বিমত থাকতে পারে না৷ তার মধ্যে ভারতের কয়েকটি রাজ্যের আমের খ্যাতি ভুবনজোড়া৷ স্বাদে, গন্ধে আর রঙের বাহারে মন কেড়ে নেয়৷ উত্তর প্রদেশের দশেরি, ল্যাংড়া আর চৌষা জাতের আম তো ‘একম অদ্বিতীয়ম’!image_86393_0

উত্তর প্রদেশের আমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাদশাহি খানদানের ইতিহাস৷ যেমন আমের রাজা দশেরির কথাই ধরা যাক৷ উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষৌ থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা পার হলে পড়ে মালিহাবাদ নামে একটা জায়গা৷ উন্নত প্রজাতির আম দশেরির জন্য এই এলাকা চিহ্নিত৷ এখানে ৩৫ হাজার হেক্টর জমি জুড়ে আছে আমের বাগান৷ রাজ্যের মোট আমের ফলনের ১২.৫ শতাংশ আম এই মালিহাবাদেই হয়৷ তাই মালিহাবাদকে বলা হয় ‘‘আমের রাজধানী”৷

ভারতের আম উৎপাদক সংস্থার সভাপতি ইনসরাম আলি বলেন, এই মালিহাবাদেই আছে সবথেকে প্রাচীন আম গাছ৷ একই পরিবারের বংশধরেরা দেড়শো থেকে দু’শো বছর ধরে এই আম বাগানের দেখাশোনা এবং আমের ব্যবসা করে আসছেন৷
মালিহাবাদি আম বাগানের দশেরি, ল্যাংড়া, চৌসা, সফেদা এবং অন্যান্য বিখ্যাত জাতের আমের কাছে অন্য জাতের আম টিকতে পারে না৷ তাই আম রসিকদের কাছে মালিহাবাদ হলো, ‘‘গার্ডেন অফ ইডেন”৷ মালিহাবাদি দশেরি আমকে ২০১০ সালে দেয়া হয় ভৌগলিক বিশেষত্বের মর্যাদা বা জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডকেশন স্টেটাস, জিআই৷ অষ্টাদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এখানে হতো ১,৩০০ জাতের আম৷ এখন তা নেমে এসেছে ৭০০-তে৷

মালিহাবাদ আম বাগানের বর্তমান মালিক আমের জাদুকর পদ্মশ্রী কলিমুল্লা খান জানান, লক্ষৌ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কাকোরি বলে একটা গ্রাম আছে – যেখানে ৩০০ বছরের পুরানো একটা দশেরি আম গাছ আছে, যার মালিক ছিলেন লক্ষৌ-এর নবাব৷ প্রবাদ আছে, ওই বিরল জাতের আম গাছ অন্য কোথাও অন্য কেউ যাতে লাগাতে না পারে, তার জন্য ওই গাছের আমের আঁটিতে ফুটো করে দিতেন৷ পাখিরা যাতে মুখে করে অন্যত্র নিয়ে যেতে না পারে, তার জন্য পুরো আম বাগান ঘেরা থাকতো জাল দিয়ে৷ সেই থেকে ওই গ্রামের নাম হয় দশেরি গাঁও৷

স্থানীয় লোকজনদের মতে অবশ্য মালিহাবাদ এবং দশেরি আম নিয়ে নানা গল্পকথা আছে৷ কেউ কেউ বলেন, প্রায় ২০০ বছর আগে ফকির মহম্মদ খান ওরফে গয়া মালিহাবাদির নেতৃত্বে একদল আফ্রিদি পাঠান ভাগ্যান্বেশনে আফগানিস্তানের সীমান্তে খাইবার গিরিপথের এক গ্রাম থেকে পেশাওয়ার হয়ে হিন্দুস্থানে আসে৷ প্রথমে তাঁরা আসে উত্তর প্রদেশের ফারুকাবাদে৷ সেখান থেকে অবধ-লক্ষৌ-এ৷ মহম্মদ খানের বীরত্ব এবং যুদ্ধ বিদ্যার নৈপূণ্য দেখে অবধের নবাব খুশি হন৷ বকশিস হিসেবে মহম্মদ খান ফলের বাগান করার অনুমতি প্রার্থনা করেন নবাব বাহাদুরের কাছে৷ সঙ্গে সঙ্গে তা মঞ্জুর হয়৷ কথিত আছে, মহম্মদ খান প্রথম মালিহাবাদে আমের চারা রোপণ করেন৷

তবে দশেরি আম বাগান সবই এককালে ছিল নবাবদের৷ পরে অন্যদের ইজারা দেয়া হয়৷ বাংলায় আমের খ্যাতি এককালে ছিল মুর্শিদাবাদের নবাব আমলে৷ এখনো বাংলার হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি আমের কদর আছে যথেষ্ট৷ কিন্তু সংরক্ষণের সুবিধা না থাকায় আম চাষিরা মার খায়৷

ভারতে ১২ লাখ হেক্টরে আমের ফলন হয় গড়ে বছরে ১১ লাখ টন৷ সবথেকে বেশি হয় অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশে প্রায় ২৬ শতাংশ৷ তারপর বিহার পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতে৷ জাতীয় হর্টিকালচারাল বিভাগ বিভিন্ন সংকর জাতের আম নিয়ে গবেষণা করছে৷ যেমন নীলম ও দশেরির সংকর জাতের আম হলো মল্লিকা৷ আম্রপালিও তাই৷ রত্না হলো আলফনসো আর নীলমের সংকর৷

আমের ফলন ভালো এবং উন্নত মানের হয় যেখানে গ্রীষ্ম মণ্ডলীয় আবহাওয়া আছে৷ অর্থাৎ বৃষ্টি, আদ্রতা ও কুয়াশা থাকে৷ এই সব ভৌগলিক কারণে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম আম উৎপাদক দেশ৷ বিশ্বের ৬০ শতাংশ আম ভারতেই হয়৷ এর মধ্যে ৪০ শতাংশ আম রপ্তানি হয় প্রধানত ইউএই, কুয়েত ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে৷ কিছুটা হয় ইওরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলিতেও৷ রফতানি বাজারের বিশেষ চাহিদা আলফনসো আর দশেরি আমের৷ সূত্র: ডিডব্লিউ

চলে গেলেন সরদার ফজলুল করিম

চলে গেলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও দার্শনিক সরদার ফজলুল করিম। রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত পৌনে ১টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।image_86383_0

তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। রাত দেড়টায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেন। গভীর রাতে তার মৃত্যু সংবাদে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ছুটে যান। এসময় হাসপাতালে শোকের ছায়া নেমে আছে।

হৃদযন্ত্রের সমস্যাজনিত কারণে কয়েক দিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ফজলুল করিমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

এর আগে দিনে তার জামাতা ডা. শাকিল আখতার শনিবার সাংবাদিকদের জানান, বহুমুখী সমস্যায় ভুগছেন তার শ্বশুর। তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। বেশ কয়েকটি অঙ্গ ঠিকমতো কাজ করছে না তার।

স্বাধীনতা ও বাংলা একাডেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত সরদার ফজলুল করিম ১৯৪৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে স্নাতক এবং ১৯৪৬ সালে স্নাতকোত্তর সনদ নেন। এরপর ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়েই দর্শনশাস্ত্রের অধ্যাপক হিসাবে নিয়োজিত থাকেন।

ছাত্রজীবন থেকেই ‘শোষণমুক্ত ও মানবতাবাদী’ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনরত এই লেখক রাজবন্দি হিসাবে দীর্ঘ ১১ বছর কারাভোগ করেন। ১৯৫৪ সালে জেলে থাকাকালেই তিনি পাকিস্তান সংবিধান সভার সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৬৩ থেকে ৭১ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমীর সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যক্ষের পদে কাজ করেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ১৯৭২ থেকে ৮৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখি করেছেন জাতীয় অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিম। তার উল্লেখযোগ্য অনুবাদ ও রচনার মধ্যে রয়েছে, ‘প্লেটোর সংলাপ’, ‘প্লেটোর রিপাবলিক’, ‘অ্যারিস্টটলের পলিটিক্স’, এ্যাঙ্গেলসের অ্যান্টি ডুরিং’, ‘নানা কথার পরের কথা’, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক’, ‘চল্লিশের দশকের ঢাকা’, ‘নূহের কিশতি’, ‘রুমীর আম্মা’, ‘দর্শনকোষ’, ‘শহীদ জোতির্ময় গুহঠাকুরতা স্মারকগ্রন্থ’, ‘সেই সে কাল’।

নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু শিগগির

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় মূল হোতা নূর হোসেন ভারতের কলকাতায় গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার (এসপি) খন্দকার মহিদ উদ্দিন জানিয়েছেন, শিগগির তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে।image_86399_0

রোববার সকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ সুপার এ কথা জানান।  নূর হোসেনের গ্রেফতারে এ মামলার অগ্রগতি হবে বলে আশা তার।

খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, “কলকাতা পুলিশের সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন। তাকে দেশে আনার আইনগত প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে।”

তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দী বিনিময় চুক্তি রয়েছে। এজন্য তাকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না।

শনিবার রাতে কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের কাছে কৈখালী এলাকায় বহুতল একটি আবাসন ভবনের চতুর্থ তলা থেকে তাদের গ্রেফতার করেছে ভারতীয় অ্যান্টিটেরোরিজম স্কোয়াড। তারা বর্তমানে বাবুইহাটি থানায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। সোমবার তাদের বারাসাত আদালতে হাজির করা হবে। নূর হোসেনের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া অন্যরা হলো- ঢাকার দুর্ধর্ষ তিন সন্ত্রাসী শামীম, আসিক ও আসিফ।

জানা গেছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে শনিবার ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইন্দ্রপ্রস্ত’ ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ভারতীয় অ্যান্টিটেরোরিজম স্কোয়াড তাকে ধরার জন্য অভিযান চালায়। সে সময় বাসার দরজায় টোকা দিলে দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে এই বাহিনী ভেতরে ঢুকে পড়ে। তাদের ধারণা ছিল, নূর হোসেনের কাছে ভারী অস্ত্র রয়েছে। এ কারণে তারা প্রস্তুতি নিয়েই ভেতরে প্রবেশ করে। কিন্তু নূর হোসেন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় তারা। জানা গেছে, ওই ফ্ল্যাটের মালিক সীমা সিংহ।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারসহ সাতজনকে গুম ও হত্যার মহৃল আসামি নূর হোসেন। তাকে ধরার জন্য ইন্টারপোলে রেড ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল অপহরণ ও গুমের ঘটনার পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে যান।

আদালত সম্পর্কে তথ্য নিয়ে মন্তব্য করবেন: ট্রাইব্যুনাল

ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে টকশোতে মন্তব্য করায় সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ চ্যানেল২৪ এর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।image_86053_0

চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।

পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, “ভবিষ্যতে আদালত সম্পর্কে তথ্য নিয়ে মন্তব্য করবেন।”

একই সঙ্গে দেশের সম্মানিত ব্যক্তিদের আরো সচেতন হয়ে মন্তব্য করতে বললেন আদালত। আদালত বলেন, “এমন মন্তব্য করা যাবে না, যাতে জনগণের মনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হয়।”

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর যে টকশোর কারণে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল সেই ‘মুক্তবাক অনুষ্ঠানটি’ পুনঃপ্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

আদালতের রায় ঘোষণার সময় আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান, ব্যারিস্টার রুমীন ফারহানা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, তাপস কান্তি বল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহসহ চ্যানেল২৪ এর বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয় বরাবর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল২৪ কর্তৃপক্ষসহ আটজনকে বিবাদী করে অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর চ্যানেলে২৪ এর রাত এগারটার ‘মুক্তবাক’ নামক টকশোতে ট্রাইব্যুনালের বিচার বিষয়ে এই মন্তব্য করেন।
টকশোতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বিচারপতি শামীম হাসনাইন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেন তাকে দেয়া হয়নি। তাহলে কি বিচারের বাণী নিভৃতে কাদঁবে না?’

পাকিস্তান সফর বাতিল করল আয়ারল্যান্ড

আয়ারল্যান্ড দল করাচি বিমানবন্দরে হামলার জের ধরে তাদের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছে। বুধবার পিসিবির বরাত দিয়ে জিনিউজ এ সংবাদ জানিয়ছে।image_85931_0

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি বুধবার জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তিন ম্যাচের একটি সিরিজ খেলার ব্যাপারে আয়ারল্যান্ড-পাকিস্তানের মধ্যে বোঝাপড়া হয়েছে। করাচি বিমানবন্দরে হামলার পূর্বে পিসিবি নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের কাছ থেকে নিশ্চয়তার জন্য অপেক্ষা করছিল।

প্রসঙ্গত, রোববার  মধ্যরাতে পাকিস্তানের করাচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে  অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের চালানো সন্ত্রাসী হামলায় হামলাকারী ১০ জনসহ অন্তত ৩৭ জন প্রাণ হারায়। -ওয়েবসাইট

বড় জয়ে এগিয়ে গেল কিউইরা

জ্যামাইকার কিংস্টন ওভালের সাবিনা পার্কে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৮৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ১-০ তে এগিয়ে গেল সফরকারী নিউজিল্যান্ড। বুধবার ম্যাচের চতুর্থ দিনেই জয় তুলে নেয় কিউইরা।image_86038_0

চতুর্থ দিন জয়ের জন্য ৪০৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে ২১৬ রানের অলআউট হয়ে যায় ক্যারিবিয়ানরা। প্রথম ইনিংসে সফরকারিদের ৫০৮ রানের জবাবে ২৬২ রানেই গুটিয়ে যায় গেইলরা। ২৪৬ রানের লিড নিয়ে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৬ রানে অলআউট হয়ে যায় কিউইরা। ফলে ৪০৩ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা পায় স্বাগতিকরা।

প্রথম ইনিংসে কিউইদের হয়ে জোড়া সেঞ্চুরি করেন কেন উইলিয়ামসন (১১৩ ) ও জেসি নিশাম (১০৭)। এছাড়া ওয়াটলিং ৮৯ ও ও ওপেনার লাথাম করেন ৮৩ রান।

প্রথম ইনিংসে ২৬২ রানে অলআউট হওয়া ক্যারিবিয়ানদের পক্ষে চন্দরপল অপরাজিত ৮৪ রান করেন। আর ক্যারিবিয়ান ‘দৈত্য’ গেইল করেন ৬৪ রান।

নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি ও অভিষিক্ত ক্রেইগ নেন চার উইকেট করে।

২৪৬ রানের লিড নিয়ে খেলতে নেমে কিউইরা গুটিয়ে যায় ১৫৬ রানে। দলের হয়ে ওপেনার লাথাম সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন।

জয়ের জন্য ৪০৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে ২১৬ রানে গুটিয়ে যাওয়া ক্যারিবিয়ানদের পক্ষে শিলিংফোর্ড ৫৩ ও স্যামুয়েলস করেন ৩৪ রান।

কিউই বোলারদের মধ্যে ক্রেইগ লাভ করেন চার উইকেট আর শোধী নেন ৩ উইকেট।

দুই ইনিংসে আট উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা খেলোয়য়ারের পুরস্কার লাভ করেন অভিষিক্ত ক্রেইগ।

আগামী ১৬ জুন পোর্ট অব স্পেনে দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।  -ক্রিকইনফো