বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

সরকারের কাছে কত গুলি আছে দেখতে চান আব্বাস

abbassহামলা, মামলা আর হত্যা করে সরকারবিরোধী দলের আন্দোলন বন্ধ করতে চায় এমন অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, “সরকারের কাছে কত গুলি আছে আমরা তা দেখতে চাই। গুলি বুকে নেয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।”

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, “গুলি শেষ হয়ে গেলে আপনারা কী করবেন? বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের ছাড়বে না।”

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভাসানী স্মৃতি সংসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, “খালেদা জিয়ার হুঙ্কারে তখত নড়বড়ে  হয়ে যাবে। আপনারা টিকে থাকতে পারবেন না।”

প্রধানন্ত্রীর উদ্দেশে আব্বাস বলেন, “আগে যা করেছেন করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ অনেক দয়ালু। সব মাফ করে দেবে। দয়া করে আর স্বৈরাচারের খাতায় নাম লেখাবেন না। কিভাবে স্বৈরাচারের পতন ঘটাতে হয় এদেশের মানুষ জানে।”

মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী জাতীয়ভাবে পালন না করায় আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ হচ্ছে একটি অকৃতজ্ঞ দল। তার (ভাসানী) জন্ম না হলে অনেক রাজনৈতিক নেতার জন্ম হতো না। অথচ সেই মানুষটির মৃত্যুবার্ষিকী জাতীয়ভাবে পালিত হচ্ছে না।” তিনি প্রশ্ন রাখেন আওয়ামী লীগের জন্য কি ভাসানীর কোনো অবদান ছিল না?

জিয়াউল হক মিলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সুকোমল বড়ুয়া প্রমুখ।

‘চোরাচালানের প্রমাণ মিললে পুলিশকেও গ্রেফতার করা হবে’

monirul islamঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেছেন, “স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বিমানবন্দরের শুল্ক বিভাগ কিংবা পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যেই থাকুক, তদন্তে প্রমাণ মিললে তাকে গ্রেফতার করা হবে।”

বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি। স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করেন, এমন পাঁচজনকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ। রাজধানীর উত্তরা ও বসুন্ধরা এলাকা থেকে তাদের তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন  বাংলাদেশ বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এমদাদ হোসেন, প্লানিং ও সিডিউলিং বিভাগের প্রধান ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ আসলাম শহীদ, শিডিউলিং ম্যানেজার মো. তোজাম্মেল হোসেন, উত্তরার ফারহান মানি এক্সচেঞ্জের মালিক হারুন অর রশিদ ও বিমানের ঠিকাদার মাহমুদুল হক পলাশ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১২ নভেম্বর বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে দুই কেজি ৬০০ গ্রাম সোনা উদ্ধারের পর মাজহারুল আফসার নামের এক কেবিন ক্রুকে আটক করা হয়। তিন দিনের রিমান্ডে তার দেয়া তথ্যমতে মঙ্গলবার রাতে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবি কর্মকর্তা মনিরুল বলেন, “মূলত শফিউল আজম নামের এক ব্যক্তি দুবাই থেকে চোরাচালানের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি ওই সোনাগুলো ঢাকায় পাঠিয়েছেন। আর পলাশ এ কাজের সমন্বয় করতেন। টাকা লেনদেন হতো হারুন অর রশিদের মাধ্যমে। অবৈধ সোনার চালান কাস্টমস পার করতে বিমানের ক্যাপ্টেন থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হতো।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “তদন্তে বিমান বালা থেকে শুরু করে বিমানের বিভিন্ন পর্যায়ের অনেকের নাম এসেছে। এগুলো যাচাই করা হচ্ছে। পলাশের স্ত্রী নিজেও একজন বিমানবালা। বিমানবন্দরে অনেকগুলো সংস্থা কাজ করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বিমানবন্দরের শুল্ক বিভাগ, পুলিশ বাহিনীর কেউ কিংবা যেকোনো সংস্থার যারই সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলবে তাকে গ্রেফতার করা হবে।”

মনিরুল বলেন, “দুবাইয়ে স্বর্ণ কেনায় বিধি-নিষেধ নেই। এ কারণে সেখান থেকে স্বর্ণ কিনে চোরাইপথে বাংলাদেশে পাচার করা হয়। বাংলাদেশ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং স্বর্ণগুলোর মূল গন্তব্য থাকে পাশের দেশগুলো।”

উপজেলা পরিষদের ‘পদ’ রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে জামায়াত

jamat logoমানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দলের শীর্ষ নেতাদের একের পর এক মৃত্যুদণ্ডের রায়, নেতাকর্মীদের ওপর একাধিক মামলা ও গ্রেফতার এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধের উদ্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল জামায়াতে ইসলামী। এমন অবস্থায় উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতসমর্থিত প্রার্থীদের অপ্রত্যাশিত বিজয়ে তুষ্ট হয়েছিলেন দলের নেতাকর্মীরা। তবে উপজেলা পরিষদের সেই পদগুলো রক্ষা করতে এখন রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের।

জানা গেছে, বিভিন্ন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে জামায়াতের বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।  এছাড়া গ্রেফতারের ভয়ে অধিকাংশ চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান আত্মগোপনে থাকছেন। সময় মতো উপজেলার কাজে সময় দিতে পারছেন না। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে উপজেলা কার্যালয়ে গিয়ে মাঝে মধ্যে হাজিরা দিয়ে আসছেন।

মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব আব্দুস সবুর স্বাক্ষরিত এক ফ্যাক্স বার্তায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলায়মান সরকার সাজুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, সরকারের অসহযোগিতার কারণে জামায়াত নেতাদের উপজেলার সুফল ভোগ তো দূরের কথা, এখন পদ রক্ষা করাই দায় হয়ে পড়ছে। অন্যায়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত এবং জনগণকে সেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। উচ্চ আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের পদ ফিরে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ছয় ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩৬টিতে চেয়ারম্যান পদে, ১২৬টিতে পুরুষ এবং ৩৬টিতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। বিজয়ী প্রার্থীদের প্রায় সবাই স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের বিভিন্ন পদে রয়েছেন।

সূত্র জানায়, এপ্রিলে শুরু হওয়া শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ১০ চেয়ারম্যানসহ অন্তত ২৫ জনপ্রতিনিধি পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেলে যান। পরে বিভিন্ন সময়ে প্যারোলে বা জামিনে মুক্তি পেয়ে শপথ গ্রহণ করেন তারা। শপথ নিলেও গ্রেফতার আতঙ্ক ও আটক থাকার কারণে পরিষদের দায়িত্ব বুঝে পেতে কারো কারো সাত মাস সময় লেগেছে। এর মধ্যে কয়েক দফা আটক হয়েছেন বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান। বিভিন্ন মামলার আসামি করে চার্জশিট দেয়াসহ বিভিন্ন কারণে অন্তত ছয়জনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১০ নভেম্বর বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নূরুল ইসলাম মণ্ডলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর বগুড়ার শেরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা দবিবুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ২ অক্টোবর গাইবান্ধা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি আবদুল করিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ বরখাস্তের চিঠিতেও দুটি মামলায় চার্জশিটের কথা উল্লেখ করা হয়।

এসব বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে বলে জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ।

ঢাকা মহানগর জামায়াত নেতা আতাউর রহমান সরকার তার ফেসবুকে লিখেছেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের অনেক চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানকে জামায়াত করার অপরাধে বরখাস্ত, গ্রেফতার করছে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার। জামায়াত এখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গেছে। এসব করে জনগণের মন থেকে জামায়াতকে মুছে দেয়া যাবে না।”

এদিকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা আবদুর রউফ, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল ইসলাম, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম এবং কয়েকটি উপজেলার চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানসহ ছয় থেকে সাতজন আটক রয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে জিয়ানগর উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী বলেন, “২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত নতুন সরকারি বরাদ্দ আসেনি। তেমন কোনো কাজেরও সুযোগ হয়নি। ”

জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, “বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও কাজ করতে দিচ্ছে না।” সরকারের এ জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রাবি শিক্ষক হত্যা; ক্লু ছাত্রী সংশ্লিষ্টতা!

shofiulরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলনের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হতে শুরু করেছে।

শনিবার বিকেলে ওই শিক্ষকের তালাবদ্ধ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া এক ছাত্রীকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে এমনটিই দাবি সংশ্লিষ্টদের।

ওই ছাত্রী একই বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করেছেন। তার শিক্ষাবর্ষ ২০০৮-০৯। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় প্রধানপাড়া গ্রামে। তাপসী রাবেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী তিনি। তিনি ওই শিক্ষকের অধীনে গবেষণা করছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি করছে পুলিশ। নিছকই পারিবারিক বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে তারা।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রী শফিউল ইসলামের বাসায় তার সঙ্গে দেখা করতে যান। এসময় ওই বাসায় শিক্ষক ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। এরপর শনিবার সকালে ওই ছাত্রীকে রেখেই বাসায় তালা দিয়ে শফিউল ইসলাম বিভাগে যান।

বিভাগের প্রয়োজনীয় কাজ শেষে দুপুর আড়াই টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিহাস এলাকায় নিজ বাসার প্রায় ১০০ গজ দূর পৌঁছালেই দু’জন অস্ত্রধারী যুবক তার গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

অভিযুক্ত ছাত্রীর গ্রামের প্রতিবেশী, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও পুলিশ জানান, নিহত শফিউল ওই ছাত্রীকে তার নিজ বাসায় তালাবদ্ধ করে রেখেছিলেন। ওই ছাত্রী নিজেকে উদ্ধারের জন্য তার মায়ের কাছে ফোন দেন। এরপর ওই ছাত্রীর মা বিষয়টি তার সহপাঠীদের জানিয়ে উদ্ধারের অনুরোধ জানান। ওই ছাত্রী তার ঘনিষ্ঠজনদের ফোন করে তাকে আটকে রাখার বিষয়টি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পর ওই ছাত্রীর মা, বাবা ও তার মামা তাকে উদ্ধারের জন্য গোবিন্দগঞ্জ থেকে শনিবার দুপুরের দিকে ক্যাম্পাসে ছুটে আসেন। পরিবারের সদস্যরা স্যারের বাসা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করার বিভিন্নভাবে চেষ্টা শুরু করেন।

এরপর বেলা ৩টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে বাসায় ফেরার পথে শিক্ষক শফিউল সন্ত্রাসীদের নৃসংশ হামলার শিকার হন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই ডিবি পুলিশের সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেলে। কিছুক্ষণ পর তারা ওই বাড়িতে তালা ভেঙে তল্লাশি চালায়। এসময় বাড়ির একটি কক্ষ থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তার উদ্ধারের বিষয়টি গোপন রেখেই শুরু করে জিজ্ঞাসাবাদ।

সোমবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে ছাত্রীর মা জানান, তারা মেয়েকে উদ্ধারের জন্য শনিবার রাজশাহীতে আসেন। পরে সন্ধ্যার দিকে ওই শিক্ষকের বাসার সামনে গেলে পুলিশ তাদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, ওই ছাত্রীর সঙ্গে নিহত ড. শফিউলের সঙ্গে গভীর সখ্যতা ছিলো। বিভিন্ন সময় ওই ছাত্রী স্যারের বাসায়ও যেতেন। এর আগে প্রেমিক জাহাঙ্গীরের হাত ধরেই স্যারের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই ছাত্রীর। স্যারের আস্থাভাজন জাহাঙ্গীর একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। স্যারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর পর প্রেমিক জাহাঙ্গীরকে এড়িয়ে চলতে থাকেন ওই ছাত্রী। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর ওই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে বলে ধারণা করছে অনেকে।

অপর একটি সূত্র জানায়, মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের মোবাইল ফোনটি আঁকড়ে ধরে ছিলেন নিহত শিক্ষক অধ্যাপক ড. একেএম শাফিউল ইসলাম। শরীর থেকে অধিক রক্তক্ষরণে যখন তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়ছিলেন তখনও বার বার চেয়েও মোবাইলটি হাতে নিতে পারেননি উপস্থিত শিক্ষকরা।

এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে রক্ত দেয়া হচ্ছিল তখনই হাত থেকে পড়ে যায় মোবাইলটি। এর খানিক পরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ড. শফিউল। পরে ওই মোবাইল ফোনটি হেফাজতে নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক ওমর ফারুক। তিনি পরবর্তীতে তা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করেন।

প্রশ্ন উঠেছে কেন মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ড. শফিউল হাতছাড়া করতে চাননি মোবাইলটি? তবে কি বড় কোনো প্রমাণ লুকিয়ে আছে মোবাইলটিতে? হয়তো তিনি হামলাকারীদের ফোন রেকর্ড করেছিলেন। কিংবা ভিডিও বা এসএমএস কিংবা কল নাম্বার সংরক্ষিত রেখেছেন। এমন নানা ঘুরপাক খাচ্ছে শিক্ষকসহ হত্যার ক্লু অনুসন্ধানে নামা আইন-শৃঙ্খলাবাহীর সদস্যদের মধ্যে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, স্যারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি হতে পারে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের বড় ‘ক্লু’। হামলার পর থেকে জ্ঞান হারানোর আগ পর্যন্ত স্যার তার মোবাইল ফোনটি হাতছাড়া করেননি। তিনি মনে করেন, পুলিশ যখন কোনো ক্লু উদ্ধারে ব্যর্থ তখন ওই মোবাইল ফোনটিই হতে পারে বড় ক্লু।

এদিকে, নিহত এ কে এম শফিউল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন নিকটস্থ আত্বীয়-স্বজন। তালাক দেয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় তাকে বিভিন্ন ভাবে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গ্রামের বাড়িতে জানাজায় অংশ নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষর্থীদের কাছে নিহত শফিউলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা এ অভিযোগ করেন। তারা বলেন, গত ঈদ-উল আজহার সময় স্যার বাড়িতে এসে বলেছিলেন, আমার জীবন হুমকির মুখে। তালাক দেয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রীর পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ বলেন, এখনো হত্যাকাণ্ডের কোন ক্লু উদ্ধার হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, লালন ও মাজার ভক্ত হওয়ায় তিনি উগ্র মৌলবাদী ও জঙ্গিগোষ্ঠী দ্বারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। উদ্ধারকৃত আলামত থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরই অংশ হিসেবে কথিত জঙ্গিগোষ্ঠী আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২ এর স্বীকারোক্তির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশপাশি জামায়াত-শিবিরেরও সংশ্লিষ্টতা খোঁজা হচ্ছে। তবে এ হত্যাকাণ্ডে জামায়াত-শিবির সরাসরি জড়িত কি’না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আটক নেতাকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের পর্যায়ে রাখা হয়েছে।

এছাড়া পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহ-বিরোধ এবং বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তদন্তে সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। ওই শিক্ষকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকেও তারা ক্লু উদ্ধারের চেষ্টা করছেন বলে জানান ওসি। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ওই ছাত্রীর বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।

তবে ওই শিক্ষকের বাসা থেকে ছাত্রী উদ্ধারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নগরীর মতিহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন। তিনি জানান, বিষয়টি নিছক ব্যক্তিগত। আর তাই এটি এখন তদন্তে আসছেনা। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই ছাত্রীকে নগর পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তার স্বজনরা আসলেই তাকে তাদের নিকট হন্তান্তর করা হবে বলে জানান ওসি। সূত্র : শীর্ষনিউজ

বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাইবে পাকিস্তান!

hamid mirএকাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় কৃতকর্মের জন্য বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাইবে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সাংবাদিক হামিদ মীর এ দাবি করেছেন। তার ভাষ্য মতে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পাকিস্তানের পার্লামেন্টে এ বিষয়ে বিল তোলা হবে। সরকারের একাধিক মন্ত্রী তাকে এমন কথা জানিয়েছেন।

সোমবার একাত্তর টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকারে হামিদ মীর বলেন, একাত্তরের কৃতকর্মের জন্য বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাইবে পাকিস্তান। এ বিষয়ে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে বিল তোলা হবে। পাকিস্তান মুসলিম লীগের  নেতৃত্বাধীন সরকারের একাধিক মন্ত্রী তাকে এমন কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী অনেক সদস্যও বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের চলমান বিচারের পক্ষে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও এ বিচারের পক্ষে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন।

পাকিস্তানের জিও নিউজের নির্বাহী সম্পাদক হামিদ মীর বরাবরই একাত্তরে পাকিস্তানের অবস্থানকে ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এ জন্য পাকিস্তানকে একাধিকবার বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে আবারো সরব হয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে যা ঘটছে তা কোনোভাবেই পাকিস্তান অবহেলা করতে পারে না। নিজামীর মতো জামায়াত নেতারা ১৯৭১ সালে কেবল পাকিস্তানের অখণ্ডতার জন্যই কাজ করেছেন। এর আগেও তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

নিসার আলীর মন্তব্যের বিষয়ে হামিদ মীরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (নিসার আলী) ব্যক্তিগত মন্তব্য, সরকারের কিংবা আনুষ্ঠানিক কোনো মত নয়।

হামিদ মীর দাবি করেন, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ও তথ্যমন্ত্রী পারভেজ রশিদ মানবতাবিরোধী বিচারের পক্ষে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজও বিচারের পক্ষে। -কালের কণ্ঠ

শাহজালালে ২৫০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার

sigareteহজরত শাহজালাল রহ. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবৈধভাবে আনা ২৫০ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। মঙ্গলবার সকালে পরিত্যাক্ত দু’টি ল্যাগেজে সিগারেটগুলো পাওয়া যায়।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক উম্মে নাহিদা আক্তার জানান, ল্যাগেজ দু’টি কাতার এয়ারওয়েজের কিউএফ৬৩৪ ফ্লাইটযোগে দোহা থেকে ঢাকায় আসে। কাস্টম হলের বেল্ট এরিয়ায় পরিত্যাক্ত অবস্থায় এগুলো পড়েছিল। পরে খুলে দেখা যায় কোরিয়ার ইজি স্পেশাল গোল্ড ব্র্যান্ডের ২৫৯ কার্টন সিগারেট।

উপাসনালয়ে হামলায় ৫ ইহুদি নিহত

jerujalemপশ্চিম জেরুজালেমের ইহুদি উপাসনালয়ে হামলায় পাঁচ ইহুদি নিহত হয়েছে। এসময় হামলাকারী দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়। মঙ্গলবার সকালে উপাসনালয়ে এ হামলা চালানো হয়।

হামলায় আরো দুই ইসরাইলি আহত হয়েছে বলে জানা গেছে

ইসরাইলি পুলিশ জানায়, “সকালে ছুরি ও কুঠার হাতে হার নফ সিনাগগে প্রবেশ করে হামলাকারীরা। পরে পুলিশ হামলাকারীদের গুলি করে।”

ইসরাইল পুলিশের মুখপাত্র মিকি রোসেনফিল্ড জানান, “হামলায় আক্রান্তরা সকালে প্রার্থনার জন্য সিনাগগে গিয়েছিলো।”

পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদের প্রবেশ নিয়ে বিরোধের জেরে গত কয়েক মাস ধরেই এলাকাটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।–বিবিসি, আল-জাজিরা।

চট্টগ্রামে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম বায়ুগ্যাস চুল্লি

gashhদেশের প্রথম বায়ুগ্যাস চুল্লি নির্মাণ হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। নগরীর বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে এর ঘাটতি কমাতে নতুন সংযোজন হবে এ চুল্লি।

চুল্লি নির্মাণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে মালয়েশিয়ার রিনিউঅ্যাবল এনার্জি সোর্সেস এসডিএন.বদ এবং বাংলাদেশের ওয়েল ট্রেইড। আর এ প্রকল্পকে বিনিয়োগ করা হবে ১৬ মিলিয়ন ডলার।

বায়ুগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বিদ্যুতের সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে। নগরীর বর্জ্যকে পক্রিয়াজাত করে সম্পদে পরিণত করা হবে এর মাধ্যমে।

সূত্র জানায়, কী পরিমাণ বর্জ্য পাওয়া যায় তার ওপরই চুল্লিটির উৎপাদন নির্ভর করবে। নতুন এই প্রকল্পের সফলতার পরই ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় এ চুল্লি চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।

ওয়েল গ্রুপ ইন্ডাস্ট্রিজ এর প্রধান নির্বাহী সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের নগরগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি খুবি খারাপ মানের। এ বিষয়ে আমরা নগর কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারি।”

তিনি বলেন, “আমরা এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে ছোট চুল্লির দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। ভবিষ্যতে বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে বড় বড় চুল্লি নির্মাণেরর পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।”

রিনিউঅ্যাবল এনার্জি সোর্সেস এসডিএন.বদ এর পরিচালক ফু চেয়ং সেং বলেন, “নগর কর্তৃপক্ষ বর্জ্য সংগ্রহ করার পর তা কাজে লাগিয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।”

বাণিজ্যিকভাবে পৌরসভা কঠিন ও গৃহস্থালীর বর্জ্য বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে।‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ’ প্রকল্পের আওতায় গত সোমবার বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া প্রতিষ্ঠান চুক্তি স্বাক্ষর করে। হোটেল রয়েল চোয়ানে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও ভিক্টর কোয়ান ওয়াই। অনুষ্ঠানে ফু চেয়ং সেং ও ওয়াসিম রেজা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: ইউএনবি।

সূচক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন চলছে

share bazar7সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার পুঁজিবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন চলছে। লেনদেনের প্রায় এক ঘণ্টার মাথায় বেড়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম।

ঢাকা স্টক একচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্র মতে, বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে ডিএসই ব্রড ইনডেঙ (এঙ) সূচক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৪৪ পয়েন্টে, ডিএসই এস (শরীয়াহ) সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৬৩ এবং ডিএসই৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৩৮ পয়েন্টে এসেছে।

এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হওয়া ২৩১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪৭টির, কমেছে ৪৪টির এবং অপরিবর্তিত থাকে ৪০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এ সময় মোট লেনদেন হয় ১৫২ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

অন্যদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এঙচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ মূল্য সূচক ২৯ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৩১৯ পয়েন্টে আসে। এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হওয়া ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৫টির, কমেছে ৪৩টির এবং  অপরিবর্তিত থাকে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এ সময়ে সিএসইতে মোট লেনদেন হয় ১১ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

সবচেয়ে বেশি দাস ভারতে, নবম বাংলাদেশ

dashবিশ্বে প্রায় তিন কোটি ৫৮ লাখ লোক দাস হিসেবে বাস করে। সবচেয়ে বেশি দাস বাস করে ভারতে। বাংলাদেশ রয়েছে নবম স্থানে। এছাড়া মরিতানিয়া, উজবেকিস্তান, কাতারেও বিপুলসংখ্যক দাস বাস করে।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশন’ এ তালিকা প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটির হিসেবে, গত বছর দাসের সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৯৮ লাখ। এবার তথ্য সংগ্রহ ব্যাপকতর হওয়ায় দাসের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে। বাধ্যতামূলকভাবে শ্রম, পতিতাবৃত্তি, ঋণের জালে আবদ্ধ থাকা লোকদের দাস হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এসব লোক স্বাধীনভাবে কোথায় যেতে পারে না, এমনকি বিয়ে পর্যন্ত করতে পারে না। তাদেরকে বিভিন্নভাবে শোষণ করা হয়। তাদের ওপর চালানো হয় নানা নির্যাতন।

গতবারের মতো এবারো দাসের সংখ্যার দিক থেকে ১৬৭টি দেশের মধ্যে ভারত শীর্ষে রয়েছে। দেশটির ১২৫ কোটি লোকের মধ্যে দাস রয়েছে এক কোটি ৪৩ লাখ।

ভারতের পর সবচেয়ে বেশি দাস রয়েছে চীনে। সেখানে দাসের সংখ্যা ৩২ লাখ। এর পর রয়েছে পাকিস্তান (২১ লাখ), উজবেকিস্তান (১২ লাখ), রাশিয়া (১০ লাখ ৫০ হাজার), নাইজেরিয়া (আট লাখ ৩৪ হাজার), কঙ্গো (সাত লাখ ৬২ হাজার), ইন্দোনেশিয়া (সাত লাখ ১৪ হাজার), বাংলাদেশ (ছয় লাখ ৮০ হাজার ৯০০), থাইল্যান্ড (চার লাখ ৭৫ হাজার ৩০০)।

জনসংখ্যা হারের দিক থেকে মৌরিতানিয়ায় সবচেয়ে বেশি দাস রয়েছে। দেশটির ৩৯ লাখ লোকের ৪ শতাংশই দাস। ভারতে দাস রয়েছে এক দশমিক ১৪ শতাংশ।