শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

জনপ্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে বিটিভি কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন এবং প্রযুক্তি ও জনগণের চাহিদা অনুযায়ী পরিচালিত করার জন্য জাতীয় এই টেলিভিশন চ্যানেল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘দর্শকদের আকৃষ্ট করার জন্য বিটিভিকে অবশ্যই জীবন-ঘনিষ্ঠ অনুষ্ঠান নির্মাণ করতে হবে। শুধুমাত্র সংবাদ জানানোর মধ্যেই এর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। জাতীয় টেলিভিশনকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে হবে যা জনগণের রুচি ও আচরণের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।’

প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠানের সপ্তাহব্যাপী সূবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার বিটিভিকে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তাই নতুন প্রযুক্তি ও জনগণের চাহিদা অনুযায়ী অনুষ্ঠান নির্মাণকালে বিষয়টি মনে রাখতে হবে।
দেশের প্রধান জাতীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিটিভি’র দায়িত্বশীলতা অপরাপর বেসরকারি চ্যানেলের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। বেসরকারি চ্যানেলগুলো তাদের ব্যবসাকে প্রাধান্য দেয়, অন্যদিকে বিটিভিকে জনগণের চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দিতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি অতীত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিটিভির অনুষ্ঠান নির্মাণে মেধাবী, সৃষ্টিশীল ও কর্মদক্ষ ব্যক্তিদের জন্য সুযোগ সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য সচিব মরতুজা আহমেদ।

প্রখ্যাত শিল্পী ও বিটিভির প্রথম সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌসি রহমান এবং বিটিভির প্রথম মহাপরিচালক জামিল চৌধুরী সম্মানিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- এশিয়া-প্যাসিফিক ব্রডকাস্টিং ইউনিয়নের মহাসচিব ড. জাভাদ মোতাগহি এবং বিটিভির মহাপরিচালক আবদুল মান্নান।

প্রধানমন্ত্রী বিটিভি সদর দপ্তরের নবনির্মিত ১২ তলা ভবন উদ্বোধন করেন এবং সূবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বেলুন এবং ডাকটিকেট অবমুক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে প্রখ্যাত শিল্পী ফেরদৌসি রহমান এবং বিটিভির সাবেক ডিজি জামিল চৌধুরীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিটিভি’র জন্মলগ্ন থেকেই এখানে যুক্ত হয়েছেন অনেক মেধাবি ও সৃজনশীল নির্মাতা, শিল্পী, নাট্যজন এবং কলাকুশলী। এক সময় বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং শিল্পাঙ্গনের প্রায় সকলেরই বিচরণক্ষেত্র ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন। তার প্রমাণ আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকমণ্ডলী।

শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন’। তার নির্দেশনায় আধুনিক প্রযুক্তি-সম্বলিত রামপুরার এই ভবনে বিটিভি স্থানান্তর হয় ১৯৭৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। ওই বছর মে মাসে রাষ্ট্রপতি হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সপরিবারে এই ভবন পদির্শন করেন।

তিনি বলেন, এই ভবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিটিভি’র চারজন অকুতোভয় কর্মকর্তার স্মৃতি। ১৯৭৫-এর ৭ নভেম্বর তথাকথিত বিপ্লব দিবসের নামে যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়, তেমনি এই ভবনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বিটিবি’র চার কর্মকর্তাকে।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের পঞ্চাশ বছর পূর্তির এই শুভক্ষণে আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার করে আমরা জাতিকে কলঙ্ক থেকে মুক্ত করবো, ইনশাআল্লাহ।

শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসক জিয়া শুধু স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার-আলবদরদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবেই প্রতিষ্ঠিত করেনি, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অদর্শকে মুছে ফেলার ঘৃণ্য পরিকল্পনা নিয়েছিল।

তিনি বলেন, জিয়াসহ ’৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসকেরা বিটিভিকে ব্যবহার করেছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির হাতিয়ার হিসেবে। জাতীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান বিটিভি-বেতারে জাতির পিতার নাম উচ্চারণ নিষিদ্ধ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী শ্লোগান জয়বাংলা নিষিদ্ধ করে। রাজাকার, আল-বদর, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ইত্যাদি শব্দগুলো উচ্চারণ করা যেতো না। স্বাধীন বাংলা বেতারের জাগরণী গানগুলো বিটিভি’তে নিষিদ্ধ ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় গিয়ে যুদ্ধাপরাধী, বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী নিজামী-মুজাহিদদের গাড়িতে লাখো শহীদের রক্তে রাঙা জাতীয় পতাকা তুলে দেয়। বিটিভি’কে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করায়।

তিনি বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আমরা এই মিথ্যাচার বন্ধের উদ্যোগ নেই। স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বিটিভি’কে তার জাতীয় দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিই।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং আদর্শ সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। আর এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের জাতীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার কারণে।
তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিভাহ রোধ, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ রক্ষা, সামাজিক-গণসচেতনতা সৃষ্টিসহ ও নানা উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে বিটিভি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এসব অনুষ্ঠান তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জঙ্গিবাদ নির্মূল এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে জনমত সৃষ্টিতেও বিটিভি’র ভূমিকা প্রশংসনীয়।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, একটা সময় ছিল বিটিভিই ছিল একমাত্র অডিও-ভিজ্যুয়াল সম্প্রচার মাধ্যম। ১৯৯৬ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আমরাই প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন সম্প্রচারের দুয়ার খুলে দিই। তিনি বলেন, গত ৬ বছরে আমরা ৩১টি বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছি। পাশাপাশি ২৪টি এফএম বেতার কেন্দ্র স্থাপনেরও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া, ৩২টি প্রতিষ্ঠানকে কম্যুনিটি রেডিও পরিচালনার অনুমতি দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা অবাধ তথ্যপ্রবাহে বিশ্বাস করি। অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি এবং নিচ্ছি। তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তথ্য কমিশন। জাতীয় সম্প্রচার আইন এবং জাতীয় সম্প্রচার কমিশন আইন প্রণয়নের জন্য সম্প্রতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বছরের ২৫ জানুয়ারি থেকে ‘সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন’ নামে একটি পৃথক চ্যানেল চালু করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ৩৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিটিভি সদর দফতর ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং ৫৪ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা টেলিভিশন কেন্দ্রের সম্প্রসারিত ভবনের স্টুডিও যন্ত্রপাতি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে, যা আমি আজ উদ্বোধন করলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রচারের সময় বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল টেলিস্ট্রিয়াল ও স্যাটেলাইট ট্রান্সমিশনসহ এই কেন্দ্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রে রূপান্তরের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। বিটিভি’র বার্তা বিভাগের জন্য নতুন ক্যামেরা, কম্পিউটার, এডিটিং প্যানেল, যানবাহন ও আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে সংগৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য ২টি বুলেটিন ইশারা ভাষায় উপস্থাপিত হচ্ছে।

তিনে বলেন, টেলিভিশনের পাশাপাশি আমরা চলচ্চিত্রের উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৩ এপ্রিলকে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শন কার্যক্রমকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করায় রেয়াতি শুল্কে মালামাল আমদানিসহ ঋণ বুবিধা এবং ছবি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কর অব্যাহতির সুবিধা পাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম সিটি এবং ৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বিএফডিসিকে আধুনিকায়ন এবং সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে বিএফডিসিতে ডিজিটাল প্রযুক্তি স্থাপনের কাজ শেষের পথে।

তিনি বলেন, গত বছর আমরা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট আইন প্রণয়ন করেছি। এই আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট। অস্থায়ীভাবে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট ভবনে গত ১ নভেম্বর হতে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর আমি প্রথম কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আর্থ-সামাজিক সূচকগুলোর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই তার বড় প্রমাণ। আমরা যেমন এগিয়ে যাচ্ছি, তেমনি আমাদের সামনে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ উপস্থিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠত করবো, ইনশাআল্লাহ। আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের মুখ হাসি ফোটাবো এটাই আমাদের লক্ষ্য।

শেখ হাসিনা বলেন, বিটিভিকে সক্ষমতা অর্জন করে আমাদের এই চলার পথকে মসৃণ করতে হবে। বিটিভি ভবিষ্যতে আরো আধুনিক গণমাধ্যম হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে জনগণের আকাঙ্খা পূরণে এগিয়ে যাক, এই প্রত্যাশা করছি।– বাসস

রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ল কোটি কোটি টাকা

ক্রিসমাস ইভে হংকংয়ের এক ব্যস্ত রাস্তা। হঠাৎই কিছুক্ষণের জন্য সবাই কেমন হ্যাংলা হয়ে গেল। মধ্য হংকংয়ের গ্লোসেসটার রোডে এক ব্যাঙ্কের গাড়ির পিছন থেকে পড়ে গেল টাকার বাক্স। বাক্স মাটিতে পড়তেই ধাক্কায় খুলে গেল, এরপর টাকা (হংকং ডলার) উড়তে থাকল হাওয়ায়, তারপর পড়ে থাকল মাটিতে। ব্যস, তারপরেই দেখে কে! সবাই গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় পড়ে থাকা কোটি কোটি টাকা কুড়াতে শুরু করলেন।image_111549_0

অনেক বারণ করলেন ব্যাঙ্কের সেই গাড়ির ড্রাইভার। কিন্তু কে শোনে কার কথা। সবাই একেবারে ব্যাগ ভর্তি করে টাকা কুড়াতে থাকলেন। এরপর এলো পুলিশ, একেবারে শটগান হাতে, হেলমেট পড়ে। পুলিশের হুঙ্কার শুনে সবাই আবার ভদ্র হয়ে ঢুকে পড়লেন গাড়িতে। কিন্তু ততক্ষণে লোপাট হয়ে গিয়েছে ১০ লক্ষ ২৫ হাজার হংকং ডলার। পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী রাস্তায় পড়েছিল প্রায় দেড় কোটি ২৩ লক্ষ হংকং ডলার। পুলিশ ঘোষণা করেছে যারা রাস্তায় পড়ে থাকা এই টাকা চুরি করেছেন, তারা যেন ফেরত দিয়ে দেন। তা না হলে চুরির দায়ে তাদের গ্রেফতার করা হবে। পুলিশের কাছে আছে সেই জায়গায় সিসিটিভি ফুটেজ।

কিন্তু কী করে ঘটল এমন বিপত্তি? জানা গেল ব্যাঙ্কের একটি শাখা থেকে হেড অফিসে টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়িটি রওনা দিয়েছিল। কিন্তু ড্রাইভার পিছনের দরজা বন্ধ করতে ভুলে যান। কিছুটা দূরে যাওয়ার পরেই পিছনের দরজা খুলে পড়ে যায় টাকার বাঙ্কারগুলি।– ওয়েবসাইট।

গির্জায়-গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা

আজ খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ও প্রধান ধর্মীয় উৎসব- বড়দিন। যিশুখ্রিস্টের প্রেম ও মানবিকতার বাণীতে প্রভাবিত হয়ে সব মানুষকে আপন করার দিন।image_111475_0

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা আর আনন্দঘন পরিবেশে দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে।

বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা আলাদা বাণীতে দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বর্ণিল আয়োজনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে বড়দিন উদযাপন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গার গির্জায় রাতেই অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ প্রার্থনা। শান্তিময় দেশ ও বিশ্বের জন্য প্রার্থনা করেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। দুই হাজারেরও বেশি বছর আগে এই দিনে জেরুজালেমের কাছে বেথলেহেমে মা মেরির গর্ভে জন্ম নেন যিশুখ্রিস্ট। দিনটি উপলক্ষে দেশের সব গির্জা রঙিন বাতি আর ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। বসানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি।

ঢাকার পাঁচতারকা হোটেলও সেজেছে বর্ণিল সাজে। এসব হোটেলে বড়দিনের আয়োজনে রয়েছে দেশী-বিদেশী খাবার, বিভিন্ন স্বাদের কেক। থাকবে শিশুদের জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন শো, জাদু প্রদর্শনী।

বড়দিনে বাংলাদেশে কতটা স্বচ্ছন্দ খ্রিষ্টানরা?

বিশ্বব্যাপী নানা দেশের মতো বাংলাদেশেও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা পালন করছেন বড়দিনের উৎসব। কিন্তু এদেশে ঈদ ও পূজা যতটা স্বাচ্ছন্দ্য ও আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হয়, সেই তুলনায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য বড়দিন পালন করা কতটা সহজ বা কঠিন?

ঢাকার বাসিন্দা জ্যানেট বাবলি হালদার বলেন, “বাংলাদেশে যেহেতু মুসলিমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং এখানে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা খুবই কম, তাই এদেশে বড়দিন পালন করাটা খুব একটা সহজ নয়।”image_111474_0

জ্যানেট বাবলি হালদার তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন রাজধানী ঢাকায় এবং গ্রামের বাড়ি বরিশালে উৎযাপন করে থাকেন।

তিনি বলেন, “বড়দিনের ছুটিতে কেক, পিঠা খেয়ে আর নতুন কাপড়চোপড় পড়ে সাধারণত: পরিবারের সাথেই সময় কাটান বাংলাদেশের খ্রিষ্টানরা।”

বিশেষ এই দিনটিতে সকালে গির্জায় জড়ো হয়ে প্রার্থনা করেন তারা।

মূলত গির্জাতেই একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করার বড় সুযোগটি হয় বাংলাদেশের খ্রিষ্টানদের। পশ্চিমা দেশগুলোতে ক্রিসমাস ডে বা বড়দিন পালনের জন্য বেশ আগেভাগেই শুরু হয়ে যায় নানা তোরজোড়।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন বাংলাদেশেও আগের তুলনায় বড়দিনের আমেজ বেড়েছে বলেই জানাচ্ছিলেন তিনি।

এমনকি শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকাতেই নয়, জ্যানেট বাবলি হালদার বলছিলেন, দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও এখন অনেক স্বাচ্ছন্দ্যেই বড়দিন পালন করতে পারছেন বাংলাদেশের খ্রিষ্টানরা। সূত্র: বিবিসি

ট্যুইটারের রাজা-রানি

মাঠের থেকে মাঠের বাইরেই খবরেই থাকেন বেশি। ইদানীং, মারিও বালোতেলি অবশ্য বিতর্ক ছড়ানোর নতুন একটা জায়গা পেয়ে গিয়েছেন, ট্যুইটার।image_111470_0

সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে বেশ সক্রিয় বালোতেলি, আর সেখানে কম হ্যাপা বাধাননি। এই ইতালিয়ান স্ট্রাইকারকে এই বছরের ট্যুইটারের রাজা নির্বাচিত করেছে। এই বছরেই তো অন্তত দুবার বড় ধরনের তর্ক বাঁধিয়েছেন। লেস্টার সিটির কাছে হারের পর ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডকে খোঁচা মেরে একটা ট্যুইট করেছিলেন, সেটা ‘রিট্যুইট’ হয়েছে দু’লক্ষ বার। আর ক’দিন আগে একটা ছবি পোস্ট করে অভিযুক্ত হয়েছেন বর্ণবিদ্বেষের জন্য। জরিমানার পাশাপাশি পেতে হয়েছে এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞাও।

অন্যদিকে, টেনিস সুন্দরী ক্যারোলিন ওজনিয়াকি হয়েছেন ট্যুইটারের রানি।- ওয়েবসাইট

বিনায়ক সেনের আহ্বানে সাড়া দিবে কি জামায়াত?

এ আহ্বান অভিনব নয়। তবে চমকপ্রদ। অর্থনীতিবিদ বিনায়ক সেন। রাজনীতি-সাহিত্য আর সমাজ নিয়েও নানা সময়ে লিখেছেন। শনিবার এক আলোচনায় তিনি জামায়াতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধীদের পরিত্যাগ করার জন্য।image_111469_0

সারা দুনিয়াতে এটা অবশ্য অনেকটা নিয়মই। কোনো রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হলে দলীয় পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি। অন্তত তদন্তের সময় দায়িত্ব থেকে বিরত থাকেন। বাংলাদেশে অবশ্য এর বালাই নেই। এখানে রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তিনি সদম্ভে ঘোষণা করেন ‘আমি নিষ্পাপ’।

জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলন বিপুল সাড়া জাগিয়েছিল। যদিও শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুর পর ওই আন্দোলন অনেকটাই মিইয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ফখরুদ্দীন-মইনের জরুরি   জমানায় সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে।

তবে জামায়াতের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ২০০১ সালের অক্টোবরে জামায়াতের অভ্যন্তরে একটি বিষয়ে ব্যাপক মতবিরোধ তৈরি হয়। ওই সময় প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় অংশীদারিত্বের সুযোগ আসে জামায়াতের সামনে। চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় জামায়াত থেকে দুই জন মন্ত্রী নিয়োগের অফার আসে। তবে জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মন্ত্রিসভায় যোগদানের বিরুদ্ধে সে সময় দলের একটি অংশ সোচ্চার হয়। তারা দলের প্রধান দুই নেতার পরিবর্তে অন্যদের মন্ত্রিসভায় যোগদানের পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের যুক্তি ছিল, দলের শীর্ষ দুই নেতা মন্ত্রিসভায় যোগ দিলে দলীয় কার্যক্রম ব্যাহত হবে। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। চারদলীয় জোট সরকারের পুরোটা সময়ই তারা মন্ত্রিসভায় ছিলেন। এ সময় অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। যদিও তাদেরকে মন্ত্রী করায় বিএনপিকেও এখনও সমালোচনা শুনতে হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করেন, নিজামী-মুজাহিদের পরিবর্তে দলের তরুণদের মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়ার সুযোগ দিলে এ সমালোচনার সুযোগ থাকতো না। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পর অন্যান্য দল বিপাকে পড়লেও জামায়াতকে সে সময় তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়নি। তবে এক পর্যায়ে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে।

এরই পটভূমিতে আওয়ামী লীগ দলের নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচারের অঙ্গীকার করে। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলটি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। আলোচনা রয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শেষ মুহূর্তে ওই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জামায়াত বিশেষ করে আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে জামায়াতের অভ্যন্তরেও ব্যাপক আলোচনা হয়। এক পর্যায়ে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় সব নেতাই গ্রেপ্তার হয়ে যান। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে গত বছর ডিসেম্বরে। দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। শীর্ষ অন্য নেতারাও ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। দল হিসেবে জামায়াতকেও বিচারের মুখোমুখি করার আয়োজন চলছে। এ অবস্থায় নতুন নামে দল গঠন ও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের বাদ দেয়া নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে জামায়াতের অভ্যন্তরে কখনও কখনও আলোচনা হয়েছে। তবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি। যদিও গত পাঁচ বছরে যারা জামায়াতের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের প্রায় সবাই বয়সে তরুণ। তারা একসময় ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। বয়সের কারণেই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের কোনো অভিযোগ নেই। তবে একেবারে আনুষ্ঠানিকভাবে সহসা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন দলটির একজন তরুণ নেতা।

তিনি বলেন, শীর্ষ নেতাদের রক্ষার জন্য জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বিপুল আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন। কয়েক শ’ নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, কারাভোগ করেছেন হাজার হাজার সমর্থক। নির্যাতনে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে কয়েক শ’ নেতাকর্মীকে। এ অবস্থায় জামায়াতের শীর্ষ নেতারা দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছে বিরাট আবেগের ব্যাপার। ক্যাডার ভিত্তিক সংগঠনটির কর্মী-সমর্থকদের বিপুল চাপের কারণে চাইলেও জামায়াতের পক্ষে শিগগিরই শীর্ষ নেতাদের পরিত্যাগ করা সম্ভব হবে না। তবে তিন-চার বছরের মধ্যে যে নামেই হোক নতুন নেতৃত্বেই পরিচালিত হবে জামায়াত। অন্য কোনো অভিযোগ থাকলেও ওই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকবে না। – মানবজমিন

৫০ বছর পেরিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন

বাংলা ভাষায় একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন’। প্রতিষ্ঠানটি সমপ্রচারের ৫০ বছর অতিক্রম করলো আজ। এ উপলক্ষে আজ থেকে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা।image_111468_0

রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন চত্বরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ অতিথি থাকবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ।

বিটিভির উপমহাপরিচালক (অনুষ্ঠান) বাহার উদ্দিন খেলন জানান, আজ বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হবে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিটিভির নবনির্মিত ১২ তলা ভবন উদ্বোধন করবেন এবং বিটিভির সুবর্ণজয়ন্তী স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করবেন। সুবর্ণজয়ন্তী সংগীতের পর স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বিটিভির মহাপরিচালক আবদুল মান্নান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন বিটিভির প্রথম মহাপরিচালক জামিল চৌধুরী এবং বিটিভির প্রথম কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌসী রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর দেখানো হবে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র ‘ডিআইটি থেকে রামপুরা’। সবশেষে অনুষ্ঠিত হবে দেশের স্বনামধন্য শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিটিভির উদ্যোগে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের তৃণমূল শিল্পীদের নিয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতার শিল্পীদের নিয়ে থাকবে বিশেষ পরিবেশনা। এসব শিল্পী রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করবেন দেশবরেণ্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার সঙ্গে। অন্যদিকে নজরুলসংগীতে নেতৃত্ব দেবেন বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী সুজিত মোস্তফা। বিটিভির এ ভিন্ন আয়োজন এবারই প্রথম বলে জানালেন উপমহাপরিচালক অনুষ্ঠান।

তিনি বলেন, বিটিভির সমপ্রচারের ৫০ বছর পূর্তিতে এবারই এমন একটি ভিন্নধর্মী পরিবেশনা থাকছে। এছাড়া আরও ভিন্নভাবে আয়োজন থাকছে সাত দিনব্যাপী নানারকম অনুষ্ঠান সমপ্রচারের মাধ্যমে। এ অনুষ্ঠানগুলো হলো- সাত দিন সাতটি বিশেষ নাটক, যেগুলোয় দেশের বিখ্যাত অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতি থাকবে। এছাড়া সাত জন বরেণ্য সংগীতশিল্পীর পরিবেশনায় সাত দিনের সংগীতানুষ্ঠান, বিশেষ ব্যক্তিত্বদের নিয়ে সাত দিন আড্ডার অনুষ্ঠান, সংবাদকর্মীদের নিয়ে বিশেষ আড্ডার অনুষ্ঠান,  ক্যামেরা ও মঞ্চের পেছনের কলাকুশলীদের নিয়েও থাকবে বিশেষ অনুষ্ঠান। পাশাপাশি ব্যান্ডশো, নৃত্যানুষ্ঠানসহ থাকছে সাত দিনব্যাপী নানা আয়োজন।

উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে পাকিস্তান টেলিভিশন করপোরেশন নামে যাত্রা শুরু আজকের বাংলাদেশ টেলিভিশনের। এক সময়কার ডিআইটি বর্তমানের রাজউক ভবন থেকে এর সমপ্রচার হতো চার ঘণ্টার জন্য। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর এর নামকরণ হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন। ১৯৮০ সালে বিটিভি রঙিন যুগে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন কেন্দ্র ২টি। একটি ঢাকার রামপুরায়, অন্যটি চট্টগ্রামে। রামপুরা টেলিভিশন কেন্দ্রটি স্থাপিত হয় ১৯৭৫ সালে। ২০০৪ সালে বিশ্বব্যাপী সমপ্রচারের জন্য বিটিভি ওয়ার্ল্ড নামে উপগ্রহভিত্তিক একটি চ্যানেল স্থাপন করা হয় এবং সর্বশেষ সংযোজন হচ্ছে সংসদ টেলিভিশন। ১৯৬৪ থেকে ২০১৪ দীর্ঘযাত্রা বিটিভির। একটি দু’টি বছর করে বিটিভি পাড়ি দিয়েছে ৫০টি বছর। আর সেজন্যই উদযাপিত হতে যাচ্ছে বিটিভির সুবর্ণজয়ন্তী।

আজ বড়দিন

আজ ২৫ ডিসেম্বর। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ‘বড়দিন’ আজ। বড়দিন উপলক্ষে ঢাকার গির্জা ও বড় বড় হোটেল সেজেছে নতুন সাজে। নগরের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে উৎসবের আমেজ।image_111466_0

বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাবেন একে অপরকে, তাই নগরের কার্ডের দোকানগুলোয় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানাতে আজকের এই দিনে ফুলের সঙ্গে উপহার দিতে পারেন একটি কার্ড। বড়দিনের জন্য কেকের ফরমায়েশ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কেকের দোকানগুলো।

আবার খ্রিষ্টান পরিবারগুলোর ঘরেও তৈরি করা হয়েছে হরেক রকম পিঠা। আবার অনেকে দিনটি পালন করতে চান সবার সঙ্গে। তাদের জন্য পাঁচতারকা মানের হোটেলগুলো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে দিন কয়েক আগেই। প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল,  র্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেন, দ্য ওয়েস্টিন হোটেলসহ আরও কয়েকটি হোটেল সাজানো হয়েছে নবসাজে। হোটেলগুলোতে আপনাকে স্বাগত জানাবে দৃষ্টিনন্দন ক্রিসমাস ট্রি। সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আলোয় আলোয় সেজে উঠবে হোটেলগুলো। আর সেই সঙ্গে জ্বলে উঠবে নানা ঢঙের এসব ক্রিসমাস ট্রি। খাবার-দাবার, আনন্দ আয়োজন আর ফ্যাশন শোর নানা আয়োজন হবে এসব হোটেলে। শিশুদের হাতে উপহার তুলে দিতে হাজির হবেন সান্তাক্লজ স্বয়ং নিজে। হোটেলগুলোর পাশাপাশি খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের পদচারণে মুখর থাকবে ঢাকার গির্জাগুলো। বড়দিন উপলক্ষে সারা দিন ধরে গির্জাগুলোতে চলবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। আর যারা ঝামেলা এড়াতে বাইরে বেরোতে চান না, তারা চোখ রাখতে পারেন টেলিভিশনের পর্দায়। বড়দিন উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠান প্রচার করবে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। এ বছর বড়দিন সবার জন্য বয়ে নিয়ে আসুক শুভ বার্তা। সবার নতুন বছর শুভ হোক। শুভ বড়দিন।

পিটারসনের পরিবর্তে ইমরান তাহির

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বক্সিং ডে টেস্টে খেলতে পারছেন না দক্ষিণ আফ্রিকার বাঁ-হাতি স্পিনার রবিন পিটারসন। তার পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েছেন লেগ স্পিনার ইমরান তাহিরকে।image_111448_0

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার দলের ফিল্ডিং অনুশীলনকালে বাম হাতের ইনজুরিতে পড়ে পিটারসন পুরো সিরিজ থেকেই নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

পিটারসনের বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল কেটে গেছে এবং তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ী সেঞ্চুরিয়নের প্রথম টেস্টেও খেলতে পারেননি প্রোটিয়া এ তারকা খেলোয়াড়।

পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করা তাহির ২০১১ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলার সুযোগ পান। তবে এ বছর জুলাই মাসে শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলার পর আর দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি।

তারপর থেকেই তার পরিবর্তে অফ স্পিনার ডেন পিত অথবা পিটারসন দলে সুযোগ পেয়ে আসছেন।

টেস্ট ক্যারিয়ারে ৪০ উইকেট শিকারী তাহির পোর্ট এলিজাবেথের মন্থর গতির উইকেটে সফল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: ওয়েবসাইট

রোনাল্ডোই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়: পেরেজ

রিয়াল মাদ্রিদের তারকা উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোকেই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ক্লাবটির সভাপতি ফ্লোরেনটিনো পেরেজ।
এবারের মৌসুমে ১৪টি লা লিগা ম্যাচে এখন পর্যন্ত পর্তুগীজ এই অধিনায়ক ২৫ গোল করেছেন। তার কল্যাণে বর্তমানে চির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা এবং image_111443_0বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে পেছনে ফেলে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে গ্যালাকটিকোরা। তার উপর রোববার প্রথমবারের মতো ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে রিয়াল আবারো প্রমাণ করেছে কেন তারা বিশ্ব সেরা, এমনটাই দাবি ক্লাব সভাপতির। এই শিরোপার পরপরই পেরেজ বিশ্বাস করেন এবারো ফিফা বিশ্ব সেরা পুরস্কার ব্যালন ডি অর রোনাল্ডোই জিতে নিবে, এক্ষেত্রে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীই থাকা উচিত নয়।

পানামা সিটি সফরে গিয়ে পেরেজ বলেছেন, অবশ্যই এই মুহূর্তে সে বিশ্বের সবচেয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ খেলোয়াড়। নি:সন্দেহে সেই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।

নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে গতবারের লা লিগা শিরোপা হারানোর পরে মাদ্রিদ চারটি শিরোপা জয় করে। যেভাবে প্রতিদিনই খেলোয়াড়রা রিয়ালকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাতে দারুণ সন্তুষ্ট ৬৭ বছর বয়সী ক্লাব সভাপতি।

তিনি বলেন, তাদের ইচ্ছা শুধুমাত্র ম্যাচ জয় নয়, আমাদের ট্রফি কেবিনেটে আরেকটি শিরোপা এনে রাখাও তাদের উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদ ক্রমেই কিংবদন্তি ক্লাবে পরিণত হচ্ছে। সূত্র: ওয়েবসাইট