শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অফিসিয়াল ফুটবল পার্টনার পেল বাফুফে

হামজা দলে যোগ দেওয়ার পর বাফুফে পেয়েছে কিট স্পন্সর। এবার নতুন করে জাপানের এক ফুটবল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাফুফে। ফুটবল প্রস্তুতকারী জাপানি প্রতিষ্ঠান মল্টেন কর্পোরেশনের সাথে ৩ বছরের চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত অফিসিয়াল ফুটবল পার্টনার পেল বাফুফে। তিন বছরের চুক্তিতে ২ হাজার ফুটবল কিনে নেবে ফুটবল ফেডারেশন। অতিরিক্ত দুই হাজার ফুটবল বিনামূল্যে দেবে মলটেন।

সোমবার (১৯ মে) বিকালে বাফুফে ভবনের তৃতীয় তলার কনফারেন্স রুমে মল্টেন কর্পোরেশনের সাথে ফেডারেশনের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সহ-সভাপতি মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী, মো. ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী (হ্যাপী) ও ফাহাদ করিম। মল্টেন কর্পোরেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির এশিয়ান গ্রুপ লিডার তাকাশি ওজাকি।

গত বছরের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বদলে যাচ্ছে দেশের সবকিছু। তারই ধারাবাহিকতায় বদলের হাওয়া লেগেছে ক্রীড়াঙ্গনেও। বাফুফের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তাবিথ আউয়াল, কাজী সালাউদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে একের পর এক চমক দিয়েই যাচ্ছেন নতুন এই সভাপতি। এই কয়েক দিনের ব্যবধানেই তিনি দলে ভিড়িয়েছেন দেশের বাইরে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন খেলোয়াড়কে।

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল লিগ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, সেই লিগে খেলা হামজা চৌধুরীকে দলে ভিড়িয়েছে বাংলাদেশ। গত মার্চে ভারতের বিপক্ষে লাল-সবুজের জার্সিতে তার অভিষেকও হয়ে গেছে। সে ম্যাচে হয়তো ইতালির লিগে খেলা ফাহমিদুলেরও অভিষেক হয়ে যেতো পারতো।

বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে নতুন অর্থনৈতিক জোন তৈরির ভিশন এনসিপির

সোমবার (১৯ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দলের ভিশন এবং রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিয়ে বিস্তারিত এক পোস্ট করেছেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদার আদর্শ এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই এনসিপির পথচলা। এছাড়াও আমরা বাংলার হিন্দু-মুসলমান-দলিতের উপনিবেশবিরোধী ও ব্রাহ্মণ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতাকে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করি।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এনসিপি নাগরিকের ধর্মবিশ্বাস ও আত্মিক অনুভবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্ম ইসলাম-তার নৈতিকতা ও মানবিকতা এবং বাঙালি মুসলমানের ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনচর্চাকে এনসিপি মূল্যায়ন করে। সংখ্যালঘু ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এনসিপি।’

তিনি বলেন, ‘এনসিপি মনে করে রাষ্ট্রের উচিত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অখণ্ডতা রক্ষা করা। এনসিপি ইসলামবিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা করে এবং ধর্মীয় উগ্রতা বা চরমপন্থাকে সমর্থন করে না। এনসিপি সেকুলারিস্ট বা ধর্মতান্ত্রিক (Theocratic)—কোনো মতবাদকেই আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করে না। বরং ধর্মীয় সহাবস্থান, সম্প্রীতি ও দায়-দরদ অনুশীলনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়াই এনসিপির লক্ষ্য।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এনসিপি জাতি, ধর্ম বা গোত্রভিত্তিক পরিচয়ের পরিবর্তে সভ্যতাগত জাতীয় পরিচয় ধারণ করে। বহু ভাষা ও সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র বঙ্গীয় বদ্বীপের সভ্যতাগত পরিচয়কে ধারণ করে জাতীয় সংস্কৃতি গড়ে তুলবে এনসিপি।’

তিনি বলেন, ‘নারীর মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন এনসিপির অন্যতম মূলনীতি। নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, নেতৃত্ব ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতে এনসিপি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পারিবারিক আইনের আওতায় সম্পত্তিতে নারীর ন্যায্য অধিকার আদায়ে এনসিপি কাজ করবে।’

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদ বাংলাদেশের জন্য একটি সাংস্কৃতিক ও ভূরাজনৈতিক হুমকি উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এনসিপি এই আধিপত্যবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করবে। এনসিপি মনে করে বাংলাদেশের উচিত ন্যায্যতা, মর্যাদা, সভ্যতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে অন্য রাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক বৃদ্ধি করা।’

তিনি বলেন, ‘এনসিপি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে যা একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের অনুরূপ হবে। শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, জলবায়ু, নগর ব্যবস্থাপনা, শ্রম অধিকার ও কর্মসংস্থান হবে এনসিপির প্রধান নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্র। বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে একটি নতুন অর্থনৈতিক জোন তৈরির ভিশন আছে এনসিপির।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এনসিপি বিশ্বাস করে, একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন, প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং নতুন সংবিধান প্রণয়ন জরুরি। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করা এনসিপির প্রধানতম রাজনৈতিক কর্তব্য। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের জন্য প্রথম ধাপটি হচ্ছে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার ও নতুন সংবিধান প্রণয়ন।

৩৪তম বিসিএস পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি

সোমবার (১৯ মে) সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩৪ বিসিএস (পুলিশ) অফিসারদের এক সভা বাংলাদেশ অফিসার্স ক্লাব লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ৩৪তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কমিটি সংক্রান্ত আলোচনা হয়। আগের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তা বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে সবাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ঐক্যমতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটিতে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সুফিয়ান।

এদিকে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খলিলুর রহমান, সহ-সভাপতি হয়েছেন ডিবির এডিসি মো. সুমন মিয়া, পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সুফিয়ান ও বিএম শাহরিয়ার আব্দুল্লাহ বিন ফরিদ, ডিএমপির এডিসি মো. সুমন রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মনির।

সিনিয়র যুগ্ন-সম্পাদক হয়েছেন ডিএমপির এডিসি মহসীন আল মুরাদ, যুগ্ন-সম্পাদক হয়েছেন পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন হোসাইন, ডিএমপির এডিসি মো. নাজমুল হাসান ও এডিসি জুয়েল ইমরান, পুলিশ স্টাফ কলেজ কলেজের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফা আশরাফ পিংকী। সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ডিএমপির এডিসি কাজী আবু সাইদ। তাছাড়া সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন ডিএমপির এডিসি মো. মাহমুদুল হাসান চৌধুরী এবং দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ডিএমপির এডিসি মো. আমিনুল ইসলাম তরফদার।

সংগঠনের নবনিযুক্ত সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নতুন এই কমিটি জুলাই স্পিরিটকে ধারণ করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিতে কাজ করবে।’ আর সিনিয়র সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো একটা ন্যায়ানুগ সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন।’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা বলেন, ‘দেশে পুলিশকে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানানোই আমাদের লক্ষ্য।’

সিনিয়র যুগ্ন-সম্পাদক মহসীন আল মুরাদ বলেন, ‘গণঅভ্যূত্থানের মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ গঠনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে তা বাস্তবায়নে বর্তমান কমিটি সচেষ্ট থাকবে।’

সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আবু সাইদ বলেন, ‘জনকল্যাণে আত্মনিয়োগের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যের সার্বিক কল্যাণেও কাজ করবে এই কমিটি।’

এবার হজে গিয়ে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু

চলতি বছর হজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত আট বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৯ মে) হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হজ অফিসের সবশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সৌদি আরবে হজ পালন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৮ জন হজযাত্রী। তাদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ ও ১ জন নারী। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৩ জন মক্কায় এবং ৫ জন মদিনায় ইন্তেকাল করেছেন।
রাজবাড়ী পাংশার মো. খলিলুর রহমান (৭০), কিশোরগঞ্জ বাজিতপুরের ফরিদুজ্জামান (৫৭), পঞ্চগড় সদরের নারী হজযাত্রী আল হামিদা বানু (৫৪), ঢাকা মোহাম্মদপুরের মো. শাহজাহান কবীর (৬০) ও জামালপুর বকশিগঞ্জের হাফেজ উদ্দিন (৭৩), নীলফামারী সদরের মো. বয়েজউদ্দীন (৭২), চট্টগ্রাম সন্দ্বীপের মো: অহিদুর রহমান (৭২) ও গাজীপুর সদরের মো. জয়নাল হোসেন (৬১) স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। । (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে বাংলাদেশ থেকে সোমবার (১৯ মে) পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৯০৪ যাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪,৫৮৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪৫,৩২১ জন।

হজযাত্রী পরিবহনে এ পর্যন্ত ১২৬টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৬৩টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪৩টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২০টি। বিমানে যাত্রী পরিবহনের দিক থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২৪,৬৯৮ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ১৬,৯৪৩ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৮,২৬৩ জন হজযাত্রীকে সৌদি আরবে পৌঁছে দিয়েছে।

হজযাত্রীদের চিকিৎসা সেবায় সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনের উদ্যোগে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো থেকে এ পর্যন্ত ১৫,২৮১টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে এবং আইটি হেল্পডেস্ক থেকে ৯,৯২০টি সেবা দেওয়া হয়েছে। এ বছর সর্বমোট ৮৬,৭৭৮টি হজ ভিসা ইস্যু হয়েছে, যার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমেই ভিসা ইস্যুর হার শতভাগ।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৫ সালের হজ অনুষ্ঠিত হবে ৫ জুন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৭০টি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর কোটা ৫,২০০ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮১,৯০০ জন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট ছেড়েছে ২৯ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট যাবে ৩১ মে। ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ১০ জুন এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১০ জুলাই দেশে পৌঁছাবে।

কক্সবাজারে কোস্টগার্ড-মাদক কারবারিদের গোলাগুলি, যুবক গুলিবিদ্ধ

সোমবার (১৯ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের তুলাতুলী ও মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন এলাকায় কোস্টগার্ডের অভিযানের সময় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলিসহ তিন মাদক পাচারকারিকে।

আটকরা হলেন: উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দার মো. ইলিয়াস (৩০), নুর মোহাম্মদ (৬১) ও গুলিবিদ্ধ আব্দুল শক্কুর (৪০)। এতে গুলিবিদ্ধ শুক্কুরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ।

তিনি বলেন, ‘সাগরপথে মিয়ানমার থেকে মাদকের একটি বড় চালান উপকূলীয় এলাকা দিয়ে প্রবেশ করছে-এমন সংবাদ পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে সোমবার ভোরে শাহপরীর দ্বীপ কোস্টগার্ডের একটি বিশেষ দল টেকনাফ সদর ইউনিয়নের তুলাতলী নৌঘাটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

সাগরে ৫৮ দিনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছে। এরমধ্যে একটি নৌকাকে দেখতে পান কোস্টগার্ড সদস্যরা। ওই ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাটিকে সন্দেহজনক মনে হলে থামার সংকেত দেয়া হয়। এ সময় পাচারকারীরা কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকার গতি বাড়িয়ে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কোস্টগার্ড সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে আব্দুল শক্কুর (৪০) নামে এক পাচারকারী গুলিবিদ্ধ হন।

কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘণ্টাব্যাপী নৌকাটিকে ধাওয়া করে জব্দ করতে সক্ষম হয়। এ সময় চার মাদকপাচারকারী সাগরে লাফ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। গুলিবিদ্ধ ইয়াবা পাচারকারীকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে টেকনাফ এরপর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বোটটিতে তল্লাশি করে একটি ৯ এম এম বিদেশি পিস্তল, ৪ রাউন্ড তাজাগুলি এবং ৩০ হাজার ইয়াবাসহ তিনজন মাদক পাচারকারীকে আটক করা হয়। জব্দ করা সব আলামতসহ আটক ইয়াবা পাচারকারীদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রিয়াদ সাঈদ চৌধুরী বলেন, ‘সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা পিঠে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আব্দুস শুক্কুর নামে এক যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ২৪ ঘণ্টা টহল জারি রেখেছে; যার মাধ্যমে কোস্ট গার্ডের আওতাধীন উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক পাচার রোধ অনেকাংশে উন্নত হয়েছে। মাদক পাচার রোধকল্পে ভবিষ্যতেও কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

৩ জুনের মধ্যে গার্মেন্টস কর্মীদের বোনাস দিতে হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সোমবার (১৯ মে) মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রতি বছরের মতো ঈদের আগে আমরা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা করলাম। এখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সেক্টরের অনেকেই ছিলেন। আপনারা জানেন যে আমাদের গরুর হাটগুলো শৃঙ্খলার মধ্যে থাকে না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যেসব গরু বহনকারী গাড়ি আসবে সেসবের সামনে সুনির্দিষ্ট হাটের তথ্য থাকতে হবে। তারা যেখানে-সেখানে গরু নামাতে পারবে না। নামালে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাস্তায় গরু না নামিয়ে নির্ধারিত স্থানে নামাতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি হাটেই আনসার রাখতে হবে। কিছু হাটে ৭৫ জন করে আবার কিছু হাটে কম-বেশি হতে পারে। নিরাপত্তার পাশাপাশি গরুর হাটে চিকিৎসক থাকতে হবে। কোনোভাবেই যেন অসুস্থ গরু বিক্রি না হয়। অনেক সময় গরুর আঘাতে মানুষ আহত হয়, এজন্য ফার্স্ট এইডেরও ব্যবস্থা রাখতে হবে।

গরুর হাটের হাসিলের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ বছর শতকরা ৫ টাকা হাসিল নিলেও আগামী বছর ১০০ টাকায় ৪ টাকা নিতে হবে। টেন্ডার হয়ে যাওয়ায় এ বছরই এটা করতে পারলাম না। এ নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি।

আর ঈদের ৫ দিন আগে থেকে বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে। ঈদের পর তিন দিন চলাচল বন্ধ থাকবে। এটা কোনো অবস্থায় রাতে চলতে পারবে না।

চলমান অনেকগুলো আন্দোলনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দাবি-দাওয়া তো থাকবেই। এজন্যই তো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দাবি-দাওয়া থাকবে, পূরণও হবে।

তিনি যৌক্তিক দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, কেউ যেন অযৌক্তিক দাবি না করে। আর আমি সবার কাছে অনুরোধ করবো, দাবির আন্দোলন যাতে নিজস্ব কমপ্লেক্সের মধ্যে হয়। রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সাধারণ জনগণের ভোগান্তি যেন না হয়।

নদীর যে ক্ষতি হয়েছে, তা এক-দেড় বছরে সমাধান সম্ভব না: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

সোমবার (১৯ মে) দুপুরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার আটঘরিয়া এলাকায় বড়াল-১ ভেল্ড রেগুলেটর ও বড়াল নদী পরিদর্শন শেষে উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘গত ৫৪ বছর ধরে নদীকে যেভাবে দখল, পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ না করা, অবকাঠামো দিয়ে এবং এক ধরনের জেদ করে; যে আমি যা বলেছি সেটাই সঠিক আর কারো কথা সঠিক নয়, এগুলো করে আমরা নদীর ক্ষতি করেছি। এ ক্ষতিটা এক-দেড় বছরে সরকারের পক্ষে পুরো সমাধান করা সম্ভব না।’

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, ‘তবে সমস্যার সমাধানে রুপরেখা করে যাওয়া সম্ভব। যা ইতিমধ্যেই আমরা শুরু করেছি; যার অংশ হিসাবে প্রতিটা বিভাগে আমরা একটি করে নদী নিয়েছি। আসলে প্রতিটি জেলায় একটি করে নদী দখলমুক্ত দূষণমুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছি। সেগুলোর কাজ করে যাওয়ার সময় আমরা পাব না। ফলে প্রতিটি বিভাগে একটি করে নদী, কক্সবাজারে একটি ও ঢাকায় আলাদা ৪টি নদীর পরিকল্পনা করে বাজেট এনে কাজ শুরু করে দেয়ার চেষ্টা করছি।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন: প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মোবাশশেরুল ইসলাম, নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন।

বিশ্বরেকর্ড গড়ে এভারেস্ট জয় বাংলাদেশি শাকিলের

‘সি টু সামিট’ শীর্ষক এবারের অভিযানে তিনি দ্রুততম সময়ে সমুদ্র থেকে পায়ে হেঁটে ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই শিখর আরোহণ করেন।

জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের ইনানি সমুদ্র সৈকত থেকে শুরু হয় শাকিলের পদযাত্রা। ৯০ দিনের মধ্যে ‘সি টু সামিট’ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে অভিযান শুরু করেন তিনি। যাত্রাপথে বাংলাদেশ, ভারত এবং নেপালের প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে এভারেস্টের ২৯ হাজার ৩১ ফুট উঁচু শিখরে আরোহণ করলেন শাকিল।

বাংলাদেশের স্বপ্নবাজ এ তরুণের আগে ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলিয়ার পর্বতারোহী টিম ম্যাকার্টনি-স্নেপ ভারতের গঙ্গাসাগর থেকে ৯৬ দিনে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পদচিহ্ন রাখেন।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় তারেক রহমানের

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে স্থানীয় সময় রোববার (মে ১৮) আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৪-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তারের রহমান এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে দেশ গঠনে ঐক্য, গণতন্ত্রের বিকাশ, এবং উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে দেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এছাড়া ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দাবি করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক, দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলম।

নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে নিশ্চয়ই ষড়যন্ত্র হচ্ছ: নজরুল ইসলাম

সোমবার (১৯ মে) প্রেসক্লাবে ১২ দলীয় জোটের এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে এমন অপপ্রচারের চেষ্টা করছে অনেকে। তবে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কখনও আপোষ নয় এবং কেউ আপোষ করতে গেলেও তা রুখে দেয়া হবে।’

নির্বাচন ও তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের দাবিতে ১২ দলীয় জোটের আলোচনা সভায় যোগ দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

এ সময়, রাজনৈতিক দলগুলো যে বিষয়গুলোতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে তার ভিত্তিতে সনদ তৈরি করে দ্রুত ভোটের আয়োজন করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়াও, নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে করতে কোনো বাধা না থাকলে বিলম্ব করে জোট তৈরির জন্য সময় নেয়া হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নও নজরুল ইসলাম খানের।

এদিকে প্রেসক্লাবে আলাদা অনুষ্ঠানে করিডর প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘রাখাইনের মানবিক করিডর ইস্যু একটা আন্তর্জাতিক চক্রান্ত। যার সিদ্ধান্ত নেবে শুধুমাত্র পার্লামেন্ট।’

নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে নিশ্চয়ই কোনো ষড়যন্ত্র করা হচ্ছ এবং নতুন কাউকে সুযোগ দিয়ে সংগঠিত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি বলেও দাবি করেন দলটির নেতারা।