শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

ওয়ামিকার যে কথায় চুপ হয়ে যান শাহরুখ খান

বলিউড বাদশা শাহরুখ খানকে একনজর দেখার জন্য লাখো কোটি ভক্ত অনুরাগী যেমন চাতকের মতো অপেক্ষা করে, তেমনি অনেক তারকাও কিং খানের সান্নিধ্য পেতে মরিয়া হয়ে থাকে। কিং খানকে সামনে পেলে উন্মাদনায় হয়ে যায় নিরব, শান্ত। তবে ওয়ামিকা গাব্বির গল্পটা একটু ভিন্ন। প্রথম সাক্ষাতে তিনি শাহরুখ খানকেই চুপ করিয়ে দিয়েছিলেন! সেই ঘটনা জানালেন নিজের মুখেই।

ম্যাশাবেল ইন্ডিয়াকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ওয়ামিকা গাব্বি জানিয়েছেন শাহরুখ খানের সঙ্গে তার প্রথম মোলাকাত বড়ই অদ্ভুত ছিল। অ্যাটলির সঙ্গে তাঁর প্রথম হিন্দি সিনেমায় কাজ করেছিলেন শাহরুখ। তাই পরিচালকের আরেক সিনেমা বেবি জনের মহরতে তার ডাকে এসেছিলেন কিং খান। আর সেখানেই ছিলেন ওয়ামিকা।
এই সিনেমার মহরতের সময়ই তার এবং শাহরুখের প্রথমবার দেখা হয়।

ওয়ামিকা গাব্বি জানান, যখন শাহরুখ খানের উপস্থিতিতে সবাই মুগ্ধ এবং তাকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন, তখন সেখানে পিছন দিকে দাঁড়িয়ে ছিলেন অভিনেত্রী এবং তাঁর ভাই হার্দিক। সেখানে দাঁড়িয়ে তাঁরা আলোচনা করছিলেন যে কিং খান যদি তাঁদের কাছে আসেন, কথা বলেন তাহলে তারা কী করবেন? দিদির এই প্রশ্ন শুনে ওয়ামিকার ভাই বলেন, ‘হাতের শিরা কেটে দে।’ তার এই কথা শুনে দুজনেই হেসে ওঠেন।

তবে ভাইয়ের বলা সেই কথা শাহরুখের সামনে বলে বসেন ওয়ামিকা। এখানেই ঘটে বিপত্তি। ওয়ামিকা গাব্বি জানান শাহরুখ খান যখন বেবি জন ছবির সেট ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন সেই সময় তিনি তার দিকে আসেন এবং তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় জানান। অভিনেত্রীর কথায়, ‘উনি আমায় বলেন, আচ্ছা আসি তবে।’ আমি ওর কথার জবাবে বলি, ‘আপনার সঙ্গে আলাপ হয়ে ভালো লাগল স্যার।
আমার ভাই বলছিল হাতের শিরা কেটে নিতে। কিন্তু আমি তো সেটা করব না।’ ওয়ামিকা গাব্বি এটা বলার নাকি দুজনেই অনেকক্ষণ চুপ ছিলেন। শুধু তারা দুজন না, সবাই চুপ করে যান। শাহরুখ তারপর চুপচাপ বেরিয়ে যান বলেই জানান ওয়ামিকা।

অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘শাহরুখ খান বেরিয়ে যেতেই প্রোডাকশন থেকে একজন ছুটে এসে জিজ্ঞেস করে তুমি কি সত্যিই হাত কাটার কথা বললে? আমার ভাই মজা করেছিল, আমি ভেবেছিলাম এটা উনাকে বললে উনি হয়তো মজা পাবেন। কিন্তু সেটা হয়নি।’

অল্প সময়েই বলিউডে নজর কেড়েছেন ওয়ামিকা গাব্বি। সামনে তাকে দেখা যাবে ‘ভুল চুক মাফ’ সিনেমায়। এতে তার সঙ্গে আছেন রাজকুমার রাও। ওটিটি মাধ্যমে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। আগামী ১৬ মে অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তি পেতে যাচ্ছে এটি।

মার্কিন ট্রান্সজেন্ডার সেনাদের ব্যক্তিগত রেকর্ডে জন্মগত লিঙ্গ উল্লেখের নির্দেশ

মার্কিন সেনাবাহিনী ট্রান্সজেন্ডার সেনাদের ব্যক্তিগত রেকর্ডে কেবলমাত্র তাদের জন্মগত লিঙ্গ উল্লেখ কর—এমন অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স নির্দেশনাটি দেখেছে বলে তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীতে থাকা ট্রান্সজেন্ডার সেনাদের ধাপে ধাপে বাহিনী থেকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

১৪ পৃষ্ঠার ওই স্মারকে বলা হয়েছে, ‘সকল ব্যক্তির জন্য কর্মীবাহিনী ও প্রশাসনিক রেকর্ডে তাদের জন্মগত লিঙ্গ জানাতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কমান্ডাররা।
’ এ ছাড়াও সেনাবাহিনী মনে করে, একজন ব্যক্তির লিঙ্গ অপরিবর্তনীয়’—যা ২৬ ফেব্রুয়ারির প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মেমোরান্ডামের সুরে সুর মিলিয়ে বলা হয়েছে।

সেনাবাহিনী থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তুতি

এই নীতিমালার পেছনে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতিগত অবস্থান, যা সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়কে কেন্দ্র করে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। মে ৮ তারিখে রয়টার্স প্রথম জানায়, ৬ জুনের মধ্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করা ট্রান্সজেন্ডার সেনাদের বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে দেওয়া হবে। মে ১২ তারিখে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রান্সজেন্ডার সেনাদের জন্য জেন্ডার-আফার্মিং স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সেনাবাহিনীর নতুন এই নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, উপসর্গ ও সর্বনাম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জন্মগত লিঙ্গ অনুসরণ করতে হবে। যেমন, সিনিয়র অফিসারকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাম’ বলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়াও সেনাবাহিনীর ‘ইনটিমেট স্পেস’ বা যৌথ ব্যবহারের ব্যক্তিগত স্থানগুলো (যেমন টয়লেট, চেঞ্জিং রুম) পুরুষ, নারী, বা পারিবারিক ব্যবহারের জন্য পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হবে এবং সেই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে জন্মগত লিঙ্গ অনুসারে।

ট্রান্সজেন্ডার সেনা সংখ্যা ও প্রতিক্রিয়া

সরকারি হিসাবে বর্তমানে ৪ হাজার ২৪০ জন ট্রান্সজেন্ডার সেনা সদস্য সক্রিয় ডিউটি বা ন্যাশনাল গার্ডে কর্মরত রয়েছেন।
তবে অধিকারকর্মীদের মতে এই সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।
প্রো-এলজিবিটিকিউ আইন সহায়ক সংস্থা ‘গ্ল্যাড ল’-এর সিনিয়র ডিরেক্টর জেনিফার লেভি বলেন, ‘এই নির্দেশনাগুলো প্রতিহিংসাপরায়ণ ও আক্রমণাত্মক। একইসঙ্গে এগুলো বিশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে সামরিক প্রস্তুতির ক্ষতি করছে।’

জনমত ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের সময় চালু হওয়া ট্রান্সজেন্ডারদের খোলা মনে সেনাবাহিনীতে সেবা দেওয়ার নীতি বাতিল করেন। এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৫৮শতাংশ আমেরিকান খোলামনে ট্রান্সজেন্ডারদের সেনাবাহিনীতে সেবা দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে ২০১৯ সালে এই সমর্থনের হার ছিল ৭১শতাংশ।

সূত্র : রয়টার্স

মব ভায়োলেন্স সহ্য করা হবে না : সেনাপ্রধান

‘মব ভায়োলেন্স’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা বা আক্রমণের বিরুদ্ধেও কঠোর বার্তা দিয়েছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সেনাবাহিনী এখন আরো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। সংঘবদ্ধ জনতার নামে বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা আর সহ্য করা হবে না।

গতকাল বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণে অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান এ কথা বলেন।
ঢাকায় অবস্থানরত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। অনেক কর্মকর্তা ভার্চুয়ালিও যুক্ত হন। সেখানে উপস্থিত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্যগুলো জানা গেছে। যদিও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

সেনাপ্রধান বলেন, আগস্ট থেকে সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কিছু মহল তাঁকে ও সেনাবাহিনীকে অন্যায্যভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। তিনি বলেন, সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনো যুক্ত হবে না। কাউকে তা করতেও দেওয়া হবে না। এই বাস্তবতায় সব পর্যায়ের সেনা সদস্যকে তিনি নিরপেক্ষ থাকার এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নির্দেশ দেন।

সংস্কার প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, কী সংস্কার হচ্ছে, কিভাবে হচ্ছে, এ বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো পরামর্শ বা আলোচনা করা হয়নি।

তিনি বলেন, মানবিক করিডর বিষয়ে সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে এবং তা বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই হতে হবে। এখানে জাতীয় স্বার্থ দেখতে হবে, যা করার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই করতে হবে। যা-ই করা হোক না কেন, পলিটিক্যাল কনসেনসাসের (রাজনৈতিক ঐকমত্য) মাধ্যমে সেটা হতে হবে।
রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার বিষয়ও এখানে যুক্ত।

মালয়েশিয়ায় পাঁচ মাসে বাংলাদেশিসহ আটক ১৭৮৯ জন

মালয়েশিয়ায় গত পাঁচ মাসে বাংলাদেশিসহ এক হাজার ৭৮৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অবৈধ অভিবাসীর পাশাপাশি ৬৮ জন নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার (২১ মে) কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সওপি ওয়ান ইউসুফ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত নিয়মিত অভিযানে তাদের আটক করে কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগ।

এই কর্মকর্তা জানান, ২৭২টি অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৭৮৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪.৫৯ মিলিয়ন রিঙ্গিত জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত নিয়মিত অভিযানে মোট তিন হাজার ৫৮৭ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে অবৈধভাবে অবস্থান করায় এক হাজার ৭৮৯ জনকে আটক করা হয়।

আটক হওয়াদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও পাকিস্তানের নাগরিকরা।

কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশনের পরিচালক আরো জানান, অভিযানে ৬৮ জন নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে মালয়েশীয় ও বিদেশি নাগরিক উভয়ই রয়েছেন।

আটক হওয়াদের মধ্যে নথিপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থান করা এবং ভিসার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট এক হাজার ৫৫১টি তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

সিঁথিতে সিঁদুর পরেই কানের লাল গালিচায় ঐশ্বরিয়া

জমে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব’। মঙ্গলবার (১৩ মে) কানের ৭৮তম আসর শুরু হয় ফ্রান্সের কান শহরের পালে দ্য ফেস্টিভাল ভবনে। বিশ্বের নামিদামি সব তারকা পৌঁছে গেছেন কান সমুদ্রসৈকতে। সেখানে জমে উঠেছে সারা বিশ্বের অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা ও প্রযোজকদের মিলনমেলা।
তবে ভারতীয় ভক্ত অনুরাগীদের নজর ছিল কানের লাল গালিচায় সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়াকে দেখার। প্রতি বছরই এই অপেক্ষা থাকে অনুরাগীদের। ঐশ্বরিয়াও নিরাশ করেননা। এবারও করেননি।

গতকাল কানের মঞ্চে হাজির হয়েছেন ঐশ্বরিয়া। এবার আর চোখ ধাঁধানো পোশাকে নয়। সাদামাটা দেশি পোশাকেই প্রথম দিনের লাল গালিচায় দেখা মিলল অভিনেত্রীর। সেই সঙ্গে ভক্তদের জন্যও দিলেন এক ভিন্ন বার্তা।
গত কয়েকমাস ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে স্বামী অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পথে ঐশ্বরিয়া। সেই গুঞ্জন বাড়তে বাড়তে পৌঁছে গেছে চরমে। এবার কানের মঞ্চে সেই গুঞ্জনের মুখে ছাই দিলেন এ সুন্দরী। সিঁথিতে টকটকে লাল সিঁদুর পরেই হাজির হলেন লালগালিচায়।

অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চনের বিচ্ছেদের গুঞ্জন শোনা যায় বছরে জুড়ে।
দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কোনো অনুষ্ঠানে হাজির হতে দেখা যায় না তারকা জুটির। দুইজনের মধ্য সম্পর্কের কাদা ছোড়াছুড়ি নিয়ে সমালোচনার অন্ত নেয়। এবার বিচ্ছেদের গুঞ্জনকে উড়েয়ি দিতে দেখা গেল সাবেক বিশ্ব সুন্দরীকে। মাথা ভর্তি সিদুঁর দিয়ে কানের লাল গালিচায় হাজির হয়ে ঐশ্বরিয়া যেন প্রমাণ করলেন, তারকা জুটির সম্পর্কে কোনো চিড় ধরেনি।

এবার কান উৎসবে অভিনেত্রী গায়ে জড়িয়েছেন মণীষ মলহোত্রার তৈরি আইভরি রঙের (হালকা সাদা) বেনারসি শাড়ি। শাড়ির সঙ্গে সোনালি রঙের কাজ করা ব্লাউজ। গহনার জন্যও তিনি বেছে নিয়েছেন মণীষ মলহোত্রার ডিজাইন করা জুয়েলারি। তার গলায় যে হারটি ছিল, তাতে ছিল ৫০০ ক্যারেটের বেশি মোজাম্বিক রুবি এবং আনকাট হীরা। এছাড়াও তিনি পরেছিলেন নজরকাড়া আংটি।

মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে শুরু হয় কানের ৭৮তম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। জমকালো এ আয়োজনে নানা দেশের তারকারা অংশ নিয়েছেন। উৎসব চলবে ২৪ মে পর্যন্ত। এবারের আসরে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে ২২টি চলচ্চিত্র। এ ছাড়া ‘আঁ সার্তে রিগা’, ‘আউট অব কম্পিটিশন’, ‘মিডনাইট স্ক্রিনিংস’, ‘কান প্রিমিয়ার’ এবং ‘স্পেশাল স্ক্রিনিংস’— প্রতিটি বিভাগেই দেখা যাবে বিশ্বব্যাপী নানা দেশের চলচ্চিত্র।

সিরিজ হারের পর লিটন বললেন ‘এটা জীবনেরই অংশ’

প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করলেও শেষরক্ষা হলো না বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ম্যাচে দুই শর বেশি রান করেও হেরে যায় টাইগাররা, আর তৃতীয় ম্যাচে ৭ উইকেটে সিরিজই হাতছাড়া হলো লিটন দাসের দলের।

এ নিয়ে এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশের কাছে সিরিজ হারল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের এই একই দিনে, ২১ মে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হেরেছিল টাইগাররা।
এবার সেই হতাশার পুনরাবৃত্তি ঘটল সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হতাশ লিটন দাস বলেন, ‘নিশ্চয়ই, এটা আমাদের প্রত্যাশার মতো হয়নি। বিশেষত, যখন আপনি সব সময় জয়ের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামেন, তখন এমন ফল হতাশাজনক। তবে এটা জীবনেরই অংশ।
ক্রিকেট খেলার সময় কখনো কখনো বিপক্ষ দল সত্যিই ভালো খেলে, তাদেরও কৃতিত্ব দেওয়া উচিত।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমাদের ব্যাটিংয়ে কিছু ভুল ছিল। এই উইকেট ও কন্ডিশনে আমরা যেটা আশা করি, পারফরম্যান্স তার অনেক নিচে ছিল। গত তিনটি ম্যাচেই আমরা দ্বিতীয় ইনিংসে বল করেছি এবং শিশির ছিল ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর।
’

তবে হতাশার মাঝেও কিছু ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন লিটন, ‘পারভেজ ইমন, তানজিদ তামিম, হৃদয় এবং জাকির কিছু ম্যাচে ভালো খেলেছে। মাঝের ওভারে কিছু বোলারও ভালো বল করেছে। তবে এখনো আমাদের অনেক শেখার দরকার এবং মাঠে সেই শিক্ষা কাজে লাগাতে হবে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রশংসা করে লিটন বলেন, ‘তারা আজ দারুণ খেলেছে, বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে অসাধারণ বল করেছে। ব্যাটিংয়ে শিশির তাদের পক্ষে গেলেও, তারা মিডল অর্ডারে মোটেই ঘাবড়ে যায়নি।
তাদের অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হবে।’

এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে আরব আমিরাত। আগেরটি ছিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২১ সালে।

ক্লাব বিশ্বকাপ ঘিরে ফিফার নতুন নিয়ম, থাকছে বিশেষ ট্রান্সফার উইন্ডো

১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হচ্ছে ক্লাব বিশ্বকাপ। আসন্ন এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা একটি বিশেষ ট্রান্সফার উইন্ডোর ঘোষণা দিয়েছে। এই উদ্যোগে ফিফার ২০টি সদস্য দেশ সম্মতি জানিয়েছে—এই দেশগুলোর ক্লাবগুলোই এবারের ৩২-দলীয় এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে।

বিশেষ এই ট্রান্সফার উইন্ডো ১ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত খোলা থাকবে।
আর এই বিশেষ উইন্ডোর ফলে দলগুলো নিজেদের স্কোয়াডে নতুন খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে ক্লাব বিশ্বকাপ শুরুর আগেই। ইউরোপীয় গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডো ১০ জুন বন্ধ হবে এবং পুনরায় ১৬ জুন খুলে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

বিশেষ এই ট্রান্সফার উইন্ডো ১ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত খোলা থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ক্লাবগুলো ক্লাব বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নতুন খেলোয়াড় স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

উল্লেখ্য, এই উইন্ডো ১০ জুন বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর ১৬ জুন থেকে ইউরোপের গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে চলবে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

তবে এখানেই শেষ নয়। গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পরও ক্লব বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলো ২৭ জুন থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
তবে এই সুযোগ থাকবে সীমিত সময়ের একটি ‘ইন-কম্পিটিশন উইন্ডোর’ আওতায়।

এই ট্রান্সফার উইন্ডো শুধু ক্লাব বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলির জন্যই নয়, তাদের ঘরোয়া লিগের সকল ক্লাবের জন্যই প্রযোজ্য।

ফিফা জানিয়েছে, এই বিশেষ ট্রান্সফার উইন্ডো চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো—প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ক্লাবগুলোর নিবন্ধন সময়সীমা এবং ঘরোয়া মৌসুমের সময়ের পার্থক্য দূর করে সমন্বয় আনা।

সংস্থাটির ভাষায়, যেসব খেলোয়াড়ের চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, তাদের জন্য একটি উপযুক্ত সমাধান খুঁজে বের করা এবং টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।

ফিফা আরো জানিয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে নিশ্চিত করা যাবে যে সেরা খেলোয়াড়রাই মাঠে থাকবে, এবং ক্লাবগুলো টুর্নামেন্ট চলাকালীনও প্রয়োজনে নতুন খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

এই বিশেষ ট্রান্সফার উইন্ডো ২০টি দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে— আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, মিশর, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, মরক্কো, নিউজিল্যান্ড, পর্তুগাল, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, তিউনিসিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্র।

এই দেশগুলোর ক্লাবগুলোই ৩২ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য ক্লাব বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে এবং ট্রান্সফার উইন্ডোর এই বিশেষ সুবিধা তারা পাবে।

জ্বালানি নীতি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা, যুক্তরাষ্ট্রে বৃদ্ধি পেতে পারে গৃহস্থালির খরচ

ট্রাম্প প্রশাসনের জ্বালানি দক্ষতার মান বাতিল করার প্রচেষ্টা গৃহস্থালির খরচ কয়েক বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ১২টি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী মানদণ্ড বাতিলের উদ্যোগ নিলেও, সেটি আইনি বাধার মুখে পড়তে পারে। কারণ, এই পরিকল্পনা বিদ্যুৎ নীতিমালা ও সংরক্ষণ আইন (এনার্জি পলিসি এন্ড কনভারসেশন এক্ট-ইপিসিএ)-এর ‘অ্যান্টি-ব্যাকস্লাইডিং’ ধারায় বিদ্যমান সাশ্রয়ী মানদণ্ড দুর্বল করে ফেলবে।

দ্য ভার্জের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশ ও ভোক্তা অধিকার সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তাদের মতে, মার্কিন জ্বালানি বিভাগ (ডিওই)-এর এই পদক্ষেপ ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করছে। ডিওই-এর পক্ষ থেকে এখনো এই পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কোনো মন্তব্য আসেনি।

ভারতের রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন ধানুশ!

দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেতা ধানুশ এবার হতে যাচ্ছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। তবে বাস্তবে নয়, পর্দায়। ‘ভারতরত্ন’ পাওয়া ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. এ.পি.জে. আব্দুল কালামের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘কালাম’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন ধানুশ। চলচ্চিত্রটি ৭৮তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে উন্মোচন করা হয়েছে।

সিনেমাটি পরিচালনা করবেন ওম রাউত। তিনি জানান, ‘কালাম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. কালামের জীবন, নেতৃত্বগুণ ও জাতি গঠনে তাঁর অবদানের অন্তর্দৃষ্টি তুলে ধরা হবে। এ সিনেমা তার আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। ভারতের ‘মিসাইল ম্যান’খ্যাত ড. এ.পি.জে. আব্দুল কালামের জীবনের উপর নির্মিত এই জীবনীচিত্রে রামেশ্বরম থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত তাঁর জীবনপথ তুলে ধরা হবে।

পরিচালক ওম রাউত বলেন, ‘এই যুগে সত্যিকারের রাষ্ট্রনেতার অভাব। সেদিক থেকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি অনেক উপরে ছিলেন। তিনি শিক্ষা, উৎকর্ষতা ও দেশীয় উদ্ভাবনের শক্তির জন্য পরিচিত ছিলেন। তার গল্প পর্দায় তুলে ধরা একজন অভিনয় শিল্পীর জন্য চ্যালেঞ্জিং।
সিনেমাটি তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক হবে। আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।’

পরিচালক ওম রাউত এর আগে ‘তানহাজি: দ্য আনসাং ওয়ারিয়র’ এবং ‘আদিপুরুষ’-এর মতো সিনেমা বানিয়েছেন। এবার নির্মাণ করবেন ‘কালাম’। বিগ বাজেটের এই চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করছেন অভিষেক আগারওয়াল এবং টি-সিরিজের ভূষণ কুমার।
সার্বিক সহযোগীতা করছে এ পি জে আবদুল কালাম ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন। এই বায়োপিকের চিত্রনাট্য লিখেছেন সাইউইন কোয়াডরাস, যিনি এর আগে ‘নীরজা‘, ‘ময়দান’ এবং ‘পরমাণু : দ্য স্টোরি অব পোখরা ‘-এর চিত্রনাট্য লিখেছিলেন। তাই সিনেমাটি ঘিরে বেশ উন্মাদনা তৈরি হচ্ছে দর্শকদের মাঝে।

রোমেরোর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় ম্যাগুয়ের

বিলবাওয়ের সান মামেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ইউরোপা লিগ ফাইনালে টটেনহাম হটস্পারের কাছে হেরে গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আর জয়ে ১৭ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বহু প্রতীক্ষিত কোনো বড় ট্রফি জিতল স্পার্সরা।

তবে এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়েরের জন্য ছিল হতাশায় ভরা। বিশেষ করে, দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর সঙ্গে বারবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে তার হতাশা চরমে পৌঁছায়।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর সঙ্গে একাধিকবার বাকবিতণ্ডায় জড়ান হ্যারি ম্যাগুয়ার। এক পর্যায়ে রোমেরো মাটিতে পড়ে গেলে, ক্ষুব্ধ ম্যাগুয়ের তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তুমি তো অধিনায়ক, একটু শালীন হও।’ পুরো দ্বিতীয়ার্ধজুড়েই দুজনকে একাধিকবার মুখোমুখি হতে দেখা যায়, বিশেষ করে ম্যাচের উত্তেজনাকর শেষ মুহূর্তে। তবে উত্তাপ থেমে থাকেনি মাঠেই—ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও তাদের মধ্যে আরেকটি উত্তপ্ত মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যখন রোমেরো এগিয়ে এসে হাত মেলাতে চাইলে ম্যাগুয়ের তা উপেক্ষা করে প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর রোমেরো ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার দালোতকে আলিঙ্গন করতে গেলে, ম্যাগুয়ের হস্তক্ষেপ করে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। এসময় দুজনের মধ্যে উত্তেজনা আরো বাড়ে এবং কোচিং স্টাফদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।