বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

গাজায় লাগাতার ইসরায়েলি হামলায় ৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে কমপক্ষে আরও ৭০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক। নিহতদের মধ্যে ক্ষুধার্ত ত্রাণপ্রার্থীও রয়েছেন।

বুধবার (১১ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার ভোর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় ৭০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে আল জাজিরাকে জানিয়েছেন স্থানীয় চিকিৎসা কর্মকর্তারা।

নিহতদের মধ্যে ক্ষুধার্ত ত্রাণপ্রার্থীও রয়েছেন। জাতিসংঘের মতে, এখন দুর্ভিক্ষে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে গোটা গাজা।

এদিকে মঙ্গলবার আবারও গাজার কেন্দ্রীয় অংশে ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত নেতসারিম করিডরের কাছে সামান্য খাবার সংগ্রহে আসা মানুষের ওপর গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা। গাজা সরকারের তথ্য অফিস জানায়, এতে অন্তত ২০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১২ বছরের এক শিশুও রয়েছে। শিশুটির নাম মোহাম্মদ খলিল আল-আথামনেহ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০০ জন।

এই ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রগুলো পরিচালনা করছে ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ) নামের একটি বিতর্কিত সংস্থা, যার কার্যক্রম ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চলছে এবং এটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কাজ করছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনগণ এই বিতরণ কেন্দ্রগুলোকে ‘মানব কসাইখানা’ বলে অভিহিত করেছেন। কারণ গত ২৭ মে থেকে সংস্থাটি ত্রাণ কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন, আর আহত হয়েছেন প্রায় ১৫০০ জন।

গাজা সরকারের তথ্য অফিস এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, জিএইচএফ কার্যত একটি ‘মরণ ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে ত্রাণের প্রলোভনে ক্ষুধার্ত মানুষদের টেনে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে।

তাদের ভাষায়, “জিএইচএফ এখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে এক ভয়ঙ্কর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে, যারা ত্রাণ দেওয়ার নামে নিরস্ত্র ও ক্ষুধার্ত মানুষদের মৃত্যুফাঁদে ডেকে নিচ্ছে।”

আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজ্জুম গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে জানিয়েছেন, জিএইচএফ-এর এসব ত্রাণকেন্দ্র এখন যেন “পুনরাবৃত্ত রক্তপাতের মঞ্চ” হয়ে উঠেছে, যেখানে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এসব হামলা চালানো হয়েছে বিভিন্ন দিক থেকে। ড্রোন, ট্যাংক ও স্নাইপার ব্যবহার করে এসব বিচ্ছিন্ন ত্রাণকেন্দ্রে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। আজ্জুম বলেন, “যা হচ্ছে, তা মূলত মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার এক প্রক্রিয়া।”

অন্যদিকে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ মঙ্গলবার আবারও সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, গাজায় মানবিক সংকট ‘অভূতপূর্ব হতাশার পর্যায়ে’ পৌঁছেছে।

সংস্থাটি জানায়, গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে ৫ বছরের কম বয়সী অন্তত ২৭০০ শিশুকে চরম অপুষ্টিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। আর তাই দ্রুত মানবিক সহায়তা পুনরায় শুরু করার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় কার্যত কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। জিএইচএফ-এর মাধ্যমে অল্প কিছু সাহায্য ঢুকলেও, বহু অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় ত্রাণ সংস্থাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে যেসব সংস্থা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গাজার লাখো মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছিল, তাদের কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

কলম্বিয়ার বিপক্ষে ড্র করল ১০ জনের আর্জেন্টিনা

মনে মনে হয়তো খুশিই হয়েছিল কলম্বিয়া। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় জয় পাওয়ার। কেননা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সময় আবার আর্জেন্টিনা ১০ জনে পরিণত হয়। এনজো ফার্নান্দেজ যখন লাল কার্ড দেখলেন তখন ম্যাচের বাকি ছিল ১৯ মিনিট।
বাকি সময়টা তাই কোনো রকমে পার করলেই হয়ে যেত।

ম্যাচে ফেরাটা যখন জরুরি তখন আবার লিওনেল মেসিকেও তুলে নেন লিওনেল স্কালোনি। তবে ১০ জন হয়েও ঠিকই ম্যাচে ফিরেছে আর্জেন্টিনা। ঘরের মাঠ এস্তাদিও মনুমেন্তালে থিয়াগো আলমাদার গোলে হার এড়িয়েছে তারা।
১-১ ড্রয়ে মাঠ ছাড়ার ম্যাচে শেষ মুহূর্তে ভাগ্যেকেও পাশে পেয়েছে আলবিসেলেস্তারা। অন্যথা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় রিচার্ড রিওসের হেড পোস্টে না লাগলে ম্যাচই হারতে হতো আর্জেন্টিনাকে।

সে যাই হোক আজ ম্যাচ শুরু হলে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম সুযোগটা পেয়েছিল আর্জেন্টিনাই । সেটিই দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
তবে চতুর্থ মিনিটেই সতীর্থ থিয়াগো আলমাদার সঙ্গে দেওয়া-নেওয়া করে বক্সের মধ্যে ঢুকলেও তার নেওয়া ডান পায়ের শটটি পোস্টের অনেক দূর দিয়ে যায়। ১৪ মিনিটে কাউন্টার আক্রমণ থেকে একক প্রচেষ্টায় কলম্বিয়াকে লিড এনে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন লুইস দিয়াজ। তবে এগিয়ে যাওয়া আর হয়নি। বক্সের একটু বাইরে থেকে নেওয়া তার শট বিশ্বস্ত হাতে ধরে ফেলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস।

দুই মিনিট পরেই গোলের সবচেয়ে ভালো সুযোগ পেয়েছিল কলম্বিয়া।
এস্তাদিও মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের আর্জেন্টিনার দর্শক একদম চুপ করে দেওয়ার। কিন্তু ডেইভার মাচাদো যে সুযোগটা মিস করলেন তার কোনো ব্যাখ্যাই যেন হয় না। বক্সের মধ্যে থেকে বাঁ পায়ের শটটি নিলেন বারের বেশ ওপর দিয়ে। অথচ, হামেস রদ্রিগেজের অবিশ্বাস্য পাসটির শটটি যদি জালে রাখতে পারতেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষককে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতো।

২২ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনাও। তবে ডি বক্সের বাইরে থেকে হুলিয়ান আলভারাজের নেওয়া বাঁ পায়ের বুলেট গতির বাঁকানো শটটা দারুণ ডান দিকে ঝাঁপ দিয়ে প্রতিহত করেন কলম্বিয়ার কেভিন মিয়ার। আর্জেন্টিনার আক্রমণের দুই মিনিট পরেই কাউন্টার আক্রমণে ঠিকই মেসিদেরসহ তাদের দর্শকদের স্তব্ধ করে দেন দিয়াজ।

বাঁ প্রান্তের প্রায় মাঝ মাঠে সতীর্থ কেভিন কাসতানোর পাস ধরে একক প্রচেষ্টায় দৌড়ে আর্জেন্টিনার তিন -চার খেলোয়াড়কে ধোঁকা দিয়ে মার্তিনেসকেও ফাঁকি দেন দিয়াজ। তার বল জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ভাসেন কলম্বিয়ার সমর্থকরা। ৩০ মিনিটে অবশ্য গোল প্রায় শোধই দিয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে আলভারেজের বল জালে জড়ানোর আগেই অফসাইড ছিলেন মেসি। পরে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও সমতায় ফেরার অপেক্ষা নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধ দেওয়ার বিপরীতে আরেকটি হজম করছিলই আর্জেন্টিনা। রিচার্ড রিওসের কোণা বরাবর শটটি যদি বাঁ দিকে ঝাঁপ দিয়ে সেভ না করতেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক তাহলে বিপদটা আরো বাড়ত। অন্যদিকে গোল শোধের একদম কাছাকাছি ছিল আর্জেন্টিনাও। তবে ৬৩ মিনিটে পাওয়া সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি এনজো ফার্নান্দেজ। শুরুতে বাঁ দিক থেকে নিকোলাস গঞ্জালেসের বুলেট গতির শট কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কেভিন প্রতিহত করলে বক্সের মধ্যে থাকা ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় সুযোগ পান। সুযোগটা এতটাই দুর্দান্ত ছিল যে, গোলবারে রাখতে পারলেই হতো। কিন্তু চেলসির এই মিডফিল্ডার বল মারলেন বারের ওপর দিয়ে। এতে ম্যাচে ফেরার অপেক্ষাও বেড়ে যায়।

৬৮ মিনিটে সমতায় ফেরার আরো একটি সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। মেসির নেওয়া ফ্রি কিক প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলে ডান পোস্ট থেকে গোলবার ফাঁকা পেয়েছিলেন গঞ্জালেস। ঠাণ্ডা মাথায় জালে জড়িয়ে দিতে পারলেই হতো। কিন্তু আক্রমণেরভাগের এই খেলোয়াড় গায়ের জোরে শটটা নিলে তা বারে বাঁধা পায়।

৭১ মিনিটে আর্জেন্টিনার বিপদ আরও বাড়ে। কাসতানোর মাথায় ফার্নান্দেজ পা দিয়ে আঘাত করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। এ সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একটু ধাক্কাধাক্কিও হয়। দুই দলের অধিনায়ক মেসি ও রদ্রিগেজের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। এর কিছুক্ষণ পর দুজনকেই বদলি করান উভয় দলের কোচ।

তার আগে ১০ জনের দলে পরিণত হলেও ৭৫ মিনিটে দারুণ এক পাস দিয়েছিলেন মেসি। প্রতিপক্ষের বক্সে যদি আলভারেজের টাচটা দ্রুতগতির না হতো তাহলে সমতায়ও হয়তো ফিরতে পারত তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কঠিন সময়ে মেসিকে মাঠ থেকে তুলে নিলেও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ঠিকই ম্যাচে ফেরার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। তার ফলও পায় ৮১ মিনিটে। কলম্বিয়ার দুই খেলোয়াড়কে শরীরের নাচনে বোকা বানিয়ে বক্সের ডান প্রান্ত শট নেন আলমাদা। তার মাটি কামড়ানো শট ঠিকই জাল খুঁজে নেয়। এতে স্তব্ধ গ্যালারি সঙ্গে সঙ্গেই গর্জে ওঠে।

সমতায় ফিরলেও ৮৪ মিনিটে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় ছিল আর্জেন্টিনা। বক্সের বাইরে থেকে জন অ্যারিয়াসের ডান পায়ের শট যদি মার্তিনেস তালুবন্দি না করতেন। ৮৬ মিনিটে আবার ভাগ্য পাশে না থাকলে ম্যাচই হেরে যেত আলবিসেলেস্তারা। দিয়াজের ক্রসে রিওসের হেড ডান পোস্টে না লাগলে। শেষে আর কোনো গোল না হলে সমতায় সন্তুষ্ট থাকতে হয় দুই দলকে।

ঘরের মাঠে পিছিয়ে পড়ে বিরতিতে মেসিরা

আর্জেন্টিনার জন্য প্রতিশোধের ম্যাচ। কেননা বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের সর্বশেষ দেখায় কলম্বিয়ার কাাছে তাদের মাঠে ২-১ গোলেই হেরে এসেছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই প্রতিশোধ নিতে ঘরের মাঠ এস্তাদিও মনুমেন্তালে খেলতে নেমে এখন পর্যন্ত বিপদেই আছে আর্জেন্টিনা। কেননা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে বিরতিতে গেছে আর্জেন্টিনা।
কলম্বিয়ার হয়ে গোলটি করেছেন লুইস দিয়াজ।

অথচ, ম্যাচ শুরু হলে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম সুযোগটা আর্জেন্টিনাই পেয়েছিল। সেটিই দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে চতুর্থ মিনিটেই সতীর্থ থিয়াগো আলমাদার সঙ্গে দেওয়া-নেওয়া করে বক্সের মধ্যে ঢুকলেও তার নেওয়া ডান পায়ের শটটি পোস্টের অনেক দূর দিয়ে যায়।
১৪ মিনিটে কাউন্টার আক্রমণ থেকে একক প্রচেষ্টায় কলম্বিয়াকে লিড এনে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন লুইস দিয়াজ। তবে এগিয়ে যাওয়া আর হয়নি। বক্সের একটু বাইরে থেকে নেওয়া তার শট বিশ্বস্ত হাতে ধরে ফেলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস।

দুই মিনিট পরেই গোলের সবচেয়ে ভালো সুযোগ পেয়েছিল কলম্বিয়া।
এস্তাদিও মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের আর্জেন্টিনার দর্শক একদম চুপ করে দেওয়ার। কিন্তু ডেইভার মাচাদো যে সুযোগটা মিস করলেন তার কোনো ব্যাখ্যাই যেন হয় না। বক্সের মধ্যে থেকে বাঁ পায়ের শটটি নিলেন বারের বেশ ওপর দিয়ে। অথচ, হামেস রদ্রিগেজের অবিশ্বাস্য পাসটির শটটি যদি জালে রাখতে পারতেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষককে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতো।

২২ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনাও।
তবে ডি বক্সের বাইরে থেকে হুলিয়ান আলভারাজের নেওয়া বাঁ পায়ের বুলেট গতির বাঁকানো শটটা দারুণ ডান দিকে ঝাঁপ দিয়ে প্রতিহত করেন কলম্বিয়ার কেভিন মিয়ার। আর্জেন্টিনার আক্রমণের দুই মিনিট পরেই কাউন্টার আক্রমণে ঠিকই মেসিদেরসহ তাদের দর্শকদের স্তব্ধ করে দেন দিয়াজ।

বাঁ প্রান্তের প্রায় মাঝ মাঠে সতীর্থ কেভিন কাসতানোর পাস ধরে একক প্রচেষ্টায় দৌড়ে আর্জেন্টিনার তিন -চার খেলোয়াড়কে ধোঁকা দিয়ে মার্তিনেসকেও ফাঁকি দেন দিয়াজ। তার বল জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ভাসেন কলম্বিয়ার সমর্থকরা। ৩০ মিনিটে অবশ্য গোল প্রায় শোধই দিয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে আলভারেজের বল জালে জড়ানোর আগেই অফসাইড ছিলেন মেসি। পরে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও সমতায় ফেরার অপেক্ষা নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা

দুবাইতে মেয়ের ফ্ল্যাট নিয়ে জয়ের অভিযোগের জবাবে যা বললেন গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর তার মেয়ে মেহরিন সারা মনসুরকে দুবাইতে ৪৫ কোটি টাকার সম্পত্তি কিনে দেননি বলে জানিয়েছেন।

ফেসবুকে এক পোস্টে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১০ জুন) এক সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, ‘এটি আমার মেয়ের সম্পত্তি, যা আমি গভর্নর হওয়ার অনেক আগে ২০২৩ সালে কেনা হয়েছিল। আমার মেয়ে বিবাহিত এবং ব্যবসার কারণে দুবাইতে তার স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে থাকে।
তার প্রায় ৪০ বছর বয়সে সে নিজেই একটি বাড়ি কিনতে পারে। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনের একটি পোস্ট গত সোমবার শেয়ার করেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

ওই পোস্টে বলা হয়, ‘জুলাই ষড়যন্ত্র বিপ্লবের পর হঠাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়ে যাওয়া আহসান এইচ মনসুর, তার আদরের মেয়ে মেহেরিন সারা মনসুরের নামে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে মাত্র ৪৫ কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছেন!’

‘তথ্যমতে, দুবাইতে বাংলাদেশ ব‍্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের মেয়ের নামে ১৩.৫ মিলিয়ন দিরহামের প্রোপার্টির (৪৫ কোটি) খোঁজ পাওয়া গিয়েছে’, বলা হয় পোস্টে।

পোস্টটিতে আহসান এইচ মনসুর অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ করা হয়। যদিও এ বিষয়ে কোনো তথ্য-প্রমাণ কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।

গভর্নর জানান, সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে সংযুক্ত সম্পত্তির দলিলে তার নাম সারা মনসুরের বাবা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমার নাম সম্পত্তির দলিলপত্রে তার (সারা মনসুর) বাবা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এটা খুবই দুঃখজনক যে সজীব ওয়াজেদ জয় এমন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলছেন।’ সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

লস অ্যাঞ্জেলেসে এবার কারফিউ জারি!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন আইন জোরদার করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় ‘ভাঙচুর ও লুটপাট’ বন্ধে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ জুন) লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের কেন্দ্রস্থলে কারফিউ জারি করেছেন স্থানীয় মেয়র কারেন বাস।

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি স্থানীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে স্থানীয় সময় বুধবার (১১ জুন) সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ চলবে।

তিনি বলেন, ২৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুট হয়েছে এবং ‘আমরা চরম এক পর্যায়ে পৌঁছেছি’।

মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানায়, গেল শুক্রবার থেকে যেখানে বিক্ষোভ চলছে, শহরের সেই জায়গার ১ বর্গমাইল (২.৫৯ বর্গকিলোমিটার) অংশে কারফিউ বলবৎ থাকবে। লস অ্যাঞ্জেলেস শহরটি প্রায় ৫০০ বর্গমাইল (২,২৯৫ বর্গকিলোমিটার) জুড়ে বিস্তৃত।

তবে নির্ধারিত এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দা, গৃহহীন ব্যক্তি, শংসাপত্রপ্রাপ্ত মিডিয়া, জননিরাপত্তা ও জরুরি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কারফিউ প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ প্রধান জিম ম্যাকডোনেল।

তিনি বলেন, ‘শনিবার থেকে বেআইনি এবং বিপজ্জনক আচরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহরজুড়ে টানা কয়েকদিন ধরে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার পর জীবন এবং সম্পত্তি রক্ষার জন্য কারফিউ একটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।’

সূত্র: এপি

প্রতিরক্ষা বাজেট ২০ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা পাকিস্তানের

পাকিস্তান মঙ্গলবার চলতি বছর ফেডারেল বাজেটে প্রতিরক্ষা ব্যয় ২০ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে এক মাস আগের সংঘর্ষের পর এ ঘোষণা এলো। সেই সংঘর্ষে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা দেখা গিয়েছিল। মে মাসে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীদের মধ্যে চার দিনের সংঘর্ষে ৭০ জনের বেশি নিহত হওয়ার পর যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়।

অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংসদে ৬২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে ১৪ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা খাতে, যা ২.১২ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি (৭.৫ বিলিয়ন ডলার) থেকে বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরে ২.৫৫ ট্রিলিয়ন রুপি করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার পাকিস্তানের সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছিল, তারা ৪০টি নতুন চীনা যুদ্ধবিমান এবং নতুন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার আলোচনা করছে।

২০২৩ সালে পাকিস্তান ঋণখেলাপির দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল।
তখন একটি রাজনৈতিক সংকট অর্থনৈতিক মন্দাকে জটিল করে দেয় এবং দেশের ঋণের বোঝা মারাত্মক মাত্রায় পৌঁছে যায়। তখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে সাত বিলিয়ন ডলার সহায়তা পেয়ে তা ঠেকানো হয়। তার পর থেকে দেশটি কিছুটা পুনরুদ্ধার লাভ করেছে, মুদ্রাস্ফীতি কমেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজেট ঘোষণার আগে সংসদে এক ব্রিফিংয়ে আওরঙ্গজেব বলেন, ‘আমরা সঠিক পথে এগোচ্ছি।
যেকোনো রূপান্তর দুই থেকে তিন বছর সময় নেয় এবং আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে ভালো কাজ করেছি।’

বাজেটটি এ মাসের শেষে সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে অনুমোদিত হবে। তবে সরকারের সুরক্ষিত সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সামান্য পরিবর্তনই আশা করা যাচ্ছে।

এদিকে গত সোমবার প্রকাশিত এক অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর (যা ৩০ জুন শেষ হচ্ছে) দেশটি নির্ধারিত প্রায় সব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ব্যর্থ হয়েছে, যার মধ্যে জিডিপি ২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি গত বাজেটে নির্ধারিত প্রাথমিক ৩.৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম।
এ অবস্থায় পরবর্তী অর্থবছরের জন্য সরকার ৪.২ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এ ছাড়া বাজেটে দেশের বিশাল ঋণ পরিশোধের জন্য আট ট্রিলিয়ন রুপি (২৮.৪ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংক একটি প্রতিবেদন জানিয়েছে, পাকিস্তানের ২৪ কোটি জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশ দারিদ্র্যের নিচে বাস করছে এবং দেশের সাক্ষরতার হার ৬১ শতাংশ।

গত বছর ক্ষমতায় আসার পর এটি সরকারের দ্বিতীয় বাজেট, যেখানে নির্বাচনে অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা ইমরান খানকে এমন সব অভিযোগের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

দ্রুতই পূর্বাচলে বনাঞ্চলের সীমানা চিহ্নিত করা হবে : রিজওয়ানা

পানিসম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, রাজধানীর পূর্বাচলে কিছু এলাকায় বনের সতেজতা রয়েছে, এ বনের সীমানা চিহ্নিতকরণ জরুরি এবং দ্রুতই এটা করা হবে।

তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্বাচলে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা চিহ্নিত করা হবে।

পরিবেশ উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘ভুল বনায়ন নীতি, নগরায়ণ, শিল্পায়ন—এসব কিছুর কারণে মূলত এখানে শালবনটা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল। রাজউকের পূর্বাচল দ্বিতীয় ফেজের ভেতরে রাজউক এ বনটিকে ঢুকিয়ে ফেলেছিল কিন্তু আমরা আইনি লড়াই করে ১৪৪ একরের মতো এই বনটুকুকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি।
’

আজ মঙ্গলবার পূর্বাচলে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এটা এমন একটা ফরেস্ট হতে পারে, যেটা ঢাকাবাসী মনে করবে যে এটা তাদের কাছাকাছি আছে, তারা এসে এ বন পরিদর্শন করবে।’

‘এই এলাকার যে ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, এটা একটা গড় এলাকা’ উল্লেখ করে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, এখানে যেটুকু ফাঁকা জায়গা আছে, সেখানে প্রাকৃতিক উপায়ে যেন শালবনটা ফেরত আসে সে জন্য কাজ করা হবে। এ ছাড়া এখানে ফাঁকা জায়গাটা যেন বেদখল হতে না পারে সে জন্য প্রাকৃতিক আবহে কিছু শালগাছের চারা ফাঁকা জায়গাগুলোতে রোপণ করা হবে।
আর শালের যে কূল আছে সেখান থেকে যেন আপনাআপনিই বনটা পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, এই এলাকাটা আগে থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বন হিসেবে চিহ্নিত করা ছিল। নতুন করে এখন এটাকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। বনের জায়গায় প্রথাগত বনবাসী না হলে অন্য কারো থাকার কোনো সুযোগ নেই।
ফলে এ বনের জায়গার মধ্যে যারা অবৈধ দখলদার আছে তাদের দ্রুতই বনের জায়গা ছেড়ে দিতে হবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো ছানাউল্ল্যা পাটওয়ারী, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান, সামাজিক বন বিভাগ ঢাকা অঞ্চলের বন সংরক্ষক হোসাইন মুহম্মদ নিশাদ, বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় কর্মকর্তা শারমিন আক্তারসহ বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলেও হারল বাংলাদেশ

প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে হলে দারুণ কিছু করতে হতো বাংলাদেশকে। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ তা করতে পারেননি হামজা চৌধুরী ও শমিত শোমরা। ফল ঘরের মাঠে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ২-১ ব্যধানের হার।

একই ব্যবধানে সর্বশেষ দেখাতেও হেরেছিল বাংলাদেশ।
২০১৫ সালে এই ঢাকাতেই হেরেছিল বাংলাদেশ। আজকের হারটা অবশ্য নাও হতে পারত। যদি ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে তারিক কাজীর নেওয়া হেডটা বারে না লাগত। বাংলাদেশি ডিফেন্ডারের হেডটা এক ইঞ্চি নিচে লাগলে জালে জড়াতে পারত।
তখন ২-১ ব্যবধানের হার নয়, ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারতেন হামজা-তারিকরা।

ম্যাচ শুরুর পর ৯ মিনিটেই প্রায় গোল হজমই করে বসেছিল বাংলাদেশ। লং থ্রোতে সুযোগটা পেয়েছিলেন সং উইইয়াং।
বাংলাদেশের ডি বক্সে সতীর্থর হেড পেয়েছিলেন তিনি। তবে যথাসময়ে পা-টা লাগাতে পারেননি সিঙ্গাপুরের মিডফিল্ডার। টাইমিংয়ে গড়মিল হওয়ায় ফাঁকা পোস্টে বল না গিয়ে বারের বাইরে দিয়ে চলে যায়। তাতে বাংলাদেশ রক্ষা পায়।

বাংলাদেশ প্রথম আক্রমণের সুযোগ পায় ১৫তম মিনিটে।
তবে শাকিল তপুর বাড়ানো বলে রাকিব হোসেনের দূর্বল শট তালুবন্দি করতে অসুবিধা হয়নি সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক ইজওয়ান মাহবুদের। দুই মিনিট পরে দারুণ এক আক্রমণ করেছিলেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা শমিত শোম। তবে বক্সের মধ্যে থেকে বাড়ানো পাস রাকিবের কাছে যাওয়ার আগেই সিঙ্গাপুরের ডিফেন্ডার বিপদমুক্ত করেন।

২১ মিনিটে আরেকবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল সিঙ্গাপুর। কিন্তু দলটির ফরোয়ার্ড ইখসান ফান্ডি আহমদ বক্সের মধ্যে থেকে শট নিলেও বাইরে মেরে দেন। জালে রাখতে পারলে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হতো বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে।

তবে ৩০ মিনিটে কঠিন চ্যালেঞ্জের ঠিকই পড়েছিলেন মিতুল। তাতে বাংলাদেশকে বাঁচিয়েও দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের বক্সের কাছাকাছি জায়গায় একদম ফাঁকায় বল পেয়ে ইখসান ফান্ডি বাঁ পায়ে শট নিয়েছিলেন। বাঁ প্রান্তে ঝাঁপিয়ে দারুণভাবে শটকে প্রতিহত করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক। ফিরতি মিনিটে বাংলাদেশও দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল।

প্রতিপক্ষের ডি বক্সের সামনে চার খেলোয়াড়ের জটলার মধ্যে দিয়ে বল বের রাকিবের উদ্দেশে বাড়িয়েছিলেন শমিত। তবে বলের গতি থাকায় রাকিব পা লাগানোর আগেই বল তালুবন্দী করেন সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক। ৩৬ মিনিটে একটা ফ্রি কিক পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে হামজা চৌধুরীর নেওয়া শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

বাংলাদেশকে লিড এনে দেওয়ার আরেকটা দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন ফাহমিদুল। কিন্তু ৩৯ মিনিটে বাড়ানো শমিতের দারুণ পাসটাকে কাজে লাগাতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। যখন শটটা নিলেন ততক্ষণে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডার এসে তাতে বাধা দেন।

তবে বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের লং থ্রো প্রতিহত করতে পোস্ট ছেড়ে বাঁ প্রান্তের চলে যান মিতুল। পড়ে গিয়ে পরে গোলবারে পজিশন নেওয়ার আগেই ডান প্রান্ত থেকে সিঙ্গাপুরকে লিড এনে দেন উইইয়াং। সিঙ্গাপুরের ফরোয়ার্ডের শট শেষ মুহূর্তেও বাঁচানোর চেষ্টা করেও পারেননি হামজা।

যোগ করা সময়ে অবশ্য সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে কর্নার থেকে যে হেডটা নিলেন তপু বর্মণ তা প্রতিপক্ষের একজনের গায়ে লেগে গোলবারের বাইরে যায়। এই হতাশা নিয়েই পরে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতি শেষেই সিঙ্গাপুরের ডি বক্সে আক্রমণ শানিত করতে থাকে বাংলাদেশ। কয়েক মিনিটের মধ্যে দুটি আক্রমণ করলেও জালের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। তবে ঠিকই দ্বিতীয় লিড পায় সিঙ্গাপুর। ৫৯ মিনিটে হামি শাহিনের দূর থেকে নেওয়া শট মিতুল প্রতিহত করলেও তা চলে যায় সিঙ্গাপুরের ফরোয়ার্ড ইখসান ফান্ডির কাছে। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে তা সহজেই জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

৬৩ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিলেন শাহরিয়ার ইমন। তবে বদলি নামা বাংলাদেশি ফরোয়ার্ডের শট তালুবন্দি করেন সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক মাহবুদ। ৬৭ মিনিটে অবশ্য মাহবুদ দলকে রক্ষা করতে পারেননি। হামজার পাস ধরে বাংলাদেশকে গোল এনে দেন রাকিব। তার নেওয়া শটটা অবশ্য ধরতে পারতেন সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক। তবে তার হাতের ফাঁক গলে জালে জড়িয়ে যায় বল।

৮২ থেকে ৮৪ মিনিটে বেশ কিছু আক্রমণ করেছিল বাংলাদেশ। তবে সমতায় ফেরার গোলটা পায়নি স্বাগতিকরা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিলেন ফাহিম। কিন্তু বক্সের মধ্যে থেকে যে শটটা নিলেন ফাহিম তা গোলপোস্ট থেকে অনেক দূর দিয়ে। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটেও সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে হামজার শট ডান পোস্টের বাইরের জালে যায়।

শেষ দিকে একটা পেনাল্টিও পেতে পারত বাংলাদেশ। তবে স্বাগতিক খেলোয়াড়দের আবেদনে সাড়া দেননি রেফারি। সিঙ্গাপুরের এক ডিফেন্ডার ফাহিমকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে তা কর্নার দেন রেফারি। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে আরো দারুণ কিছু সুযোগ তৈরি করে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন হামজা-ফাহিমরা। শুধু গোলই পাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। তাই ভালো খেলেও হারের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে হামজা-শমিতদের।

দেশে করোনায় আক্রান্ত আরো ১৩ জন

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে আরো ১৩ জন। তবে একই সময়ে কারো মৃত্যু হয়নি। মঙ্গলবার (১০ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক এক সংবাদ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে।
এযাবৎ দেশে মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৭৬০ জন।

২৪ ঘণ্টায় দুই করোনা রোগী সুস্থ হয়েছে। এযাবৎ মোট সুস্থ হয়েছে ২০ লাখ ১৯ হাজার ৩৭৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১০১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
এযাবৎ ১ কোটি ৫৭ লাখ ২৬ হাজাত ৩৭৯ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এযাবৎ শনাক্তের হার মোট ১৩ দশমিক ০৫। সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়াল

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি, তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো ৩৮ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গেল। মঙ্গলবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) পাঁচজন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের চারজন রয়েছেন।

২৪ ঘণ্টায় ২৭ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। চলতি বছরে এ যাবত মোট চার হাজার ৫৬৪ রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। চলতি বছরের ১০ জুন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ১৫ জন। এর মধ্যে ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ৩ শতাংশ নারী রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি, চলতি বছরে এযাবৎ ডেঙ্গুতে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছে ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয় ও পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।