বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

আফগানিস্তান সীমান্তে ৩০ ‘জঙ্গি’ হত্যার দাবি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর

গত তিন দিনে আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টাকারী ৩০ জন ‘জঙ্গি’ হত্যা করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সেনাবাহিনী আজ শুক্রবার এ খবর জানিয়েছে। গত সপ্তাহে একই সীমান্ত অঞ্চলে আত্মঘাতী হামলায় ১৬ জন সেনা নিহত হওয়ার পর এই খবর সামনে এসেছে।

সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, জঙ্গিরা পাকিস্তান তালেবান বা এর সহযোগী গোষ্ঠীর সদস্য ছিল, তাদের মদদ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি অভিযোগ তুলেছে সেনাবাহিনী।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নিরাপত্তা বাহিনী ব্যতিক্রমী পেশাদারিত্ব, সতর্কতামূলক প্রস্তুতি প্রদর্শন করেছে এবং সম্ভাব্য বিপর্যয় রোধ করেছে। প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়েছে।’

সীমান্তবর্তী জেলা উত্তর ওয়াজিরিস্তানে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যেখানে গত সপ্তাহে পাকিস্তান তালেবানের একটি অংশের আত্মঘাতী হামলায় ১৬ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ‘অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করার’ জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন।
তার কার্যালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমরা দেশ থেকে সকল ধরণের সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতিতে ভারতকে পাকিস্তানে জঙ্গিবাদ উস্কে দেওয়ার জন্যও অভিযুক্ত করা হয়েছে। পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীরা নিয়মিতভাবে অভিযোগ করে যে অন্যরা তাদের ভূখণ্ডে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন করে।

সূত্র : এএফপি

ভিডিও গেম ফিফা-তে ‘নাম্বার ওয়ান’ ছিলেন জোতা!

ফুটবলের প্রতি ডিয়োগো জোতার ভালোবাসার কোন কমতি ছিল না। দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতের ফুটবলেও তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। এমনকি মাঠের গোলের পর ঘাসে বসে দিতেন ট্রেডমার্ক ‘ভিডিও গেম সেলিব্রেশন’। এ থেকেই অনুমান করা যায় ভিডিও গেমের প্রতি কতটা আসক্ত ছিলেন এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।

ইএ স্পোর্টস-এর জনপ্রিয় ভিডিও গেম ফিফা-তে তিনি ছিলেন বিশ্বসেরা। ২০২১ সালে প্লেস্টেশন-এর ‘ফিফা ২১ চ্যাম্পিয়নস লিডারবোর্ডে’ তিনি ছিলেন এক নাম্বারে।

এর আগে, ২০২০ সালের কোভিড মহামারির সময় জোতা উলভসের ই-স্পোর্টস টিমের হয়ে জিতেছিলেন ফিফা-২০ ‘ইপ্রিমিয়ার লিগ ইনভাইটেশনাল’। সেখানে তিনি ফাইনালে হারান তার লিভারপুল সতীর্থ ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডকে।

ফিফা ২৩-এ তিনি ছিলেন ইউরোপের শীর্ষ রেজিস্টার্ড খেলোয়াড়দের একজন, যার ফলে প্লেস্টেশনে তিনি ই-চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন।

২০২১ সালে লিভারপুল তারকা জোতা নিজের নামে গঠন করেন একটি ই-স্পোর্টস দল। পরে ২০২৩ সালে সেটি পুনরায় নামকরণ করা হয় ‘লুনা গ্যালাক্সি’।

জুলাই নিয়ে গান বানাচ্ছি : তাসরিফ খান

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে এবার গান বানাতে চলেছেন গায়ক তাসরিফ খান। সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্ট দিয়ে বিষয়টি তিনি জানিয়েছেন। পোস্ট দিয়ে তাসরিফখান লিখেছেন, ‘জুলাই নিয়ে গান বানাচ্ছি যে গানের লিরিকস লিখবেন আপনারা।’

‘জুলাইয়ের স্লোগান কিংবা আপনার মনোভাব, মতামত সেটা এক শব্দে হোক কিংবা এক লাইন বা কয়েক লাইনে যা-ই হোক ,কমেন্ট বক্সে লিখে যান।
’
তাসরিফ বলেন, ‘আমি আপনাদের লেখা থেকে শব্দ কিংবা লাইন সিলেক্ট করব এবং যার লেখা থেকে যে জায়গা নিয়েছি, তা গানের ভিডিওতে দেখিয়ে দেব। গানের নাম হবে জুলাই, লিরিকসে থাকবে বাংলাদেশ।’

গত মাসেই তাসরিফের নতুন গান মুক্তি পেয়েছে। জিসান খান শুভর সঙ্গে এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।
‘পাহাড় যাব’ গান দিয়ে তারা ৮ বছর পর একসঙ্গে গান করলেন।

দীপিকার সাফল্যে গর্বিত রণবীর

বলিউডের জনপ্রিয় দম্পতি রণবীর সিং এবং দীপিকা পাড়ুকোন সবসময়ই সম্পর্কের নিখুঁত উদাহরণ হয়ে থাকেন। আবারও তার প্রমাণ দিলেন রণবীর। হলিউডের বিশ্ববিখ্যাত ‘ওয়াক অব ফেম’-এ নাম উঠেছে দীপিকার। প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে এই ইতিহাস গড়েন তিনি।
২০২৬ সালের হলিউড ওয়াক অব ফেম নির্বাচিত হয়েছেন এই বলিউড অভিনেত্রী।

দীপিকার এই সাফল্যে রণবীর ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন এক বার্তায় স্ত্রীর প্রতি গর্ব প্রকাশ করলেন।

রণবীর সিং তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দীপিকার একটি অসাধারণ ছবি পোস্ট করে একটি ইমোজির মাধ্যমে লেখেন, ‘দারুণ গর্বিত তোমার জন্য!’

তিনি দীপিকার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টকেও ট্যাগ করেন এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে বিয়ন্সের জনপ্রিয় গান রান দ্য ওয়ার্ল্ড (গার্লস)।

উল্লেখ্য, দীপিকাই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি মোশন পিকচার বিভাগে হলিউড ওয়াক অব ফেম ক্লাস ২০২৬-এ সম্মানিত হয়েছেন।
এই তালিকায় নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন দীপিকা। গতকাল বুধবার (২ জুলাই) এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। এই তালিকায় রয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তের বিখ্যাত তারকা ব্যক্তিত্বদের নাম।

বুধবার হলিউড চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা তালিকায় রয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন, হলিউড অভিনেত্রী এমিলি ব্লান্ট, ফরাসি অভিনেত্রী কোটিলার্ড, কানাডিয়ান অভিনেত্রী র‌্যাচেল ম্যাকঅ্যাডামস, ইতালিয়ান অভিনেতা ফ্রাঙ্কো নিরো এবং সেলিব্রিটি শেফ গর্ডন রামসে।

হলিউড চেম্বার অব কমার্সের ওয়াক অব ফেম সিলেকশন প্যানেল ২০ জুন শত শত মনোনীতদের মধ্য থেকে ৩৫ জনের নাম বাছাই করে। পরে ২৫ জুন চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদ এ তালিকা অনুমোদন করে। দীপিকা পাড়ুকোনকে দীর্ঘদিন ধরেই ট্রেন্ড সেটিং অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০১৮ সালে টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় দীপিকার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০১৭ সালে ‘এক্সএক্সএক্স : রিটার্ন অব জ্যান্ডার কেজ’ সিনেমার মাধ্যমে হলিউডে অভিষেক হয় দীপিকা পাড়ুকোনের।
এতে আরো অভিনয় করেছিলেন ভিন ডিজেল, নিনা ডবরেভ, ডনি ইয়েন, রুবি রোজ এবং স্যামুয়েল এল জ্যাকসন। ভারতীয় অভিনেত্রীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে প্রভাবশালী অভিনেত্রী হিসেবেই বিবেচিত হন দীপিকা পাড়ুকোন।

ভারতে ডেলিভারিম্যান পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে তরুণীকে ধর্ষণ

ভারতে ডেলিভারিম্যান পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই অভিযুক্ত নিজেকে একটি কুরিয়ার ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

এছাড়া ওই ধর্ষক তরুণীকে হুমকি দিয়ে তার ফোনে একটি বার্তা রেখে যায়। যাতে সে হুমকি দেয় যে— এই অপরাধের কথা কাউকে জানালে সে ওই তরুণীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের কন্ডওয়া এলাকায়।

উপ-পুলিশ কমিশনার (জোন ৫) রাজকুমার শিন্ডে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই তরুণীকে একটি কলম দিতে বলেন একটি ডকুমেন্টে সই করার জন্য। যখন তিনি ঘুরে দাঁড়ান, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে দরজা ভেতর থেকে আটকে দেয়।
এরপর কী ঘটেছিল তরুণী সেই বিষয়টি মনে করতে পারছেন না।
তিনি রাত ৮টার দিকে জ্ঞান ফিরে পান এবং তার আত্মীয়দের জানান, যারা পরে পুলিশকে অবহিত করেন।

তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি হয়তো কোনো রাসায়নিক স্প্রে বা চেতনানাশক ব্যবহার করে থাকতে পারে যাতে ওই তরুণী অচেতন হয়ে পড়েন। ওই ব্যক্তি তরুণীর ফোন ব্যবহার করে একটি ভীতিকর বার্তা রেখে যায়, যাতে বলা হয় যে, অপরাধের কথা জানালে সে ছবি ফাঁস করে দেবে। সে নাকি তরুণীর ফোন দিয়ে একটি সেলফি তোলে এবং তার ছবি তুলে রাখে বলে দাবি করে, সেই ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
অভিযুক্তের মুখ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে এবং পুলিশ তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিল রাশিয়া

রাশিয়া আফগানিস্তানের নতুন রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছে বলে বৃহস্পতিবার দেশটি জানিয়েছে। এর ফলে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র রাশিয়া। এখন পর্যন্ত কোনো দেশই তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান এবং পাকিস্তান কাবুলে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়েছে, যা আংশিক স্বীকৃতির ইঙ্গিত বহন করে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মস্কো কাবুলের সঙ্গে নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও মাদকবিরোধী লড়াইয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছে। বিশেষ করে জ্বালানি, পরিবহন, কৃষি ও অবকাঠামো খাতে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

রাশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘ইসলামী আমিরাত আফগানিস্তানের সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান দ্বিপক্ষীয় উৎপাদনশীল সহযোগিতার বিকাশে গতি আনবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রাশিয়ার এই সাহসী পদক্ষেপকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখি।
ইনশাআল্লাহ, এটি অন্যদের জন্যও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

রাশিয়ার এই পদক্ষেপ তালেবান সরকারের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটাতে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয়, কারণ যুক্তরাষ্ট্র আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করেছে এবং তালেবানের শীর্ষ নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে, ফলে আফগানিস্তানের ব্যাংকিং খাত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বাইরে চলে গেছে।

ইতিহাস ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি

রাশিয়ার আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জটিল ও রক্তক্ষয়ী।
১৯৭৯ সালে সোভিয়েত বাহিনী আফগানিস্তানে প্রবেশ করে এবং মুজাহিদদের সঙ্গে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত বাহিনী দেশটি ছেড়ে যায়। তবে ১৫ হাজার সোভিয়েত সেনা নিহত হয়।

২০০৩ সালে রাশিয়া তালেবানকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করেছিল, তবে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এর পর থেকেই তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে মস্কো।
২০২২ সাল থেকে আফগানিস্তান রাশিয়া থেকে গ্যাস, তেল ও গম আমদানি করছে।

তালেবান বর্তমানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে মস্কোর বাইরে একটি কনসার্ট হলে হামলায় ১৪৯ জন নিহত হলে, আইএস খোরাসান (আইএসআইএস-কে) দায় স্বীকার করে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত এই হামলার পেছনে আইএস খোরাসান রয়েছে।

তবে তালেবান সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে প্রধান বাধা রয়ে গেছে নারীদের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়। তালেবান সরকার মেয়েদের জন্য স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে এবং নারীদের পুরুষ অভিভাবক ছাড়া চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। তারা দাবি করে, ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী নারীদের অধিকার রক্ষা করা হচ্ছে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এটি দেখে এখন বিশ্ববাসী অপেক্ষায় থাকবে—আর কোনো দেশ কি তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবে কি না?

সূত্র : রয়টার্স

পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প বললেন, কোনো অগ্রগতি হয়নি

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় ‘একটুও অগ্রগতি’ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এই তথ্য জোনিয়েছেন। তবে ক্রেমলিনের এক সহযোগী বলেছেন, পুতিন আবারও জানিয়ে দিয়েছেন, মস্কো এই সংঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধানে কাজ চালিয়ে যাবে। প্রায় এক ঘণ্টার ওই ফোনালাপে সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহে যে বিরতি এসেছে, তা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন পুতিনের সহকারী ইউরি উশাকভ।

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চেষ্টাগুলো ইতিমধ্যেই কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেও ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে—তিনি যেন পুতিনকে আলোচনায় রাজি করাতে আরো কার্যকর ভূমিকা নেন। ফোনালাপ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলের এক উপশহরে একটি আবাসিক ভবনে রুশ ড্রোন হামলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে জানায় কিয়েভের কর্মকর্তারা। এতে বোঝা যাচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।

কিয়েভে রয়টার্সের সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, রাজধানীর আকাশে ড্রোন প্রতিরোধে বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলোর সঙ্গে ব্যাপক গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এদিকে, দেশের পূর্বাঞ্চলে রুশ গোলাবর্ষণে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ওয়াশিংটনের এক বিমানঘাঁটিতে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তার (পুতিনের) সঙ্গে কোনো অগ্রগতি করতে পারিনি।’ এরপর তিনি আইওয়ায় একটি নির্বাচনী প্রচারণা অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

ইতোমধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ডেনমার্কে সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি শুক্রবারের মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার আশা করছেন, যাতে সাম্প্রতিক অস্ত্র সরবরাহের স্থগিতাদেশ নিয়ে আলোচনা করা যায়। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ করিনি। কিন্তু বাইডেন এত বেশি অস্ত্র পাঠিয়েছেন যে আমাদের নিজেদের প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।’

ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমরা এত বেশি অস্ত্র দিয়েছি যে এখন আমাদের নিজেদের জন্য চিন্তা করতে হচ্ছে।’ এদিকে পেন্টাগনের কিছু সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্র পাঠানো আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই অবস্থায় ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার অভিযান এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা আরো বাড়ছে।

পুতিন আবারও দাবি করেছেন, ‘মূল কারণগুলো—যেমন ন্যাটো সম্প্রসারণ এবং ইউক্রেনে পশ্চিমাদের সমর্থন—সমাধান না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ হবে না। মস্কো চায় ইউক্রেনসহ পূর্ব ইউরোপের রাজনীতিতে তাদের প্রভাব আরো বাড়াতে, ন্যাটো কর্মকর্তারা এমনটাই বলে আসছেন।’

এই অস্ত্র সরবরাহের বিরতিতে ইউক্রেন হতবাক হয়ে পড়েছে এবং ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান নিয়েও অনেক প্রশ্ন উঠছে। কারণ কয়েকদিন আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, কিয়েভের জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ছাড় করার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যেই ইউক্রেন বুধবার কিয়েভে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত দূতকে তলব করে সামরিক সহায়তার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছে এবং বলেছে, অস্ত্র সরবরাহে বিরতি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলবে।

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ইউক্রেন অনেকটাই নির্ভরশীল—বিশেষ করে দ্রুতগামী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে। ক্রেমলিনের উপদেষ্টা উশাকভ বলেছেন, মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী থাকলেও শান্তি আলোচনা কেবল মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে হওয়া উচিত। তিনি আরো জানান, ফোনালাপে ট্রাম্প ও পুতিন মুখোমুখি বৈঠক নিয়েও কোনো আলোচনা করেননি।

সূত্র : রয়টার্স

হজ শেষে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ৮৬৪ হাজি

পবিত্র হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৬৮ হাজার ৮৬৪ জন বাংলাদেশি হাজি। শুক্রবার (৪ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফেরত আসা যাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫ হাজার ৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫৯ হাজার ৮৫৭ জন। হজযাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স নামে তিনটি বিমান সংস্থা যুক্ত রয়েছে।

এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ফিরিয়ে এনেছে ২৯ হাজার ৮৬০ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ২৬ হাজার ২২৮ এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৮ হাজার ৭৭৬ জন হাজিকে। এ পর্যন্ত ১৭৬টি ফিরতি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৮২ ও সৌদি এয়ারলাইন্স ৭১টি ফ্লাইট চালিয়েছে, আর ফ্লাইনাস পরিচালনা করেছে ২৩টি ফ্লাইট।

এ বছর হজ পালনে গিয়ে ৪২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন।
তাদের মধ্যে ৩১ জন পুরুষ এবং ১১ জন নারী। হজ অফিসের বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও অসুস্থতা ছিল প্রধান।

হজযাত্রা শুরু হয় ২৯ এপ্রিল থেকে এবং শেষ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের উদ্দেশে যায় ৩১ মে। এবারের হজ অনুষ্ঠিত হয় ৫ জুন।
ফিরতি হজ ফ্লাইট আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

ইসরায়েলি হামলায় ৩ শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত

গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সময়ে ইসরায়েল ‘২৬টি রক্তাক্ত গণহত্যা’ ঘটিয়েছে। খবর আলজাজিরার।

বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫৮১ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে অন্তত ৭৩ জন বৃহস্পতিবার ভোর থেকে নিহত হন, যাদের মধ্যে ৩৩ জন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) সহায়তা কেন্দ্রের সাহায্যপ্রার্থী ছিলেন।

আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১৩ জন নিহত হন। এ ছাড়া, গাজা শহরের পশ্চিমে উদ্বাস্তুদের আশ্রয়স্থল মুস্তাফা হাফেজ স্কুলে হামলায় ১৬ জন নিহত হন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন বলে আলজাজিরাকে জানিয়েছে চিকিৎসা সূত্র।

গাজা সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে গাজার আশ্রয়কেন্দ্র ও বাস্তুচ্যুত কেন্দ্রগুলোতে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
সেখানে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং খাবারের সন্ধানে থাকা ক্ষুধার্ত বেসামরিক নাগরিকরা ছিল।

এদিকে গাজায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে ‘প্রয়োজনীয় শর্তে’ ইসরায়েল রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে গত বুধবার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস জানিয়েছে, তারা মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, তখন থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৫৭ হাজার ১৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
আহত হয়েছে আরো এক লাখ ৩৪ হাজার ৫৯২ জন। হতাহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যকে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে জাতিসংঘ।

রিপাবলিকান শিবিরে উত্তেজনা, ঝুলে আছে ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার স্বপ্নের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল’ বিল পাসের পথে এখনো রয়ে গেছে নাটকীয়তা। কর এবং ব্যয় কমানোর জন্য ট্রাম্পের তৈরি করা এই বিল এগিয়ে নিতে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে (নিম্নকক্ষ) রাতভর প্রচেষ্টা চালিয়েও রিপাবলিকানরা পর্যাপ্ত ভোট নিশ্চিত করতে পারেনি।

হাউস স্পিকার মাইক জনসন ঘোষণা দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে এই বিলের জন্য ভোটের সময় দীর্ঘক্ষণ চালু রাখা হবে। হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন কট্টরপন্থী রিপাবলিকান এখনো বিলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ইতোমধ্যে চারজন রিপাবলিকান প্রতিনিধি এই বিলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আর তিনজন রিপাবলিকান প্রস্তাব থেকে সরে গেলেই বিলটি হাউসে মুখ থুবড়ে পড়বে।

যদি স্পিকার জনসন ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে হাউস রিপাবলিকানরা প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে পারেন, তাহলে বিলটি চূড়ান্ত ভোটে তোলা হবে দ্রুতই। কিন্তু ব্যর্থ হলে তা হবে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় ধাক্কা।

এদিকে খোদ প্রেসিডেন্টের পছন্দের বিল হওয়ায় তার প্রত্যাশা ও চাপ পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে।

বুধবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক ও রাজনীতিক ড. মেহমেত ওজ, যিনি বর্তমানে মেডিকেইড সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, বিলের স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট অংশ বিশেষ করে গ্রামীণ হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ এবং ‘প্রোভাইডার ট্যাক্স’ কিভাবে তাদের এলাকায় প্রভাব ফেলতে পারে।

দক্ষিণ ডাকোটার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডাস্টি জনসন বলেন, “হোয়াইট হাউজের বৈঠকগুলো ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, সদস্যরা ধীরে ধীরে ‘হ্যাঁ’ বলার দিকে ঝুঁকছেন।”

তবে কট্টরপন্থী হাউজ ফ্রিডম ককাস এখনো বিরোধিতায় অনড়। তারা বিলের নানা দিক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে একটি মেমো প্রকাশ করেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—অতিরিক্ত ঘাটতি, দুর্বল এনার্জি ট্যাক্স ক্রেডিট, এবং মেডিকেইড সংক্রান্ত ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ পরিবর্তনের কথা।

বিলের বর্তমান সংস্করণে রিপাবলিকান প্রতিনিধিরা একমত না হলে, তা আবারও সিনেটে পাঠাতে হবে। যেখানে পুরো প্রক্রিয়াটি আবারও প্রথম থেকে শুরু করতে হবে।
এদিকে আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের আগেই বিলটি পাস করিয়ে ট্রাম্পের মন রক্ষা করতে চান হাউসের নেতৃবৃন্দ।