মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তে নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানালেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকার উত্তরায় বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ঢাকার চীনা দূতাবাস থেকে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে ওয়াং ই বলেন, “ঢাকায় বাংলাদেশের একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ব্যাপক হতাহতের খবর শুনে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

এর আগে আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অন্তত ১৬৫ জন।

বিমান বিধ্বস্তের এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশ-বিদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশের নিকট বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে চীন তাদের গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেছে।

চাঁদাবাজ-লুটেরা নয়, দেশপ্রেমিকদের রাজনীতিতে আসার আহ্বান জামায়াত আমিরের

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতি যেন হয় জনসেবার মাধ্যম, লুটপাট বা ক্ষমতার অপব্যবহারের হাতিয়ার নয়। তিনি বলেন, “ভিক্ষুক, লুটেরা কিংবা চোরের মানসিকতা নিয়ে রাজনীতিতে আসবেন না। যারা মানুষের ভালোবাসা ও সম্পদের পাহারাদার হতে পারবেন, তারাই রাজনীতিতে আসুন।”

মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর সদরের মমিনপুরে জামায়াত নেতা শাহ আলমের কবর জিয়ারতের সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন। ঢাকায় ১৯ জুলাইয়ের জাতীয় সমাবেশে নিহত শাহ আলমকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “দেশের মানুষ আজ ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট। তাদের ক্ষোভ প্রশমনের একমাত্র ক্ষমতা আল্লাহর, কিন্তু আমাদেরও চেষ্টা করতে হবে।”

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতায় দেশে দুর্নীতি, ঘুষ ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। “যারা মানুষের পকেট থেকে টাকা চুরি করে, লুণ্ঠন করে দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েন, তাদের বলব—ভিক্ষা করা অনেক সম্মানজনক, অন্তত চাঁদাবাজি করবেন না,”—বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে পালাক্রমে অনেকেই দেশ পরিচালনা করেছেন, তবে জনগণ তাদের কর্মকাণ্ডের সাক্ষী। “ভালো করলে তার সাক্ষী আছে, মন্দ করলেও।”

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপকল্প তুলে ধরে জামায়াত আমির জানান, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে কেউ ঘুষ নেবে না, কেউ চাঁদাবাজি করবে না। যদি কেউ ঘুষের জন্য হাত বাড়ায়, তার হাত অবশ করে দেওয়া হবে। এই বাংলাদেশই আমরা গড়তে চাই।”

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত থেকে ভবিষ্যতে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী নির্বাচিত হলে, তারা কোনো সরকারি প্লট নেবেন না, বিনা ট্যাক্সের গাড়িও ব্যবহার করবেন না। “এক দেশে দুই আইন চলবে না। আমরা নিজেরাও নেব না, কাউকে নিতেও দেব না। রাজপথে ও সংসদে গর্জে উঠব,”—বলেন তিনি।

এর আগে পাবনা থেকে হেলিকপ্টারে করে রংপুরের মমিনপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন ডা. শফিকুর রহমান এবং শাহ আলমের কবর জিয়ারত করেন।

এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইটে অবতরণের পর আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

হংকং থেকে নয়াদিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট অবতরণের পর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের অক্সিলিয়ারি পাওয়ার ইউনিটে (এপিইউ) আগুন ধরে যায়। মঙ্গলবার এআই-৩১৫ নম্বর ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণের পরপরই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, যাত্রীরা বিমান থেকে নামার সময়ই এপিইউতে আগুন লাগে, তবে সবাই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। বিমানের কেবিন ক্রুসহ সকল আরোহী অক্ষত রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিমানের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আগুন শনাক্তের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এপিইউ বন্ধ করে দেয়।

বিমানটি একটি এয়ারবাস A321, যা দু’টি ইঞ্জিনচালিত। আগুনে বিমানের কিছু ক্ষতি হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালককে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এই অগ্নিকাণ্ড এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার একাধিক বিমান দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা ত্রুটিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মুরলিধর মোহল জানিয়েছেন, গত ছয় মাসে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের পাঁচটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এয়ার ইন্ডিয়া নয়টি নোটিশ পেয়েছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় এয়ার ইন্ডিয়ার বহরের অন্তত তিনটি পৃথক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার কোচি থেকে মুম্বাইগামী একটি ফ্লাইট অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে, এতে বিমানের কাঠামো ও রানওয়ের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই দিন দিল্লি থেকে কলকাতাগামী আরেকটি ফ্লাইট শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়, কারণ উড্ডয়নের সময় তা ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার গতিতে ছুটছিল এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়ে।

এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনা এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ ও ২৪ জুলাইয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত

উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় শোক জানিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ২৩ ও ২৪ জুলাইয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য সকল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। নতুন পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।

তবে পূর্ব ঘোষিত অন্যান্য পরীক্ষার তারিখ ও সময় অপরিবর্তিত থাকবে।

গত সোমবার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল প্রাঙ্গণে প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে স্কুলের প্রাইমারি শাখার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা দগ্ধ হন এবং বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণে জাতীয় শোক দিবসও পালিত হয়েছে।

বাফুফে প্রথমবারের মতো এশিয়ান ফুটসাল বাছাইয়ে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) প্রথমবারের মতো এশিয়ান ফুটসাল বাছাইপর্বে অংশগ্রহণের জন্য দল গঠন করেছে। আন্তর্জাতিক স্তরে কখনো ফুটসাল দল পাঠানো হয়নি, তাই বাফুফে সম্প্রতি জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে দুই দিনব্যাপী ট্রায়ালের আয়োজন করে। প্রায় ৬৫০ জনের মধ্য থেকে নির্বাচকরা ৫২ জনকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করেছেন।

ট্রায়ালে সাবেক জাতীয় ফুটবল তারকা আলফাজ আহমেদ বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, প্রত্যেকে অন্তত দশ মিনিট করে খেলায় সুযোগ পায় এবং ৬-৭ জন গোলরক্ষকসহ মোট ৫২ জন খেলোয়াড় বাছাই করা হয়েছে। এছাড়া, শামীম ও রাজু নামের আরও দুই সাবেক ফুটবলারও বিচারক ছিলেন।

বাফুফের ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান বলেন, ‘বিদেশি কোচ ইরান থেকে আসার পর পরবর্তী বাছাই শুরু হবে। ৫২ জনের মধ্য থেকে আরও কমিয়ে ২৪ জনের তালিকা ১৯ আগস্টের মধ্যে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনে (এএফসি) জমা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১৪ জন মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপ বাছাই খেলায় অংশ নিবে।’

২০-২৪ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় এশিয়ান কাপ ফুটসাল বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে এশিয়ার সর্বাধিক চ্যাম্পিয়ন ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং স্বাগতিক মালয়েশিয়া। আট গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও সেরা সাত রানার্স-আপ আগামী বছর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ ফুটসালে খেলার সুযোগ পাবে। ইরান গ্রুপের প্রধান প্রার্থীবল হওয়ায় বাংলাদেশ মূলত রানার্স-আপ হওয়ার লড়াইয়ে থাকবে।

সুনামগঞ্জ সীমান্তে বালু তুলতে গিয়ে দুই বাংলাদেশি শ্রমিককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার চেলা নদী থেকে বালু উত্তোলনের সময় দুই বাংলাদেশি শ্রমিককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সোমবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের শারপিনপাড়া গ্রামের কাছে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ১২৪১ এইচএস পেরিয়ে ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করলে বিএসএফ তাদের আটক করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে ওই দুই শ্রমিক নদীর ভারতীয় অংশে গিয়ে বালু উত্তোলন করছিলেন। এ সময় বিএসএফের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের আটক করে নিজেদের চেলা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত আটক শ্রমিকদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, “ঘটনাটি আমরা শুনেছি, তবে এখনো আটককৃতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিজিবি অধিনায়কের আওতাধীন।”

এ বিষয়ে সিলেট ৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হক জানান, “চেলা নদী থেকে চোরাইভাবে বালু তোলার সময় শ্রমিকেরা ভারতের সীমানায় ঢুকে পড়েন। তখন বিএসএফ তাদের আটক করে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছি। কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধান করে শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।”

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর দলীয় প্রধান থাকা নিয়ে বিএনপির ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান: সালাহউদ্দিন আহমেদ

প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবেন কি না— এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মোটামুটি একমত থাকলেও, বিএনপি এ ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে ১৭তম দিনের সংলাপ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী একই ব্যক্তি হওয়ায় কোনো বাধা নেই। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দল বা জোট এটি ঠিক করবে। তবে বিএনপির প্রস্তাব হলো— সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে ভিন্নমত (ডিসেন্টিং নোট) রাখার সুযোগ নিশ্চিত করা। তার মতে, একটি দলের মধ্যেই একাধিক নেতা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার উপযুক্ত হতে পারেন। ফলে একজন যদি প্রধানমন্ত্রী না থাকতে পারেন, তবে দলীয় প্রধান হিসেবে অন্যকে দায়িত্ব দেওয়া যেতেই পারে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনতন্ত্র নিয়ে আলোচনায় তিনি বলেন, পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে, যেখানে থাকবেন সরকারি দলের প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার, বিরোধী দলের নেতা, ডেপুটি স্পিকার (বিরোধী দল) এবং সংসদের তৃতীয় বৃহত্তর দলের একজন প্রতিনিধি। এই কমিটি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে প্রধান উপদেষ্টার জন্য নাম আহ্বান করবে। ঐকমত্যে এলে সেখান থেকেই মনোনয়ন হবে। না হলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে যাবে প্রক্রিয়া।

দ্বিতীয় প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি ও বিরোধী দল পাঁচজন করে এবং তৃতীয় দল দুইজনের নাম দিবে। এই ১২ জনের তালিকা থেকে সার্চ কমিটি প্রধান উপদেষ্টার নাম চূড়ান্ত করার চেষ্টা করবে। তাতেও ব্যর্থ হলে র‍্যাংক চয়েজ ভোটিংয়ের প্রস্তাব রয়েছে। তবে এই পদ্ধতি নিয়ে এখনও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি।

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, প্রয়োজনে ১৩তম সংশোধনীর ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনরায় কার্যকর করা যেতে পারে, তবে রাষ্ট্রপতির অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের বিধান বাতিল করার সুপারিশ রয়েছে। এই প্রস্তাবগুলো এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু হলে সংবিধানের ১২৩(৩) ও ৭২(১) অনুচ্ছেদে সংশোধন প্রয়োজন হবে। প্রথমটি সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন হলে আগের সংসদ বহাল থাকার বিধান সংক্রান্ত, দ্বিতীয়টি অধিবেশন আহ্বান ও সময়সীমা বিষয়ক। বিএনপির মতে, এসব পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয় এবং এতে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের অবকাশ নেই।

সংলাপে সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও, বিএনপি সেই অংশে অংশ নেয়নি। সালাহউদ্দিন জানান, এই বিষয়ে তাদের মতামত আগামী দিনের আলোচনায় উপস্থাপন করা হবে।

সর্বসম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধারণা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বসম্মতি সবসময় সহজ নয়। তবে ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সময় তিন দলীয় ঐকমত্য হয়েছিল এবং তা কার্যকরও ছিল। সুতরাং রাজনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই আমরা আবারও একমত হতে পারি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিভক্তি চাই না, চাই ঐকমত্য। বিভক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হলে ভবিষ্যতে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকতে পারে।”

সালাহউদ্দিনের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে— বিএনপি একদিকে গঠনমূলক সংলাপে আগ্রহী, অন্যদিকে রাজনৈতিক ভারসাম্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতে সমঝোতা চাইছে।

ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা ইরানের উদ্দেশ্য নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইসরায়েলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা ইরানের রাষ্ট্রীয় নীতি নয় এবং দেশটি কখনোই ইসরায়েলের ধ্বংস কামনা করেনি। সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, “ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলাই আমাদের নীতি নয়। আমরা কখনোই চাইনি ইসরায়েলের ধ্বংস হোক। অনেক সময় আমাদের সর্বোচ্চ নেতা বা আমরাও বলি ‘যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হোক’ কিংবা ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’, তবে এর অর্থ শাব্দিক নয়—এগুলো আধিপত্যবাদী রাজনীতির পতন কামনার প্রতীক। সাধারণ জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি আমাদের উদ্দেশ্য নয়।”

তিনি জানান, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী ইরান হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথি আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও এই সমর্থন অব্যাহত থাকবে। আরাগচির ভাষায়, “তারা ন্যায়সংগত কারণে সংগ্রাম করছে, তাই আমরা তাদের নীতিগতভাবে সমর্থন জানাচ্ছি।”

আন্তর্জাতিক দ্বৈতনীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যেমনটা সত্য যে আমরা হামাস, হিজবুল্লাহ এবং হুথিদের সমর্থন দিচ্ছি, তেমনি এটাও সত্য যে যুক্তরাষ্ট্র দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। অথচ সে বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্ন তোলা হয় না। মার্কিন সহায়তায় ইসরায়েল যা করছে, তা আসলে সাধারণ মানুষ হত্যার নামান্তর।”

সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক একটি মার্কিন অভিযোগ নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার মন্ত্রণালয় সম্প্রতি দাবি করেছে, ২০২০ সালে মার্কিন রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ এক কমান্ডার কাসেম সোলায়মানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরান গুপ্তঘাতক নিয়োগ করেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ফরহাদ শেকেরি নামের ৫১ বছর বয়সী সেই ব্যক্তি এখনও ইরানে অবস্থান করছেন।

জবাবে আরাগচি বলেন, “আমরা অন্য দেশের রাষ্ট্রপতি তো দূরের কথা, আমাদের ভূখণ্ডের বাইরেও কোনো সাধারণ নাগরিককে হত্যা করি না। এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থী।”

সাক্ষাৎকারে আরাগচির এসব মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন দিলেন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী

ঢাকার উত্তরায় একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুন লাগার ঘটনায় অসীম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী। স্কুলে ক্লাস চলাকালে দুর্ঘটনার মুখে পড়েও নিজের জীবন বাজি রেখে অন্তত ২০ শিক্ষার্থীকে নিরাপদে সরিয়ে দেন তিনি। পরে আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এই সাহসিনী। তার এই আত্মত্যাগে শোকাহত হলেও গর্বিত পুরো দেশবাসী।

সোমবার (২১ জুলাই) উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশের একটি ভবনে প্রশিক্ষণ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় পুরো ভবনে। চারপাশে হাহাকার, আতঙ্ক ও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পরিবেশেও নিজের দায়িত্ব থেকে একচুল সরে যাননি মাহেরীন। শিশু শিক্ষার্থীদের একজন একজন করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান তিনি। একপর্যায়ে আগুনে নিজেই আটকে পড়েন। শরীরের অধিকাংশ অংশ দগ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। রাতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায়, রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ি গ্রামের সন্তান মাহেরীন চৌধুরী ছিলেন স্থানীয় বগুলাগাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্বাহী কমিটির সভাপতি। পরিবারেও তার পরিচিতি ছিল বিশিষ্ট। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাতিজি। তার বাবা মহিতুর রহমান ছিলেন জিয়ার খালাতো ভাই এবং মা সাবেরা চৌধুরী সমাজসেবায় যুক্ত ছিলেন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেলে গ্রামের স্কুল মাঠে জানাজা শেষে তাকে বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়। জানাজায় অংশ নেন হাজারো মানুষ। তার স্বামী মনসুর হেলাল কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, মৃত্যুর আগে মাহেরীন তার হাত ধরে বলেছিলেন, “আমার সঙ্গে আর দেখা হবে না।” তিনি আরও জানান, মাহেরীনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তুমি নিজের দুই সন্তান, তাদের কথা একবারও ভাবলে না?” উত্তরে মাহেরীন বলেছিলেন, “ওরাও তো আমার সন্তান। আমি তাদের একা রেখে আসতে পারিনি।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর সবাই যখন জীবন বাঁচাতে ছুটছিল, তখন মাহেরীন শিশুদের নিয়ে বের হচ্ছিলেন, আবার ফিরে যাচ্ছিলেন বাকি শিক্ষার্থীদের জন্য। সেই ফেরাটা আর শেষ হয়নি।

তার আত্মত্যাগে শোকাহত বগুলাগাড়ি এলাকার মানুষও। স্থানীয় বাসিন্দা ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মোস্তফা আজাদ বলেন, “তিনি ছিলেন একজন আদর্শ মানুষ। বই-খাতা কিনে দিতেন এলাকার দরিদ্র শিশুদের। আমরা একজন মানবিক মানুষকে হারালাম।”

বগুলাগাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহুবার রহমান বলেন, “তিনি শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন একজন মানবিক বীর। শিক্ষক সমাজ তার আত্মত্যাগে গর্বিত এবং গভীরভাবে শোকাহত।”

মাহেরীন চৌধুরীর এই আত্মত্যাগের স্মৃতি শুধু তার শিক্ষার্থীদের নয়, পুরো জাতির হৃদয়ে দীর্ঘদিন জেগে থাকবে সাহস ও দায়িত্ববোধের অনন্য উদাহরণ হয়ে।

এক দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৪৪৪, মৃত্যু ৩ জনের

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায়—সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত—নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৪৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৩ জন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক দিনে বরিশালে সর্বাধিক ১২৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এরপর চট্টগ্রামে ৫১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৬৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৮১ জন ও ঢাকা উত্তর সিটিতে ৪০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া খুলনায় ৩৩ জন, রাজশাহীতে ২৯ জন, ময়মনসিংহে ৮ জন, রংপুরে ৫ জন ও সিলেটে ২ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪০২ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এর ফলে চলতি বছর দেশে মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ হাজার ৬২৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮ হাজার ২৬ জন এবং মারা গেছেন ৬৫ জন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছিলেন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়—এক বছরে ডেঙ্গুতে মারা যান এক হাজার ৭০৫ জন এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার বিস্তার বাড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়ে। তাই সতর্কতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।