মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

অনিয়মের মাধ্যমে প্লট পেয়েছেন ১৫ গাড়িচালক, দুদকের অভিযান

রাজধানীর কেরানীগঞ্জে রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে ‘বিশেষ বিবেচনায়’ প্লট বরাদ্দের তালিকায় উঠে এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের ১৫ জন গাড়িচালকের নাম।

তাদের নামে তিন ও পাঁচ কাঠার প্লট বরাদ্দ দিতে রাজউককে চিঠি দিয়েছিল গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। যদিও বিশেষ বিবেচনায় প্লট বরাদ্দ দিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ‘অসামান্য অবদানের’ জন্য চার শ্রেণির মানুষকে নির্বাচন করার কথা ছিল।

গতকাল বুধবার রাজউকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালিত একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযানে এ তথ্য উঠে আসে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক আক্তার হোসেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় রাজউকের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো একটি চিঠিতে শেখ হাসিনার কার্যালয়ে কর্মরত ১৫ গাড়িচালকের নাম উল্লেখ করে তাঁদের মাঝে তিন ও পাঁচ কাঠার প্লট বরাদ্দের ‘অনুমতি’ দেওয়া হয়।

দুদক সূত্র জানায়, চিঠিটি স্বাক্ষর করেছিলেন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন যুগ্ম সচিব মো. মিজানুর রহমান। তাতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত ১৫ জন গাড়িচালক কর্তৃক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজউকের আওতাধীন ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে প্রতি দুজন আবেদনকারীর অনুকূলে একটি করে ৩ কাঠার প্লট এবং তিনজন আবেদনকারীর অনুকূলে একটি ৫ কাঠার প্লট বরাদ্দ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
তালিকাভুক্ত চালকদের মধ্যে আছেন ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের গাড়িচালক, বিভিন্ন সচিব, প্রটোকল অফিসার ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীদের চালকেরা।

দুদকের অভিযানে রাজউকের পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দসংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২০০৯ সালের নীতিমালার আলোকে সেখানে ৯৩৪টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নীতিমালার ১৩/এ ধারা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বরাদ্দে একাধিক অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

ডিএনএ টেস্টে নিহত ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাব।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, গত ২১ জুলাই উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের কারণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২২ জুলাই সিআইডির ডিএনএ ল্যাবের সদস্যরা ঢাকা সিএমএইচে রক্ষিত মৃতদেহ ও দেহাংশ থেকে মোট ১১টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। এই নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করে মোট ৫ জন নারীর ডিএনএ প্রফাইল পাওয়া যায়।

তিনি জানান, সংগৃহীত নমুনা থেকে প্রস্তুতকৃত প্রফাইল ও ঘটনার পর থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৫টি পরিবারের মোট ১১ জন সদস্যের প্রফাইল বিশ্লেষণ করে ৫টি মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। এর মধ্যে গৃহীত একটি নমুনা থেকে একজন নারীর ডিএনএ প্রফাইল পাওয়া যায়। যা মো. ফারুক হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির কন্যাসন্তান (ওকিয়া ফেরদৌস নিধি) বলে প্রমাণিত হয়।

আর ছয়টি নমুনা থেকে একজন নারীর ডিএনএ প্রফাইল পাওয়া যায়, যা মো. বাবুল ও মাজেদা দম্পতির কন্যাসন্তান (লামিয়া আক্তার সোনিয়া) বলে প্রমাণিত হয়।

অন্যদিকে দুটি নমুনা থেকে একজন নারীর ডিএনএ প্রফাইল পাওয়া যায়, যা মো. আব্বাস উদ্দিন ও মোসা. মিনু আক্তার দম্পতির কন্যাসন্তান (আফসানা আক্তার প্রিয়া) বলে প্রমাণিত হয়।

একইভাবে একটি নমুনা থেকে একজন নারীর ডিএনএ প্রফাইল পাওয়া যায়, যা মো. শাহাবুল শেখ ও মিসেস মিম দম্পতির কন্যাসন্তান (রাইসা মনি) বলে প্রমাণিত হয়।

এ ছাড়া একটি নমুনা থেকে একজন নারীর ডিএনএ প্রফাইল পাওয়া যায়, যা আব্দুল কাদির ও উম্মে তামিমা আক্তার দম্পতির কন্যাসন্তান (মারিয়াম উম্মে আফিয়া) বলে প্রমাণিত হয়।

এশিয়া কাপ নিয়ে যে সিদ্ধান্ত হলো এসিসির সভায়

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সভা ঢাকায় হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। সেই অনিশ্চয়তা কেটে গিয়েছে। দুই দিনব্যাপি এসিসির সভার প্রথম দিন আজ শেষ হয়েছে। সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এশিয়া কাপ নিয়ে খুব শিগগিরই চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।

আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে এবারের এশিয়া কাপ হবে। মহাদেশীয় টুর্নামেন্টটি নিয়ে সভা শেষে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও এসিসির সভাপতি মহসিন নাকভি বলেছেন, ‘এই বিষয়ে শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। আমরা বিসিসিআই-এর সঙ্গে আলোচনা করছি এবং আশা করি খুব দ্রুতই বিষয়টির সমাধান হবে। আমরা শিগগিরই এটি ঘোষণা করব।
(ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ) আমরা ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করি।’

অনেক বোর্ডের প্রতিনিধি স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও অনলাইনে ছিলেন। এসিসির ২৫ সদস্যই অংশ নেওয়ায় খুশি হয়েছেন মহসিন। তিনি বলেছেন, ‘প্রথমত, আলহামদুলিল্লাহ, এজিএম মিটিং খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এসিসিতে আমাদের ২৫ জন সদস্য আছেন এবং ২৫ জন সদস্যই এই মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয়ত, আমি এখানে আগত সব সদস্যকে এবং যারা ভার্চুয়ালি এই মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে মহসিন বলেছেন, ‘আমি বিশেষভাবে আমিনুল ভাইকে তার আতিথেয়তার জন্য এবং বিসিবিকে তাদের অসাধারণ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা ক্রিকেটের উন্নতির জন্য কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমাদের সংস্থায় কোনো রাজনীতি চাই না।’

২০২৭ এশিয়া কাপ হবে বাংলাদেশে।
সেই টুর্নামেন্ট নিয়ে মহসিন বলেছেন, ‘আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি এবং আমিনুল ভাই কিছু অমীমাংসিত বিষয় সমাধান করব এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটি সম্পন্ন করব।’

ভারতের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কৌশলী উত্তর দেন মহসিন। তিনি বলেছেন, ‘অনেক দেশই বিভিন্ন কারণে আসতে পারেনি, এটা স্বাভাবিক। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের ২৫ জন সদস্যই অংশগ্রহণ করেছেন।’

৩৪ রানে নেই বাংলাদেশের ৬ উইকেট

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লিটন দাস। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে ১১৪ রান করে সিরিজসেরাও হয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

কিন্তু ঘরের সিরিজে যেন ‘পুরনো’ লিটন। নেই ব্যাটে হাসি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজের কোনো ইনিংসেই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। প্রথম টি-টোয়েন্টি ১ রান করার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয়টিতে সমান ৮ রান করে করেছেন। অথচ, ধবলধোলাইয়ের ম্যাচে বাংলাদেশি অধিনায়ককে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।

কেননা আজকের লক্ষ্যটা যে বড়, ১৭৯ রানের।
কিন্তু আজও ব্যর্থ হয়েছেন লিটন। দলের নেতা ও অভিজ্ঞ ব্যাটারের মতোই ব্যর্থ বাংলাদেশের অন্য ব্যাটাররাও। আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দিয়েছেন তারা। এতটাই যে স্কোরকার্ডে ২৫ রান হতেই ৫ উইকেট নেই বাংলাদেশের।

বাংলাদেশকে ধ্বংসস্তূপে দাঁড় করিয়েছেন পাকিস্তানের দুই পেসার সালমান মির্জা ও ফাহিম আশরাফ। শুরুটা করেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষেই অভিষেক হওয়া বাঁহাতি পেসার সালমান। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে তানজিদ হাসান তামিম উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ হারিসের ক্যাচ বানিয়ে।

স্কোর বোর্ডে রান না তুলতেই ওপেনারকে হারানোয় বাংলাদেশকে পথ দেখানোর কথা ছিল লিটনের। তবে তিনি পারেননি।
পরে তার পথ অনুসরণ করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ (৯), জাকের আলি অনিক (১) ও শেখ মেহেদী (০)। এর মধ্যে জাকের ও মেহেদী আউট হয়েছেন সালমানের করা পঞ্চম ওভারে দ্বিতীয় ও চতুর্থ বলে।

তাদের বিদায়ের পরে ড্রেসিংরুমের রাস্তা মেপেছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারিও। ৫ রানে পাকিস্তানের অধিনায়ক আগা সালমানের বলে বোল্ড হয়ে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ ওভার শেষে ৩৬ রান ৬ ‍উইকেটে। ক্রিজে আছেন নাঈম শেখ (৯) ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (১)।

‘বন্ধু ফোন দিয়ে বলল, তোমার আরেকটু ঢেকে পোশাক পরা উচিত’

এবার পোশাক নিয়ে কথা বললেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। জানালেন একসময় সমাজ তাকে খারাপ অভিনেত্রী হিসেবে চিহ্নিত করে। এই অভিনেত্রীব বলেন, ‘আমার দ্বিতীয় বিচ্ছেদের পর নিজেকে শুধু ব্যর্থই মনে হয়নি, সমাজ আমাকে চিহ্নিত করতে শুরু করে একজন খারাপ নারী হিসেবে। আর সেটাই আমাকে ভেঙে দেয়।
তখন থেকে নিজের অধিকার দাবি করতে শুরু করি, নিজের স্বাধীনতার জন্য লড়তে শুরু করি।’

বাঁধন বলেন, ‘একটা সময় আমিও একটি সুন্দর-সাধারণ মেয়ে ছিলাম, সে সময় এমন পোশাক-আশাক পরতাম, যা সমাজ প্রত্যাশা করত। বাবা-মায়ের পছন্দের পোশাক পরতাম, যেমনটা সমাজ চায়—সেভাবেই চলতাম। কখনো জিন্স পরিনি, সমাজের চাপেই।
কারণ জিন্স নাকি খারাপ মেয়েরা পরত!’

এরপর বাঁধন উল্লেখ করেন, ‘আমি ঠিক করেছিলাম, আমি হবো সমাজের চোখে পারফেক্ট মেয়ে—যেমনটা সমাজ চায়, তেমনই নিজেকে গড়ে তুলব। কিন্তু এরপর আমার পুরো পৃথিবীটাই ভেঙে পড়ল। একটা ট্রম্যাটিক সংসার জীবন থেকে বাঁচতে আমি বিচ্ছেদ চাই; যা আমাকে রিহ্যাব অবধি নিয়ে যায়। এর পরই আমি লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিই, ২০০৬ সালে।
আর তার মাধ্যমেই আমি নিজেকে খুঁজে পাই। তবে শুধু নারী হিসেবেই নয়, একজন মানুষ হিসেবে।’

বাঁধন বলেন, ‘তবু তখনও আমার ভেতরে ছিল সেই ইচ্ছা। সমাজ যেন আমাকে সেরা নারী হিসেবে মেনে নেয়, আমাকে দেখে সম্মান করে। তবে পার্থক্য ছিল—আমি জিন্স পরতাম।
এমন পোশাক পরতাম, যেখানে আমার ত্বক দেখা যেত। এমন পোশাক, যা ভালো মেয়েদের পরা উচিত নয়; যা মনে করত সমাজ।’

এক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বাঁধন লেখেন, “একদিন এক বন্ধু ফোন করে বলল, ‘তুমি কত সুন্দর করে কথা বলো, এত ভালো কাজ করছ—কিন্তু তোমার আরেকটু ঢেকে পোশাক পরা উচিত।’ আমি শুধু হেসে ফেললাম।”

বাঁধন লেখেন, “একবার আমি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে গিয়েছিলাম স্লিভলেস ব্লাউজ পরে। চ্যানেলের টিম তখন আমাকে বলেছিল, কাঁধ ঢাকতে যেন চুলটা সামনে রেখে দিই। তারা আমাকে লেকচারই দিল। বছরের পর বছর ধরে আমি অসংখ্য পরামর্শ শুনে এসেছি এমন, একজন মা হিসেবে, একজন ‘বুদ্ধিমতী নারী’ হিসেবে কিংবা একজন রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে হিসেবে—আমার কী পরা উচিত, কিভাবে পরা উচিত।”

খানিকটা জেদ করে বাঁধন লিখলেন, ‘কিন্তু জানেন কি? আমি আর এসব একটুও পরোয়া করি না। আমি এখন স্বাধীন। আমার কী পরা উচিত, কী বলা উচিত, কী ভাবা উচিত বা কিভাবে জীবন কাটানো উচিত—এটা কেউ আমাকে বলে দিতে পারে না। এটা শুধুই আমার একার সিদ্ধান্ত।’

সর্বশেষ বাঁধন লেখেন, ‘এই ধরনের বিচার-বিশ্লেষণ আমাকে খুব কষ্ট দেয়—আর ঘৃণাও লাগে। কিন্তু এটাই আমাদের, নারীদের, প্রতিদিনের বাস্তবতা।’

জলবায়ু ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবে বাংলাদেশ : আইসিজে

জলবায়ু ঝুঁকিতে ফেলা দায়ী রাষ্ট্রগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক বলে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। বুধবার (২৩ জুলাই) নেদারল্যান্ডসের হেগ থেকে দেওয়া এক ঐতিহাসিক রায়ে এসব কথা বলা হয়।

জাতিসংঘের এ সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, দেশগুলোর জলবায়ুসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি ও দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতা এখন থেকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো ক্ষতিপূরণ আদায়ে দায়ী রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবে।

আইসিজের এই রায় বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য এটি একটি বৈপ্লবিক সুযোগ বলে মনে করছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। কারণ এ রায় ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ক্ষতিপূরণ দাবি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে।

সেন্টার ফর ক্লাইমেট জাস্টিস-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও জলবায়ু আইনজীবী হাফিজুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘এই রায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এখন আইনি ও নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এটি বাংলাদেশ ও অন্যান্য জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের সুযোগ।
’

রায়ে আইসিজে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী সকল কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তন একটি ‘অস্তিত্ব সংকট’, যা সব জীবের জন্য হুমকি তৈরি করছে। রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই কার্বন নির্গমন হ্রাস, বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তির বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও পরিবেশ সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই প্রথমবারের মতো, বিশ্বের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন, ব্যবহার, এ খাতে ভর্তুকি বা অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিকভাবে বেআইনি কাজ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
আর যদি জলবায়ু ক্ষতির প্রতিকার দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে দায়ী রাষ্ট্রগুলো বাধ্যতামূলকভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।

২০২৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবে ১৮টি দেশের নেতৃত্বে (বাংলাদেশসহ) আইসিজেকে এই উপদেশমূলক রায় দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। এরপর ২০২৪ সালে ৯৬টি রাষ্ট্র ও ১১টি আন্তর্জাতিক সংস্থা লিখিত ও মৌখিক উপস্থাপনার মাধ্যমে আদালতে তাদের অবস্থান তুলে ধরে।

এই রায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক না হলেও, এর রাজনৈতিক ও নৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। এটি জলবায়ু-সংক্রান্ত মামলাসমূহে শক্তিশালী আইনি ভিত্তি প্রদান করবে এবং ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার আদায়ে নতুন দিশা দেখাবে।

ইউথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান বলেন, ‘সামনের সারির জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি যা আন্তর্জাতিক আইনি স্বীকৃতি পেল। জলবায়ু অপরাধের জন্য এখন দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’

এই আন্দোলনের সূচনা হয় ২০১৯ সালে, যখন প্যাসিফিক আইল্যান্ড স্টুডেন্টস ফাইটিং ক্লাইমেট চেঞ্জ এবং ওয়ার্ল্ডস ইয়ুথ ফর ক্লাইমেট জাস্টিস নামে দুইটি যুব সংগঠন এই দাবি উত্থাপন করে। বাংলাদেশসহ ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি সিভিল সোসাইটি সংস্থা এতে সমর্থন দেয়।

রণবীরের ‘রাম’ লুক ঘিরে নতুন করে আলোচনায় সালমান খানের ‘অপূর্ণ রামায়ণ’

নীতেশ তিওয়ারির পরিচালনায় বলিউডে আসছে বহুল প্রতীক্ষিত এবং অন্যতম বড় বাজেটের ছবি ‘রামায়ণ’, যেখানে রণবীর কাপুর অভিনয় করছেন শ্রী রামচন্দ্র চরিত্রে, আর বিপরীতে দক্ষিণী সুপারস্টার যশ থাকছেন রাবণ হিসেবে। রণবীরের ‘রাম’ লুক সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা—কিন্তু এই আলোচনার কেন্দ্রে হঠাৎই উঠে এসেছে একটি পুরনো গুঞ্জন: একসময় এই চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল সালমান খানের।
সালমানের ‘রামায়ণ’: যে ছবি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি

নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে সালমান খান যখন বলিউডে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, তখন তার ভাই সোহেল খান পরিকল্পনা করেছিলেন ‘রামায়ণ’ নিয়ে একটি বড় বাজেটের ছবি। এই প্রজেক্টে সালমান খান ছিলেন রামের ভূমিকায়, সোনালী বেন্দ্রে নির্বাচিত হয়েছিলেন সীতা চরিত্রের জন্য, আর একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল পূজা ভাট-এর।

ছবির প্রায় ৪০ শতাংশ শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি সালমানের ‘রাম’ লুকের কিছু প্রোমোশনাল শুটও তৈরি করা হয়েছিল, যা দেখে অনেকে ধারণা করেছিল, এটি হতে চলেছে সেই সময়ের অন্যতম ব্লকবাস্টার। কিন্তু হঠাৎ করেই থেমে যায় শুটিং।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতায় মুখ থুবড়ে পড়ে প্রজেক্ট

Mid-Day-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুটিং চলাকালীন সোহেল খান ও পূজা ভাটের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক এতটাই গভীর হয় যে, পূজা এক সাক্ষাৎকারে বিয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু খান পরিবার, বিশেষ করে সেলিম খান, এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি।

পরিবারের অমতেই প্রেমের সম্পর্কে বাধা আসে, এবং সোহেল খানকে পরোক্ষভাবে সম্পর্ক থেকে সরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর ফলে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কেই টানাপোড়েন দেখা দেয়নি, ছবির নির্মাণেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক অস্থিরতার কারণে প্রজেক্টটি শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
অতীতের ছায়া বর্তমানের আলোচনায়

বর্তমানে রণবীর কাপুরের ‘রাম’ লুক ঘিরে যখন নতুন ‘রামায়ণ’ নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে, তখন সালমানের সেই ‘অপূর্ণ রামায়ণ’ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে বলিউড ইতিহাসের এক ভিন্নপথে হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়ের কথা। এক সময়ের সম্ভাবনাময় একটি প্রজেক্ট, যার গল্প এখন শুধুই নেপথ্যের আলোচনা।

অতীতের সেই অধ্যায় হয়তো আজ একরকম বিস্মৃতপ্রায়, কিন্তু নতুন প্রজন্মের ‘রামায়ণ’ ঘিরে যত আলোচনা বাড়ছে, ততই যেন আবারও সামনে আসছে সালমান খানের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন।

সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনে জড়িত হলে চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-তে বড় ধরনের সংশোধন এনে নতুনভাবে ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে বুধবার এটি জারি করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।
কী আছে সংশোধিত অধ্যাদেশে:

নতুন অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, যদি কোনো সরকারি কর্মচারী আন্দোলনের মাধ্যমে অন্য সরকারি কর্মচারীর কাজ বা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে এটি “সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ” হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে তিন ধরনের শাস্তির যে কোনো একটির মুখোমুখি হতে হতে পারে:

নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ

বাধ্যতামূলক অবসর

চাকরিচ্যুতি

অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনও কর্মচারী নিজের কর্তব্যে অনুপস্থিত থাকলে কিংবা অন্যদের কর্মে বাধা দিলে বা সরকারের বৈধ আদেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্ত ও শুনানির প্রক্রিয়া:

যে কর্মচারীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ উঠবে, তাকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তদন্ত ও শাস্তির সিদ্ধান্তের আগে তাকে ব্যক্তিগতভাবে শুনানির সুযোগ দেওয়া হবে কিনা, সেটিও নোটিশে উল্লেখ থাকবে।
আপিল ও রিভিউ:

রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে কোনও আপিল করা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী আদেশ পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নিকট রিভিউ আবেদন করতে পারবেন। এই রিভিউ সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।
অধ্যাদেশ জারির কারণ:

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সংসদ বর্তমানে ভেঙে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে আইনটি সংশোধন করা প্রয়োজন ছিল। তাই সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেন।
বিশ্লেষণ:

আইনজীবীরা মনে করছেন, অধ্যাদেশে আন্দোলনের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ না করা হলেও যেভাবে ধারাগুলোতে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তাতে পরিষ্কারভাবে সরকারি কর্মচারীদের যেকোনো ধরনের সংগঠিত কর্মবিরতি বা কর্মবাধা কঠোরভাবে দমন করার আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।

এই অধ্যাদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এটি সরকারের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিমান দুর্ঘটনায় ভাই হারানো ভাইয়ের হৃদয়বিদারক গল্প ছুঁয়ে গেল মেহজাবীনকে: “আমরা কতটা অমানবিক হয়ে গেছি!”

রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় সাম্প্রতিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এক তরুণ ভাইয়ের মৃত্যু ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে এসেছে এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা। এই করুণ অভিজ্ঞতা আরও আলোচনায় আসে, যখন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

একজন ব্যক্তি ‘এনএসইউ ফ্যাকাল্টি কোর্স’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে তার দগ্ধ ভাইকে সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারার বেদনাদায়ক গল্প শেয়ার করেন। তিনি লিখেছেন, দুর্ঘটনার পরপরই শত শত মানুষ আশপাশে ভিড় করে শুধু মোবাইলে ভিডিও করছিল। কেউ এগিয়ে আসেনি। এমনকি পানি ও রিকশাভাড়া জোগাড় করতে নিজের হাতঘড়ি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয় তাকে।

এই ঘটনাটি চোখ এড়ায়নি মেহজাবীনের। তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে এই হৃদয়বিদারক কাহিনির স্ক্রিনশট শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং লেখেন:

“আমরা কতটা অমানবিক হয়ে গেছি! দেশে অ্যাম্বুল্যান্স চলাচলের জন্য কোনো আলাদা লেন নেই, সামান্য কিছু হলেই রাস্তাজুড়ে জ্যাম, আর একটু বৃষ্টি হলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট। যেই সময়টাতে সবার উচিত রাস্তাটি ফাঁকা করে দিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া, সেই সময় মানুষ ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকে ভিডিও করার জন্য, কনটেন্ট বানানোর লোভে।”

তিনি আরও লিখেছেন:

“কিভাবে পারে এরা পানির দাম, গাড়ির ভাড়া, সব কিছু এভাবে বাড়িয়ে দিতে? রাতে এরা ঘুমোয় কিভাবে? আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের চোখে চোখ রাখতে পারে?”

মেহজাবীনের এই পোস্টে অসংখ্য অনুরাগী একমত পোষণ করেছেন। কেউ লিখেছেন, “আমরা লজ্জিত, কারণ আমরা বাংলাদেশি নাগরিক!”, কেউ ক্ষোভে লিখেছেন, “এই দেশে জীবনের মূল্য নেই, বাকি সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া।”

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত আরও ৬৯ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে।

এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনার ট্র্যাজেডি নয়, বরং আমাদের সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের জোরাল এক প্রতিচ্ছবি—যার বিপরীতে মুখ খুলছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তারকাও।

রাশিয়ায় যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত: ৪৯ জনের সবাই নিহত

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৪৯ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার সাইবেরিয়াভিত্তিক বিমান সংস্থা আঙ্গারার একটি এএন-২৪ মডেলের বিমান চীন সীমান্তবর্তী আমুর অঞ্চলের টাইন্ডা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানায়, দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বিমানটির ধ্বংসাবশেষ আমুর অঞ্চলে খুঁজে পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়েছিল।

রাশিয়ার তাস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, অবতরণের সময় পাইলটদের ভুল এবং খারাপ আবহাওয়া—বিশেষ করে দৃশ্যমানতার অভাব—এই দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক গভর্নর ভ্যাসিলি অরলভ জানিয়েছেন, বিমানে পাঁচ শিশুসহ ৪৩ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু ছিলেন। যদিও জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরোহীর সংখ্যা ছিল ৪০ জন। যাত্রী সংখ্যা নিয়ে এই ভিন্নতার কারণ এখনও পরিষ্কার নয়।

দুর্ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে, এবং রুশ কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।