মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

মব ভায়োলেন্স ও জনগণের ক্ষতিসাধনের বিরুদ্ধে কঠোর সেনাবাহিনী : সেনা সদর

ভবিষ্যতে “জানমালের ক্ষতিসাধন, মব ভায়োলেন্স এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে, এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে” এ কথা জানিয়েছে সেনা সদরদপ্তর।

ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম।

ব্রিফিংয়ে ‘মব ভায়োলেন্স’ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মি. ইসলাম বলেছেন “সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে হেনস্তা করার ঘটনায় যে ৬ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছিল, তাদের একজনকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী”।

এছাড়া সে ব্রিফিং-এ সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামে অভিযানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

‘তদন্তে প্রমাণ হলে গুমে জড়িত সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’

প্রেস ব্রিফিংয়ে গুমের সঙ্গে সেনা সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রশ্ন আসে।

সেই প্রশ্নের জবাবে সেনা কর্মকর্তা মি. ইসলাম বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যদের ডেপুটেশনে পাঠালেও তাদের সেনাবাহিনী থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

সেনা সদস্যদের গুমের অভিযোগ সম্পর্কে তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ সদস্যদের ঝুঁকি ভাতা বাড়াল সরকার

জাতীয় বেতন স্কেলের আওতাভুক্ত পুলিশ বিভাগের সদস্যদের জন্য মাসিক ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত ২৮ জুলাই (সোমবার) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

চার ক্যাটাগরির পদের জন্য চাকরির বয়স অনুযায়ী পাঁচটি ধাপে মাসিক ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্নও সর্বোচ্চ মাসিক ঝুঁকি ভাতার পরিমাণ হচ্ছে যথাক্রমে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৬ হাজার ৪৮০ টাকা।

যুগ্ম সচিব মো. ফেরদৌস আলম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঘোষণাকৃত এ মাসিক ঝুঁকি ভাতা অর্থ বিভাগ থেকে চাকরি (বাংলাদেশ পুলিশ) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ ২০১৫-এর অনুচ্ছেদ-২৬ সংশোধন সংক্রান্ত এসআরও জারির তারিখ থেকে কার্যকর হবে। পরবর্তী জাতীয় বেতন স্কেল (নবম বেতন স্কেল)-এ ঝুঁকি ভাতার পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কনস্টেবল পদে চাকরির শুরু থেকে ৫ বছর পর্যন্ত মাসিক ঝুঁকি ভাতার পরিমাণ ১ হাজার ৮০০ টাকা; ৫+ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ২ হাজার ১৬০ টাকা; ১০+ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ২ হাজার ৬৪০ টাকা; ১৫+ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার টাকা এবং চাকরির বয়স ২০+ থেকে তদূর্ধ্ব হলে মাসিক ঝুঁকি ভাতার পরিমাণ ৩ হাজার ৬০০ টাকা।

নায়েক পদে পদে চাকরির শুরু থেকে ৫ বছর পর্যন্ত মাসিক ঝুঁকি ভাতার পরিমাণ ২ হাজার ৪০ টাকা; ৫+ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০ টাকা; ১০+ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ২ হাজার ৮৮০ টাকা; ১৫+ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৮০ টাকা এবং চাকরির বয়স ২০+ থেকে তদূর্ধ্ব হলে মাসিক ঝুঁকি ভাতার পরিমাণ ৪ হাজার ৮০ টাকা।

এএসআই (সশস্ত্র/নিরস্ত্র) গ্রেড-১৪ পদে চাকরির শুরু থেকে ৫ বছর পর্যন্ত মাসিক ঝুঁকি ভাতার পরিমাণ ২ হাজার ১৬০ টাকা; ৫+ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ২ হাজার ৬৪০ টাকা; ১০+ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার ২৪০ টাকা; ১৫+ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৪০ টাকা এবং চাকরির বয়স ২০+ থেকে তদূর্ধ্ব হলে মাসিক ঝুঁকি ভাতার পরিমাণ ৪ হাজার ৫৬০ টাকা।

এসআই/সার্জেন্ট/টিএসআই (গ্রেড-১০) পদে চাকরির শুরু থেকে ৫ বছর পর্যন্ত মাসিক ঝুঁকি ভাতার পরিমাণ ৩ হাজার ২৪০ টাকা; ৫+ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৪০ টাকা; ১০+ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৬০ টাকা; ১৫+ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার ৪০০ টাকা এবং চাকরির বয়স ২০+ থেকে তদূর্ধ্ব হলে মাসিক ঝুঁকি ভাতার পরিমাণ ৬ হাজার ৪৮০ টাকা।

সদরপুর ইউএনও’র বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

আক্তারুজ্জামান সোহেল বারি : ফরিদপুর

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, পক্ষপাতমূলক ভূমিকা এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের মধু মন্ডলের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা আবুল হাসান প্রামানিক। তিনি তার পৈতৃক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফরিদপুর সমন্বিত কার্যালয়ে লিখিতভাবে দাখিল করেছেন।

আবুল হাসান অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার পিতা মৃত আঃ জলিল প্রামানিক কর্তৃক ক্রয়কৃত মধু মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকার ১৮নং শুকদেবনগর মৌজার একটি খণ্ড জমিতে দীর্ঘদিন ধরে “আয়শা সিদ্দিকা (রাঃ) মহিলা মাদরাসা” প্রতিষ্ঠিত। ২০২০ সালের ৭ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত হয় (রেজি. নম্বর: ফরিদ-৯৫৫)। প্রায় ৪০ বছর ধরে জমিটি দখল ও ব্যবহার করে আসলেও সম্প্রতি পলাশ চন্দ্র মন্ডল নামক এক ব্যক্তি মাদরাসার ভবন নির্মাণে বাধা প্রদান করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পলাশ চন্দ্র মন্ডল প্রথমে ১৪৪ ধারায় মামলা দায়ের করলেও আদালত তা খারিজ করে দেন। এরপর তিনি ভূমি প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন যা বিচারাধীন। একইসাথে পলাশ মন্ডল ও তার অনুসারীরা মাদ্রাসার নির্মাণকাজে বাধা প্রদান ও চাঁদা দাবির অভিযোগে আবুল হাসানও আদালতের দ্বারস্থ হন।

ইউএনওর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগটি হলো ইউএনও জাকিয়া সুলতানার ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগকারীর দাবি, মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ইউএনও আদালতের আদেশ ও আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে পলাশ মন্ডলের পক্ষে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করেন। তিনি সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি পরিমাপ না করেই একতরফাভাবে মাদরাসার নির্মাণাধীন ভবনসহ সম্পূর্ণ জমি পলাশ চন্দ্র মন্ডলের নামে বুঝিয়ে দেন এবং তার দিয়ে ঘিরে দেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী বলেন,
“আমি আদালতের রায়ের অপেক্ষায় ছিলাম। অথচ প্রশাসন আমার পক্ষে থাকা আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে একজন দণ্ডিত রাজনৈতিক সুবিধাভোগীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এখন আমি ও আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছি।”

অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, পলাশ চন্দ্র মন্ডল অতীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে দলীয় দায়িত্বে ছিলেন এবং নানাবিধ সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। এমনকি ২০২৪ সালে আওয়ামী বিরোধী আন্দোলনের সময় সদরপুর থানায় হামলা ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং জেলও খাটেন বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে আবুল হাসান প্রামানিক এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন, সরেজমিনে তদন্ত করে ইউএনও’র আচরণ ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকেই প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এ বিষয়ে পলাশ চন্দ্র মন্ডল জানান, ওই অংশে ৮২ শতাংশ জমি মধ্যে আমার কেনা ৬১.৫ শতাংশ, বাকীটা ওদের। পুরোটা কেন দখলে গেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদেরটা তারা ভোগ করবে আমারটা আমি। তবে তিনি চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

ইউএনও জাকিয়া সুলতানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার পক্ষে কোন বক্তব্য দেওয়া সম্ভব না। আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হাসান মোল্লা অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

গাজা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠীকে বিদায়ের আহ্বান আরব বিশ্বের ১৭ দেশের

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ এবং শাসনক্ষমতা থেকে বিদায়ের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে কাতার, সৌদি আরব, মিসরসহ আরব বিশ্বের ১৭টি দেশ। ৭ পৃষ্ঠার এই বিবৃতিকে সমর্থন করেছে ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জোট আরব লীগও।

গত জুনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রগঠন এবং মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে দ্বিরাষ্ট্র সমাধান ইস্যুতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে একটি সম্মেলন হয়েছিল। সৌদি আরবের প্রধানমন্ত্রী ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যৌথভাবে সেই সম্মেলনের চেয়ারপারসনের দায়িত্বে ছিলেন।

৭ পৃষ্ঠার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “গাজায় যুদ্ধ অবসান এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের স্বার্থে হামাসকে অবশ্যই তাদের শাসনের অবসান ঘটাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বের সমর্থনপুষ্ট ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পশ্চিম তীরে ক্ষমতাসীন সরকার) কাছে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে।”

বর্তমানে জাতিসংঘে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদায় রয়েছে ফিলিস্তিনি। গত সোমবার এক বার্তায় জাতিসংঘের ফিলিস্তিন মিশন গাজায় শান্তি স্থাপনের স্বার্থে হামাস এবং ইসরায়েল— উভয়পক্ষকেই সেখান থেকে বিদায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। পাশাপাশি গাজার প্রশানিক দায়িত্ব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যাস্ত করার প্রস্তাবও করা হয়েছিল সেই আহ্বানে।

গত কাল বুধবার ৭ পৃষ্ঠার যে বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে ১৭ আরব রাষ্ট্র, সেখানে গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাস যোদ্ধাদের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। এই ব্যাপারটি বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয়, কারণ এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে কোনো নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপিত হয়নি।

জুনে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন বিষয়ক সম্মেলনে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে চেয়ারের দায়িত্ব পালনের পর গত ২৪ জুলাই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা করেছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স।

গত কাল মধ্যপ্রাচ্যের ১৭ দেশের বিবৃতি প্রকাশের পর সেটিকে ‘ঐতিহাসিক’ এবং ‘অভূতপূর্ব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেন নোয়েল ব্যারট। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “এই বিবৃতি ঐতিহাসিক এবং অভূতপূর্ব। কারণ এই প্রথম আরব বিশ্বের দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্য হামাসকে নিন্দা জানিয়েছে, ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের প্রশাসন থেকে হামাসকে বিদায় নিতে বলেছে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিয়েছে।”

নিজের প্রশংসা শুনে যা করলেন কঙ্গনা

বলিউডের কুইন কঙ্গনা রানাওয়াত প্রায়শই তার সমসাময়িক অভিনেত্রীদের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান। এবার তিনি কারিনা কাপুর খান এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার চেয়েও ‘সেরা অভিনেত্রী’র তকমা পেলেন। এই প্রশংসার পর কঙ্গনার প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দ্রপ্রদেশের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিনেতা পবন কল্যাণ বর্তমানে তার আসন্ন চলচ্চিত্র ‘হরি হারা বীরা মল্লু’-এর প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনাকে নিয়ে কথা বলেছেন। সেখানেই তিনি কঙ্গনাকে প্রিয়াঙ্কা ও কারিনার চেয়ে ‘সেরা অভিনেত্রী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পবন কল্যাণের এই মন্তব্যের পর কঙ্গনাও দ্রুত তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

পবন কল্যাণের এই মন্তব্য কঙ্গনা তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেছেন। এর সঙ্গে তিনি হাতজোড় করা ও ভালোবাসার ইমোজি জুড়ে দেন, যা তার কৃতজ্ঞতা এবং আনন্দ প্রকাশ করে।

সাক্ষাৎকার পবন কল্যাণ আরও জানান যে, তিনি কৃতি অথবা কঙ্গনার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এমনকি প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও কঙ্গনার মধ্যে একজন বেছে নিতে বলা হলেও তিনি কঙ্গনাকেই বেছে নেন।

কঙ্গনা এবং কারিনার মধ্যে নির্বাচন করতে বলা হলে পবন কিছুটা দ্বিধায় পড়ে যান। তবে তিনি বলেন, ‘ ‘ইমার্জেন্সি’ ছবিতে তাকে ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্রে দেখার পর আমার মনে হয়, শক্তিশালী অভিনেত্রীকেই বেছে নেওয়া উচিত।’

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ২০ হাজার ছাড়িয়েছে

সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৯৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৩১৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি মাসেই ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ২০ জন।

অন্যদিকে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৭৯ জনের।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, হাসপাতালে নতুন ভর্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১০১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৫২ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৪৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৬০ জন, খুলনা বিভাগে ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৮ জন এবং রংপুর বিভাগে ৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে গত একদিনে সারা দেশে ৩৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮ হাজার ৯৫১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এতে আরও বলা হয়, চলতি মাসে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জুন মাসে ১৯ জন, জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন, এপ্রিলে সাতজন এবং মে মাসে তিনজন মারা যান। মার্চ মাসে ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি।

অন্যদিকে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি ১০ হাজার ২০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ছাড়া জুন মাসে ৫ হাজার ৯৫১ জন, জানুয়ারিতে ১ হাজার ১৬১, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪, মার্চে ৩৩৬, এপ্রিলে ৭০১ এবং মে মাসে ১ হাজার ৭৭৩ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন।

ফিলিস্তিনি জনগণকে গণহত্যা থেকে রক্ষা করতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার আহ্বান

ফিলিস্তিনি জনগণকে গণহত্যা ও নিষ্ঠুরতম বর্বরতা থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে পরিপূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ফিলিস্তিন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ইসরায়েল এ পর্যন্ত ৫৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে। তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী সবাইকে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

তৌহিদ হোসেন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপনের একমাত্র পথ হিসেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের লক্ষ্যে দ্বিরাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

গাজা পুনর্গঠনে আরব পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের নেতৃত্বে গাজা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে প্রস্তত রয়েছে। উপদেষ্টা গাজায় জাতিসংঘের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বাধা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান।

২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলি আক্রমণের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ এবং একটি স্থায়ী সমাধানের পথ সুগম করতে জাতিসংঘের সদস্যদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার জন্য ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ‘জাতিসংঘ হাইলেভেল ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ফর দ্য পিসফুল সেটেলমেন্ট অব দ্য কোয়েশ্চেন অব প্যালেস্টাইন অ্যান্ড দ্য ইমপ্লিমেন্টেশন অব দ্য টু-স্টেট সল্যুশন’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের এ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশসহ ১১৮টি দেশের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করছে।

ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে ১০ দিনের সময় দিলেন ট্রাম্প

ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে ১০ দিনের সময় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধে এখন থেকে ১০ দিনের সময় আছে।

এর মধ্যে যুদ্ধ থামানো না হলে মস্কোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার (৩০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধ বন্ধ না হলে আমরা শুল্ক আরোপ করব এবং অন্যান্য ব্যবস্থা নেব।”

তিনি বলেন, “আমি জানি না এতে রাশিয়ার কিছু হবে কি না, কারণ মনে হয় ওরা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। তবে আমরা শুল্কসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। এতে কাজ হবে কি না, দেখা যাবে।”

ট্রাম্প আরও জানান, সোমবার তিনি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফ’ বা রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় দেশগুলোর ওপরও শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। সেসময় তিনি যুদ্ধ থামাতে রাশিয়াকে ১০ থেকে ১২ দিনের সময় দেন, যা আগের ৫০ দিনের সময়সীমার তুলনায় অনেক কম।

তবে মঙ্গলবার তিনি সময়সীমা আরও কমিয়ে ৮ আগস্টের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান। এর আগে ট্রাম্প রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতির জন্য ৫০ দিন সময় দিয়েছিলেন, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল সেপ্টেম্বরের শুরুতে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেন, তিনি ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর “খুবই হতাশ”। কারণ, “ও (পুতিন) হঠাৎ কোনো এক শহরে — যেমন কিয়েভে — রকেট হামলা চালায়, আর এতে বৃদ্ধাশ্রমে থাকা অনেক মানুষ মারা যায়।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “আমাকে এখন এটা পর্যালোচনা করতে হবে। আমি যে ৫০ দিনের সময় দিয়েছিলাম, তা কমিয়ে আনছি, কারণ আমি মনে করি আমি ইতোমধ্যেই জানি এর উত্তর কী।”

যুক্তরাষ্ট্রকে প্যাকেজ প্রস্তাব

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কবিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্যাকেজ প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল ওয়াশিংটনে দেশটির বাণিজ্য দপ্তরে (ইউএসটিআর) শুরু হওয়া তৃতীয় এবং চূড়ান্ত আলোচনার প্রথম দিনে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র সফরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন। আজ দ্বিতীয় দিনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এই প্যাকেজের মধ্যে প্রধানত তিনটি স্তর রয়েছে-শুল্ক হার কমানো, প্রত্যাহার কিংবা বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়া। এই তিন উপায়ে সমাধান খুঁজছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া সে দেশ থেকে ৭ লাখ টন গম আমদানি এবং ২৫টি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য, তেলবীজ, তুলা, বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, তরলীকৃত গ্যাস (এলএনজি) আমদানির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এদিকে দেশটির সঙ্গে শুধু এই রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্কের বিষয়ই নয়, এর সঙ্গে টিকফা চুক্তি, জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়াসংক্রান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করতে চায় বাংলাদেশ। আর যুক্তরাষ্ট্র চায় বাণিজ্য ও আন্তঃআঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আপাতত নন-ডিসক্লোজার চুক্তি। এই প্রস্তাব ও উদ্যোগ বাংলাদেশের প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে ইউএসটিআরকে জানানো হয়েছে।

এদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন, তা থেকে মুক্তি পেতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘প্যাকেজ প্রস্তাব’ দেওয়া হচ্ছে। অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখানে গিয়েছেন প্যাকেজ নিয়ে। আরও কী কী কেনা যেতে পারে, তাও প্যাকেজে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ও অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাউসার চৌধুরী।
তারা মঙ্গল ও বুধবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দর কষাকষিতে বসবেন বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা ৩৫ শতাংশ শুল্কের হাত থেকে রেহাই পেতে এরই মধ্যে দেশটির ৬২৬টি পণ্যে শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ।

রাশিয়ায় ভূমিকম্পের পর জাপানে ৩০ সেন্টিমিটার সুনামি ঢেউ

রাশিয়ায় ভূমিকম্পের পর জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইদো প্রিফেকচারের উপকূলে সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে রাশিয়ার পূর্ব উপকূলে। ৮.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পর রাশিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েক দেশে সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়।

জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োশিমাসা হায়াশি জানান, এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
তবে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, হোক্কাইদোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নেমুরো বন্দরে প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার (১২ ইঞ্চি) উচ্চতার সুনামি ঢেউ আঘাত হেনেছে। অন্য কিছু অঞ্চলেও ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ লক্ষ্য করা গেছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেছেন, ‘পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ চলছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে মানুষের জীবনকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, যারা সুনামির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আছেন এবং যাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন দ্রুত উঁচু স্থানে চলে যান এবং উপকূলীয় এলাকা থেকে দূরে থাকেন।

রাশিয়ার কমচাটকা উপদ্বীপের উপকূলে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পটির মাত্রা বাড়িয়ে ৮.৮ নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। প্রাথমিকভাবে এটির মাত্রা ৮.৭ বলা হলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে ৮.৮ করা হয়।

সূত্র : বিবিসি