মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে মুদ্রানীতি ঘোষণা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগের মতোই কড়াকড়ি অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে। নীতি-নির্ধারকরা চলতি অবস্থাকে বিবেচনায় রেখে নীতিগত সুদের হার (নীতি হার) আগের জায়গায় ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরসহ ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি কিছুটা কমলেও তা এখনো লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রয়েছে। টাকার অবমূল্যায়ন, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর আবারও চাপ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি যদি ধারাবাহিকভাবে কমে এবং প্রকৃত সুদের হার ৩ শতাংশে পৌঁছায়, তখন ধাপে ধাপে নীতি হার হ্রাস করা হতে পারে। তবে তত দিন পর্যন্ত সুদের বর্তমান হারই বহাল থাকবে।

নীতি-নির্ধারকরা জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামার আগ পর্যন্ত কোনো প্রকার শিথিলতা আসবে না। নীতি হারের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ প্রদানের হার (স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি) ১১.৫ শতাংশ এবং আমানত গ্রহণের হার (স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি) ৮ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

খেলাপি ঋণ ও দুর্বল শাসনব্যবস্থার কারণে ব্যাংক খাত দীর্ঘদিন ধরেই চাপের মধ্যে রয়েছে। এসব সংকট থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সংস্কারমূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য পৃথক ব্যবস্থা, সম্পদের গুণগত পর্যালোচনা এবং আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি (রিস্ক বেসড সুপারভিশন) চালু।

যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান বাজারসমূহে শুল্কবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে নমনীয়তা এনেছে।
বর্তমানে দিনে দুবার রেফারেন্স বিনিময় হার ঘোষণা করা হচ্ছে, যাতে মুদ্রাবাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আসে।

তবে বিনিময় হারে অতিরিক্ত অস্থিরতা ঠেকাতে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করবে বলেও জানিয়েছে।

সরকারের বাজেট ঘোষণায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ধরে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে তাদের নীতি সহনশীল হলেও কড়াকড়ি থাকবে।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং ব্যাংক খাতে আস্থাহীনতা—এই তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের আর্থিক নীতির মূল কৌশল স্থির করেছে বলে জানিয়েছে।

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ১৩৮৪ জন

সারা দেশে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৩৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে বিভিন্ন মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ৮১৫ জন এবং অন্যান্য ঘটনায় ৫৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর এ তথ্য জানান।

ইনামুল হক সাগর বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত ৮১৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যান্য ঘটনায় ৫৬৯ জন। মোট ১৩৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ‘

এছাড়া অভিযানে দেশীয় পিস্তল একটি, দেশীয় এলজি একটি, একনলা বন্দুক দুটি, দেশীয় শুটারগান একটি, শটগানের গুলি ৪ রাউন্ড, শটগানের খোসা ৬ রাউন্ড, রাইফেলের গুলি ৫০ রাউন্ড, রাইফেলের গুলির খোসা ৫৩ রাউন্ড, নিষ্ক্রিয় হ্যান্ড গ্রেনেড দুটি।

আগামী ৫-৬ দিনে বোঝা যাবে আমরা কোথায় যাচ্ছি : প্রেসসচিব

আগামী পাঁচ-ছয়দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেসসচিব বলেন, আগামী পাঁচ-ছয়দিনে আমরা বুঝব, আমরা কোথায় যাচ্ছি। তবে যাই কিছু হোক না কেন, নির্বাচনে দেরি হবে না।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা দৃঢ় অবস্থানে আছেন। জনগণের অংশগ্রহণ থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচনে কোনো বাধা থাকবে না।

এ সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

শফিকুল আলম বলেন, ‘এই সরকার ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়।
সেখান থেকে দেখলে অন্তর্বর্তী সরকার ভালো কাজ দেখাতে পেরেছে বলা যায়।’

চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রেসসচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স। প্রমাণ পেলে যে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও রাজনৈতিক দলগুলোর ফান্ড রেইজিংয়ের বিষয়ে স্বচ্ছতা নেই, যেটি দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাজ্যে রাডার বিভ্রাটে বিমান চলাচল ব্যাহত

যুক্তরাজ্যের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল সিস্টেমে রাডারজনিত প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বুধবার কয়েক ঘণ্টা ধরে দেশটির রাজধানী লন্ডনসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। প্রায় চার ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ব্রিটিশ এয়ার ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনএটিএস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমাদের সিস্টেম এখন পুরোপুরি সচল এবং আকাশপথে ট্র্যাফিক পরিচালনা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। ফ্লাইট ছাড়াও শুরু হয়েছে।
পরিস্থিতির কারণে প্রভাবিত বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা জমে থাকা ফ্লাইট পরিচালনার চেষ্টা করছি। যাত্রীদের অসুবিধার জন্য দুঃখিত।’

এনএটিএস-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সমস্যাটি মূলত রাডারজনিত ছিল। সংস্থার এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ফ্লাইট চলাচল কমিয়ে দিই এবং দ্রুত বিকল্প ব্যাকআপ সিস্টেমে চলে যাই, যা কার্যকর হয়।
’

এই বিভ্রাটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে ব্যস্ত এবং ইউরোপের অন্যতম বড় বিমানবন্দর হিথ্রোতে। এছাড়া লন্ডনের গ্যাটউইক ও স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ বিমানবন্দরও তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানিয়েছে।

রাডার ত্রুটির কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাজেট এয়ারলাইন রাইয়ানএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিভ্রাট চার ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়, যার ফলে বহু ফ্লাইট বাতিল বা অন্য বিমানবন্দরে পাঠাতে হয়েছে।
এতে হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

রাইয়ানএয়ারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি এনএটিএস প্রধান নির্বাহী মার্টিন রল্ফের পদত্যাগ দাবি করেছেন সংস্থাটির প্রধান অপারেটিং কর্মকর্তা নিল ম্যাকমোহন।

তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের আগস্টেও এমন বিভ্রাট হয়েছিল। সেখান থেকে কোনো শিক্ষা নেওয়া হয়নি, এটা পরিষ্কার।
মার্টিন রল্ফের অযোগ্যতার কারণে আজও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

সূত্র: বিবিসি

মায়ানমারে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার, নির্বাচনের ঘোষণা

মায়ানমারের সামরিক জান্তা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি তারা চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে ডিসেম্বরের কত তারিখে নির্বাচন সে বিষয়ে কিছু জানায়নি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে জরুরি অবস্থা জারি করে, যা দেশটিতে এক গৃহযুদ্ধের সূচনা করে— এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

এই জরুরি অবস্থা জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংকে আইনসভা, নির্বাহী এবং বিচার বিভাগের সর্বময় ক্ষমতা দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি তিনি নির্বাচনকে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ হিসেবে তুলে ধরছেন।

কিন্তু অভ্যুত্থানে উৎখাত হওয়া সাবেক সংসদ সদস্যসহ বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যেই এই নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।
গত মাসে এক জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ এই নির্বাচনকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেন— যার উদ্দেশ্য সামরিক শাসনের বৈধতা নিশ্চিত করা।

জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন সাংবাদিকদের পাঠানো এক ভয়েস বার্তায় জানান, একাধিক দলের গণতান্ত্রিক পথে দেশকে এগিয়ে নিতে আজ জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন শেষে মিন অং হ্লাইং হয়তো রাষ্ট্রপতি অথবা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে ক্ষমতা ধরে রাখবেন, ফলে তার কার্যত শাসন অব্যাহত থাকবে।

নাইপিদোতে জান্তার প্রশাসনিক কাউন্সিলের এক সম্মাননা অনুষ্ঠানে মিন অং হ্লাইং বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই প্রথম অধ্যায় অতিক্রম করেছি।
এখন আমরা দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করছি।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে এবং সব যোগ্য ভোটার যাতে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা চালানো হবে।

যদিও জান্তা এখনো নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি। তবে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো নিবন্ধিত হচ্ছে এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে।

পাকিস্তান একদিন হয়তো ভারতের কাছে তেল বিক্রি করবে : ট্রাম্প

রাশিয়ার তেল ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির জন্য ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তান এবং আমেরিকা পাকিস্তানের তেলের মজুদ উন্নয়নের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।

এ ছাড়া ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ‘হয়তো ইসলামাবাদ কোনো দিন নয়াদিল্লির কাছে তেল বিক্রি করবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের জন্য একটি আমেরিকান তেল কম্পানি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে।

ট্রুথ সোশাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে উপনীত হয়েছি, যার মাধ্যমে দুই দেশ একসঙ্গে পাকিস্তানের বিপুল তেল মজুদ উন্নয়নে কাজ করবে। বর্তমানে আমেরিকান একটি তেল কম্পানি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। কে জানে, একদিন হয়তো পাকিস্তানই ভারতকে তেল রপ্তানি করবে!’

এই ঘোষণার আগে ট্রাম্প ভারতের ওপর ১ আগস্ট থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। সঙ্গে ছিল রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা পণ্যের আমদানি নিয়ে অতিরিক্ত ‘শাস্তিমূলক’ করের হুমকি, যদিও এর নির্দিষ্ট হার তখনো জানানো হয়নি।
বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ব্যবহারকারী দেশ ভারত। যার প্রায় ৮৮ শতাংশ তেল আমদানি নির্ভরশীল। বর্তমানে ভারতের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে। এরপর রয়েছে ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে পাকিস্তানও জ্বালানি আমদানিতে নির্ভরশীল, কারণ দেশটির অভ্যন্তরীণ তেল উৎপাদন অতি সীমিত।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে সেপ্টেম্বরের আগেই তা সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ষষ্ঠ রাউন্ডের আলোচনা আগস্টে হওয়ার কথা রয়েছে। নীতিনির্ধারণী মহলে মনে করা হচ্ছে, ২৫ শতাংশ শুল্ক কিছুটা প্রত্যাশিতই ছিল।
তবে রাশিয়া থেকে আমদানি সংক্রান্ত শাস্তিমূলক কর ভারতের জন্য বড় আর্থিক ধাক্কা হতে পারে।

ট্রাম্পের ঘোষণায় আরো বলা হয়, ‘যখন বিশ্ব চায় ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা বন্ধ হোক, তখন ভারত ও চীন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় জ্বালানি ক্রেতা — এটা কোনো ভালো বিষয় নয়!’ তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের বন্ধু হলেও, তারা সব সময় রাশিয়ার কাছ থেকে অধিকাংশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনে এসেছে। তাদের শুল্কও বিশ্বের মধ্যে অন্যতম উচ্চ এবং তারা নানা ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।’

ট্রাম্প দাবি করেন, পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি ছাড়াও তিনি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় দেশসহ অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি পহেলগাঁও হামলার ঘটনায় ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বেড়ে যায়। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছেন, যদিও ভারত একাধিকবার স্পষ্ট করেছে — কোনো তৃতীয় পক্ষ এতে জড়িত নয়।

সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

কেন ম্যান ইউর জার্সিতে নিষিদ্ধ রোনালদো-বেকহামের নাম

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অফিসিয়াল স্টোরে এবার থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ডেভিড বেকহাম ও এরিক কান্টোনার মতো কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের নাম দিয়ে জার্সি কাস্টমাইজ করার সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তটি নেওয়ার পেছনে মূল কারণ হল খেলোয়াড়দের নিজস্ব লাইসেন্সিং ও বাণিজ্যিক অধিকার।

ক্লাব সূত্রে জানা যায়, তিন খেলোয়াড়ের নামের উপর তাদের নিজস্ব বাণিজ্যিক অধিকার থাকায় ম্যানইউ নির্দিষ্ট কোনো চুক্তি ছাড়া তাদের নাম ব্যবহার করতে পারছে না। এই নীতির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ পায় যখন অনেক ভক্ত স্টোরে গিয়ে শার্টে রোনালদো, বেকহাম ও কান্টোনার নাম ছাপানোর চেষ্টা করলে তারা ‘লাইসেন্স সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা এই নামগুলো প্রিন্ট করতে পারছি না’ লেখা একটি নোটিশ দেখতে পান।

ভক্তদের মধ্যে এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অনেকেই হতাশা ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এই তিন কিংবদন্তি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শার্টে নাম ব্যবহার করার সুযোগ থাকা উচিত।

ফুটবল দুনিয়ায় সাধারণত এই ধরনের কোনো বিধিনিষেধ থাকে না এবং অধিকাংশ ক্লাবই তাদের সাবেক খেলোয়াড়দের নাম দিয়ে জার্সি কাস্টমাইজেশন করতে দেয়। তবে এই ক্ষেত্রে নামের ইমেজ স্বত্ত্ব নিয়ন্ত্রণের কারণে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় ক্লাবকে বাধ্য হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করবে।

নির্বাচন কমিশনের আরো ৫২ কর্মকর্তা বদলি

নির্বাচন কমিশনের আরো ৫২ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান ৫২ কর্মকর্তার বদলিসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

এর আগে গত ২৭ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনে ৭১ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বদলি করে ইসি। এর আগে প্রথম ধাপে ১৫ জুলাই ৫১ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কর্মকর্তাদের বদলি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি মাসের শেষার্ধ্বে মোট ১৭৪ জন কর্মকর্তাকে বদলি করেছে ইসি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের প্রজন্মের আত্মচেতনার জাগরণ : মেহেনাজ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারী শিক্ষার্থীদের একত্রিত করার চেষ্টা করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন। নাফসিন মনে করেন, নারীরা যখন রাস্তায় নেমে আসেন তখন ইতিহাস পাল্টে যায়। নারী শক্তি রাজনীতিতে যুক্ত হলে দেশের রাজনীতি পাল্টে যাবে।

নাফসিন এমন এক বাংলাদেশ চান, যেখানে কেউ প্রশ্ন করলে গুম হবে না, প্রতিবাদ করলে গুলি খাবে না।
যেখানে ভিন্নমত প্রকাশ করলে অপরাধ হবে না। তিনি একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন স্বপ্নের কথা জানান জুলাইয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মেহেনাজ।

সাক্ষাৎকারে নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের প্রজন্মের আত্মচেতনার জাগরণ।
এটা শুধু একটি সরকার পতনের আন্দোলন ছিল না, এটি ছিল একদল তরুণ-তরুণীর বিবেকের ডাকে সাড়া দেওয়ার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি এই অভ্যুত্থানকে দেখি একটি নবজাগরণ হিসেবে, যেখানে সত্য, সাহস ও স্বপ্ন একসাথে মিশে একটি নতুন বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর গড়ে তোলে।’

তিনি বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থান ছিল এক নতুন আশার আলো, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার পথে একটি সাহসী পদক্ষেপ। নিম্নশ্রেণি থেকে উচ্চশ্রেণির মানুষ যেন সমানভাবে বাঁচতে পারে, সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নের লড়াই।
আমরা এমন একজন সৎ ও নীতিবান শাসক দেখার অঙ্গীকার নিয়েই পথে নেমেছিলাম। হয়তো এখনো সে স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তব হয়নি, কিন্তু আমাদের লড়াই ছিল সেই স্বপ্নেই বিশ্বাস রেখে, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জন্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার আন্দোলনের শুরুটা হয়েছিল ১৫ জুলাই থেকে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টরা আসলে অনেকে কোটার বিষয়টা ঠিকমতো করে জানেও না। তবু তারা আন্দোলনে নেমেছিল শুধু বিবেকের তাড়নায়।
যখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইদের অত্যাচার করা হচ্ছিল এবং তাদের সাথে অন্যায় হয়েছিল; তাদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ এবং গুলি করেছিল তখনই আমরা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টরা মনে করেছিলাম আমাদের এখনই আন্দোলনে নামা উচিত। তাই কোনো কিছু না ভেবে আন্দোলনে নেমে পড়ি। পুরো সময়টা এতই ভয়ংকর ছিল যে বলার মতো না। মাঠে না নেমে উপায় ছিল না।’

জুলাইয়ে নারীদের অংশগ্রহণের ফলে আন্দোলনটা আরো অনেক বেশি তীব্র এবং বেগবান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কারণ আমি মনে করি, নারীরা যখন রাস্তায় নেমে আসে তখন ইতিহাস পাল্টে যায়। এই জুলাই অভ্যুত্থানে নারীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তা নেমেছিল আর স্লোগান দিয়েছিল তুমি কে? আমি কে? রাজাকার রাজাকার! কে বলেছে, কে বলেছে স্বৈরাচার স্বৈরাচার! নারীদের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের উপস্থিতি ছিল স্বৈরাচারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ঘোষণা। এ সরকার চেয়েছিল আমাদের দমিয়ে রাখতে, আমাদের চুপ করাতে কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল যেখানে নারীরা দাঁড়ায় সেখানে ইতিহাস পাল্টে যায়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীরা শুধু নিজেদের অধিকারের জন্য নয় বরং সমগ্র জাতির পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। জাতির মুক্তির লড়াইয়ে নারীরা যুগে যুগে অংশগ্রহণ করে প্রমাণ দিয়েছে যে ন্যায্যতার প্রশ্নে তারা পিছপা হন না। লড়াই চালাতে জানে তারা। নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে। জুলাই সেই সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সেদিকে নজর রাখা।’

নতুন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এমন এক বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে কেউ প্রশ্ন করলে গুম হয় না, প্রতিবাদ করলে গুলি খায় না। যেখানে ভিন্নমতের অপরাধ নেই, বরং তা গণতন্ত্রের শক্তি হিসেবে মূল্যায়িত হয়। আমি এমন একটি দেশ চাই, যেখানে রাষ্ট্রের মালিকানা রাজনীতিবিদদের নয়, বরং জনগণের কাছে থাকে। যেখানে একজন নারী নির্ভয়ে রাস্তায় হাঁটতে পারে, একজন শ্রমিক ন্যায্য মজুরি পায়, আর একজন শিক্ষার্থী নিঃসংকোচে সত্য বলতে পারে।’

তিনি বলেন, “এমন একটা বাংলাদেশ চাই, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাকে সাহস না, বরং নাগরিক দায়িত্ব বলে গণ্য করা হয়। আমি এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে আমরা সবাই বুক উঁচিয়ে গর্ব করে বলতে পারি, ‘এটাই আমার দেশ, বাংলাদেশ’।”

করোনায় আরো একজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে নতুন করে আরো ৩ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল বুধবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৮১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার ২ দশমিক ৭০ শতাংশ।

এদিকে, এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭১৯ জনের। মারা যাওয়াদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও ১৪ জন নারী।