সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

পিএসজি ছাড়ার পর এমন নেইমারকে দেখেনি ব্রাজিল, জয়ে ফিরল সান্তোস

শুধু পায়ের কারুকাজেই নয়, মাঠের বাইরেও ফ্যাশন ও চুলের স্টাইল দিয়ে আলোচনায় থাকেন নেইমার জুনিয়র। সম্প্রতি সৌদি ক্লাব আল হিলাল ছেড়ে আবার ঘরের ক্লাব সান্তোসে ফিরেই যেন পুরোনো নেইমারে রূপ নিচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। নতুন হেয়ারস্টাইল যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি পায়ের যাদু ফিরে পেয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে ব্রাজিলিয়ান লিগে মুখোমুখি হয় সান্তোস ও জুভেন্টুড।
সান্তোসের হয়ে জোড়া গোল করে আলো ছড়িয়েছেন নেইমার। তার নৈপুণ্যেই ৩-১ ব্যবধানে জিতে লিগে তিন ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেয়েছে সান্তোস।

ম্যাচের ৩৭তম মিনিটেই প্রথম গোল এনে দেন নেইমার। এরপর ৪০তম মিনিটে আলভারো ব্যারিয়াল ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
তবে বিরতির আগেই একটি গোল শোধ করে জুভেন্টুড। দ্বিতীয়ার্ধে সান্তোসকে বেশ চাপে ফেলেছিল প্রতিপক্ষ দলটি।

তবে ৮০তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে জয়ের পথটা নিশ্চিত করেন নেইমার। আর গোল না হওয়ায় ৩-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচ।

এই জয়ে লিগে শেষ তিন ম্যাচের হতাশা পেছনে ফেলেছে সান্তোস। আগের তিন ম্যাচে ছিল দুটি হার ও একটি ড্র। এখন পর্যন্ত ১৭ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১৫তম স্থানে অবস্থান করছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি।

রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেস উইং জানিয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ রাত ৮টা ২০ মিনিটে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বাংলাদেশ বেতার ভাষণটি একযোগে সম্প্রচার করবে।

এর আগে আজ বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধান উপদেষ্টা জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন।

এ ছাড়া, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও সিলমোহর অবমুক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। আজ দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও সিলমোহর অবমুক্ত করেন তিনি।

গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আজ আমরা পুরো জাতি একসঙ্গে স্মরণ করছি এমন একটি দিন, যা এদেশের ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে গেছে। ৫ আগস্ট শুধু একটা বিশেষ দিবস নয়, এটি একটি প্রতিজ্ঞা, গণজাগরণের উপাখ্যান এবং ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন।
আজ আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বরণ করছি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। যাদের আত্মত্যাগের কারণে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদী সরকার। বিগত ১৬ বছরে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করা হয়েছিল।
আহতদের চিকিৎসা না দেওয়ার জন্য হাসপাতালগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।’

শহীদ পরিবার এবং আহতদের আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের বিদেশে চিকিৎসা করানো হয়েছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘১৯৭১ সালে সাম্য সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এদেশের জনগণ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। লাখো প্রাণের বিনিময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও এদেশের মানুষ সুবিচার ও গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছে, বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের উত্তাল জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের এক সংকটময় অধ্যায়। ১৬ বছরের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

নতুন রেকর্ডের কাছাকাছি সৌদি, গত ৩ দিনে ১৭ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সৌদি আরব গত তিন দিনে ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। গতকাল সোমবার দুই সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ‘সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত অপরাধের’ দায়ে। এর আগে শনিবার ও রবিবার ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বিদেশি এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি প্রেস এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। গত তিন দিনে মোট ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই ঘটনা ২০২২ সালের মার্চের পর সবচেয়ে দ্রুত গতির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঘটনা। ওই সময় এক দিনে ৮১ জনকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র নিন্দার মুখে পড়ে।

শনিবার ও রবিবার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জনকে হাশিশ পাচারের দায়ে এবং একজনকে কোকেন পাচারের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগকারী দেশ। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ২৩৯টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। যা গত বছরের মোট ৩৩৮টি মৃত্যুদণ্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং এটি ১৯৯০-এর দশকে মৃত্যুদণ্ডের তথ্য প্রথম প্রকাশের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড।
এএফপির বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে, এ বছরের মৃত্যুদণ্ডগুলোর মধ্যে ১৬১টি ছিল মাদকসংক্রান্ত অপরাধে এবং ১৩৬ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।

মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রিভ-এর প্রতিনিধি জিদ বাসিউনি সম্প্রতি সতর্ক করে বলেন, ‘হাশিশ-সম্পর্কিত অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে এবং এসবের মধ্যে বিদেশিদের সংখ্যাই বেশি।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে হাশিশ ব্যবহারের অপরাধীকরণ ধীরে ধীরে বাতিলের পথে, সেখানে সৌদি আরবের এই প্রবণতা গভীর উদ্বেগের।’

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালে সৌদি আরব যে ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু করে, বর্তমান মৃত্যুদণ্ডের উল্লম্ফন তারই ফল। কারণ তখন আটক হওয়া অনেক ব্যক্তির এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে।
২০১৯ সালে সৌদি সরকার মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করলেও ২০২২ সালের শেষ দিকে তা পুনরায় চালু করা হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত্যুদণ্ড শুধুমাত্র সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই কার্যকর করা হয় এবং এটি সমাজে নিরাপত্তা ও মাদক প্রতিরোধে সহায়ক। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে সৌদি আরবকে একটি ‘উন্মুক্ত ও সহনশীল সমাজ’ হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা চলছে, তাতে এই মৃত্যুদণ্ডের অব্যাহত ব্যবহার বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সূত্র : এএফপি

তারেক রহমান : জুলাই অভ্যুত্থানের নেপথ্যের স্থপতি

বাংলাদেশের মাটিতে অনুপস্থিত থাকলেও, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেপথ্যে থেকে জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দূর থেকেই তিনি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন, সময়োপযোগী কৌশলগত নির্দেশনা দিয়েছেন এবং এমন এক নেতৃত্ব প্রদান করেছেন যা ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। তার লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—গণতন্ত্রের ভিত্তিমূল ধ্বংসকারী একটি শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলা এবং জনগণের কণ্ঠস্বর পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য একটি গণঅভ্যুত্থানের সূত্রপাত করা।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় অন্যায়ভাবে কারাবরণ করেছেন, আর তার বড় ছেলে তারেক রহমান, স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জায়মা রহমান এখনো নির্বাসনে আছেন। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো দুঃখজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই রাজনৈতিক পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আছে।

গত প্রায় ১৫ বছর ধরে, প্রথমে খালেদা জিয়া ও পরবর্তীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে, বিএনপি এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তি শেখ হাসিনার শ্বাসরুদ্ধকারী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
এই দীর্ঘ প্রতিরোধ একসময় রূপ নেয় একটি গণআন্দোলনে, যার সর্বশেষ রূপ দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে পরিচালিত কোটা সংস্কার আন্দোলনে। শুরুতে এটি ছিল কেবলমাত্র ছাত্রদের অসন্তোষ, কিন্তু পরবর্তীতে তা রূপ নেয় জাতীয় গণঅভ্যুত্থানে—যার নেপথ্যে ছিল তারেক রহমানের দূরদর্শী কৌশল।

২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর, বিএনপি দশ দফা দাবির ভিত্তিতে একযোগে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করে, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। এরপর ২০২৩ সালের ১২ জুলাই থেকে দলটি এক দফা দাবিতে নেমে আসে—শেখ হাসিনার পদত্যাগ।
এই আন্দোলনে ৪০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়, যা বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর অসন্তোষকে তুলে ধরে।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। এই দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে লক্ষাধিক মানুষ রাজপথে নেমে আসে নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য। এরই মাঝে হাজার হাজার বিএনপি নেতা-কর্মী গুম, অপহরণ ও রাষ্ট্রীয় হত্যার শিকার হয়েছেন। ৫০,০০০-এরও বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনো কারাবন্দি।

নির্বাসনে থেকেও তারেক রহমান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো—রেজিস্ট্রিকৃত ও অরেজিস্ট্রিকৃত উভয়কে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, ১২তম সংসদ নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং স্বৈরতন্ত্রবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিয়মিতভাবে দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, কৌশলগত ও লজিস্টিক সহযোগিতা দিয়েছেন এবং আন্দোলনের গতি থেমে না যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন।

সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময়, তারেক রহমান বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা ছাত্রদের পাশে দাঁড়ায়—চুপিচুপি, ব্যানার ছাড়া। তার বার্তাটি ছিল সহজ কিন্তু গভীর: এটা শুধুই বিএনপির আন্দোলন নয়, এটা পুরো জাতির জাগরণ।

বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তরের তথ্যমতে, জুলাই অভ্যুত্থানে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের মোট ৭৩৪ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন—এর মধ্যে ৪২৩ জন ছিলেন বিএনপির এবং ১৪৪ জন ছাত্রদলের সদস্য। এই সংখ্যাগুলো যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রতিটি শহীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।

বিএনপি নেতারা জানান, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পেছনে তারেক রহমান কখনোই নিজের বা দলের কৃতিত্ব দাবি করেননি। বরং তার লক্ষ্য ছিল স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে একটি যুব-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনকে জাতীয় বিপ্লবে রূপান্তরিত করা। আন্দোলনের শুরু হওয়ার অনেক আগেই তিনি সতর্ক করেছিলেন: ‘শেখ হাসিনাকে স্বেচ্ছায় সরে যেতে হবে, নইলে গণবিস্ফোরণের মুখোমুখি হতে হবে। এবং বাস্তবেই, এই অভ্যুত্থানের প্রকৃত রূপকার ছিলেন তারেক রহমান—যিনি ছাত্রদের হতাশাকে পরিণত করেছিলেন একটি সমন্বিত জাতীয় আন্দোলনে। তবে নিজের প্রচারের চেয়ে তিনি বরাবরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ছাত্রদের সাহস ও নেতৃত্বের ভূমিকাকে।’

শারীরিকভাবে দূরে থাকলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত বার্তা দিয়েছেন এবং বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তুলেছেন।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, তিনি লেখেন: ‘দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর জন্য আমি মর্মাহত ও শোকাহত, যেখানে আওয়ামী লীগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা নিয়োজিত গুলি ও চাপাতি-ধারীদের আক্রমণে অন্তত ৬ জন ছাত্র নিহত এবং হাজার হাজার আহত হয়েছেন—আওয়ামী লীগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা নিয়োজিত গুলি ও চাপাতি-ধারীদের আক্রমণে। এই সাহসী শিক্ষার্থীরা কেবলমাত্র ৫৬% কোটা ব্যবস্থার সংস্কার চাচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকা হাসিনা সরকার আবারও প্রমাণ করলো যে, তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সহ্য করতে পারে না—বিরোধিতার তো প্রশ্নই আসে না।’

১৭ জুলাই, তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, ‘আমাদের সন্তানদের পাশে দাঁড়ান। তাদের ন্যায্য দাবিতে তাদের সাহস ও সমর্থন দিন।’

১৮ জুলাই, তার সতর্কবার্তা আরো তীব্র হয়, ‘আরেকটি গুলি ছোড়ার আগে থামুন। যদি আপনারা সীমা অতিক্রম করেন, এর পরিণতি আপনাদেরই ভোগ করতে হবে।’

১৯ জুলাই, গ্রেপ্তার ও ব্ল্যাকআউটের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্মম দমন-পীড়ন, ইন্টারনেট বন্ধ, গণগ্রেপ্তার—যার মধ্যে আমাদের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও আছেন—এসব সত্ত্বেও ছাত্ররা পিছিয়ে যায়নি। তাদের পাশে দাঁড়ান, তাদের সমর্থন দিন, আন্দোলন চালিয়ে যান। হাসিনার পতন অনিবার্য।’

২১ জুলাই, তার বার্তা হয় আরো জরুরি, ‘হাসিনার ঘাতক বাহিনী আমাদের সন্তানদের রাস্তায় হত্যা করছে। এখনই সময় সর্বশক্তি দিয়ে রাস্তায় নামার।’

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, তিনি দেশবাসীর প্রতি হৃদয়বিদারক আহ্বান জানান, ‘প্রিয় দেশবাসী, ছাত্রদের ডাকে সাড়া দিন। যাই কিছু থাকে তা নিয়েই রাস্তায় নামুন। প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। আর সেনাবাহিনীর প্রতি আমার অনুরোধ—আপনারা আপনাদের সম্মান রক্ষা করুন, ব্যারাকে ফিরে যান এবং প্রকৃত দেশপ্রেমের মর্যাদা দিন।’

সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘জুলাই–আগস্টের অভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ কিন্তু গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়—যেখানে প্রতিরোধ, নির্যাতন ও আত্মত্যাগ মিলেমিশে আছে। তার ভাষায়, এ সময়কালে ১,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান, যার মধ্যে ৪২২ জন ছিলেন বিএনপি সংশ্লিষ্ট। আহত হয়েছেন ৩০,০০০-এর বেশি, যাদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু।

তিনি এই অধ্যায়কে তুলনা করেন অতীতের তিনটি সংগ্রামের সঙ্গে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ৭ নভেম্বরের স্বাধীনতাবিরোধী আধিপত্যবিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৯০-এর প্রো ডেমোক্রেসি গণ-আন্দোলন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। আবারও, নাম না জানা শহীদরা স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন।’

তারেক রহমানের জাতির উদ্দেশ্যে বার্তা স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। ‘এটাই সময় একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার—যেখানে শাসন চলবে ভয় বা বলপ্রয়োগ নয়, ন্যায্যতা, অংশগ্রহণ ও জনগণের ইচ্ছায়। আমাদের শহীদদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।’

সূত্র : ডেইলি সান।

খুন হয়েছেন কারিশমার প্রাক্তন স্বামী, অভিযোগ মায়ের

অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের প্রাক্তন স্বামী ও শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরের মৃত্যু নিয়ে নতুন চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ব্রিটেনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যুর খবর মিললেও এবার তার মা রানি কাপুর বিস্ফোরক দাবি করেছেন—ছেলের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, বরং তাকে খুন করা হয়েছে। গত ১২ জুন ব্রিটেনে পোলো খেলতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন সঞ্জয় কাপুর। প্রাথমিকভাবে বলা হয়, একটি মৌমাছি গিলে ফেলায় তার মৃত্যু হয়।

তবে মৃত সঞ্জয়ের মা রানি কাপুরের দাবি, এটা ছিল এক ‘সুপরিকল্পিত খুন’। তার কথায়, ‘‘নতুন কিছু প্রমাণ আমার হাতে এসেছে, যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে—এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি চক্রান্ত।’’

রানি কাপুর ব্রিটিশ পুলিশের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছেন, এই ষড়যন্ত্রে শুধু ব্রিটেন নয়, ভারত এবং সম্ভবত আমেরিকারও অনেক প্রভাবশালী মানুষ জড়িত থাকতে পারেন।

এখানেই শেষ নয়।
রানি কাপুর আরো অভিযোগ করেছেন, সঞ্জয়ের মৃত্যুর পর তাকে দিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে জোর করে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি এখন নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেও অর্থ লেনদেন করতে পারছেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।

২০০৩ সালে কারিশমা কাপুরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সঞ্জয় কাপুর। রাজকীয় সেই বিয়ে নিয়ে বলিউডে দীর্ঘদিন আলোচনা চলেছে।
তবে তাদের বৈবাহিক জীবন সুখের হয়নি। ২০১৪ সালে তারা আলাদা হয়ে যান এবং ২০১৬ সালে এই দম্পতির ডিভোর্স হয়। শোনা যায়, বিচ্ছেদের সময় কারিশমা মোটা অঙ্কের ভরণপোষণ হিসেবে সঞ্জয়ের কাছ থেকে ৭০ কোটি টাকা নেন।

আইজিপির ছবি দিয়ে ভুয়া ভিডিও, সতর্ক করল পুলিশ সদর দপ্তর

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের ছবি ব্যবহার করে এআই জেনারেটেড ভয়েসে একটি ভুয়া ভিডিও স্টেটমেন্ট সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এমন কর্মকাণ্ড বিদ্যমান আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে সতর্ক করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইজিপির স্থিরচিত্রের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভয়েস ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে একটি বিভ্রান্তিকর বার্তা প্রচার করা হয়েছে।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিদ্যমান আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: একটি ইতিহাস, একটি প্রতিরোধের প্রতিচ্ছবি

✍️ ইমারত হোসেন
সম্পাদক, 24hourbd.com

বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু গণআন্দোলন ও সংগ্রামের অধ্যায় রয়েছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান ছিলো এক অনন্য মাইলফলক, যা শুধু একটি প্রজন্মের চেতনায় নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির গতিপথে গভীর ছাপ ফেলেছে। এ অভ্যুত্থান ছিল স্বৈরশাসন, ভোটবিহীন নির্বাচন, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক স্বতঃস্ফূর্ত জনজাগরণ—যেখানে মানুষ দল-মত নির্বিশেষে রাস্তায় নেমেছিল।

⸻

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তা দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বর্জনের কারণে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হওয়ায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। “ডামি” বা প্রহসনের নির্বাচন বলে আখ্যায়িত ওই নির্বাচনের পর সরকার যখন ক্ষমতা আঁকড়ে থাকে, তখন শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, সাধারণ মানুষ—সবাই ধীরে ধীরে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে।

জুলাই মাসে ছাত্রদের সংগঠিত আন্দোলন, পেশাজীবীদের নৈতিক সমর্থন, গণমাধ্যমে সোচ্চার প্রতিবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণার ফলে এই অভ্যুত্থান রূপ নেয় একটি জাতীয় আন্দোলনে।

⸻

আন্দোলনের ধরণ ও বিস্তার

এই গণঅভ্যুত্থান ছিলো মূলত বেসামরিক এবং অহিংস। দেশের সব বড় শহর—ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও রংপুরে একযোগে বিক্ষোভ হয়।
প্রথম দিকে এটি ছাত্রদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তবে খুব দ্রুত এটি শিক্ষক, চিকিৎসক, ব্যাংকার, সাংবাদিক, নারী ও তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে রূপ নেয়।

বিশেষভাবে লক্ষণীয়, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, এমনকি কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা পর্যন্ত আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠেন। রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি, “নির্বাচন চাই” স্লোগান, কালো পতাকা মিছিল ও প্রতীকী অনশন এই আন্দোলনের মূল কৌশল ছিল।

⸻

সরকারি প্রতিক্রিয়া ও দমননীতি

সরকার প্রথমদিকে আন্দোলনকে উপেক্ষা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কঠোর অবস্থান নেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভ দমন করতে অত্যধিক বলপ্রয়োগ, গ্রেপ্তার ও হামলা চালায়। অনেক জায়গায় সাংবাদিকদেরও নিপীড়নের শিকার হতে হয়।

তবে দমননীতি ব্যর্থ হয়। বরং শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ। জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান সরকারের উপর চাপ তৈরি করে।

⸻

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আন্দোলনকে গুরুত্ব দিয়ে কভার করে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বহু রাষ্ট্র July Uprising-এর ঘটনাবলিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান জানায়।

⸻

ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। তরুণ সমাজ বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা আর কেবল ভোটের দিন নয়, সব সময় রাজনীতির অংশ।
গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনে সীমাবদ্ধ নয়—তা প্রতিদিনের চর্চা। এই অভ্যুত্থান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, রাষ্ট্র ক্ষমতা সর্বদা জনগণের হাতে, এবং জনগণ চাইলে তা ফিরিয়ে আনতে পারে।

⸻

উপসংহার

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একদিনের ঘটনা নয়, এটি ছিলো দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এটি প্রমাণ করে, বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন, সংঘবদ্ধ এবং গণতন্ত্রমুখী। ইতিহাস সাক্ষী থাকবে, ২০২৪ সালের জুলাই ছিলো গণতন্ত্রের দাবিতে সাধারণ মানুষের এক নতুন জাগরণ।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ‘বিশ্বাসে’ ইতিহাসে ভারতের সিরাজ

আত্মবিশ্বাসের গল্প লিখলেন মোহাম্মদ সিরাজ। ম্যাচের সকালে ঘুম থেকে উঠে মনস্থির করেছিলেন— বদলে দেবেন খেলার চিত্রপট। কথাটা শুধু নিজের মনেই রাখেননি, সেটিকে চোখের সামনেও রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন। গুগল থেকে খুঁজে বের করেছিলেন রোনালদোর ছবিসহ ‘বিলিভ’ লেখা একটি ছবি— একটি শব্দ, একটি মানুষ, কিন্তু অনুপ্রেরণার উৎস।
সেটিই মোবাইলের ওয়ালপেপার করে রেখেছিলেন যেন প্রতিবার স্ক্রিন খুললেই চোখে পড়ে সেই রোনালদোর বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।

ওভালের চতুর্থ দিনে ভারতের দুর্দান্ত জয়ের মূল কারিগর এই পেসার নিয়েছেন ৯ উইকেট। হয়েছেন ম্যাচসেরা। আর ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন, ‘সকালে ঘুম থেকে ওঠেই মনে হয়েছিল, আজ কিছু একটা করেই ছাড়ব।
‘বিলিভ’ লেখা ছবিটা মোবাইলের ওয়ালপেপার করেছিলাম, যেন মনে থাকে আমি পারি। শেষ পর্যন্ত সেটাই হলো। সফল হয়েছি।’

সিরাজ বলেন, প্রথম দিন থেকেই দলের পরিকল্পনা ছিল প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা।
সেই কৌশলেই সফলতার ছাপ রাখলেন তিনি।

সিরাজ আরো বলেন, ‘চেষ্টা ছিল ধারাবাহিকভাবে বল একই জায়গায় রাখার। শুরু থেকেই লড়াই করেছি। যে ফল পেয়েছি, তা আমার জন্য বাড়তি প্রাপ্তি।’

ম্যাচে একটি মুহূর্তে টালমাটাল হয়ে ওঠেছিল ভারতের পথচলা।
হ্যারি ব্রুকের ক্যাচটি মিস হয়েছিল। সেটিই হয়তো বিপদ ডেকে আনতে পারত।

সিরাজ বলেন, ‘ব্রুকের ক্যাচ ছাড়ার পর মনে হয়েছিল, এখান থেকেই হয়তো খেলা ঘুরে যেতে পারে। যদি ওটা ধরতে পারতাম, আজকের ম্যাচটা গতকালই শেষ হয়ে যেত। তবে যেভাবে ব্রুক আমাদের ওপর চাপ তৈরি করেছিল, তার জন্য ওকে সম্মান জানাতেই হয়।’

৫ আগস্ট হয়ে উঠুক গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিন : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আজ এবং আগামীর প্রতিটি ‘৫ আগস্ট’ হয়ে উঠুক গণতন্ত্র, সুশাসন প্রতিষ্ঠা আর মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার অঙ্গীকারের দিন। আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আজ থেকে ঠিক একবছর আগে ২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়েছে। রাহুমুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ।
স্বাধীনতা প্রিয় গণতন্ত্র প্রিয় জনগণের জন্য দিনটি আনন্দের। দিনটি বিজয়ের। রাহুমুক্ত বাংলাদেশের এই দিনটিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাঁবেদারমুক্ত বাংলাদেশের জনগণ প্রতিবছর এই দিনটিকে স্বাধীনভাবে সানন্দে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে উপভোগ করবে।
স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার চর্চার নতুন অঙ্গীকারে উদ্বুদ্ধ হবে।’

তিনি বলেন, ‘একুশ শতকের এই বাংলাদেশে পলাতক স্বৈরাচার এক বিভীষিকার রাজত্ব কায়েম করেছিল। গুম খুন অপহরণ হামলা মামলা নির্যাতন নিপীড়নকে সাধারণ এবং স্বাভাবিক ঘটনায় রূপান্তর করেছিল। এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনের সময় বিএনপিসহ ভিন্ন দল এবং মতের গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির লাখো কোটি নেতাকর্মীর জন্য দেশকে নরকে পরিণত করে রাখা হয়েছিল।
শত শত মিথ্যা মামলার কারণে ভিন্ন দল এবং মতের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী সমর্থককে ঘরবাড়ি ছাড়া করে দেওয়া হয়েছিল। অনেকের পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে পলাতক স্বৈরাচারের নির্দেশে দেশে শত শত গোপন বন্দিখানা ‘আয়নাঘর’ বানানো হয়েছিল। সেই আয়নাঘরের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে জলজ্যান্ত মানুষকে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো। অনেককে চিরতরে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী কিংবা কমিশনার চৌধুরী আলমের আজো খোঁজ মেলেনি।’

‘বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ দেশের সব সাংবিধানিক বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল। সংবিধান উপেক্ষা করে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। দেশকে চিরতরে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিনষ্ট করার সব আনুষ্ঠানিকতা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। বই খাতা কলমের পরিবর্তে রাজনীতির নামে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল লগি-বৈঠা-হাতুড়ি-চাপাতি।’

‘বিপর্যস্ত করে দেওয়া হয়েছিল দেশের অর্থনীতি। ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল। দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করে দেওয়া হয়েছে। অন্যায় অনিয়ম অনাচার দুরাচার লুটপাট দৈনন্দিন চিত্র হয়ে উঠেছিল। দেশে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল ব্যক্তিতন্ত্র। তবে ফ্যাসিস্টের শেষ রক্ষা হয়নি। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, ছাত্র-জনতা, কৃষক শ্রমিক, রিকশাওয়ালা, মুটে মজুর, গার্মেন্টস কর্মী, হোটেল রেস্তোরা কর্মী, পরিবহন শ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতি কর্মী, গৃহবধূ, নারী শিশু এমনকি আমাদের মায়েরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে এসেছিল। গণ-অভ্যুত্থান দমন করতে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছিল। কোলের শিশু, শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মুগ্ধ, আমাদের এইসব সাহসী সন্তানদের বুকে গুলি করে শহীদ করে দেওয়া হয়েছিল।’

তারেক রহমান বলেন, ‘শুধুমাত্র ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেই দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন। ছাত্র-জনতা, কৃষক শ্রমিক, নারী, শিশু, বৃদ্ধ, সাংবাদিক, শ্রমজীবী, পেশাজীবী, ফ্যাসিস্টের গুলির নিশানা থেকে কাউকেই রেহাই দেওয়া হয়নি। এই অভ্যুত্থানে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ। হাত পা শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ হারিয়ে আমাদের শত শত সন্তান, শত শত ভাই ও বোনেরা চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন কিংবা চোখ হারিয়ে আজীবনের জন্য অন্ধ হয়ে গেছেন।’

‘এ জন্য আমি বলি, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ। আর ২০২৪ সালে ছিল স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ’৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদেরকে বাংলাদেশ ভোলেনি। ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদেরকেও বাংলাদেশ ভুলবে না। ’৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা অর্জন, স্বাধীনতা রক্ষা, স্বৈরাচার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন এভাবে ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে লাখো মানুষ শহীদ হয়েছেন। আজকের এই দিনে আমি আবারো সব শহীদের অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি।’

তিনি বলেন, ‘দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে শহীদগণ আমাদের ঋণী করে গেছেন এবার শহীদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের পালা। শহীদদের পরিবারের কাছে বাংলাদেশ ঋণী। দেশে জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে সাম্য মানবিক মর্যাদা সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ইনসাফভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ গঠনের মাধ্যমেই আমরা শহীদদের প্রতি ঋণ পরিশোধ করতে পারি।’

‘একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রথম এবং রাজনৈতিক উদ্যোগ হচ্ছে জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি রাষ্ট্র এবং সরকার প্রতিষ্ঠা। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটি সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করছে।’

‘বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের সঙ্গে স্বাধীনতা পরবর্তী তিন-সাড়ে তিন বছরের সময়কাল ছাড়া আর কোনো শাসনামলের তুলনা চলে না। সুতরাং, আমি সবাইকে বিনীতভাবে আহ্বান জানাব, হিটলারের নাৎসিবাদ সম্পর্কে যেমন কেউ গৌরব করে না, পলাতক ফ্যাসিস্ট এর শাসনকাল নিয়েও গৌরব করার কিছু নেই। ডাকাতি করে কিছু সম্পদ চ্যারিটি করলেও জনগণের চোখে ডাকাত যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতা খুঁজতে গিয়ে কৌশলে পলাতক ফ্যাসিস্টের পক্ষে সাফাই গাওয়াও তেমনি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

‘যারা কৌশলে ফ্যাসিবাদী শাসনের সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তুলনা করতে চান, তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতে চাই, ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যা ঘটেছে, এটি শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের ইতিহাসেও মনে হয় নজিরবিহীন। ৫ আগস্ট গণভবন ছেড়ে ফ্যাসিস্ট পালিয়েছে। সংসদ ভবন রেখে সাংসদ পালিয়েছে। আদালত ছেড়ে প্রধান বিচারপতি পালিয়েছেন। বায়তুল মোকাররম ছেড়ে প্রধান খতিব পালিয়েছেন। ক্যাবিনেট ছেড়ে মন্ত্রীরা পালিয়েছেন। ফ্যাসিস্টের দোসররা গা ঢাকা দিয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, পলাতক এই ফ্যাসিস্ট চক্রের মনে এখনো কোনো অনুতাপ অনুশোচনা নেই।’

তারেক রহমান বলেন, ‘হাজারো শহীদের রক্তস্নাত রাজপথে ফ্যাসিবাদবিরোধী অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠেছে। বাংলাদেশে আর কখনোই ফ্যাসিবাদ কায়েম হবে না, কাউকে গণতন্ত্র হত্যা করার সুযোগ দেওয়া হবে না, বাংলাদেশকে আর কখনোই তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না। আমি মনে করি এসব প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য বহাল আছে, থাকবে।’

‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে যার যার দলীয় আদর্শ এবং লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইস্যুভিত্তিক ভিন্নমত থাকবে। এটি বিরোধ নয় বরং ভিন্নমত। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে ভিন্নমত কিংবা বিরোধের মাত্রা যেন ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ, চরমপন্থার উত্থান কিংবা পুনর্বাসনের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সে ব্যাপারে প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই। আমি মনে করি, প্রতিটি রাজনৈতিক দল, যার যার দলীয় কর্মসূচি কিংবা এজেন্ডা নিয়ে জনগণের আদালতে যাবেন। জনগণ কোনটি গ্রহণ করবেন কিংবা বর্জন করবেন এটি সম্পূর্ণ জনগণের এখতিয়ার। এভাবেই প্রতিদিনের রাজনৈতিক চর্চার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রে জনগণকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার থেকে আরম্ভ করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে জনগণ যখন সরাসরি নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নিজের ভোট প্রয়োগ করে প্রতিনিধি নির্বাচন করে সরকার গঠন কিংবা সরকার পরিবর্তনের ক্ষমতা অর্জন করতে না পারবে ততদিন পর্যন্ত রাষ্ট্র এবং সরকারে জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হবে না। তাই আসুন, রাষ্ট্র, সরকার, শাসন প্রশাসন পরিচালনা আর প্রতিদিনের কার্যক্রমে জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার চর্চা প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা জনগণকে শক্তিশালী করে তুলি। জনগণকে শক্তিশালী করে তুলতে না পারলে শেষ পর্যন্ত কোনো কিছুই শক্তিশালী এবং টেকসই হবে না।’

‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসের ঘৃণ্যতম ফ্যাসিস্ট পালিয়ে যাওয়ার পরপরই বীর জনতার উদ্দেশ্যে দেওয়া অভিনন্দন বার্তায় আমি বলেছিলাম বিজয়ীর কাছে পরাজিতরা নিরাপদ থাকলে বিজয়ের আনন্দ মহিমান্বিত হয়। সেটি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আমার আহ্বান, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। মব ভায়োলেন্সকে উৎসাহিত করবেন না। নারীর প্রতি সহিংস আচরণ করবেন না। অন্যের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘মায়ের চোখে বাংলাদেশ যেমন, আমরা তেমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে দলমত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সংশয়বাদী প্রতিটি সন্তান প্রতি মানুষ নিরাপদে থাকবে। আজ এবং আগামীর প্রতিটি ‘৫ আগস্ট’ হয়ে উঠুক গণতন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠা আর মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার অঙ্গীকারের দিন। এই সুমহান অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দীর্ঘ যাত্রায় আমি এবং আমার দল বিএনপি দেশের সব গণতন্ত্রকামী জনগণের সমর্থন এবং সহযোগিতা আশা করছি।’