সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

ভাঙ্গায় সর্বকনিষ্ঠ শহীদ আহাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা

আক্তারুজ্জামান (সোহেল বারি) ভাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি: গত বছর জুলাই মাসের ১৯ তারিখে নিহত হন সর্বকনিষ্ঠ ৪ বছর শিশু আব্দুল আহাদ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে ৮ তলার উপর তার বাবা-মায়ের সাথে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল আব্দুল আহাদ। বাসায় নিচে ছাত্র ও পুলিশের তুমুল গোলা-গুলি চলছিল। এ সময় তাদের ছোড়া একটি বুলেট আঘাত করে আব্দুল আহাদ কে নিমিষেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশু আহাদ।

তিনি “জুলাই সর্বকনিষ্ঠ যোদ্ধা” হিসেবে পরিচিতি পান। শহীদ আব্দুল আহাদের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুকুরিয়া গ্রাম।

আহাদ “জুলাই সর্বকনিষ্ঠ শহীদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তার স্মরণে ভাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন আহাদের কবরে ফুলের শ্রদ্ধা সহ শোক ও আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামে আব্দুল আহাদের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন, ভাঙ্গা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো, আসিফ ইকবাল, নির্বাচন অফিসার হাচেন উদ্দিন, শিক্ষা অফিসার মো, জাহাঙ্গীর আলম, বৈষম্য বিরোধী ছাত্রআন্দোলনের ভাঙ্গা উপজেলা সমন্বয়ক শেখ আশরাফ সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ।

এ বিষয় ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন- জুলাই গন-অভ্যুত্থানে নিহত হন সর্বকনিষ্ঠ ৪ বছর শিশু আব্দুল আহাদ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকা যাত্রাবাড়ির রায়েরবাগ এলাকায় ৮ তলার উপর তার বাবা-মায়ের সাথে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল আব্দুল আহাদ। এসময় বাসায় নিচে ছাত্রদের সাথে পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন সর্বকনিষ্ঠ শিশু আব্দুল আহাদ । শিশু আহাদের মত অনেক মায়ের কোল খালি হয়েছে সেদিন। আমরা শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের বিচার সম্পুর্ন করা হবে। শহীদ আব্দুল আহাদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং আহাদ সহ সকল শহীদদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।

এবিষয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাঙ্গা সার্কেল মো, আসিফ ইকবাল বলেন- আজ সারাদেশের মত ভাঙ্গায় জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সাথে পুলিশ প্রশাসন দিবসটি পালন করে। আমরা শহীদ আব্দুল আহাদের কবরে ফুলের শ্রদ্ধা ও আহাদ সহ সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। আব্দুল আহাদের বাড়ির পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করেছি।

উল্লেখ, গত বছরের ১৯ জুলাই শুক্রবার বিকেলে যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সংঘর্ষ চলাকালে আহাদ তার বাবা-মায়ের সাথে বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। পরদিন শহীদ আহাদের গ্রামের বাড়ি ভাঙ্গা উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।

জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করছেন প্রধান উপদেষ্টা

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পলায়নের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে প্রধান উপদেষ্টা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় তার সঙ্গে প্রবেশ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করছে।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত আছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের। ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তীব্র জনরোষ থেকে বাঁচতে পালিয়ে ভারতে চলে যান। তারপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত এ সরকার জুলাই ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করে।

ধর্ষণ মামলায় শর্ত সাপেক্ষে জামিন আর্সেনালের সাবেক মিডফিল্ডারের

ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযুক্ত মামলা থেকে জামিন পেয়েছেন থমাস পার্টি। তবে সেটা শর্ত সাপেক্ষে। আজ লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির হয়ে শর্ত সাপেক্ষে জামিন পান আর্সেনালের সাবেক মিডফিল্ডার।

গত মাসের শুরুর দিকে থমাসের বিরুদ্ধে পাঁচটি ধর্ষণ ও একটি যৌন নির্যাতনের মামলা হয়।
মামলাগুলো করেন তিনজন নারী। মামলার পর মেট্রোপলিটন পুলিশ ফোর্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ৩২ বছর বয়সী ঘানার ফুটবলারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো ২০২১ থেকে ২০২২ সালের ঘটনা। দুই নারীর সঙ্গে ধর্ষণের আর তৃতীয়জনের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কিত।

থমাসের জামিনের বিষয়ে প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট পল গোল্ডস্প্রিং বলেছেন, ‘বুঝতে পারছি সে এখন এই দেশে (ইংল্যান্ডে) খেলছে না।
এখন থেকে স্পেনে খেলবে।’ লন্ডনভিত্তিক ট্যাবলয়েড দ্য লল্ডন স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, থমাসের জামিনের অর্থ হচ্ছে, তিন নারীর সঙ্গে সে কোনোরকম যোগাযোগ করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং স্থায়ী আবাসস্থল পরিবর্তন হলে অবশ্যই পুলিশকে জানাতে হবে।

আর্সেনালের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার ৪ দিন পরেই মামলার দুঃসংবাদ পান থমাস।
পরে ইংলিশ ক্লাবের সঙ্গে নতুন চুক্তি না করে ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে করেন ঘানার মিডফিল্ডার। দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্প্যানিশ ক্লাবের সঙ্গে ২ বছরের চুক্তি সেরেছেন তিনি।

ডেঙ্গুতে আরো ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩১৯

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩ জনের মধ্যে দুজন পুরুষ এবং একজন নারী।
আর আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৩০ জনই ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরের।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ২২ হাজার ৩৮৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৮৯ জনের।

ট্রাম্প-পুতিনের সম্পর্ক ‘লাইনচ্যুত’, ‘সংঘর্ষের’ শঙ্কা কতটুকু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার সম্পর্ক কি লাইনচ্যুত হয়েছে? রাশিয়ার একটি জনপ্রিয় সংবাদপত্র অবশ্য সেটাই মনে করছে। রুশ-মার্কিন সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ফুটিয়ে তোলার জন্য তারা রেলগাড়ির উদাহরণ টেনেছে। সম্প্রতি রুশ ট্যাবলয়েড মস্কোভস্কি কমসোমোলেটস বলেছে, ‘মুখোমুখি সংঘর্ষ অনিবার্য বলে মনে হচ্ছে।’

পত্রিকাটি আরো বলেছে, ‘ট্রাম্প লোকোমোটিভ ও পুতিন লোকোমোটিভ একে অপরের দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে এবং কোনো পক্ষই ইঞ্জিন বন্ধ করছে না বা থামাচ্ছে না এবং পেছনের দিকেও সরছে না।
’

‘পুতিন লোকোমোটিভে’র পুরো মনোযোগ তাদের তথাকথিত ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযানে’র দিকে বলেও লিখেছে তারা।

ক্রেমলিনের এই নেতা শত্রুতা শেষ করা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার ক্ষেত্রে কোনো আগ্রহ দেখাননি। অন্যদিকে ‘ট্রাম্প লোকোমোটিভ’ ইতিমধ্যে ইউক্রেনে যুদ্ধ থামাতে সময় বেঁধে দেওয়া, রাশিয়ার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার হুমকি, ভারত ও চীনের মতো বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর বড় ধরনের শুল্কারোপসহ নানান পদক্ষেপের মাধ্যমে মস্কোর ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চালিয়েছে। সেই সঙ্গে দুটি মার্কিন পারমাণবিক সাবমেরিন রাশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

লোকোমোটিভ থেকে আলোচনা যখন পারমাণবিক সাবমেরিনের দিকে যাচ্ছে, তখন বুঝতে হবে, বিষয়টি গুরুতর। কিন্তু এটার অর্থ কী? ইউক্রেন ইস্যুতে হোয়াইট হাউস কি সত্যিই ক্রেমলিনের সঙ্গে ‘সংঘর্ষের পথে’ এগোচ্ছে? নাকি চলতি সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মস্কো সফর ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো একটি চুক্তি হওয়া সম্ভব?

ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে উষ্ণ সূচনা
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরের কয়েক সপ্তাহ মনে হয়েছিল, নিজেদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে মস্কো ও ওয়াশিংটন। তখন ‘মুখোমুখি সংঘর্ষের’ কোনো ইঙ্গিত তো দূরের কথা, মাঝে মাঝে এমনো মনে হচ্ছিল, যেন ভ্লাদিমির পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প একই গাড়িতে, একই দিকে এগিয়ে চলেছেন।

গত ফেব্রুয়ারিতেও রাশিয়ার পক্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ইউক্রেনে রুশ ‘আগ্রাসনের’ নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে ইউরোপের নেতৃত্বে যে প্রস্তাব তোলা হয়েছিল, সেটির বিরোধিতা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই মাসেই এক টেলিফোন আলাপে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট একে অপরের দেশে রাষ্ট্রীয় সফরের কথাও বলেছিলেন। তখন মনে হচ্ছিল, পুতিন-ট্রাম্প শীর্ষ সম্মেলন যেকোনো দিন হতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন সেই সময় মস্কোর বদলে কিয়েভের ওপর চাপ প্রয়োগ করছিল। এ ছাড়া কানাডা ও ডেনমার্কের মতো পুরনো মিত্রদের সঙ্গেও লড়াইয়ের পথে এগোতে দেখা যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে।
মার্কিন কর্মকর্তারা নিজেদের বক্তৃতা ও সাক্ষাৎকারে ন্যাটো ও ইউরোপের নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। সেগুলো তখন ক্রেমলিনের কানে সুর হয়ে বাজছিল।

রাশিয়ার একাডেমি অব সায়েন্সেস সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী কনস্টান্টিন ব্লোখিন গত মার্চে রুশ গণমাধ্যম ইজভেস্তিয়াকে বলেন, ‘ব্রাসেলস বা কিয়েভের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের এখন রাশিয়ার সঙ্গে অনেক বিষয়ে বেশি মিল রয়েছে।’

পরের মাসে ওই একই সংবাদপত্রে বলা হয়, ‘ট্রাম্প সমর্থকরা বিপ্লবী। তারা প্রচলিত ব্যবস্থা ভেঙে ফেলছেন। তাদের এই কাজে সমর্থন দেওয়া যেতে পারে। পশ্চিমাদের ঐক্য আর নেই। ভূ-রাজনৈতিকভাবে তারা আর জোটবদ্ধ নয়। ট্রাম্পের সমর্থকরা ট্রান্সআটলান্টিক ঐকমত্যকে আত্মবিশ্বাস দ্রুততার সঙ্গে ভেঙে দিয়েছে।’

তত দিনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়ায় নিয়মিতভাবে সফর করতে শুরু করেছেন। মাত্র দুই মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে তিনি দেশটিতে অন্তত চারবার সফরে যান। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করেন।

এর মধ্যে একটি বৈঠকের পর ক্রেমলিনের নেতা হোয়াইট হাউসে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি প্রতিকৃতিও উপহার দেন। এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রীতিমত ‘মুগ্ধ হয়েছিলেন’ বলে জানা যাচ্ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মস্কোর কাছ থেকে নিজের প্রতিকৃতির চেয়েও বেশি কিছু চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্ট পুতিন যেন একটি নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর করেন।

ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান হতাশা
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে রাশিয়ার উদ্যোগ এখন নিশ্চিত। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে না। যদিও তিনি দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে একটি কূটনৈতিক সমাধানের মস্কো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু নানাভাবে চেষ্টার পরও ইউক্রেনে যুদ্ধ না থামায় ক্রেমলিনের প্রতি ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সম্প্রতি তিনি ইউক্রেনে বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার একের পর এক আক্রমণকে ‘ঘৃণ্য’ ও ‘লজ্জাজনক’ বলে নিন্দা করেছেন। সেই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে ইউক্রেন সম্পর্কে ‘অনেক বাজে মন্তব্য করার’ অভিযোগ তুলেছেন।

যুদ্ধ বন্ধে গত মাসে পুতিনকে ৫০ দিনের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা ও বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি। পরবর্তীতে ট্রাম্প সেই সময়সীমা আরো কমিয়ে ১০ দিনে নিয়ে আসেন। চলতি সপ্তাহে সেই আলটিমেটামের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন—এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে।

কিন্তু ভ্লাদিমির পুতিন বাস্তবে কতটুকু চাপের মধ্যে রয়েছেন? নিউইয়র্কের বিশ্ববিদ্যালয় দ্য নিউ স্কুলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক শিক্ষক নিনা ক্রুশ্চেভার মতে, “যেহেতু ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেকবার (যুদ্ধ বন্ধের) সময়সীমা পরিবর্তন করেছেন, কাজেই আমার মনে হয় না পুতিন তার কথা এতটা গুরুত্ব সহকারে নেন। পুতিন যত দিন সম্ভব লড়াই করবেন, যদি না এর মধ্যে ইউক্রেন বলে, ‘আমরা ক্লান্ত, আমরা তোমাদের শর্ত মেনে নিতে রাজি।’ আমি মনে করি, পুতিন ক্রেমলিনে বসে ভাবছেন, তিনি রুশ জার ও জোসেফ স্ট্যালিনের স্বপ্ন পূরণ করছেন। পশ্চিমাদের বোঝাচ্ছেন, রাশিয়ার সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করা উচিত নয়।”

এখনো চুক্তি সম্ভব
এখন পর্যন্ত যে যে বিষয় বর্ণনা করা হলো, তাতে মনে হতে পারে, পুতিন ও ট্রাম্পের লোকোমোটিভের মধ্যে ‘মুখোমুখি সংঘর্ষ’ অনিবার্য। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি ঘটনার সম্ভাবনা কম।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে একজন ‘দুর্দান্ত চুক্তিকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, তিনি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি চুক্তি করার বিষয়ে হাল ছেড়ে দেননি।

চলতি সপ্তাহে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ক্রেমলিনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে আবারও রাশিয়ায় যাচ্ছেন। এখনো জানা যায়নি, তিনি ঠিক কী ধরনের প্রস্তাব নিয়ে যাবেন। তবে মস্কোভিত্তিক কিছু বিশ্লেষক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, স্টিভ উইটকফের এই সফরে রাশিয়া লাভবান হবে।

রাশিয়া ‘নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বেশ ভালো বলে মনে হচ্ছে’—গত রবিবার এমন মন্তব্য করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সোমবার মস্কোর এমজিআইএমও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইভান লোশকারেভ রুশ গণমাধ্যম ইজভেস্তিয়াকে বলেন, সংলাপকে তুলনামূলক সহজতর করার জন্য উইটকফ ‘(রাশিয়ার কাছে) এমন ধরনের সহযোগিতা প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারেন, যা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি স্বাক্ষরের পরে বাস্তবায়িত হবে’।

সাড়ে তিন বছর ধরে যুদ্ধ চালানোর পর এ ধরনের প্রস্তাবনা মেনে ক্রেমলিন কি শান্তি স্থাপনে রাজি হবে? এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। সর্বোপরি ইউক্রেনের ভূখণ্ডের দখল, ইউক্রেনের নিরপেক্ষতা এবং তাদের ভবিষ্যৎ সেনাবাহিনীর আকারের বিষয়গুলো নিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন এখন পর্যন্ত তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তি চান। কিন্তু ভ্লাদিমির পুতিন চান বিজয়।

বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার আরো ১৫৫২

পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে রাজধানীসহ সারা দেশে এক দিনে মোট ১ হাজার ৫৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ৯৭৯ এবং অন্যান্য অপরাধে জড়িত ৫৭৩ জন।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এনামুল হক সাগর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

এতে বলা হয়েছে, সোমবার (৪ আগস্ট) দেশব্যাপী পুলিশ সদস্যরা একযোগে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫৫২ জনকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় একটি দেশীয় দোনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড কার্তুজ, দুটি কিরিচ, তিনটি দেশীয় রামদা ও দুটি ছুরি উদ্ধার হরা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর আরো জানায়, সারা দেশে অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

অপরাধের শাস্তি এক সপ্তাহ পর পেলেন অস্ট্রেলিয়ার দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান

অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে। কেউ সঙ্গে সঙ্গে পায় আবার কেউ দেরিতে। মোট কথা শাস্তি জুটবেই। টিম ডেভিড যেমন পেলেন।
এক সপ্তাহেরও বেশি আগে করা অপরাধের শাস্তি আজ পেলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার।

আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অখুশি হওয়ায় ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা গুনেছেন ডেভিড। সঙ্গে এক ডিমেরিট পয়েন্টও পেয়েছেন তিনি। আইসিসির আচরণবিধি ২.৮ ধারায় এই শাস্তি পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার।
ধারাটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করার বিষয়ে। ডেভিড শাস্তি মেনে নেওয়ায় শুনানির আর প্রয়োজন নেই।

ডেভিডের ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যেকার পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে। ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করার সময় ম্যাচের পঞ্চম ওভারে আলজেরি জোসেফের একটি বল লেগ সাইড দিয়ে চলে যায়।
প্রতিপক্ষের উইকেটরক্ষকের হাতে বলা জমা হতেই দুই হাত প্রসারিত করে ওয়াইডের সংকেত দেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার। যা আইন অনুযায়ী নিয়ম বহিভূর্ত।

সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে সেদিন সেন্ট কিটসে ৭ উইকেটের জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের মাঠেই ৫-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করে অজিরা। সেই ম্যাচে ডেভিড ৩০ রান করলেও তৃতীয় ম্যাচে রেকর্ড সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্রুততম ৩৭ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ২৯ বছর বয়সী ব্যাটার।

ধানুুশের সঙ্গে প্রেম করছেন ম্রুণাল ঠাকুর

কিছুদিন আগে অর্থাৎ গেল ১ আগস্ট ছিল ম্রুণাল ঠাকুরের জন্মদিন। সেই জন্মদিনের ঘরোয়া পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণি তারকা ধানুশ। এরপর থেকেই কানাঘুষো শুরু হয়েছে, এই দুই তারকা নাকি চুপিচুপি প্রেম করছেন!

ধানুশ যেহেতু খুব একটা পার্টি-টাইপ নন, তাই বলিউডপাড়ায় চোখ কুঁচকে তাকানোর যথেষ্ট কারণ ছিল! এরপরেই আসে দ্বিতীয় ধাক্কা—ম্রুণাল অভিনীত ‘সন অব সর্দার টু’ এর বিশেষ প্রদর্শনীতে আচমকা হাজির ধানুশ। আর সেখানেই ঘটে ‘সিনেমাটিক’ মুহূর্ত—মৃণাল হঠাৎ ধানুশের দিকে হেলে কানে কানে কিছু একটা বলেন।
ভিডিওটা ভাইরাল হতে সময় লাগেনি।

তবে এই প্রথম নয়। জুলাই মাসে ধানুশের নতুন সিনেমা ‘তেরে ইশ্ক মে’ এর এক ঘরোয়া পার্টিতেও ধরা দিয়েছিলেন এই জুটি। চিত্রনাট্যকার কানিকা ঢিলনের ইনস্টাগ্রামে সেই ছবিতে ধানুশ আর ম্রুণালকে দেখা গেছে এক ফ্রেমে, হাসিমুখে।
চারপাশে ছবির পুরো টিম।

আপাতত তাদের দুজনের প্রেম নিয়ে চর্চা চললেও এখনো পর্যন্ত ধানুশ বা ম্রুণাল কেউই এ বিষয়ে মুখ খুলেননি। প্রেমের কথা স্বীকারও করেননি, আবার অস্বীকারও না।

প্রসঙ্গত, ধানুশ ২০২২ সালে স্ত্রী ঐশ্বরিয়ার (রাজিনীকান্তের কন্যা) সঙ্গে ১৮ বছরের সংসার জীবনের ইতি টানেন।

শত শত মানুষ বলছে, স্বাধীন হইলাম : ফারুকী

আজ পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের এক বছর পূর্তি। গত বছরের এই দিনে গণ-আন্দোলনের মুখে পতন ঘটে এক ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার। এই দিনটিকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। দেশ নতুন করে স্বাধীন হয়েছে তা প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ বুঝতে পারলেও কতিপয় পিএইচডিওয়ালা বুঝতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) নিজের ফেসবুকে একটি পোস্টে লেখেন, “রিকশাচালকরা চিৎকার করে বলছে, দেশ স্বাধীন হইছে। তরুণরা বলছে, আমাদের বিজয় দিবস। শত শত মানুষ বলছে, স্বাধীন হইলাম। এই মানুষদের তো কেউ শিখাইয়া দেয়নি।
তাহলে কী করে বুঝল তাঁরা পরাধীন? কী করে বুঝল তারা স্বাধীন? তাঁরা যেটা বুঝল, কতিপয় পিএইচডিওয়ালা বুঝতে পারল না কেন? তাঁদের পিএইচডি মন ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বুঝতে পারছে না কেন?”

ফারুকী বলেন, ‘মাস্টারমশাই থিওরি নয়, কান পাতেন গিয়ে ঐ দিনের উচ্ছ্বসিত মানুষদের বুকে। দেখবেন গুম-খুন-নিজ দেশে পরাধীন থাকার অপমানের বিরুদ্ধে জিকির হচ্ছিল তাঁদের বুকে। আর স্পন্দিত হচ্ছিল আবরার ফাহাদ। এই একটা নামের দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে গেছে ফ‍্যাসিবাদ আর আগ্রাসনবাদ।

তিনি আরো বলেন, “আজকের এই দিনটা শুরু করেছি ‘ইউ ফেইলড টু কিল আবরার ফাহাদ’ দেখে। আজকে সারা দিন মানিক মিয়াতে আমাদের সাথে আবরার ফাহাদ থাকবেন। হাজারো শহীদেরা থাকবেন। আর থাকবে জালেমমুক্ত হওয়ার আনন্দ। সবশেষে তিনি জনপ্রিয় গানের একটি লাইন উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘শোনো মহাজন, আমরা অনেকজন’।

অভুক্ত ফিলিস্তিনিদের নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইসরায়েলের

গাজায় মানবিক ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। তারা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পরিবর্তে ধাপে ধাপে এবং নিয়ন্ত্রিত একটি প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে গাজায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে পণ্য প্রবেশ করানো হবে। খবর আল জাজিরার।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো গাজা উপত্যকায় ত্রাণের পরিমাণ বাড়ানো এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর নির্ভরতা কমানো।

এই পরিকল্পনার আওতায় গাজার সীমিত সংখ্যক ব্যবসায়ীকে পণ্য আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে তা নির্ধারিত নিরাপত্তা যাচাই ও অন্যান্য শর্ত পূরণের ভিত্তিতে। এসব পণ্যের মূল্য শুধুমাত্র ব্যাংক স্থানান্তরের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে এবং তা একটি নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অধীনে নজরদারির মধ্যে থাকবে।

সব পণ্যই তদারকি ও পরিদর্শনের আওতায় থাকবে, তবে ঠিক কারা এই অনুমোদিত ব্যবসায়ী, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

গাজার জনগণ বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে, যেখানে নগদ অর্থের সংকট এবং ব্যাংক থেকে অর্থ তোলার অক্ষমতার কারণে অনেকেই বার্টার পদ্ধতিতে (পণ্যের বিনিময়ে পণ্য) লেনদেন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে মানবিক সংকট আরো গভীর করার উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং গাজায় ত্রাণ সরবরাহের জন্য জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় তদারকি পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়েছে।