সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

নেতাকর্মীদের বড় সুখবর দিল এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দল হিসেবে নিবন্ধনের প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের আনন্দের বার্তা দিয়েছেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

রবিবার রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আখতার হোসেন বলেছেন, ‘অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সারা দেশের নেতাকর্মীদের আরো সক্রিয়ভাবে সাংগঠনিক বিস্তারে, কর্মসূচি বাস্তবায়নে, দলের অবস্থান বোঝাপড়ায় কর্মশালা করতে, কার্যালয়গুলোকে কার্যকর রাখতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে আরো বেশি করে পৌঁছাতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান রইল।

নিলামে আরো ৮৩ মিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরো ৮৩ মিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রবিবার (১০ আগস্ট) এসব ডলার কেনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ১১টি ব্যাংক থেকে ১২১ টাকা ৪৭ পয়সা থেকে ১২১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দর দিয়ে ৮৩ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক কিনেছে মোট ৬২২ মিলিয়ন ডলার।

এর আগে ৭ আগস্ট নিলামে ১২১.৩৫ থেকে ১২১.৫০ টাকার দরে ৪৫ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়।

তার আগে, ২৩ জুলাই ১২১ টাকা ৯৫ পয়সা কাট-অফ দরে ১০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছিল, যা হার কমানোর ক্ষেত্রে অন্তত ৪৫ বেসিস পয়েন্টের হ্রাস নির্দেশ করে।

ডলারের দর ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধারাবাহিক হস্তক্ষেপ শুরু হয় গত ১৩ জুলাই, যখন প্রথমবারের মতো নিলামে বাংলাদেশ ব্যাংক ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ১৭১ মিলিয়ন ডলার কেনে। এরপর ১৫ জুলাই একই দরে আরো ৩১৩ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়।

বাজারের জন্য সিগন্যাল রেট বা নির্দেশমূলক হার নির্ধারণ এবং ডলারের দ্রুত অবমূল্যায়ন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো : ধর্ম উপদেষ্টা

দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। রবিবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পশ্চিম মেড্ডা এলাকার দারুল আকরাম মাদরাসায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ধর্ম উপদেষ্টা খালিদ হোসেন বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন থানা-পুলিশ ছিল না। ঢাকায় শিক্ষার্থীদের ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি একদিনে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তবে বহুগুণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো হয়েছে, অর্থনীতিও ভালো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি সুন্দর নির্বাচন করতে পারব। আমাদের প্রস্তুতি চলছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তৈরি আছে, আমাদেরও আন্তরিকতার অভাব নেই।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টার সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা শায়খ সাজিদুর রহমান, জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মুফতি মোবারক উল্লাহ, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বোরহান উদ্দিন কাসেমী, সাধারণ সম্পাদক মুফতি আলী আজম, মাওলানা আব্দুল হালিম, মাওলানা মাজহারুল হক, মাওলানা জাকারিয়া খান প্রমুখ।

এর আগে ধর্ম উপদেষ্টা আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রে আলেম-ওলামাদের অবদান সোনার অক্ষরে লেখার মতো।
বাংলাদেশে যখনই বিপদ-দুর্যোগ এসেছে, আলেম-ওলামারা জনগণের সঙ্গে মিলে ময়দানে থেকেছেন এবং তারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন।’

খালিদ হোসেন আরো বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের সময়েও শত শত মাদরাসার ছাত্র আহত হয়েছেন, শাহাদাত বরণ করেছেন। আগামী দিনেও আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আলেম-ওলামা, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত আছেন।’

ডেভিডের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পর হ্যাজলউড-ডোয়ারশুইসের বোলিংয়ে রেকর্ড জয় অস্ট্রেলিয়ার

জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭ রানের জয়টি টি-টোয়েন্টিতে তাদের টানা নবম। যা টানা জয়ে অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড।

ডারউইনে রেকর্ড জয়টি এনে দিয়েছেন টিম ডেভিড ও দুই পেসার জশ হ্যাজলউড ও বেন ডোয়ারশুইস।
অলরাউন্ডার ডেভিডের ৮৩ রানের ঝোড়ো ইনিংসের পর প্রতিপক্ষের ব্যাটিং অর্ডার ধসিয়ে দিয়েছেন সমান ৩টি করে উইকেট নেওয়া হ্যাজলউড ও ডোয়ারশুইস।

অস্ট্রেলিয়ার দুই পেসারের তোপেই ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৬১ রানে থেমেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতে ৭১ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলার পরও পরাজিত দলের সঙ্গী হতে হয়েছে রায়ান রিকেলটনকে। ওপেনিংয়ে নেমে ৫৫ বলের ইনিংসটি সাজান ৭ চার ও ১ ছক্কায়।

এর আগে ঘরের মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ধাক্কায় শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। দলীয় ৩০ রানেই যে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। সেখান থেকে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে ৪০ রানের জুটি গড়ে ইনিংস মেরামত করেন ডেভিড। ২৬৯.২৩ স্ট্রাইকরেটে ৪ ও ৩ ছক্কায় ৩৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে খেলে গ্রিন বিদায়ের পরপরই আবারও একটা ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া।
কেননা ৩ রানের ব্যবধানে যে বিদায় নেন মাইকেল ওয়েন ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও।

তাতে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৭৫ রান। সেখান থেকে বোলিং করাটা যাদের মূল কাজ তাদের নিয়ে দলকে ১৭৮ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ এনে দেন ডেভিড। অস্টম ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে খেলেন ৮৩ রানের ইনিংস। ৫২ বলের ইনিংসটি সাজান ৪ চার ও ৮ ছক্কায়।

বিচার বিভাগ কখনোই রাষ্ট্রের প্রভাবশালী অঙ্গ হয়ে ওঠেনি : প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, ‘বিচার বিভাগ কখনোই রাষ্ট্রের অন্য দুটি অঙ্গে ওপর (নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভা) আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়নি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মানে ‘বিচার বিভাগীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা নয়। বরং রাষ্ট্রের অন্য দুটি অঙ্গের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সমতা নিশ্চিত করা।’

প্রয়াত সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলীর স্মরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রবিবার (১০ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এ জে মোহাম্মদ আলী অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘৫০ বছর ধরে বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের অন্য দুটি অঙ্গের সাথে সমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার চাওয়াকে সমতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
’

তিনি বলেন, ‘গত ৫০ বছরে বিচার বিভাগ কখনোই রাষ্ট্রের প্রভাবশালী অঙ্গ হয়ে ওঠেনি। যদিও এই পুরো সময়টায় বিচার বিভাগ একটি কার্যকর অঙ্গ হিসেবে কাজ করে গেছে। রাষ্ট্রের একমাত্র কর্মক্ষম অঙ্গ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।’

বিচার বিভাগের প্রধান বলেন, ‘বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার অধিকারকে বিচার বিভাগীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হিসেবে দেখাটা একেবারেই ঠিক না।
এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা, বিচার বিভাগ এমন কিছু চায় না। এমন ধরণা সম্পূর্ণ অমূলক।’

সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা কোনো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যবাবে শক্তিশালী, দৃশ্যমান, জবাবদিহিমূলক একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা।’

প্রধান বিচারপতি ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক সংস্কার আইনের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘এই আইনটি সে দেশের ক্ষমতা বিভাজনের ভারসাম্যকে অক্ষুণ্ন রেখেছিল।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে সমন্বয়ের পথও খোলা রেখেছিল। এই আইনের ফলে প্রধান বিচারপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সংযোগ আরো দৃঢ় হয়েছিল। স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখে বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক স্থাপন করেছিল।’

এ জে মোহাম্মদ আলীকে স্মরণ করে সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘তিনি বিশ্বাস করতেন অবকাঠামোগত ভিত্তি ছাড়া স্বাধীনতা একটি অলীক কল্পনা। তিনি মনে করতেন কোনো জাতি উন্নতি ততক্ষণ পর্যন্ত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আদালত সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত এবং প্রশাসনিকভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হয়।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। স্মরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মো. শরিফউদ্দিন চাকলাদার। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন।

ফ্যাসিস্টদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই, দেখি দাম্ভিকতা : সালাহউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমাদের রক্তধারায় লিখিত আছে, ফ্যাসিস্ট সরকার (আওয়ামী লীগ) পতনের আন্দোলনে শহীদদের কাহিনি। তাদের কাছ থেকে এ দেশের মানুষ কত নির্মম, নিষ্ঠুর আচরণ পেয়েছে। তার পরও সেই ফ্যাসিস্টদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা-বেদনা নেই। পরাজয়ের কোনো স্বীকারোক্তি নেই, বরং দেখি দাম্ভিকতা।
’

রবিবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গণ-অভ্যুত্থানে আহত, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী ও অসহায় অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের এই মুক্তির মন্দিরে সোপান তলে, কত প্রাণ হলো বলিদান, লেখা আছে অশ্রুজলে। আমাদের অশ্রুজলের চাইতেও বেশি বলতে হবে।
সেই বেদনার ইতিহাস, ধারাবিবরণী ভবিষ্যতে উপন্যাসে লিখিত হবে, অজস্রতে লিখিত হবে। আমরা তখন বুঝতে পারবো তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) কত নিষ্ঠুর আচরণ করেছিল। সেই স্বৈরাচারে দাম্ভিক আচরণ আমরা যতই দেখব আমাদের মনে হবে যে ভবিষ্যতে এ রকম কোনো ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি যাতে না হয়। সেভাবে যেন আমরা রাষ্ট্রব্যবস্থাটা পরিচালিত করি।
’

সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, ‘দৃষ্টিভঙ্গি এভাবে গ্রহণ করি, যা আমরা প্রতিদিন সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাব, একটি জনকল্যাণমুখী সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাব। একটি জনকল্যাণকর রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা বিনির্মাণের জন্য কাজ করব। রাষ্ট্রীয়ভাবে সবাই শুনি যে সংস্কার হচ্ছে। রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের মধ্য দিয়ে কাঙ্ক্ষিত মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিচালিত হয়। কারণ এই রাষ্ট্রব্যবস্থাটা যারা পরিচালনা করবে তাদের মানসিক সংস্কার হওয়া দরকার।
একই সঙ্গে জনগণের মানসিক সংস্কার হওয়া দরকার, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির সংস্কার হওয়া দরকার। এই সমাজের মানুষের, যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন তাদের সম্মিলিতভাবে, মানসিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে যদি রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলেই দুইয়ে দুই চার হবে। তাহলেই আমরা একটা কল্যাণমূলক মানবিক রাষ্ট্র পাব।’

অনুষ্ঠানে আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাহ, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন বকুল, সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।

একই টুর্নামেন্টে ২ জাপানি বক্সারের মৃত্যু

বক্সিং রিংয়ে ঝড় তুলে অনেকবারই শিরোনাম হয়েছেন শিগেতোশি কোটারি এবং হিরোমাসা উরাকাওয়া। সেই একই খেলার জন্য এবার শেষবারের মতো শিরোনাম হলেন দুই জাপানি বক্সার।

বক্সিং খেলার সময় মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পেয়ে যে আর রিংয়ে ফেরা হচ্ছে না তাদের। না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন দুজনে।
গত ২ আগস্ট জাপানের রাজধানী টোকিওতে ওরিয়েন্টাল ও প্যাসিফিক বক্সিং ফেডারেশন (ওপিবিএফ) জুনিয়র সুপার ফেদারওয়েট ও লাইটওয়েটে অংশ নেন কোটারি এবং উরাকাওয়া।

নিজ নিজ ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই মস্তিষ্কে গুরুতর চোট পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন কোটারি এবং উরাকাওয়া। পরে দ্রুত তাদের হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে ব্রেইন সার্জারি করানো হয়। তবে চিকিৎসকদের সকল চেষ্টাকে ব্যর্থ প্রমাণ করে পরপারে পাড়ি জমান তারা।
গত শুক্রবার কোটারি মারা যাওয়ার একদিন পর তার যাত্রা অনুসরণ করেন উরাকাওয়া। একই আসরে দুই বক্সারের মৃত্যুর খবরে তাই শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রীড়াঙ্গনে।

কোটারির মৃত্যু নিয়ে গত শনিবার এমটি বক্সিং জিম তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, ‘কোটারি, জাপানিস ফাইটার ইয়ামাতো হাতার বিপক্ষে ১২ রাউন্ড শেষে ড্রয়ের পর তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে গত ৮ আগস্ট পরপারে পাড়ি জমান।
সার্জারির পর সে ফিরে আসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল। তার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার অপারেশন করা হয়েছিল টোকিও হাসপাতালে।’

অন্যদিকে বিশ্ব বক্সিং অর্গানাইজেশন (ডব্লিউবিও) ইনস্টাগ্রামে লিখেছে, ‘যোজি সাইতোর বিপক্ষে অস্টম এবং ফাইনাল রাউন্ড শেষে ম্যাচ হেরে যাওয়ার আগে মস্তিষ্কে গুরুতরও আঘাত পান উরাকাওয়া।’

পুলিশের ঊর্ধ্বতন আরেক কর্মকর্তা বরখাস্ত

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক উপকমিশনার কাজী মনিরুজ্জামানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনির সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কাজী মনিরুজ্জামান (বর্তমানে রংপুর রেঞ্জ পুলিশের কার্যালয়ে সংযুক্ত) গত বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন, যা ২০১৮ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও ৩(গ) ধারা অনুযায়ী অসদাচরণ ও পলায়নের শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ অভিযোগে চাকরিবিধি ১২ উপবিধি (১) অনুযায়ী গত ২৫ নভেম্বর থেকে তাকে বরখাস্ত করা হলো।
সাময়িক বরখাস্তকালে তিনি খোরপোশ ভাতা পাবেন।

জ্যেষ্ঠ চীনা কূটনীতিককে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

চীনের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদের সম্ভাব্য প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচিত একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে রবিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

লিউ জিয়ানচাও ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির অধীনে বিদেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক তদারকির দায়িত্বে থাকা একটি বিভাগের প্রধান। তার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি বলেছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে বিদেশ সফর শেষে বেইজিং ফেরার পর তাকে ‘আটক করে নিয়ে যাওয়া’ হয়।

এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

৬১ বছর বয়সী লিউ অতীতে ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিসেবে কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের দুর্নীতি দমন অভিযান বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থার নেতৃত্ব দিয়েছেন।

২০২৩ সালে কিন গ্যাংকে বহিষ্কারের পর লিউর আটককে চীনা কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কিন গ্যাংকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো হয়েছিল।

লিউকে চীনা কূটনীতিতে উদীয়মান ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেছিলেন, চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের সামরিক শক্তি বাড়াতে উসকে দিয়ে ‘সংঘাত ও সংঘর্ষ’ তৈরি করছে।

লিউ পরিচালিত আন্তর্জাতিক বিভাগের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তিনি সর্বশেষ ২৯ জুলাই আলজেরিয়ায় জনসমক্ষে উপস্থিত হয়েছিলেন।
এর আগে তিনি আফ্রিকার কয়েকটি দেশ, সিঙ্গাপুরসহ আরো কয়েকটি স্থানে বৈঠক করেন।

সূত্র : এএফপি

জীবনের বিনিময়ে হলেও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সিইসি : তাহের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, জীবনের বিনিময়ে হলেও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

রবিবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির তাহের বলেন, ‘জামায়াত নির্বাচনের পক্ষে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাতে জামায়াতের আপত্তি নেই।
আমরা নির্বাচনে যাব, এটা বলে দিয়েছি। উভয় কক্ষে পিআর বাস্তবায়নে আমাদের দাবি আমরা জানিয়ে যাব। প্রয়োজনে আন্দোলনে যাবে জামায়াত।’

বিদ্যমান নির্বাচন পদ্ধতির অভিজ্ঞতা সুখকর নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পিআর পদ্ধতি প্রয়োজন।
পিআর পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য নতুন, কিন্তু বিশ্বে নতুন নয়। জনগণের ভোটাধিকারের সঠিক মূল্যায়ন করা যাবে।’

তিনি জানান, জীবনের বিনিময়ে হলেও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সিইসি।

জামায়াতের এই সিনিয়র নেতা বলেন, গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জনগণের দাবি।
অতীতের তিনটি নির্বাচন দেখে মানুষের শঙ্কা আছে স্বচ্ছ হবে কি না? জনগণের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

এ সময় তিনি জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করতে হবে উল্লেখ করে বলেন, সরকারকে প্রমাণ করতে হবে বিচারিক কাজে তারা আন্তরিক।

তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো কমিশনসহ যেসব বিষয়ে একমত হয়েছে সেগুলোকেই আপাতত সংস্কারের মাপকাঠি ধরা যায়। তবে বাস্তবায়ন জরুরি।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার সীমাবদ্ধতা আছে।
সিইসি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। জামায়াত বলছে, নির্বাচনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।’