বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

সংস্কার জীবন্ত প্রক্রিয়া, জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, সংস্কার শুধু আইন বা অধ্যাদেশে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়। এটি একটি জীবন্ত প্রক্রিয়া, যা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। সে কারণেই আমি আমার সংস্কার রোডম্যাপ নিয়ে দেশের পথে নেমেছি। তিনি বলেন, আজ আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, এ সংস্কারের লক্ষ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, আর বাকি পদক্ষেপ আমাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।

গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থান : বিচার বিভাগের সংস্কার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, গণফোরামের কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ। প্রধান বিচারপতি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণজাগরণ আমাদের সামনে আয়না ধরেছিল।
সেপ্টেম্বরের রোডম্যাপ ছিল আমার উত্তর। সরকারের কাছে প্রেরিত সংস্কার প্রস্তাব, জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিলের সৃষ্টি, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দুটি নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, দেশব্যাপী সংস্কার রোডশো, বাণিজ্যিক আদালতের প্রস্তুতি সবই প্রমাণ করে, আমরা কথায় নয়, কাজে সংস্কার বেছে নিয়েছি।

তিনি বলেন, গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর আমি বিচার বিভাগের সংস্কার রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলাম। সেই ঘোষণা ছিল আত্মসমালোচনার অঙ্গীকার, যা বিচারব্যবস্থা নিজেকেই ভিতর থেকে সংস্কার করবে।
এরপর থেকে আমি দৃঢ়ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি আমাদের স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করতে, সেবাকে গতিশীল করতে। বিচার বিভাগের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। সংস্কার প্রক্রিয়ায় পাশে থাকায় আইনজীবী সমিতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, এসব কিছুই সম্ভব হতো না যদি বার আমাদের পাশে না থাকত। জেলাগুলোতে বার অ্যাসোসিয়েশন আমাদের সঙ্গে একত্রে হেঁটেছে, তারা প্রমাণ করেছে সংস্কার শুধু বিচারকদের কাজ নয়। আর ঢাকায়, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ছিল আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে ২০ জনের মৃত্যু

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ৬ দশমিক শূন্য মাত্রার ভূমিকম্পে ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন। নাঙ্গারহার ও কুনার প্রদেশে আহত অন্তত ১১৫ জনকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, রবিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে (১৯:১৭ জিএমটি) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ৮ কিলোমিটার (৫ মাইল) গভীরে।
এরপর অন্তত তিনটি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে, যেগুলোর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ২-এর মধ্যে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি কয়েক সেকেন্ড ধরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে (প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে) এবং পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও (প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে) অনুভূত হয়।

প্রাণহানির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত এবং সেখানে বসতবাড়িগুলো সাধারণত ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নয়।

গাজা দখলে ধ্বংসযজ্ঞ বাড়িয়েছে ইসরায়েল, নিহত ৭৮

ইসরায়েল গাজা নগর দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধ্বংসযজ্ঞ বাড়িয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক দক্ষিণে তথাকথিত ‘কনসেন্ট্রেশন জোনে’ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। রবিবার ভোর থেকে অন্তত ৭৮ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩২ জন খাদ্যের সন্ধানে মরিয়া হয়ে ঘুরছিলেন। খবর আল জাজিরার।

রবিবার গাজা নগরে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানায়, আল-কুদস হাসপাতালের কাছে তাঁবু এলাকায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণের পর অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
রিমাল এলাকায় একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের মহাপরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনারা আবাসিক এলাকায় ‘বিস্ফোরক রোবট’ ব্যবহার করছে এবং গাজা নগর থেকে জোরপূর্বক ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করছে।

রবিবার এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত তিন সপ্তাহে সেনারা বেসামরিক পাড়ায় এ ধরনের ৮০টিরও বেশি বিস্ফোরক যন্ত্র ব্যবহার করেছে। তিনি একে ‘ভূমি পোড়ানো নীতি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ঘরবাড়ি ধ্বংস করছে এবং মানুষের জীবন বিপন্ন করছে।

তিনি আরো বলেন, গাজা নগরী ও উপত্যকার উত্তরাঞ্চলের এক মিলিয়নেরও বেশি ফিলিস্তিনি ধ্বংসযজ্ঞ ও দুর্ভিক্ষ সত্ত্বেও ‘জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও জাতিগত নিধনের নীতি’ মানতে অস্বীকার করছেন।

বাংলাদেশের সিরিজ জয় নাকি নেদারল্যান্ডসের ম্যাচে ফেরা

প্রথম ম্যাচ জিতে ইতোমধ্যে সিরিজে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ দল। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ সোমবার মাঠে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টাইগাররা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

এই ম্যাচ জিতেলেই সিরিজ জিতে নেবে লিটন দাসের দল। যে কারণে ম্যাচটি টাইগারদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জয়লাভের কোনো বিকল্প নেই। রায়ান কুকের দল সেটা নিশ্চিতভাবে চাইবে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে নোয়া ক্রোস বলেছেন, ‘অবশ্যই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। আমরা বিশ্বাস করি আমরা পরের দুই ম্যাচ ভালো করব এবং ২-১ এ সিরিজ জিতব।’ বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ে ক্রোস বলেন, ‘আমার মনে হয় ওরা সত্যিই খুব উঁচু মানের বোলার। তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। এই হাই কোয়ালিটি অ্যাটাকের বিরুদ্ধে আমরা আরও দুটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছি।’

ক্রোস আরও জানান, ‘সর্বশেষ যে দুবার আমরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খেলেছি, ২০২২ ও ২০২৩ বিশ্বকাপে, কন্ডিশন ভিন্ন ছিল। এই কন্ডিশন আমাদের জন্য অচেনা। আমাদের এখানে খেলা নিয়ে কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ, একইসাথে সুযোগও। এটা আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান সিরিজ। এই ধরনের উইকেট ও কন্ডিশনে খেলা অবশ্যই বিশ্বকাপের জন্য ভালো এক অভিজ্ঞতা।’

ক্রোস আরও বলেন, ‘অবশ্যই জয়ের বিশ্বাস আছে। পুরো দল জয়ের ব্যাপারে বিশ্বাস রাখছে। গতকাল আমাদের অনেক কিছু শেখার ছিল। বাংলাদেশের মতো পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে। সেক্ষেত্রে সিরিজ জেতা কেন সম্ভব নয়?’

এদিকে শামীম পাটোয়ারী বাংলাদেশের একাদশে নিয়মিত সদস্যই বলা চলে। একাদশ নিয়ে সুস্থ প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘দলের যে অবস্থা এখানে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। আমাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা, অনেক সময় আমরা হয়ত মনে মনে চাই যে আরেকজন যেন পারফর্ম না করতে পারে। আমরা চাচ্ছি এমন চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা আমরা করতে পারছি যার ফলে দলে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হবে। ছেলেরা নিজেদের ভেতর প্রতিযোগিতা করলে তাদের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড লেভেল বাড়বে। আগে হয়ত টিকে থাকতে খেলত, এখন পারফর্ম করতে চাইবে। তাহলে আমাদের কাজ অনেক কমে যাবে। পারফর্ম করে যেন টিকে থাকে এমন যেন না হয় যে অন্য কেউ খারাপ করেছে তাই ঢুকে গেছে। পারফর্ম করলে দলের জন্য লাভ।’

সাইফের মতই লম্বা সময় পর জাতীয় দলে ফিরেছেন নুরুল হাসান সোহান। দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশে কি দেখা যাবে সোহানকে? জবাবে সিনিয়র সহকারী কোচ বলেছেন, ‘টিমের কথা তো আমি আপনাদেরকে বলতে পারব না। কেউ পারফর্ম করলে দলে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা নিয়ে আসে। দলের ভালো ফর্ম নিয়ে আসে। সাইড বেঞ্চের সবাই পারফর্মার যত হবে তত দলের জন্য ভালো। শামীম অসুস্থ, সাইফ সুযোগ পেয়েছে। সাইফ আগে ভালো করেনি এবার ভালো করেছে। দলের জন্য ভালো তার জন্যও ভালো। এখন সে যেন ধারাবাহিক হতে পারে তাহলে দলের জন্য আরও ভালো।’

প্রথম ম্যাচে আগে বোলিং নিয়ে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে কি আগে ব্যাট করে পরে ডিফেন্ড করার চ্যালেঞ্জটা নেবে টাইগাররা? সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘এটা আসলে এক্সপেরিমেন্ট করার জায়গা না। এটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। জেতার জন্য যে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার আমরা সেটাই নেওয়ার চেষ্টা করব।’

সাইয়ারা’র নায়কের আসল নাম আহান নয়, জানালেন নিজেই

প্রথম ছবিতেই নজর কেড়েছেন যশরাজ ফিল্মসের ছবিতে। দর্শক তাকে চেনে আহান পাণ্ডে নামেই। কিন্তু এই নামে পরিচিত হলেও আহানের আরও একটি নাম রয়েছে; সেটাই নাকি তার আসল নাম।

সম্প্রতি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এই নিয়ে আহান বলেন, ‘আমার আসল নাম যশ। আমার এই নাম ও প্রথম ছবির প্রযোজনা সংস্থার নাম মিলেমিশে গেছে।’

শুধু তাই নয়, নায়ক এও জানান- যশরাজ ফিল্মসের সঙ্গে কাজ করে স্বপ্নপূরণও হয়েছে তার।
প্রসঙ্গত, মুক্তির পর থেকেই দর্শকের তুমুল ভালোবাসা পেয়েছে ‘সাইয়ারা’। বহুল সাড়া জাগানো এই ছবিতে আহানের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শক। প্রথম ছবিতেই নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন এই নবাগত অভিনেতা।

তিন সন্তান নিতে চান জাহ্নবী

সদ্য মুক্তি পেয়েছে জাহ্নবী কাপুর ও সিদ্ধার্থ মালহোত্রা অভিনীত নতুন ছবি ‘পরম সুন্দরী’। ছবির প্রচারে ব্যস্ত এই জুটি এরই মধ্যে হাজির হয় জনপ্রিয় কপিল শর্মার শোতে। সেখানে জাহ্নবী জানালেন তার এক মনের ইচ্ছে; ভবিষ্যতে হতে চান তিন সন্তানের মা।

শো-এ জাহ্নবী বলেন, ‘তিন আমার জন্য খুব শুভ একটি সংখ্যা। আমার মনে হয়, তিন সন্তান থাকলে মজাই আলাদা হবে। কারণ, দুই ভাইবোন ঝগড়া করলে তৃতীয়জন হয় সেটা মেটাবে, নয়তো ঝগড়ার সঙ্গে যোগ দেবে। ব্যাপারটা অনেক মজার হবে। তাই ভেবেচিন্তেই আমি তিন সন্তানের কথা বলেছি।’

তার এই খোলামেলা মন্তব্যে উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে যান। এমনকি সদ্য বাবা হওয়া সিদ্ধার্থ মালহোত্রাও চমকে ওঠেন।

উল্লেখ্য, ২৯ আগস্ট মুক্তি পেয়েছে তাদের ছবি ‘পরম সুন্দরী’। গল্পে দেখা যায়, উত্তর ভারতের তরুণ পরম বেড়াতে যায় কেরালায়। সেখানে পরিচয় হয় স্থানীয় মেয়ে সুন্দরীর সঙ্গে। চার্চে প্রথম দেখা থেকে শুরু হয় তাদের সম্পর্ক। এরপর ধীরে ধীরে এক উত্তর ভারতীয় ছেলে আর দক্ষিণ ভারতীয় মেয়ের প্রেমের কাহিনি গড়ে ওঠে। প্রেমের টানাপোড়েন, অভিমান আর দূরত্ব নিয়েই এগিয়েছে ছবির গল্প।

নির্বাচন ঘিরে অশুভ শক্তির অপতৎপরতা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র ডালপালা মেলতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত গণতন্ত্র ঝুঁকিমুক্ত নয়।’

রবিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনাসভায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তু্লে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে আমি বলেছিলাম, আগামী নির্বাচনকে ঘিরে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে। জনগণ লক্ষ করতে শুরু করেছেন নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ বিনষ্ট করার ক্ষেত্রে সেই অশুভ শক্তির অপতৎপরতা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।’

দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিবেক হচ্ছে মানব সমাজের সবচেয়ে বড় আদালত।
এই বিবেকের আদালতেই আজ আমাদের আত্ম জিজ্ঞাসা করা দরকার নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না—এই ধরনের উচ্চারণ ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্যকে দুর্বল করবে নাকি পলাতক ফ্যাসিবাদী অপশক্তির পুনরুত্থানের প্রাসঙ্গিকতা তৈরি করবে। আমি বলব, এখনো সময় আছে। আমাদের সতর্ক হওয়া দরকার। পরাজিত পলাতক অপশক্তি কিন্তু সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে রয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘পলাতক স্বৈরাচারের মতো বিএনপির বিজয় ঠেকানোর অপরাজনীতির পরিবর্তে আসুন আগে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার গঠন করি সবাই মিলে। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর আরো সব যৌক্তিক দাবিগুলোর সমাধানের পথ খুঁজি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শর্ত শিথিল করে নির্বাচনের পথে হাঁটাই এখন সময়ের দাবি। জনগণের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচনকেন্দ্রিক গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে যদি আমরা রাষ্ট্র এবং সমাজে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারি।
একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার বিশ্বাস গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক দাবিগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়নের পথ সহজ হয়ে যাবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি একটি কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই আজকের এই দিনে, বিএনপি মনে করে রাজনীতি মানেই শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি নয় বরং নীতি মানে জনগণের জীবন মানের উন্নয়ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ।’

তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিএনপি নানা ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। বেশ কিছু বিষয় ইতিমধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জনগণের সামনে আমরা তুলে ধরেছি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে। বিএনপি শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ করেই ক্ষ্যান্ত থাকেনি, কিভাবে কোন উপায়ে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে সে ব্যাপারেও বিএনপির পেপারওয়ার্ক চূড়ান্ত পর্যায়ে।

বিএনপির গৃহীত পদক্ষেপগুলো সারাদেশে মা, বোন, তরুণ জনগোষ্ঠী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।

চ্যাম্পিয়ন না হলেও শেষটা রাঙাল বাংলাদেশ

চ্যাংলিমিথাংয়ে খেলা দেখতে আসা দর্শকরা হয়তো ঠিকমতো নিজের আসনে বসতে পারেননি। আবার অনেকে হয়তো প্রবেশ করবেন। কিন্তু তার আগেই বাংলাদেশের মেয়েদের উচ্ছ্বাসে মাততে দেখলেন দর্শক-সমর্থকরা। মাত্র ২৩ সেকেন্ডের মাথায় যে ভারতের বিপক্ষে গোল পেয়েছে বাংলাদেশ।

সেই যে রোমাঞ্চের শুরু তা ম্যাচের শেষ পর্যন্তও ছিল। কেননা শেষ মুহূর্তের গোলে শেষটা রাঙিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও নারী অনূর্ধ্ব-১৭ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছে বাংলাদেশ।
টুর্নামেন্টের একমাত্র হারটা যে ভারতের বিপক্ষেই ছিল।

ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিট ছিল রোমাঞ্চে ভরা। যার শুরুটা করেন পূর্ণিমা মারমা। ২৩ সেকেন্ডের সময় বাঁ প্রান্ত থেকে মামনি চাকমার ক্রসে দারুণ এক হেডে বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসান তিনি।
তবে আনন্দটা বেশিক্ষণ টেকেনি তাদের। কেননা নবম মিনিটে ভারতকে সমতায় ফেরান আনুশকা কুমারি। বাংলাদেশের অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগমকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে জড়িয়ে দেন তিনি। তার আগের মিনিটেই আনুশকার একটি শট বাড়ে লাগে।

মাঝে দুই দল এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করলেও লিড নিতে পারেনি।
তবে ৩৪ মিনিটে ঠিকই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় গোলটি করেন আলপি আক্তার। বিরতির পর বাংলাদেশকে ৪৮ মিনিটে তৃতীয় গোল এনে দেন সৌরভী আকন্দ প্রীতি। দুই গোলে পিছিয়ে পড়া ভারত ব্যবধান কমায় ৬৪ মিনিটে বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইয়ারজানের ভুলে। গোলবার ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসলে ডি বক্সের বাইরে থেকে তার মাথার ওপর দিয়ে বলকে জালে জড়ান প্রীতিকা বর্মণ।

আর ম্যাচ শেষ হওয়ার একদম শেষ মুহূর্তে এসে ভারতকে সমতায় ফেরান ভারতীয় অধিনায়ক জুলান। এবার ভুল করেন গোলরক্ষক ইয়ারজন। সামনে এগিয়ে না এসে যদি তিন কাঠির নিচে থাকতে তাহলে ভারতের অধিনায়ক দূর থেকে শট নিতে পারতে না জালে। ৮৯ মিনিটের গোল হজমে বাংলাদেশের সান্ত্বনার জয়টা হাতছাড়া হওয়ার পথে ছিল।

তবে যোগ করে সময়ে তা হতে দেননি সৌরভী। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে দারুণ এক শট নেন তিনি। তার শট কোনোরকমে ক্লিয়ার করার পথে ছিলেন ভারতের গোলরক্ষক। কিন্তু নিজেদের এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বল যায় জালে জড়িয়ে। এমন নাটকীয় গোলের পর খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েন বাংলাদেশের মেয়েরা। অন্যদিকে ম্যাচ শেষে সেই ডিফেন্ডার কান্নায় দুই চোখ ভাসান।

যুব সাফের অন্য সব পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হলেও বাকি ছিল শুধু অনূর্ধ্ব-১৭ তে। এবার সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই ভুটানে গিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে এবারও তা হয়নি। ভারত ১৫ পয়েন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বাংলাদেশ ১০ পয়েন্টে রানার্সআপ হয়েছে। তবে ট্রফি নিয়ে উচ্ছ্বাস করতে না পারলেও চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে শেষ ঠিকই রাঙাল বাংলাদেশের মেয়েরা।

এবার এয়ার ইন্ডিয়া বিমানের ইঞ্জিনে আগুন

ভারতে দিল্লি থেকে ইন্দোরগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানকে রবিবার সকালে দিল্লিতে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে। উড্ডয়নের আধাঘণ্টারও বেশি সময় পর ডান দিকের ইঞ্জিনে আগুনের সংকেত পাওয়া গেলে পাইলট এ সিদ্ধান্ত নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এ৩২০ নিও মডেলের উড়োজাহাজটির একটি ইঞ্জিন বন্ধ করে নিরাপদে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। ৯০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৬টা ১৫ মিনিটে বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে এক সূত্র।

পরিদর্শনের জন্য এআই২৯১৩ ফ্লাইট পরিচালনাকারী এ বিমানটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

এয়ার ইন্ডিয়া বলেছে, ‘৩১ আগস্ট দিল্লি থেকে ইন্দোরগামী এআই২৯১৩ ফ্লাইটটিতে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই ডান দিকের ইঞ্জিনে আগুনের সংকেত মেলে। নিয়ম মেনে ককপিট ক্রুরা ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয় ও বিমানটিকে নিরাপদে দিল্লিতে ফিরিয়ে আনেন।’

বিকল্প বিমানের মাধ্যমে যাত্রীদের ইন্দোর পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনটি।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএকে ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার একাধিক বিমানে প্রযুক্তিগত জটিলতার ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র : এনডিটিভি

ডেঙ্গুতে এক দিনে ৪ জনের মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৫৬৮ জন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

রবিবার (৩১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৯৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৮২ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৯ জন, সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) তিনজন রয়েছেন।

২৪ ঘণ্টায় ৫৪০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। চলতি বছরে এযাবৎ মোট ২৯ হাজার ৮৬৮ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পায়।

এ বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৩১ হাজার ৪৭৬ জন। এর মধ্যে ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ নারী রয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এযাবৎ ডেঙ্গুতে মোট ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু চারজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার।

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।