নির্বাচন ঘিরে অশুভ শক্তির অপতৎপরতা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে

SHARE

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র ডালপালা মেলতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত গণতন্ত্র ঝুঁকিমুক্ত নয়।’

রবিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনাসভায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তু্লে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে আমি বলেছিলাম, আগামী নির্বাচনকে ঘিরে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে। জনগণ লক্ষ করতে শুরু করেছেন নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ বিনষ্ট করার ক্ষেত্রে সেই অশুভ শক্তির অপতৎপরতা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।’

দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিবেক হচ্ছে মানব সমাজের সবচেয়ে বড় আদালত।
এই বিবেকের আদালতেই আজ আমাদের আত্ম জিজ্ঞাসা করা দরকার নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না—এই ধরনের উচ্চারণ ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্যকে দুর্বল করবে নাকি পলাতক ফ্যাসিবাদী অপশক্তির পুনরুত্থানের প্রাসঙ্গিকতা তৈরি করবে। আমি বলব, এখনো সময় আছে। আমাদের সতর্ক হওয়া দরকার। পরাজিত পলাতক অপশক্তি কিন্তু সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে রয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘পলাতক স্বৈরাচারের মতো বিএনপির বিজয় ঠেকানোর অপরাজনীতির পরিবর্তে আসুন আগে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার গঠন করি সবাই মিলে। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর আরো সব যৌক্তিক দাবিগুলোর সমাধানের পথ খুঁজি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শর্ত শিথিল করে নির্বাচনের পথে হাঁটাই এখন সময়ের দাবি। জনগণের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচনকেন্দ্রিক গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে যদি আমরা রাষ্ট্র এবং সমাজে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারি।
একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার বিশ্বাস গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক দাবিগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়নের পথ সহজ হয়ে যাবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি একটি কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই আজকের এই দিনে, বিএনপি মনে করে রাজনীতি মানেই শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি নয় বরং নীতি মানে জনগণের জীবন মানের উন্নয়ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ।’

তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিএনপি নানা ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। বেশ কিছু বিষয় ইতিমধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জনগণের সামনে আমরা তুলে ধরেছি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে। বিএনপি শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ করেই ক্ষ্যান্ত থাকেনি, কিভাবে কোন উপায়ে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে সে ব্যাপারেও বিএনপির পেপারওয়ার্ক চূড়ান্ত পর্যায়ে।

বিএনপির গৃহীত পদক্ষেপগুলো সারাদেশে মা, বোন, তরুণ জনগোষ্ঠী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।