বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

পাকিস্তানে রাজনৈতিক সমাবেশে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটা শহরে সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত ৩০ জন। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) একটি রাজনৈতিক সমাবেশকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্যস্ততম সারিয়াব এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।

সন্ত্রাস দমন বিভাগের (সিটিডি) একজন মুখপাত্র বলেছেন, শাহওয়ানি স্টেডিয়ামের কাছের হামলাটি সম্ভবত একটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ছিল। জরুরি দলগুলো ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে বলেও জানান তিনি।

কোয়েটার সিভিল হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘এ হামলার ঘটনায় আমরা এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

এদিকে, আল জাজিরার খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোয়েটায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশকে লক্ষ্য করে ওই আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার সরকারি কর্মকর্তা হামজা শাফায়াত রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে যে প্রতিবেদন রয়েছে তাতে বলা হয়েছে যে, সমাবেশ থেকে লোকজন বেরিয়ে আসার সময় একটি পার্কিং এরিয়ায় বোমাটি বিস্ফোরিত হয়েছে।’

বেলুচিস্তান প্রদেশের বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি, বিএনপি -এম-এর শত শত কর্মী দলের প্রতিষ্ঠাতা সরদার আতাউল্লাহ মেঙ্গলের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে কোয়েটার শাহওয়ানি স্টেডিয়ামে জড়ো হয়েছিলেন।

কোয়েটা হলো অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী, যা আফগানিস্তান এবং ইরানের সীমান্তবর্তী। বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী যোদ্ধারা এই অঞ্চলে সক্রিয় এবং অতীতে বেশ কয়েকটি হামলার দাবি করেছে।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি এক বিবৃতিতে এই বিস্ফোরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এটিকে নিরীহ মানুষের উপর কাপুরুষোচিত আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। এ সময় হামলাকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

সূত্র: জিও নিউজ

চীন-রাশিয়া জোটকে হুমকি মানতে নারাজ ট্রাম্প

চীন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিশ্বে আলোচনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ জোট যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি নয়। তিনি দাবি করেছেন, চীনকে “আমাদের যতটা প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন তাদের”।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, চীন-রাশিয়া ও তাদের মিত্রদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নয় বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের “ভালো সম্পর্ক” রয়েছে এবং চীনকে “আমাদের যতটা প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন তাদের”।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো যখন বুধবার বেইজিংয়ে “ভিক্টরি ডে” সামরিক কুচকাওয়াজে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানাতে যাচ্ছেন শি জিনপিং। এই প্রদর্শনীতে চীনের সামরিক শক্তিই হবে মূল আকর্ষণ। সেখানে যোগ দেবেন উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন ও রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন। পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর অবজ্ঞার জবাব দিতেই সেখানে থাকবে তাদের উপস্থিতি।

ট্রাম্পের শুল্কনীতি বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে আলোড়ন তোলার পর থেকেই চীন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা ভারসাম্য তৈরি করার চেষ্টা করছে। তবে ট্রাম্প মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও স্বার্থ রক্ষায় তার আরোপিত শুল্ক অত্যন্ত জরুরি, এর জন্য কূটনৈতিক মূল্য দিতে হলেও তিনি প্রস্তুত।

বিবিসির প্রশ্নে, বেইজিং ও তার মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জোট গড়ছে কি না— এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, “না। একেবারেই না। আমাদেরকে প্রয়োজন চীনের”। তিনি আরও বলেন, “আমার শি’র সঙ্গে সম্পর্ক খুবই ভালো। তবে চীনকে আমাদের যতটা প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন তাদের। আমি এখানে কোনো সমস্যা দেখি না।”

মঙ্গলবার এক রেডিও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, রাশিয়া-চীন ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তার কোনো উদ্বেগ নেই। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী আছে এবং “তারা কখনো আমাদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করার কথা ভাববেও না।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “বিশ্বাস করুন, এটি হবে তাদের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ ভুল।”

তবে একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত মাসে আলাস্কায় তাদের বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি। ট্রাম্প বলেন, “আমি পুতিনের প্রতি খুবই হতাশ। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের মানুষের জীবন রক্ষায় সবকিছু করবে।”

তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। চীন অবশ্য পুতিনের পূর্ণমাত্রার এই আগ্রাসনের সমালোচনা করেনি। বরং পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করেছে, তারা দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী সরবরাহ ও রুশ তেল কেনার মাধ্যমে যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তা করছে। যদিও বেইজিং এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া নতুন করে সীমান্তের কিছু অংশে সেনা সমাবেশ করছে। রাতে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “(পুতিন) কোনোভাবেই শান্তি চুক্তিতে রাজি নন।”

মালয়েশিয়ায় রাতের আঁধারে ব্যাপক ধরপাকড়, ৪০০ বাংলাদেশি আটক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ায় অভিবাসন-বিরোধী বড়সড় অভিযান চালানো হয়েছে। দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরে রাতের আঁধারে চালানো এই অভিযানে ৭৭০ জন অনিবন্ধিত অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।

আটককৃতদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন বাংলাদেশি। এছাড়া আটককৃতদের মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও রয়েছেন। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইট টাইমস।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাং এলাকায় রাতের বেলায় চালানো অভিযানে ৭৭০ জন অনিবন্ধিত অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। অভিযানের সময় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বিভিন্ন দেশের শত শত অভিবাসী টেবিলের নিচে লুকিয়ে, দোকানের ভেতরে আশ্রয় নিয়ে কিংবা ছাদে উঠে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েন।

“অপস বেলাঞ্জা” নামে পরিচিত এ অভিযানের সময় মাত্র দুই ঘণ্টায় রাতের বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বুকিত বিনতাংকে পরিণত করে লকডাউন জোনে। এসময় পর্যটকে ভরা সড়কগুলো চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন কর্মকর্তারা। তিন ব্লকের প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থানপথ অবরুদ্ধ করে তারা নথি পরীক্ষা চালান এবং লুকিয়ে থাকা অভিবাসীদের বের করে আনেন।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া এ অভিযানে পুত্রজায়া থেকে আসা অভিবাসন বিভাগের ১০৬ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। অভিযানটি নেতৃত্ব দেন অভিবাসন বিভাগের পরিচালক বাসরি ওসমান। তিনি জানান, মোট ২ হাজার ৪৪৫ জনকে তল্লাশি করা হয়— এর মধ্যে ১ হাজার ৬০০ জন বিদেশি এবং ৮৪৫ জন স্থানীয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছেন ৩৯৬ জন। তাদের মধ্যে ৩৯৪ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। এছাড়া মিয়ানমারের ২৩৫ জন পুরুষ, নেপালের ৭২ জন, ভারতের ৫৮ জন, ইন্দোনেশিয়ার ১৭ জন পুরুষ ও ২ জন নারী এবং আরও ৯ জন বিভিন্ন দেশের নাগরিক।

তিনি জানান, অনিবন্ধিত এসব অভিবাসীদের আটক হওয়ার প্রধান কারণ হলো মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা, বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা এবং অনুমতি ছাড়া কাজ করা।

মূলত দারিদ্র্য ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে এসব অভিবাসীরা সাধারণত মালয়েশিয়ায় নির্মাণকাজ, বাগান বা ঝুঁকিপূর্ণ এমনসব খাতে কাজ করতে আসেন, যেসব কাজ স্থানীয়রা করতে অনীহা প্রকাশ করে।

বাসরি ওসমান বলেন, এলাকাটিতে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের অবস্থানের বিষয়ে প্রচুর অভিযোগ পাওয়ার পরে এই অভিযান চালানো হয়।

তিনি জানান, “বুকিত বিনতাং অনেকদিন ধরেই হটস্পট। নাইটলাইফ ও শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থানের কারণে অনিবন্ধিত শ্রমিকদের জন্য এটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। আমরা তিন সপ্তাহ ধরে পর্যবেক্ষণ চালানোর পর অভিযান পরিচালনা করি।”

অভিযানে কর্মকর্তারা একটি গোপন জুয়ার আসরও খুঁজে পান, যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো ছিল। সেখানে অনলাইন জুয়া খেলছিল সাত থেকে আটজন বিদেশি। তাদেরও আটক করা হয়।

এছাড়া এই এলাকার কিছু দোকানপাটও বিদেশিদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। যার কারণে অন্য অভিবাসীরা সেখানে একত্রিত হয়ে থাকেন।

বাসরি জানান, আটককৃত ব্যক্তিদের প্রথমে প্রাথমিক যাচাইয়ের জন্য পুত্রজায়ার অভিবাসন দপ্তরে নেওয়া হবে, এরপর তাদের আটককেন্দ্রে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়াব, যাতে মালিকরা কেবল অনুমোদিত কোটার মধ্যে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেয়।

ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৭৩

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪৭৩ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২ হাজার ৫০১ জন।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৭৩ জন। তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮১ জন, ঢাকা বিভাগে ৭৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৮৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪৮ জন, রংপুর বিভাগে ৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১ হাজার ১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন, মে মাসে ১ হাজার ৭৭৩ জন, জুনে ৫ হাজার ৯৫১ জন এবং জুলাইয়ে ১০ হাজার ৬৮৪ জন, আগস্টে ১০ হাজার ৪৯৬ জন এবং সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এর মধ্যে মারা গেছেন ১২৫ জন। জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন, এপ্রিলে সাতজন, মে মাসে তিনজন, জুনে ১৯ জন, জুলাইয়ে ৪১ জন, আগস্টে ৩৯ জন ও সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত ৩ জন মারা গেছেন।

বাংলাদেশে এক বছরে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ২০২৩ সালে। ২০২৪ সালে ১ লাখ ১ হাজার ২১১ জন, ২০২২ সালে ৬২ হাজার ৩৮২ জন, ২০২১ সালে ২৮ হাজার ৪২৯ জন, ২০২০ সালে ১৪০৫ জন এবং ২০১৯ সালে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।

নিলামে আরও ৪৭.৫০ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দেশের অর্থনীতিতে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে আবারও মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এক নিলামের মাধ্যমে আটটি ব্যাংক থেকে মোট ৪৭ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, প্রতি ডলার ১২১ দশমিক ৭০ টাকা থেকে ১২১ দশমিক ৭৫ টাকা বিনিময় হারে কেনা হয়। নিলামে কাট-অফ রেট নির্ধারণ করা হয় ১২১ দশমিক ৭৫ টাকা।

বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং ডলারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে এর আগেও বেশ কয়েকবার নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পাকিস্তাননের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের জয়

ইব্রাহিম জাদরান ও সেদিকউল্লাহর পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস এবং তাদের শতরানের জুটিতে লড়াইয়ের পুঁজি পায় আফগানিস্তান। পরে দারুণ বোলিংয়ে বাকিটা সারলেন ফাজালহাক ফারুকি, নুর আহমাদ, মোহাম্মাদ নাবি ও রাশিদ খান। এ জয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে গেল আফগানিস্তান।

শারজাহতে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ১৮ রানে জিতেছে রশিদের দল।
১৬৯ রান তাড়ায় পাকিস্তান থেমেছে ১৫১ রানে।

সিরিজে এখন পর্যন্ত চার ম‍্যাচের চারটিতেই জিতল আগে ব‍্যাট করা দল।

৩ ম‍্যাচে দ্বিতীয় জয়ে আফগানিস্তানের পয়েন্ট হল ৪। সমান ম‍্যাচে পাকিস্তানেরও পয়েন্ট ৪।
দুই ম‍্যাচে শূন‍্য পয়েন্ট নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের তলানিতে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আফগানিস্তান : ২০ ওভারে ১৬৯/৫ (গুরবাজ ৮, সেদিকউল্লাহ ৬৪, ইব্রাহিম ৬৫, ওমারজাই ৪, জানাত ৮, নাবি ৬, রাশিদ ৮; আফ্রিদি ৪-০-২৭-০, সাইম ৪-০-১৮-১, রউফ ৩-০-৩৮-০, নাওয়াজ ২-০-২৪-০, সুফিয়ান ৩-০-৩৩-০, ফাহিম ৪-০-২৭-৪)

পাকিস্তান : ২০ ওভারে ১৫১/৯ (সাহিবজাদা ১৮, সাইম ০, ফাখার ২৫, সালমান ২০, হাসান নাওয়াজ ৯, মোহাম্মদ নাওয়াজ ১২, হারিস ১, আশরাফ ১৪, আফ্রিদি ০, রউফ ৩৪*, সুফিয়ান ৭*; গাজানফার ৩-০-২৪-০, ফারুকি ৩-০-২১-২, ওমারজাই ০-০-০-০, রশিদ ৪-০-৩০-২, নাবি ৪-০-২০-২, নুর ৪-০-২০-২)

ফল : আফগানিস্তান ১৮ রানে জয়ী

লস অ্যাঞ্জেলেসে ট্রাম্পের ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন বেআইনি ছিল

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে এই গ্রীষ্মে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন বেআইনি ছিল বলে রায় দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক।

ট্রাম্প সম্প্রতি অপরাধ দমনে ও অভিবাসন প্রয়োগে সহায়তার জন্য অন্যান্য মার্কিন শহরে ন্যাশনাল গার্ড সৈন্য ব্যবহার করতে চাইছেন। ঠিক এমন সময়ে এই রায় এলো। লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদের জবাবে জুন মাসে ন্যাশনাল গার্ড সৈন্য মোতায়েন করেছিলেন ট্রাম্প।
মার্কিন সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন সীমিতকরণ আইন লঙ্ঘন করেছে বলে জেলা বিচারক চার্লস ব্রেয়ার মঙ্গলবার রায় দিয়েছেন। এ আইন ফেডারেল সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতাকে সীমিত করে।

বিচারক ব্রেয়ার রায়টিকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছেন ও ট্রাম্প সম্ভবত আপিল করবেন।

তবে ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটন ডিসিতে শত শত ন্যাশনাল গার্ড সৈন্য মোতায়েন করেছেন এবং এই সপ্তাহেই শিকাগোতে সৈন্য পাঠানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসে সৈন্য মোতায়েনের পর গভর্নর গ্যাভিন নিউজম প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প বেআইনিভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন সীমিতকরণ আইন লঙ্ঘন করেছেন।

বিচারক ব্রেয়ারের আদেশ শুধুমাত্র ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রযোজ্য, তবে এটি ট্রাম্পের নীতি কার্যকরের জন্য ন্যাশনাল গার্ড ব্যবহারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত হতে পারে।

ব্রেয়ার লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশ ও ন্যাশনাল গার্ড সম্পর্কিত প্রকাশ্য বিবৃতি গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
যাতে মনে হচ্ছে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যত্র সৈন্যদের সেনাবাহিনী মোতায়েন সীমিতকরণ আইন লঙ্ঘনের নির্দেশ দিতে চান।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ‘প্রেসিডেন্টকে প্রধান করে একটি জাতীয় পুলিশ বাহিনী তৈরির ঝুঁকি নিচ্ছেন।’ তিনি রায়ের মাধ্যমে ন্যাশনাল গার্ডকে গ্রেপ্তার, আটক, তল্লাশি, বাজেয়াপ্তকরণ, নিরাপত্তা টহল, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ, প্রমাণ সংগ্রহ, জিজ্ঞাসাবাদ বা তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করা করা থেকে বিরত করেছেন।

হোয়াইট হাউস, প্রতিরক্ষা বিভাগ ও বিচার বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এটি লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের বিরুদ্ধে নিউজমের দায়ের করা দ্বিতীয় মামলা।
প্রথম মামলায় নিউজম অভিযোগ করেছিলেন, ট্রাম্প অবৈধভাবে তাকে পাশ কাটিয়ে ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী মোতায়েন করেছেন। সেই মামলাটিতেও বিচারক ব্রেয়ার প্রথমে নিউজমের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। তবে নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে ট্রাম্প জয়লাভ করেন।

নির্বাচনের জন্য ১০ লাখের বেশি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেবে ইসি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য ১০ লাখের বেশি প্রিজাইডিং-পোলিং অফিসারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিভিন্ন গ্রুপে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভোট গ্রহণের চার-পাঁচদিন আগে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের ইলেক্টোরাল ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট (ইটিআই) মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানান, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের ২৩ ধরনের কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এই প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় চার মাস সময় লাগবে। তবে নির্বাচন সংক্রান্ত মূল প্রশিক্ষণটা হবে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের। এদের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি হবে বলে ইসি সচিবালয় জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনের চ্যালেঞ্জটা একটু ভিন্ন।
বিগত তিনটি নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এবার যতটুকু পারি ফ্রেশ লোক দিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হবে। কমিশনের এমন চিন্তাভাবনা আছে। যেহেতু ফ্রেশ লোক আসবে। ওদের ইলেকশনের ধারণা কম হবে।
সুতরাং তাদের প্রশিক্ষিত করতে ট্রেনিংটা আমাদের আরো ইনডেপথ করতে হবে। অলরেডি আমরা ভোটার তালিকায় হালনাগাদের সময় চ্যালেঞ্জ ফেইস করেছি। কাজেই আমরা নতুন-নতুন লোক নেওয়ার জন্য চেষ্টা করবো। যাতে একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়া যায়।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও অন্যান্য নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিষয়ে ইসি ঘোষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সে অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পূর্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ‘ট্রেনিং অব কোর ট্রেনিং’ (টিওটি) সম্পন্ন করার জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নির্দেশনা প্রদান কার্যক্রম চলমান থাকবে।

ইসির রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে টিওটি ট্রেইনারদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নির্দেশনা প্রদান করা হবে।

টিওটি ট্রেইনারদের মধ্যে রয়েছে- নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ ও নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সব কর্মকর্তারা, সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিসার, উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার, সহকারী উপজেলা/সহকারী থানা নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও অন্য বিভাগের কর্মকর্তা। পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে মাস্টার ট্রেইনারদের প্রশিক্ষণ (টিওটি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের প্রশিক্ষণ (টিওটি) প্রদান করা হবে। এ সময় ৩ হাজার ৬০০ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

ইসি সূত্র জানান, কমিশন ইতোমধ্যে তাদের রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তা (বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কর্মকর্তা) ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ/ব্রিফিংয়ে যোগদানের অনুমতি প্রদানের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারদেরও প্রশিক্ষণ/ব্রিফিং করা হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মাঠ পর্যায়ে আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে অনলাইনে প্রশিক্ষণ/ব্রিফিং করা হবে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণ বা ব্রিফিং দেয়ার বিষয়টিও প্রস্তাবনায় রয়েছে।

তিনি জানান, ভোট গ্রহণের পাঁচ থেকে সাতদিন পূর্বে জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ বা ব্রিফিং দেওয়া হবে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ নির্বাচনের পূর্বের দুইদিন, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পর দু’দিন মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন।

এ বিষয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান জানান, ‘নির্বাচনের প্রশিক্ষণ একটা লম্বা প্রক্রিয়া। হাতে যে কয়েকমাস সময় আছে এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সংক্রান্ত ২৩ ধরনের প্রশিক্ষণ আমাদের শেষ করতে হবে। এখানে আমাদের কোর প্রশিক্ষণ আছে। কোর প্রশিক্ষণ হলো- নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যারা সিনিয়র কর্মকর্তা তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। ওইসব কর্মকর্তারা পরে একটি টিওটি প্রশিক্ষণ দিবে। টিওটি প্রশিক্ষণ হল, প্রথম অংশ কোর প্রশিক্ষণ এবং দ্বিতীয় অংশ হল টিওটি। এটা আমাদের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের যারা কর্মকর্তা আছেন এবং যারা অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের যারা আছেন তাদেরকে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং দেওয়া হয়। ওদের নিয়ে আমরা টিওটি করি। এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ হাজারের উপরে।

তিনি বলেন, এরসঙ্গে আইনশৃঙ্খলার প্রশিক্ষণের বিষয় আছে। এখানে ডিভিশনাল কমিশনার, ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, তাদের ট্রেনিং করা হবে। তারপরে ডিসি-এসপিদের বিভিন্ন ধাপে-ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর ইউএনও-দের ট্রেনিং দেওয়া হবে। আনসারের প্রশিক্ষণ হবে। আবার টেকনিক্যাল যে বিষয় আছে, সে বিষয়ে দেশের বিভিন্ন জেলাতে আমাদের যে প্রোগ্রামার ও অ্যাসিস্টেন্ট প্রোগ্রামার আছে- তাদেরকে অর্থাৎ প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের মূল প্রশিক্ষণটা দিতে হবে। এদের সংখ্যাটা ১০ লাখের উপরে হবে।

তিনি আরো বলেন, গত ২৯ আগস্ট থেকে আমাদের ট্রেনিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আর এটা শেষ হবে নির্বাচনের চার বা পাঁচদিন আগে। আমাদের ট্রেনিং করানোর জন্য প্রায় চার মাস সময় লাগবে।

এবার ট্রেনিংয়ে নতুনত্ব নিয়ে আসা হয়েছে উল্লেখ করে এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, প্রশিক্ষণে তিনটা পার্ট থাকে। আমাদের মূলত একটা পার্ট হলো- আমরা ওদেরকে নির্বাচনী আইন-কানুন বিধি-বিধান সম্পর্কে ধারণা দেবো। দ্বিতীয়টা হলো, তারা কীভাবে কাজ করবে। কাজের প্রসিডিউরটা কেমন হবে। এবং ভোট কেন্দ্রে মালামাল সংগ্রহ, ভোট গ্রহণ থেকে শুরু করে ভোট গণনা পর্যন্ত যত কাজ আছে পুরো প্রক্রিয়াটা শেখানো হবে। আরেকটা হলো অতীতের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তাদের মধ্যে কনফিডেন্স বিল্ডআপ করার জন্য একটা মোটিভেশনাল কাজ করা। তাদের আত্মবিশ্বাসটা যাতে ফিরে আসে সে জন্য একটা মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম দেওয়া। তাদেরকে আমরা ওই পর্যায়ে নিয়ে আসবো, যেন প্রিসাইডিং অফিসার মনে করেন, তিনি ওই কেন্দ্রের জন্য ‘চিফ ইলেকশন কমিশনার’। এই কনফিডেন্ট লেবেলটা বাড়ানোর জন্য আমরা কাজ করতেছি। আরেকটা বিষয় হলো একজন প্রিজাইডিং অফিসার কি ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে, তা আলোচনা করা। এক্ষেত্রে আমরা হাইপোথিটিক্যালি বিগত তিনটা নির্বাচনের যে সমস্যাগুলো হয়েছে সেগুলোর রেফারেন্স দিয়ে তাদেরকে সতর্ক ও প্রশিক্ষিত করা।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই কর্মযজ্ঞে যারা জড়িত তারা যদি প্রপার ট্রেনিংপ্রাপ্ত না হয় তাহলে নির্বাচনে সমস্যা হতে পারে। আমরা চাচ্ছি ন্যূনতম বিচ্যুতি হবে না। সবাই তার কাজটা যথাযথভাবে করবে। আইন ও বিধি অনুযায়ী করবে এবং সততা ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। এটা যাতে নিশ্চিত করা যায়, সে জন্যই এই প্রশিক্ষণ।

‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সমর্থন করে চীন’

বেসামরিক উদ্দেশ্যে ইরানের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকারকে সমর্থন করে চীন এবং যে কোনো মতবিরোধ সমাধানে শক্তি প্রয়োগকে গ্রহণযোগ্য মনে করে না তারা। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠকে এ কথা বলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং।

রাষ্ট্র সম্প্রচারকারী সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি বৈঠকে বলেন, ‘বৈষম্য বা মতবিরোধ সমাধানের জন্য শক্তি ব্যবহার সঠিক পথ নয়। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যোগাযোগ ও সংলাপই সঠিক পথ।

তিনি আরো বলেন, ‘চীন ইরানের পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যাবহারের অধিকারকে সম্মান করে এবং চায় ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান এমনভাবে করা হোক যা সব পক্ষের যৌক্তিক উদ্বেগকে বিবেচনায় নেয়।’

চীন ইরানের ঘনিষ্ঠ অংশীদার এবং সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সহযোগী। এদিকে, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই পদক্ষেপটি ২০১৫ সালের চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমে সম্ভবত লঙ্ঘন নিয়ে সতর্কবার্তার পর নেওয়া হয়েছে।

ইরানের ঘনিষ্ঠ অংশীদার ও এর বৃহত্তম বাণিজ্যিক সহযোগী চীন বলেছে, তারা ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে। এ দেশগুলো সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এর আগে জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের কারণে ইরান জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে। যুদ্ধ চলাকালীন, ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা ধ্বংসের চেষ্টা চালায় ও যুক্তরাষ্ট্রও বোমাবর্ষণ পরিচালনা করে।

সাহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সোমবার সতর্ক করেছে, ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি সমর্থনকারী জাতিসংঘের প্রস্তাবের ‘ভ্রান্ত ব্যাখ্যা বা পুনর্ব্যাখ্যা’ করার যেকোনো চেষ্টা নিরাপত্তা পরিষদের কর্তৃত্বকে ক্ষুণ্ণ করবে।

ফায়ার সার্ভিস পৌঁছনোর আগেই মসজিদের আগুন নির্বাপণ

রাজধানীর রমনা থানাধীন এলাকায় সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের পাশে একটি মসজিদে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট পৌঁছনোর আগেই আগুন নির্বাপণ হয়।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিটে সিদ্ধেশ্বরী হাই স্কুল জামে মসজিদে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিভেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া শাখার স্টেশন অফিসার খাইরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রমনায় সিদ্ধেশ্বরী স্কুলের পাশে একটি মসজিদে আগুন লাগার সংবাদ পাই।
বহুতল মসজিদের ওপরের তলার সিঁড়ি কোঠায় আগুনের সূত্রপাত। খবর পেয়ে সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে ইউনিটগুলো পৌঁছালেও তার আগেই আগুন নির্বাপণ হয়।’

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও হতাহতের কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তদন্ত শেষে জানা যাবে।