মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

গাজায় না খেয়ে ৪৩৫ জনের মৃত্যু

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ক্ষুধায় অনাহারে থেকে অপুষ্টিতে ভুগে ৪৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নতুন করে অনাহারে আরও চারজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এতে মোট মৃতের সংখ্যা ৪৩৫ জনে পৌঁছেছে।

প্রায় দুই বছর ধরে গাজায় বর্বরতা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি এ উপত্যকায় অব্যাহত হামলার পাশাপাশি সেখানে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে তারা। এতে করে সাধারণ মানুষের যে পরিমাণ খাবার প্রয়োজন সেগুলো গাজায় প্রবেশ করছে না। এতে করে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে সেখানকার মানুষকে।

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আহত হয়েছেন দেড় লাখের বেশি বাসিন্দা। হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে আশঙ্কা করা হয়।

এত মানুষের মৃত্যুর পরও গাজার সবচেয়ে বড় শহর গাজা সিটিতে স্থল হামলা শুরু করেছে দখলদার ইসরায়েল।

কিছুদিন আগেও গাজা সিটিতে ১০ লাখের বেশি মানুষ ছিলেন। ইসরায়েলি হামলার কারণে অনেকে শহরটি ছাড়ছেন। ধারণা করা হচ্ছে চার লাখ মানুষ এখন অন্যত্র সরে গেছেন।

দুই সপ্তাহ আগে হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে কাতারের দোহায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর যুদ্ধবিরতির আলোচনা পুরোপুরি থমকে যায়। এরমধ্যেই গাজা সিটিতে বড় পরিসরে স্থল হামলা চালাচ্ছে তারা।

সূত্র: মিডেল ইস্ট আই

শর্তসাপেক্ষে কোটা ফিরল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তিতে কোটার সুযোগ পাবেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানরা। ১ম বর্ষে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা প্রদানের বিষয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশক্রমে শর্তসাপেক্ষে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে পোষ্য কোটায় ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ভর্তি কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উপাচার্যের দায়িত্বে নিযুক্ত উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এই সভায় সভাপতিত্ব করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধায় ভর্তির শর্তসমূহ হচ্ছে, কেবলমাত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গর্ভজাত সন্তান এই ভর্তির সুযোগ পাবেন। ভর্তির প্রাথমিক আবেদনের জন্য বিজ্ঞাপিত যোগ্যতা এবং শর্তের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। মেধার ভিত্তিতে ভর্তির জন্য নির্ধারিত আসনসংখ্যার অতিরিক্ত হিসেবে এ প্রক্রিয়ায় ভর্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ভর্তির ক্ষেত্রে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করে মেধা অনুসরণ করা হবে।

শর্তগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে, ভর্তির আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্ধারিত শর্তাবলীসহ অবশ্যই ন্যূনতম পাস নম্বর থাকতে হবে। কোন বিভাগে ২ জনের অধিক ভর্তির সুযোগ থাকবে না। কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারির সন্তানকে তার কর্মরত বিভাগে ভর্তি করানো যাবে না। এ সুবিধার আওতায় নিজেদের মধ্যে ‘অটো মাইগ্রেশন’ ছাড়া শিক্ষার্থীর বিভাগ পরিবর্তনের অন্য কোনো সুযোগ থাকবে না। ভর্তির ক্ষেত্রে এবং পরবর্তীতে কোনো অভিভাবকের অনিয়মের আশ্রয় নেয়ার বিষয় প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে অঙ্গিকারনামায় উল্লেখ করতে হবে। এ সুবিধার আওতায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী কোনোভাবেই আবাসিক হলে সিটের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন না।

এদিকে, দাবি পূরণ হওয়ায় আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

এ সিদ্ধান্তের পরপর বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন রাবি ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ বাম ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

৮১ শতাংশ নবজাতকের শরীরে মারাত্মক অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু শনাক্ত

বাংলাদেশের হাসপাতাল ও কমিউনিটিতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর ভয়াবহ বিস্তার ঘটছে। আইসিডিডিআর,বি-র নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, নবজাতক থেকে প্রাপ্তবয়স্ক— সবার দেহেই উচ্চমাত্রায় প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। বিশেষ করে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি শিশুদের ৮১ শতাংশের শরীরে শনাক্ত হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক অগ্রাধিকারভুক্ত মারাত্মক জীবাণু কার্বাপেনেম-প্রতিরোধী ক্ল্যাবসিয়েলা নিউমোনি (সিআর-কেপিএন)।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর আইসিডিডিআর,বিতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বাংলাদেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলা : আর্চ গবেষণার ফলাফল- শীর্ষক গবেষণার ফল তুলে ধরা হয়। আইসিডিডিআর,বি-র অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ইউনিটের প্রধান ও সহযোগী বিজ্ঞানী ড. ফাহমিদা চৌধুরীর নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালিত হয়।

গবেষণাটি ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি), দ্য টাস্ক ফোর্স ফর গ্লোবাল হেলথ (টিএফজিএইচ) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় সম্পন্ন হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি ৪২৩ শিশুর মধ্যে ৮১ শতাংশের দেহে সিআর-কেপিএন জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় পার করার পর এ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়। গবেষকরা বলছেন, বিষয়টি স্পষ্টভাবে হাসপাতাল থেকেই সংক্রমণ ছড়ানোর প্রমাণ।

শুধু নবজাতক নয়, প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের অবস্থাও ভয়াবহ। আইসিইউতে ভর্তি ৬০ শতাংশ রোগীর শরীরে সিআরই পাওয়া গেছে। এসব কলোনাইজড রোগীর সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি, একইসঙ্গে হাসপাতালে দীর্ঘ সময় কাটানোর প্রবণতাও বেড়ে যায়।

২০১৯ সালে শুরু হওয়া আর্চ গবেষণার প্রথম ধাপে সুস্থ মানুষ ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের দেহে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর ব্যাপক উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। সুস্থ কমিউনিটি সদস্যদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৮২ শতাংশের শরীরে এক্সটেন্ডেড-স্পেকট্রাম সেফালোস্পোরিন-প্রতিরোধী এন্টারোব্যাকটেরিয়ালস (ইএসসিআরইই) ছিল। এছাড়া, হাসপাতালে ভর্তি ৩৭ শতাংশ এবং কমিউনিটির ৯ শতাংশ মানুষের শরীরে কার্বাপেনেম-প্রতিরোধী এন্টারোব্যাকটেরিয়ালস শনাক্ত হয়। কলিস্টিন-প্রতিরোধী জীবাণু কমিউনিটির ১১ শতাংশ ও হাসপাতালের ৭ শতাংশ মানুষের মধ্যে পাওয়া যায়। প্রতি পাঁচজনের একজন অংশগ্রহণকারীর শরীরে মেথিসিলিন-প্রতিরোধী স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস (এমআরএসএ) শনাক্ত হয়েছে।

শিশুদের ক্ষেত্রেও গবেষণার ফল উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জন্মের প্রথম বছরেই প্রায় ৪০ শতাংশ শিশুর শরীরে সিআরই এবং ৯০ শতাংশের দেহে ইএসসিআরইই-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে যেসব শিশু জন্মের পর ৭২ ঘণ্টার বেশি হাসপাতালে ছিল, তাদের ঝুঁকি সর্বাধিক। আরও দেখা যায়, এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ৮০ শতাংশ শিশু অন্তত একবার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেছে, যা তাদের শরীরের স্বাভাবিক জীবাণুর ভারসাম্য নষ্ট করছে।

তবে পুরো চিত্রের মধ্যে আশার আলোও রয়েছে। গবেষণা বলছে, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস, হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (আইপিসি) ব্যবস্থা জোরদার করলে প্রতিরোধী জীবাণু দ্বারা কলোনাইজেশন ও সংক্রমণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

ড. ফাহমিদা বলেন, সীমিত সম্পদেও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিলে দুর্বল রোগীদের জীবন বাঁচানো যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সিআর-কেপিএন-কে অগ্রাধিকার প্যাথোজেন হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশে এর দ্রুত বিস্তার চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, প্রতিরোধী জীবাণু এভাবে ছড়িয়ে পড়তে থাকলে বর্তমানের অনেক অ্যান্টিবায়োটিক অচল হয়ে যাবে এবং সাধারণ সংক্রমণও চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে উঠবে।

দিশার বাড়িতে হামলা চালানো দুই অভিযুক্তকে গুলি করে মারল পুলিশ

গত ১২ সেপ্টেম্বর বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানির বাড়িতে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। জানা যায়, উত্তর প্রদেশের মথুরায় দুই আধ্যাত্মিক গুরুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এই ঘটনা ঘটে; এবং দুটি গ্যাং গ্রুপ গোল্ডি ব্রার ও রোহিত গোদারা সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ঘটনার দায় স্বীকার করে।

এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে মাঠে নামে পুলিশ। এর ৫ দিন পর নতুন খবর, অভিনেত্রীর বাড়িতে গুলি চালানো দুই অভিযুক্তকে এনকাউন্টারে হত্যা করেছে পুলিশ। সেই দুই অভিযুক্তের নাম রবীন্দ্র ও অরুণ। তারা গোল্ডি ব্রার-রোহিত গোদারা গ্যাংয়ের সদস্য ছিলো বলে দাবি পুলিশের। গুলে করে মারার পর তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল ও কিছু কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে পুলিশের একটি দল অভিযুক্তদের মুখোমুখি হয়। সেই সময় অভিযুক্তরা পুলিশের দিকে গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে দুই অভিযুক্ত গুরুতর আহত হয় এবং হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করে।

এদিকে, ঘটনার দিন ভোর ৩টা ৪৫ মিনিট নাগাদ দুই বাইক আরোহী দিশা পাটানির বারেলির বাড়িতে একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। সেই সময় দিশা বাড়িতে না থাকলেও, তার বাবা-মা এবং ভাইবোন ভেতরে ছিলেন।

এ ঘটনার তদন্ত শুরু হওয়ার পর উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পুলিশ বিভিন্ন রুটের সিসিটিভি ফুটেজ এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির অপরাধের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও দুই অভিযুক্ত এখনও পলাতক। তাদের খোঁজে অভিযান চলছে।

দুঃসংবাদ পেল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল

২০১৪ সালের পর প্রথমবার ফিফা ফুটবল র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছে স্পেন। এ ছাড়া এক ধাপ এগিয়ে দুইয়ে উঠে এসেছে কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স। এই দুই দলের এক ধাপ করে উন্নতির বিপরীতে অবনমন হয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। নম্বর ওয়ান থেকে তারা তিনে নেমে গেছে। একইভাবে দুঃসংবাদ পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলও। এক ধাপ অবনতির পর তাদের বর্তমান অবস্থান ষষ্ঠ।

এ ছাড়া ছয় নম্বর থেকে এগিয়ে ব্রাজিলের জায়গা (পঞ্চম) দখল করেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। এক ধাপ করে এগিয়েছে ক্রোয়েশিয়া ও ইতালি। এর মধ্য দিয়ে সাবেক চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে ফিরল। ক্রোয়েশিয়ার অবস্থান নবম। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে অবস্থান করছে যথাক্রমে– স্পেন, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, ব্রাজিল, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া ও ইতালি।

সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে প্রায় সব দলই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলেছে। লাতিন অঞ্চলের (কনমেবল) বাছাই শেষ হলেও, ইউরোপের অনেক দেশই নতুন করে নেমেছে ২০২৬ বিশ্বকাপে ওঠার মিশনে। সেপ্টেম্বরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা উভয়েই নিজেদের শেষ ম্যাচে যথাক্রমে বলিভিয়া ও ইকুয়েডরের কাছে হেরেছে। উভয়ের হারের ব্যবধান ছিল সমান (১-০)। আবার একই উইন্ডোতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কাকতালীয়ভাবে সমান ৩-০ ব্যবধানে জেতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। তবে শেষ ম্যাচে হারের ফল পেল র‌্যাঙ্কিংয়ে।

এদিকে, সেপ্টেম্বরে বাছাইয়ের দুই ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে ২০১০ বিশ্বকাপের শিরোপাধারী স্পেন। বুলগেরিয়াকে ৩-০ এবং তুরস্ককে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা বাছাইয়ের মিশন শুরু করেছে। এ ছাড়া গত জুলাইতে শীর্ষ দশের বাইরে চলে যাওয়া ইতালি ৫-৪ ব্যবধানে ইসরায়েলের সঙ্গে থ্রিলার এবং এস্তোনিয়ার সঙ্গে ৫-০ ব্যবধানে জিতেছে।

এবারের ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে সর্বোচ্চ ১০ ধাপ উন্নতি হয়েছে স্লোভাকিয়ার, একইসঙ্গে সর্বোচ্চ ২৫.৩১ পয়েন্টও পেয়েছে তারা। সর্বাধিক ৯ ধাপ অবনতি ঘটেছে জিম্বাবুয়ে ফুটবল দলের। আর সর্বোচ্চ পয়েন্ট (২৬.১৮) কাটা গেছে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের।

ভারত ম্যাচ নিয়ে যা বললেন পাকিস্তানি পেসার

পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ভারতীয় ক্রিকেটারদের হাত না মেলানোর ঘটনায় ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটেরও ভূমিকা ছিল বলে আইসিসিতে অভিযোগ করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তাদের দাবি ছিল, এশিয়া কাপ থেকে এই ম্যাচ রেফারিকে প্রত্যাহারকরতে হবে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ম্যাচ বয়কট করতে চেয়েছিল পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ রেফারি ক্ষমা চাওয়ায় ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান।

মাঠে নেমে অবশ্য জয় পেয়েছে পাকিস্তান। আমিরাতকে হারিয়ে সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে তারা। ম্যাচের পর দলটির পেসার হারিস রউফ বলেছেন, ‘আমি মোটেই চাপে ছিলাম না। বিষয়টা আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। এই সিদ্ধান্তগুলো বোর্ডই নেয়। এটা ওদের মাথাব্যথা। আমি ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলাম। ফোকাস ছিল ম্যাচেই। ম্যানেজমেন্ট সবকিছু ভালো ভাবেই সামলেছে।’

সুপার ফোরে রবিবার ভারতের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান। তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে চাননি হারিস। তার কথায়, ‘কোন দল জিতবে তা এখন থেকেই বলা যায় না। খেলায় একটা দল জেতে, একটা দল হারে। দিনের শেষে যে ভালো ক্রিকেট খেলবে সেই জিতবে। আমরা চাইব ভালো ক্রিকেট খেলতে।’

ভারতের বিপক্ষে প্রথম একাদশে কোনও পরিবর্তন আনবে কি না পাকিস্তান? এমন প্রশ্নের জবাবে হারিস বলেছেন, ‘এখন থেকে বলা মুশকিল। এটা কোচ এবং অধিনায়ক ঠিক করে। খেলোয়াড় হিসেবে আমি সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দেব।’

ভারতের বিপক্ষে জিততে গেলে সব বিভাগে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে বলে মনে করেন হারিস। তিনি বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত দলের ব্যাটারেরা নিজেদের মধ্যে বসে কথা বলবে। কারণ একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ভালো হলে দলের মধ্যেও স্বচ্ছতা থাকে। কী ভুল করছে সেটা তাদের খুঁজে বের করা দরকার। এখনও ২-৩ দিন অনুশীলনের সুযোগ রয়েছে।’

দশ বছরে সর্বনিম্ন ব্যাংকের সিএসআর ব্যয়

করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমে ব্যাংকগুলোর ব্যয় এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন এই ছয় মাসে দেশের সব ব্যাংক মিলে সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে মাত্র ১৫০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। অথচ এর আগের ছয় মাসেই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৩০৭ কোটি টাকা। অর্ধেকেরও বেশি কমে যাওয়া এই ব্যয় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ব্যাংক খাতের সামাজিক দায়িত্ববোধ ও এর ব্যবহার নিয়ে।

গত দশকে সিএসআর খাতে এত কম অর্থ খরচ হয়নি। এর আগে ২০১৫ সালের প্রথম ছয় মাসে ব্যয় ছিল ২৫৪ কোটি টাকা। সেই তুলনায় এবার প্রায় ১০৪ কোটি টাকা কম ব্যয় করেছে ব্যাংকগুলো, যা নতুন এক নিম্নমুখী ধারা নির্দেশ করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের জুলাই-ডিসেম্বরে যেখানে সিএসআরে ব্যয় ছিল প্রায় ২৯৮ কোটি টাকা, ২০২২ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫১৪ কোটি টাকায়।
এরপর ২০২৩ সালের শেষ ছয় মাসে ব্যয় কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৩৫৩ কোটি টাকায়। ২০২৩ সালের প্রথম ছয় মাসে ব্যয় ৩০৯ কোটি এবং শেষ ছয় মাসে ব্যয় করে ৩০৭ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সেই ব্যয় গিয়ে ঠেকেছে মাত্র ১৫০ কোটিতে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সিএসআরের ব্যয়ে ওঠানামা থাকলেও চলতি বছরের এই বিপুল পতনের পেছনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যাংকাররা।

তারা বলছেন, রাজনৈতিক সরকারের সময়ে সিএসআর ব্যয় নিয়ে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ থাকে। বিভিন্ন পর্যায়ে রাজনৈতিক ব্যক্তি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রভাবশালীদের অনুরোধে ব্যাংকগুলোকে শিক্ষা, চিকিৎসা, অনুষ্ঠান বা অনুদানের নামে বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করতে হয়। অনেক সময় এই খরচ প্রকৃত সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতার বাইরেও চলে যায়।

তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের রাজনৈতিক আন্দোলন এবং আগস্টে সরকারের পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে ব্যাংকগুলো এখন বাধ্য হয়ে নয়, বরং বিবেচনায় রেখে সিএসআরের অর্থ ব্যয় করছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন শাখা ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আগে অনেক সময় সিএসআরের বাজেট ব্যবহার হতো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী লোকদের ইচ্ছা অনুযায়ী। কাকে দিতে হবে, কোথায় দিতে হবে—এসব নির্ধারিত হতো বাইরে থেকে। এখন সে ধরনের চাপ নেই। ব্যাংক নিজের বিবেচনায় খরচ করছে, ফলে খরচও অনেক কমে গেছে।’

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআরের ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে চলে যায়, যা ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংককে বছরে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়। তবে বাস্তবে অনেক সময় এই অর্থ কোথায়, কিভাবে খরচ হলো—তা নিয়ে নেই পর্যাপ্ত তথ্য বা জবাবদিহি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে তা বিতর্কিত হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট সিএসআর ব্যয়ের ৩০ শতাংশ শিক্ষা খাতে, স্বাস্থ্য খাতে ৩০ শতাংশ, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রশমন ও অভিযোজন খাতে ২০ শতাংশ ব্যয় করতে হবে। বাকি ২০ শতাংশ অর্থ আয় উপযোগী উদ্যোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, খেলাধুলা, বিনোদন এবং অন্যান্য খাতের আওতায় খরচ করা যাবে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৬১টি তফসিলি ব্যাংক আলোচিত সময় (২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে) নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৫৫ শতাংশ বা ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। আর শিক্ষায় মাত্র ২২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বা ৩৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা, স্বাস্থ্যে ২৮ কোটি ১২ লাখ বা ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় মাত্র ৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ বা ৫ কোটি ২১ লাখ টাকা।

আলোচিত সময় ১৩টি ব্যাংক সিএসআরে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। ব্যাংকগুলো হলো- জনতা ব্যাংক, অগ্রণী, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স, ন্যাশনাল, পদ্মা ব্যাংক, কমিউনিটি, এসবিএসসি, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

লিভারপুলের নাটকীয় জয়, সিমিওনের লাল কার্ডে উত্তেজনা

চ্যাম্পিয়নস লিগের রোমাঞ্চকর এক রাতে ভার্জিল ভ্যান ডাইকের ইনজুরি-টাইমের গোলে লিভারপুল ৩-২ গোলে হারিয়েছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে। ম্যাচ শেষে উত্তেজনা ছড়ায় অ্যানফিল্ডে, লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় অ্যাতলেতিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনেকে।

ম্যাচের শুরুটা ছিল একেবারেই লিভারপুলের। মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে তারা স্প্যানিশ ক্লাবটিকে উড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
প্রথমে মোহাম্মদ সালাহর ফ্রি-কিক অ্যান্ডি রবার্টসনের গায়ে লেগে জালে প্রবেশ করে, এরপর দুর্দান্ত গতিতে তিনজন অ্যাতলেতিকো ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নিজেই।

তবে ধুঁকতে থাকা অ্যাতলেতিকো প্রথমার্ধের ইনজুরি-টাইমে মার্কোস লরেন্তের গোলে ম্যাচে ফেরে। এই লরেন্তেই ২০২০ সালে অ্যানফিল্ডে লিভারপুলকে বিদায় করে দিয়েছিলেন। ইতিহাস যেন পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছিল, কারণ ৮১ মিনিটে লরেন্তের ভলিতে বল আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গায়ে লেগে আলিসনকে ফাঁকি দিলে হতবাক হয়ে যায় লিভারপুল রক্ষণ, সমতায় ফেরে অ্যাতলেতিকো।

শেষ পর্যন্ত ৯২ মিনিটে সবোসলাইয়ের কর্নার থেকে ভ্যান ডাইক ফাঁকায় হেডে জয়সূচক গোল করেন। গোলের পর লিভারপুল সমর্থকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন সিমিওনে, এরপর রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখান। এমনকি মাঠ থেকে বেরোনোর সময়ও তিনি এক দর্শককে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সিমিওনে বলেন, ‘যেভাবে আমরা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়ি, সেভাবেই আমাদের এসবের বিরুদ্ধেও দাঁড়ানো উচিত।
৯০ মিনিট ধরে গালি খাওয়া সহজ নয়। আমার প্রতিক্রিয়া ন্যায্য নয়, তবে আপনাদের কি ধারণা আছে, এটা কতটা কঠিন?’

অন্যদিকে লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট জয়ের পরও সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তার ভাষায়, ‘এমন ম্যাচ শেষ মুহূর্তে জেতার দরকার পড়ার কথা নয়। আমরা এত ভালো আক্রমণ করেছি, তৃতীয় গোল অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল।’

লিভারপুল টানা পাঁচ ম্যাচে ৮০ মিনিটের পর জয়সূচক গোল পেলেও রক্ষণভাগের দুর্বলতা চোখে পড়ছে।
অন্যদিকে মৌসুমের শুরুতে লিগে খারাপ সময় কাটানো অ্যাতলেতিকো আবারও নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেল না অ্যানফিল্ডে।

আলভারেজ বিতর্কের পর পেনাল্টির নিয়মে বড় পরিবর্তন

২০২৫-২৬ মৌসুম থেকে ফুটবলের আইনপ্রণেতা সংস্থা আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) বেশ কিছু নতুন নিয়ম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন এসেছে পেনাল্টি কিকের ক্ষেত্রে। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচে হুলিয়ান আলভারেজের পেনাল্টি বাতিল নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শট নেওয়ার সময় পিছলে গিয়ে আলভারেজ অনিচ্ছাকৃতভাবে বল দুইবার স্পর্শ করেছিলেন।
গোল হলেও ভিএআর তা বাতিল করে দেয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে গোল বাতিল হবে না, বরং পেনাল্টি পুনরায় নেওয়া হবে।

এ ছাড়া গোলকিপারদের সময় নষ্ট করা রোধেও নতুন নিয়ম যুক্ত হয়েছে। এখন থেকে কোনো গোলরক্ষক সর্বোচ্চ আট সেকেন্ড বল হাতে রাখতে পারবেন।
শেষ পাঁচ সেকেন্ড রেফারি দৃশ্যমানভাবে কাউন্টডাউন দেখাবেন। নিয়ম ভাঙলে প্রতিপক্ষ দলকে পরোক্ষ ফ্রি-কিক নয়, বরং কর্নার কিক দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ক্লাব বিশ্বকাপে মামেলোডি সানডাউন্সের গোলকিপার রনওয়েন উইলিয়ামস এভাবে শাস্তি পেয়েছেন।

আরেকটি নতুন শর্ত হলো মাঠে শৃঙ্খলা ফেরাতে শুধু দলীয় অধিনায়ককেই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রেফারির সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হবে।
এর মাধ্যমে খেলায় অযথা প্রতিবাদ ও উত্তেজনা কমিয়ে ন্যায্যতা ও সম্মান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে আইএফএবি।

সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় জাতিসংঘে তুলে ধরবেন প্রধান উপদেষ্টা

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। বক্তব্যে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে বিগত এক বছরে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সংস্কার ও আগামী দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় বিশ্বদরবারে তুলে ধরবেন।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।

এ অধিবেশনে যোগদানের জন্য প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলটি আগামী ২২ সেপ্টেম্বর একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নিউইয়র্কে পৌঁছাবে।
২৩ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের।

প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত প্রতিনিধিদলের আলোচ্যসূচির মধ্যে যেগুলো ঠিক হয়েছে, এর মধ্যে কিছু যোগও হতে পারে আবার কিছু বাদও হয়ে যেতে পারে।

এখন পর্যন্ত আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে : ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘের শরণার্থী‍বিষয়ক হাইকমিশনার, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক, জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ইতালি, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, কসোভো, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি দলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক।

জাতিসংঘের অধিবেশনের এবারের প্রতিপাদ্য ‘বেটার টুগেদার : এইটি ইয়ারস অ্যান্ড মোর ফর পিস, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’।

এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পেছানোর ব্যাপারে কোনো প্রস্তাব দেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পেছানোর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পেছাতে চাইলেই যে হয়ে যাবে এমন কিন্ত নয়, এর সঙ্গে অনেক বিষয় যুক্ত থাকে।’

সফরে নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশে কোনো দলের আন্দোলন দমানোর মতো ক্ষমতা সে দেশের সরকারেরও নেই। আমরা ধরে নিচ্ছি সেখানে প্রটেস্ট (আন্দোলন) হবে।
তবে আমরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত নই।’

২২ সেপ্টেম্বর এবার উচ্চ পর্যায়ের সভার মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের ৮০তম বার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠান শুরু হবে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে বিতর্ক পর্ব। ওই দিন থেকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা সাধারণ বিতর্কে অংশ নেবেন। জাতিসংঘের তিনটি মূল স্তম্ভ—শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং মানবাধিকার সবই সমানভাবে এবারের অধিবেশনে গুরুত্ব পাবে।

পররাষ্ট উপদেষ্টা বলেন, এ বছরের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এবার ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সভাপতিত্বে ‘হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য সিচুয়েশন অব রোহিঙ্গা মুসলিম অ্যান্ড আদার মাইনরিটিজ ইন মায়ানমার’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এমন একটি উচ্চ পর্যায়ের সভার আয়োজন এবারই প্রথম বলে জানান উপদেষ্টা।

তৌহিদ হোসেন বলেন, জাতিসংঘের এবারের অগ্রাধিকার ইস্যুগুলোর প্রত্যকটিই বাংলাদেশের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ইস্যুগুলোর ওপর যেসব ইভেন্ট আছে, বাংলাদেশ তার সব কটিতেই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করছি। বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় কূটনীতিকে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে মনে করে।