রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

আবারও উপস্থাপনায় তাহসান

দ্বিতীয় সিজন নিয়ে আসছে পারিবারিক বিনোদনের চিত্র বদলে দেওয়া ‘ফ্যামিলি ফিউড বাংলাদেশ’। প্রথম সিজনের মতো এবারের আসরও উপস্থাপনা করবেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানিয়েছে বঙ্গ।

তারা জানায়, শিগগিরই ‘ফ্যামিলি ফিউড বাংলাদেশ’-এর সিজন ২ আসছে।
এই ডিসেম্বরেই শুটিং (নির্মাণ কাজ) শুরু হবে। নতুন সিজনে থাকছে আরো বেশি হাসি, মজা আর জমজমাট পারিবারিক আনন্দ। প্রতিযোগীরা বাংলাদেশের এই প্রিয় গেম শো-তে জিততে এবং সেরা হতে লড়বে।

নতুন সিজন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তাহসান খান বলেন, ‘ফ্যামিলি ফিউড বাংলাদেশ’ আমার কাছে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান, কারণ এটি পরিবারগুলোকে আবারও বসার ঘরে একই সোফায় ফিরিয়ে এনেছে এবং তাদের মধ্যে মিষ্টি সব তর্ক-বিতর্ক আর হাসির একটি বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করেছে।
সিজন-২ আরো বড় পরিসরে হতে যাচ্ছে। সারা দেশ থেকে আরো নতুন নতুন পরিবারকে এই শো-তে স্বাগত জানাতে, তাদের সঙ্গে হাসতে এবং একসঙ্গে নতুন সব স্মৃতি তৈরি করতে আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

সিজন ২-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পাশাপাশি, এর রেজিস্ট্রেশনও শুরু হয়ে গেছে। সারা দেশের উৎসাহী পরিবারগুলোকে আবেদন করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
যারা পরিবারের সঙ্গে মজা করতে ভালোবাসেন কিংবা একটি ভালো চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন, তাদের প্রত্যেককে এই জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতায় অংশ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বঙ্গ জানিয়েছে, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে সিজন-১ ১০০ কোটিরও বেশি ভিউ এবং ২.৫ কোটিরও বেশি ইউনিক দর্শকের সম্পৃক্ততা অর্জন করেছে। সিজন ১-এর সবগুলো পর্ব এখনো বঙ্গতে বিনা মূল্যে দেখা যাচ্ছে।

প্রথম সিজনে তাহসানের উপস্থাপনায় শো-টি পরিচালনা করেছেন ওয়াহিদুল ইসলাম শুভ্র। সারা দেশ থেকে ৪৮টি পরিবার অংশ নিয়েছিল।
অনুষ্ঠানে ছিল দারুণ প্রতিযোগিতা, অনেক আবেগের মুহূর্ত আর পরিবারের সবার মাঝে মজার সব খুনসুটি। শো-তে ৩০ লাখ টাকারও বেশি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

ফিলিস্তিনি বন্দিকে নির্যাতনের ভিডিও ফাঁস, আইডিএফের সাবেক শীর্ষ আইনজীবী গ্রেপ্তার

ইসরায়েলি সৈন্যদের হাতে ফিলিস্তিনি এক বন্দিকে নির্যাতনের ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক মিলিটারি অ্যাডভোকেট জেনারেল মেজর জেনারেল ইয়িফাত টোমার-ইরুশালমিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ভিডিও ফাঁসের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেন ইয়িফাত টোমার-ইরুশালমি। তবে রবিবার ঘটনাটি আরো নাটকীয় মোড় নেয়। তাকে নিখোঁজ বলে দাবি করে তেল আবিবের উত্তরের এক সমুদ্রসৈকতে ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে পুলিশ ওই নারী কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে।

এই ভিডিও ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

খবরে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে একটি ইসরায়েলি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণ ইসরায়েলের সদে টাইমান সামরিক ঘাঁটিতে কিছু রিজার্ভ সৈন্য এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে আলাদা করে নিয়ে যায়। এরপর তারা দাঙ্গা দমনের ঢাল দিয়ে চারপাশ ঘিরে ফেলে। এরপর ওই বন্দিকে নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং ধারালো বস্তু দিয়ে তার পায়ুপথে আঘাত করা হয়।

ঘটনার পর পাঁচজন রিজার্ভ সৈন্যের বিরুদ্ধে গুরুতর নির্যাতন ও শারীরিক ক্ষতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। তবে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

পরে রবিবার চারজন সৈন্য কালো মুখোশ পরে জেরুজালেমের সুপ্রিম কোর্টের বাইরে সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হন। তাদের আইনজীবীরা মামলা বাতিলের দাবি জানান।

সোমবার প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ভিডিওতে নির্যাতনের শিকার ওই ফিলিস্তিনি বন্দিকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজায় ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তিনি ছিলেন সেই বন্দিদের একজন, যাদের ইসরায়েল হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের বিনিময়ে মুক্তি দিয়েছিল।

এরপর গত সপ্তাহে ভিডিও ফাঁসের ঘটনার ওপর আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। এ সময় জেনারেল টোমার-ইরুশালমিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। পরে শুক্রবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘোষণা দেন, তিনি আর তার পদে ফিরতে পারবেন না।
এরপরই টোমার-ইরুশালমি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

তার পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেন, আমার অধীনস্থ ইউনিট থেকে কোনো উপকরণ গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে থাকলে, তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি নিচ্ছি।

এই ঘটনার ফলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রভাব ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিতর্ক আরো জোরালো হয়েছে।

বিঠাবাঈ শ্রদ্ধা

মোহিত সুরির ‘আশিকি ২’ দিয়েই বাজিমাত করেছিলেন শ্রদ্ধা কাপুর। এরপর একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন। সৌন্দর্য দিয়ে যেমন মোহিত করেছেন দর্শককে তেমন অভিনয় দিয়ে সমালোচকের মন জয়ও করেছেন। তার পরও বছরে একটির বেশি ছবিতে দেখা যায় না এই অভিনেত্রীকে।
গত বছর ‘স্ত্রী ২’-এর সাফল্যের পর জানা গিয়েছিল নৃত্যশিল্পী বিঠাবাঈ নারায়ণগাঁওকরের বায়োপিকে দেখা যাবে তাঁকে। এরপর প্রায় এক বছরের অপেক্ষা। এবার জানা গেল, সত্যিই তিনি ছবিটিতে অভিনয় করছেন। এর মধ্যে শুরু করেছেন শুটিংও।
‘ইথা’ নামের ছবিটি নির্মাণ করছেন ‘ছাভা’খ্যাত লক্ষ্মণ উটেকর। ম্যাডক ফিল্মস প্রযোজিত ‘ইথা’র ক্ল্যাপবোর্ডের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। নির্মাতারা এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও, খবরে বলা হয়েছে যে বিখ্যাত সংগীত জুটি অজয়-অতুল এই বায়োপিকের সংগীত করবেন। মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় ‘তামাশা’ শিল্পী বিঠাবাঈ , যিনি ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্যের এই ধারা সংরক্ষণের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

সিন্ডিকেটে আটকা পড়ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ রয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এক বছরের বেশি সময় পর বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ১০টি শর্ত জুড়ে দিয়ে আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠাতে চিঠি দিয়েছে। তবে এসব শর্তের ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার পুরোনো সিন্ডিকেটের কবলে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, পুরোনো সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আবেদনের শর্তগুলো এই সিন্ডিকেটকে আইনি বৈধতা দিতে পারে।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় গন্তব্য। ভালো বেতন কাঠামো, আরামদায়ক আবহাওয়া ও উন্নত জীবনমানের কারণে দেশটিতে কর্মসংস্থানের আগ্রহ সবসময়ই বেশি।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। সবশেষ বছরখানেক আগেও কলিং ভিসায় প্রায় পৌনে ৫ লাখ বাংলাদেশি দেশটিতে পাড়ি জমান। তবে সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের ৩১ মে বাংলাদেশের জন্য বন্ধ হয়ে যায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। একাধিকবার বৈঠক করেও এখন পর্যন্ত দেশটির শ্রমবাজার চালু করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার।
বাজারটি চালু হওয়ার পর আবার যাতে সিন্ডিকেটের দখলে না যায় এবং সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত থাকে, তা নিয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

দীর্ঘদিনের আলোচনার পর সম্প্রতি এ বিষয়ে নজর দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। তবে সবার জন্য উন্মুক্ত না করলেও যেসব রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে চায়, তাদের জন্য ১০টি শর্ত জুড়ে দিয়েছে মালয়েশিয়া। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে-ন্যূনতম ৫ বছর সন্তোষজনক কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা; অন্তত ৩ হাজার কর্মী পাঠানোর প্রমাণ; তিনটি ভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো ও কর্মসংস্থানের অভিজ্ঞতা এবং ১০ হাজার বর্গফুট আয়তনের স্থায়ী অফিস থাকতে হবে। জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, মালয়েশিয়া যেসব শর্ত দিয়েছে, বেশির ভাগ এজেন্সিই পূরণ করতে পারবে না।
কারণ, বিগত সময়ে সিন্ডিকেটভুক্ত এজেন্সিগুলোই কেবল ৩ হাজারের বেশি কর্মী পাঠাতে পেরেছে। এর বাইরে অনেক অভিজ্ঞ এজেন্সিও এই শর্ত পূরণ করতে পারবে না। আর রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস কত স্কয়ার ফুট হবে, সেটা মালয়েশিয়া নয় বরং বাংলাদেশ সরকার নির্ধারণ করবে। মালয়েশিয়ার এই শর্তগুলো মূলত পুরোনো সিন্ডিকেটের প্রভাবেই তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের নতুন ১০টি শর্তের বেশির ভাগই বাস্তবসম্মত নয়। বাংলাদেশে রিক্রুটিং এজেন্সি করতে ১০ হাজার স্কয়ার ফুটের অফিসের প্রয়োজন হয় না এবং এটা খুবই ব্যয়বহুল। মাত্র ৬০০ বর্গফুটের অফিসেই সরকার এজেন্সির অনুমোদন দেয়। মালয়েশিয়ায় যেসব এজেন্সি কর্মী গ্রহণ করে, তাদেরও ১০ হাজার স্কয়ার ফুটের অফিস নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমরা লাখ লাখ লোক পাঠাই, কোথাও এরকম চাহিদা নেই। এটার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে কর্মীদের খরচ বাড়বে। আগের সিন্ডিকেটই এই কাজ করছে। আগে অবৈধভাবে এসব করত, এখন এটাকে বৈধ করার একটা অপচেষ্টা চলছে।

এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। এর তিন বছর পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নতুন সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে আবার চালু হয় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। ২০২২ সালের আগস্টে দেশটিতে আবারও কর্মী পাঠানো শুরু করে অনুমতি পাওয়া ১০০ রিক্রুটিং এজেন্সি। চুক্তি অনুযায়ী সর্বশেষ কর্মী গেছে গত বছরের ৩১ মে। এর পর থেকে মালয়েশিয়ায় নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ আছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতানোর স্বপ্ন আনচেলত্তির

সর্বোচ্চ ৫ বারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে গত ২৪ বছর ধরে সেলেসাওদের শোকেসে নতুন করে কোনো বিশ্বকাপের ট্রফি জায়গা পায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে ট্রফি খরা কাটাতে না পারায় প্রথমবারের মতো বিদেশি কোচের ওপর আস্থা রাখছে ব্রাজিল।

যার ওপর আস্থা রাখছে ব্রাজিল সেই কার্লো আনচেলত্তি ক্লাব পর্যায়ে প্রায় সব শিরোপাই জিতেছেন।
নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে ব্রাজিল দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। ৬৬ বছর বয়সী কোচের স্বপ্ন ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতাবেন তিনি। সম্প্রতি ‘ড্রিবলিং অন রাই ডিউকে’ দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটিই জানিয়েছেন ইতালিয়ান কোচ।

অপেক্ষাটা ২৮ বছর করতে রাজি নন আনচেলত্তি।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ট্রফি জেতাতে চাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘স্বপ্ন হলো ব্রাজিল ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জিতবে। প্রত্যাশার সঙ্গে অনেক উৎসাহও রয়েছে। মূল বিষয় হচ্ছে ২৪ বছর ধরে ট্রফি না জেতা, যা বোঝা। আশা করছি, এটা ২৮ বছর হবে না।
আমরা জিততে চাই, লুকানোর কিছু নেই।’

ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজের দেশ ইতালিকে চান আনচেলত্তি। ব্রাজিল কোচ বলেছেন, ‘আমি চাই ফাইনাল হোক ব্রাজিল-ইতালি। আমার জন্য এটা দারুণ এবং আবেগের হবে।’

ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলের ডাগআউটে দাঁড়ানোর সুযোগ আমি প্রত্যাখান করতে পারিনি।
আমি এখানকার চাওয়া সম্পর্কে জানি। তবে বাস্তবায়ন করাটা একটু কঠিন। যখন ব্রাজিল খেলে দেশটি থেমে যায়।’

রাজশাহীর সহজ জয়, অপেক্ষায় মুশফিক

মিরপুরে আজ ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য ছিল খুলনা বিভাগের। তাদের ঘুরে দাঁড়াতে দেয়নি রাজশাহী বিভাগ। উল্টো তিন দিনেই মোহাম্মদ মিঠুনের দল পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে। রাজশাহীর কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে।

প্রথমের ১২১ রানের বিপরীতে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৫ রান করেছিল খুলনা। এতে ১০৯ রানের লক্ষ্য পায় রাজশাহী। ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহানের ফিফটিতে সেই লক্ষ্য সহজে পেরিয়ে যায় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

এর আগে আজ ১ উইকেটে দলীয় ৬৮ রানে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন দ্বিতীয় দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার অমিত মজুমদার ও এনামুল হক বিজয়।
দুজনের কেউই ইনিংস দীর্ঘ করতে পারেননি। ওপেনার অমিতের ৩২ রানের বিপরীতে ‍উইকেটরক্ষক বিজয় ফেরেন ৩৪ রানে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রানে অলআউট খুলনা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
রাজশাহীর হয়ে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা ও আলি মোহাম্মদ ওয়ালিদ।

অপেক্ষা নিয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) তৃতীয় দিন শেষ করেছেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ১৯তম সেঞ্চুরির অপেক্ষা। তিন অংক স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন ৭ রান।

মুশফিকের ৯৩ রানের ইনিংসের সৌজন্যে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে দিন শেষ করেছে ৭ উইকেটে ২৬০ রানে।
প্রতিপক্ষের চেয়ে এখনো ৫০ রানে পিছিয়ে তারা। অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৩১০ রান করে ঢাকা।

শেষ দিন দূরত্ব ঘোচাতে মুশফিককে সঙ্গ দিবেন ইবাদত হোসেন। ৫ রানে অপরাজিত আছেন এই পেসার। ঢাকার হয়ে ২ টি করে উইকেট নিয়েছেন রিপন মণ্ডল, নাজমুল ইসলাম অপু ও এনামুল হক।

অন্যদিকে কক্সবাজারে বৃষ্টির বাধায় একাডেমি মাঠে নামতেই পারেনি ময়মনসিংহ-রংপুর বিভাগ। তবে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিন ১৫ ওভার খেলতে পেরেছে চট্টগ্রাম-বরিশাল। বৃষ্টির পরে আবার আলোকস্বল্পতাও যোগ হয়েছে। তাতে তৃতীয় দিন বরিশাল শেষ করেছে ২ উইকেটে ১৬৬ রানে। ওপেনার জাহিদুজ্জামানের ৩২ রানের বিপরীতে ৭৫ রানে ক্রিজে আছেন সালমান হোসেন ইমন।

মেসি-রোনালদোর লেভেলে হালান্ড, বলছেন গার্দিওলা

এবারের প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত ২০ গোল করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। এর মধ্যে একাই ১৩ গোল করেছেন আর্লিং হালান্ড। পরিসংখ্যানই জানান দিচ্ছে ম্যানসিটি কতটা নির্ভর করে হালান্ডের ওপরে।

হালান্ডের এমন প্রভাবের কারণেই ম্যানসিটির স্ট্রাইকারকে লিওনেল মেসি-ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তুলনা করেছেন পেপ গার্দিওলা।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে যা করে আসছেন কিংবদন্তিদ্বয়। বোর্নমাউথের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয়ে জোড়া গোল করা হালান্ডের প্রশংসা তাই না করে থাকতে পারেননি সিটির কোচ।

সবমিলিয়ে এ মৌসুমে ১৭ গোল করেছেন হালান্ড। শিষ্যর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নিয়ে গার্দিওলা বলেছেন, ‘মেসি-রোনালদোর মতোই সে খেলছে।
তার প্রভাব অনেক বড়। ছেলেটার পরিসংখ্যান (গোল) দেখেন? অবশ্যই তাদের (মেসি-রোনালদো) পর্যায়ে সে। গত ১৫ বছর ধরে মেসি-রোনালদো তাদের কাজটা করে আসছে। প্রথম গোলের শটটা দেখেন বল যেন তখন নিজেই যাচ্ছিল জালে জড়াতে।
তার সেই ক্ষুধা রয়েছে। দুর্দান্ত।’

হালান্ড ছাড়া দলের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সম্ভব ছিল না বলে জানান গার্দিওলা। ম্যানসিটি কোচ বলেছেন, ‘মাঝে মাঝে হালান্ডের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়। তবে সে এসব কিছু মনে করে না।
সে গোল নিয়েই পড়ে থাকে। মাঝে মাঝে ৯০ মিনিট এই চাপটা ধরে রাখা কঠিন। কিন্তু এটা স্বাভাবিক বিষয়। সত্যি বলতে তাকে ছাড়া আমাদের পথটা কঠিন হতো। তবে আমার সৌভাগ্যবান যে ওমর ফিরেছে। আমাদের খেলোয়াড়রা ফিট। এটা ভালো দিক।’

বাংলাদেশ সিরিজে খেললেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নেই ক্যারিবিয়ান স্পিনার

স্পিন-সহায়ক উইকেটেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খুব একটা সহায়তা করতে পারেননি গুদাকেশ মোতি। বাঁহাতি স্পিনার তেমন সহায়তা করতে না পারলেও ঠিকই বাংলাদেশকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই করেছে ক্যারিবিয়ানরা।

পারফরম্যান্স ভালো না হওয়ায় তাই এবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ থেকে বাদ পড়েছেন মোতি। তার বাদ পড়ার পেছনে অবশ্য কিউইদের পেস সহায়ক উইকেটের ভূমিকাও রয়েছে।
তাই কিউইদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে পেস শক্তি বাড়িয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শামার স্প্রিঙ্গারকে দলে ডেকেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এতে করে দীর্ঘ এক বছরের অপেক্ষার অবসান হয়েছে তার। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলেন ২৭ বছর বয়সী পেসার।
এবার সংখ্যাটা বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

শামারের সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে দলে ফিরেছন ম্যাথু ফোর্ড। চোট কাটিয়ে এই অলরাউন্ডার ফিরেছেন দলে। অন্যদিকে মোতির সঙ্গে বাংলাদেশের বিপক্ষে সংক্ষিপ্ত স্কোয়াডে থাকা রামন সিমন্ডস বাদ পড়েছেন।
চোটের কারণে বাঁহাতি পেসার অবশ্য এক ম্যাচও খেলতে পারেননি বাংলাদেশের বিপক্ষে।

দুই দলের সিরিজটি শুরু হবে আগামী ৫ নভেম্বর, অকল্যান্ডে। ৬ অক্টোবর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিও খেলবে এই অকল্যান্ডে। ৯ ও ১০ অক্টোবর নেলসনে হবে তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচ। আর শেষ ম্যাচ হবে ডনেডিনে, ১৩ নভেম্বর।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল—

শাই হোপ (অধিনায়ক), অ্যালিক আথানাজে, আকিম অগুস্তে, রোস্টন চেস, ম্যাথু ফোর্ড, জেসন হোল্ডার, আকিল হোসেন, আমির জঙ্গু, ব্র্যান্ডন কিং, খারি পিয়েরে, রোভম্যান পাওয়েল, শেরফান রাদারফোর্ড, জেডন সিলস, রোমারিও শেফার্ড, শামার স্প্রিঙ্গার।

নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে ক্যুমোকে ভোট দিতে বললেন ট্রাম্প

নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমোকে ভোট দিতে বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিবাচনের আগের রাতে তার সবচেয়ে জোরালো বার্তায় নিউইয়র্কবাসীদের এ কথা বলেন ট্রাম্প। খবর সিএনএনের।

সোমবার ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘আপনি ব্যক্তিগতভাবে অ্যান্ড্রু ক্যুমোকে পছন্দ করুন বা না করুন, আপনার আসলে কোনো বিকল্প নেই।
আপনাকে তাকে ভোট দিতেই হবে এবং আশা করতে হবে সে চমৎকারভাবে কাজ করবে।’

তিনি আরো যোগ করেন, ক্যুমো ‘সেটা করতে সক্ষম,’ কিন্তু ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি ‘নন!’

ক্যুমোকে দেওয়া ট্রাম্পের এই সমর্থন ডেমোক্র্যাটিক ভোটারদের মধ্যে যেমন ক্ষতি করতে পারে, তেমনি রিপাবলিকান ভোটারদের কাছে কিছুটা সুবিধা এনে দিতে পারে, বিশেষ করে গভীরভাবে ডেমোক্র্যাটিক-প্রভাবিত নিউইয়র্ক সিটিতে।

মামদানি জুন মাসের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ক্যুমোকে চমকে দিয়েছিলেন, তিনি বারবার ট্রাম্পের সঙ্গে ক্যুমোর সম্পর্ক দেখিয়ে ভোটারদের সতর্ক করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনি নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের ক্ষমতাধর স্বার্থগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী মামদানির সমালোচনা করে আসছেন এবং তাকে ‘কমিউনিস্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সোমবার তিনি আবারও সতর্ক করে বলেন, ‘যদি মামদানি জয়ী হন, তবে নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল তহবিল আইনে যা ন্যূনতমভাবে প্রয়োজন, তার বেশি দেওয়া হবে না।’

এআই যুদ্ধের সূচনা, কতটা সফল হবে ডিপসিক?

৯৫ শতাংশ কম অর্থ ব্যয় করেই ওপেনএআইয়ের জিপিটি ৪ও-কে টেক্কা দিয়েছে চীনা নির্মাতা ডিপসিক। ২০ জানুয়ারি নতুন মডেল আর১ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রযুক্তিবিশ্বে কী কী ঘটেছে জানাচ্ছেন এস এম তাহমিদ।

চীনের জেজ্যাং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারদের গড়া প্রতিষ্ঠান ডিপসিক। মাত্র দুই বছর আগে যাত্রা শুরু করে এটি।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী লিয়াং ওয়েনফেং বরাবরই বলে আসছিলেন—ডিপসিকের লক্ষ্য শুধু আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স তৈরি করা নয়, বরং তারা চেষ্টা করছে এআই তৈরির প্রগ্রামিং ও অ্যালগরিদমকে উন্নত করা। যাতে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার ও মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচের ওপর নির্ভর করতে না হয়। প্রতিষ্ঠানটি এখনই লাভজনক, দাবি তাদের। অথচ এখনো লাভজনক হতে পারেনি ওপেনএআই।

গত ডিসেম্বরেই পশ্চিমা বিভিন্ন এআইয়ের সমকক্ষ হিসেবে প্রমাণ করেছিল আর১-এর আগের মডেল ডিপসিক ভি৩। প্রগ্রামিং, তথ্য বিশ্লেষণ, লেখালেখি এবং অঙ্কের জটিল সমস্যা সমাধানের মতো বিভিন্ন বেঞ্চমার্কে সেটি অনেকটা এগিয়ে ছিল। আরো শক্তিশালী নতুন আর১ মডেলটি প্রকাশিত হয়েছে ২০ জানুয়ারি। ব্যবহারকারীরা নতুন মডেলটি পরীক্ষা করার সুযোগ পেয়েই রীতিমতো অবাক! অনেকেই মন্তব্য করেছে, অবশেষে হাজির হয়েছে চ্যাটজিপিটির শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী।

আর১ মডেলটি চালাতে ব্যবহৃত হয়েছে এনভিডিয়া এইচ৮০০ এআই অ্যাকসেলারেটর, যা ওপেনএআইয়ের ব্যবহৃত এইচ১০০-এর তুলনায় বেশ দুর্বল। ডিপসিক এ-ও দাবি করেছে, তাদের আর১ মডেল ট্রেনিংয়ের শেষ পর্যায়ে খরচ হয়েছে মাত্র ৫৬ লাখ ডলার, যেখানে ওপেনএআইয়ের মডেল ট্রেইন করতে লেগেছিল ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি।

এআই ব্যবহারের খরচ পরিমাপ করা হয় টোকেন হিসেবে। প্রতি ১০ লাখ টোকেনের জন্য ওপেনএআই নিচ্ছে ১৫ ডলার, সেখানে ডিপসিক নিচ্ছে মাত্র দুই ডলার ১৯ সেন্ট। যেসব প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে এআই ব্যবহার করে, তারা দ্রুতই ওপেনএআই বাদ দিয়ে ডিপসিক ব্যবহারে ঝুঁকতে পারে।
হয়তো চ্যাটজিপিটির মতো এতটা নিখুঁত নয় ডিপসিক, কিন্তু দামে প্রায় ৯৫ শতাংশ পার্থক্য, এটা মোটেই ফেলনা নয়। খরচের বিশাল পার্থক্যের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই এর প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে।

ডিপসিক যদি ৯৫ শতাংশ কম খরচে এআই সেবা দিতে পারে, তাইলে পশ্চিমা এআই নির্মাতাদের আয় কমে যাবে—এমন ধারণা করে অনেক বিনিয়োগকারী এআই চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করেন। ফলে ৬০ হাজার কোটি ডলার বাজারমূল্য হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ দরপতনের ইতিহাস গড়েছে এনভিডিয়ার শেয়ার। দরপতন হয়েছে গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং ওপেনএআইয়ের শেয়ারেরও। এক ডিপসিকে পতন ঘটিয়েছে এক লাখ কোটি ডলার বাজার মূল্যের বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে।

এআই মডেলগুলোকে সম্পূর্ণ ওপেনসোর্স করেছে ডিপসিক। চীনা প্রযুক্তির বিষয়ে পশ্চিমাদের অবিশ্বাস কমানোই তাদের লক্ষ্য। সে জন্যই মডেলের পুরো কোড নিজে পরীক্ষা করার সুযোগ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি যে কেউ চাইলে ওপেনসোর্স মডেলগুলো ডাউনলোড করে নিজেদের পিসিতে চালাতে পারবে। ওপেনএআইয়ের মতো ক্লাউডসেবার ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এর মধ্যেই নিজস্ব ডিপসিক সেবা চালুর জন্য কাজ করছে। এতে করে এআই বাজারে থাকবে না গুগল, মেটা ও ওপেনএআইয়ের অলিগার্কি।

তবে ডিপসিকের দাবিগুলো নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেক এআই বিশেষজ্ঞ। স্কেল এআই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী আলেক্সান্ডার ওয়াং বলেছেন, শুধু এইচ৮০০ চিপ ব্যবহার করে এতটা চমৎকার এআই তৈরি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অন্তত ৫০ হাজার এইচ১০০ চিপ অবৈধভাবে আমদানি করেছে ডিপসিক। তিনি এও বলেছেন, ডিপসিকের আর১ মডেলের অনেকটা অংশ ওপেনএআইয়ের জিপিটি ও১ থেকে নকল করা। নিজস্ব সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কিট তৈরি না করে ওপেনএআইয়ের এসডিকে ব্যবহার করাকে ট্রোজান হর্স উপাধি দিয়েছেন অনেক এআই গবেষক। এতে করে বর্তমান ওপেনএআইয়ের সেবা ব্যবহারকারীরা শুধু এক লাইন কোড পরিবর্তন করেই ডিপসিক ব্যবহার শুরু করতে পারবে। ফলে ওপেনএআইয়ের ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা ডিপসিকের জন্য খুবই সহজ। পশ্চিমা প্রযুক্তি নকল করে স্বল্প মূল্যে বিক্রি করে বাজার ধরার জন্য চীনাদের দুর্নাম আছে আগে থেকেই, ডিপসিকও হাঁটছে একই পথে। একাধিক ব্লগে এমনটাই লিখেছেন বেশ কিছু এআই গবেষক ও বাজার বিশেষজ্ঞ।

বর্তমানে অ্যাপল ও গুগল অ্যাপস্টোরের সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাপের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডিপসিক। বিপুল পরিমাণ নতুন ব্যবহারকারী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ডিপসিকের সার্ভার। তাদের দাবি, এর মধ্যেই হ্যাকাররা তাদের সার্ভারে চালাচ্ছে সাইবার হামলা। ব্যবহারকারীরা ডিপসিকের জ্ঞানের বিভিন্ন সীমাবদ্ধা নিয়ে হাসি-তামাশাও করছে, সেসব মিম বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। এ বিষয়ে ডিপসিকের মুখপাত্র তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব আইন আছে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে তা মেনে চলতে হয়। ডিপসিক যেহেতু চীনা প্রতিষ্ঠান, অবশ্যই তাদের এআই চীনা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

ব্যবহারকারীদের তথ্য অরক্ষিত ডেটাবেইসে রাখায় এর মধ্যেই শুরু হয়েছে কঠিন সমালোচনা। সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান উইজ আবিষ্কার করেছে ডিপসিকের একটি ক্লিকহাউস ডেটাবেসের নিয়ন্ত্রণ যে কেউ চাইলেই নিয়ে নিতে পারবে। সমস্যাটি দ্রুতই সমাধান করেছে ডিপসিক, তবে তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ কাটছে না। ডিপসিক কিভাবে, কোথায় গ্রাহকদের তথ্য ব্যবহার করছে তা জানতে চেয়ে আশানুরূপ উত্তর না পাওয়ায় এআই সেবাটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইতালির সরকার। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রেও ব্যান হতে পারে ডিপসিক। তবে ডিপসিকের মাধ্যমে পূর্ব-পশ্চিম এআই যুদ্ধ সবে শুরু, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।