বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন তারেক রহমান

দেশের উদ্দেশে লন্ডনের বাসা থেকে রওনা দিয়ে হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই বিমানবন্দরের পৌঁছান তিনি।

জানা যায়, বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে হিথরো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত এই ফ্লাইটে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরাও থাকবেন।

এর আগে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটির আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের নেতা বাংলাদেশ বিমানের এক নিয়মিত ফ্লাইটে লন্ডন থেকে বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে হিথরো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে আগামীকাল সকালে সিলেটে যাত্রাবিরতির পর সকাল ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করবেন ইনশাআল্লাহ।’

ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভ্যর্থনা জানাবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

এরপর সড়কপথে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন তিনি। এই হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন এবং তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
হাসপাতালে যাওয়ার পথে তিনি কুড়িল-পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান হবে। সেখানে তিনি দেশবাসীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করবেন।’

সংবর্ধনার পর এভারকেয়ার হাসপাতাল ঘুরে তারেক রহমান গুলশান এভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় যাবেন।
এই বাসাতেই থাকবেন তারেক রহমান।

বছরজুড়ে ট্রাম্পের যত অস্বাভাবিক কাণ্ড

হোয়াইট হাউস থেকে ডিসেম্বরে দেওয়া এক ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, গত ১১ মাসে তার প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যেকোনো সরকারের চেয়ে ‘আরো ইতিবাচক পরিবর্তন’ এনেছে।

ট্রাম্প আরো বলেন, ‘এমন কিছু আগে কখনো হয়নি।’

আংশিকভাবে তা সত্য যে তার দ্বিতীয় মেয়াদটি ব্যতিক্রমী। তবে সেই ব্যতিক্রমের অনেক দিকই এমন, যা হয়তো প্রেসিডেন্ট নিজে পছন্দ করবেন না।
কারণ ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প ২০২৫ জুড়ে বারবার অনিয়মিত ও কখনো কখনো বিভ্রান্ত আচরণ করেছেন, যা তার মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিভিন্ন বৈঠকে ট্রাম্পকে ঘুমিয়ে পড়তে দেখা গেছে। আবার অনেক সময় তিনি আলোচনার বিষয় ছেড়ে হঠাৎই অদ্ভুত প্রসঙ্গে ঢুকে পড়েছেন—কখনো অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, কখনো তিমি ও পাখির গল্প। তার প্রকাশ্য উপস্থিতিগুলোতে মনোযোগের ঘাটতি দেখা গেছে।
ভাষণে তিনি কখনো বারাক ওবামার সিঁড়ি দিয়ে নামার ভঙ্গি নিয়ে কথা বলেছেন, আবার কখনো ইউনাবোম্বারকে ঘিরে মনগড়া গল্প শুনিয়েছেন।

এই অনিশ্চিত আচরণের কারণে হোয়াইট হাউসকে বারবার ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা নিয়ে সাফাই দিতে হয়েছে, অনেক সময় অতিরঞ্জিত ভাষায়। ট্রাম্প নিজে গর্ব করে বলেছেন, তিনি এমন এক পরীক্ষায় ‘দারুণভাবে পাশ’ করেছেন, যা ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ যাচাই করে। কিন্তু অফিসে থাকার ১১ মাসে তার অস্বাভাবিক আচরণের উদাহরণ জমতে জমতে পাহাড় হয়েছে।

এর মধ্যে জুলাইয়ের মাঝামাঝি একটি ঘটনা ছিল উল্লেখযোগ্য। তখন ট্রাম্প বিস্তারিতভাবে বলেন, তার প্রয়াত কাকা অধ্যাপক জন ট্রাম্প নাকি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে টেড কাজিনস্কিকে পড়িয়েছিলেন—যিনি ইউনাবোম্বার নামে পরিচিত।

ট্রাম্প বলেন, “আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘কেমন ছাত্র ছিল সে, আঙ্কেল জন?’ তিনি বললেন, ‘খুব ভালো।’ তিনি নাকি সবার ভুল ঠিক করত।’ এরপর ট্রাম্প যোগ করেন, ‘কিন্তু তার জন্য শেষ পর্যন্ত ভালো হয়নি।
’”

সমস্যা হলো, এই গল্প সত্য হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রথমত, ট্রাম্পের কাকা মারা যান ১৯৮৫ সালে, আর কাজিনস্কিকে ইউনাবোম্বার হিসেবে শনাক্ত করা হয় ১৯৯৬ সালে। দ্বিতীয়ত, কাজিনস্কি এমআইটিতে পড়াশোনাই করেননি।

ওই মাসের শেষদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের সঙ্গে বৈঠকে অভিবাসন নিয়ে কথা বলতে বলতে হঠাৎই ট্রাম্প ‘উইন্ডমিল’ নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন। কোনো উসকানি ছাড়াই টানা দুই মিনিট তিনি দাবি করেন, এগুলো নাকি তিমিকে ‘পাগল’ করে দেয় এবং বায়ুশক্তি ‘পাখি মেরে ফেলে’—যদিও বাস্তবে টারবাইনে পাখির মৃত্যুর হার গৃহপালিত বিড়াল বা বিদ্যুৎ লাইনে ধাক্কা খেয়ে মরার তুলনায় নগণ্য।

সেপ্টেম্বরে আরেকটি ঘটনায় ট্রাম্পের মানসিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি ভার্জিনিয়ায় দেশের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের ডেকে এনে নিজের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘আমেরিকাকে আবার সম্মান করা হচ্ছে। বাইডেনের সময় তা ছিল না। ওরা তাকে প্রতিদিন সিঁড়ি থেকে পড়ে যেতে দেখত।’

এরপর ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, এটা আমাদের প্রেসিডেন্ট হতে পারে না। আমি খুব সাবধানে সিঁড়ি দিয়ে নামি। রেকর্ড গড়ার দরকার নেই, শুধু পড়ে যেও না। কয়েকজন প্রেসিডেন্ট পড়ে গেছেন, আর সেটাই তাদের উত্তরাধিকার হয়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ওবামার সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নামার ভঙ্গি দেখে তার ‘শূন্য সম্মান’ ছিল, যদিও তিনি স্বীকার করেন, ওবামা সেটা ভালোভাবেই করতেন।

হোয়াইট হাউস বারবার ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন নাকচ করেছে। এ বছরের শুরুতে এক মুখপাত্র বলেন, তার ‘মানসিক তীক্ষ্ণতা অতুলনীয়’। আর ট্রাম্পের সাবেক চিকিৎসক ও বর্তমানে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান রনি জ্যাকসন দাবি করেন, তিনি ‘এই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সুস্থ প্রেসিডেন্ট’।

তবু ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা থামার লক্ষণ নেই। ডেইলি বিস্ট জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার মানসিক সক্ষমতা ও সুস্থতাকে বড় ইস্যু করতে চায়।

তাদের হাতে যথেষ্ট উপকরণ আছে। নভেম্বরে ট্রাম্প জানান, তিনি এমআরআই করিয়েছেন, কিন্তু কোন অঙ্গের তা মনে করতে পারেননি। ওই মাসেই ওভাল অফিসের এক বৈঠকে তাকে ঘুমিয়ে পড়তে দেখা যায়—ডিসেম্বরে ক্যাবিনেট বৈঠক ও গাঁজা সংস্কার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনেও একই ঘটনা ঘটে।

এর আগে, শান্তিচুক্তি প্রসঙ্গে তিনি আলবেনিয়ার সঙ্গে আর্মেনিয়াকে গুলিয়ে ফেলেন। অটিজম নিয়ে এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘কিছু প্রতিভার উপাদান শিশুর মধ্যে দেওয়া হতে পারে’। ১৩টি গবেষণা অনুদান ঘোষণার সময় তিনি বলেন, ‘কিছু খারাপ হতে পারে না, শুধু ভালোই হতে পারে।’

এই বিভ্রান্তির মধ্যেই ট্রাম্প কখনো কখনো লাগামহীন আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। শুধু ডিসেম্বরে তিনি সোমালি অভিবাসীদের ‘আবর্জনা’ বলেন এবং এমনকি রব রেইনারকে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করার মতো মন্তব্য করেন, যা অনেক রিপাবলিকানকেও চমকে দেয়।

এসবের মাঝেও ট্রাম্প তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত সময়সূচি বজায় রেখেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের হিসাবে, তার নির্ধারিত কর্মসূচি সাধারণত দুপুরের দিকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৫টার মধ্যে শেষ হয়—প্রথম মেয়াদের তুলনায় ছোট কর্মদিবস। তার আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি কমেছে ৩৯ শতাংশ।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসকে দেওয়া দৈনিক সূচিতে প্রেসিডেন্টের সব বৈঠক অন্তর্ভুক্ত থাকে না।

হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেস সচিব লিজ হাস্টন ইমেইলে বলেন, ‘দ্য গার্ডিয়ান একটি বামপন্থী মুখপত্র, এমন আবর্জনা প্রকাশ করে তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক ড. শন বারবাবেলা বারবার পরিষ্কার করেছেন—এবং আমেরিকান জনগণ নিজের চোখেই দেখছে—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পূর্ণ সুস্থ।’

তিনি আরো বলেন, ট্রাম্পের ‘অদম্য কর্মস্পৃহা ও শক্তি’ আগের চার বছরে গণমাধ্যম যে ভাবে জো বাইডেনের মানসিক ও শারীরিক অবনতি আড়াল করেছিল, তার সম্পূর্ণ বিপরীত।

নভেম্বরে পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে দেখা যায়, ৫৬ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক জাতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ওপর আস্থা রাখেন—যা মার্চ ২০২৫-এর তুলনায় ১১ পয়েন্ট কম এবং ২০১৬ সালের তুলনায় ২০ পয়েন্ট কম।

একই মাসে গ্যালাপের জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন ৩৬ শতাংশ—দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন। এর আগে ইউগভ দেখায়, অর্ধেক আমেরিকান মনে করেন ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য অতিরিক্ত বয়সী।

সারা বছর ধরেই হোয়াইট হাউস জোরালোভাবে ট্রাম্পকে রক্ষায় নেমেছে। তবে জুনে ৮০ বছরে পা দিতে যাওয়া ট্রাম্পকে ঘিরে প্রশ্ন যে সহজে থামবে না, সেটাই এখন স্পষ্ট।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

জুলাই অভ্যুত্থান : ২০ জানুয়ারি চানখাঁরপুল মামলায় রায়

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট আসামির বিচারকাজ শেষ হয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যদিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বিতীয় কোনো মামলার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর আজ বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের এই দিন ধার‌্য করেন।
ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এই মামলায় আট আসামির মধ্যে চার জন পলাতক। হাবিবুর রহমান ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল পলাতক। আর গ্রেপ্তার থাকা চার আসামি হলেন শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন, সাবেক কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
গতকাল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এ মামলার আসামি ইমাজ হোসেনের আইনজীবী মো. জিয়াউর রশিদ এবং পলাতক চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী কুতুব উদ্দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। পরে পাল্টা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে দাবি করে চূড়ান্ত যুক্তিতর্কে সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন।
আর অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশন ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে আসামিদের বেকসুর খালাস চেয়েছে আসামিপক্ষ।

গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিন রাজধানীর চানখারপুলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ৬ আন্দোলনকারী। তাঁরা হলেন- শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া।

এই ঘটনায় অভিযোগ দাখিলের পর ৬ মাস ১৩ দিনে তদন্ত শেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গত ২০ এপ্রিল চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় সংস্থাটি।
এটিই ছিল জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন। পরে গত ২৫ মে এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। এ মামলায় ৭৯ জনকে সাক্ষী করেছে প্রসিকিউশন। পরে গত ১৪ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এরপর ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটরের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্যদিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হয়। ওই দিন শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। ২৩ কার্যদিবসে ২৬ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষী দিয়েছেন দুইজন। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। আসামিপক্ষ শুরু করে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে। গতকাল উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায়ের তারিখ ধার‌্য করে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘটনাস্থল হতে আলামত হিসেবে জব্দ করা ফায়ার কার্তুজ ও ফায়ার বুলেট সদৃশ বস্তুর ব্যালিস্টিক পরীক্ষা করে বিস্তারিত মতামত প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

আজ বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদ এ আদেশ দেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার ভিকটিম শরিফ ওসমান হাদি ওরফে ওসমান গণি (৩৩) গত ১২ ডিসেম্বর বেলা দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন থানাধীন বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোড সংলগ্ন ডিআর টাওয়ারের সামনে দুষ্কৃতিকারীদের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে গত ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নিয়ে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃতদেহ বাংলাদেশ বিমান যোগে দেশে এনে ২০ ডিসেম্বর সকালে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।

উক্ত মমলায় ঘটনাস্থল হতে ফায়ার কার্তুজ ও ফায়ার বুলেট সদৃশ বস্তু আলামত জব্দ করা হয়। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আলামতসমূহ ব্যালিস্টিক পরীক্ষা করে বিস্তারিত মতামত প্রদান করার জন্য সিআইডির ব্যালিস্টিক শাখার বিশেষ পুলিশ সুপারকে নির্দেশ প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদির ওপর দুষ্কৃতিকারীরা গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এরপর গত ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজের পর প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডের পাকা রাস্তার ওপর শরিফ ওসমান হাদির পেছন থেকে অনুসরণ করে আসা মোটরসাইকেলে থাকা আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদ ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামি ওসমান হাদিকে চলন্ত অবস্থায় হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়।

আহত শরিফ ওসমান হাদিকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর নিয়ে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মারা যান।

মাঠে কয়েক হাজার পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদারকিতে ডিএমপি সদরদপ্তর

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসভবন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদরদপ্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করা হবে, মাঠ পর্যায়ে মোতায়েন থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) ও পুলিশ সমন্বিতভাবে তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বাসা, অফিস এলাকা ও চলাচল পথ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে তারেক রহমানের জন্য। নিরাপত্তায় বিন্দুমাত্র ঘাটতিও যেন না হয় তার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে প্রশাসন। বিশেষ করে তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে যেসব রাস্তায় ঝুঁকি রয়েছে বা রাজধানীর যেসব এলাকায় ঝুঁকি রয়েছে সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়া তারেক রহমানের চলাচলের পথের নিরাপত্তাও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এ কার্যক্রম ডিএমপি সদরদপ্তর থেকেই তদারকি করা হবে।

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ের একাধিক বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকের একটিতে নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্র‌ উপদেষ্টা নিজেই। এতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) থেকে শুরু করে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন। উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার ঝুঁকিগুলো বিবেচনা করা হয়। সে অনুযায়ী পরবর্তীতে কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তার ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছেও এ সংক্রান্ত নির্দেশ এসেছে।

জানা গেছে, বিশেষ ব্যক্তি হিসেবে তারেক রহমানের নিরাপত্তায় ডিএমপি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে সার্বিক নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে থাকছে বিএনপি চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)। তারা পুলিশ ও বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) মধ্যরাত থেকে পুলিশের পাহারা শুরু হওয়ার কথা। গোয়েন্দা পুলিশ, ‎সাদা পোশাকে ও পোশাকধারী পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তায় থাকবেন। ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরার দিনে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনশ ফিট হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল ও গুলশান অ্যাভিনিউর বাসভবন পর্যন্ত পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থার প্রায় কয়েক হাজার সদস্য মোতায়েন করা হবে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত প্রতিটি থানা এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা থাকবে। সঙ্গে থাকবে পুলিশের ‘স্পেশাল স্কট’। এ ছাড়া মোড়ে মোড়ে পুলিশি চেকপোস্ট রাখা হবে। বর্তমানে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় অন্তত ‎নয়টি চেকপোস্ট রয়েছে। এসব চেকপোস্টে ২৪ ঘণ্টায় দেড় শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তারেক রহমান দেশে ফেরায় গুলশান এলাকায় অন্তত তিনটি চেকপোস্ট বাড়তে পারে। তার বাসা ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন দেড় শতাধিক পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। বাসভবন থেকে কোথাও যাতায়াতে পুলিশি নিরাপত্তা চাইলে সেক্ষেত্রেও বাড়বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তখন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তিন শতাধিক সদস্য নিরাপত্তায় যুক্ত থাকবেন।

সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি কেন্দ্রীয়ভাবে ডিএমপির সদরদপ্তর থেকে তদারকি করা হবে এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। সে নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএমপির গুলশান ও উত্তরা বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবেন।

এ বিষয়ে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. শাহরিয়ার আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদরদপ্তর থেকে সরাসরি তদারকি করা হবে তারেক রহমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষ কোনো বিভাগ বা ডিভিশন এ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে না। ডিএমপির পক্ষ থেকে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে, সে হিসাবে তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’র দেয়াল ঘেঁষেই এ বাসা। গুলশান অ্যাভিনিউর বাসাটি তারেক রহমানের জন্য প্রায় প্রস্তুত। কোনো কারণে সেটি পুরোপুরি প্রস্তুত না হলে তিনি তার মা খালেদা জিয়ার ভাড়া বাসা ফিরোজায় উঠবেন। দেশে ফেরার পর গুলশানের ৮৬ নম্বর রোডে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকেই তিনি দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

ডিএমপির গুলশান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজা ও তারেক রহমানের বাসভবন পাশাপাশি হওয়ায় দুটি বাসা ও তার অফিসকে একই নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে। বিশেষ করে বাসা ও অফিসের মধ্যকার দূরত্ব ও চলাচলের পথকে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রওনক আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। পুলিশ সদরদপ্তর থেকেও একটা নিরাপত্তা নির্দেশিকা দেওয়া হবে। ‌ডিএমপি সদরদপ্তরের সেন্ট্রালি একটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে আসার পরিকল্পনা ছিল তারেক রহমানের। কিন্তু সেসময় নিরাপত্তাজনিত কারণে তার আর দেশে আসা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তখন কেবল তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনায় ছিলেন। সেই পরিকল্পনা তখন মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন শুরু হয়নি বলে বাতিল করতে হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচশ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকে। সেই সংখ্যা সামনে আরও বাড়তে পারে। এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কোনো কারণে তারেক রহমানের বাসা প্রস্তুত না হলে তিনি মায়ের বাসা ফিরোজায় উঠবেন। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়াও যদি সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন তাহলে বাসায় অবস্থানকালে এসএসএফের নিরাপত্তা পেতে পারেন তারেক রহমান। তখন তার নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে এসএসএফ, সিএসএফ ও পুলিশের সমন্বয়ে নিরাপত্তা কাঠামো আরও জোরদার হবে।

সম্প্রতি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি। তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে তার নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আগামী ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। দেশে ফেরার জন্য তিনি ইতোমধ্যে ট্রাভেল পাস পেয়েছেন। বিমানের টিকিটও কাটা হয়েছে। তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা হয়েছে।

তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্লেনের যাত্রী ছাড়া সহযাত্রীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগিব সামাদের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বার্তায় বিমানবন্দর জানায়, ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রী ব্যতীত সব ধরনের সহযাত্রী ও ভিজিটর প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও অপারেশনাল শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বিশেষ অপারেশনাল ও নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে শুধু বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের বিমানবন্দর এলাকায় প্রবেশের অনুমতি থাকবে।

১০ বছর পর আর্জেন্টিনার বর্ষসেরা ফুটবলার ডি মারিয়া

৩৭ বছর বয়সেও নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা আনহেল ডি মারিয়া। এক দশক পর তিনি আবারও নির্বাচিত হয়েছেন আর্জেন্টিনার বর্ষসেরা ফুটবলার হিসেবে।

সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার ক্রীড়া সাংবাদিকদের ভোটে ২০২৫ সালের সেরা ফুটবলারের মুকুট জেতেন ডি মারিয়া। এই লড়াইয়ে তিনি পেছনে ফেলেন লাউতারো মার্তিনেস ও লেয়ান্দ্রো পারদেসকে।

ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় স্বীকৃতি। এর আগে ২০১৪ সালে প্রথমবার এই ট্রফি হাতে তুলেছিলেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

গতবার এই পুরস্কার জিতেছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। তবে রেকর্ডটা এখনও লিওনেল মেসির দখলে। টানা সাতবারসহ রেকর্ড ১৬ বার এই খেতাব জিতেছেন তিনি।

চলতি বছরে শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালের হয়ে ১৬ ম্যাচে ৭ গোল করে শিরোপা জেতান ডি মারিয়া।

মার্কিন অবরোধ সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন পাস ভেনেজুয়েলায়

মার্কিন অবরোধ সমর্থনকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির আইন পাস করেছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির জাতীয় পরিষদে এই আইন পাস করা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ সমর্থন বা অর্থায়নে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের ব্যবস্থা রয়েছে।

মঙ্গলবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার আইনটি পাস হয়। এর ঠিক আগেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার এসব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি ‘সমুদ্রদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে।

আইনটি জাতীয় পরিষদে উপস্থাপন করার সময় আইনপ্রণেতা জিউসেপ্পে আলেসান্দ্রেল্লো বলেন, ‘এই আইন জাতীয় অর্থনীতি রক্ষা এবং জনগণের জীবনমানের অবনতি ঠেকানোর জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় পরিষদ বর্তমানে মাদুরোর শাসক দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

ভেনেজুয়েলা অভিযোগ করেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে আগ্রাসী নীতি আরও জোরদার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে লাতিন আমেরিকায় বড় আকারের সামরিক উপস্থিতি, তেলবাহী জাহাজ জব্দ, মাদক পাচারের অভিযোগে নৌকায় হামলা এবং ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযান চালানোর হুমকি। এসব কর্মকাণ্ডের বৈধতা আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত বলে উল্লেখ করেছে কারাকাস।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত সামুয়েল মোনকাদা বলেন, ‘আমরা এমন এক শক্তির মুখোমুখি, যারা আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করছে এবং ভেনেজুয়েলাবাসীকে দেশ ছেড়ে দিতে বাধ্য করতে চাইছে। হুমকি ভেনেজুয়েলা নয়, হুমকি হলো যুক্তরাষ্ট্র সরকার।’

চীন ও রাশিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি ‘ছক’ তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে অন্য লাতিন আমেরিকান দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হতে পারে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও চীনের পাশাপাশি কলম্বিয়াসহ কয়েকটি দেশ ভেনেজুয়েলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে আর্জেন্টিনা, পানামা ও চিলির মতো ডানপন্থি সরকারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে একমত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশেষ অভিযান পরিচালনার বিমান ও সেনা পরিবহনকারী উড়োজাহাজ মোতায়েন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দক্ষিণ আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের এটি সবচেয়ে বড় নৌবহর।

মাদুরো সরকারের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাত করে দেশটির বিশাল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, তেল বিক্রি মাদুরোর সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক ভরসা, এবং তিনি মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরেন।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলা সরকার অভ্যন্তরীণ বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী দল দাবি করছে, নির্বাচনে প্রকৃতপক্ষে তারাই বিজয়ী হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাদুরোর জয় খুব কম দেশই স্বীকৃতি দিয়েছে।

সূত্র: আল-জারিরা

ভোট দিতে প্রবাসী নিবন্ধন ৬ লাখ ৭২ হাজার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দেশ থেকে ভোট দেওয়ার জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন ৬ লাখ ৭২ হাজার ১২ জন প্রবাসী। এর মধ্যে ৬ লাখ ২১ হাজার ৮০০ জন পুরুষ এবং ৫০ হাজার ২১০ জন নারী। নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠিয়ে দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ইসির ওয়েবসাইট থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

এবারই প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। এ ক্ষেত্রে প্রবাসী, আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি, ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিতরা এ ব্যবস্থায় ভোট দিতে পারবেন। এ জন্য অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। গত ১৯ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন শুরু হয়েছে, চলবে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

যেসব দেশে নিবন্ধন চলছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, মিসর, মোজাম্বিক, লিবিয়া, মরিশাস, হংকং, ব্রাজিল, উগান্ডা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া, বতসোয়ানা, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, তানজানিয়া, সোমালিয়া, ঘানা, গিনি, মরক্কো, দক্ষিণ সুদান, চিলি, সিয়েরা লিওন, ইকুয়েডর, তাইওয়ান, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গাম্বিয়া, পেরু, জিম্বাবুয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ইত্যাদি।

ইসি জানিয়েছে, অ্যাপে নিবন্ধনকারীদের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভোটার ভোট দিয়ে ফিরতি খামে তা আবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন।

উল্লেখ্য, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি।
এ ক্ষেত্রে ৫০ লাখ প্রবাসী ভোট টানার টার্গেট নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে সংস্থাটি।

বিমান বিধ্বস্ত হয়ে লিবিয়ার সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত

বিমান বিধ্বস্ত হয়ে লিবিয়ার সেনাপ্রধানসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দবেইবা। তুরস্ক থেকে ফেরার পথে এক বিমান দুর্ঘটনায় তারা নিহত হন।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে টিআরটি ওয়াল্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী দবেইবা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তিনি অত্যন্ত বেদনাবিধুর মন নিয়ে এই দুঃসংবাদ পেয়েছেন। তিনি আল-হাদ্দাদ ও তার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আল-হাদ্দাদের সঙ্গে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্থলবাহিনীর চিফ অব স্টাফ, সামরিক শিল্প কর্তৃপক্ষের প্রধান, সেনাপ্রধানের একজন উপদেষ্টা এবং সামরিক মিডিয়া অফিসের একজন আলোকচিত্রী।

প্রধানমন্ত্রী জানান, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে ফেরার সময় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি এটিকে জাতি ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি উল্লেখ করে বলেন, লিবিয়া এমন সব মানুষকে হারাল যারা নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও জাতীয় দায়বদ্ধতার সঙ্গে দেশের সেবা করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবার, সামরিক সহকর্মী এবং সমগ্র লিবিয়ান জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এর আগে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানান, আঙ্কারা থেকে লিবিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করা একটি প্রাইভেট জেটের ধ্বংসাবশেষ আঙ্কারার হায়মানা জেলায় পাওয়া গেছে। ওই জেটে লিবিয়ার সেনাপ্রধান আল-হাদ্দাদ উপস্থিত ছিলেন।

ইয়েরলিকায়া জানান, আঙ্কারার এসেনবোবা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই জেটটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফ্যালকন-৫০ মডেলের এই বিজনেস জেটটি (স্থানীয় সময় রাত ৮টা ১০ মিনিটে ত্রিপোলির উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। রাত ৮টা ৫২ মিনিটে এটির সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়।

মন্ত্রী আরও জানান, আঙ্কারার দক্ষিণে হায়মানা জেলার কাছে বিমানটি জরুরি অবতরণের সংকেত পাঠিয়েছিল। তবে সেই প্রাথমিক সংকেতের পর আর কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বিমানে আল-হাদ্দাদসহ মোট পাঁচজন যাত্রী ছিলেন।

তুর্কি গণমাধ্যম এনটিভি জানিয়েছে, রাজধানীর আকাশসীমায় ওই প্রাইভেট জেটটির সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ হারিয়ে যায়। একই সঙ্গে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসেনবোবা বিমানবন্দর থেকে একাধিক ফ্লাইট অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

আজ দেশের উদ্দেশে লন্ডন ছাড়বেন তারেক রহমান

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে ফিরছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় লন্ডন ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকবেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।

তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাকে স্বাগত জানাতে ঢাকায় বড় পরিসরের গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।

বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রাজধানীর কুড়িল সংলগ্ন পূর্বাচল হাইওয়ে এক্সপ্রেস এলাকায় যাবেন তিনি। সেখানেই আয়োজিত হবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। বিএনপি নেতাদের প্রত্যাশা, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক এতে অংশ নেবেন।

দলীয় সূত্রের দাবি, উপস্থিতির দিক থেকে এই আয়োজন অতীতের অনেক রাজনৈতিক সমাবেশকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিও আশা করছে দলটি।

বিএনপি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। তার আগমনকে সামনে রেখে পূর্বাচল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঠে কাজ করছেন।

সংবর্ধনা আয়োজনের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতিও পাওয়া গেছে। মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে দলের শীর্ষ নেতারা একাধিকবার অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন।

উল্লেখ্য, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় ২০০৮ সালে কারামুক্ত হয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। যদিও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এর মধ্যে কয়েকবার দেশে এসেছেন, তবে তারেক রহমানের ফেরা এতদিন সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার তার দেশে প্রত্যাবর্তন বাস্তব হতে যাচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

২৯ ঘণ্টায় যত টাকা পেলেন তাসনিম জারা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত ঢাকা-৯ আসনের এমপি প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রমে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে।

মাত্র ২৯ ঘণ্টায় ৪৭ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছেন তিনি। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ায় নতুন করে অনুদান গ্রহণ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ তথ্য জানান।

সেখানে তিনি লেখেন, আমাদের ফান্ডরেইজিং লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪৭ লাখ টাকা আপনারা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় পূরণ করে ফেলেছেন। আপনাদের এই অভূতপূর্ব সাড়া পুরানো রাজনৈতিক ধারার মূলে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা আর কোনো অনুদান গ্রহণ করছি না।

এখন আসল লড়াই শুরু হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রার্থী এই নির্বাচনে ১০ থেকে ৫০ কোটি টাকা খরচ করবেন। অনেকে বলেন টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায়। কিন্তু তারা একটি বিষয় ভুলে গেছেন, আমাদের সাথে আছেন আপনারা, যারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিজের পকেটের পয়সাও খরচ করতে রাজি।

আগামীর পরিকল্পনা তুলে ধরে তাসনিম জারা লেখেন, হিসাব খুব পরিষ্কার। ঢাকা-৯ আসনে প্রায় ৫ লাখ ভোটার। একজন প্রার্থী হিসেবে আমি যদি দিনে ১২ ঘণ্টা হেঁটে হেঁটে প্রতিটি পরিবারের সাথে ৫ মিনিট করেও কথা বলি, তবে দিনে সর্বোচ্চ ১০০-১১০টি পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারবো। পুরো নির্বাচনি প্রচারণার সময়ে আমি বড়জোর ৪০০০ পরিবারের কাছে যেতে পারবো। কয়েক লাখ পরিবারের কাছে আমাদের মেসেজ পৌঁছাবে না।

আমরা টাকার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করতে এসেছি, তাই আমরা পেইড কর্মী নিয়োগ দেব না। নতুন রাজনীতি গড়ার এই লড়াইয়ে জিততে হলে, মানুষের কাছে আমাদের কথা পৌঁছাতে হলে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা অপরিহার্য।”

ফেসবুকে তিনি আরো লেখেন, আপনাদের অনেকেই হয়তো ঢাকা ৯ এর ভোটার নন, কিন্তু আপনাদের আত্মীয়, বন্ধু, সহকর্মী বা পরিচিত কেউ না কেউ এই এলাকায় থাকেন।

একজন পরিচিত মানুষের একটি কথা অনেক সময় পোস্টার, ব্যানার, বা টাকা খরচ করা প্রচারণার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হয়। আমি এই ক্যাম্পেইনে নিয়ম মেনে পোস্টার লাগাই নি। অন্য প্রার্থীরা লাগিয়েছেন। এই অসমতা কাটাতেও আপনার একটা ফোন কল সাহায্য করতে পারে।

এছাড়া, আপনাদের কাছে আমার আরও দুইটি সুনির্দিষ্ট আহ্বান আছে :

সপ্তাহে মাত্র ৪-৮ ঘণ্টা সময় দিন আমাদের হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার জন্য।

আপনার দুটি কথা একটি পেইড বিলবোর্ডের চেয়ে হাজার গুণ শক্তিশালী হবে। একা একা নয়, আপনি ট্রেনিং নিয়ে একটি টিমের সাথে এই কাজটি করবেন।

পোলিং এজেন্ট হিসেবে কিংবা নির্বাচনের দিন ভোটারদের সহায়তা করতে আমাদের টিমে যোগ দিন। এক্ষেত্রেও আপনি ট্রেনিং নিয়ে একটি গ্রুপের অংশ হয়ে কাজ করবেন। ভোটের দিন প্রতিটি বুথে আমাদের এমন সাহসী মানুষ প্রয়োজন যারা অন্যায়ের সামনে মাথা নত করবেন না।

আমরা এক সাথে প্রমাণ করবো জনগণের সম্মিলিত শক্তির সামনে কোটি কোটি কালো টাকা কতটা অসহায়।

শুরু থেকেই আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, এই ফান্ডের প্রতিটি পয়সার হিসাব হবে স্বচ্ছ। এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা নিচের পদক্ষেপগুলো মেনে চলছি:

১. আমরা কোনো ক্যাশ ডোনেশন গ্রহণ করছি না। প্রতিটি অনুদান একটি মাত্র বিকাশ ও একটি মাত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসছে, যার রেকর্ড সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এটি ভবিষ্যতে যাচাই করা যাবে।

২. কোন মাধ্যমে কত টাকা আসছে, তা আমরা আপনাদের নিয়মিত জানাচ্ছি। এই সমস্ত নথিপত্র আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেব, যাতে তারা পূর্ণ স্বচ্ছতা যাচাই করতে পারে।

৩. আমরা যে বিকাশ এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অনুদান নিচ্ছি, সেখানে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো লেনদেন করা হয় না। অ্যাকাউন্ট দুইটি নতুন। হিসাব শূন্য থেকে শুরু হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলোর ব্যালেন্সের ১০০ শতাংশ অর্থই আপনাদের অনুদান। এতে করে অন্য কোনো টাকা এখানে মিশে যাওয়ার বা হিসাব গোলমাল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

৪। সংগৃহীত অর্থ ঠিক কোন কোন খাতে কতটুকু ব্যয় করা হবে, তা স্পষ্ট করে আপনাদের সামনে তুলে ধরা হবে।