ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের কিছু কর্মীর কাণ্ডকীর্তি দেখে বিস্মিত হই। অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর আপনারা এভাবে হামলা করতে পারলেন? নিজেরাই তা ফলাও করে প্রচার করলেন, নিজেরাই অকাট্য সাক্ষী রাখলেন!
তিনি লেখেন, এখন যদি আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হবে। সেটা আপনাদের জন্য ভালো হবে? আপনাদের পরিবারের জন্য বিষয়টা ভালো হচ্ছে?
ভাই, কার জন্য করেন এসব? নতুন বেশে সজীব ওয়াজেদ জয়কে দেখে? আপনারা সত্যি বিশ্বাস করেন, তার বা তার মায়ের হৃদয় কাঁদে আপনাদের জন্য? সত্যি বিশ্বাস করেন, আপনাদের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন তারা?
সত্যি বিশ্বাস করেন, আপনাদের করুণ পরিণতি হলে কোনো সাহায্য করবেন তারা?
আসিফ নজরুল লেখেন, নিজেকে বিপন্ন করার ও দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা বাদ দেন। দলকে ভালোবাসলে আপনারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদেশে কাজ করেন। কেন বাংলাদেশের সব স্তরের মানুষ নিজের জীবন বিপন্ন করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, গোপনে হলেও তা বোঝার চেষ্টা করুন। দলের স্বার্থপর নেতাদের প্রশ্ন করেন।
সবচেয়ে আগে নিজেকে নিরাপদ রাখেন। দুই বছর আগে জেনেভায় আমার বিরুদ্ধে মব করার পর আমার সুযোগ ছিল ব্যবস্থা নেওয়ার। আমি নিইনি। কিন্তু এরপর আপনাদের কেউ কেউ আরও অনেক বেশি নোংরা ও বেপরোয়া হয়েছেন।
এর আগে বাংলাদেশ সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক ভিডিওবার্তায় বাঁধন তার ওপর হামলার অভিযোগ করেন।
এ অভিনেত্রী ভিডিওবার্তায় জানান, স্থানীয় এক পার্কে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা করেন। এ সময় তার গায়ে কোক ও ডিম ছোড়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। তার মোবাইল ফোনও ছুড়ে ফেলা হয়।
হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে হামলা চালায় বলেও অভিযোগ করেন বাঁধন। তার দাবি, তারা তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বলেন এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করেন। এ সময় তাকে গালাগালিও করা হয়।
ভিডিওবার্তায় বাঁধন আরও বলেন, আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত। আপনারা এভাবে নিজেদের ফেরাতে পারবেন না।




