ওবায়দুলের বিদেশ যাওয়ার অনুমতির বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করবে দুদক

SHARE

অপরাধ ডেস্ক: ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচার মামলার আসামি ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের সব পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ।

সেসব আদেশ গোপন করে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে তারা গত রবিবার নিম্ন আদালতে আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির ওই দিনই শুনানি নিয়ে তিন মাসের জন্য তাদের বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রিভিশন দায়েরের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম।

ঋণ জালিয়াতি, অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা ও একাধিক অনুসন্ধান চলমান থাকার প্রেক্ষাপটে ওবায়দুল করিম, তার স্ত্রী আরজুদা করিম ও ছেলে সালমান ওবায়দুল করিমের সব পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দিতে গত ৫ মার্চ নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন।

শুনানি শেষে গত ২০ মে ওই আবেদনটি খারিজ করেন এবং সব পাসপোর্ট জমা দেওয়ার আদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। কিন্তু থেমে থাকেননি ওবায়দুল করিম। দুদকের করা বিদেশ গমন নিষেধাজ্ঞা পিটিশনটি (৩১/২০২৫) ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন।

অথচ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের সব আদেশ গোপন রেখে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে গত রবিবার বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন ওবায়দুল করিম, তার স্ত্রী আরজুদা করিম ও তাদের ছেলে সালমান ওবায়দুল করিম। তারা এক বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির তিন মাসের জন্য বিদেশযাত্রার অনুমতি দেন। শুনানিতে ওবায়দুল করিমের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট দেলোয়ার জাহান রুমি।

এ ব্যাপারে মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের সব পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দিতে হাইকোর্টের এবং আপিল বিভাগের আদেশের বিষয়টি শুনানিতে উপস্থাপন করার পরও দুদকের বক্তব্য আমলে না নিয়ে ওবায়দুল করিমের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।’

নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ওবায়দুল করিমসহ পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন আদালত।

আবেদনে বলা হয়, ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গোপন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগসংশ্লিষ্টরা দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের বিদেশ গমন রহিত করা প্রয়োজন।

আবেদনটির শুনানি শেষে ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। পরে ওবায়দুল করিম অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বিদেশ যেতে চাইলে ওই বছরের ১৭ মার্চ তা মঞ্জুর করেন আদালত। মামলায় এবং তার আবেদনসহ সব ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করলেও আদালতের আদেশ পাওয়ার পর কালবিলম্ব না করে ডমিনিকান পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে যান।

এরপর তারা দেশে ফিরলেও দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিদেশযাত্রা বন্ধ হয়। তারা ফের বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে গত মার্চ মাসে হাইকোর্টে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ৫ মার্চ আবেদনটি নামঞ্জুর করে তাদের সব ধরনের পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এই আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিল বিভাগে আবেদন (ক্রিমিনাল পিটিশন নম্বর-১০৮৯/২০২৬) দায়ের করেন। এই আবেদনটি শুনানি চলমান থাকা অবস্থায় বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে গত ১৪ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আবেদন করেন ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী।

সেদিন শুনানি শেষে আবেদনটি খারিজ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ। এদিকে আপিল বিভাগের আবেদনটি (ক্রিমিনাল পিটিশন নম্বর- ১০৮৯/২০২৬) শুনানি শেষে গত ২০ মে খারিজ করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ।

ঋণের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০৭ কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে গত ৮ জানুয়ারি ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম, তার স্ত্রী আরজুদা করিম ও ছেলে সালমান ওবায়দুর করিমসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম মামলাটি করেন। মামলাটির তদন্ত চলছে।