বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর বেতন আবারও বাড়ছে

SHARE

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং জানিয়েছেন, দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের বেতন বাড়ানো হবে। এর ফলে বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার বার্ষিক বেতন আরও প্রায় ১০ লাখ ডলার বাড়ছে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন ২ দশমিক ২ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার হবে। মার্কিন ডলারে এর পরিমাণ প্রায় ১৭ লাখ থেকে বেড়ে ২৮ লাখ ডলার। সিঙ্গাপুর সরকার দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক নেতাদের উচ্চ বেতনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছে। সরকারের দাবি, প্রতিযোগিতামূলক বেতন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। তবে সাধারণ নাগরিকদের আয়ের তুলনায় মন্ত্রীদের বেতন অনেক বেশি হওয়ায় বিষয়টি দেশটিতে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। নতুন কাঠামোয় উপপ্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন ১ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার হবে। আর মন্ত্রীদের বেতন পদমর্যাদা ও দায়িত্বের গুরুত্ব অনুযায়ী ১ দশমিক ৮০ মিলিয়ন থেকে ২ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলারের মধ্যে নির্ধারণ করা হবে। তবে নিজের বেতন বৃদ্ধির পুরো অর্থই মেয়াদকালে উপযুক্ত জনকল্যাণমূলক কাজে দান করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন লরেন্স ওং। বেতন বাড়ানোর আগেও সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বেতন যুক্তরাষ্ট্রসহ জি-৭ জোটভুক্ত অনেক দেশের সরকারপ্রধানের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। লরেন্স ওং বলেন, রাজনৈতিক বেতন একটি কঠিন ও আবেগঘন বিষয়। তিনি আরও বলেন, এই অর্থের পরিমাণ অধিকাংশ নাগরিকের আয়ের চেয়ে বেশি হওয়ায় সিঙ্গাপুরের জনগণ বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনা করেন এবং এ নিয়ে তাদের অনেকেরই জোরালো মতামত রয়েছে। তবে তার মতে, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে আগামী কয়েক দশকে দেশকে এগিয়ে নিতে সিঙ্গাপুর প্রয়োজনীয় মানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারবে কি না, তার ওপর। ওং বলেন, আমাদের মূল কথা হলো, ভালো সরকার নির্ভর করে ভালো নেতৃত্বের ওপর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুরে গত ১৫ বছর ধরে মন্ত্রীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের কোনো সমন্বয় করা হয়নি। দেশটি নিয়মিতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় স্থান পায়। প্রধানমন্ত্রী জানান, বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে একটি স্বাধীন কমিটি। তবে বর্তমান দায়িত্বশীলদের ক্ষেত্রে নতুন বেতন কাঠামো তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে না। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে তাদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ পর্যন্ত এককালীন বেতন সমন্বয় করা হবে। পরবর্তী সময়ে বেতন পরিবর্তন নির্ধারণ করা হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে।