চাঁদে আঘাত হানতে পারে গ্রহাণু, পৃথিবীতে ভয়াবহ উল্কাবৃষ্টির আশঙ্কা

SHARE

সৌরজগত নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা জানিয়েছেন, নতুন শনাক্ত হওয়া একটি গ্রহাণুর ওপর কড়া নজর রাখছেন। এটি ২০৩২ সালের ডিসেম্বরে চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে পারে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষ থেকে ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর দিকে আসতে পারে এবং উপগ্রহগুলোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিজ্ঞানের জন্য একটি বিরল সুযোগও এনে দিতে পারে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ ওয়াইআর৪ নামের এই গ্রহাণুটির প্রস্থ আনুমানিক ৬০ মিটার। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর চাঁদে আঘাত হানার সম্ভাবনা প্রায় ৪ শতাংশ। সম্ভাবনা তুলনামূলক কম হলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, সংঘর্ষ ঘটলে এর শক্তি এতটাই বেশি হবে যে তা বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসবে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্রহাণুটির আঘাতে যে শক্তি মুক্ত হবে তা মাঝারি মাত্রার একটি তাপ-পরমাণু বিস্ফোরণের সমতুল্য হতে পারে। আধুনিক যুগে চাঁদে পর্যবেক্ষিত সংঘর্ষগুলোর মধ্যে এটি হবে সবচেয়ে শক্তিশালী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষ ঘটলে চাঁদের পৃষ্ঠে প্রায় এক কিলোমিটার চওড়া একটি গর্ত (ক্রেটার) তৈরি হতে পারে এবং প্রায় মাত্রা ৫-এর একটি বৈশ্বিক ‘মুনকোয়েক’ বা চাঁদকম্পন সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে চাঁদের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ ধরনের তথ্য সরাসরি গবেষণার মাধ্যমে জানা এখনো কঠিন।

এছাড়া সংঘর্ষের ফলে বিপুল ধ্বংসাবশেষ মহাশূন্যে ছিটকে পড়বে। এর কিছু অংশ কয়েক দিন পর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে, যার ফলে চোখে দেখা যায় এমন তীব্র উল্কাবৃষ্টি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আফ্রিকা ও আরব উপদ্বীপ অঞ্চলে এই দৃশ্য বেশি স্পষ্ট হতে পারে। সিমুলেশন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ সময়ে প্রতি ঘণ্টায় লাখ লাখ থেকে কোটি উল্কা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে গুরুতর ঝুঁকিও জড়িত। মহাকাশ থেকে পতিত ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীতে ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে। পাশাপাশি মহাকাশ সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, এসব টুকরো উপগ্রহগুলোর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে এবং ‘কেসলার সিনড্রোম’ নামে পরিচিত শৃঙ্খলাবদ্ধ সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা বৈশ্বিক যোগাযোগ ও নেভিগেশন ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে।