স্বৈরাচার বিতাড়নে উত্তরাবাসীর ভূমিকা ইতিহাসে লেখা থাকবে : তারেক রহমান

SHARE

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিগত আমলের স্বৈরাচার বিতাড়নে উত্তরাবাসীর ভূমিকা ইতিহাসে লেখা থাকবে।

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ সফল করতে উত্তরার মানুষের বড় ভূমিকা ছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তরাবাসীর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’

মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উত্তরার আজমপুর ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। এর আগে তিনি গাজীপুর ও ময়মনসিংহে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।

বক্তব্যের শুরুতে মঞ্চের পাশে উপস্থিত গুম ও খুনে স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই মানুষগুলো কেন স্বজনহারা হয়েছেন- তার সাক্ষী এখানে উপস্থিত সবাই।’

তিনি বলেন, গত ১৬-১৭ বছর রাজনৈতিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে তারা আপনজন হারিয়েছেন।
অনেক রক্ত ও চোখের পানির ত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। এ পরিবর্তনের ধারাকে টিকিয়ে রাখতে হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা, কথা বলার স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং ভোটাধিকারকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে আবারও কোনো স্বৈরাচার এসে মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করে, যা মানুষের উপকারে আসে না। ঠান্ডা মাথায় বসে ভাবতে হবে- কীভাবে মানুষের সমস্যার সমাধান করা যায়।’

মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের চিকিৎসাসেবার কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, ধানের শীষ বিজয়ী হলে উত্তরায় একটি সরকারি হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এছাড়াও সেখানকার জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে সবার আগে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করা হবে।

পানিসংকটের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়া এবং উজানে বাঁধ নির্মাণের কারণে নদীর প্রবাহ কমে যাওয়াই পানিকষ্টের বড় কারণ। এ সমস্যা সমাধানে বিএনপি ‘খাল খনন কর্মসূচি’ গ্রহণ করেছে, যার লক্ষ্য সারা দেশের পানি সমস্যার সমাধান করা।

এ সময় দেশের কর্মসংস্থানহীন লাখ লাখ তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে জানান তারেক রহমান।

সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গত ১৬-১৭ বছরে আমরা শুধু গল্প শুনেছি, সমাধান পাইনি।’

তিনি বলেন, গণতন্ত্র সুসংহত করতে পারলে দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। এ জন্য জনগণকে গণতন্ত্রের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।

এর আগে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিতে বেলা ১১টায় ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে রওনা হন তারেক রহমান। সমাবেশ শেষে তিনি গাজীপুরে যান। রাত ১২টায় সেখানে সমাবেশ শেষ করে ঢাকায় ফেরেন। এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও ছিলেন।