বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

গোয়াইনঘাটে ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন উদ্বোধন করলেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি।
আজ শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের হাকুর বাজার উচ্চবিদ্যালয়ের ৪ তলা বিশিষ্ট নবনির্মিত একাডেমিক ভবন, গোয়াইনঘাট ইমরান আহমদ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের নবনির্মিত একাডেমিক ভবন এবং রুস্তুমপুর ইউনিয়নের গোরাগাম উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, দেশে বর্তমান সরকারের আমলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও যোগ্য নেতৃত্বে দেশে সর্বোচ্চ উন্নয়ন হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগ সরকারের কোন বিকল্প নেই। তাই আগামী নির্বাচনে আবারও শেখ হাসিনার সরকারকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।
সিলেট জেলা পরিষদ সদস্য ও হাকুর বাজার উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুবাস দাসের সভাপতিত্বে ও গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছালেহ আহমদের যৌথ পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, হাকুর বাজার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক আহমদ, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম নজরুল ইসলাম, গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আছলাম, গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও লেঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, গোয়াইনঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক, ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন, পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন পারভেজ, গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ফারুক আহমদ, যুগ্ম আহবায়ক শাহাব উদ্দিন, গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুফিয়ান আহমদ প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন : ডেপুটি স্পিকার

পাবনার বেড়া উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সিঅ্যান্ডবি (কাঁচাবাজার) মার্কেটের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন ডেপুটি স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. শামসুল হক টুকু এমপি।
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে সিঅ্যান্ডবি কাঁচা বাজারে এ উপলক্ষে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডেপুটি স্পিকার অ্যাড. শামসুল হক টুকু তিনি বলেন, এ এলাকার ব্যবসার মান উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। তাই বেড়া-সাঁথিয়ার মানুষ আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নৌকা প্রতীকে আবারও ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়ে তাঁর এ ঋণ শোধ করবে বলে আমি মনে করি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার, বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোরশেদুল ইসলাম, বেড়া পৌর মেয়র ও উপজেলা আ. লীগের সভাপতি অ্যাড. আসিফ শামস রঞ্জন, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আবু সাঈদ প্রমূখ।

সিরিয়া-ইরান যৌথ অস্ত্রাগারে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ৯

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন বলেছেন, মার্কিন কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমান পূর্ব সিরিয়ায় ইরান-সংযুক্ত অস্ত্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় প্রতিপক্ষের ৯ জন নিহত হয়েছে।
বুধবার (৮ নভেম্বর) এই হামলা চালানো হয়। প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় অস্ত্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে আক্রমণ করেছে যা ইরানের সাথে সংযুক্ত ছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান এবং তাদের সমর্থকদের ইসরায়েল-হামস যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার প্রস্তাব দিলেও প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ করেছে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন বলেছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা ব্যবহৃত পূর্ব সিরিয়ার একটি স্থাপনায় মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি আত্মরক্ষামূলক হামলা চালায়।
তিনি আরও বলেন, এই আত্মরক্ষামূলক হামলা হল আইআরজিসি-কুদস ফোর্সের সহযোগীদের দ্বারা ইরাক এবং সিরিয়ায় মার্কিন কর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণের প্রতিক্রিয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সুরক্ষার জন্য আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
খবর এনডিটিভি

১৩ দিনে রাজধানীতে ৬৪ গাড়িতে আগুন : ডিএমপি

গত ২৮ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানীতে ৬৪টি বাসে আগুন, ভাঙচুর ও নাশকতা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খ. মহিদ উদ্দিন।
আজ শুক্রবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ‘নাশকতার উদ্দেশ্যে বাসে আগুন দেওয়ার সময় ২ জন ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৩ জন গ্রেপ্তার এবং অগ্নি-সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দেওয়ায় পুরস্কার সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, গত ২৮ অক্টোবর থেকে তিন দফা অবরোধ ও একদিন হরতাল পালিত হয়েছে। এ কর্মসূচিতে জনগণের স্বাভাবিক জনজীবনে বিঘ্নিত করা হয়েছে। ২৮ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও নাশকতা করা হয়েছে। যাত্রীবেশে গাড়িতে উঠে আগুন দিয়ে নেমে যায় নাশকতাকারীরা। এ ঘটনায় একজন বাসের হেলপার নিহত হয়েছেন ও অনেক মানুষ আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, হাতেনাতে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করার জন্য তারা অবরোধের আগের দিন বা অবরোধের দিন আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, একদিনের হরতাল ও তিন দফা অবরোধের কারণে মহানগরবাসীর জীবনযাত্রা ব্যহত হয়েছে। যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে ডিএমপি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এসব কর্মসূচির নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। সেই কাজটি আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা করছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে আমরা দেখেছি রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রকাশিত ও অগ্রহণযোগ্য ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় দুষ্কৃতকারীরা ঢাকা মহানগর এলাকায় ৬৪টি বাসে আগুন দিয়েছে। দাহ্য পদার্থ ব্যহার করে দুষ্কৃতিকারীরা বাসে আগুন দিয়েছে। এতে করে দ্রুত বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৩১ অক্টোবর রাতে একজন হেলপারকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। রাজধানীর ১২টি স্থানে আগুন দেওয়ার সময় ১২ জন দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মহিদ উদ্দিন বলেন, আমরা সবাইকে একটি অনুরোধ করতে চাই, রাজনৈতিক কর্মসূচি হলে ডিএমপি তার জায়গা থেকে যা যা করার তা করবে। কেউ যদি নাশকতা ও অগ্নিসংযোগ করে তাহলে ডিএমপি আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। আমরা আশা করব সামনে রাজনৈতিক কর্মসূচি আসলে সেটা যেন ধ্বংসাত্মক না হয়। যারা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করে তারা যেন এসব না করে তাদের বলতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, এসব দুষ্কৃতিকারীদের বিভিন্ন জায়গা থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাদের দেওয়ার পর তারা নির্বিচারে এসব নাশকতার কাজ করে। আমরা এরই মধ্যে জেনেছি আগামী ১২ ও ১৩ নভেম্বর অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। আমরা সবাইকে ডিএমপির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানাব, কেউ যেন রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে গণধ্বংসাত্মক কার্যক্রম না করে।
গ্রেপ্তার ১২ জনের রাজনৈতিক পরিচয় কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে ১২ জনকে আমরা গ্রেফপ্তার করেছি তারা প্রত্যেকেই অবরোধ কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এমন দেখা গেছে, একজন আরেকজনকে নিয়োগ করেছে আবার আরেকজন অন্যজনকে নিয়োগ করেছে। তারা বিভিন্নভাবে অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে মানুষ জনকে ভীত করার জন্য এবং মানুষ যেন ভয়ে রাস্তায় না নামতে পারে সেই লক্ষ্যে তারা অবরোধের আগের দিন ও অবরোধের দিন নাশকতা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ড. খ. মহিদ আরও বলেন, জনগণ এখন সচেতন। তারাও নাশকতা ঠেকাতে সোচ্চার। এরই মধ্যে নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য একজনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বাকি আরও কয়েকজন আছে। তাদের বিষয়ে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের জনগণই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে : ভারত

আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং দেশটির জনগণই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে বলে মনে করে প্রতিবেশী ভারত। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি।
ব্রিফিংয়ে কল্লোল নামে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ২৮ অক্টোবরের সমাবেশের পর বাংলাদেশে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউন (দমন-পীড়ন) শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিরোধী দল বিএনপির মহাসচিবসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। বিরোধী দলটির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য তার দিল্লি সফরকালে আমাদের এমনও বলেছেন, ভারত এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে যেন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তা নিয়ে একটি বিবৃতিও দেয়নি। এতে তারা হতাশ। তাই আপনার কাছে জানতে চাই, বাংলাদেশে সরকারবিরোধী নেতাদের কারাগারে রাখার বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী?
জবাবে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, উত্তর দেওয়ার আগে আমি এটা পরিষ্কার করে দিতে চাই, পরিস্থিতি বর্ণনা করতে আপনি যে শব্দগুলো প্রয়োগ করেছেন, তার কোনোটাই আমার ভাষা নয়। যেমন ধরুন, ক্র্যাকডাউন বা বিরোধী নেতাদের জেলে দেওয়া ইত্যাদি। এগুলো আপনার ব্যাখ্যা ও শব্দচয়ন, দয়া করে আমার মুখে এগুলো বসাবেন না।
অরিন্দম বাগচি আরও বলেন, আমরা তৃতীয় কোনো দেশের নীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। বাংলাদেশের নির্বাচন, যা আমি আগেও বলেছি, এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। খুব ভালো বন্ধু ও অংশীদার হওয়ায় আমরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করি। আমরা বাংলাদেশের একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল জাতির স্বপ্নকে সমর্থন করে যাব। আপনি যা যা বলেছেন, তার উত্তরে এটিই আমার জবাব।

যুদ্ধ চলতে থাকলে আরও ৫ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি দারিদ্র্যের মধ্যে পড়বে

গাজায় যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে গড়ালে ফিলিস্তিনে দারিদ্র্যের হার ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আরো ৫ লাখের বেশি লোক দারিদ্রও দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে। জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে এ কথা জানিয়েছে।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৮.৪ শতাংশ কমে যাবে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং পশ্চিম এশিয়ার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইএসসিডব্লিউএ) প্রাথমিক অনুমিত হিসাব অনুসারে এই ক্ষতির পরিমাণ ১৭০ কোটি মার্কিন ডলার।
দুটি সংস্থা ফিলিস্তিনের গাজা যুদ্ধের আর্থসামাজিক প্রভাব সম্পর্কে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, গাজা যুদ্ধের এক মাসে দারিদ্র্য ২০ শতাংশ বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪.২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
মূল্যায়নে আরও জোর দেয়া হয় যে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা অনুমান করে যে যুদ্ধের প্রথম মাসে ইতোমধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার লোক চাকরি হারিয়েছে।
অনুমান অনুসারে, যুদ্ধের তৃতীয় মাসে দারিদ্র্য প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, যাতে দারিদ্র্যের মধ্যে ঠেলে দেওয়া অতিরিক্ত লোকের সংখ্যা ৬ লাখ ৬০ হাজারের বেশি বৃদ্ধি পাবে। এতে মোট ২৫০ কোটি ডলারের ক্ষতির সাথে জিডিপি হ্রাস পাবে ১২.২ শতাংশ।
ইএসসিডব্লিউএ এর নির্বাহী সচিব রোলা দাশতি বলেছেন, বর্তমানে ১৮ লাখ ফিলিস্তিনি দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব এবং আরব দেশগুলোর জন্য ইউএনডিপির আঞ্চলিক ব্যুরো পরিচালক আবদুল্লাহ আল দারদারি বলেছেন, ৭ অক্টোবরের আগে গাজায় দারিদ্র্যের হার ছিল ৬১ শতাংশ। পশ্চিম তীরে দারিদ্র্যের হার ছিল ৩০ শতাংশ।
ইউএনডিপি প্রশাসক আচিম স্টেইনার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ‘গাজা উপত্যকায় অভূতপূর্ব জীবনহানি, মানুষের দুর্ভোগ এবং ধ্বংসলীলা অগ্রহণযোগ্য।’ এই মূল্যায়ন আমাদের সতর্ক করে যে, এই যুদ্ধের প্রভাবগুলোও দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং এটি গাজার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মানবিক বিপর্যয়ের উপরে আমরা দেখতে পাচ্ছি, একটি উন্নয়ন সংকটও রয়েছে। যুদ্ধ দ্রুত দারিদ্র্যকে ত্বরান্বিত করছে।’
ইএসসিডব্লিউএ এর নির্বাহী সচিব রোলা দাশতি এবং ইউএনডিপির আঞ্চলিক ব্যুরো পরিচালক আবদুল্লাহ আল দারদারি একসাথে প্রতিবেদনটি প্রকাশকালে জনসংখ্যার বৃহৎ আকারের বাস্তুচ্যুতি, ব্যাপক ধ্বংস এবং গাজা অবরোধের কারণে উপকরণসহ সম্পদের অনিশ্চিত সরবরাহ বিবেচনা করে রোলা দাশতি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির পরে গাজায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার খুব শিগগির হবে না।
তিনি আরও সতর্ক করেন যে, যুদ্ধের পরিণতি আরও গুরুতর হবে কারণ এই দারিদ্র্য বৃদ্ধি শুধুমাত্র উপার্জনের অভাবের জন্য হয়নি।
তিনি বলেন, ‘এটি শুধুমাত্র অর্থ-সরবরাহ কেন্দ্রিক দারিদ্র্য নয়। এটি বহুমাত্রিক দারিদ্র্য যা আরও গুরুত্বপূর্ণ।’
রোলা দাশতি বলেন, প্রায় সমস্ত গাজাবাসী (৯৬ শতাংশ) বর্তমানে বহুমাত্রিক দরিদ্র্যে পতিত।
তিনি বলেন, বহুমাত্রিক দারিদ্র্য মানে স্বাস্থ্য, উপযোগিতা, পরিবহন এবং চলাচলের স্বাধীনতাসহ জীবিকার জন্য প্রয়োজনীয়তার পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া।
তিনি বলেন, আজ যুদ্ধবিরতি হলেও বহুমাত্রিক দারিদ্র্য পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে না।
যুদ্ধের শুরু থেকে গাজার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং গাজায় ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংসের ফলে, মূল্যায়ন ভবিষ্যদ্বাণী করে যে, অর্থনৈতিক মন্দা ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে চ্যালেঞ্জিং এবং ধীর করে তুলবে।

‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ আমাদের দেশকে জানার ইতিহাস : প্রধানমন্ত্রী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ঘিরে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর এই ভাস্কর্যটি নিছক একটি ভাস্কর্য নয়। এটি দেশকে জানার একটি ইতিহাস।
আজ শুক্রবার সকালে নগরীর বিজয় স্মরণীতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার এই ভাস্কর্যটি নিছক একটি ভাস্কর্য নয়। এটি একটি ইতিহাস। এটি আমাদের দেশকে জানার ইতিহাস।’
শৈশবের স্মৃতিচারণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছোটবেলায় শিশুরা তোমরা বাবা মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাও, আমাদের সেই সৌভাগ্য হয়নি। বাবার সঙ্গে দেখা হতো কারাগারে। মাসে দুইবার জেলগেটে যেতে পারতাম। স্কুল থেকে জেলগেটে গিয়েছি, কলেজ থেকে জেলগেটে গিয়েছি। এই ছিল আমাদের জীবন।

তিনি বলেন, তবে আমাদের কোনো ক্ষোভ ছিল না, আমরা জানি আমাদের বাবা সংগ্রাম করছেন দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। স্বাধীনতার পর থেকে তিনি সে প্রচেষ্টাই চালিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতি যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছে। বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বে মর্যাদা পেয়েছি। এ বাংলাদেশ একসময় আজকের বাংলাদেশ ছিল না। এমনকি ১৫ বছর আগের বাংলাদেশেও এখনকার বাংলাদেশ নয়। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব, চিকিৎসাহীনতা, গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের ক্রন্দনে বাংলার আকাশ-বাতাস ভারী ছিল। এই বাঙালি জাতিকে আত্মসম্মানে মুক্তি দেওয়ার জন্যই জাতির পিতার সংগ্রাম। জাতির পিতা নিজের জীবনটা উৎসর্গ করেছিল এ দেশের মানুষের জন্য।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে প্রায় ১৫ বছর হয়ে গেল, এর মধ্যে বাংলাদেশকে একটা বদলে যাওয়া বাংলাদেশে রূপান্তর করতে পেরেছি। আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশে আমাদের ওয়াইফাই কানেকশন আছে। আমরা স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করেছি। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শিক্ষা দিচ্ছি। অনেক আধুনিক প্রযুক্তির স্থাপনা করে আজকের দেশে মানুষকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছি। আজকের শিশুরা হবে আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের সৈনিক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রেখেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের প্রত্যয় নিতে হবে, আজকের বাংলাদেশ যতদূর উন্নত-সমৃদ্ধ হয়েছে, আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি, এটা ধরে রেখে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। শিক্ষার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে শিশুরা দেশকে আরও উন্নত সমৃদ্ধ করা যাবে। আজকের শিশুরা আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক, যারা স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে এবং বাংলাদেশ পরিচালনা করবে। সেভাবেই তোমরা নিজেদের তৈরি করবে।
এ সময় শিক্ষা অর্জনে শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে, শিক্ষাই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত, কোনো কিছুই সম্পদ না। সম্পদ হচ্ছে একমাত্র শিক্ষা। শিক্ষা যে গ্রহণ করবে ভালো ভাবে, এটি কেড়েও নিতে পারবে না, ডাকাতিও করতে পারবে না। এটি নিজের কাছে থেকে যাবে। আর শিক্ষা থাকলে পরে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করা যাবে।
তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালে মায়ের ভাষা বাংলার ভাষার অধিকার যখন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র। তখন থেকে তিনি তার প্রতিবাদ করেন এবং আন্দোলন গড়ে তোলেন। সেখানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। মাতৃভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার সংগ্রাম শুরু হয়। সেই সংগ্রামের পথ বেয়েই কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা অর্জন।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলামসহ সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণির স্কুল শিক্ষার্থী।

এর আগে বিজয় সরণিতে জাতির পিতার ভাস্কর্য সম্বলিত মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এই মৃত্যুঞ্জয় প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘মৃত্যুঞ্জয়’ নামে একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, যা ২০২১ ও ২০২২ সালের বিজয় দিবসের প্যারেডে প্রদর্শিত হয়েছিল। এই চত্বরের কেন্দ্রস্থলে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে দেয়ালে ম্যুরালও স্থান পেয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্মিত এই চত্বরের সাতটি দেয়ালে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে অন্যান্য আন্দোলন ও বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতির পিতার নেতৃত্ব ও অবদান চিত্রিত করা হয়েছে।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ পরিদর্শন করেন এবং পরে সেখানে উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রী এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন।

সাকিবের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় বসছে বিসিবি

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার পর অবসরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও সুনিশ্চিত হতে চাইছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। টেস্ট এবং ওয়ানডে ফরম্যাটে সাকিবের ভবিষ্যৎ নিয়ে বোর্ড তাই শিগগিরই তার সঙ্গে আলোচনায় বসবে।
মি. অলরাউন্ডারকে ২০২৩-২৫ চক্রে টেস্টে নিয়মিত পাওয়া যাবে কিনা, সেটি পরিষ্কার নয়। ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে একটি সাক্ষাৎকারে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার পর অবসরের কথা জানালেও বোর্ডকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি ৩৬ বর্ষী ক্রিকেটার। বিষয়টি নিশ্চিত হতেই আলোচনায় বসতে চায় বিসিবি।
চলতি বিশ্বকাপে চোটে পড়ায় ভারতের বিপক্ষে খেলতে পারেননি সাকিব। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটিং করার সময় আঙুলের চোটে পড়েন। পরে জানা যায় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগেই তিনি দেশে ফেরেন। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও তিনি খেলতে পারবেন না।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত

গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

শুক্রবার (১০ নভেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের স্থল, নৌ ও আকাশ পথের হামলায় প্রতিনিয়তই ফিলিস্তিনের বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণ ঝরছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪৩ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া এই সময়ে গাজায় স্থল অভিযানে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।

এদিকে ফিলিস্তিনের গাজা সিটির ভেতরে হামাস ও ইসরায়েলি বাহিনীর তুমুল লড়াই চলছে। যে এলাকায় এ সংঘাত চলছে তার খুব কাছেই আল-কুদস হাসপাতাল অবস্থিত। গত ৭ অক্টোবর গাজায় বোমা হামলা শুরুর পর আল-কুদস হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আশ্রয় নেন হাজার হাজার মানুষ। বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা সিটিকে ঘিরে রেখেছে।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনের গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে দৈনিক চার ঘণ্টার যুদ্ধ বিরতিতে রাজি হয়েছে দখলদার ইসরায়েল।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন কিরবি বলেন, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি শুরুর তিন ঘণ্টা আগে এই বিষয়ে প্রত্যেক দিন ঘোষণা দেওয়া হবে। ইসরায়েলি সেনাদপ্তর থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, বিরতির সময় গাজার উত্তরাঞ্চলে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হবে না এবং এই প্রক্রিয়াটি ৯ নভেম্বর থেকেই শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন শনিবার, উদ্বোধন করবেন যেসব প্রকল্প

এরমধ্যে রেলসহ ১৫টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। উদ্বোধন হতে যাওয়া প্রকল্পগুলো হলো, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর চ্যানেল, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন, মাতারবাড়ির আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাঁকখালী নদীর ওপর নির্মিত সেতু, সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে কুতুবদিয়া দ্বীপকে জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তকরণ, উখিয়ার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প।

এছাড়া রামু উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, চকরিয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনালের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নকাজ, কুতুবদিয়া ঠান্ডা চৌকিদার পাড়া আরসিসি গার্ডার ব্রিজ, মহেশখালীর গোরকঘাটা-শাপলাপুরের জনতাবাজার সড়ক, বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমি ভরাট, বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প, ঈদগাঁও জাহানারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মহেশখালীর ইউনুছখালীর উচ্চ বিদ্যালয়, উখিয়ার রত্না ও মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন।

অন্যদিকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে যেসব প্রকল্পের তা হলো, মাতারবাড়ির গভীর সমুদ্রবন্দর চ্যানেলের ১ম টার্মিনাল, টেকনাফের মাল্টিপারপাস ডিজাস্টার রেসিডেন্ট শেল্টার কাম আইসোলেশন সেন্টার, রামুর জোয়ারিয়ানালার নন্দা খালী সড়কে আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে কাব স্কাউটিং সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণ প্রকল্প।

এসব প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি ট্রেনে চড়ে রামু পর্যন্ত রেললাইন পরিদর্শন, কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে সুধী সমাবেশ, ও মহেশখালীর মাতারবাড়িতে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।