বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনেও ‘এক পরিবারে এক প্রার্থী’ নীতি

ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনেও ‘এক পরিবারে এক প্রার্থী’ নীতি অবলম্বন করবে বিএনপি। এতে অনেক নতুন মুখের সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। যেসব পরিবারে ইতোমধ্যে এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন, তাদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান; গঠন করা হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভাও। এবার আলোচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নির্বাচন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন। দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তারা। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা নেত্রী থেকে শুরু করে তরুণ মুখ– অনেকেই আছেন এই তৎপরতায়।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে দলটি।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) প্রার্থীরা সাতটি আসন পেয়েছেন। ফলে স্বতন্ত্ররাও সম্মিলিতভাবে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন। আর তাদের যদি বিএনপিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে বিএনপির নারী আসন দাঁড়াবে ৩৭টির মতো।

গত বুধবার নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানান, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চায় ইসি। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, দলের নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে এক পরিবার এক প্রার্থী– এই নীতি মেনে চলা হবে। তারা জানান, এতে অনেক পরিচিত মুখ বাদ পড়তে পারেন। এই নীতি পুরোপুরি মানা হলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের স্ত্রী ও মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুন অর রশীদের স্ত্রী আসিফা আশরাফী পাপিয়া, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ছাড়াও অনেকে এ তালিকায় থাকবেন।

তবে বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের অবদান ও ত্যাগের কারণে শেষ পর্যন্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কাউকে কাউকে মনোনয়ন দিতেও পারেন বলে মনে করছেন নারীনেত্রীদের অনেকে। আবার অনেকে বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলের নারী সংগঠনের তুলনায় মহিলা দল নির্বাচনে নিষ্ক্রিয় ও পরিকল্পনাহীন ছিল। অথচ দেশের অর্ধেক ভোটার নারী। নির্বাচনে জামায়াতের মহিলা শাখা যেভাবে কাজ করেছে সে তুলনায় জাতীয়তাবাদী মহিলা দল তেমন আলোচনায় ছিল না। তাদের কোনো পরিকল্পনা বা কৌশল চোখে পড়েনি।

তবে দলের যেসব নারীনেত্রী বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের অনেককে উচ্চকক্ষে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। ফলে বিগত দিনের ত্যাগী আর যোগ্যদের মধ্য থেকেই এবারের সংরক্ষিত আসনে এমপি মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, শুধু সুপারিশ নয়, মাঠ পর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার ওপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, প্রাথমিকভাবে একটি বড় তালিকা প্রস্তুত করে তা থেকে পর্যায়ক্রমে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। পরে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় এবারের সংরক্ষিত আসনে যাদের নাম বেশি আলোচিত তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন। আবার আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁকে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার আলোচনাও আছে। তাঁর অনুসারীরা বলছেন, বিলকিস জাহান শিরিন বরিশাল-৫ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দলের সিদ্ধান্তে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এবার তাঁকে মূল্যায়ন করা না হলে মাঠের ত্যাগীরা নিরুৎসাহিত হবেন।

বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, ‘মোট আসন অনুযায়ী বরিশালে তিনটি অথবা দুটি দেওয়া হতে পারে। ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলাম। তাই এবার সাধারণ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা ছিল। সেটা না হওয়ায় এখন দলের মূল্যায়নের অপেক্ষায় আছি।’

এর বাইরে মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন ছাড়াও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীম উদ্‌দীন মওদুদ, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের সাবেক সদস্য সচিব নাসিমা আক্তার কেয়া, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত নাসির উদ্দিন পিন্টুর বোন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে চান এবং আলোচনায় আছেন।

এর বাইরে সাবেক ছাত্রদল নেত্রী শওকত আরা ঊর্মি ও শাহিনুর সাগর, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম এবং ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি ও ফুলবাড়ী উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ফাহসিনা হক লিরার নাম আলোচনায় আছে। লিরা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলেন, ‘দলকে ভালোবেসে আমার স্বামী নিহত হয়েছেন, আপন ভাইকে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে। নিজেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। দলের নেতারা যখন কারাগারে গেছেন বা আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন, তখন আমরাই রাজপথে ছিলাম। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মিছিলের শেষ কর্মীকেও তিনি মূল্যায়ন করবেন। এখন দলের সুদিনে ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশা করছি।’

বরিশাল-৩ আসনের সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন মঙ্গুর মেয়ে অধ্যাপক ডা. জাহানারা লাইজুও পদপ্রত্যাশী। তিনি বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক। লাইজু বলেন, ‘বরিশাল জাসাসের সদস্য হয়ে ৯০-এর গণআন্দোলনে কাজ করেছি। ড্যাবের হয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। বাবার মতো দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। দলের দুর্দিনে রাজপথে ছিলাম।’

পটুয়াখালী জেলা মহিলা দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আনোয়ারা খানও সংরক্ষিত আসনের এমপি হওয়ার দৌড়ে আছেন। তিনি পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সাবেক এমপি শাহজাহান খানের স্ত্রী। ২০২৩ সালে বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশে যাওয়ার পথে শাহজাহান খান আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সংরক্ষিত আসনে এমপি প্রত্যাশার কথা স্বীকার করে আনোয়ারা খান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সব কর্মসূচিতে তিনি রাজধানীতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার দিন প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।

পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এলিজা জামান সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে চান। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

সংরক্ষিত আসনের বাইরে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন ও কনকচাঁপাকে উচ্চকক্ষে দেখা যেতে পারে। তাদের মতো বিগত দিনে যেসব পেশাজীবী নারী আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়াও ফ্যাসিবাদী আন্দোলনে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছিলেন, তাদের এবারের মূল্যায়নের তালিকায় রাখা হবে।

এনসিপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আরাফাত নামের এক কর্মী আহত হয়েছেন শনিবার বিকালে এলাকার গুলশান রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত আরাফাতের অভিযোগ, এনসিপি নেতা আলিফ দেওয়ানের ইন্ধনে সিয়াম, বিপ্লব, নোমান, রাসেল ও সাব্বির তার ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, এটি পরিকল্পিত হামলা।

আরাফাত জানান, নির্বাচনের আগে তিনি শাপলা প্রতীকের এমপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনের কাছে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেন। তার দাবি, তিনি নিজ হাতে টাকা দেওয়ায় আলিফ দেওয়ান ক্ষুব্ধ ছিলেন। আলিফ চেয়েছিলেন অনুদানের টাকা তার মাধ্যমে দেওয়া হোক। সেই ক্ষোভ থেকেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলিফ দেওয়ান। তার ভাষ্য, নির্বাচনের পর আরাফাত পঞ্চবটি মোড়ে দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছিল এবং সে এনসিপির কেউ নয়। তিনি আরো দাবি করেন, শনিবার বিকালে আরাফাত ও তার লোকজন তাদের কর্মী বিপ্লবকে মারধরের উদ্দেশ্যে রোলিং মিলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গিয়ে বিপ্লবকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় স্থানীয় এনসিপি নেতা তরিকুল ইসলামের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে উপযুক্ত বিচার না পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন আহত কর্মী আরাফাত।

বেকারত্ব বাড়াচ্ছে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা -শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা কাক্সিক্ষত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারছে না, বরং বেকারত্ব বাড়াচ্ছে। শিক্ষা বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য নয়। তাই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের মাধ্যম হিসেবেই এর পুনর্গঠন জরুরি।

গতকাল শনিবার শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাকার মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির

বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যে শিক্ষাব্যবস্থা কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পারে না, তা থেকে বেরিয়ে এসে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। নতুন কলেজ, নতুন বিষয় বা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবি উঠলেও সেগুলো অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাজারের চাহিদা ও কর্মসংস্থানের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

শিক্ষাক্ষেত্রে নৈতিকতা ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, কেবল অর্থনৈতিক দুর্নীতি নয়, নৈতিক দুর্নীতিও দূর করতে হবে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারের অর্থ গ্রহণ করবে, অথচ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হবে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। ভাষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, চিন্তা ও অনুভূতির প্রধান বাহন। একুশের চেতনা কর্মজীবন ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিসহ অন্যান্য ভাষায় দক্ষতা অর্জনও অপরিহার্য। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংরক্ষিত মহিলা আসন: জামায়াতের প্রার্থী তালিকায় আমিরের স্ত্রীসহ শীর্ষ নেত্রীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয় পাওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে দলটি আনুমানিক ১১ থেকে ১২টি আসন পেতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে।

এসব আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রীসহ একাধিক শীর্ষ নেতার স্ত্রী এবং মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় নেত্রীদের নাম উঠে এসেছে।

দলীয় সূত্র বলছে, সংরক্ষিত আসনে অগ্রাধিকার পেতে পারেন আমিরের স্ত্রী আমেনা বেগম, যিনি অতীতে সংসদে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

এছাড়া নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী হাবিবা রহমান এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রীর নামও আলোচনায় রয়েছে।

সাংগঠনিক নেত্রীদের মধ্যে মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, কেন্দ্রীয় নেত্রী ফাতেমা আক্তার হ্যাপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন, সাবেকুন্নাহার এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মারদিয়া মমতাজের নাম শোনা যাচ্ছে।

জামায়াতের নীতিনির্ধারকদের মতে, যেসব এলাকা থেকে দলটির কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হননি, সেসব অঞ্চলের যোগ্য ও নেতৃত্বদানে সক্ষম নারী নেত্রীদের সংরক্ষিত আসনে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে।

মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা ইতিমধ্যে দলের আমিরের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি এটি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে উপস্থাপন করবেন এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, যোগ্য নারী নেত্রীদের পাশাপাশি ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

সংরক্ষিত আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার একটি প্রস্তাব রয়েছে। যদি আসন সংখ্যা ১০০ হয়, তবে জামায়াত ২৪টি আসন পেতে পারে।

সেক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচনের পরিকল্পনাটিও আরও বিস্তৃত হবে। বর্তমান কাঠামো বজায় থাকলে প্রাপ্ত ১১-১২টি আসনের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিক্ষকদের বদলি নিয়ে নতুন খবর জানাল মাউশি

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারভিত্তিক বদলি নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত ২৭ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের স্বাক্ষরে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় একটি নীতিমালার আওতায় স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

এ লক্ষ্যে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার’-এর মাধ্যমে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

এদিকে অনলাইনভিত্তিক বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। চলতি মাস থেকেই শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর একটি সূত্র জানায়, বদলি সফটওয়্যারের ডেমো গত সপ্তাহে চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও কিছু কারণে তা সম্ভব হয়নি। চলতি সপ্তাহে আবারও ডেমো প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করবে মাউশি।

মাউশির এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, সফটওয়্যারের ডেমো প্রদর্শনীর সভার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আগামীকাল রোববার সভার তারিখ নির্ধারণ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহেই সফটওয়্যারের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগে এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ)-এর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বদলির কোনো সুযোগ ছিল না।

তারা কেবল গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন করে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এ সুযোগ পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে এ সুযোগ বন্ধ করা হয়।

পরে বদলির দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বদলি নীতিমালা প্রণয়ন করে। তবে রিট মামলা, সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়া এবং নীতিমালা সংশোধনসহ বিভিন্ন জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে বদলি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ সংশোধিত নীতিমালা জারি হলেও সফটওয়্যার পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

অবশেষে বদলি সফটওয়্যারের ডেমো প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তা চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

রাজধানীতে চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে পালালো দুর্বৃত্তরা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কুতুবখালী চেকপোস্ট এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মো. শাহ আলম নামে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছেন। পরে সহকর্মীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। শাহ আলম যাত্রাবাড়ী থানায় কর্মরত। ‎ ‎আহত কনস্টেবল শাহ আলম জানান, ঘটনার সময় তিনি কুতুবখালী পকেট গেট এলাকায় চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসময় দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তি দুটি ব্যাগ নিয়ে সেখানে আসেন। তিনি ব্যাগ দুটি তল্লাশি করতে চাইলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। ‎ ‎বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক।

তিনি জানান, বিকেল ৫টার দিকে ঘাড়ে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় যাত্রাবাড়ী থেকে এক পুলিশ সদস্যকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। বর্তমানে অপারেশন থিয়েটারে তার চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

১৫ বছর পর ওসাসুনার কাছে হার, শীর্ষস্থান হারানোর শঙ্কায় রিয়াল

মাত্র এক সপ্তাহ আগে লা লিগার শীর্ষে উঠেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে শনিবার রাতটা তাদের জন্য হয়ে উঠেছে দুঃস্বপ্নের। ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ওসাসুনার কাছে হার মানতে হয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের।

ওসাসুনার মাঠে ২-১ গোলে হেরে গেছে রিয়াল। ২০১১ সালের পর এই প্রথম প্রতিপক্ষটির কাছে পরাজয় দেখল তারা। শেষ মুহূর্তে গোল হজম করায় শীর্ষস্থান এখন হুমকির মুখে লস ব্ল্যাঙ্কোসদের।

এই হারের পর রিয়ালের পয়েন্ট ৬০। তারা বার্সেলোনার চেয়ে দুই পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও কাতালানদের একটি ম্যাচ কম রয়েছে। রোববার লেভান্তের বিপক্ষে জিতলেই বার্সেলোনা উঠে যাবে শীর্ষে।

ম্যাচের ৩৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় ওসাসুনা। রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার চ্যালেঞ্জে আন্তে বুদিমির পড়ে গেলে প্রথমে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি দেওয়া হয় এবং স্পট কিক থেকে গোল করেন বুদিমির।

৭৩ মিনিটে ফেদেরিকো ভালভার্দের দারুণ ক্রস থেকে সমতা ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে যোগ করা সময়ে আক্রমণে উঠে গিয়ে খেসারত দেয় রিয়াল। দানি সেবাইয়োস বল হারালে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে রাউল মোরোর পাস থেকে রাউল গার্সিয়া জয়সূচক গোল করেন।

সেই গোলেই নিশ্চিত হয় রিয়ালের হতাশার রাত—দেড় দশক পর ওসাসুনার কাছে হার।

প্রথম দিনেই মুখ থুবড়ে পড়ল তাপসীর সিনেমা

শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘অ্যাসি’, যা পরিচালনা করেছেন অনুভব সিনহা এবং মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাপসী পান্নু। প্রথম দিনে বক্স অফিসে ছবিটি আশানুরূপ সাড়া পায়নি।

স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী প্রায় ১,৭০০টি স্ক্রিনে প্রদর্শিত হলেও প্রথম দিনে আয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ কোটি রুপি।

প্রথম দিনের উপস্থিতির হার হিসাব করলে দেখা গেছে—সকাল শোতে ৩.৮৮%, দুপুরে ৭.২৪%, সন্ধ্যায় ৬.৯২% এবং রাতের শোতে সামান্য উন্নতি হয় ১১.৪৮%-এ।

অঞ্চলভিত্তিক হিসেবে দিল্লি-এনসিআর-এ সর্বাধিক ৪২৬টি স্ক্রিনে প্রদর্শিত ছবির উপস্থিতি মাত্র ৭.৫%, মুম্বাইয়ে ৩২৬টি স্ক্রিনে ৭.৭৫% দর্শক উপস্থিতি ছিল।

পরিচালক ও অভিনেত্রীর আগের দুই যৌথ ছবির সঙ্গে তুলনা করলে ‘অ্যাসি’-এর শুরু উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তাদের শেষ ছবি ‘থাপ্পড়’ প্রথম দিনে আয় করেছিল ৩.০৭ কোটি, তার আগে ‘মুল্ক’ ছিল ১.৬৮ কোটি রুপি।

তাপসীর সাম্প্রতিক সিনেমার মধ্যে ‘খেল খেল মে’ প্রথম দিনে আয় করেছিল ৫.০৫ কোটি, ‘ডানকি’ ২৯.২ কোটি, আর স্বল্প বাজেটের ‘দোবারা’ ও ‘সাবাস মিঠু’ যথাক্রমে ৭০ লাখ ও ৫০ লাখে শুরু করেছিল।

কোর্টরুম ড্রামা ‘হক’ প্রথম দিনে ১.৭৫ কোটি রুপি আয় করেছিল। প্রায় এক দশক আগে মুক্তিপ্রাপ্ত তাপসীর আদালতনির্ভর সিনেমা ‘পিঙ্ক’ প্রথম দিনে আয়ের পরিমাণ ছিল ৪.৩২ কোটি। বর্তমানে ‘অ্যাসি’ প্রতিযোগিতায় রয়েছে গত সপ্তাহে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ও রোমিও’-র সঙ্গে, যা দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫০ কোটির দিকে এগোচ্ছে।

সুন্দরবনের দস্যু দমনে শুরু হচ্ছে বিশেষ অভিযান : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দস্যুদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। বনদস্যু দমনে অচিরেই বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে।

আজ শনিবার দুপুরে বাগেরহাটে অবস্থিত ঐতিহাসিক খান জাহান আলী মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দস্যুদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে এবং চিহ্নিত দস্যুদের ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। শিগগিরই সমন্বিত বাহিনীর অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার ও দমন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সুন্দরবনকে ঘিরে আর কোনো ধরনের দস্যুতা বরদাশত করা হবে না।
বিশ্ব ঐতিহ্য এ বনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, বনজ সম্পদ লুটপাট, জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ কিংবা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত জেলে, মৌয়াল ও বাওয়ালীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের টহল জোরদার করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সংগ্রহ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও বাড়ানো হবে। এছাড়া বাগেরহাটে নির্বাচন-পরবর্তী বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বা তারেক রহমান কোনো দায়ভার নেবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপি গণমানুষের দল এবং তারেক রহমান শুধু বিএনপির নন, সারা দেশের গণমানুষের প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং কোনো চাঁদাবাজি, হানাহানি বা কারও অপকর্মের দায়ভার বিএনপি বা তারেক রহমান নেবে না। কেউ যদি কোনো ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।

এ সময় বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফ্ফর রহমান আলম, বিএনপি নেতা শাহেদ আলী রবিসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিনয় থেকে সাময়িক ‘বিরতি’, পাড়ি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রে

শোবিজ অঙ্গনে বিরতির ঘোষণার হিড়িকের মধ্যেই এবার অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতির কথা জানালেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মাহি জানান, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তার কিছুটা থামা প্রয়োজন। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘জীবনের প্রতিটি যাত্রায় মাঝেমধ্যে বিরতি দরকার হয়—এবার সেই সময়টাই নিচ্ছেন তিনি।’

তবে এটি স্থায়ী বিদায় নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী।

তার ভাষায়, ‘প্রিয় ভক্তরা, জীবনের প্রতিটি যাত্রায় মাঝেমধ্যে একটু বিরতি দরকার হয়। এইবার সেই বিরতিটাই নিচ্ছি। মনটা একটু ভারী, কারণ কাজ আর তোমাদের ভালোবাসা ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ।’

এই বিরতিকে যেন কেউ বিদায় না ভাবেন— এমনটাও জানিয়েছেন।
শিগগিরই তিনি আবার ফিরবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।

হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হলেও মাহি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি। পোস্টের মন্তব্যঘরে ভক্তরা তাকে শুভ কামনা জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, কাজের চাপ থেকে মানসিক প্রশান্তির জন্যই হয়তো এই বিরতি।

এদিকে বিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি ফ্লাইটে উঠে দেশ ছেড়েছেন মাহি। সেখানে নিজের বোনের সঙ্গে কিছুদিন সময় কাটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।