বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা থেকে সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংবাদ থাকছে জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য-

সোনার দাম কি আরও কমবে? জবাব মিলবে যে ৩ প্রশ্নেসোনার দাম কি আরও কমবে, নাকি ফের বাড়তে শুরু করবে, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম নির্দিষ্ট একটি সীমার মধ্যে ওঠানামা করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

কলকাতায় হোটেল পেতে সমস্যা, তবু নিউমার্কেটে বাংলাদেশিদের উপচেপড়া ভিড়কলকাতায় হোটেল পেতে সমস্যা হলেও নিউমার্কেট এলাকায় উপচে পড়ছে বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিড়। গত ১৯ আগস্ট মির্জা গালিব স্ট্রিটে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জন মারা যান। তাদের মধ্যে সাতজনই ছিলেন বাংলাদেশি পর্যটক। ওই ঘটনার পর কলকাতার হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউজগুলোতে অভিযান চালায় করে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি-হুথি তীব্র সংঘাত, ইয়েমেনে ফের বড় যুদ্ধের শঙ্কা?ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরব-সমর্থিত বাহিনীর সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হুথিরা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে রিয়াদ।

এআইয়ের হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে ১০ লাখ নতুন চাকরি!কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে—এমন আশঙ্কা বহুদিনের। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত এআই চাকরি কেড়ে নেওয়ার চেয়ে নতুন চাকরি তৈরিতেই বেশি ভূমিকা রাখছে।

জাতিসংঘের নতুন মানচিত্রে অরুণাচল-আকসাই চিন ‘পৃথক অঞ্চল’, ক্ষুব্ধ ভারতজাতিসংঘের প্রকাশ করা বিশ্বের নতুন মানচিত্রে অরুণাচল প্রদেশ ও আকসাই চিনকে ভারত ও চীনের দাবির মধ্যবর্তী ‘পৃথক অঞ্চল’ (Separate Region) হিসেবে দেখানো হয়েছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে। একইভাবে, আকসাই চিনকে লাদাখের অংশ বলে দাবি করে নয়াদিল্লি।

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম সড়ক সেতু চালুরাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম সড়ক সেতু চালু হয়েছে। তুমেন নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুর মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্তে পণ্য ও যাত্রী চলাচল আরও সহজ হবে।

সৌদির জ্বালানি স্থাপনায় হুথিদের হামলাইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তুলেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন।

ভারত-বাংলাদেশের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল নিয়ে সুখবরদুই দেশের মধ্যে বন্ধ থাকা যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল আবার চালুর বিষয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের আন্তঃসরকারি রেলওয়ে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মক্কা চুক্তিতে ইরানকে চায় রাশিয়াপাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে গড়ে ওঠা মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে ইরানকে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, এই জোটে ইরানের অংশগ্রহণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে।

অন্ধকার টানেলে ৯ দিন যেভাবে বেঁচে ছিলেন দুই শ্রমিকনেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি টানেলে টানা নয় দিন আটকে থেকেও বেঁচে ছিলেন দুই জলবিদ্যুৎকর্মী। ৪ সেপ্টেম্বর উদ্ধার করা হয় কবির মহার্জন ও সঞ্জয় সাহকে। তাদের বেঁচে থাকার ঘটনা এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অন্য শ্রমিকদের উদ্ধারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

উন্মোচন হলো বাংলাদেশ ফুটবল দলের নতুন জার্সি

বছর দুয়েক হলো নতুন পথচলা শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। প্রথমবারের মতো কিট পার্টনারের মাধ্যমে নিজস্ব ডিজাইনের জার্সি পড়ছেন ফুটবলাররা। নতুন মৌসুমের জন্য এবার নতুন জার্সি উন্মোচন করল বাফুফে। ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে এবারের জার্সি।

আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ নারী ও পুরুষ উভয় দলের জন্য নতুন জার্সি উন্মোচন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে জার্সি উন্মোচন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এবারও বাংলাদেশের কিট পার্টনার হিসেবে আছে দেশীয় স্পোর্টস ব্যান্ড ‘দৌঁড়’।

বাংলাদেশের এবারের জার্সি ডিজাইনটা ছিল ভিন্ন আঙিকে। সমর্থকদের কাছে চাওয়া হয়েছিল ডিজাইন। তাদের করা ১৫০০টি ডিজাইনের মধ্য থেকে ৩১টি উপাদান নিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে এবারের জার্সি।

এবার হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচের জন্য দুটি জার্সি তৈরি করা হয়েছে। হোমে সাদা জার্সির সঙ্গে রাখা হয়েছে লাল শর্টস আর অ্যাওয়ের জন্য সবুজ রঙের জার্সির সঙ্গে রাখা হয়েছে সবুজ শর্টস। জার্সি এবং শর্টস দুটোতেই লাল রঙের একটি শেপ রয়েছে। এছাড়া দুটো জার্সিতেই দেশীয় সংস্কৃতির টেক্সচার রয়েছে।

জার্সি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান দৌড়ের সিইও আবিদ জানিয়েছেন, এবারের জার্সিটি ফুটবলারদের কম্ফোর্টের কথা চিন্তা করে তৈরি করা হয়েছে। এটি মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যেই শুকিয়ে যাবে।

বাংলাদেশের আরেকটি সিরিজের সূচী প্রকাশ, খেলা কবে?

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ সময় পার করছে বাংলাদেশ। এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে সুযোগ আছে ফাইনাল খেলারও। সেজন্য অবশ্য বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিতে হবে ঘরের মাঠের সিরিজগুলোর দিকে। চলতি বছরই যার একটিতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আতিথ্য দেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

আগামী অক্টোবর মাসে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি হবে হোম অব ক্রিকেট খ্যাত মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ২৮ অক্টোবর শুরু হবে প্রথম টেস্ট। এরপর দ্বিতীয় টেস্টের জন্য দুই দলই যাবে সিলেটে। ৫ নভেম্বর সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট।

তবে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সিরিজ শুরুর বেশ আগেই বাংলাদেশের এসে পৌঁছবে ক্যারিবীয়ানরা। ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশে পা রাখবে ক্যারিবিয়ানরা। এরপর ২২ অক্টোবর বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে একটি তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ দল তখন থাকবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। আগামী ৯ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এটি অবশ্য টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না। এরপর বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ১৭ অক্টোবর শুরু হবে ওয়ানডে ফরম্যাটের ত্রিদেশীয় সিরিজ।

ওই টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠতে পারলে ২৪ অক্টোবর দেশে ফিরবে বাংলাদেশ দল। এর মাত্র চার দিন পরই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে মাঠে নামতে হবে নাজমুল হোসেন শান্তদের।

টেস্ট খেলতে প্রায় পাঁচ বছর পর বাংলাদেশে আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বশেষ ২০২১ সালের সফরে দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে ঐতিহাসিক এক জয় পেয়েছে টাইগাররা।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থান অষ্টম। ফলে ঘরের মাঠের এই সিরিজে ভালো ফল করে ফাইনালের পথে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইবে টাইগাররা।

‘১০ বছর পিছিয়ে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট!’

পাকিস্তান ক্রিকেটে যেন স্থিরতা বলে কিছু নেই। এক সিরিজ শেষ হতে না হতেই দলে পরিবর্তন, ক্রিকেটার বাদ পড়া, কোচিং স্টাফে রদবদল- সব মিলিয়ে অস্থিরতা যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের মাঝপথে সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরানো এবং দুই কোচকে সরিয়ে দেওয়ার পর সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

এবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক তারকা স্পিনার সাঈদ আজমল। তার দাবি, তরুণদের সুযোগ দেওয়াই পিসিবির মূল উদ্দেশ্য নয়; বরং বর্তমান দলটিকেই পুরোপুরি সরিয়ে নতুন একটি দল তৈরি করার পরিকল্পনা করছে বোর্ড।

পাকিস্তানের ক্রিকেটের অন্যতম সফল স্পিনার মনে করেন, ধারাবাহিকভাবে ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়া এবং পরিবর্তন করতে থাকায় খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ভেঙে যাচ্ছে। তার ভাষায়, বোর্ডই এখন ক্রিকেটারদের সবচেয়ে বেশি হতাশ করছে।

সামা টিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আজমল বলেন, ‘বোর্ড নিজেরাই খেলোয়াড়দের অন্য সবার চেয়ে বেশি ডিমোটিভেট করছে। তারা কোনো খেলোয়াড়কে থিতু হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না। এমন খেলোয়াড়ও আছে, যারা ভালো করেছে, কিন্তু তাদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে। পিসিবির হাতে অনেক খেলোয়াড় অপমানিত হয়েছে।’

‘পাকিস্তান ক্রিকেট ১০ বছর পিছিয়ে গেছে’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে পাকিস্তান দলের এমন আমূল পরিবর্তনকে মোটেও ইতিবাচকভাবে দেখছেন না আজমল। তার মতে, ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকায় পাকিস্তান ক্রিকেট এক দশক পিছিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দল ১০ বছর পিছিয়ে গেছে। আমরা ভবিষ্যতের জন্য কোনো পরিকল্পনাই করিনি।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর পর থেকেই পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে পাকিস্তান। ফলে এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টটি এখন তাদের জন্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই।

কিন্তু সেই ম্যাচের আগে দলের বড় ধরনের পরিবর্তনই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে ব্যর্থতার পর পিসিবি অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নেয়। সাত ক্রিকেটারকে দলের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগা, আলী উসমান ও খুররম শাহজাদ। দ্বিতীয় টেস্টে এই পাঁচজনই খেলেছিলেন।

এ ছাড়া আমির জামাল ও আওয়াইস জাফরকেও দেশে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকেও দেশে ফেরানো হয়। তৃতীয় টেস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসনকে। তার সঙ্গে কাজ করছেন অ্যাশলি নফকে। এই ব্যাপক পরিবর্তন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন আজমল।

‘আসল উদ্দেশ্য খেলোয়াড় বাদ দেওয়া নয়, বদলে ফেলা’

আজমলের সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য এসেছে পিসিবির পরিবর্তনের উদ্দেশ্য নিয়ে। তার মতে, বোর্ডের লক্ষ্য কেবল ব্যর্থ ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়া নয়; বরং বর্তমান দলের প্রায় পুরো কাঠামোই পরিবর্তন করে ফেলা।

তিনি বলেন, ‘একটি সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো খেলোয়াড় পারফর্ম না করলে তাকে বাদ দিয়ে তার জায়গায় অন্য কাউকে খুঁজে নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকে না। কিন্তু এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং তাদের জায়গায় অন্যদের নিয়ে আসা।’

অর্থাৎ, আজমলের ব্যাখ্যায়, সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো কোনো নির্দিষ্ট সিরিজের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়; বরং পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান দলটিকে ভেঙে নতুন করে সাজানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

সাম্প্রতিক পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলোর একটি সালমান আলী আগা। দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের অধিনায়কত্ব করা এই অলরাউন্ডারকে তৃতীয় টেস্টের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সালমানকে উদাহরণ হিসেবে টেনে আজমল বলেন, ‘সালমান আগা খুবই ভালো খেলোয়াড়। কিন্তু কিছু কারণে সে ক্লিক করতে পারেনি। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল।’

আজমলের বক্তব্যের মূল সুর হলো- একজন ক্রিকেটার খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে গেলেই তাকে বাদ দিয়ে দিলে সে নিজেকে প্রমাণ করার পর্যাপ্ত সুযোগ পাবে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য নিয়মিত সুযোগ ও দলের আস্থার প্রয়োজন বলেই মনে করেন তিনি।

পাকিস্তান ক্রিকেটের সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য আজমল সরাসরি দলের হাই-পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদ এবং মাইক হেসনের দিকেও আঙুল তুলেছেন। তার দাবি, দুজন মিলে পাকিস্তান দলের ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তে বড় ধরনের প্রভাব রাখছেন।

আজমল বলেন, ‘আকিব জাভেদ ও মাইক হেসন একটি দল। এই দুজন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং এই পুরো বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী। পুরো বিষয়টিই অহংবোধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।’

তবে আজমলের এই অভিযোগ তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন; পিসিবির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

ওবায়দুলের বিদেশ যাওয়ার অনুমতির বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করবে দুদক

অপরাধ ডেস্ক: ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচার মামলার আসামি ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের সব পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ।

সেসব আদেশ গোপন করে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে তারা গত রবিবার নিম্ন আদালতে আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির ওই দিনই শুনানি নিয়ে তিন মাসের জন্য তাদের বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রিভিশন দায়েরের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম।

ঋণ জালিয়াতি, অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা ও একাধিক অনুসন্ধান চলমান থাকার প্রেক্ষাপটে ওবায়দুল করিম, তার স্ত্রী আরজুদা করিম ও ছেলে সালমান ওবায়দুল করিমের সব পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দিতে গত ৫ মার্চ নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন।

শুনানি শেষে গত ২০ মে ওই আবেদনটি খারিজ করেন এবং সব পাসপোর্ট জমা দেওয়ার আদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। কিন্তু থেমে থাকেননি ওবায়দুল করিম। দুদকের করা বিদেশ গমন নিষেধাজ্ঞা পিটিশনটি (৩১/২০২৫) ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন।

অথচ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের সব আদেশ গোপন রেখে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে গত রবিবার বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন ওবায়দুল করিম, তার স্ত্রী আরজুদা করিম ও তাদের ছেলে সালমান ওবায়দুল করিম। তারা এক বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির তিন মাসের জন্য বিদেশযাত্রার অনুমতি দেন। শুনানিতে ওবায়দুল করিমের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট দেলোয়ার জাহান রুমি।

এ ব্যাপারে মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের সব পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দিতে হাইকোর্টের এবং আপিল বিভাগের আদেশের বিষয়টি শুনানিতে উপস্থাপন করার পরও দুদকের বক্তব্য আমলে না নিয়ে ওবায়দুল করিমের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।’

নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ওবায়দুল করিমসহ পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন আদালত।

আবেদনে বলা হয়, ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গোপন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগসংশ্লিষ্টরা দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের বিদেশ গমন রহিত করা প্রয়োজন।

আবেদনটির শুনানি শেষে ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। পরে ওবায়দুল করিম অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বিদেশ যেতে চাইলে ওই বছরের ১৭ মার্চ তা মঞ্জুর করেন আদালত। মামলায় এবং তার আবেদনসহ সব ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করলেও আদালতের আদেশ পাওয়ার পর কালবিলম্ব না করে ডমিনিকান পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে যান।

এরপর তারা দেশে ফিরলেও দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিদেশযাত্রা বন্ধ হয়। তারা ফের বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে গত মার্চ মাসে হাইকোর্টে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ৫ মার্চ আবেদনটি নামঞ্জুর করে তাদের সব ধরনের পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এই আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিল বিভাগে আবেদন (ক্রিমিনাল পিটিশন নম্বর-১০৮৯/২০২৬) দায়ের করেন। এই আবেদনটি শুনানি চলমান থাকা অবস্থায় বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে গত ১৪ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আবেদন করেন ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী।

সেদিন শুনানি শেষে আবেদনটি খারিজ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ। এদিকে আপিল বিভাগের আবেদনটি (ক্রিমিনাল পিটিশন নম্বর- ১০৮৯/২০২৬) শুনানি শেষে গত ২০ মে খারিজ করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ।

ঋণের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০৭ কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে গত ৮ জানুয়ারি ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম, তার স্ত্রী আরজুদা করিম ও ছেলে সালমান ওবায়দুর করিমসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম মামলাটি করেন। মামলাটির তদন্ত চলছে।

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা থেকে পেছাচ্ছে বাংলাদেশ

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস (সিআরভিএস) আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশের ২০৩০ সালের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে উল্টো পেছাচ্ছে দেশ। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের ছয় মাসে জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধনের হার কমে গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ে চিঠি পাঠিয়েছে। এ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও পরবর্তীসময়ে প্রশাসনে রদবদলের কারণে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের হার কমে যেতে পারে। তবে জন্ম-মৃত্যু রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এগিয়ে থাকতে মাঠপর্যায়ে ভুয়া জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন হচ্ছে। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় নিবন্ধনের হার কমে গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে জন্মের এক বছরের মধ্যে জন্মনিবন্ধনের হার ৬৩ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৫৯ শতাংশে উঠলেও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তা কমে যথাক্রমে ৪৩ ও ৫৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (সিভিল রেজিস্ট্রেশন ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা) মুর্শিদা শারমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে এখনই নির্দিষ্ট কোনো কারণ চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। জেলা, উপজেলা ও অন্যান্য পর্যায়ে গঠিত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন টাস্কফোর্সগুলোর কার্যক্রম আরও সক্রিয় করে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি ডিসিদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, এসডিজি এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সিআরভিএস আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে জন্ম-মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে ১০০ শতাংশ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করার আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালে জন্ম-মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার যথাক্রমে ৬৩ ও ৫৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এ হার কমে যথাক্রমে ৪৩ ও ৫৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

২০২৪ সালে জন্ম ও মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার ছিল যথাক্রমে ৪৯ ও ৪৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে জন্মনিবন্ধনে ৬৩ এবং মৃত্যু নিবন্ধনে ৫৯ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই জন্মনিবন্ধনের হার ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৪৩ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৫৬ শতাংশ হয়েছে

নির্ধারিত আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও নির্দেশিকার আলোকে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জন্ম ও মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার ছিল যথাক্রমে ৪৯ ও ৪৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে জন্মনিবন্ধনে ৬৩ এবং মৃত্যু নিবন্ধনে ৫৯ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই জন্মনিবন্ধনের হার ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৪৩ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৫৬ শতাংশ হয়েছে।

অর্থাৎ, একদিকে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে নিবন্ধনের হার দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজন, অন্যদিকে সম্প্রতি অর্জিত হারই আবার কমে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে সিআরভিএস সংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, জন্মের এক বছরের মধ্যে সারাদেশে জন্মনিবন্ধনের হার ২০২৫ সালে ৬৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং একই সময়ে মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৫৯ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে এই অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এখনো সন্তোষজনক নয়। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়। ওই সভায় এক বছরের মধ্যে শতভাগ জন্ম এবং ৮০ শতাংশ মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য নিবিড় কার্যক্রম গ্রহণের কথা বলা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ইউএনইএসক্যাপ) ২০১৪ সালে সিআরভিএস বিষয়ক প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালকে ‘সিআরভিএস দশক’ ঘোষণা করা হয়।

তারা আরও জানান, নাগরিক নিবন্ধন এবং তার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান প্রণয়নের জন্য ওই সময়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এসব লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে একটি আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনাও (রিজিওনাল অ্যাকশন ফ্রেমওয়ার্ক) প্রণয়ন করা হয়। ২০২৫ সালের জুনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সম্মেলনে সিআরভিএস দশকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্জনের চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হয়। মূল্যায়নে দেখা যায়, কিছু দেশ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশও ওই সময়ে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। ২০২৪ সালে জন্ম ও মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে নিবন্ধনের হার ছিল যথাক্রমে ৪৯ ও ৪৭ শতাংশ। এ প্রেক্ষাপটে তৃতীয় সম্মেলনে সিআরভিএস দশককে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়।

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের হার কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে এক বছরের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) একটি লক্ষ্য। এই হার কমছে, কারণ আমরা ভুয়া নিবন্ধনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছি। এই টার্গেট অর্জন করতে গিয়ে অনেক জায়গায় ভুয়া জন্ম নিবন্ধন করা হয়। ভুয়া নিবন্ধনের কারণে কয়েকজনের চাকরি যাচ্ছে। এ কারণে নিবন্ধনের হার কমে গেছে।’

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জন্ম নিবন্ধনের হার গত বছরের তুলনায় কমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর পেছনে ভুয়া নিবন্ধন বন্ধে নেওয়া পদক্ষেপও একটি কারণ। বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে নিবন্ধন নিশ্চিত করতে গিয়ে সংখ্যাগতভাবে নিবন্ধনের হার কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে।’

তবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা কমে যাওয়ার পেছনে মাঠপ্রশাসনের ব্যস্ততা ও কর্মকর্তা পরিবর্তনের প্রভাব থাকতে পারে বলে মনে করেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা সবসময় একই হারে এগোয় না। কোনো কোনো সময়ে এটি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে জন্মনিবন্ধন ও পরিসংখ্যান বিভাগ এবং এর অঙ্গসংস্থা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ওরিয়েন্টেশন ও সেমিনার করছে।’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মনে করি বছরের শুরুর দিকে একটি নির্বাচন ছিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যস্ততা থাকে। পুরো এই নিবন্ধনের পেছনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, ডেপুটি ডিরেক্টরসহ মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তারা আছেন। তাদের একটা বড় অংশের সময় এ সময়ে নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত ছিল। ফলে হয়তো এদিকে অ্যাটেনশনটা একটু কম হয়েছে। যার ফলে এটা কমার একটা কারণ হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এছাড়া নতুন সরকার গঠন করার পরে কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। নতুন কর্মকর্তাদের তো টেক আপ করতেও সময় লাগছে। জন্মনিবন্ধনের দায়িত্বে আগে থেকে যারা পদে ছিলেন, তারা বিষয়গুলো বুঝে নিয়েছিলেন। নতুন নতুন কর্মকর্তারা আসলে গতি একটু কমতে পারে।’

সিআরভিএস নিয়ে কাজ করা সাবেক এ সচিব আরও বলেন, ‘তো এরকমভাবে নির্বাচনের ব্যস্ততা, পরবর্তীতে কর্মকর্তাদের বদলি- আমার নিজের ধারণা হচ্ছে এসব কারণে বছরের শুরুতে এটার একটু ঘাটতি হয়েছে।’

তবে ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে সরকার ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও ওয়ার্কশপ শুরু করেছে বলেও জানান সাবেক এই সচিব। তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে বরিশাল বিভাগে এই সেমিনার হয়েছে। সেখানে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আর রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় নিয়মিতভাবে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়।’

মাঠপর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গিয়ে ভুয়া জন্মনিবন্ধন হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম কথা হলো, এটা তারা বলতে পারবেন। কারণ তথ্যটা তাদের কাছে আছে। তারা ভালো বলতে পারবেন। তবে টার্গেটকে এভাবে দোষারোপ করা বা টার্গেটকে ভিলেন বানানো বোধহয় ঠিক না। কারণ টার্গেট না থাকলে আপনি কীভাবে যাবেন?’

তিনি বলেন, ‘যারা বলছেন যে ত্রুটিপূর্ণ নিবন্ধন হচ্ছে, নিঃসন্দেহে এটা গর্হিত কাজ, অপরাধ। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কিন্তু যদি বলা হয় যে টার্গেটের কারণে এটা করছে, এটা ওইভাবে বলা ঠিক না। কারণ টার্গেট না থাকলে আপনি কীভাবে যাবেন?’

নিবন্ধনের হার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো। আমাদের জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এ কাজটি শুধু মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নয়। আমরা সামগ্রিকভাবে বিষয়টি মনিটরিং করি। মূল কাজটি স্থানীয় সরকারের।- মুর্শিদা শারমিন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব

তার ব্যাখ্যা, ‘টার্গেটটা কোথা থেকে আসছে? টার্গেটটা আসছে এসডিজি থেকে। আপনি যদি এসডিজির সঙ্গে রিলেট করেন, এসডিজিতে বলা আছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে সব নাগরিকের আইনগত পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে, ইনক্লুডিং বার্থ রেজিস্ট্রেশন। মানে বার্থ রেজিস্ট্রেশনটা হচ্ছে মূল ভিত্তি। যার ভিত্তিতে প্রত্যেক নাগরিকের আইনগত পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।’

সাবেক এ সচিব আরও বলেন, ‘জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে, আমাদের যে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি), এটা অর্জিত হবে না। এটা একটা বৈশ্বিক ওয়াদা। সারাবিশ্ব এতে আবদ্ধ হয়েছে, আমরাও আবদ্ধ হয়েছি। এখন যদি এটা না করি, এসডিজি হবে না।’

তিনি বলেন, ‘এটা যদি না করি, আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উন্নতি হবে না। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে অনেকগুলো ইন্ডিকেটর আছে। মানে আমাদের বস্তুনিষ্ঠ পরিসংখ্যান হবে না। এটা না হলেই আমাদের অগ্রগতি হবে না।’

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (সিভিল রেজিস্ট্রেশন ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা) মুর্শিদা শারমিন বলেন, ‘জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের হার কমে যাওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে যে কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাজ করছিলেন, তিনি বদলি হয়ে গেছেন। পরে নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ায় আগের মতো কাজ না-ও হতে পারে। এ ধরনের কিছু সমস্যা থাকতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে নিবন্ধনের হার কমেছে, সেটি আমরা এখনো পর্যালোচনা করছি, খতিয়ে দেখছি।’

নিবন্ধনের হার বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে মুর্শিদা শারমিন বলেন, ‘নিবন্ধনের হার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো। আমাদের জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এ কাজটি শুধু মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নয়। আমরা সামগ্রিকভাবে বিষয়টি মনিটরিং করি। মূল কাজটি স্থানীয় সরকারের।’

শুল্ক হ্রাস ও এফটিএ দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত করতে পারে ৪ বিলিয়ন ডলার: বিশ্ব ব্যাংক

দেশীয় শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক কমানো এবং মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে ভালোভাবে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বাড়তি জিডিপি যুক্ত হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রাথমিক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তবে বৈশ্বিক ঋণদানকারী সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বিকল্প ব্যবস্থা না করে বর্তমান বাণিজ্য সুবিধাগুলো হারালে বাংলাদেশের ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের এই গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

আগামী ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে। তবে সরকার এই উত্তরণ অন্তত তিন বছর পেছানোর জন্য আবেদন করেছে। চলতি মাসের শেষের দিকে এই বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অর্থনৈতিকভাবে এই লাভ মূলত দুই স্তরের সংস্কারের ওপর নির্ভর করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানিকৃত মধ্যবর্তী পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো এবং অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক পুরোপুরি তুলে দিলে প্রকৃত জিডিপি শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। মধ্যবর্তী পণ্য বলতে ওই সব কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ ও পণ্যকে বোঝায়, যা ব্যবহার করে অন্য কোনো পণ্য উৎপাদন করা হয়।

অন্যদিকে, প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতে পারলে জিডিপি আরও শূন্য দশমিক ৭৩ শতাংশ বা প্রায় ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে। এই বিশ্লেষণে ধরে নেওয়া হয়েছে যে ভিয়েতনাম যেসব দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে, বাংলাদেশও সমপর্যায়ের চুক্তি করতে পারবে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, মুক্তবাণিজ্য চুক্তি থেকে যে সুবিধা আসবে, তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই আসতে পারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান ও রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ বা আরসিইপিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে।

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, এ ব্যাপারে নিষ্ক্রিয় থাকার মাশুলও গুণতে হতে পারে বাংলাদেশকে। কোনো বিকল্প বাণিজ্য চুক্তির ব্যবস্থা না করে বর্তমান অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা হারালে জিডিপি শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ বা প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার কমে যেতে পারে।

বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলো যদি আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার পেয়ে যায় এবং বাংলাদেশ যদি চুপচাপ বসে থাকে, তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে জিডিপি আরও শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ কমতে পারে। পাশাপাশি মোট রপ্তানি ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষণায় বাংলাদেশের আমদানি শুল্কব্যবস্থার মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে দেওয়া অতিরিক্ত সুরক্ষার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

বর্তমানে ৫ হাজার ৬৬৬টি পণ্যের ওপর বাংলাদেশের গড় ‘মোস্ট-ফেভারড-নেশন’ (এমএফএন) শুল্ক বা সাধারণ আমদানি শুল্কের হার ৭ শতাংশ। কিন্তু ‘প্যারা-ট্যারিফ’ নামে পরিচিত অন্যান্য সম্পূরক শুল্ক ও কর যুক্ত হলে সুরক্ষার এই মাত্রা ১৫ দশমিক ৪ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়।

কিছু খাতে এই সুরক্ষার হার অনেক বেশি। যেমন জুতা খাতে মোট সুরক্ষা শুল্ক ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ক্ষেত্রে তা যথাক্রমে ৬৭ দশমিক ১ ও ২২ দশমিক ১ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা শুল্ক কমানোর প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একমত হলেও সতর্ক করে বলেছেন, শুধু শুল্ক কমালেই দেশীয় শিল্প রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক হতে পারবে না।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের দেশীয় পণ্যের মান দুর্বল। শুধু শুল্ক বাধা তুলে নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রপ্তানি সক্ষমতা তৈরি হবে না।’

পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার বলেন, তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অন্য ব্যবসায়ীদের জন্য বর্তমান শুল্ককাঠামো এমনভাবে সাজানো, যা তাদের রপ্তানির চেয়ে দেশীয় বাজারে পণ্য বিক্রি করতে বেশি উৎসাহিত করে। তিনি চূড়ান্ত পণ্য ও আমদানিকৃত কাঁচামাল—উভয় ক্ষেত্রেই শুল্ক কমানোর পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, ‘দুটি একসঙ্গে না কমালে প্রকারান্তরে সুরক্ষার হার আরও বেড়ে যাবে, যা রপ্তানি নিরুৎসাহিত করবে।’

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, শুল্ক সংস্কারের পাশাপাশি জ্বালানি, অবকাঠামো ও অর্থায়নের মতো দুর্বলতাগুলোও দূর করতে হবে। শুল্ক সংস্কার বহু সংস্কারের একটি অংশ মাত্র। এটি একাই পুরো পরিস্থিতি বদলে দিতে পারবে না।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সুবিধা নিতে হলে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ অত্যন্ত জরুরি।

সেলিম রায়হান বলেন, আমাদের নীতি প্রণয়নের ক্ষমতা ভালো হলেও বাস্তবায়নের সক্ষমতা খুবই দুর্বল। তিনি প্যারা-ট্যারিফ কমানোর পাশাপাশি স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি মানদণ্ড পূরণে সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন সতর্ক করে বলেন, সব সম্পূরক শুল্কই সুরক্ষামূলক নয়; কিছু শুল্ক স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও রাজস্বের কারণে আরোপ করা হয়।

তিনি বলেন, মুক্তবাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে লাভের হিসাবটি বেশ আকর্ষণীয়, তবে বাস্তবতার নিরিখে এটি একটি অতি-উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। তিনি শুল্ক সংস্কারের কারণে রাজস্ব আদায়ের ওপর কী প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্টতা দাবি করেন।

ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক লাভের হিসাব দিয়ে বোঝা যায় না যে এই পরিবর্তনের মূল্য আসলে কে চোকাচ্ছে। কে লাভবান হচ্ছে আর কে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা এই গড় হিসাবে প্রকাশ পায় না।

বাংলাদেশকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অভিনন্দন

| বুধবার , ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) নির্ধারিত সময় ২০৩০ সালের আগেই মাতৃমৃত্যু হ্রাসে ‘সাফল্য’ অর্জন করায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। পূর্ব তিমুরের রাজধানী দিলিতে সংস্থার দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কমিটির ৭৯তম অধিবেশনে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনের হাতে এ অভিনন্দনপত্র তুলে দেন ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস। খবর বিডিনিউজের।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশের এই অর্জন জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেছে ডব্লিউএইচও। তাদের মতে, এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে ‘সরকারের দৃঢ় নেতৃত্ব, কার্যকর স্বাস্থ্যনীতি, সুসংগঠিত প্রজনন ও মাতৃস্বাস্থ্য কর্মসূচি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। পাশাপাশি দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে প্রসবসেবা ও মিডওয়াইফারি সেবা নিশ্চিত করা, জনগণের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতাও এ সাফল্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয় বলেছে, গত দশ বছর ধরে মাতৃ ও নবজাতক টিটেনাস নির্মূলের অবস্থান ধরে রাখার জন্যও বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। শক্তিশালী জাতীয় অঙ্গীকার, উচ্চমানের টিকাদান সেবা এবং দেশজুড়ে নিরাপদ প্রসবের চর্চা এ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৩.১ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি ১ লাখ জীবিত জন্মে ৭০ জনের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের এসডিজি ট্র্যাকার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এই হার ছিল প্রতি লাখে ১৩৬। আর ২০২৫ সালে এই হার ১০০ তে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল, তবে তা পূরণ হয়েছে কি না, সেই তথ্য ট্র্যাকারে নেই।

লক্ষ্য অর্জনে সাফল্যের কথা বলা হলেও এই হার এখন কত হয়েছে, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তা জানানো হয়নি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর বেতন আবারও বাড়ছে

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং জানিয়েছেন, দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের বেতন বাড়ানো হবে। এর ফলে বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার বার্ষিক বেতন আরও প্রায় ১০ লাখ ডলার বাড়ছে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন ২ দশমিক ২ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার হবে। মার্কিন ডলারে এর পরিমাণ প্রায় ১৭ লাখ থেকে বেড়ে ২৮ লাখ ডলার। সিঙ্গাপুর সরকার দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক নেতাদের উচ্চ বেতনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছে। সরকারের দাবি, প্রতিযোগিতামূলক বেতন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। তবে সাধারণ নাগরিকদের আয়ের তুলনায় মন্ত্রীদের বেতন অনেক বেশি হওয়ায় বিষয়টি দেশটিতে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। নতুন কাঠামোয় উপপ্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন ১ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার হবে। আর মন্ত্রীদের বেতন পদমর্যাদা ও দায়িত্বের গুরুত্ব অনুযায়ী ১ দশমিক ৮০ মিলিয়ন থেকে ২ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলারের মধ্যে নির্ধারণ করা হবে। তবে নিজের বেতন বৃদ্ধির পুরো অর্থই মেয়াদকালে উপযুক্ত জনকল্যাণমূলক কাজে দান করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন লরেন্স ওং। বেতন বাড়ানোর আগেও সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বেতন যুক্তরাষ্ট্রসহ জি-৭ জোটভুক্ত অনেক দেশের সরকারপ্রধানের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। লরেন্স ওং বলেন, রাজনৈতিক বেতন একটি কঠিন ও আবেগঘন বিষয়। তিনি আরও বলেন, এই অর্থের পরিমাণ অধিকাংশ নাগরিকের আয়ের চেয়ে বেশি হওয়ায় সিঙ্গাপুরের জনগণ বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনা করেন এবং এ নিয়ে তাদের অনেকেরই জোরালো মতামত রয়েছে। তবে তার মতে, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে আগামী কয়েক দশকে দেশকে এগিয়ে নিতে সিঙ্গাপুর প্রয়োজনীয় মানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারবে কি না, তার ওপর। ওং বলেন, আমাদের মূল কথা হলো, ভালো সরকার নির্ভর করে ভালো নেতৃত্বের ওপর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুরে গত ১৫ বছর ধরে মন্ত্রীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের কোনো সমন্বয় করা হয়নি। দেশটি নিয়মিতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় স্থান পায়। প্রধানমন্ত্রী জানান, বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে একটি স্বাধীন কমিটি। তবে বর্তমান দায়িত্বশীলদের ক্ষেত্রে নতুন বেতন কাঠামো তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে না। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে তাদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ পর্যন্ত এককালীন বেতন সমন্বয় করা হবে। পরবর্তী সময়ে বেতন পরিবর্তন নির্ধারণ করা হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে।

জানেন বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বেতন পান কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী?

: বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের বেতন আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, তার বার্ষিক বেতন ২২ লাখ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার থেকে বেড়ে ৩৬ লাখ ডলার হবে। অর্থাৎ প্রায় ১৪ লাখ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার বা ১০ লাখ মার্কিন ডলার বাড়ছে তার বেতন। খবর এনডিটিভির।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টে বেতন পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা দেন লরেন্স ওং। সিঙ্গাপুর সরকার দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের উচ্চ বেতনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছে। সরকারের দাবি, প্রতিযোগিতামূলক বেতন মেধাবী ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করে এবং ভালো শাসন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

তবে বিষয়টি দেশটিতে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। কারণ সাধারণ নাগরিকদের আয়ের তুলনায় মন্ত্রী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের বেতন অনেক বেশি।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের উপপ্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন ১৮ লাখ ৭০ হাজার সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার থেকে বেড়ে ৩০ লাখ ৬০ হাজার ডলার হবে। টাকার হিসেবে এর পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।

মন্ত্রীরা দায়িত্ব ও পদমর্যাদা অনুযায়ী বছরে ১৮ লাখ থেকে ২৮ লাখ ৮০ হাজার সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার পর্যন্ত বেতন পাবেন।

লরেন্স ওং বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের মেয়াদে বেতন বৃদ্ধির পুরো অতিরিক্ত অর্থ তিনি উপযুক্ত জনকল্যাণমূলক কাজে দান করবেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের বেতন একটি কঠিন ও আবেগপূর্ণ বিষয়। অধিকাংশ নাগরিকের আয়ের তুলনায় এই অর্থ অনেক বেশি হওয়ায় জনগণের এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে।

তবে ওংয়ের মতে, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নির্ভর করছে সিঙ্গাপুরের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় মানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধরে রাখা যাবে কি না, তার ওপর।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি প্রায় ১৫ বছর পর মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বর্তমান মন্ত্রীরা সরাসরি নতুন বেঞ্চমার্ক বেতনে যাবেন না। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে তারা এককালীন সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেতন সমন্বয় পাবেন।

পরবর্তী সময়ে বেতন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও দায়িত্বের পরিমাণ ও ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান ওং।

সিঙ্গাপুরের ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী। উচ্চ বেতন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও দেশটি নিয়মিতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় স্থান পায়। সূত্র : এনডিটিভি