বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

হত্যা মামলায় সালমান-আনিসুল-শাজাহান খান-সাদেক খান গ্রেপ্তার

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পৃথক থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক এমপি শাহজান খান ও সাদেক খানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।

তাদের মধ্যে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানা ও তেজগাঁও থানার পৃথক দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া শাহজাহান খান ও সাদেক খানকে তেজগাঁও থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামানের আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা যায়, গত ৪ আগস্ট কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাহিদুল ইসলাম তেজগাঁও থানাধীন এলাকায় আন্দোলনে যান। এরপর গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় তার ভাই তারিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

এই মামলায় সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, শাহজাহান খান ও সাদেক খানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এ ছাড়া গত ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় শাহাবুদ্দিন পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার কিনতে বাসা থেকে বের হন। তিনি শেরেবাংলানগর থানার সামনে পশ্চিম আগারগাঁও চৌরাস্তায় এলে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় শেরেবাংলানগর থানায় তার বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ব্যাংকিং খাত সংস্কারে আইএমএফের সহায়তা চাওয়া হয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা

ব্যাংকিং খাত সংস্কার, অর্থ পাচার রোধে সহায়তা, ট্যাক্স রিটার্ন জমার ক্ষেত্রে আধুনিকায়নের বিষয়ে আইএমএফের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক শেষে উপদেষ্টা এ বিষয়ে জানান।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নানা সংস্কারের জন্য অর্থ প্রয়োজন। বৈঠকে এ বিষয়ে আইএমএফ মিশনকে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কী কী সংস্কার করেছে তা তাদের জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে আইএমএফ এর আর্থিকসহ কারিগরি সহায়তা দরকার।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকসহ অন্য দাতা সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনা হয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তার বিষয়ে কাজ করছে দাতা সংস্থাগুলো। অক্টোবরে ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকের বৈঠকে এ বিষয়ে মূল আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।

চকরিয়ায় অভিযানকালে সন্ত্রাসীদের হামলায় সেনা কর্মকর্তা নিহত

কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজরায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয়েছেন সেনাবাহিনীর তরুণ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন। তার বয়স ২৩ বছর। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক চারটার দিকে ডাকাতবিরোধী অভিযান পরিচালনাকালে তার ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে রক্তক্ষরণে মারা যান এই এই কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডুলহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতির খবর পায় সেনাবাহিনী। পরে দ্রুত চকরিয়া ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল অভিযানে যায়। আনুমানিক ৪টার দিকে মাইজপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করার সময় ৭ থেকে ৮ সদস্যের একটি ডাকাত দল সেনা টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন ডাকাত দলের কয়েকজনকে তাড়া করেন। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করলে গুরুতর আহত হন তিনি।এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনকে উদ্ধার করে মালুমঘাট মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লেফটেন্যান্ট তানজিম টাঙ্গাইল জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মেধাবী এই তরুণ সেনা কর্মকর্তা পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সাথে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি হতে থেকে ২০২২ সালের জুনে আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন। এই তরুণ সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণের পাশাপাশি তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ঘটনাস্থল থেকে ৩ জন ডাকাতকে আটকসহ একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, ৬ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও, ডাকাত সন্দেহে আরও ০৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

সপ্তাহে ৭ দিনই শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হাফ পাস’ কার্যকর

ছুটির দিনসহ সপ্তাহের সাত দিনই শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হাফ পাস’ অর্থাৎ অর্ধেক ভাড়া কার্যকর হয়েছে আজ থেকে। ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বাসে অর্ধেক ভাড়া দেওয়ার এ সুবিধা পাবেন।

এ জন্য শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় অথবা সঙ্গে ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র থাকতে হবে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব মেট্রোপলিটন এলাকায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর সপ্তাহে ৫ দিন (শুক্র-শনিবার ব্যতীত) শিক্ষার্থীদের হাফ পাস চালু করেছিল। সময় ছিল সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কার্যদিবস থাকায় আলাদা করে খুব একটা প্রভাব টের না পেলেও শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাস্তাবায়নের ব্যাপারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। তাদের অভিযোগ পরিবহন মালিক সহযোগিতা না করলে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে।

৭২ ঘণ্টার অবরোধ শেষে স্বাভাবিক খাগড়াছড়ি, কড়া নিরাপত্তায় ফিরছেন সাজেকে আটকা পর্যটকরা

খাগড়াছড়িতে ৭২ ঘণ্টার অবরোধ শেষ হয়েছে। সড়কে বেড়েছে ব্যস্ততা। ছেড়ে যাচ্ছে যানবাহন। পরিবেশ স্বাভাবিক থাকায় সবধরনের পরিবহন চলাচল করছে জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে। তিনদিনের অবরোধ শেষ হয়েছে আজ মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোর ছয়টায়।

এদিকে, সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তায় ফিরছে সাজেকে আটকে থাকা পর্যটকরা। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৭টায় যৌথবাহিনীর নিরাপত্তায় সাজেক থেকে পর্যটকবাহী পিকআপ-চাঁদের গাড়িসহ ১৫০টি বিভিন্ন পরিবহন, ২৩টি সিএনজি ও শতাধিক মোটরসাইকেল সাজেক থেকে ছেড়ে আসে।

একইসাথে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের উদ্দেশ্যে পর্যটকদের নিয়ে বিভিন্ন পরিবহন ছেড়ে গেছে। অবরোধ শেষ হওয়ায় জনজীবন স্বাভাবিক হয়েছে। হাট-বাজারগুলোতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর লোকজন উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে আসতে দেখা গেছে।

জেলাটির বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। টহলে আছে সেনা, বিজবি ও পুলিশ। পর্যটন এলাকা সাজেকের কয়েকটি স্থানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

২০ বছরের মধ্যে লেবাননে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালালো ইসরায়েল

হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল কয়েক দশক ধরে দ্বন্দ্বে লিপ্ত। তবে, গত অক্টোবর থেকে দুপক্ষ-ই একে অপরের ওপর তাদের আন্তঃসীমান্ত আক্রমণ বাড়িয়েছে। এই হামলার সূত্রপাত, ৭ অক্টোবর, যখন ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস হামলা চালায়। এরপরই শুরু হয় যুদ্ধ।

গত সপ্তাহে, লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সদস্যদের ব্যবহার করা পেজার ও ওয়াকিটকিতে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের এ ঘটনায়, লেবাননে ৪০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যাদের মধ্যে হিজবুল্লাহর অন্তত ১৬ সদস্য রয়েছেন। এই বিস্ফোরণের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করছে হিজবুল্লাহ। মূলত, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সংঘাত ভয়াবহ রূপ নেয়।

প্রকৃতপক্ষে, হিজবুল্লাহ, তেহরানের নেতৃত্বাধীন একটি জোটের অংশ যারা ইয়েমেন, সিরিয়া, গাজা এবং ইরাকে বিস্তৃত। হামাসের সাথে যুদ্ধ শুরু হবার পর থেকে ইসরায়েল এবং তার মিত্রদের আক্রমণ করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি বলেছে যে যতদিন গাজায় যুদ্ধ চলবে, ততদিন তারা ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাবে।

দুই দেশের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এই অঞ্চলটিকে আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। গত এক বছর ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধের মধ্যে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ’র মধ্যে সবচেয়ে তীব্র গুলি বিনিময় দেখা যায়। কারণ লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের ভূখণ্ডে পূর্বের তুলনায় আরও জোরালোভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

হিজবুল্লাহ হামলার কারণে উচ্ছেদ হওয়ার পর, উত্তর সীমান্তের কাছে বাস্তুচ্যুত ইসরায়েলি বাসিন্দাদের তাদের বাড়িঘর ফিরিয়ে দেয়ার জন্য নতুন একটি যুদ্ধের লক্ষ্য তৈরি করে ইসরায়েল।

গত সোমবার, দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছিলেন যে ইসরায়েল উত্তরে ‘নিরাপত্তা ভারসাম্য’ পরিবর্তন হচ্ছে। সেই সাথে, ইসরায়েলের শহরে নাগরিকদের লক্ষ্য করে হাজার হাজার রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্র চালানো হচ্ছে। তাই, দ্রুত-ই লেবাননে আক্রমণ করা হবে।

সেই ধারাবাহিকতায়, পেজার বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাঝেই, স্থানীয় সময় সোমবার, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় একাধিক শহরে একযোগে বিমান হামলা চালালো ইসরায়েলি বাহিনী।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলি হামলায় নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯২। যাদের মধ্যে ৩৫জন শিশু রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১ হাজার ৬৪৫ জন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ২৪ ঘণ্টায় লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রায় ১৩০০টি লক্ষ্যবস্তুতে সাড়ে ছয়শোটিরও বেশি হামলা চালিয়েছে তেল আবিব।

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থনের অঙ্গীকার সেনাপ্রধানের

যা-ই হোক না কেন ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থনের অঙ্গীকার করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার পতনের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেয়া প্রধান সংস্কার কাজগুলো সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করার জন্য ‘যাই হোক না কেন’ অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান, যাতে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত আগস্ট মাসের শুরুর দিকে, জেনারেল ওয়াকার ও তার সেনারা হাসিনার বিরুদ্ধে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন প্রবল বিক্ষোভে তাদের পাশে দাঁড়ায়। ফলে হাসিনার ১৫ বছরের ক্ষমতায় থাকার পর অপসারণ নিশ্চিত হয়ে যায়। এরপর তিনি প্রতিবেশী ভারতে পালিয়ে যান।

স্থানীয় সময় সোমবার, ঢাকায় রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দেন জেনারেল ওয়াকার। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, নোবেল পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

জেনারেল ওয়াকার বলেন, আমি তার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) পাশে থাকবো, যা-ই হোক না কেন। যাতে তিনি তার মিশন সম্পন্ন করতে পারেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সংস্কারের পর গণতন্ত্রে উত্তরণ এক বছর থেকে দেড় বছরের মধ্যে করা উচিত। এই সময়সীমার মধ্যেই আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করা উচিত।

জেনারেল ওয়াকার আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এবং তিনি (সেনাপ্রধান) প্রতি সপ্তাহে বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। এছাড়াও, তাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। দেশকে স্থিতিশীল করার জন্য সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বলে জানিয়েছেন তিনি।

হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো দীপু মনি, মেনন, পলক, ইনুসহ ৭ জনকে

তেজগাঁও থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনিসহ ছয়জনকে। এ ছাড়া আদাবর থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাসান চৌধুরীকে।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত আজ রোববার তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

দীপু মনি বাদে যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তাঁরা হলেন বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহ্‌মেদ পলক, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, একাত্তর টিভির সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক ফারজানা রুপা।

আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা সাবেক মন্ত্রী দীপু মনিসহ অন্যদের আজ সকাল সাড়ে ৭টার পর সিএমএম আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে তেজগাঁও থানার হত্যা মামলায় দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনুসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

পরে তাঁদের আবার কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাসান চৌধুরীকে আদাবর থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত ১৯ আগস্ট গ্রেপ্তার হন সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি। এরপর মোহাম্মদপুর ও ভাটারা থানার পৃথক দুটি মামলায় তাঁর ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ২২ আগস্ট গ্রেপ্তার হন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। এরপর পৃথক তিনটি মামলায় তাঁর ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ২৬ আগস্ট গ্রেপ্তার হন জাসদ সভাপতি, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এরপর পৃথক তিনটি মামলায় তাঁর ১৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

১৪ আগস্ট গ্রেপ্তার হন জুনায়েদ আহ্‌মেদ পলক। এরপর পৃথক তিন মামলায় তাঁর ২০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার হন ৩ সেপ্টেম্বর। এরপর মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলায় তাঁর আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ২১ আগস্ট গ্রেপ্তার হন সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপা। এরপর পৃথক দুটি হত্যা মামলায় তাঁদের ৯ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ১০ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ হয়ে ভারতে পালানোর সময় সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাসান চৌধুরী গ্রেপ্তার হন।

মার্ক্সবাদী দিশানায়েকে শ্রীলঙ্কায় নির্বাচনে এগিয়ে

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনায় প্রাথমিকভাবে এগিয়ে আছেন মার্ক্সবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত অনুড়া কুমারা দিশানায়েকে। গতকাল শনিবার এ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হয়।

গতকাল সন্ধ্যায় শ্রীলঙ্কার নির্বাচন কমিশন জানায়, দেশব্যাপী ভোট গণনা শুরু হয়েছে। এদিন রাতের মধ্যেই ভোটের ফলাফল চলে আসতে পারে বলে জানিয়েছিলেন কমিশনের কর্মকর্তারা। আজ রোববার চূড়ান্ত ফলাফল জানা যেতে পারে।

শ্রীলঙ্কার এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ৩৯ জন। তবে ভোট গ্রহণ শেষে তিনজনের নাম আলোচনায় শোনা যাচ্ছে। তাঁদের একজন বর্তমান প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। একজন বিরোধী দল সঙ্গী জন বালাওয়াগার (এসজেবি) নেতা ও গুপ্তহত্যার শিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রেমাদাসার ছেলে সাজিথ প্রেমাদাসা। অন্যজন ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার (এনপিপি) জোটের অনুড়া কুমারা দিশানায়েকে।

নির্বাচনে এই তিন প্রার্থীর মধ্যে যে–ই জয়ী হোন, তাঁকে ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কার ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর চ্যালেঞ্জ নিতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য–উপাত্ত অনুযায়ী, এ পর্যন্ত গণনা করা মিলিয়ন (১০ লাখ) ভোটের প্রায় ৫৩ শতাংশ পেয়েছেন কুমারা দিশানায়েকে। বিরোধীদলীয় প্রার্থী সাজিথ প্রেমাদাসা পেয়েছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ ভোট। বর্তমান প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে আছেন তৃতীয় স্থানে।

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশটির বৈধ ১৭ মিলিয়ন (১ কোটি ৭০ লাখ) ভোটারের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ গতকালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এর আগে ২০১৯ সালের নির্বাচনে রেকর্ড ৮৩ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট পড়েছিল।

কুমারা দিশানায়েকের জোট এনপিপির মধ্যে রয়েছে তাঁর দল মার্ক্সপন্থী জনতা বিমুক্তি পেরেমুনা (জেভিপি)। দলটি অনেক আগে থেকেই অধিকতর জোরালো রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ, কর হ্রাস ও সংরক্ষণবাদী বাজার অর্থনৈতিক নীতিকে সমর্থন করে আসছে।

যদিও বর্তমানে পার্লামেন্টে জেভিপির মাত্র তিনটি আসন রয়েছে, তবুও ৫৫ বছর বয়সী দিশানায়েকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং আরও দরিদ্রবান্ধব নীতি গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের পক্ষে জনসমর্থন অনেকটাই বাড়িয়েছেন।

নিজেকে একজন সংস্কারপন্থী প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন দিশানায়েকে। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে পার্লামেন্ট ভেঙে দেবেন। এর মধ্য দিয়ে সাধারণ নির্বাচনে নিজ নীতির পক্ষে নতুন ম্যান্ডেট পেতে চান তিনি।

ইতিমধ্যে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী সাবরি এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, ‘দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর এক প্রচার শেষে নির্বাচনের ফলাফল এখন পরিষ্কার।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদিও আমি প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের পক্ষে ব্যাপকভাবে প্রচার চালিয়েছি, তবে শ্রীলঙ্কার জনগণ তাঁদের মতামত জানিয়ে দিয়েছেন। অনুড়া কুমারা দিশানায়েকের পক্ষে তাঁদের সমর্থনকে আমি পুরোপুরি শ্রদ্ধা জানাই।’

বৈদেশিক ঋণের বোঝা ও চরম আর্থিক দুর্দশার প্রতিবাদে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক গণ–অসন্তোষ দেখা দেয়। এ নিয়ে আন্দোলনের একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ হাজারো জনতা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের সরকারি বাসভবনে ঢুকে পড়লে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালান তিনি। এরপর পার্লামেন্টের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রনিল বিক্রমাসিংহে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক কুশল পেরেরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘এবারের লড়াই হবে ত্রিমুখী। তবে প্রধান তিন প্রার্থীর মধ্যে কে নির্বাচিত হবেন, তা বলা মুশকিল। এটা স্পষ্ট যে এবারের নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যে ৫০ শতাংশ ভোট প্রয়োজন, তা কেউ পাবেন না।’

শ্রীলঙ্কার আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী যদি অর্ধেকের বেশি ভোট না পান, তবে অগ্রাধিকার ভোটের ওপর নির্ভর করে বিজয়ী প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। তবে দেশটির ইতিহাসে এর আগে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে ভোট গণনার মধ্যেই শ্রীলঙ্কায় গতকাল দিবাগত রাতে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ আট ঘণ্টার জন্য কারফিউ ঘোষণা করে। ‘জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা’ করে কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এর আগে নির্বাচন কমিশন এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ বলে মন্তব্য করে। কমিশনের এ ঘোষণার অল্প সময় পর পুলিশ কারফিউ ঘোষণা করে।

আওয়ামী লীগের অনেকেই দেশ ছেড়েছেন

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের এক মাস পরও আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অবৈধভাবে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। পালাতে গিয়ে সীমান্তে ধরাও পড়েছেন কেউ কেউ। সীমান্ত পার হতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, গত সপ্তাহে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সীমান্ত পাড়ি দিয়েছেন। এঁদের আগে (৫ আগস্টের পর) দেশ ত্যাগ করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল), সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ (নাসিম) ও আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ অনেকে।

যাঁরা পালিয়ে গেছেন বা পালানোর চেষ্টায় আছেন, তাঁদের প্রায় সবাই হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, সরকার পতনের এত দিন পরও কীভাবে এসব ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালাতে পারছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আরও বেশ কয়েকজন নেতার দেশ ছাড়ার গুঞ্জন রয়েছে। তবে তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আওয়ামী লীগের নেতাদের অনেকেরই ধারণা, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপর ওবায়দুল কাদের সীমান্তবর্তী এলাকায় আশ্রয় নেন। পরে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারত চলে যান। সাবেক একজন মন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেছেন, তিনি শুনেছেন ওবায়দুল কাদের এখন দুবাই আছেন।