বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

বিএনপিকে দিয়েই শনিবার শুরু হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচনা

বিএনপিকে দিয়েই শনিবার শুরু হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের এ পর্বের আলোচনা। ওই দিন বেলা আড়াইটায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ আলোচনা হবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

জানতে চাইলে বিএনপির মিডিয়ার সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম ছাড়া বিএনপির প্রতিনিধিদলে জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে কারা কারা থাকবেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আজ-কালের মধ্যে সেটি চূড়ান্ত হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, প্রধান উপদেষ্টা আগামী শনিবার থেকে আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন। সেখানে উপদেষ্টারাও উপস্থিত থাকবেন।

গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ইতিমধ্যে দুই দফায় উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সভা হয়েছে। তারই চলমান প্রক্রিয়ায় শনিবার থেকে আবারও নতুন দফায় আলোচনা শুরু হবে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এই আলোচনা হবে। এ আলোচনার মুখ্য বিষয় হবে ছয় সংস্কার কমিশনের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে দলগুলোকে অবহিত করা। এ ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা হবে এবং তাদের পরামর্শ নেওয়া হবে।

দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সংস্কার কমিশন গঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১১ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, সংবিধান ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠনের কথা জানান। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বদিউল আলম মজুমদার, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান, দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী। আর সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক আলী রীয়াজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

স্যাটেলাইট ছবিতে ইসরায়েলের বিমানঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তোলা কিছু ছবিতে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের নেভাতিম বিমানঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ধরা পড়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ১৮০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ও ইসরায়েলি বাহিনীর তৎপরতায় সেগুলোর বেশির ভাগই আকাশে ধ্বংস হয়। কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয় বলে পরদিন জানিয়েছিল ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও জানানো হয়েছিল।

এখন স্যাটেলাইটে তোলা কিছু ছবির বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের নেভাতিম বিমানঘাঁটির একটি এয়ারক্র্যাফট হ্যাঙ্গারের ছাদে বিশাল আকারের গর্ত দেখা যাচ্ছে। যে ভবনের ছাদে গর্ত দেখা যাচ্ছে সেটি বিমানঘাঁটির প্রধান রানওয়ের কাছে। ভবনের চারপাশে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়ে আছে।

ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির একটি নেভাতিম। এই বিমানঘাঁটিতে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ নিজেদের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান রাখে ইসরায়েল। এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি।

এয়ারক্র্যাফট হ্যাঙ্গারে যে সময়ে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, সে সময় সেখানে কোনো বিমান ছিল কিনা, তা স্যাটেলাইটের ছবি দেখে বোঝা যায়নি।

স্যাটেলাইটের এই ছবির বিষয়ে জানতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত এপ্রিলে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। সেবারও নেভাতিম বিমানঘাঁটিতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

গত মাসের শেষ দিকে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একটি শহরতলিতে বিমান হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যা করে ইসরায়েল। ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী হিজবুল্লাহ। হাসান নাসরুল্লাহ হত্যার পর দুই শত্রু দেশ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

ডিসি নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ: সিনিয়র সচিব বললেন, ইটস অ্যা ফেইক নিউজ

দেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলানোর পর জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের তথ্য ছেপেছে একটি সংবাদপত্র। আজ বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) পত্রিকাটিতে ‘আমার 5C হলেই চলবে, স্যার 10C রাখব’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটিতে বলা হয়েছে— ডিসি নিয়োগে আর্থিক লেনদেনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান এবং দুই যুগ্ম সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও আলী আযম জড়িত। মোখলেস উর রহমান ও আলী আযমের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের বেশকিছু তথ্যও তুলে ধরা হয় এতে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের মোখলেন উর রহমানের দাবি করেন, ইটস অ্যা ফেইক নিউজ। এই অভিযোগের মূল্য নেই।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ সিনিয়র সচিব বলেন, আমার মোবাইল হলো স্যামসাং, ওই প্রত্রিকায় যেটা দেখানো হয়েছে সেটা হলো আইফোন। আইফোন কি আমি ব্যবহার করি? আমি ব্যবহার করি স্যামসাং। উনারা কে কী দেখালো উনাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন। আমি এটার কিছুই জানি না।

নিজেকে মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ উল্লেখ করে মোখলেন উর রহমান বলেন, সরকার আমাকে যে টেলিফোন দিয়েছে সেটাও আমি ব্যবহার করি না। আমার আগের যে নাম্বার সেটাই ব্যবহার করি।

খবরের সত্যতার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাব দেন, আপনারা স্ট্যান্ডবাজি নিউজ করতে চাইলে এসব প্রশ্ন করতে পারেন। যারা আমাকে চেনেন, তারা জানেন আমি কেমন। ভালোকে ভালো, খারাপকে খারাপ বলবোই। এই প্রশ্ন করার আগে নিজেদের প্রশ্ন করেন, কতদূর যৌক্তিক হচ্ছে আমাকে প্রশ্ন করা।

এই সংবাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে তিনটি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আরও জানালেন, ওয়েবসাইট থেকে খবরটি সরিয়ে ফেলা, পত্রিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। প্রেস কাউন্সিল আছে, অন্যান্য নিয়ম-কানুন আছে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে।

মোখলেস উর রহমান বলেন, যারা এ সংবাদ করেছে, তাদের আমরা কতটুকু গুরুত্ব দিবো? একটা রাস্তার লোক অনেক কথা বলেতে পারে, আমি তার পেছনে দৌঁড়াবো? আমরা সরকারের পজিশনে থেকে জনগনের জন্য কাজ করি।

আজ নগর বাউল জেমসের জন্মদিন

মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন

ভক্তদের কাছে তিনি গুরু। অনেকের কাছে তিনি নগর বাউল। তার ভারি কণ্ঠে মাতোয়ারা সব বয়সের সংগীতপ্রেমীরা। তার কনসার্ট মানে আলাদা এক উদ্দীপনা, প্রাণোচ্ছ্বলতা। কথা ও সুরের এক অনন্য মিশেল। অনেকের মতে, বাংলা গানের সত্যিকার অর্থের সুপারস্টার তিনি।

জেমসের জীবন বেশ বাঁক বদলের, অনেক গল্পের। তবে স্বপ্নের জলাঞ্জলি দিতে নারাজ ছিলেন তিনি। তাই গানের জন্য ছেড়ে দেন ঘরই। জন্মস্থান নওগাঁ ছেড়ে গিয়ে ওঠেন চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে। সেখানেই তার গানের জগৎ প্রসারিত হয়। হয়ে ওঠেন নগর বাউল। ১৯৮০ সালের দিকে চট্টগ্রামে এই ব্যান্ড গড়েন তিনি।

সেই আশির দশক থেকে শুরু জেমসের পথচলা। তখনকার আর বর্তমান শহরের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। গান শোনার মাধ্যমও বদলে গেছে। ক্যাসেট থেকে সিডি, সিডি থেকে এমপি থ্রি। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল বাংলাদেশের নতুন যুগে ঢাকার একেকজন তরুণ যেন বিশ্বনাগরিক। বলিউড, হলিউড, আরজিৎ সিং, মেরুন ফাইভ, লিম্প বিজকিট, নেটফ্লিক্স— বিশ্বের সব সাংস্কৃতিক পণ্য এখন মুঠোফোন, এমপি থ্রি প্লেয়ার অথবা ল্যাপটপে, ক্লিকের নাগালে। কিন্তু গানের গুরু বদলাননি। তিনি একজনই—জেমস।

আজ (০২ অক্টোবর) ব্যান্ড জগতের ‘রকস্টার’ নগর বাউল জেমসের জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের আজকের এই দিনেই পৃথিবীতে এসেছিলেন তিনি। জীবনের ৫৯ বসন্ত পেরিয়ে ৬০ বছরে পা দিলেন এই গায়ক। তার পুরো নাম ফারুক মাহফুজ আনাম হলেও ভক্তদের কাছে নগর বাউল জেমস নামেই পরিচিত তিনি।

২০১৫ সালে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ১০টি বিলবোর্ড টাঙিয়ে প্রিয় ব্যান্ড তারকা জেমসকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বেশ আলোচিত হয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের ছেলে প্রিন্স। জানা যায়, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জেমসের জন্মদিনে ভিন্ন কিছুর আয়োজন করেন ওই ভক্ত। ২০১৪ সালেও তিনি জেমসের জন্মদিনে বিশাল এক কেক নিয়ে ঘুরে বেড়ান ঢাকা শহরের নানা জায়গায়।

এরপর ২০১৭ সালের জন্মদিনে পুরো অক্টোবর জুড়ে সারা দেশে এক কোটি গাছ লাগান জেমসের ভক্তরা। এ ছাড়া সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় জেমসের ৫৩টি প্রতিকৃতিও টাঙানো হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালেও নানা আয়োজনে জেমসের জন্মদিন পালন করেন তার পাগল ভক্তরা।

কিন্তু ২০১৯ সাল থেকে পাল্টে যায় চিত্র। কারণ তার আগের বছরের ১৮ অক্টোবর না ফেরার দেশে চলে যান বাংলা ব্যান্ড জগতের আরেক কিংবদন্তি ও গিটারিস্ট আইয়ুব বাচ্চু। জেমস এবং আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বন্ধুর মৃত্যুতে জেমস এতটাই কষ্ট পেয়েছিলেন যে, ২০১৮ সালে একটি লাইভ কনসার্টে তাকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়।

পরের বছর জন্মদিন আসার আগেই জেমস ঘোষণা দেন যে, তিনি জন্মদিনের কোনো উৎসব পালন করবেন না। পাশাপাশি ভক্তদেরও অনুরোধ করেন কোনো ধরনের আয়োজন না করতে। যার কারণে ২০১৯ সালের পর থেকে ভক্তদের পক্ষ থেকে জেমসের জন্মদিনের আর কোনো আয়োজন করা হয়নি। যথারীতি কোনো আয়োজন নেই এ বছরও।

১৯৮০ সালে জেমস প্রতিষ্ঠা করেন ব্যান্ড ‘ফিলিংস’। ১৯৮৭ সালে প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশ পায়। ১৯৮৮ সালে ‘অনন্যা’ নামের একক অ্যালবাম প্রকাশ করে সুপারহিট হয়ে যান জেমস। এরপর ১৯৯০ সালে ‘জেল থেকে বলছি’, ১৯৯৬ সালে ‘নগর বাউল’, ১৯৯৮ সালে ‘লেইস ফিতা লেইস’, ১৯৯৯ সালে ‘কালেকশন অব ফিলিংস’ অ্যালবামগুলো প্রকাশ পায়। এরপর ‘ফিলিংস’ ভেঙে জেমস গড়ে তোলেন নতুন লাইনআপে ব্যান্ড ‘নগর বাউল’।

২০০০ সালের প্রথম দিকে পেপসির একটি বিজ্ঞাপন চিত্রে অংশগ্রহণ করেন জেমস। এটিই ছিল তার কাজ করা প্রথম বিজ্ঞাপন চিত্র। বিজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রচার করা হয়। এরপর তিনি ২০১১ সালে এনার্জি ড্রিংক ব্ল্যাক হর্সের বিজ্ঞাপনে কাজ করেন।

চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেও সফল হয়েছেন নগর বাউল। তার বেশকিছু গান ‘সত্তা’, ‘দেশা দ্য লিডার’ ছবির জন্য গান করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। বাংলা গানের পাশাপাশি হিন্দি গানে কণ্ঠ দিয়েও জয় করেছেন কোটি ভক্ত-শ্রোতার হৃদয়।

বলিউডে তার গাওয়া ‘ভিগি ভিগি’ (গ্যাংস্টার সিনেমা), ‘চাক চালে’ (ও লামহে) এবং ‘আলবিদা’, ‘রিস্তে’ (লাইফ ইন অ্যা মেট্টো), ‘বেবাসি’ (ওয়ার্নিং) গানগুলো উল্লেখযোগ্য। একটা প্রজন্মের কাছে জেমস মানে এখনো এক উন্মাদনা, তার প্রতি ভক্তদের ভালোবাসা এতোটাই প্রবল যে ভক্তদের তিনি ‘দুষ্টু ছেলের দল’ বলে অ্যাখ্যায়িত করেন। তার প্রকাশ পাওয়া সবশেষ গান ‘সবই ভুল’। ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের চাঁদ রাতে এটি প্রকাশ পায়।

ঘি কতটুকু খাওয়া স্বাস্থ্যকর, বললেন পুষ্টিবিদ

এখনকার মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন। তারা ঘি ও মাখনকে খাদ্যতালিকায় রাখেন। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন— সারা দিনে যদি পরিমিত ঘি খাওয়া যায়, তা হলে শরীরের ওজন বাড়বে না। আপনাকে নিয়ম করে সচেতনতা অবলম্বন করে খেতে হবে।

আমরা মূলত গরম ভাতে এক চামচ ঘি খাই। এই এক চামচ ঘিয়ের স্বাদই আলাদা। তবে ঘি যে শুধু স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয়, তা নয়। ঘিয়ের স্বাস্থ্যগুণও বিপুল। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ ঘি, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে করে হাড় মজবুত হয়, শরীরের প্রতিটি কোষ সচল রাখে। জেনে নেওয়া যাক দিনে কতটুকু ঘি খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত।

এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ শম্পা চক্রবর্তী বলেছেন, সারা দিনে যত ক্যালোরি খাওয়ার কথা, তার ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ আসা উচিত ফ্যাট থেকে। তার মধ্যে ১০ শতাংশের কম যদি স্যাচুরেটেড ফ্যাট থেকে আসে, তা হলে ক্ষতি নেই। বরং তা উপকারই করবে। এখন যেহেতু এক চামচ ঘিয়ের মধ্যে থাকা ১৫ গ্রাম ফ্যাটের মধ্যে ৯ গ্রাম স্যাচুরেটেড ফ্যাট, তাই দিনে দুই চামচ ঘি খাওয়া যেতেই পারে।

আর ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পছন্দের খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিতে হয়। তাই বলে ফ্যাট খাওয়া একেবারে ছেড়ে দেওয়ারও দরকার নেই। শম্পা বলেন, মাখন না খেলেও ঘি কিন্তু খেতে পারেন। ঘিয়ের মধ্যে যে ধরনের ফ্যাট রয়েছে, তা হার্টের জন্য ভালো। সুষম খাবারের পাশাপাশি, দিনে দুই চামচের কম দেশি ঘি খেলে ওজন কমে। কারণ এতে আছে ‘কনজুগেটেড লিনোলেইক অ্যাসিড’। ডায়াবেটিস ঠেকানোর পাশাপাশি ওজন কম রাখতেও সাহায্য করে এ অ্যাসিড। ক্যানসার ও ইস্কিমিক হৃদ্রোগ প্রতিরোধেও ঘি সাহায্য করে।

তিনি বলেন, হার্টের রোগ, কোলেস্টেরল না থাকলে দিনে দুই চামচ ঘি খেলে কোনো সমস্যা নেই। অনেক সময় বনস্পতির সঙ্গে কৃত্রিম স্বাদগন্ধ মিশিয়ে দেশি ঘি বলে চালানো হয়। মানুষ না বুঝে তা খান। আর তাতেই ক্ষতি হয় শরীরের। ঘি খেতে ইচ্ছে হলে ঘরে বানিয়ে নিন। সেই উপায় না থাকলে বিশ্বস্ত জায়গা থেকে কিনুন। সেই ঘি খেলে উপকার পাওয়া যাবে। রান্নায় পরিমিত ঘি দিলে ঘিয়ের ভিটামিন, খনিজ উপাদানগুলো সবজিতে মিশে যায়। তখন ভিটামিনের গুণে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে খাবার। রান্না করার সময় ঘিয়ের রাসায়নিক গঠন চট করে ভেঙে গিয়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হয় না। তাই সেদিক থেকেও ঘি উপকারী।

ইচ্ছে না থাকলেও সংসার চালানোর কারণে আমরা কাজ করতে বাধ্য- শ্রাবন্তী

বলিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের পূজার গান ‘জয় জয় দুগ্গা মা’। মহালয়ার আগের দিন প্রকাশ্যে অভিনেত্রীর প্রথম ‘লুক’। লাল পাড় সাদা শাড়িতে জোড় হাতে দেবীর সামনে শ্রাবন্তী।

পূজায় ছবি মুক্তির কথা শুনলে মনের ভেতরে যে আনন্দ দোলা দেয় অভিনেতা থেকে পরিচালক মাঝে, তেমনি ‘জয় জয় মা দুগ্গা’ পূজার গান মুক্তিতেও সমান আনন্দ অনুভব করছেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার পূজায় তার মিউজিক ভিডিও মুক্তি পেতে চলেছে। অভিনেত্রীর প্রথম লুক আনন্দবাজার অনলাইনের পাতায়। একটি ছবিতে তিনি জোড় হাতে দেবী প্রতিমার সামনে।

শুটিংয়ের ফাঁকে মনের কোন অপূর্ণ ইচ্ছে প্রকাশ করলেন দেবীর কাছে? আনন্দবাজার অনলাইনের এমন প্রশ্নের উত্তরে শ্রাবন্তী বলেন, মায়ের সঙ্গে মেয়ের কথা কি সবাইকে বলা যায়? একটু থেমে তিনি বলেন, দেবীর শক্তি প্রত্যেক নারীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক। যাতে মেয়েরা একাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেন— এটাই চেয়েছেন তিনি।

এ বছরের পূজা একটু অন্য রকম। আনন্দের পাশাপাশি আন্দোলন, প্রতিবাদ ও বিষণ্ণতার ছায়ায় মোড়া। তবু এক বছর অপেক্ষার পরে চার দিনের উদ্যাপন। কথা শেষের আগেই শ্রাবন্তী দাবি বললেন— ঠিক এ কারণেই পূজার গানে অংশ নিতে রাজি হয়েছি। কারণ অনেক লোক এই উৎসবের দিকে তাকিয়ে বসে থাকেন। তিনি বলেন, পূজার ছবি, গানের হাত ধরে কলাকুশলী, অভিনেতাদের উপার্জন হয়। তাই ইচ্ছে না থাকলেও সংসার চালানোর কারণে আমরা কাজ করতে বাধ্য। পাশাপাশি পূজার গানের শুটিং মানেই আগাম শারদীয়ার আমেজ। এ বিষয়টিও অস্বীকার করেননি তিনি। জানিয়েছেন মণ্ডপে দেবীকে ফুল দিয়ে সাজানো, আরতি হচ্ছে, ঢাক বাজছে। ধুপ-ধুনোর গন্ধে পুরো পরিবেশ স্বর্গীয়। মন এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। যেন ইতিবাচক শক্তি ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে।

রাহুল বীর কুমার ঘোষের পরিচালনায় শ্রাবন্তীর পূজার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন অনন্যা চট্টোপাধ্যায়। এ বিষয়ে অভিনেত্রী বলেন, রাহুল আমার ছোট ভাইয়ের মতো। ওর নাচের স্টেপে পা মেলাতে মেলাতে মনে হচ্ছিল— এবারের পূজায় এই প্রজন্ম হয়তো আমার মতো করেই গানের তালে নেচে উঠবেন।

‘সান ভেঞ্চার’-এর ব্যানারে সানি খান ও অনুপ সাহার প্রযোজনায় ‘জয় জয় মা দুগ্গা’ মুক্তি পাবে দিন কয়েকের মধ্যেই।

রাফীর সিনেমায় জিৎ, যা বললেন পরিচালক

ফের নতুন করে গুঞ্জন বাংলা বিনোদন দুনিয়ায়। তবে জিতের বিপরীতে এ পার বাংলার নায়িকা থাকবেন নাকি ও পার বাংলার, এই খবর এখনও মেলেনি।

গত জুলাই মাসে কলকাতায় প্রেক্ষাগৃহে ‘তুফান’ মুক্তির আগেই তুফান উঠেছিল অন্য একটি খবরে। রায়হান রাফী নাকি প্রযোজক-অভিনেতা জিতের সঙ্গে ছবি করতে ইচ্ছুক এমন কথা শোনা যায়। সেই খবরের সত্যতা জানতে সেই সময় আনন্দবাজার অনলাইন যোগাযোগ করেছিল পরিচালকের সঙ্গে।

এ প্রসঙ্গে পরিচালক রায়হান রাফি বলেন, ভারতের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় আরও ছবি তৈরির ইচ্ছে আছে। জিৎদা বাংলার সুপারস্টার। ওর সঙ্গে কাজ করতে পারলে খুবই ভালো লাগবে। কিন্তু বাংলা ইন্ডাস্ট্রির আরও অনেককেই আমার পছন্দ। তাই এখনই আলাদা করে কারও নাম উল্লেখ করার সময় আসেনি।

আসন্ন দুর্গাপূজা। শারদীয়া দুর্গা উৎসব উদ্যাপনের আমেজ বাঙালির মনে। মহালয়ার আগের দিন ঠিক একই বিষয় নিয়ে ফের নতুন করে গুঞ্জন বাংলার বিনোদন জগতে। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও কিছু বক্তব্য। যেমন— রায়হানের আগামী ছবিতে থাকছেন জিৎ। একই সঙ্গে সহ-অভিনেতা হিসাবে উঠে এসেছে দুই অভিনেতার নাম— চঞ্চল চৌধুরী ও আফরান নিশো। শোনা যাচ্ছে, চঞ্চল চৌধুরীর দিকেই নাকি পাল্লা ভারি। যদিও জিতের বিপরীতে এপার বাংলার নায়িকা থাকবেন নাকি ওপার বাংলার— এই খবর এখনও জানা যায়নি।

বিশদ জানতে আবারও আনন্দবাজার অনলাইন যোগাযোগ করেছিল পরিচালক রায়হান রাফীর সঙ্গে। তিনি বলেছেন, যা বলার তা প্রযোজনা সংস্থা বলবে। এ প্রসঙ্গে উঠে এসেছে দুই প্রযোজনা সংস্থার নাম। গুঞ্জন— ওপার বাংলার প্রযোজনা সংস্থা শ্যাডো ফিল্মসের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এপার বাংলার জ্যাজ মাল্টিমিডিয়া। এ দুই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল আনন্দবাজার অনলাইন। তবে তারা ফোনে অধরা।

ইয়াং বয়েজকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে হার দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলো বার্সেলোনা। অন্যদিকে, লা লিগায়ও শেষ ম্যাচে হার। হারের আগুনে পুড়তে থাকা দলটির তোপে লণ্ডভণ্ড ইয়াং বয়েজ। একপেশে ম্যাচে ৫-০ গোলের বিশাল জয় পেয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।

নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে কাতালানরা। ম্যাচের আট মিনিটে-ই লেভানদোভস্কির গোলে লিডে যায় বার্সা। বিরতির আগে প্রতিপক্ষে জালে কাপন ধরান রাফিনিয়া ও মার্তিনেজ।

এরপর, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে-ও বজায় থাকে বার্সার দাপট। রাফিনিয়ার কর্নার থেকে জটলার মধ্যে বল পেয়েই ব্যবধান ৪-০ করেন লেভানদোভস্কি।

শেষ দিকে সান্ত্বনা হিসেবে একটি গোল শোধ করে ইয়াং বয়েজ। যদিও সে গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সা পরবর্তী ম্যাচ খেলবে ২৩ অক্টোবর রাতে। সেদিন তারা মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখের।

আবার ৭ দিনের রিমান্ডে সালমান এফ রহমান

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে পৃথক দুই মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২ অক্টোবর) চতুর্থ দফার রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে তোলা হয়। এদিন দোহার থানার বিস্ফোরক ও হত্যা মামলায় রিমান্ড আবেদন করে গোয়েন্দা পুলিশ। আদালত রিমান্ড শুনানি শেষে নবাবগঞ্জ থানার বিস্ফোরক মামলায় ৪ দিন ও দোহার থানার হত্যা মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আজকের রিমান্ড মিলিয়ে সর্বমোট পঞ্চম দফায় রিমান্ডে নেয়া হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক এই উপদেষ্টাকে।

শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তাকারী আইনজীবীরা বলেন, সালমান এফ রহমান দোহার-নবাবগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এলাকায় নানা অপকর্ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত হন।

এর আগে, গত ১৩ আগস্ট নৌপথে পালিয়ে যাওয়ার সময় সদরঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার হন সালমান এফ রহমান। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নৌপথে পলানোর সময় রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে নিউমার্কেট থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

আজ রাতে বড় ভুল করে ফেলেছে ইরান , কড়া হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

ইমারত হোসেন

ইসরায়েলের ভূখণ্ডে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোয় ইরানের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরান আজ রাতে বড় ভুল করে ফেলেছে। এ জন্য দেশটিকে চড়া মূল্য দিতে হবে।’

মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসরায়েলের শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দেশের দৃঢ়সংকল্পের বিষয়টি ইরান বুঝতে পারছে না।’

‘তারা (ইরান) বুঝতে পারবে’ মন্তব্য করে নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা যে নিয়ম প্রতিষ্ঠা করেছি, সেটাই বলবৎ থাকবে। যে আমাদের ওপর আক্রমণ চালাবে, আমরাও তাদের ওপর পাল্টা আক্রমণ করব।’

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলে ১৮০টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এ হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ইসরায়েল সরকার।

এর আগে মঙ্গলবার ইসরায়েলি বাহিনীর লেবানন ও সিরিয়ার দামেস্কে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়। এমনকি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় ঢুকে পড়ে স্থল অভিযান চালায় ইসরায়েলি সেনারা। এর পরপর ইসরায়েলে ইরানি হামলার খবর পাওয়া গেল।