বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

‘রোনালদো দানব ছিল আর মেসি দানবের বাবা’

লিগ কাপের শেষ ষোলোয় আজ রাতে টটেনহামের মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটি। এ ম্যাচ নিয়ে গতকাল সিটির সংবাদ সম্মেলনে ব্যালন ডি’অর নিয়ে কথা বলেন সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। স্প্যানিশ ফুটবলে ভূয়সী প্রশংসা করে গার্দিওলা বলেছেন, জাভি হার্নান্দেজ ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাও ব্যালন ডি’অর জিততে পারতেন। কিন্তু লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কারণে তা সম্ভব হয়নি।

এবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেন ও সিটির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রদ্রি। তার প্রশংসা করতে গিয়ে স্প্যানিশ ফুটবলের প্রসঙ্গ টানেন গার্দিওলা, ‘গত ১০-১৫ বছরে বিশ্বে স্প্যানিশ ফুটবলের প্রভাব খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেটা শুধু ট্রফি জয়ের বিচারে নয়, যেভাবে তারা খেলে এবং খেলোয়াড় ও কোচদের প্রজন্ম মিলিয়েও।’ গত দশকে স্প্যানিশ ফুটবলের অবিশ্বাস্য উন্নতির প্রসঙ্গ টেনে গার্দিওলা আরও বলেছেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে আলাদা সব কোচ ও অবিশ্বাস্য খেলোয়াড়দের নিয়ে গত দশকে স্প্যানিশ ফুটবল অবিশ্বাস্য কাজ করেছে। বিশ্বকাপ জিতেছে, ইউরোও জিতেছে কিন্তু কখনো এই ট্রফি (ব্যালন ডি’অর) জিততে পারেনি।’

১৯৬০ সালে লুইস সুয়ারেজের পর দ্বিতীয় স্প্যানিশ হিসেবে এবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন রদ্রি। গার্দিওলা বার্সায় তাঁর সময়ের উদাহরণও দিয়েছেন। আর সে সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি টেনেছেন মেসি ও রোনালদোকে। ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত বার্সার কোচ ছিলেন গার্দিওলা। তাঁর সময়ে মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তা, সের্হিও বুসকেটস, কার্লোস পুয়োল, ডেভিড ভিয়াদের নিয়ে ‘স্বপ্নের দল’ গড়েছিল বার্সা। ‘ট্রেবল’ জয়ের পাশাপাশি সে সময় বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব করেছে গার্দিওলার বার্সা।

গার্দিওলা সে সময়ের উদাহরণ টেনে বলেছেন, ‘সে সময়ে মনে আছে বার্সেলোনার একাডেমি থেকে উঠে আসা তিনজন খেলোয়াড় ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য মনোনীত হয়েছিল। জাভি ও ইনিয়েস্তা জিততে পারেনি; কারণ, সে সময়ে একটা দানব ছিল—মেসি। ক্রিস্টিয়ানো ছাড়া কেউ তাকে হারাতে পারেনি।’

২০১০ ব্যালন ডি’অর মেসি জিতলেও ভোটের ভিত্তিতে দ্বিতীয় হয়েছিলেন ইনিয়েস্তা ও তৃতীয় হয়েছিলেন জাভি। ২০০৯ ও ২০১১ সালেও তৃতীয় হন জাভি। ইনিয়েস্তা তৃতীয় হন ২০১২ সালে। ২০০৯ থেকে ২০১২—এই চার বছরই ব্যালন ডি’অর জিতেছেন মেসি। রোনালদো প্রথম ব্যালন ডি’অর জেতেন ২০০৮ সালে। এরপর ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে সর্বশেষ ব্যালন ডি’র জেতেন পর্তুগিজ এই কিংবদন্তি। সব মিলিয়ে রেকর্ড আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন মেসি। রোনালদো জিতেছেন পাঁচবার। ২০০৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মেসি-রোনালদোর বাইরে আর কেউ ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের এই ট্রফি জিততে পারেননি।

জাভি-ইনিয়েস্তার ব্যালন ডি’অর জিততে না পারার প্রসঙ্গে মেসি-রোনালদোকে টেনে গার্দিওলা আরও বলেছেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো দানব ছিল আর মেসি দানবের বাবা। গত ১৫-২০ বছরে দুজনেই অবিশ্বাস্য খেলেছে। হয়তো তখন জাভি-ইনিয়েস্তাও ব্যালন ডি’অর জয়ের যোগ্য ছিল। তাই আমার মনে হয় বিশ্বব্যাপী স্প্যানিশ ফুটবলের যা পাওয়ার ছিল, গতকাল (পরশু) সেটাই পেয়েছে রদ্রি।’

ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মেসি-রোনালদোর গোলসংখ্যা ১৭০০–এর বেশি। রোনালদোর গোলসংখ্যা ৯০৭, মেসির ৮৪৯। ৩৭ বছর বয়সী মেসি এখন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন। ৩৯ বছর বয়সী রোনালদো খেলছেন সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে।

ট্রাম্প শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের জন্যও হুমকি

ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারেন, এই ভেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের ঘুম প্রায় হারাম হওয়ার জোগাড়। তারা এই ভেবে ভীত, ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথাগত বৈদেশিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। সবচেয়ে লাভ হবে রাশিয়ার একনায়ক ভ্লাদিমির পুতিনের। এই দুজনের চলতি সখ্য রাতারাতি কৌশলগত অংশীদারত্বে পরিণত হতে পারে, যার ফলে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর ন্যাটোভিত্তিক যে আন্ত-আটলান্টিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তা হয় ভেঙে যাবে, নয়তো দুর্বল হবে।

ইউরোপের দক্ষিণমুখী মোড়
ট্রাম্প জিতলে সবচেয়ে উৎসাহী হবেন ইউরোপের সেসব রাজনীতিক, যাঁরা নিজ দেশে কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, ইতালিসহ ডজনখানেক ইউরোপীয় দেশে অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে দক্ষিণপন্থীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এমনকি জার্মানিতেও দক্ষিণপন্থীরা অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। এদের প্রত্যেকের কাছে ট্রাম্প যেন ঈশ্বরপ্রদত্ত একটি উপহার।

ট্রাম্প দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হলে ইউরোপের দক্ষিণমুখী মোড় আরও বেগবান হবে, সে আশঙ্কা ব্যক্ত করে সাংবাদিক ও লেখক ফরিদ জাকারিয়া সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, এত দিন বিশ্ব মার্কিন গণতন্ত্রকে ‘আশার আলোকবর্তিকা’ ভেবে এসেছে। সেই আমেরিকার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট যদি আইনকানুনের থোড়াই তোয়াক্কা করেন, চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের ধার না ধারেন, তাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেসব নেতা স্বেচ্ছাচারী বা কর্তৃত্ববাদী হতে চান, তাঁরা উৎসাহী হবেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যু
আশু ভয় ইউক্রেন নিয়ে। ট্রাম্প যে পুতিনের সঙ্গে গলা মিলিয়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলগুলো তাঁর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্মত হবেন, তা ভাবার কারণ রয়েছে। কিছুদিন আগেও তিনি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করা ইউক্রেনের ঠিক হয়নি। অথচ এ কথা সবার জানা, যুদ্ধ ইউক্রেন নয়, রাশিয়াই শুরু করেছিল। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য অজ্ঞতাপ্রসূত নয়, রাশিয়ার প্রতি পরিকল্পিত পক্ষপাতদুষ্টতা। ট্রাম্প এমন কথাও বলেছেন, ইউক্রেন নিয়ে পুতিন ‘তাঁর যেমন খুশি তাই করতে পারে।’

তিনি ঘোষণা করেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের এক দিনের মধ্যে এই যুদ্ধের সমাধান করবেন। কীভাবে, তা অবশ্য খোলাসা করে বলেননি, তবে তার বিস্তর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইউক্রেনকে বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে, তিনি নিশ্চিতভাবেই অপছন্দ করেন। প্রথম দফা ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি জেলেনস্কিকে বাইডেনের বিরুদ্ধে ‘ময়লা’ খুঁজে বের করতে বলেছিলেন। জেলেনস্কি তা করেননি বলেই উল্টো তিনি কংগ্রেসে অভিশংসিত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হলে তিনি সুযোগ পেয়ে বদলা নেবেন।

মধ্যপ্রাচ্য
এ কথা ভাবার কারণ রয়েছে যে নির্বাচিত হলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনে মার্কিন প্রশ্রয়ে ইসরায়েলি আগ্রাসন আরও বেপরোয়া হবে। তাঁর প্রথম দফায় ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর সময় ওয়াশিংটনে পিএলওর দপ্তর বন্ধ করে দেওয়া হয় ও জাতিসংঘের ফিলিস্তিন ত্রাণ সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) চাঁদা আটকে দেওয়া হয়।

ফলে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ট্রাম্পের মনোভাব মোটেই গোপন কোনো ব্যাপার নয়। ঠিক যেমন গোপন ব্যাপার নয় ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব। গত সপ্তাহে তাঁদের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। ট্রাম্প তাঁকে জানান, ‘মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রয়োজনে তোমার যা খুশি করতে পারো, আমার কোনো আপত্তি নেই।’ এর দুই দিন পরেই ইসরায়েল ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনার ওপর হামলা চালায়।

মিশিগানে যেসব আরব ও মুসলিম কমলা হ্যারিসকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার জন্য ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন, তাঁদের এই টেলিফোন বার্তাটি মাথায় রাখতে বলি। প্রথম দফায় নির্বাচিত হয়ে ট্রাম্পের প্রথম বড় সিদ্ধান্ত ছিল তথাকথিত ‘মুসলিম ব্যান’। সন্ত্রাসী অভিযোগে তিনি সাতটি মুসলিম দেশের মানুষের যুক্তরাষ্ট্র আগমন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। হ্যামট্রমিক শহরের মুসলিম মেয়র সম্প্রতি ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন, তিনি এ ঘোষণা মাথায় রাখলে ভালো করবেন। উল্লেখযোগ্য, এই একই শহরের সিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশি সদস্য মোহাম্মাদ হাসান সমর্থন জানিয়েছেন কমলা হ্যারিসকে এবং তাঁর পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

চীন, ভারত, বাংলাদেশ
এশিয়ায়, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায়, মার্কিন নীতির বড় কোনো পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতির একটি প্রধান স্তম্ভই হলো চীন বিরোধিতা। তিনি নির্বাচিত হলে সেটি আরও জোরদার হবে। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, তিনি চীনা পণ্যের ওপর ‘১০০, ২০০, এমনকি ২০০০ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক আরোপ করবেন’। সত্যি এমন কিছু হলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেবে। কারণ আমদানি শুল্ক বাস্তবে ভোক্তাদের বহন করতে হয়, রপ্তানিকারক দেশকে নয়। তার চেয়ে বড় কথা, এর ফলে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ প্রবল আকার নেবে, যার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি বেসামাল হয়ে পড়বে।

নির্বাচিত হলে নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়বে, এমন ভাবার অনেক কারণ রয়েছে। ট্রাম্প ও মোদি একে অপরের বন্ধু ও ‘গুণমুগ্ধ’। ২০১৯ সালে ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর তাঁর আমন্ত্রণে মোদি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এবং দুজনে একসঙ্গে হিউস্টনে ৫০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে সভা করেছিলেন। পরের বছর মোদির আমন্ত্রণে ট্রাম্প ভারতে এলে তাঁকে নিয়ে আহমেদাবাদের মোদি স্টেডিয়ামে যে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়, তাতে দর্শকের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সে সভায় ট্রাম্প মোদিকে একজন ‘মহান ও দৃঢ়চেতা’ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

ট্রাম্প-মোদির ঘনিষ্ঠতা বাংলাদেশের জন্য খুব সুখবর নাও হতে পারে। ড. ইউনূস কোনো কোনো সময় ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্প সেসব মনে করে রেখেছেন কি না, তা জানার সুযোগ নেই। তবে মোদি সাহেব যদি চান, ট্রাম্পকে তা মনে করিয়ে দিতেই পারেন।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি। ট্রাম্প বিশ্বের জন্যও হুমকি। হোয়াইট হাউসে একজন আইনভঙ্গকারী কর্তৃত্ববাদী সরকারপ্রধান যদি আরও চার বছর ছড়ি ঘোরানোর সুযোগ পান, তাতে সবচেয়ে লাভ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেসব নেতার, যাঁরা ট্রাম্পের মতো একনায়ক হতে চান। মোদি তাঁদের একজন।

বিখ্যাত ঐতিহাসিক টিমোথি স্নাইডার মনে করিয়ে দিয়েছেন, একধাক্কায় গণতন্ত্রের মৃত্যু হয় না। এর জন্য প্রয়োজন হাজারো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আঘাত ও রক্তক্ষরণ। ভয়ের কথা হলো, নির্বাচিত হলে ট্রাম্পের আরও চার বছরে এই প্রতিটি আঘাত আরও গভীর হবে।

যেভাবে আপনার ফোনে ইন্টারনেট স্পিড বাড়াবেন

অনেক সময় দেখা যায় আপনার ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ ঠিকভাবে কোনো কিছুই ব্রাউজ করা যায় না। সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব কিংবা কলও যায় না ফোন থেকে। মোবাইল ইন্টারনেট হোক কিংবা ওয়াই-ফাই সবটাই স্লো হয়ে যায়। আপনি এ সমস্যার সমাধান সহজেই করতে পারবেন। দেখে নিন কয়েকটি সমস্যার সমাধান—

ব্রাউজিং ডাটা ও ক্যাশ ক্লিয়ার করা
আপনার অ্যাপ্লিকেশন ও ব্রাউজারের ক্যাশ মেমোরি বেশি জমে গেলে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। তাই নিয়মিত ক্যাশ এবং অপ্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট করে ফেলুন। এ ছাড়া আপনার ব্রাউজারটি আপডেটেড না থাকলে এটি ধীরগতির হতেই পারে। তাই ব্রাউজার এবং অন্যান্য ইন্টারনেটভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন আপডেট রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ্লিকেশন বন্ধ করা উচিত। কারণ অনেক সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপ্লিকেশন ইন্টারনেট ব্যবহার করে, যা ফোনের ইন্টারনেট গতি কমিয়ে দেয়। অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপগুলো বন্ধ রাখুন।

আর ডাটা সেভার চালু। অনেক ব্রাউজার এবং ফোনে ডাটা সেভার ফিচার থাকে। এটি চালু করলে অপ্রয়োজনীয় ডাটা খরচ কম হয় এবং ব্রাউজিং গতি বাড়ে।

এবং আপনার অ্যাপ ক্যাশ ক্লিয়ার করুন। কারণ আপনার ফোনের কিছু অ্যাপ্লিকেশন যেমন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ, ইউটিউব ইত্যাদিতে বেশি ক্যাশ জমে থাকে। তাই নিয়মিত অ্যাপ ক্যাশ ক্লিয়ার করে ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি করতে পারেন।

এ ছাড়া নেটওয়ার্ক সেটিংস রিসেট করুন। কারণ ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংসে কোনো সমস্যা থাকলে সেটিংস রিসেট করতে পারেন। এটি অনেক সময় নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান করতে সহায়ক।

আর কম্প্রেশন টুল ব্যবহার করা উচিত। কারণ কিছু ব্রাউজার যেমন গুগল ক্রোম বা অপেরা মিনি ডাটা কম্প্রেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে সাহায্য করে।

আপনি নির্দিষ্ট ব্রাউজার কিংবা অ্যাপ ব্যবহার করুন। কিছু ব্রাউজার বা অ্যাপ দ্রুতগতির জন্য বিশেষভাবে তৈরি। যেমন-অপেরা মিনি বা ইউসি ব্রাউজার, এগুলো দ্রুত ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

আজ ঢাকা আসছেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্গ

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে দুই দিনের সফরে আজ ঢাকা আসছেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্গ।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর প্যাসিফিক অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধির এটাই হবে প্রথম বাংলাদেশ সফর। সফরকালে বাংলাদেশের অধিকারে থাকা সমুদ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারকসহ একাধিক ডকুমেন্ট সই হওয়ার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্র থেকে জানা গেছে, সফরকালে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্গ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা ছাড়াও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সেই আলোচনায় বাণিজ্য-বিনিয়োগ, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন, রোহিঙ্গা সংকট, সমুদ্রসীমার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতেও তাদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

ফের রিমান্ডে আনিসুল, সাধন চন্দ্র, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও জিয়াউল আহসান

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান জিয়াকে আবারও রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

তাদের মধ্যে, বংশাল থানার মামলায় সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনের ৪ দিন, মোহাম্মদপুর থানার হত্যা মামলায় সাবেক মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের ৩ দিনের রিমান্ড, বাড্ডা থানার আরেক হত্যা মামলায় আনিসুল হকের ৩দিনের রিমান্ড এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান জিয়ার আবারও ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এ ছাড়াও, বাড্ডা থানার পৃথক দুই মামলা ও কাফরুল থানার এক মামলায় দীপু মনি এবং যাত্রাবাড়ি থানার মামলায়, ডিবির সাবেক ডিসি মশিউরকে নতুন করে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এর আগে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ডিবির সাবেক ডিসি মশিউরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

ওয়াশিংটন পোস্টের সাবস্ক্রিপশন বাতিল করলো আড়াই লাখ পাঠক

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টের সাবস্ক্রিপশন ছেড়েছেন প্রায় আড়াই লাখ পাঠক। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমালা হ্যারিসের সমর্থনে একটি প্রবন্ধ বের করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর একের পর এক পাঠক হারাচ্ছে সংবাদমাধ্যমটি। বুধবার (৩০ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিতর্কের সূত্রপাত সংবাদমাধ্যমটির মালিক জেফ বেজোসের একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে। তার দৈনিকের সম্পাদকীয় বিভাগে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সমর্থনে একটি প্রবন্ধ বের হওয়ার কথা ছিল। আচমকাই গত শুক্রবার, সম্পাদক বিভাগকে বেজোস জানান, কমালার সমর্থনে কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না।

তার বক্তব্য ছিল, শুধু কমলাই নন, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সমর্থনই তার দৈনিক এর পর থেকে আর করবে না। এ খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই বহু ক্ষুব্ধ পাঠক দৈনিকটি না পড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। শুধু তারাই নন, দীর্ঘদিন ধরে ওই কাগজে লিখে আসছেন এমন অনেক লেখক-লেখিকা এবং প্রবন্ধ লেখকও পদত্যাগের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

এরপর থেকেই স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর থেকে সাবস্ক্রিপশন বাতিলের হিড়িক শুরু হয়েছে এবং তা বেড়েই চলেছে। দৈনিকটির মোট ২০ লাখ পাঠকের মধ্যে অন্তত আট শতাংশ কাগজটি আর পড়তে চান না বলে ইতিমধ্যে জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে মোট ১০% পাঠক কমেছে দৈনিকটির।

ওয়াশিংটন পোস্টের কর্পোরেট বিভাগের কোনো মুখপাত্র বেজোসের এই সিদ্ধান্ত এবং তার প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্যে রাজি হননি। দৈনিকের চিফ এক্সিকিউটিভ এবং প্রকাশক উইল লিউইস জানিয়েছেন, এটা তাদের দৈনিকের পুরনো নীতিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। এই নির্বাচন তো বটেই, ভবিষ্যতেও কোনো নির্বাচনে প্রার্থীর সমর্থনে তারা কোনো লেখা ছাপবেন না। তারা পুরোপুরি আগের মতো নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন এক দৈনিক চালাতে চান বলেও ব্যাখ্যা করেছেন লিউইস।

উল্লেখ্য, অনলাইন শপিং সংস্থা অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা বেজোস ২০১৩ সাল থেকে ওয়াশিংটন পোস্টের মালিক।

২০ সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল

২০ সাংবাদিক ও ব্যক্তির প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করেছে তথ্য অধিদফতর (পিআইডি)। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) তালিকাভুক্ত সেসব সাংবাদিকদের কার্ড বাতিল করে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে সই করেছেন প্রধান তথ্য অফিসার মো. নিজামূল কবীর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৬.৯, ৬.১০, ৯.৫ ও ৯.৬ অনুসারে এই সাংবাদিকদের পূর্বে ইস্যু করা স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে।

এ তালিকায় উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো– প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের সাবেক মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, নয়াদিল্লির সাবেক প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ, একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক ও বিশেষ প্রতিনিধি ফারজানা রুপা, ওমেননিউজ২৪ ডটকমের সম্পাদক ও প্রকাশক ফরিদা ইয়াসমিন, দি ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, এবিনিউজ২৪ ডটকমের প্রধান সম্পাদক সুভাস চন্দ্র সিংহ রায়, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবীর, এটিএন নিউজের প্রধান বার্তা সম্পাদক মুন্নী সাহা, আমাদের সময় ডটকমের প্রধান সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, দৈনিক বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি ফরাজী আজমল হোসেন, একাত্তর টিভির হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদ, দৈনিক ঢাকা টাইমসের সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, বাসসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক মিথিলা ফারজানা, বৈশাখী টিভির বার্তা প্রধান অশোক চৌধুরী এবং ডিবিসি নিউজের সম্পাদক প্রণব সাহা।

নতুন ফোনালাপে নেতাকর্মীদের যে ভয়ঙ্কর নির্দেশনা দিলেন হাসিনা

সাবেক স্বৈরশাসক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠ সদৃশ নতুন একটি ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে তিনি বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির এমন ভয়ঙ্কর নির্দেশনা নিয়ে ফেসবুকে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ভারতে বসে শেখ হাসিনা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য নেতাকর্মীদের এ ধরনের নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে অনেকেই মনে করছেন।

শেখ হাসিনার ৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের ফোনালাপ রোববার রাতে গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। নতুন এই ফোনালাপে শেখ হাসিনার কণ্ঠ সদৃশ একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তোমাদের বাড়িঘরে যারা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে, তাদের বাড়ি ঘর নেই? সব কথা কি বলে দিতে হয়?’

ফোনকলের অন্য প্রান্তের কণ্ঠটি গোবিন্দগঞ্জের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাকিল আলম বুলবুলের দাবি করা হচ্ছে। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

ফোনালাপে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এখন বেশি বেশি বাড়াবাড়ি করছে। বেশি ভালো থাকবেন না আপনি। দেখো ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই শত্রুরা টেকে কি না? কাউকে পালাতেও দেওয়া হবে না। যে কয়টা নাফরমানি করছে তাদের একটারও অস্ত্র থাকবে না।’

তখন শাকিল বলেন, ‘আপনি একটু মাথা ঠান্ডা রেখে আপনার কৌশলে এগোন নেত্রী। তবে সবাইকে সব কাজ বরাদ্দ রেখে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঠিক আছে, আমি সবাইকে বলছি, তোমরা শুধু দুই মাস অপেক্ষা করো। কিছু বলো না।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘ওরা ফেল করবে, আর আমরা যদি কিছু করি, তখন বলবে আমাদের জন্য করতে পারে নাই। সেটা আর বলার মুখ নেই। জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবেও ওই যে সুদখোর ইউনুসের গুটি গুটি চেহারার দ্বার আটকে গেছে মানুষের কাছে।’

শাকিল বলেন, ‘জ্বি নেত্রী অলরেডি বাংলার মানুষ বুঝে গেছে। মানুষ ভয়তেই কেউ মুখ খুলতে পারছে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এখন ওদের ভয় দিতে হবে।’

ওই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘জ্বি নেত্রী, ওই যে আমাদের গোবিন্দগঞ্জের কালাম ভাই এমপি আর আমি উপজেলার চেয়ারম্যান বর্তমান ছিলাম নেত্রী, আর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পরপর ছিলাম দুবার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। ওনার বাড়ি গাড়ি সব জ্বালাই পুড়াই দিছে। আমারও বাড়ি গাড়ি সব জ্বালাই পোড়াই দিছে নেত্রী। আমাদের অসংখ্যা মামলা দিছে, আপনি শুধু আমাদের জন্য দোয়া রাখবেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘না আমি একটা কথা বলি, তোমাদের বাড়ি পোড়াই দিছে কে?’

শাকিল বলেন, ‘ওরাই নেত্রী, জামায়াত বিএনপি সকলই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের ঘর-বাড়ি নেই?’

শাকিল বলেন, ‘জ্বি আছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাহলে, সবকিছু কি প্রকাশ্যে করতে হয়।’

শাকিল বলেন, ‘জ্বি না, না নেত্রী।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তোমাদের নাই, তাহলে কারো ঘর-বাড়ি থাকবে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মামলা, আমারতো শুধু গোবিন্দগঞ্জ না, আমারতো সারা বাংলাদেশে ২২৭টি মার্ডার কেস। আমি বলছি সবাই তালিকা কর। তোমরাও তালিকা কর। ২২৭ মার্ডারের লাইন্সেস পেয়ে গেছি। এক মামলায় যে শাস্তি, শোয়া দুইশো মামলায় একই শাস্তি। তাই না। ঠিক আছে সেই শাস্তি নেব। তার আগে শোয়া দুইশো হিসাব করে নেব। এটা যেন মাথায় থাকে। এবার একবার আসতে পারলে কেউ ফেলাইতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।’

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ফোনালাপটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তবে অডিওটি সত্যিই তার কিনা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশ করার শর্তে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বলেন, ফাঁস হওয়া ফোনালাপটি শাকিল আলম বুলবুলের। বুলবুলসহ সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ দুইজনই ভারতে পালিয়ে গেছেন।

ঘরে বসেই যেভাবে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সবার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমার সেবা উন্মুক্ত করেছে। সেই সঙ্গে করদাতাদের অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহ দিচ্ছে। এখন থেকে করদাতা অনলাইনে নিবন্ধন নিয়ে ঘরে বসেই আয়-ব্যয়ের তথ্য জানিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

প্রতিবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪-২৫ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের জন্য অনলাইন ব্যবস্থা চালু করে এনবিআর। এবার এনবিআরের স্লোগান ‘না দাঁড়িয়ে লাইনে, রিটার্ন দিন অনলাইনে’।

জানা গেছে, চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই অনলাইনে বা ই-রিটার্ন জমাকারীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এমনি গত সপ্তাহে অনলাইনে রিটার্ন জমা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ায় করদাতাদের আগ্রহ দেখে এনবিআর আশা করছে, চলতি অর্থবছরে অনলাইনে অন্তত ১৫ লাখ রিটার্ন জমা পড়বে।

যেভাবে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন:
অনলাইন রিটার্ন জমা দেয়ার জন্য এখানে ক্লিক করতে হবে। আর জন্য আগে করদাতাকে প্রথমে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধন নিতে করদাতার নিজের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ও বায়োমেট্রিক করা মোবাইল নম্বর লাগবে। এ দুটি দিয়ে নিবন্ধন করে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেয়া যাবে। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন তথা ই–রিটার্ন দিতে করদাতাকে কোনো কাগজপত্র আপলোড করতে বা জমা দিতে হবে না। শুধু ওই সব দলিলাদির তথ্য দিলেই হবে। যেমন, সনাতনী পদ্ধতিতে চাকরিজীবীদের আয়ের বা বেতন–ভাতার প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যাংক হিসাবের এক বছরের লেনদেন বিবরণী (স্টেটমেন্ট) জমা দিলেই চলবে। আগের বছরের ১ জুলাই থেকে পরের বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত (অর্থবছর) সময়ের ব্যাংক হিসাবের স্থিতি, সুদের তথ্য ও ব্যাংক হিসাবের নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে।

কোনো করদাতা অনলাইনে নিবন্ধন ও রিটার্ন জমা দেয়ার ক্ষেত্রে যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে এনবিআরের কল সেন্টারের সহায়তা নিতে পারেন। এ-সংক্রান্ত কল সেন্টার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চালু আছে। কল সেন্টারের নম্বর ০৯৬৪৩৭১৭১৭১। কল সেন্টারে ফোন করলে একজন কর কর্মকর্তা আপনার সমস্যার সমাধান করে দেবেন। এদিকে মাঝেমধ্যে অনলাইন সিস্টেমে প্রবেশে সমস্যা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে আয়কর কর্মকর্তারা বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক করদাতা অনলাইনে ঢোকার কারণে সমস্যা হচ্ছে, তবে তা সাময়িক।

অনলাইনে রিটার্ন তৈরি ও জমা দেয়া যাবে; আবার কর পরিশোধও করা যাবে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যেকোনো করদাতা রিটার্ন জমার পাশাপাশি কর পরিশোধ করতে পারবেন। এ ছাড়া একই অনলাইন ব্যবস্থা থেকে দাখিল করা রিটার্নের কপি, প্রাপ্তি স্বীকারপত্র, আয়কর সনদ, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারবেন করদাতা।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: আয়কর রিটার্ন জমার সময় প্রমাণপত্র হিসেবে কিছু প্রয়োজনীয় নথিপত্র লাগবে। এখনই সেসব বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস থেকে সংগ্রহ করতে পারেম। যেসব কাগজপত্র লাগবে তার মধ্যে অন্যতম হলো বেতন খাতের আয়ের দলিল, সিকিউরিটিজের ওপর সুদ আয়ের সনদ, ভাড়ার চুক্তিপত্র, পৌরকরের রসিদ, বন্ধকি ঋণের সুদের সনদ। এমনকি মূলধনি সম্পদের বিক্রয় কিংবা ক্রয়মূল্যের চুক্তিপত্র ও রসিদ, মূলধনি ব্যয়ের আনুষঙ্গিক প্রমাণপত্র, শেয়ারের লভ্যাংশ পাওয়ার ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট, সুদের ওপর উৎসে কর কাটার সার্টিফিকেটও লাগবে।

বিনিয়োগ করে কর রেয়াত পেতে চাইলেও আরও কিছু কাগজপত্র লাগবে। যেমন জীবনবিমার কিস্তির প্রিমিয়াম রসিদ, ঋণ বা ডিবেঞ্চার, সঞ্চয়পত্র, ভবিষ্য তহবিলে দেওয়া চাঁদার সনদ, শেয়ারে বিনিয়োগের প্রমাণপত্র, কল্যাণ তহবিলের চাঁদা, ডিপোজিট পেনশন স্কিমে (ডিপিএস) চাঁদার সনদ, গোষ্ঠী বিমার কিস্তির সনদ ও জাকাত তহবিলে দেয়া চাঁদার সনদ।

নতুন উদ্যোগ এবার যেভাবে গ্রহণ করছে করদাতারা: এর আগেও অনলাইনে রিটার্ন জমার ব্যবস্থা করেছিল এনবিআর। তবে তখন কিন্তু করদাতাদের মধ্যে খুব বেশি একটা উৎসাহ দেখা যায়নি। ২০১৬ সালে ৫১ কোটি টাকা খরচ করে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার ব্যবস্থাটি করা হয়েছিল, যা চার বছর চালু থাকে। ওই চার বছরের প্রতিবারই মাত্র পাঁচ-ছয় হাজার করদাতা বার্ষিক রিটার্ন জমা দিতেন। সে জন্য ২০১৯ সালে ওই পদ্ধতি বন্ধ করে দেয় এনবিআর। পরে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে এনবিআরের আয়কর বিভাগের একটি বিশেষ দল মাত্র দুই কোটি টাকা খরচ করে নতুন অনলাইন ব্যবস্থা চালু করে। গত ২০২৩–২৪ অর্থবছরে দুই লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেন।

সুখবর দিতে চলেছেন রাঘব-পরিণীতি?

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রাজস্থানে রাজকীয়ভাবে সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া ও আম আদমি পার্টির সংসদ সদস্য রাঘব চাড্ডা। তারা সুখের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন।

সম্প্রতি রীতি-রেওয়াজ মেনে নিষ্ঠা ভরে করবা চৌথ পালন করেছেন এ তারকা দম্পতি। এবার তার সপ্তাহ ঘুরতেই রাঘব-পরিণীতির বাড়িতে পা রাখলেন শংকরাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী মহারাজ। এ নিয়ে পরিণীতি ভক্তদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।

শংকরাচার্যকে নিজেদের দিল্লির বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাঘব-পরিনীতি। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে আম আদমি পার্টির সংসদ সদস্যের বাড়িতে আশীর্বাদ করতে পৌঁছে গেলেন শংকরাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ। তা হলে কি বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই রাঘব-পরিণীতির সংসারে সুখবর?

জানা গেছে, সনাতন রীতি অনুযায়ী, তারকাদম্পতি তাদের বাড়িতে ‘পাদুকা পূজার’ আয়োজন করেছিলেন। সে জন্যই উত্তরাখণ্ডের জ্যোতিষ পীঠের ৪৬তম শংকরাচার্যকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তারা। যেখানে উপস্থিত ছিলেন দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরাও। পূজার পর শংকরাচার্যের পা ধুইয়ে আশীর্বাদও নেন রাঘব চাড্ডা। আরেকটি ছবিতে পরিণীতির কোচরে ফলপ্রসাদও দান করতে দেখা যায় শংকরাচার্যকে। বেশ কজন সাধুসন্তরাও উপস্থিত ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে।

গত সপ্তাহেই বিয়ের পর দ্বিতীয় করবা চৌথ পালন করেছেন রাঘব-পরিণীতি। রোববার দিনভর নির্জলা উপোস করে চাঁদ দেখে তবেই সংসদ সদস্য স্বামীর হাত থেকে জল পান করেছেন অভিনেত্রী। আর স্বামীর মঙ্গল কামনায় স্ত্রীর এহেন নিষ্ঠা ভরা আচার-রীতি দেখে যেন নতুন করে পরিণীতি চোপড়ার প্রেমে পড়েছেন রাঘব চাড্ডা। তাই প্রকাশ্যে সেসব ছবি সামাজিকমাধ্যমে শেয়ার করে প্রেম জাহির করতেও পিছপা হননি তিনি।